৩৯ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়ে মামলা

৩৯ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়ে মামলা

উত্তরার ‘মোহাম্মদ ট্রেডিং’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি আরএকে সিরামিকস ও স্টার সিরামিকের কাছ থেকে টাইলস এবং স্যানিটারি পণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। ২০১৮ থেকে এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত বিক্রির তথ্য গোপন করে ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। আর সুদ বাবদ আরও ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

রাজধানীর উত্তরায় একটি টাইলস বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৩৯ কোটি টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি উদঘাটনের পর মামলা হয়েছে।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর সোমবার মামলাটি করে।

ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল হক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘মোহাম্মদ ট্রেডিং’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দীন এভিনিউ আরকে টাওয়ারে অবস্থিত।

ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি আরএকে সিরামিকস ও স্টার সিরামিকের কাছ থেকে টাইলস এবং স্যানিটারি পণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। তারা বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

তদন্তে ফাঁকির ঘটনা প্রমাণ হওয়ার পরেই মামলা করা হয় বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল হক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভ্যাটযোগ্য সেবার বিপরীতে প্রযোজ্য রাজস্ব যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আইন ভঙ্গ করেছে। এতে করে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।’

অধিদপ্তরেরর উপপরিচালক তানভীর আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

তারা সেখানে গেলে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে মালিকপক্ষকে অনুরোধ করলে তা খোলা হয়।

এ সময় কর্মকর্তারা ভ্যাটসংক্রান্ত নথিপত্র ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করে।

তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি ২০১৮ থেকে এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত বিক্রির তথ্য গোপন করে।

আলোচ্য সময়ে প্রকৃত বিক্রির ওপর ভ্যাট না দিয়ে কমিশনের ওপর ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট পরিশোধ করে। এটি ভ্যাট আইনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

যথাসময়ে এই ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় সুদ বাবদ আরও ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারত থেকে দ্রুত কাঁচামাল পেতে বিজিএমইএর চিঠি

ভারত থেকে দ্রুত কাঁচামাল পেতে বিজিএমইএর চিঠি

বিপুল পরিমাণে কার্যাদেশ পেয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত। কিন্তু ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিলম্ব তৈরি করছে বাড়তি চাপ। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজিএমইএ।

ভারত থেকে আমদানি করা রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের কাঁচামাল পেতে সময় বেশি লাগবে। এতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না।

বিষয়টির দ্রুত সমাধান চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান ভারতীয় হাইকমিশনারকে চিঠি দিয়ে এই সহায়তা চেয়েছেন।

চিঠি দেওয়ার বিষয়ে ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত থেকে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল দ্রুত সময়ের মধ্যে পেতে ভারতীয় হাইকমিশনারের সহযোগিতা চেয়ে বুধবার আমি তাকে একটি চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেছি। আশা করছি, তিনি তার সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

বাংলাদেশ ভারত থেকে বছরে ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে অর্ধেকেরই বেশি তৈরি পোশাক শিল্প ও বস্ত্র শিল্পের জন্য ব্যবহৃত তুলা। দেশের মোট চাহিদার ৫৫ শতাংশের মতো তুলা ভারত থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। এছাড়া পোশাক শিল্পের ওভেন পোশাকের জন্য কাপড়ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে।

বিজিএমইএ সভাপতি চিঠিতে লিখেছেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা লিড টাইম (ক্রয়াদেশ প্রাপ্তি থেকে পণ্য জাহাজীকরণ পর্যন্ত সময়) মেনে পোশাক রপ্তানির চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেন। বিদেশি ক্রেতারা লিড টাইম সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য চাচ্ছেন। তবে সরবরাহকারী দেশ থেকে স্বল্প সময়ে কাঁচামাল পাওয়ার ওপরই সেটি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

‘বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারত থেকে আমদানি করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে কাঁচামাল আনতে সময় বেশি লাগছে। বেনাপোলে আমাদের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টদের কাছে শুনতে পাচ্ছি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যু ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে ভারতের বনগাঁ কাস্টমস পয়েন্টে আমদানি করা কাঁচামাল ছাড় করতে বেশি সময় লাগছে। সে কারণে পোশাকশিল্পের কাঁচামালবাহী প্রচুর পরিমাণ ট্রাক আটকে আছে। তাতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

হাইকমিশনারকে ভারতীয় অংশের কাস্টমসে পোশাকশিল্পের কাঁচামাল দ্রুত ছাড় করানোর জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, আমদানি-রপ্তানি মসৃণ করা গেলে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে হাইকমিশনারকে বিশেষ অনুরোধ করেছেন ফারুক হাসান।

বিজিএমইএ সভাপতি নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আগামী গ্রীষ্ম ও বসন্ত মৌসুমের পোশাকের প্রচুর ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান আগামী মার্চ পর্যন্ত তাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী ক্রয়াদেশের বুকিং পেয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ সক্ষমতার চেয়েও বেশি।

বিপুলসংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। ফলে ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী গ্রীষ্ম ও বসন্ত মৌসুমে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছে। সে জন্যই প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। তা ছাড়া মিয়ানমারে সেনা শাসন ও ভারতে করোনার ভয়াবহতার জন্য কিছু ক্রয়াদেশ স্থানান্তরিত হয়েছে এ দেশে। তার আগ থেকেই চীনের ক্রয়াদেশও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আসছিল। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে যখন করোনা ছিল না, তার তুলনায় বর্তমানে ৫-১০ শতাংশ বেশি ক্রয়াদেশ আসছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বিদেশি ক্রেতারা পণ্য উৎপাদনে আগের মতো আর বাড়তি সময় দিচ্ছে না। সে কারণে কাঁচামাল সময়মতো পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নানা জটিলতায় সেটি হচ্ছে না। আবার চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট ও দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন রপ্তানিকারকেরা।’

মহামারির মধ্যেও রপ্তানি আয়ে বড় উল্লম্ফন নিয়ে শেষ হয় ২০২০-২১ অর্থবছর। ৩০ জুন শেষ হওয়া ওই অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে; যা ছিল আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

তবে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সার্বিক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে ফারুক হাসান বলেন, ‘কোরবানির ঈদের ছুটি এবং লকডাউনের কারণে ১০-১১ দিন পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কম এসেছে। ১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলেছে। এখন যদি আর কোনো সমস্যা না হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে প্রথম ভ্যাট দিল গুগল

বাংলাদেশকে প্রথম ভ্যাট দিল গুগল

মে মাসের জন্য ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং জুন মাসের জন্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে গুগল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি এই দুই মাসের জন্য মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিচ্ছে।

ফেসবুকের পর প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিয়েছে।

মে ও জুন মাসের আয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ভ্যাট দিয়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার প্রমীলা সরকার এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মে মাসের জন্য ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং জুন মাসের জন্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে গুগল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি এই দুই মাসের জন্য মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিচ্ছে।

গত ২৩ মে অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুগল ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধন নেয়।

প্রমীলা সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার এনবিআর-এর কাছে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার আগেই ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাংক খোলার দিন এই অর্থ এনবিআরে জমা দেয়া হবে।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পর গুগল দ্বিতীয় অনিবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাট দিলো। বাংলাদেশে ব্যবসারত কিন্তু নিজস্ব কার্যালয় নেই এমন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠান ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় নিবন্ধিত।

প্রমীলা সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গুগলের বাংলাদেশের অ্যাজেন্ট প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস (পিডব্লিউসি) এর প্রতিনিধি মে ও জুন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে এসেছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে গিয়ে একটু দেরি হয়ে যায়। এতে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। তাই তারা সব কাজ শেষ করলেও চেকটা ব্যাংকে জমা দেয়া হয়নি। সিটিব্যাংক এনএ এর মাধ্যমে পরবর্তী ব্যাংক খোলার দিন এই টাকা জমা করা হবে।’

গত ২৩ মে অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুগল ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধন নেয়।

মে মাসের ভ্যাট দিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রমীলা সরকার বলেন, মে মাসের রিটার্ন সময়মত দাখিল করতে না পারায় ওই মাসের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিচ্ছে গুগল।

গত ১৫ জুলাই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ১৩ জুন থেকে ৩০ জুন ১৭ দিনে আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দেয় বাংলাদেশ সরকারকে।

এ পর্যন্ত চারটি অনাবাসী প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের নিবন্ধন নিয়েছে। ফেসবুক ও গুগল ছাড়া অন্য দুই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট।

২৭ মে অ্যামাজন ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। আর ১ জুলাই মাইক্রোসফট ভ্যাট নিবন্ধন নেয়।

অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট আগামী আগস্টে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেবে বলে জানান প্রমীলা।

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

টাইম স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রদর্শনীর সঙ্গী এক্সিম ব্যাংক

টাইম স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রদর্শনীর সঙ্গী এক্সিম ব্যাংক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন জানান, ১৫ আগস্ট রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি দুই মিনিটে ১৫ সেকেন্ড করে পুরো বিলবোর্ডে চলবে এই প্রদর্শনী। টাইমস স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর আলো ঝলমলে ছবি ২৪ ঘণ্টায় ভেসে উঠবে মোট ৭২০ বার।

জাতীয় শোক দিবসে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও অন্যান্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর অংশ হয়েছে বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড।

নিউইয়র্ক ড্রিম প্রোডাকশনের এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ কার্যক্রমের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অংশ হয়েছে এক্সিম ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সম্পর্কিত এক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন জানান, ১৫ আগস্ট রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি দুই মিনিটে ১৫ সেকেন্ড করে পুরো বিলবোর্ডে চলবে এই প্রদর্শনী। টাইমস স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর আলো ঝলমলে ছবি ২৪ ঘণ্টায় ভেসে উঠবে মোট ৭২০ বার।

প্রবাসীরা নিজ উদ্যোগে এসব আয়োজন করেছেন বলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের অংশ বিশেষসহ স্মরণীয় কিছু ছবি ও ক্যাপশন প্রদর্শনীতে প্রাধান্য পাবে। এ বিষয়ে টাইমস স্কয়ারের বিলবোর্ডের টাইম ঘণ্টা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কী ধরনের গ্রাফিক্স প্রদর্শন করা হবে তার একটি নমুনা বিলবোর্ড কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে সেটার অনুমোদনও নেয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই টাইমস স্কয়ারে লাখ লাখ মানুষ চলাচল করে, তার মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাও কম নয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি বঙ্গবন্ধুকে দেখবে এবং তার সম্পর্কে ধারণা পাবে।’

এর আগে গত ১৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন ড্রিম প্রোডাকশনের প্রধান নির্বাহী ফাহিম ফিরোজ।

সেদিন তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে-বিদেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারের আইকনিক বিলবোর্ডে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক চিন্তা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে নিজস্ব উদ্যোগে এ কাজ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই বলে ড্রিম প্রোডাকশনের প্রধান নির্বাহী জানান।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত মাসে আমি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলাম, তখন ফাহিম আমাকে বিষয়টি বলেন। এটা অনেক খরচের বিষয়। এক্সিম ব্যাংক এই কাজে অংশ নিয়েছে, তাতে আমি খুশি।

‘কারণ আমি অনেকবার এটা করা চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। টাইম স্কয়ার কর্তৃপক্ষ কোনো সরকারের আবেদন গ্রহণ করে না। এজন্য স্থানীয় কমিয়্যুনিটিকে আবেদন করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি আর একটি মুজিব শতবর্ষ পাব না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পাব না।’

অনুষ্ঠানে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ওপর আয়োজিত এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনে পাশে থাকবে এক্সিম ব্যাংক।’

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ধোঁয়াশা

সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ধোঁয়াশা

সিঙ্গার কারখানার গুদামে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে মালামাল। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তারের মাধ্যমে আগুন গুদামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকলেও আগুন লাগার কারণ অন্য কিছু। আর ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামের ভেতর থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার সাভারে সিঙ্গারের কারখানার গুদামে অগুনে পুড়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক পণ্য। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তারের মাধ্যমে আগুন গুদামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকলেও আগুন লাগার কারণ অন্য কিছু।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামের ভেতর থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করে।

ঢাকার সাভারে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশের গুদামে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে জানান, প্রথমে দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যায়। পরে নিয়ন্ত্রণে কাজে যোগ দেয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, গুদামে সিঙ্গারের ফ্রিজ, এসি ও টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ছিল।

চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পুড়ে যাওয়া গুদাম পরিদর্শন করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেস্তোরা মালিক জীবন সরকার বলেন, ‘আমরা ভোর ৪টার দিকে দোকান খুলছি। সকাল সাড়ে ৭টার পর খাম্বা থেকে দুইটা ফায়ার হয়। একটা ফায়ার খুব জোরে হয়। তহন আমরা এই দিকে আয়্যা পড়ি। তখন একটা তার ঝুইলা থাকে।

‘ওই তারটা বাড়ি খায়্যা আবার ফায়ার হয়। তখন এই জায়গাটা থাইকা একটা তার ছিড়া যায়। ছিড়া তার থেকে গুদামের পিছনে মিটারে আগুনডা ধইরা যায়। পরে পুরা গোডাউনে আগুন ধইরা যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ’সকালে গুদামের সামনে প্রথম টান্সমিটারে বিস্ফোরণ হইছে। তখন একটা তার ছিড়া নিচে পড়ে। পরে দেখি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হইছে। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিছি।’

সিঙ্গারের ওয়্যারহাউজ ম্যানেজার মৃণাল কান্তি জানান, ‘হঠাৎ করে আমরা খবর পাই ভেতর থেকে ধোঁয়া আসতেছে। তখন সাথে সাথে চলে আসছি। সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন একজন, উনি আমাদের ফোন করছে।

‘আমাদের স্থানীয় লোকজন জানান, বাইরে যে ট্রান্সমিটার ছিল, ওইটা ব্লাস্ট হইছিল। কিন্তু ওনারা বুঝতে পারে নাই যে ভেতরে আগুন লাগছে। পরে যখন ধোঁয়া উঠছে তখনি আমাদের ইনফর্ম করে। তবে মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই।

‘ভিতরে ম্যাক্সিমাম নতুন ফ্রিজ আর কিছু জিনিসপত্র ছিল। সবকিছু পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে ৩-৪ ঘণ্টা লাগছে।’

ফায়ার সার্ভিসের ৪ নম্বর জোন কমান্ডার আব্দুল আলীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম যে ম্যাসেজ দিয়েছেন, তিনি জানান, এখানে একটা ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটছে। পরে ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে গেছে। এই আগুন থেকে গুদামে আগুন লেগে গেছে।’

এভাবে আগুন লাগতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তার সরাসরি গুদামের ভেতরে গেছে। ওই সাইডে গিয়ে আগুন লেগে গেছে। এভাবে আগুন লাগা সম্ভব। অবশ্যই এটা একটা বড় কারণ।

‘আমরাও ধারণা করছি ওইটাই হয়েছে। পোড়া তার ওখানে ছিল। উপস্থিত লোকজনও এটাই বলছে। বিদ্যুতের লোকজন পরে ট্রান্সফরমারটা খুলে নিয়ে গেছেন।’

ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মাল বিক্রি করা যায় নাই। সেই মালগুলো এখানে জমা ছিল। ফ্রিজ, এসি, টিভি, রাইস কুকার, সেলাইমেশিনসহ আরও জিনিস ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

আগুন নেভাতে সময় লাগলো কেন এ বিষয়ে বলেন, ‘ওনারা যেটা বলেছেন গুদামটা ১৭ হাজার স্কয়ার ফুট। টিনশেডের গুদামের ভেতরে কোন পাটিশন বা ওয়াল ছিল না। ওয়াল থাকলে আগুনটা স্প্রেড হতে পারতো না। যে কারণে আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শুক্রবার নাগাদ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হতে পারে। তবে এটা অধিদপ্তরের বিষয়।’

ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ হারুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের লাইনের কোন সমস্যা হয় নাই। লাইন থেকে ওই খানে আগুন লাগবে কীভাবে? তার ছিঁড়ছে আমার সাব-স্টেশনের কাছে, সেখানেতো আগুন লাগে নাই। সেটা কোন ফেইস তার না। উপরে থাকে নিউট্রল তার। বজ্রপাতের প্রটেকশনের জন্য যেটা থাকে।

‘তার পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪২ সেকেন্ডের একভাগ সময় লাগবে বন্ধ হতে। এটা অটো বন্ধ হয়ে যাবে। না হলেতো আমার ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন সবকিছু পুড়ে যাবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে মানুষ বিদ্যুৎ হ্যানত্যান এসব বলে। অন্য কারণে গুদামে আগুন লাগতে পারে। অনেক কিছুইতো হতে পারে। ভেতরে কী হয়েছে আমরাও বুঝতে পারতেছি না।’

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল

ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদায়ন বা নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ১০ বছর অভিজ্ঞতার মধ্যে অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবায়ন অথবা কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে অন্যূন তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এখন থেকে ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং তথ্য প্রযুক্তি কর্মকর্তা হতে হলে কোনো ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে।

এতদিন এই পদে ১২ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। এ অভিজ্ঞতার মধ্যে অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবায়ন বা কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদায়ন বা নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ১০ বছর অভিজ্ঞতার মধ্যে অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবায়ন অথবা কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে অন্যূন তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে জারি করা নীতিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদায়ন বা নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং হিসাব ও কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চার্টাড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) বা সার্টিফাইড ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট (সিএফএ) বা অনুরূপ পেশাগত ডিগ্রি বা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন (এমবিএ), ব্যাংক ব্যবস্থাপনা (এমবিএম), অর্থনীতি, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান কিংবা ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে।

ওই সার্কুলারের অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ‍ু

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক

ভাল দাম পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের অনেক চাষি। ছবি: নিউজবাংলা

নাগরপুরের কৃষকরা জানান, বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর তারা পাট কাটা শুরু করেন। ওই পানিতেই জাগ দেন। গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। ভালো দাম পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের অনেক চাষি। এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট তোলায় ব্যস্ত কিষান-কিষানি, এ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে গ্রামে।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, গত বছরের চেয়ে এবার পাট চাষ বেড়েছে। উপজেলায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আগের বছর আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে।

অন্য ফসলের চেয়ে পাটের জমিতে শ্রমিকের মজুরিসহ অন্য খরচ কম। এতে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ বেড়েছে। গত মৌসুমের শেষের দিকে পাটের দাম দাঁড়িয়েছিল মণপ্রতি ৬ হাজার টাকায়।

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক
পাটের আঁশ শুকাতে দিচ্ছেন কৃষক

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, প্রকৃতি ও বাজার চাষিদের অনুকূলে হওয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নাগরপুরে প্রতিবছরই বাড়ছে। এ বছর আবাদ করা পাটগাছ কেটে কৃষকরা এরই মধ্যে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান চাষিরা।

নাগরপুর উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় কমবেশি সব ইউনিয়নে পাটের আবাদ হয়ে থাকে। বাজারদর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে পাটের ভালো লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা।

তারা জানান, বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর তারা পাট কাটা শুরু করেন। ওই পানিতেই জাগ দেন। গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের চাষি রবি মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা ও রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত আনুষঙ্গিক খরচ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আমি দুই জাতের পাটের আবাদ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস পাটবীজসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এলাকায় পাটের হাট হিসেবে প্রায় প্রতিটি বাজার পরিচিত হলেও গয়হাটার হাট উল্লেখযোগ্য। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা এসে পাট কিনে নিয়ে যান।’

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক
পাট কাটতে ব্যস্ত কৃষক

পাটচাষি হাসমত আলী বলেন, ‘ধানের মতো পাটের বাজারও যেন সিন্ডিকেটের দখলে চলে না যায়, সে জন্য সরকারিভাবে পাটের দাম নির্ধারণ ও ক্রয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন শাকিল নিউজবাংলাকে জানান, পাটের জমিতে শ্রমিক কম লাগে, জমির আগাছা ওষুধ প্রয়োগ করেই নির্মূল সম্ভব। সব মিলিয়ে পাটের দাম বেড়েছে। পাট ছাড়ানোর পর কাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব কারণে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছেন।

বর্তমান বাজারদরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট চাষ করে কৃষকের লোকসান হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান কৃষিবিদ ইমরান।

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন

ব্যাংকের জন্য আরেক সুখবর

ব্যাংকের জন্য আরেক সুখবর

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক

মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে।  বাংলাদেশে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে। একটি ব্যাংকের এমডি বলেছেন, এতে তাদের বিনিয়োগের খরা কিছুটা হলেও কাটবে।

করোনাকালে ব্যাংককে নানা নীতিগত সুবিধা দেয়ার পর এবার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অলস পড়ে থাকা তারল্য তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে ব্যাংকে আমানতের সুদহার কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকেরও অলস টাকার বিপরীতে বেশ কিছু আয় হবে। ফলে তাদের ব্যালান্স শিটও স্ফীত হবে।

আগামী সোমবার থেকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’-এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সে উদ্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’-এ অংশগ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতে আমানতকারীরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি ব্যাংক যে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ খরা ছিল, সেটা কিছুটা হলেও কাটবে।’

করোনাকালে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতায় ব্যাংকে এখন অলস টাকার পাহাড় জমেছে। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলোতে নতুন করে আমানত রাখতে গেলে তারা সুদহার দিচ্ছে খুবই কম।

ব্যাংকের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টার সময় ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ করার ওপর জোর দেয়। তবে এখন স্বল্পমেয়াদী আমানতে আড়াই থেকে তিন শতাংশের বেশি সুদ দিতে চাইছে না ব্যাংকগুলো। একটি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে দেড় শতাংশ সুদ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ব্যাংকে আগে উচ্চসুদের এফডিআর থাকার পরও আমানতের সার্বিক সুদহার এখন ৪ শতাংশের কিছু বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে কেউ ব্যাংকে ১০০ টাকা রাখলে পরের বছর ১০৪ টাকা হয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকে বলে আগের বছরের ১০০ টাকার মূল্যমান তখন এর চেয়ে নিতে নেমে যায়। অথচ ব্যাংকে সুদহার মূল্যস্ফীতির নিচে নামা উচিত নয় বলে মত দিয়ে থাকেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা জানাল

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে।

তবে এর মাধ্যমে ঠিক কত টাকা তুলে নেয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হবে। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশে নিবাসী সকল ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিড করতে পারবেন।

প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের জন্য ডিস্কাউন্টে বিলের প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য উল্লেখসহ মোট অভিহিত মূল্য উদ্বৃত করে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় বেলা সাড়ে ১২ টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এমআই মডিউলে বিড দাখিল করতে হবে। বেলা ২ টার মধ্যে নিলামের ফল ঘোষণা করা হবে।

নিলামে অংশগ্রহণের বিশদ পদ্ধতিগত নির্দেশনা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সর্বশেষ ব্যাংকগুলো থেকে এভাবে টাকা তুলে নেয়া হয়েছিল।

২৯ জুলাই চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে বুদ্‌বুদ তৈরি করলে তা তুলে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অতিরিক্ত তারল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি বা সম্পদের দাম বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতি গ্রহণে দ্বিধা করবে না।

অতিরিক্ত তারল্য কত

করোনার মধ্যে প্রবাসী আয় অনেকটা বেড়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। আবার প্রণোদনার এক লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের একটি অংশ ঘুরে ফিরে আবার ব্যাংকেই এসেছে।

গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে একবারে অলস পড়ে আছে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অলস এ অর্থের বিপরীতে কোনো সুদ পায় না ব্যাংক। এতে করে অধিকাংশ ব্যাংক এখন আমানত নিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছর বাজারে তারল্য বাড়াতে নানা নীতিসহায়তা দিলেও ঋণ চাহিদা বাড়েনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সাড়ে ১৪ শতাংশ ধরে মুদ্রানীতি ঘোষণা হলেও অর্জিত হয়েছে ৮ শতাংশের মতো। প্রত্যাশিত ঋণ না বাড়ায় বাড়ছে অলস অর্থ।

সাধারণভাবে নগদ জমার হার (সিআরআর) সংরক্ষণের পর ব্যাংকগুলোর ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা অলস থাকে। তবে করোনা শুরুর পর ২০২০ সালের জুন শেষে তা ২৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হয়।

সম্প্রতি ঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিআরআরের অতিরিক্ত রিজার্ভ গত এক বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ গত বছরের জুনের তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংকের মোট দায়ের একটি অংশ বিধিবদ্ধ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এর মধ্যে বর্তমানে নগদে রাখতে হয় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা সিআরআর হিসেবে বিবেচিত। করোনা শুরুর আগে গত বছরও সাড়ে ৫ শতাংশ সিআরআর রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য বা এসএলআর রাখতে হচ্ছে আগের মতোই ১৩ শতাংশ।

উদ্বৃত্ত তারল্যের মধ্যে সিআরআরে থাকা অলস অংশ বাদে বাকি অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে থাকে। এ টাকা সরকারকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়।

ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অর্থ থাকায় সুদহার অনেক কমেছে। আমানতের গড় সুদহার নেমেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশে। ঋণের গড় সুদহার ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশে নেমেছে।

যা বলছেন সাবেক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকে তারল্য বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি থাকে। এত বেশি তারল্য আগে ছিল না। এতে কারও লাভ হচ্ছে না ।

‘তারল্য বেশির কারণে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুদহার কমতে কমতে তারা ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি লাভ পাচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’

তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে এর বিপরীতে সুদহার কম রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন। বলেছেন, সেটা না হলে বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশি বিনিয়োগ করতে চাইবে।

যদি ব্যাংকগুলো আগ্রহী না হয়-তাহলে কী হবে, এমন প্রশ্নে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘তারল্য তুলে নেয়ার এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য কমানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে চাপ দিতে পারে। তখন ব্যাংক তারল্য কমানোর জন্য ঋণ দিতে চাইবে।’

আরও পড়ুন:
সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
ভুয়া চালানে ভ্যাট আদায়, ৫ মাসে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
ভ্যাটই রাজস্ব আহরণের ভরসা

শেয়ার করুন