রেমিট্যান্সে প্রণোদনা: সরকারের চেয়ে বেশি দিচ্ছে দুই ব্যাংক

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা: সরকারের চেয়ে বেশি দিচ্ছে দুই ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক।

২০১৯-২০ অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। দুই ঈদে এর সঙ্গে ১ শতাংশ বেশি টাকা দিচ্ছে অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক।

বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকার যে দুই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, দুই রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক তার সঙ্গে আরও এক শতাংশ যোগ করছে।

রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে কেউ বিদেশ থেকে অর্থ পাঠালে বাংলাদেশে সে টাকা তুললে ডলারের বিনিময় হারের সঙ্গে ৩ শতাংশ হারে বেশি পাওয়া যাবে।

২০১৯-২০ অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। নতুন বাজেটেও সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার স্বজন ১০২ টাকা পাচ্ছেন। তবে দুই ঈদকে সামনে রেখে যে সেই স্বজন ১০৩ টাকা তুলতে পারছেন রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে।

এই বাড়তি প্রণোদনা প্রথমে দেয়া শুরু করে অগ্রণী ব্যাংক। গত বছরের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বাড়তি প্রণোদনা দেয় ব্যাংকটি। এবারও রোজার ঈদের আগে ১ এপ্রিল থেকে ফের সেই বাড়তি প্রণোদনা দেয়া শুরু করে তারা। পরে রূপালী ব্যাংকও গত রোজায় এই উদ্যোগে যুক্ত হয়। ‍দুটি ব্যাংকই কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সুবিধা চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে। সবাই আশঙ্কা করেছিল, এই মহামারির মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ একেবারে কমে যাবে। সে শঙ্কা থেকেই আমরা গত বছরের রমজান মাস থেকে শুরু করে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা দিয়েছিলাম। এবারও এপ্রিল থেকে শুরু করেছি। বাড়তি এই সুবিধা দেবো কোরবানির ঈদ পর্যন্ত।’

এর ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স অনেক বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত দুই অর্থবছরে (২০১৯-২০ ও ২০২০-২১) সরকারি ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে যে রেমিট্যান্স এসেছে তার ৪০ শতাংশই এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে।

‘তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে বছরের বড় দুই উৎসবকে সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা দেবো।’

বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।

রূপালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মনির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গত রোজার ঈদ থেকে এই বাড়তি প্রণোদনা দিচ্ছি। এখনও চলছে; কোরবানির ঈদ অবধি চলবে।’

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটিরও বেশি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে এর অবদান ১২ শতাংশের মতো।

করোনা মহামারিতে গত বছরের মার্চ থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় রেমিট্যান্সও কমে গিয়েছিল। মার্চে দেশে করেনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে মাত্র ১০৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। কিন্তু তার পর থেকেই উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে।

গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের দুই দিন (২৯ ও ৩০ জুন) বাকি থাকতেই ২৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

দুই দিনের রেমিট্যান্স যোগ হলে গেলো অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এই সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে মোট রেমিটেন্সের ১১ দশমিক ৬ শতাংশই এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এই ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার দেশে এসেছিল।

রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে এবার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছিল ৪০ কোটি ডলারের মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। আর এর উপর ভর করেই অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ৪৬ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে।’

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার থানাপাড়া পুরাতন বাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঘরের মধ্যে গলাই ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত মা ও বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন ও তার ২ বছর বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা ওই এলাকার মো. রতনের স্ত্রী। তিনি মানষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে রতনের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমা ও জিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয়েছে প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয় প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট https://bit.ly/3lqzGPo থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

কবে পরীক্ষা

আগামী ৩০ অক্টোবর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

যেভাবে মূল্যায়ন হবে

মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্জিত মেধা স্কোরের ক্রমানুসারে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ জন্য মাধ্যমিক/ও লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ; উচ্চ মাধ্যমিক/এ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ করে এই দুইয়ের যোগফল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ তে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধাস্কোর নির্ণয় করা হবে। সে অনুযায়ী তৈরি করা হবে মেধাতালিকা।

মেধাস্কোরের ভিত্তিতে নির্ণয় করা মেধাক্রম অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাতালিকা ও ফলাফল ভর্তি পরীক্ষার পর সাত দিনের মধ্যে ঢাবির ভর্তি ওয়েবসাইটে (http://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে। প্রার্থী এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারবেন।

মেধাতালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অনলাইনে কলেজ ও বিষয় পছন্দকরণ ফরম পূরণ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম ও ভর্তির যোগ্যতা অনুসারে বিভাগ বণ্টনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসএসসি এবং এইচএসসির মূল নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা রাখা হবে।

সাত কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’   

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন।

যশরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম রিয়েল বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে তামজিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

নিহত তামজিরুলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কোর্শাপুর গ্রামে। তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিমানবন্দরে কাজ করার সময় তাকে পতাকা স্ট্যান্ডে পতাকা বাঁধতে এবং লাইট সেট করতে বলা হয়। সে সময় তামজিরুল কোমরে সেফটি বেল্ট বেঁধে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ সেফটি বেল্টটি ছিঁড়ে গেলে তিনি নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

গফরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।’

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

নওগাঁয় ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় বিপাকে কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

আমন চাষের মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ নওগাঁয় বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম। ধান চাষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারটির প্রতি বস্তায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রায় ৬৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিশস্য রয়েছে আরও ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

ভরা মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া সারের আনুমানিক চাহিদা ৩৩ হাজার টন। এসব সার সরবরাহে জেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন ১২৭ জন।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৬৬ হাজার পরিবার কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে।

তবে গত ১০-১৫ দিন আগে নানা অজুহাতে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

এ বিষয়ে সঠিক তদারকি ও বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন জানান, ‘হামি পাঁচ বিঘা জমিত আমনের আবাদ করিছি। ধান লাগানার শুরুত ইউরিয়া সারের দাম আছিল বস্তাপ্রতি ৮১০-৮২০ টেকা করা। বর্তমানে প্রতি বস্তা দাম ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টেকা পর্যন্ত বাড়া গেছে।

‘প্রতি বস্তায় যদি কয়েক দিনের মধ্যে ৮০ থ্যাকা ১০০ টেকা পর্যন্ত বাড়া যায় তালে হামরা কীভাবে আবাদ করা পোষামু। বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াছে ইচ্ছা করা।’

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক সুবল দাস বলেন, ‘হামি ১০ বিঘা জমিত আমন ধানের আবাদ করিছি। প্রতি বিঘাত জমি হালচাষ, নিড়ানি, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ দিয়া মোট সাড়ে ৭ হাজার থ্যাকা ৮ হাজারের মতো খরচ হয়। আর ফলন ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮ থ্যাকা ১০ মণের মতো ধান পাওয়া যায় প্রতি বিঘাত।

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

‘এখন আমনের ভরা মৌসুম, তাই এখন ইউরিয়া সার জমিত দেওয়া লাগে। তবে বাজারোত প্রতি বস্তাত প্রায় ৮০-১০০ টেকার মতো বেশি দাম বাড়া গেছে। দোকানদাররা কচ্ছে, সারের নাকি সাল্পাই কম, তাই দাম বেশি। এত দাম যদি সারোত বাড়া যায়, জমির অন্য খরচ তো আছেই, সব মিলা তো কুলা উঠা পারমু না হামরা।’

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন বলেন, ‘হামাকেরে এটি ইউরিয়া সার বস্তাপ্রতি কেনা লাগিচ্ছে ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টাকা দরে। কয়েক দিন আগেই ৮১০ থ্যাকা ৮২০ টেকা বস্তা দাম আছল। হঠাৎ দাম বাড়া গেল। কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সবার চাহিদা মিটায়, কিন্তু কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে কেউ দেখে না।’

নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জাহিদুর রহমান জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে খুচরায় বিক্রি করেছেন ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে।

এখন ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সেই সার তারা কৃষকের কাছে ৮৯০ কেউ ৯২০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রি করছেন।

নিয়ামতপুর উপজেলার স্থানীয় ছাতড়া বাজারের সার ডিলার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পাচ্ছি না। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়াও বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে সার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে আমরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি তো করছি না।’

জেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কোনো সংকট হয়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে বিসিআইসি ডিলাররা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সার উত্তোলন করেছেন।

‘এখন পর্যন্ত ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনোভাবেই যাতে সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি না নেয়া হয় সেটা ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানান, ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি। তবে কৃষকরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন তাহলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়ার কথা বললেন, সে ক্ষেত্রে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

মোবাইল ও কম্পিউটার ডিভাইস মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিতে বাড়ছে শিশুদের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ মাইয়োপিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় বাচ্চাদের হাতে উঠেছে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, নোটবুক। যারা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে ছিল তারাও হয়েছে আসক্ত। খেলার সময়, খাওয়ার আগে, অনলাইন ক্লাস, ঘুমের সময় ক্ষণে ক্ষণে চাই মোবাইল। আর এতে করে শিশুদের মাঝে ‘মাইয়োপিয়া’ বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী আরিশা। বয়স ১১ বছর। চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে গেল তিন বছর ধরে চশমা ব্যবহার করছেন। ছয় মাস পর পর চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা লাগে। সবশেষ জুনে চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরিশার মা ফামিদা ফারিন জানান, এটা জন্মগত কোনো সমস্যা নয়। পড়াশোনা ও অধিক সময় মোবাইল ব্যবহারের কারণে কমে এসেছে দূরের দৃষ্টি শক্তি। করোনার কারণে মোবাইল নির্ভরতা আরও অনেক বেড়েছে। করোনার মধ্যে রুটিনের বাইরে চলে গেছে মোবাইল ব্যবহারের পরিমাণ।

ফামিদা বলেন, ‘মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা ও চোখ ব্যথায় ভোগে আরিশা। এখন রাতে ঘুমায় দেরি করে, সকালে ওঠে দেরি করে। উঠেই মোবাইল খোঁজে। কিছু বললে বলে মোবাইলে পড়ালেখা করবে। আর আমরা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় মনিটরিংও করতে পারছি না।’

আরিশার মতো হাজার শিশু এখন এই সমস্যায় ভুগছে।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় বাচ্চাদের হাতে উঠেছে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, নোটবুক। যারা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে ছিল তারাও হয়েছে আসক্ত। খেলার সময়, খাওয়ার আগে, অনলাইন ক্লাস, ঘুমের সময় ক্ষণে ক্ষণে চাই মোবাইল। আর এতে করে শিশুদের মাঝে ‘মাইয়োপিয়া’ বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।

করোনার সময়ে মাইয়োপিয়ায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কী পরিমাণ এমন রোগী রয়েছে তার পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। গেল দুই বছরে এই হাসপাতাল থেকে সেবা নেওয়া মাইয়োপিয়া রোগী সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ।

হাসপাতাল পরিসংখ্যান বলছে, করোনার আগে এই হাসপাতালে সেবা নেয়া রোগীর ২২ শতাংশ মাইয়োপিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেতে। করোনা কারণে ঘরবন্দি থাকায় শিশুদের মধ্যে বেড়েছে এ রোগ। এখন বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর শিশুরা ঘরবন্দি। কাজ না থাকায় সারাক্ষণ স্ক্রিনে; দূরের জিনিস দেখেনি। ফলে তাদের দূরের দৃষ্টিশক্তি ঠিকমতো তৈরিই হচ্ছে না। আটবছর পর্যন্ত শিশুদের চোখের গঠনগত পরিবর্তন হতে থাকে। এই বয়সের শিশুরা যদি দূরের জিনিস না দেখে তাহলে আস্তে আস্তে দূরের দৃষ্টিশক্তিই হারিয়ে ফেলবে। বড় হওয়ার পরেও তাদের এই সমস্যা কাটবে না।

এ বিষয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিউটের অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, করোনার কারণে মায়োপিয়া রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসপাতালে রোগী অনেকগুণ বেড়েছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী দেখলেও এখন এই সংখ্যা বেড়ে ৩০০ খেকে ৪০০ হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩ শতাংশই দূরে দেখার দৃষ্টিতে সমস্যা নিয়ে আসে। তার একটি বড় অংশ শিশুরা।’

খায়ের আহমেদ জানান, করোনার আগে ২০১৯ সাল ও ২০২০ সালে ২০ থেকে ২২ শতাংশ ছিল মাইয়োপিয়া। করোনার মধ্যে এ জাতীয় রোগীর হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ করোনা মধ্যে শিশুদের ডিভাইসে আশক্তি।

শিশুরা এখন অধিকাংশ সময় এখন অনলাইনে কাটায়। করোনা সংক্রমণের আগে বাচ্চারা বাবা-মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানের ঘুরতে যেতে পারত, এখন সেটাও করতে পারেনা। ঘরবন্দি বাচ্চারা সময় কাঁটতে মোবাইলকে বেছে নিচ্ছে। ঘুমের সময় ছাড়া বাকি সময় কাটছে মোবাইলের মাধ্যমে।

কারণীয় কী

করোনার কারণে এতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে। শিশুদেরকে মোবাইল, ল্যাপটপ জাতীয় ডিভাইস থেকে ফেরাতে তাদের হাতে তুলে দেয়া যেতে পারে গল্পের বই। সেই সঙ্গে শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়েরা গল্প করতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে মিলে মাঝে মাঝে আড্ডার ব্যবস্থা করতে পারে।

সবাই মিলে চেষ্টা করলে এই সমস্যা কাটিয়ে তোলা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিলে যেন বিরতি নেয়। ৩০ মিনিট পর পর গ্যাপ দিলে বেশি ভালো হয়।

এ সমস্যা কাটাতে আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছেন তারা। শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে। শহর এলাকার বাচ্চাদের বেশির ভাগ চিকেনের ওপর নির্ভরশীল। এই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

ডিভাইসগুলো অবশ্যই সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে হবে। অল্প আলোতে লেখাপড়া যাতে না করে সেটাও লক্ষ্যে রাখতে হবে। বাড়ির কাজ করলে বিরতি দিয়ে দিয়ে করতে হবে। গল্পের বই একটানা যেন দীর্ঘ সময় ধরে না পড়ে। এক্ষেত্রে শুধু অভিভাবকরা নয়, চিকিৎসক ও শিক্ষকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞানের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজনীন খান নিউজবাংলাকে বলেন, চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত সমস্যা দূর করতে কোনোভাবে যেন একনাগাড়ে কম্পিউটারের সামনে বা কোনো ডিভাইসের সামনে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষ্য, শিশুদের চোখের সমস্যা স্থায়ী হয়ে যাওয়ার কারণ সঠিক সময়ে তাদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় না। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি কম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যতক্ষণ তারা কথা না বলে বোঝাতে পারছে ততক্ষণ তাদের অভিভাবকরা বুঝতেই পারেন না তার শিশুর চোখের দৃষ্টিশক্তি কত।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

জামিন চেয়ে ‘শিশু বক্তা’ রফিকুলের হাইকোর্টে আবেদন

জামিন চেয়ে ‘শিশু বক্তা’ রফিকুলের হাইকোর্টে আবেদন

মতিঝিল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ২৫ মার্চ আটক করা হয় ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে, যিনি ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

রফিকুলের আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আমরা জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। মামলা দুটির মধ্যে একটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানায়, আরেকটি গাজীপুরে বাসন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাসহ দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আটক ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানি।

তার পক্ষে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে বুধবার আবেদন করেন আইনজীবী আশরাফ আলী মোল্লা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আমরা জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। মামলা দুটির মধ্যে একটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানায়, আরেকটি গাজীপুরে বাসন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।’

বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানান এই আইনজীবী আশরাফ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত ১১ এপ্রিল মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি মামলা হয়। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ৭ এপ্রিল ভোরে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাবের একটি দল।

এর আগে মার্চে পল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছিল। সেবার কিছু শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। পরে শর্তগুলো রাখেননি তিনি।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

বগুড়ার শিবগঞ্জে বাউল শিল্পীকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সংবাদ পেয়েই বাউলশিল্পীকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক কিশোর বাউলশিল্পীকে জোর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ওই কিশোর বাউলশিল্পী শিবগঞ্জ থানায় মামলা করে। পরে রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিশোর বাউলশিল্পী মেহেদী হাসান শিবগঞ্জ উপজেলার জুড়ি মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন, একই এলাকার শফিউল ইসলাম, মেজবাউল ইসলাম ও তারেক রহমান।

অভিযুক্ত পলাতক বাকি দুই আসামি হলেন, ফজলু মিয়া ও আবু তাহের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অনটনের কারণে মেহেদী ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্থানীয় এক বাউলশিল্পীর সঙ্গে গান শিখতে থাকেন। একপর্যায়ে গুরুকে অনুসরণ করে সে বাউলশিল্পীদের মতো বাবরি চুল, সাদা ফতুয়া, লুঙ্গি ও গামছা পরতে শুরু করে। পাশাপাশি তার গুরুর সঙ্গে বিভিন্ন বাউল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে চারপাশে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে অভিযুক্তরা মেহেদী ও তার গান নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এলাকায় ছড়াতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদীর ওপর হামলার হুমকি দেন।

একপর্যায়ে গত শনিবার রাতে অভিযুক্তরা মেহেদীর ঘরে ঢুকে তাকে জোর করে ন্যাড়া করে দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে মারধরও করেন। তখন মেহেদীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

পরে মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। এরপরই তিনি মেহেদীকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

ওসি সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সংবাদ পেয়েই বাউলশিল্পীকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

অসহায় ওই বাউলশিল্পীর পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছুঁই ছুঁই
২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন