× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
করপোরেট কর কমালেই কি বিনিয়োগ বাড়বে
google_news print-icon

করপোরেট কর কমালেই কি বিনিয়োগ বাড়বে

করপোরেট-কর-কমালেই-কি-বিনিয়োগ-বাড়বে
পরিসংখ্যান বলে, করপোরেট কর ক্রমাগত কমানো হলেও কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ একটি জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা বলেছেন, করহার কমলেই বিনিয়োগ বাড়বে, এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। এর সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্যনীতি, শ্রমবাজারসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি জড়িত।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাতে এবারের বাজেটে কমানো হয়েছে করপোরেট কর, যা কোম্পানিগুলো বার্ষিক মুনাফার ওপর দিয়ে থাকে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করপোরেট করহার ৩০ শতাংশ। অপরদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার সাড়ে ২২ শতাংশ।

গত পাঁচ অর্থবছর ধরেই এই কর ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে, যা একসময় ৪০ শতাংশের বেশি ছিল। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরেও এই করহার কমানো হয়েছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার যে উদ্দেশ্যে করপোরেট করহার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনছে, সেই লক্ষ্য কী পূরণ হচ্ছে? বিনিয়োগ কী বাড়ছে?

নতুন বাজেটে করপোরেট কর কমানোর যুক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘করপোরেট হার কমানোর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে।’

দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা বলেছেন, করহার কমলেই বিনিয়োগ বাড়বে, এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। এর সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি নীতি, বাণিজ্য নীতি, শ্রমবাজারসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি জড়িত।

তাদের মতে, করহার কম হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। কারণ এতে করে তাদের মুনাফা বাড়ে এবং তারা মুনাফার একটি অংশ দেশে ফেরত নিতে পারেন বা পুনরায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হন।

তবে পরিসংখ্যান বলে করপোরেট কর ক্রমাগত কমানো হলেও গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ একটি জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। এটা জিডিপির ২৩ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

করহার কমানো, কর প্রণোদনা দেয়া, ঋণের সুদহার কমানো, আইনকানুন পরিবর্তনসহ নানা পদক্ষেপ বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, উচ্চ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হওয়া উচিত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি আছে।

এমন বাস্তবতায় সরকারি বিনিয়োগ অর্থাৎ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।

পাঁচ বছর আগে এডিপির আকার ছিল জিডিপির ৪ শতাংশ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে খরা কাটিয়ে উঠতে সরকারি বিনিয়োগে জোর দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর বাজেটে এডিপির আকার বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে জিডিপির অনুপাতে এডিপির আকার ৬ শতাংশের বেশি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোপেরেট কর কমালে বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বিনিয়োগ বৃদ্ধির এটিই একমাত্র পথ। এর সঙ্গে অর্থনীতির অন্যান্য সূচক ভালো হতে হবে। তবে বিদেশিরা করপোরেট কর দেখার পর বিনিয়োগে এগিয়ে আসে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ৩০ শতাংশ করহার এখনও বেশি। বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এটি সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা উচিত। তা হলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।’

বাংলাদেশে কর কাঠামোয় কিছু সমস্যা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কার্যকর করভার অনেক বেশি। এটা ৩০ শতাংশের উপরে। এত বেশি করহারের কারণে ফাঁকি ও অর্থপাচারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।’

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ও বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘ট্যাক্স রেট কত, তা দেখে বিদেশিরা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। সে জন্য করপোরেট করহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিতাভুক্ত এবং তালিকা-বহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে করহারের পার্থক্য কমপক্ষে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলে বিনিয়োগের সুফল পাওয়া যায়, যা এখন আছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিনিয়োগে বাধা অনিশ্চয়তা

বর্তমানে প্রণোদনার বাইরে ব্যাংকগুলোর তেমন ঋণ বিতরণ নেই। কারণ ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। তারা বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশের অপেক্ষায় আছেন।

বিনিয়োগে সমস্যাটা এখন কোথায়, এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পোদ্যোক্তা ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘অনিশ্চয়তাই বড় বাধা। করোনার কারণে সারা বিশ্বে এখন টালমাটাল চলছে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তারা আস্থাহীনতায় ভুগছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙা করা।’

ব্যাংকাররা বলেন, সারা বিশ্বে চাহিদা না বাড়লে পরিস্থিতি ঠিক হবে না। চাহিদা বাড়লেই কেবল নতুন প্রকল্প তৈরি হবে; বাড়বে ঋণ বিতরণ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Governments support for football development will continue PM

ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি তখন থেকেই আমার প্রচেষ্টা, বাংলাদেশ যেন খেলাধুলায় আরও এগিয়ে যায়। দেশের প্রতিটি উপজেলায় আমরা খেলার মাঠ করে দিচ্ছি, সেটা হলো শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাই যেন খেলাধুলার প্রতি আরও মনোযোগী হয়।’

দেশে ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে দেশের জন্য প্রস্তুত করে তোলা যায়। এজন্য প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হচ্ছে। সময় পেলে আমি নিজেও ফুটবল খেলা উপভোগ করি।

‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল খেলতেন। আমার ভাই শেখ কামাল এবং শেখ জামালও ফুটবল খেলতেন। এখন আমাদের নাতি-নাতনীরাও ফুটবল খেলছে।’

তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা না করলে হয় না। এমন আয়োজনের মাধ্যমে ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে, যাতে করে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হতে পারে বিশ্ব-পরিমণ্ডলে। একদিন আমাদের খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারদর্শিতা দেখাবে।’

খেলাধুলার প্রসারে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি তখন থেকে আমার প্রচেষ্টা, বাংলাদেশ যেন খেলাধুলায় আরও এগিয়ে যায়; ছেলেমেয়েরা আরও বেশি মনোযোগী হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় আমরা খেলার মাঠ করে দিচ্ছি, সেটা হলো শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাই যেন খেলাধুলার প্রতি আরও মনোযোগী হয়।’

প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা, এটা সবচেয়ে বেশি দরকার। সেজন্য আমরা প্রত্যেক বিভাগে একটি করে বিকেএসপি করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অর্থনীতিকে উন্নত করেছি। দারিদ্র্যের হার অর্ধেকের বেশি কমিয়ে এনেছি, এখন ১৮ দশমিক ৭ ভাগ। অতিদারিদ্র্যের হার ২৫ ভাগের উপরে ছিল, তা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে এনেছি। ইনশাল্লাহ, এটুকুও থাকবে না। বাংলাদেশে কোনো মানুষ অতিদরিদ্র থাকবে না। প্রত্যেককে বিনা পয়সায় ঘর করে দিচ্ছি, লেখাপড়ার বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি- সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা এগিয়ে যাব। বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাবে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে।’

খেলাধুলায় বাংলাদেশ ভালো করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে মেয়েদের বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ছেলেদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতা আছে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ভালো খেলোয়াড় উঠে আসছে। তারা শুধু দেশে না, দেশের মাটি পার হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য মর্যাদা বয়ে নিয়ে আসছে। বাংলাদেশকে খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, এটা তারা করছে।’

ফুটবল টুর্নামেন্টটি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই খেলাধুলার মধ্য দিয়ে এক সময় উপযুক্ত খেলোয়াড় গড়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধুলা করে কোনোদিন হয়ত বিশ্ব ফুটবলে আমরা চ্যাম্পিয়নও হয়ে যেতে পারি। সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইসলামী ব্যাংক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ফাইনাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

আরও পড়ুন:
২১ সহযোগিতা নথিতে সই ঢাকা-বেইজিংয়ের
বাংলাদেশ-চীন প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শুরু
ঋণের সুদ হার কমাতে এআইআইবির প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান
সময় এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী
বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Three people died due to electrocution in the capital

রাজধানীতে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীতে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু প্রতীকী ছবি।
শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী ও কোতোয়ালি থানার সিএমএম আদালতের পাশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আলাউদ্দিন, রাসেল ও আইউব আলী।

রাজধানীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী ও কোতোয়ালি থানার সিএমএম আদালতের পাশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আলাউদ্দিন, রাসেল ও আইউব আলী।

আলাউদ্দিন ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার মেঘেরা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার সন্তান। রাসেল চট্টগ্রামের পটিয়া থানার কেলিশহর দারোগার হাট গ্রামের রতন দাসের ছেলে। দুজনই পল্লবী এলাকায় থাকতেন। আর আইউব আলী পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার তারাবুনিয়া গ্রামের বেলায়েত শেখের সন্তান।

শুক্রবার দুপুরে পল্লবীর আজিজ মার্কেটের পাশে আসবাব কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আলাউদ্দিন ও রাসেল। তারা দুজনই ওই কারখানায় মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ট্রলির ওপর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির কারণে আসবাব কারখানায় পানি জমে যায়। মালপত্র রেখে পানি সরানোর সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এই দুজন। তবুও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

অপর ঘটনায় শুক্রবার রাতে ঢাকার সিএমএম আদালতের পাশে আগরবাতি গলিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আইউব আলী। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আইউব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম জানান, তার বাবা মিস্ত্রির কাজ করতেন। রাতে কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে আগরবাতি গলি এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ন্যাশনাল হাসপাতাল নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যারল কলেজ হাসাপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কোতোয়ালি থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব ঢালী জানান, খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
আইপিএস মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মিস্ত্রির মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সহোদর দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু
কুকুর মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাশিয়া থেকে বাড়িতে আসা ছেলের সঙ্গে প্রাণ গেল মায়েরও
নকলায় বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুজনের মৃত্যু

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Attempts are being made to sideline the quota agitators Harun

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন রাজধানীর মিণ্টো রোডের কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না, তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো।’

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিতে পারে এবং ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করারও চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কেউ যদি আদালতের আদেশ না মানে, সড়ক অবরোধ করে এবং আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে যৌক্তিক কাজ সেটাই করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কোটার ব্যবস্থার প্রচলন শুধু বাংলাদেশে নয়, অনেক দেশেই আছে। কোটার বিরোধিতা করে কিছু লোক ও কিছু শিক্ষার্থী রাস্তায় আন্দোলন করছে। ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

‘সুপ্রিম কোর্ট সবার ভরসাস্থল। আদালতের নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত। কিন্তু কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না গিয়ে বিভিন্ন সড়কে বসে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অনেক জায়গায় গাড়িতে তারা হাত দিচ্ছে এবং একটি মামলাও রুজু হয়েছে।’

হারুন বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না, তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে কিনা, ঘটনাটি অপরদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে কিনা- এসব নিয়ে ডিবির টিম ও পুলিশ কাজ করছে। কেউ যদি হাইকোর্টের নির্দেশনা না মেনে আন্দোলনের নামে সড়কে নেমে অবরোধ করে গাড়িতে হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, তবে আমরা ধরে নিতে পারি অনুপ্রবেশকারীরাই এসব কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sheikh Hasina returned from China empty handed Rizvi

শেখ হাসিনা চীন থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন: রিজভী

শেখ হাসিনা চীন থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন: রিজভী
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা চীনের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন। আর আশ্বাস পেয়েছেন এক বিলিয়ন ইয়েনের। ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়ে খালি ঝুড়ি নিয়ে ফেরত এসেছেন তিনি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ বিক্রি করার মহাজন বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতকে নিরাপদ করতে বাংলাদেশকে অনিরাপদ করেছেন। বাংলাদেশকে ভারতের নয়া উপনিবেশ বানানোর চেষ্টা করছেন তিনি।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে শনিবার ওলামা দলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘১৯৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন।

‘শেখ হাসিনা চীনের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন। আর আশ্বাস পেয়েছেন এক বিলিয়ন ইয়েনের। ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়ে খালি ঝুড়ি নিয়ে ফেরত এসেছেন তিনি।’

সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, কর্তৃত্ববাদী শাসন-শোষণের ফলে দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে।’

ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, এটিএম আবদুল বারী ড্যানী, মাওলানা আলমগীর হোসেন, ক্বারী গোলাম মোস্তফা, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম ও মাওলানা মাসুম বিল্লাহ।

আরও পড়ুন:
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান ‘জাতীয় তামাশা’: রিজভী
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় রোববার সারা দেশে বিএনপির দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেল যোগাযোগ পরিকল্পনায় উদ্বেগ বিএনপির
বাংলাদেশ কার স্বার্থ রক্ষা করছে- মিয়ানমার ইস্যুতে প্রশ্ন রিজভীর
আজিজ-বেনজীরের মতো অনেক রূপকথার কাহিনী আছে: রিজভী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
50 year old shop is being swallowed by the river

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’ মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারে পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: নিউজবাংলা
দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

‘বছরের পর বছর ধরে কাজ করে আইতাছি এই দোকানেই। চোখের সামনেই ৫০ বছরের সেই দোকান নদী গিলে খাইছে। এহন কই যামু এই বয়সে? কী কইর‌্যা খামু? পেটও তো বাঁচাইতে অইব।’

পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনে নিজের দোকানঘর হারিয়ে এসব কথা বলেই আক্ষেপ করছিলেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডল (৭৫)।

তার ভাষ্য, কিশোর বয়সেই বাবার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ দশক ধরে বাবার রেখে যাওয়া দোকানে লোহার সঙ্গে হাতুড়ি পেটার কাজ করে আসছেন।

নদীর দুই দিনের ভাঙনে দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডলের মতোই পাঁচজন কামার দোকানঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন শুরু হয়। শুক্রবারও ভাঙন অব্যাহত ছিল। এ দুই দিনে ভাঙনের কবলে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ওই বাজারের পুরোটই এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকেই দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভাঙনের মুখে বাজারের কামারপট্টির সাতটি দোকানঘর, দুটি পাটের আড়ত, দুটি সারের দোকান ও চারটি মুদি দোকানঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েন কামার গৌতম মন্ডল, দিলীপ মন্ডল, অনীল মন্ডল, সুনীল মন্ডল, শ্যামল মন্ডল, উত্তম মন্ডল ও কালু মন্ডল। এ ছাড়া ভাঙনে অলি বেপারী ও আলমাছ বেপারীর পাটের আড়ত এবং নজির হালদারের দুটি সারের দোকান বিলীন হয়েছে। দোকান হারিয়েছেন আরও চার মুদি দোকানি।

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে চলমান স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলার কারণেই এ ভাঙনের কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ বাজারের দোকানিদের।

তারা জানান, আড়াই যুগ ধরেই পদ্মা ও পদ্মার শাখা নদীতে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন চলে আসছে। এতে ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় বছর দুয়েক আগে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া থেকে টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজার পর্যন্ত পদ্মা তীরে ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কয়েকটি ভাগে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে।

দীঘিরপাড় বাজার ঘেষে বাঁধ নির্মাণ করছে সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স কোম্পানি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলে ও ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির।

দীঘিরপাড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাইজুদ্দিন বেপারী বলেন, ‘বর্ষা এলেই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টুকিটাকি করে বাঁধ নির্মাণ কাজ করে আসছে। আমরা এক মাসে আগেও অনুরোধ করেছি ব্লক ফেলে এখানে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য।

‘আমাদের কথা কর্ণপাতই করেনি। আজকের মধ্যে যদি জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হয়, তাতেও বাজারটি রক্ষা পাবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত আমাদের কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। কাজেই যথাসময়েই বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক বরাদ্ধ দিতে না পারার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সময় বাড়ানো হয়েছে, তবে বর্তমানে আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটিকে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

‘ইতোমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ট্রলারে রাখা আছে। তীব্র স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে
শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার
আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু
৭২ ঘণ্টায় পানি বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চল, সিলেটের বিভিন্ন নদীর
মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
ICU in district hospitals soon Health Minister

জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গি গ্রামে শনিবার সকালে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সারা দেশের ৫০ শয্যা হাসপাতালগুলো ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’

জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও কার্ডিওলজি ইউনিট স্থাপন শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন‌।

নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গি গ্রামে শনিবার সকালে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সারা দেশের ৫০ শয্যা হাসপাতালগুলো ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

‘২৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল পদায়ন এবং নতুন ভবনের আসবাবপত্রের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ প্রদান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুব পছন্দের। আমি আশা করি এই কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করবে। আমরা সিজারিয়ান সেকশন কমানোর জন্য চেষ্টা করছি।

‘আর কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ক্লিনিকগুলোকে যদি আমরা আরও সচল করতে পারি, তাহলে অনেক রোগ কমিউনিটি ক্লিনিকই মনিটর করতে পারবে। তাই কমিউনিটি ক্লিনিকে আপনারা আসবেন এবং সবসময় যোগাযোগ রাখবেন।’

উদ্বোধন শেষে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে সেখানে নিজের ব্লাড প্রেশার চেক করান মন্ত্রী। পরে ক্লিনিক প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আরও এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে
চিকিৎসকের ওপর হামলা বা চিকিৎসায় অবহেলা কোনোটাই মেনে নেব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘পশুপাখির মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিস্তার লাভ করেছে’
ঈদের দিন আকস্মিক তিন হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Quota activists claim unconstitutional who

কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের

কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটা কুচক্রী মহল কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের দাবি ও বক্তব্য সংবিধানবিরোধী বলে শনিবার মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের দাবি ও বক্তব্য সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির বিরোধী। কোটা নিয়ে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটা কুচক্রী মহল কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।

‘গেল কয়েকটি বছরে কোটা না থাকায় নারীদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক। পিছিয়ে পড়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও।’

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে কোটায় নিয়োগ সবচেয়ে কম। ভারতে ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৯২.৫ শতাংশ, নেপালে ৪৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৫০ শতাংশ চাকরিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে ৬০ শতাংশ কোটা চালু রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনের আগে পেনশন নিয়ে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ১৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেন।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘পেনশন স্কিম ২০২৪ না ২০২৫, এ নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তা দূর হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের পহেলা জুলাই থেকে সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম।’

শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি নিয়ে কাদের বলেন, ‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মা ভর করেছে: আইনমন্ত্রী
বেনজীরের স্ত্রীর ঘেরের মাছ চুরির মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার

মন্তব্য

p
উপরে