ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ যেকোনো সময়

ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ যেকোনো সময়

অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশে ই-কমার্স সাইটগুলোর মধ্যে ইভ্যালি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অস্বাভাবিক ছাড়ে পণ্য বিক্রি নিয়ে আলোড়ন তোলে সংস্থাটি। কীভাবে এত ছাড় দেয়া হয়, সেই কৌশল তারা কখনও খোলাসা করেনি। ফলে বিষয়টি একটি রহস্য হয়ে গেছে। এই অবস্থায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিদেশযাত্রায় আদালতের অনুমতিক্রমে দুদক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

অর্থপাচারের অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

রোববার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার জানামতে ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত নভেম্বরে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান চলাকালীন গত ৮ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি আসে।

‘সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন আসে। যেটা চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এখন অনেক তথ্য উপাত্ত জোগাড় করেছে। এখন হয়তো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতেও পারে।’

বাংলাদেশে ই-কমার্স সাইটগুলোর মধ্যে ইভ্যালি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অস্বাভাবিক ছাড়ে পণ্য বিক্রি নিয়ে আলোড়ন তোলে সংস্থাটি। তবে কীভাবে এত ছাড় দেয়া হয়, সেই কৌশল তারা কখনও খোলাসা করেনি।

নানা অভিযোগের পর সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পণ্য সরবরাহের পরই ই-কমার্স সাইট টাকা পাবে। আর অগ্রিম হিসেবে নেয়া টাকা জমা থাকবে সরকার নির্ধারিত তৃতীয় কোনো পক্ষে।

আবার অর্ডার নেয়ার কত দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে হবে, সেটিও নির্দিষ্ট করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই জেলার ভেতর অর্ডার পেলে ৫ দিনের মধ্যে আর ভিন্ন জেলা বা গ্রাম এলাকায় পাঠাতে হলে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করার শর্ত আরোপের চেষ্টা চলছে।

আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ১৪ মার্চ ইভ্যালি কম লিমিটেডের চলতি সম্পদ প্রায় ৬৫.১৮ কোটি টাকা এবং মার্কেট দায় প্রায় ৪০৭.১৮ কোটি টাকা।

তার মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহীত দায় প্রায় ২১৪ কোটি টাকা এবং ইভ্যালির মার্চেন্টদের কাছে দায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা।

ফলে স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪০৪ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছে চলতি সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫.১৮ কোটি টাকা। যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার চলতি দায়ের বিপরীতে মাত্র ১৬.১৪% গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। তারপর গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে গৃহীত প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে ওই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ অথবা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই অবস্থায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিদেশযাত্রায় আদালতের অনুমতিক্রমে দুদক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

গত ৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে ২১৪ কোটি টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে পণ্য ডেলিভারি না দেয়া ও মার্চেন্টদের ১৯০ কোটি টাকা পাওনা ফেরত দেয়ার বিষয়ে তদন্ত করে যেন দ্রুত আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।

চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইভ্যালি ডটকমের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬.১৪% গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক এবং মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা ওই কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। আর অনুসন্ধান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো বাধা নেই বলে জানাচ্ছেন সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, ‘আইনে দুদককে সেই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানকারী দল ইচ্ছা করলে অনুসন্ধানের স্বার্থে যেকোনো সময় ইভ্যালির যেকোনো কর্মকর্তা চেয়ারম্যান হোক, এমডি হোক জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি অচিরেই হয়তো একটি অনুসন্ধানী ফলাফল পাওয়া যাবে। তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
গ্রাহক পণ্য পেলেই ই-কমার্সকে টাকা ছাড়
ই-কমার্স: পণ্য সরবরাহে সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন
৭ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব
আগে পণ্য, পরে টাকার পক্ষে সবাই
আগে পণ্য পরে টাকা বিদেশি সাইটের জন্য না

শেয়ার করুন

মন্তব্য