রপ্তানি আয়ের নতুন লক্ষ্য ৫১০০ কোটি ডলার

রপ্তানি আয়ের নতুন লক্ষ্য ৫১০০ কোটি ডলার

টিপু মুনশি বলেন, ‘চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পণ্য রপ্তানি খাতে নতুন আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।’

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫১ বিলিয়ন (৫ হাজার ১০০ কোটি) ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার।

সারা বছর পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে এই পরিমাণ আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মঙ্গলবার জুম অ্যাপের মাধ্যমে রপ্তানি আয়ের নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।

টিপু মুনশি বলেন, ‘চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সার্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।’

‘যেখানে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় পণ্য রপ্তানি খাতে নতুন আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। আর সেবা খাতে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, সরকার বেশ কিছু বিষয় রপ্তানির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় এনেছে। সেগুলো হলো-সাম্প্রতিক ও গত ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অর্জিত গতিধারা, পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের সরকার প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা, বিশ্ব বাণিজ্যের সাম্প্রতিক গতিধারা, দেশে করোনার প্রভাব, রপ্তানি সম্ভাবনাময় পণ্য ও সেবা খাতের বিকাশ, রপ্তানি সংশ্লিষ্ট অংশিজনদের পরামর্শ এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটে করোনা মোকাবেলায় সরকারের নেয়া নানামুখী উদ্যোগ।

এসব বিবেচনায় রেখে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য দেশে সর্বোচ্চ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার-দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদেরই নেপথ্যে ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে জানান, এই ক্ষেত্রে সরকার শুধু নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাবে।

লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার পর অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। এমনকি আরও বেশি লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হতে পারে-যদি সরকার অভ্যন্তরণি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিদ্যমান বাঁধাগুলো ত্বরিৎ দূরীকরণের উদ্যোগ নেয়।

উল্লেখ্য গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাতের রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত বছর পণ্যখাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৩৮.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাতে ৬.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সার্বিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার ৯৪.৫৬ ভাগ অর্জিত হয়েছে।

টিপু মুনশি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও তা সার্বিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার ৯৪.৫৬ ভাগ অর্জিত হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৫.১০ ভাগ বেশি।

তিনি জানান, কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রধান চালিকা শক্তি হলো উপযুক্ত নীতি কৌশল এবং সেগুলোর সহায়ক সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন। পাশাপাশি দেশের উদ্ভাবনী সক্ষম বেসরকারি খাত বিকাশে সরকারের অব্যাহত নীতি সহায়তা। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের সামষ্টিক অর্থনীতির নীতি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রায়ক সহায়ক এসব উদ্যোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগ এবারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাকখাতে ১১ দশমিক ৭২ ভাগ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় রেখে ৩৫দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে নিটওয়্যারখাতে শতকরা ১৫.০৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি ধরে ১৯.৫১৫ বিলিয়ন এবং ওভেন খাতে ৭.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১৫.৬২৯ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪.৪৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় ফ্রোজেন ও লাইভ ফিশ খাতে লক্স্য নির্ধারণ করা হয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পন্য খাতে ৯ .৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় ১ .৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। ফুটও্যয়ারে ১৬.১২ ভাগ প্র্বৃদ্ধি হিসাবে ৪০০ মিরিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জুটগুডসে ২৩.১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১৪.৩০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বক্তব্য রাখেন।

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঘোষিত ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যান্যুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাহীন আহমেদসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
মহামারিতেও বাড়ল রপ্তানি আয়, তবে লক্ষ্যমাত্রার কম
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য