কাঁচাবাজারে সবজিতে স্বস্তি, চালের দাম বাড়ছে

কাঁচাবাজারে সবজিতে স্বস্তি, চালের দাম বাড়ছে

গত এক মাসে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। এর মধ্যে নাজিরশাল ও মিনিকেট চাল প্রতি কেজি গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়।

দ্বিতীয় দফার শাটডাউনে কাঁচাবাজারে স্বস্তি ফিরেছে সবজিতে। এ ছাড়া বয়লারের মুরগি, গরুর মাংসের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল। বেড়েছে মসলা এবং সব ধরনের চালের দাম।

একে শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন। তার ওপর সপ্তাহ পেরুলেই কোরবানির ঈদ। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বিধিনিষেধ কতদিন চলবে, তা নিয়ে সংশয় জনগণের মধ্যে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে আরো কঠোর লকডাউনের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতেই আতঙ্কে বাজারমুখী ক্রেতারা।

সরকার শাটডাউনের মেয়াদ ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবে রাজধানীর বাজারগুলো শুক্রবার ছিল সরগরম।

বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাসাবো বাজারের মাসুম স্টোরের স্বত্বাধিকারী মাসুম নিউজবাংলাকে বলেন, গত এক মাসে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। এর মধ্যে নাজিরশাল ও মিনিকেট চাল প্রতি কেজি গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। এক মাস আগেও এই চালের কেজি ছিল ৫৭ থেকে ৫৮ টাকা।

পাইজাম ও লতা চাল কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫১ টাকা। এখন সেটি বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়।

মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা, চায়না ইরির কেজি ৪৮ টাকা। আগের সপ্তাহে এটি ছিল ৪৫ টাকা। তবে সয়াবিন তেল কেজিতে কমেছে ৫ থেকে ৮ টাকা। প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১১৮ টাকায়।

সরজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্বের বালাই ছিল না। বাসাবো কাঁচাবাজার, খিলগাঁও, মালিবাগ, বাসানো বাগানবাড়ি বাজারেও দেখা গেছে গা ঘেষাঘেষি ভিড়।

কাঁচাবাজারের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত স্থানে সকাল ৯টা থেকে বিকালে ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে বাজার বসলেও প্রকৃতপক্ষে রাত ৮টা, ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে এসব বাজার।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহলের সময় বন্ধ করে রাখা হয় সব দোকান। কিন্ত চলে গেলেই আবার খোলা হয়।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা আলামিন নিউজবাংলাকে বলেন, সেনাবাহিনী বা পুলিশ দেখলেই সবাই মাস্ক পরে আর একজন আরেক জনের থেকে দূরে সরে যায়। কিন্ত বাস্তবে কেউ মানে না।

পান্থপথের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘করোনার এই সময়ে সরকার বাজারের সময়সীমা বেঁধে দেয়ায় সপ্তাহের বাজার করা সম্ভব হয় না। এলাকার বাজার থেকে দৈনিক বাজার করতে হচ্ছে। এছাড়া সামনে ঈদ আর সরকারও শুনেছি কারফিউ দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তাই ছুটির দিনে প্রয়োজনী কাঁচাবাজার সারতে এসেছি।’

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মানছি। কিন্তু এখানে যে অবস্থা, তাতে বাজার করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

রাজধানীর কয়েকটি সুপারশপে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি। মাস্ক না থাকলে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। আর একান্ত প্রয়োজন থাকলে মাস্ক কিনে পরিধান করে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

বাসাবোর স্বপ্ন সুপারশপের সিনিয়র আউটলেট অপারেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্র ও শনিবার আমাদের এখানে ক্রেতাদের কিছুটা চাপ থাকে। বাকি দিনগুলোতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।

‘কিছু ক্রেতা আছে, যারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। কিংবা মাস্ক থুতনির নিচে রেখে দেয়। তাদেরকে আমরা সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করতে বলছি। এছাড়া এ সময়ে আমরা হোম ডেলিভারিতে বেশি জোর দিচ্ছি। ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।

‘তবে যারাই সুপারশপে আসছেন এবং এখানে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ স্বাস্থ্যবিধির বাইরে নয়।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দামে খুব বেশি উঠানামা দেখা যায়নি। বরং মান ভেদে কিছু কিছু সবজির দাম ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

কারওয়ানবাজারে শশা ৫০ টাকা কেজি, বেগুন ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, গাজর ৯০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মিষ্টিকুমড়া আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, জালি কুমড়া ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

লাল শাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২৫ টাকা, পাটশাক ১০ টাকা, ডাটা শাক ১০ টাকা, কুমড়া শাকের আঁটি ২৫ টাকা এবং লাউ শাকের আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা আলামিন বলেন, অনেক সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। তার মধ্যে টমেটোর দাম গত সপ্তাহে ছিল ৯০ টাকা, পটল ছিল ৫০ টাকা, বরবটি ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া গাজর ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারে আলু ১০০ টাকা পাল্লা বা প্রতি কেজি ২০ টাকা, পেঁয়াজ ২২৫ টাকা পাল্লা বা ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রসুন দেশি ৬০ টাকা আর আমদানি করা ১৬০ টাকা কেজি, আদা দেশি ৮০ টাকা আর আমদানি করা ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে বেশি কিছু মসলার দাম। এর মধ্যে ধনে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা কেজিতে। আগের সপ্তাহে এটি ছিল ১২০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা। তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজিতে, আগের সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। এছাড়া জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ আগের সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল আছে।

আরও পড়ুন:
ক্রেতা কম, কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা বিপাকে
বৃষ্টি-শাটডাউনে কাঁচাবাজারে গরম
সব ভিড় কাঁচাবাজারে
কাঁচাবাজারে ক্রেতা কম
সবজির দাম কম, ভিড় নেই বাজারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য