মহামারিতেও বাড়ল রপ্তানি আয়, তবে লক্ষ্যমাত্রার কম

মহামারিতেও বাড়ল রপ্তানি আয়, তবে লক্ষ্যমাত্রার কম

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে সেটি বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার। করোনাকালে সেটি অর্জিত না হলেও প্রবৃদ্ধিতে খুবই খশি অর্থমন্ত্রী।

মহামারিকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মতো রপ্তানি আয়েও বড় উল্লম্ফন নিয়ে শেষ হলো ২০২০-২১ অর্থবছর। যদিও অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের সাধারণ ছুটির পর কাঙ্ক্ষিত আয় হয়নি দেশের।

গত ৩০ জুন শেষ হওয়া এই অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এই অঙ্ক ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

সর্বশেষ জুন মাসে ৩৬৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের জুন মাসের চেয়ে ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

আগামী দিনগুলোতেও এই আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা কথা শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

করোনার কারণে গত বছরের এপ্রিলে সাধারণ ছুটির কারণে অধিকাংশ শিল্পকারখানা তিন সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল। সে কারণে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। সংক্রমণ রোধে ওই সময় লকডাইনসহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার উৎপাদন চালানোর সুযোগ দেয় সরকার। তাই এপ্রিল ও মে মাস ছাড়া রপ্তানি খুব একটা কমেনি।

চলমান শাটডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য সোমবার প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তাতে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মহামারিতেও বাড়ল রপ্তানি আয়, তবে লক্ষ্যমাত্রার কম
বরাবরের মতো এবারও রপ্তানি আয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পোশাক খাত

মহামারির এই কঠিন সময়েও রপ্তানি আয় বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান প্রণোদনার সঙ্গে ১ শতাংশ হারে অতিরিক্ত প্রণোদনা দেয়া শুরু হয়েছিল। এর ফলে এই খাতে করোনাভাইরাসজনিত মহামারির প্রভাব সফলভাবে মোকাবিলা করা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রাখার ফলে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ রপ্তানি অর্জন করেছে। এ কারণে নতুন অর্থবছরেও এই অতিরিক্ত রপ্তানি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করেন অর্থমন্ত্রী।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পোশাকের বড় বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। মানুষজন আগের মতো কেনাকাটা শুরু করেছে। সে কারণেই মোটামুটি একটা ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়েছে।‘

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি

এই অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার। আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে আয় কম ছিল ২৬ শতাংশ।

তার আগের বছর (২০১৮-১৯) রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য।

পোশাক পাট খাতে সুসময়

মূলত তৈরি পোশাক এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ার কারণেই সার্বিক রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত অর্থবছরে। তবে লক্ষ্যের চেয়ে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ পিছিয়ে আছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৭ লাখ (৩১.৪৫ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের চেয়ে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।

মহামারিতেও বাড়ল রপ্তানি আয়, তবে লক্ষ্যমাত্রার কম
গত বছর মার্চে করোনা সংক্রমণের পর সাধারণ ছুটিতে পোশাক রপ্তানি কমে গেলেও পরে ঘুরে দাঁড়ায়

নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি; ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ শতাংশ। ওভেন পোশাকে থেকে এসেছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। বেড়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এই অর্থবছরে ১১৬ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের চেয়ে ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া ১১৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বেশ কয়েক বছর পর চামড়া রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে বাংলাদেশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে; প্রবৃদ্ধির অঙ্ক ১৮ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এ সময়ে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

প্রবাসী আয়েও জোয়ার

মহামারির মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন না হওয়ায় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে মঙ্গলবার থেকে চলছে কর্মবিরতি। অন্য জেলায় এর বড় কোনো প্রভাব না পড়লেও চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে প্রায় থমকে গেছে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম। তবে অন্য বন্দরগুলো স্বাভাবিক আছে।

মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় এ কর্মবিরতি।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পণ্য ও কনটেইনার বহনকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বুধবার সকালেও মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিতে কোনো ট্রাক-কার্ভাড ভ্যান এবং লরি বন্দরে ঢুকতে পারেনি। তেমনি বন্দরে ঢোকা গাড়িগুলোও সকালে বন্দর থেকে বের হতে পারেনি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

বন্দরের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘জাহাজে কন্টেইনার ওঠানামা সচল রয়েছে। তবে লুজ কার্গো বা খোলা পণ্য পরিবহন, কন্টেইনার থেকে ট্রাক বা ভ্যানে এবং বন্দরের কন্টেইনার অফ ডকে যাওয়া বন্ধ আছে।’

কন্টেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়, কর্মবিরতির কারণে যা এখন বন্ধ।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

কন্টেইনার ডিপো সমিতির সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যবাহী দেড় হাজার কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। কর্মবিরতির কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার আমদানি পণ্যবাহী যেসব কন্টেইনার ডিপোতে খুলে খালাস করা হয়, তাও বন্দর থেকে আনা যাচ্ছে না।’

কর্মবিরতির বিষয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক সমিতির সদস্য হাসান মুরাদ বাদশা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আমাদের কর্মবিরতি চলমান।’

বেনাপোল

যশোরের বেনাপোল বন্দর থেকেও সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। এতে দেখা দিয়েছে পণ্যজট। তবে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বেনাপোলে এ কর্মবিরতি পালন করছে যশোর জেলা ট্রাক মালিক সমিতি।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী জানান, কর্মবিরতি সফল করতে বন্দর এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়েছে।

তারা বলেন, বন্দরে মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনো ট্রাক পণ্য লোড করেনি বা বেনাপোল ছেড়ে যায়নি। বুধবারও এ পরিস্থিতি আছে।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, পণ্য লোড না হওয়ায় একদিকে রপ্তানির পণ্যবাহী ট্রাক জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে আমদানির পণ্য ঢুকছে। সব মিলিয়ে যানজট দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, যানজটে সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার জানান, বন্দর থেকে পণ্য লোড না হওয়ার কারণে বন্দরে জায়গা সংকট দেখা ও পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মবিরতি শেষ হলে এ জট কেটে যাবে।

অন্য জেলাগুলোর কী অবস্থা

দুই দিন ধরে চুয়াডাঙ্গার ভেতর-বাইরে সব রুটে বন্ধ রয়েছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী পরিবহন। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের ওপর। জেলার বাইরে ফসল পাঠাতে পারছেন না কৃষকরা।

জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। তা এখনও হয়নি। তাই আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।’

কর্মবিরতিতে নেই লালমনিরহাটের বুড়িমারী, চ্যাংড়াবান্ধা ও সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের পরিবহন মালিক-চালকরা।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাদ নিউজবাংলাকে জানান, বন্দর স্বাভাবিক।

লালমনিরহাট জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পুলিন চন্দ্র রায় জানান, জেলায় কেন্দ্রের কর্মবিরতির প্রভাব পড়েনি।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

সাতক্ষীরায়ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে পণ্যবাহী পরিবহন। ভোমরা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কর্মবিরতি অংশ না নেয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।

জেলা ভিআইপি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহিন আলম জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবির সঙ্গে একমত তারা। তাদের আন্দোলনেও পাশে আছেন। তবে কর্মবিরতি পালন করছেন না।

কর্মবিরতির ডাক দেয়া হলেও উত্তরের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায় দুই দিনই।

সিরাজগঞ্জ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক পণ্যপরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, ‘১৫ দফা দাবি না মানায় সারা দেশে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কর্মবিরতির কারণে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ আছে, তবে মহাসড়কে রীতিমতো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করছে। আমাদের এখানেও কিছু কিছু ট্রাক চলছে। এগুলোও বন্ধ করার আহ্বান করা হয়েছে।’

সাভারের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের সামনে ট্রাকে মালামাল উঠানামা করতে দেখা যায় বুধবার সকালে। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি পণ্য নিয়ে রাজধানীতে আসার কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

ঢাকার প্রবেশপথের সড়কগুলোতে মঙ্গলবার রাতেও স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী ট্রাক চলতে দেখা যায়।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

পরিবহন মালিক সমিতির সাভারের আশুলিয়া শাখার সদস্য আমির আলী নিউজবাংলাকে বলেন, দক্ষিণবঙ্গের সড়কে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করতে গিয়ে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা সাভার ও আশুলিয়ায় নেই। এ কারণে এখানে কর্মবিরতির প্রভাব পড়েনি।

কর্মবিরতিতে নেই রংপুর বিভাগের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। আগামী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রংপুরের নেতারা।

সংগঠনটির জেলা সভাপতি হাফিজার রহমান হাফিজ বলেন, ‘ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় যে কর্মবিরতি দেয়া হয়েছে, তা ঢাকার তেজগাঁওকেন্দ্রিক। আমাদের কাছে কোনো চিঠি নেই। কেউ কর্মবিরতি পালন করছেন না।’

সিলেট জেলায় কিছু ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেলেও অন্য জেলা থেকে পণ্যবাহী পরিবহন প্রবেশ করেনি।

তবে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর পরিবহন বন্ধ আছে মঙ্গলবার থেকে।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, প্রাইম মুভার পণ্যপরিবহন মালিক সমিতির সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। বিশেষত বন্দর এলাকা থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে না।

বরিশালে মঙ্গলবার দুপুরে কর্মবিরতি পালন করতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বিমানবন্দর মোড়ে সমাবেশ করে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে ঘণ্টাখানেক পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিভাগের সব জেলাতেই বুধবার পণ্যবাহী ট্রাক ও ছোট যান চলতে দেখা যায়।

রাজশাহী জেলায় মঙ্গলবারের মতো বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রাক চলাচল। তবে ছোট ছোট যানে পণ্য পরিবহন চলছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রামের সিফায়াত উল্লাহ, বরিশালের তন্ময় তপু, সিলেটের দেবাশীষ দেবু, রাজশাহীর আহসান হাবিব অপু, রংপুরের রফিকুল ইসলাম, সাভারের ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসলাম শাওন, লালমনিরহাটের শাহজাহান সাজু, সিরাজগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রুবেল ও চুয়াডাঙ্গার জহির রায়হান সোহাগ।

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন

বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন

বিকাশের একটি কাস্টমার কেয়ার সেন্টার। ছবি: সংগৃহীত

বিকাশের ২০২০ সালে ৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান করেছে। আগের বছরে যা ছিল ৬২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে বিকাশের মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এমন বিপুল পরিমাণ লেনদেন আর সেটি বাড়ার পরও লোকসান বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা। এ কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বার্ষিক বিপুল পরিমাণ লেনদেন, এক বছরে ২০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি, এরপরও বাড়ছে লোকসান। মোবাইল ফোনভিত্তিক অর্থ স্থানান্তর বা এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের গত দুই বছরের এই আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পাচার রোধে কাজ করা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর অংশ হিসেবে গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি কী কী পণ্য ও সেবা বিদেশ থেকে আমদানি করেছে, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএফআইউর এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলার হাতে বৈঠকের কার্যপত্র এসেছে।

কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা সফটওয়্যার এবং অন্যান্য সেবা ও প্রযুক্তির তালিকা এবং যেসব প্রতিষ্ঠানকে রয়্যালটি ফি বা লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে, বিকাশের কাছে তার বিবরণী চাইবে বিএফআইইউ।

এসব সেবা ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক সেবাবিষয়ক চুক্তির হালনাগাদ টেন্ডার প্রকিউরমেন্ট ও অ্যাগ্রিমেন্ট ডকুমেন্ট কপিও চাইছে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারের এই সংস্থাটি।

কর্মকর্তারা জানান, বিকাশের মূল স্বত্বাধিকারী মানি ইন মোশন এলএলসি-এর প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ এবং সফটওয়্যার আমদানি, ক্রয়, রয়্যালটি ও কমিশন এবং সার্ভিস ফি বাবদ দেশের বাইরে যে অর্থ চলে গেছে সেটির প্রকৃত হিসাব পেতেই এই সিদ্ধান্ত হয়।

বিকাশের মূল প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত আর্থিক হিসেবে বলা হয়েছে, বিকাশ ২০২০ সালে ৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান করেছে। আগের বছরে যা ছিল ৬২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৯ সালে বিকাশের মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায়।

এমন বিপুল পরিমাণ লেনদেন আর সেটি বাড়ার পরও লোকসান বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা। এ কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অফ করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে প্রযুক্তিতে কৌশলগত বিনিয়াগের কারণে ব্যালান্স শিটে সেটা লস দেখানো হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যবসা বড় করার জন্যই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান পুরোটাই প্রযুক্তিভিত্তিক। এ জন্য প্রযুক্তি বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। ১০ বছর আগে ব্যবসা শুরু করেছি। কিন্তু সেই প্রযুক্তি দিয়ে এখন কাজ হবে না। গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে। কৌশলগত বিনিয়োগটা আমরা প্রযুক্তিতে করেছি। ডিজিটাল সার্ভিস উন্নত হচ্ছে, কিন্তু এর সচেতনতা বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা বাড়ানোর জন্য, গ্রাহককে সুবিধা দেয়ার জন্য বিনিয়োগ করা হয়েছে। লোকসান হওয়ার কারণে মালিক-কর্তৃপক্ষ কোনো প্রফিট নিচ্ছেন না। গ্রাহকে সুবিধা দেয়ার জন্য তারা প্রফিট না নিয়ে বিনিয়োগ করছেন।’

বিকাশের পণ্য ও সেবা আমদানির তথ্য খতিয়ে দেখার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিএফআইইউ অনেক ধরনের তথ্য আমাদের কাছে চেয়ে থাকে। এটা নিয়মিত বিষয়। আমরাও নির্দ্বিধায় চাহিদামতো তাদের তথ্য দিয়ে থাকি।’

অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, অনলাইনে জুয়ার পেমেন্টের ক্ষেত্রে বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের ১২তম সভায় এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

এতে বলা হয়, ‘অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে যেমন স্ক্রিল, নেটেলারের মাধ্যমে পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কার্যকর কোনো ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা জরুরি।’

উদ্বেগজনক এমন তথ্য দেয়ার পরই কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধি হিসেবে বিকাশ লিমিটেডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সম্প্রতি বিএফআইইউর এক বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

শুধু অনলাইন জুয়াই নয়, ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সন্দেহজনক নানা উপাত্ত পেয়েছে সরকারের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। একাধিক বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

বিএফআইইউর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এসব বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে তাদের পক্ষে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এখন দেশের সাধারণ মানুষের লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং সঠিকভাবে এই খাতটি পরিচালন না করা গেলে সেটি দেশের আর্থিক খাতের জন্য ভয়ানক হবে।’

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

পাটের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষির মুখে। ছবি: নিউজবাংলা

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম চৌকিদার। এবার ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি পাটের আবাদ করে করেছিলেন। ফলন হয় ১৫ মণ ২০ কেজি। এর জন্য নুরুলকে গুনতে হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা।

গত সোমবার নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারে মণপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাট বিক্রি করেন নুরুল। উৎপাদন খরচ ১৫ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তার লাভ হয় ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা।

নুরুল ইসলামের মতো এবার পাটের আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক কৃষক।

কৃষক নুরুল জানান, গত বছর প্রতি শতাংশ জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৯ কেজি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১ কেজি। এ ছাড়া ২০২০ সালে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এবার ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরে পাট বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাট নড়িয়ার ভোজেশ্বর। সোমবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও খুলনার বিভিন্ন বেসরকারি পাটকলের পাইকাররা পাট কিনছেন।

বাজারে তোষা জাতের পাট প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। মেছতা জাতের বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। আর সাদা পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজেশ্বরের পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি। সামনে কী হবে বুঝতেছি না। এ জন্য এখনই পাট কিনে মজুত করছি না। মিলের চাহিদা অনুযায়ী কিনে সরবরাহ করছি।’

নড়িয়ার রাজনগর এলাকার কৃষক আব্বাস শেখ বলেন, ‘উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে পাট বিক্রি করে দিতে হয়। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পেয়ে পাট বিক্রি করেছি। আমার দুই বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক গোলাম রসুল বলেন, ‘গত বছর এ অঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। যার ফলে কৃষিজমিতে পলি জমেছিল। এ জন্য উৎপাদন এবার বেশি হয়েছে। আর পাটের নানাবিধ চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় বাজার দামও ভালো।’

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

নারী উদ্যোক্তাদের মার্কেটপ্লেস ই-জয়িতার যাত্রা

নারী উদ্যোক্তাদের মার্কেটপ্লেস ই-জয়িতার যাত্রা

জয়িতা ফাউন্ডেশন জানায়, ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এক লাখ নারী উদ্যোক্তা সংযুক্ত হতে পারবে। দেশের সব জেলা থেকে উদ্যোক্তারাদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ক্রেতারা ভিডিও কলে পছন্দের পণ্য পছন্দ করতে পারবেন। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে পণ্য অর্ডার করা যাবে। লেনদেন করা যাবে যেকোনো ব্যাংকের কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে।

দেশে প্রথমবারের মতো নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে চালু হলো অনলাইন মার্কেটপ্লেস ই-জয়িতা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এটি।

মঙ্গলবার মার্কেটপ্লেসটি উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, ‘ই-জয়িতা মার্কেটপ্লেস দেশে নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সবার কাছে ই-কমার্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের ৮০ ভাগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন নারী উদ্যোক্তারা। ফলে নারীরা আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

‘বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার বিশাল সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে রয়েছে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা। এসব বাধা দূর করে ব্যবসায় উদ্যোগে নারীদের সম্পৃক্ত করা ও তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন করেন।’

জয়িতা ফাউন্ডেশন জানায়, ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এক লাখ নারী উদ্যোক্তা সংযুক্ত হতে পারবে। দেশের সব জেলা থেকে উদ্যোক্তারাদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ক্রেতারা ভিডিও কলে পছন্দের পণ্য পছন্দ করতে পারবেন। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে পণ্য অর্ডার করা যাবে। লেনদেন করা যাবে যেকোনো ব্যাংকের কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে।

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

রপ্তানি সহায়তায় অডিট ফার্ম নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

রপ্তানি সহায়তায় অডিট ফার্ম নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

ব্যাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

ব্যাংকে নিয়োজিত অডিট ফার্মের মাধ্যমেই এখন রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনপত্র নিরীক্ষা করানো যাবে।

প্রয়োজনে অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগ দেয়া যাবে। এর আগে ব্যাংক ও রপ্তানি ভর্তুকি যাচাইয়ে আলাদা আলাদা অডিট ফার্ম নিয়োগের নির্দেশনা ছিল।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কর্মরত সব অনুমোদিত ডিলারের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে নগদ রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়োজিত অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করানো যাবে।

তবে নিরীক্ষার কাজ দ্রুত করার জন্য অতিরিক্ত ফার্ম নিয়োগের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ অডিট ফার্মের সংখ্যা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে হবে বলে সার্কুলারে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

এডিবির কাছ থেকে লাখ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

এডিবির কাছ থেকে লাখ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

এডিবি বলেছে, নতুন সিপিএসের প্রধান লক্ষ্য, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, সবুজ শিল্পায়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সহায়তা দেয়া।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগামী ৫ বছরে (২০২১-২০২৫) বাংলাদেশকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তা দেবে। বর্তমান বিনিময় মূল্য হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত সংস্থাটির সদর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার নতুন এই কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্যাটেজি (সিপিএস) ঘোষণা করা হয়।

ম্যানিলাভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি এর আগে গত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২০) বাংলাদেশকে ৯৬০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে কত অর্থ পাওয়া গেছে তার পুরো হিসাব পেতে বেশ কিছুদিন লাগবে।

এডিবি বলেছে, নতুন সিপিএসের প্রধান লক্ষ্য, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, সবুজ শিল্পায়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সহায়তা দেয়া।

এডিবি বলছে, ‘এই সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন হবে; যা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে। সেইসঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে আর্থ-সামাজিক খাতকে সহায়তা করবে।’

নতুন কৌশলপত্রের আওতায় সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ অর্থ সহায়তা পেতে যাচ্ছে, তা আগের পাঁচ বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।

এডিবি বলছে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কিনতে বাংলাদেশকে ৯৪ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে এডিবি। এর বাইরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকার ১০০ কোটি ডলারের কর্মসূচিভিত্তিক বাজেট সহায়তা চেয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক কেনিচি ইয়োকোয়ামা বলেন, ‘টেকসই প্রবৃদ্ধি ও যথাযথ নীতিগত উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়নে ভালো ফলাফল এনে দিয়েছে। এখন সামনে আরও এগোনোর জন্য প্রয়োজন শিল্প ও রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা।

‘কৃষিপণ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল এবং ওষুধের মতো শিল্পখাত ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্রায়নের সঙ্গে বাড়তি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

এডিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি বাংলাদেশে তার বেসরকারি খাতের কার্যক্রম আরও প্রসারিত করবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে। ব্যাংকিং খাতের উন্নতি, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে, বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে উন্নীত করতে সহায়তা করবে।

নতুন এই কৌশলপত্রে প্যারিস চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এডিবি বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে।

এতে বলা হয়, ‘জল, নদী এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সরাসরি মোকাবিলা করতে কর্মসূচি সম্প্রসারণের সময় জলবায়ু পরিবর্তনকে সংহত করার জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন কৌশলপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমাতে সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, অধিকতর ন্যায়সঙ্গত গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, স্বল্পমূল্যের আবাসন এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে দরিদ্রদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ দারিদ্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে। অতি দারিদ্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাইছে।

‘এডিবির এই সহায়তা বাংলাদেশের এই লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে’ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘নতুন কৌশলপত্র বাংলাদেশ সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে, আরও বেশি সম্পদ আহরণ, উৎপাদন ও রপ্তানির বৈচিত্র্য এবং টেকসই নগরায়ন।’

উন্নয়ন সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে এডিবি একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি ৬৮টি সদস্য দেশে ৪৯ অঞ্চলে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে এবার আসছে আইন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে এবার আসছে আইন

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অর্থ আত্মসাত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। ফাইল ছবি

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে একটি কর্তৃপক্ষ তৈরি, সেটির এখতিয়ার নির্ধারণ ও অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের শাস্তি ঠিক করতে আইন দরকার বলে মনে করে সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা। বুধবার এ ব্যাপারে সরকারের চার মন্ত্রী বসছেন বৈঠকে।

পরিচালন নির্দেশিকা জারির পর সরকার এবার ই-কমার্স খাতের জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন এ খাতে কঠোর শৃঙ্খলা আনতে চায় সরকার।

আইনটির নাম হতে পারে ‘ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট’। এ ব্যাপারে যৌথ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন চার মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। এ ছাড়া বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিকেল ৩টায় এ বৈঠক বসবে।

বর্তমানে ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু বিকাশে ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০১৮ নামে শুধু একটি নীতিমালা রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তা হালনাগাদ করতে ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২১ এর খসড়া তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সাময়িক সমস্যা মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে ডিজিটাল ই-কমার্স খাতের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি হয়েছে, যা সময় সময় পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে ব্যবসায় কিছুটা শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হলেও যারা প্রতারণা করবে তাদের কী শাস্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতের কর্তৃপক্ষ কে হবে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বা এখতিয়ার কতটুকু থাকবে, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক কী কী ব্যবস্থা নিতে পারবে– এগুলো কোথাও বলা নেই।

দেশে ডিজিটাল ই-কমার্স খাতের যত সম্প্রসারণ ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতাও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণা। যেখানে একের পর এক আসছে বিতর্কিত মডেলের ব্যবসা। দেয়া হচ্ছে নিয়মবহির্ভূত ডিসকাউন্ট অফার।

এর বিপরীতে তদারকি জোরদার না হওয়া এবং আইনি কাঠামোর দুর্বলতার সুযোগেও দেশে কিছু পঞ্জি মডেলের অসৎ উদ্যোক্তার জন্ম হয়েছে। তারা গ্রাহকের কাছে ব্যাপক ডিসকাউন্ট অফারের টোপ ফেলছে। ক্রেতারা তা লুফে নিতে দলে দলে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত লেনদেন করছেন। ওই টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে আগাম।

কিন্তু পঞ্জি উদ্যোক্তা আগাম টাকা নিয়েও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। একইভাবে ঠকানো হচ্ছে পঞ্জি উদ্যোক্তার ব্যবসায় পণ্য দিয়ে সহায়তাকারী মার্চেন্ট বা সেলারদেরও।

ব্যাপক ডিসকাউন্টের ফাঁদে এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ৬ লাখ লোকের ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা খোয়া গেছে, যেখানে গ্রাহক বা ক্রেতা রয়েছেন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ। আর সরবরাহকারী রয়েছেন দুই থেকে আড়াই লাখ।

মূলত ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও একই ধরনের অভিযোগ অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও উঠতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতটির ওপর গ্রাহকের হারানো আস্থা ফেরাতে আইন তৈরির সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।

দেশের অনেক খাত ও ব্যবসার জন্য আলাদা আলাদা নীতিমালা, বিধিবিধান ও আইন রয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু ডিজিটাল ই-কমার্সের ক্ষেত্রে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘ক্রমর্ধমান ডিজিটাল ই-কমার্স খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বহু অভিযোগ উঠছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও এখন স্পষ্ট। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে একটি আলাদা আইন হওয়া দরকার। সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় করণীয় ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।’

ডিজিটাল ই-কমার্স সেল প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠ বিকাশে প্রণীত নীতিমালা যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইতিমধ্যে ডিজিটাল ই-কমার্স খাত পরিচালন নির্দেশিকা (এসওপি) জারি হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান খাতটির অবাধ বিকাশ ও সম্ভাবনার সুফল পেতে হয়ত আমাদেরকে আইন তৈরির দিকেও যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ভারতের রপ্তানি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার
চার বছরে চায়ের উৎপাদন দেড়গুণ চায় সরকার
ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য
ভর্তুকি ছাড়া বাড়ে না রপ্তানি

শেয়ার করুন