× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
শাটডাউনে ব্যাংকে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা
hear-news
player
google_news print-icon

শাটডাউনে ব্যাংকে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

শাটডাউনে-ব্যাংকে-সাইবার-হামলার-আশঙ্কায়-সতর্কতা
ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশে বলা হয়, ‘করোনার বিধি নিষেধের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এই সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনলাইন সিস্টেমস ও ডাটাবেইজের ওপর সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্ক নজরদারি রাখতে হবে। একই সঙ্গে ই-মেইল, ভুয়া ই-মেইল, র‌্যানসমওয়্যারের মতো ভাইরাস যাতে কোনো হামলা চালাতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি পরিচালনা করতে হবে।’

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে চলা শাটডাউনের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সাইবার আক্রমণ যেন চালাতে না পারে সে জন্য বিশেষভাবে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে সতর্কবার্তা আসার পর ব্যাংকগুলোও নানা ব্যবস্থা নিয়েছে।

এমনিতে ব্যাংক খাতে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হলেও শাটডাউনে রোববারও বন্ধ থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে তিন দিনের ছুঁটির সুযোগ নিয়ে কেউ যেন অপকর্ম করতে না পারে সে জন্যই সতর্কতা দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সবসময় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে এসব বিষয় তদারকি করে। আবার অন্য ব্যাংককে নির্দেশনাও দেয়া হয়। প্রতিটি ব্যাংক নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যাপারে আগের থেকে আরও সতর্ক হয়েছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, সাইবার ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। ফলে আইটি ব্যবস্থাপনায় কর্মরতদের আরো সতর্ক করতে হবে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারের কোনো নির্দেশনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়। এছাড়াও ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা যেন পরিপালন করে সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

‘বিভিন্ন পয়েন্ট যেসব দিয়ে ম্যালওয়ার ঢুকতে পারে, যেসব পয়েন্টে সাইবার হামলা হতে পারে সেসব পয়েন্টে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে।’

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক আদেশে বলা হয়, ‘করোনার বিধি নিষেধের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এই সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনলাইন সিস্টেমস ও ডাটাবেইজের ওপর সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্ক নজরদারি রাখতে হবে।

একই সঙ্গে ই-মেইল, ভুয়া ই-মেইল, র‌্যানসমওয়্যারের মতো ভাইরাস যাতে কোনো হামলা চালাতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি পরিচালনা করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, সব পক্ষকে লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণা, সোশ্যাল মিডিয়া, ই-মেইল, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করোনাভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৬২টি ব্যাংক। তার মধ্যে ছোট ও মাঝারি মানের ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।সাইবার ঝুঁকি রোধে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বা এই খাতে বিনিয়োগে ছোট এবং মাঝারি মানের ব্যাংকগুলোর তেমন নেই বললেই চলে।

ভয়ংকর ম্যালওয়্যার র‌্যানসমওয়্যার। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি দপ্তর- সবখানেই এই ম্যালওয়্যার নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক। কখন যেন নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, হয়ে যায় সর্বনাশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি সতর্ক করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সার্ট)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সতর্ক না হলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিপদ।

ক্ষতিকারক এই ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা পেতে করণীয় ঠিক করেছে সার্ট। ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা ৯ পাতার ওই নির্দেশিকায় বলা হচ্ছে, র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণকারীরা আরও অগ্রসর হয়ে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডাটাকে এমন ভাবে লক্ষ্যবস্তু করে যে, ডাটার তথ্যও এনক্রিপ্ট করে ফেলে, যার ফলে আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ডাটা পুনরুদ্ধার ও সেবা সচল করাও অসম্ভব হয়। এর ফলে বাড়ে আর্থিক ক্ষতি।

সার্ট প্রকল্প পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, ‘সারা বিশ্বের লাখ লাখ সার্ভারে হামলা হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান। অন্য হামলার তুলনায় এই হামলায় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করেছে হ্যাকাররা। এখন তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে আর্থিক ক্ষতির চেষ্টা করবে। ফলে সামনে অর্থ চুরির শঙ্কা রয়েছে’।

রিজার্ভ চুরিতে র‌্যানসমওয়্যার

বারবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বাংলাদেশে। কিন্তু কেন্দ্রীয় এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সতর্কতার কারণে তেমন কোনো ক্ষতি সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে যে ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি ব্যবহৃত হয়েছিল তার চেয়ে শক্তিশালী ভাইরাস র‌্যানসমওয়্যার। বাংলাদেশে এর অবস্থান ও সাইবার হামলার চেষ্টা নিয়ে আলোচনাও চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, র‌্যানসমওয়্যারের আক্রমণের ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেক বেশি। এতে প্রতিষ্ঠানের অতি প্রয়োজনীয় ডাটা বা ফাইল ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আক্রমণের শিকার প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। গেল বছর আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় ইউনিভার্সাল হেলথ সার্ভিসে আলোচ্য ভাইরাস দিয়ে হামলা চালানোর ফলে ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়।

প্রতিরোধে করণীয়

সার্ট থেকে তৈরি করা নির্দেশনায় বলা হচ্ছে, ইন্টারনেটের দুর্বলতা ও ভুল কনফিগারেশন, ফিশিং বা ভুয়া মেইল বা ওয়েবসাইট, আগের ম্যালওয়্যারের সংক্রমণ, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি সাইবার হামলা চালাতে পারে।

এক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে এ আক্রমণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি ও সাইবার সুরক্ষা সচেতনতা প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কোনে তথ্য সংবেদনশীর সেটা চিহ্নিত করতে হবে। কখন, কোথায়, কেন এবং কীভাবে সংবেদনশীল তথ্য বিনিময় করা যাবে সে সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

সাইবার আক্রমণকারীরা তাদের টার্গেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য ফিশিং ই-মেইল ক্যাম্পেইন এবং সোশ্যালি ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল প্রয়োগ করে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে তাদের ফিশিং ইমেইলে ডকুমেন্ট ফাইল ওপেন বা লিংক এ ক্লিক করতে প্ররোচিত করে।

ব্যবহারকারী যেন অযাচিত বা সন্দেহজনক ঠিকানা থেকে পাঠানো ই-মেইল লিংক, ফাইল বা সংযুক্তিতে ক্লিক না করে এবং এ ধরনের ফিশিং চেষ্টা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের সাইবার সুরক্ষা টিমকে অবহিত করতে পারে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

সফটওয়্যার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা

অপ্রয়োজনীয় ওএস সেবা ও নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সার্ট। বলা হচ্ছে, অ্যন্টি ভাইরাস বা অ্যান্টি ম্যালওয়্যার ব্যবহার করতে হবে এবং সর্বদা এগুলো হালনাগাদ করতে হবে। নিয়মিত কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে হবে।

সাইবার সুরক্ষা উন্নয়নে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা উচিত। সংবেদনশীল এবং ক্রিটিকাল নেটওয়ার্ক আলাদা করতে হবে। যাতে এক নেটওয়ার্কে সমস্যা হলে অন্য নেটওয়ার্কে পরিচালনা করা যায়। স্প্যাম এবং ফিশিং ই-মেইল ব্লক করার জন্য নেটওয়ার্কে শক্তিশালী ই-মেইল ফিল্টারিং সিস্টেম ইনস্টল করতে হবে।

সাইবার অডিট জরুরি

সার্ট বলছে, তৃতীয় পক্ষ সেবাদানকারী যাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় জালিয়াতি না করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কে সেবাদানকারী তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্টস, রোলস ও প্রিভিলেজ নিয়মিত অডিট করতে হবে। কোনো শেয়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে না। তৃতীয় পক্ষ যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা দান করে সেক্ষেত্রে যতটুকু সময দরকার ঠিক ততটুকু অ্যাক্সেস দিতে হবে।

ব্যাকআপ পর্যায়ে প্রতিরোধ

ডেটা প্রতিদিন ব্যাকআপ নেবার বিকল্প নেই। কমপক্ষে তিনটি ব্যাকআপ কপি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে সার্ট। এর মধ্যে দুইটি ব্যাকআপ কপি দুটি ভিন্ন ভিন্ন স্টোরেজে মিডিয়ায় থাকতে পারে। তৃতীয় ব্যাকআপ কপি অফ-লাইন আ অফ-সাইটে থাকতে পারে।

সংক্রমিত কম্পিউটার অবিলম্বে বন্ধ, নেটওয়ার্ক সংযোগ বিছিন্ন, প্রতিষ্ঠানের কার্যকরি নেটওয়ার্ক সাময়িক বিছিন্ন, শেয়ার ডিভাইস ডিজেবল করা উচিত। সংক্রণের প্রকার ও সংখ্যা নির্ধারণ করে ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। যাতে সংক্রমিত ডিভাইসগুলোর পাশাপাশি কী ধরণের ডেটা এনক্রিপ্ট হয়েছে সেটি নির্ধারণ করা যায়। ব্যাকআপ থেকে প্রতিষ্ঠানের ফাইল বা নথি পুনুরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজ ফিরিয়ে নিতে হবে। পরে সব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার পরামর্শ দিচ্ছে সার্ট।

হাফনিয়ামের ও ক্যাসাব্লাংকা

চলতি বছরের ২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালায় হাফনিয়াম নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয় এই হ্যাকার গোষ্ঠী। নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম থেকে মনিটর করার সময় এই হামলার বিষয়টি শনাক্ত হয়।

১৭ ফ্রেব্রুয়ারি বিজিডি ই গভ সার্ট ওয়েবসাইটে ‘ক্যাসাব্লাংকা’ নামে একটি থ্রেট অ্যাকটর গ্রুপের কাছ থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার হুমকির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল। তখন সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

গত বছরের আগস্টেও একই রকম একটি সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা করছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখনও সতর্ক করে দেয়া হয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

নভেম্বর মাসে আবার একটি হামলার আশঙ্কা করা হয়।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানে চীনের সাইবার হামলা
সাইবার হামলা: রাশিয়াকে দুষতে নারাজ ট্রাম্প
অলিম্পিকের সাইট হ্যাক রাশিয়ার: যুক্তরাজ্য

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
6 proposals of BMBA to central bank for capital market development

পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব

পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
গভর্নরকে দেয়া চিঠিতে ২০১১ সাল থেকে পুঁজিবাজারে নানা প্রতিকূলতার উল্লেখ করে বিএমবিএ বলেছে, ‘এ বিষয়ে কোনো কোনো সময় আংশিক বা খণ্ডিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাতে সাময়িক কিছুটা ইতিবাচক অবস্থা দেখা গেলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ধারাবাহিক নিম্ন ধারায় চলে যায় এবং হতাশার তৈরি হয়।’

দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। এ লক্ষ্যে এক চিঠিতে ৬টি প্রস্তাব সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে মঙ্গলবার পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াদ মতিন।

চিঠিতে ৬টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো সমাধান করা হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করেন বিএমবিএ নেতারা।

সুপারিশগুলো হলো-

১. সব ধরনের বন্ড ও ডিবেঞ্চার পুঁজিবাজার এক্সপোজারের বাইরে রাখা।

২. মিউচুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে পুঁজিবাজার এক্সপোজারের বাইরে রাখা।

৩. পুঁজিবাজার বিনিয়োগে নিজ সাবসিডিয়ারিকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার রিল্যাক্স করা।

৪. পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিলে ২ শতাংশ সাধারণ সঞ্চিতি রাখতে হয়। অথচ অন্য সব ঋণের ক্ষেত্রে সেটি ১ শতাংশ। তাই ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হয় বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুদের হার বেশি ধরা হয়। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে অন্যান্য ঋণের মতো সাধারণ সঞ্চিতি ১ শতাংশ ধরা হলে বাজারে অর্থের যোগান বাড়তে সাহায্য করবে।

৫. সমন্বিত পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসাব রিপোর্টিং স্থগিত করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের আকার বৃদ্ধিতে এটি প্রতিবন্ধকতা।

৬. ভালো প্রতিষ্ঠান বা যারা ভালো ব্যবসা করেন তারা সহজে যে কোনো পরিমাণ ঋণ পায়। তারা জামানত দিয়ে সহজেই ঋণ পেয়ে যায় বলে পুঁজিবাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে না। বড় বা ভালো মানের প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত না হলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে না। তাই ওইসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ, মূলধন বা ব্যবসার আকৃতির ওপর তালিকাভুক্তির একটি কাঠামো নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিএমবিএ মনে করে, বৃহৎ বা ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবে। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নানা প্রতিকূলতার উল্লেখ করে সংগঠনটির চিঠিতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে কোনো কোনো সময় আংশিক বা খণ্ডিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাতে সাময়িক কিছুটা ইতিবাচক অবস্থা দেখা গেলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ধারাবাহিক নিম্ন ধারায় চলে যায় এবং হতাশার তৈরি হয়।

গর্ভনর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আব্দুর রউফ দ্রুতগতিতে কিছু পুরনো সমস্যার সমাধান করেছেন, যা পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Ban on Islami Bank for loans to 8 institutions

ইসলামী ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা ৮ প্রতিষ্ঠানের ঋণে

ইসলামী ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা ৮ প্রতিষ্ঠানের ঋণে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে।
অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের ঋণ বাড়ানোর বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের মালিকানায় থাকা কোনো পক্ষ বেনামে এসব ঋণ নিতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। এ জন্য বিষয়টি তদন্ত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

নাবিল গ্রুপসহ আট প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ছাড় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জরুরি তলব করে।

এর আগে নাবিল গ্রুপসহ আট প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে আগ্রাসী ঋণ দেয়ার নথিপত্র সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল পরিদর্শন করে এসব ঋণ অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়েছে।

নতুন কোম্পানি খুলে কিংবা আগে থেকে ঋণ রয়েছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, তা খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নাবিল গ্রুপের ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ঋণের সুবিধাভোগী অন্য কোনো পক্ষ কি না, তার তদন্ত হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সংবাদপত্রে উঠে এসেছে ইসলামী ব্যাংক বেনামে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ সদস্যর একটি দল ইসলামী ব্যাংকের দেয়া ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দেবে।’

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নাবিল গ্রুপের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিলেও তা অজ্ঞাত কারণে থেমে যায়। এখন নতুন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।

রাজশাহীকেন্দ্রিক নাবিল গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

শুধু নাবিল গ্রুপের ঋণ নয়, এসব ঋণের সুবিধাভোগী ছাড়াও ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা থেকে বিতরণ করা ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের সুবিধাভোগী কারা, তা খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত দল। ঋণের কোনো অর্থ পাচার হয়েছে কিনা, হুন্ডি কারবারে ব্যবহার হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও যাচাই করবে।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ও বাকি অর্থ সোশ্যাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে বের করে নেয়া হয়। সব মিলিয়ে এ গ্রুপের নামে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তাদের ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

গত আগস্টে অস্বাভাবিক ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসার পর ইসলামী ব্যাংকে তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা।

অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের ঋণ বাড়ানোর বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের মালিকানায় থাকা কোনো পক্ষ বেনামে এসব ঋণ নিতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। এ জন্য বিষয়টি তদন্ত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আরও পড়ুন:
নথিপত্র ছাড়াই নাবিল গ্রুপকে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Where is the condition of the banking sector bad? Finance Ministers question

ব্যাংক খাতের অবস্থা কোথায় খারাপ, অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন

ব্যাংক খাতের অবস্থা কোথায় খারাপ, অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যাংকের অবস্থা কোথায় খারাপ তা লিখিত দিয়ে যান, আমরা খতিয়ে দেখব।’

দেশে ব্যাংক খাতের অবস্থা ভালো নয়- এমনটা মানতে নারাজ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। উল্টো দেশের ব্যাংকগুলোর অবস্থা কোথায় খারাপ তা লিখিতভাবে জানাতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মঙ্গলবার সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ ব্যবস্থাপনা মডিউল উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংকের অবস্থা কোথায় খারাপ তা লিখিত দিয়ে যান, আমরা খতিয়ে দেখব।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুরশেদুল কবীর, ইসলামী ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা প্রমুখ।

সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা’ প্রণয়ন করে সরকার। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর প্রণয়ন করা হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক/কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা। একই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের জুনে প্রণয়ন করা হয় প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তাতে অধিকাংশ সময় আবেদনকারীর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ সময় লেগে যায়। আবেদনের অবস্থা কী বা কোন পর্যায়ে আছে, তা জানারও কোনো সুযোগ থাকে না আবেদনকারীদের। আশা করি ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা হলে এ ধরনের সমস্যা দূর হবে।’

অর্থমন্ত্রীর মতে, ঋণ আবেদনপ্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা হলে আবেদনকারী সরাসরি অনলাইনে অর্থ বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংক ও মন্ত্রণালয় মিলে অল্প সময়ের মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে সুদ-ভর্তুকির মঞ্জুরি আদেশ জারি করাও সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে হলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার পদ্ধতি সহজ করা বা অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য একই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সরকার এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবকিছুতেই পরিবর্তন এনেছি। আগে যেভাবে বাজেট পেশ করতাম, সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবকিছু ডিজিটাল করা হয়েছে।’

‘আমি নিজেও একজন নিরীক্ষক ছিলাম। তখন একটাই অভিযোগ পেতাম, মাস শেষে লাইন ধরে বসে থেকেও পেনশনের টাকা পাওয়া যায় না। ভাবতাম, এটা কী করে সম্ভব? পেনশন কেন পাওয়া যাবে না? আসলে তখন সবকিছু ছিল কাগজে-কলমে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকার কারণেই সমস্যা ছিল বেশি। এখন কোনও সমস্যা হচ্ছে না।’

সরকার সর্বজনীন পেনশনের যে কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
আইএমএফের ঋণে শর্ত নেই: অর্থমন্ত্রী
অবকাঠামো উন্নয়নে এআইআইবি’র সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চান অর্থমন্ত্রী
‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সংবাদে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান প্রতিফলিত হয়নি’
জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ-বাণিজ্য
Remittance will be received at home

ঘরে বসেই মিলবে রেমিট্যান্স

ঘরে বসেই মিলবে রেমিট্যান্স
সার্কুলারে বলা হয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসী আয় প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার, ব্যাংক, ডিজিটাল ওয়ালেট, কার্ড স্কিম ও এগ্রিগেটর পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে।

বিকাশ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল সেবাদাতাদের মাধ্যমে (এমএফএস) সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগ্রহী মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আয় প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।

এতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠালে ঘরে বসেই তা পাবেন গ্রাহক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব অথরাইজড ডিলার এবং মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের হেড অফ কর্পোরেট কমিউনিকেশনস্ শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আশা, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে প্রবাসীরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই নিরাপদে এবং আরো দ্রুত বৈধ উপায়ে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন, যা রেমিটেন্স গ্রহণে আরো গতিশীলতা আনবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসারেই পরবর্তী সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে।’

এতদিন বিদেশি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এনে ওই টাকা গ্রাহকের মনোনীত ব্যক্তির এমএফএস অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেয়া হতো। এতে টাকা পেতে গ্রাহকের সময় বেশি লাগত। অনুমোদন পাওয়া সেবাদাতারা এখন থেকে সরাসরি রেমিট্যান্স আনতে পারবে এবং গ্রাহকও দ্রুত রেমিট্যান্সের টাকা পাবেন।

সার্কুলারে বলা হয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসী আয় প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার, ব্যাংক, ডিজিটাল ওয়ালেট, কার্ড স্কিম ও এগ্রিগেটর পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে।

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতাদের বিদেশি সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে– যার মাধ্যমে তাদের অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে এবং সেখান থেকে প্রবাসী গ্রাহকের মনোনীত মুঠোফোনের আর্থিক অ্যাকাউন্টে তার মূল্য টাকায় প্রদান করবে।

বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা যথাযথ ই-কেওয়াইসি পরিপালন করে মোবাইল ব্যাংকিং অর্থাৎ এমএফএসে হিসাব খুলতে পারবেন। আর বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো মুঠোফোনের আর্থিক সেবাদাতাদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন নিষ্পত্তির সুবিধা দিতে পারবে। এ জন্য অবশ্য নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিদেশস্থ নস্ট্রো হিসাবে অর্থ জমার পর উক্ত অর্থের সমপরিমাণ টাকা সেটেলমেন্ট হিসাবে জমা হবে।

‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ হলো বৈদেশিক মুদ্রায় দায়-দেনা পরিশোধের জন্য বিদেশের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট। এ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের পক্ষে বিদেশি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট এলসির পেমেন্ট দেয়া হয়। রপ্তানি বিল ও রেমিট্যান্সের আয়ও নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে যোগ হয়।

গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ কমে গেছে। অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ হুন্ডি বেড়ে যাওয়ার কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে (১ থেকে ২৫ নভেম্বর) ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। অথচ চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৭ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি মাসের বাকি ৫ দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো নভেম্বর মাসেও দেড় বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি রেমিট্যান্স আসবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণে অবৈধ হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। এটা বন্ধ করতে না পারলে রিজার্ভের পরিমাণ আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। আগস্টে আসে ২ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল। পরের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

আরও পড়ুন:
কর্মকর্তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ধামাচাপা দেন ডিজিএম
ব্যাংকিং খাত নিয়ে ভিডিওর যথার্থতা যাচাইয়ের নির্দেশ
‘কৃষকের কোমরে দড়ি, কোটি টাকার পাওনাদারদের কিছু হয় না’
চেক ডিজঅনার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি
পদ্মা ব্যাংক ও রয়্যাল গ্রুপের সমঝোতা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The Japanese do business smoothly in the country Salman F Rahman

দেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেন জাপানিরা: সালমান এফ রহমান

দেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেন জাপানিরা: সালমান এফ রহমান বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নিজের দেশের অনুভূতি পান। এখানে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন না। নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।’

দেশে জাপানিরা স্বদেশের অনুভূতি পান এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে হাইব্রিড ফর্মে আয়োজিত ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্লাশ মব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা (বিডা) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাপানের টোকিওতে এএনএ ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে মঙ্গলবার এ আয়োজনে দুই দেশের বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নিজের দেশের অনুভূতি পান। এখানে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন না। নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।’

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘বিশেষ’ তকমা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর একটি। দুই দেশের মধ্যে বিশেষ এক সম্পর্ক রয়েছে। এটা ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক।

‘সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান সফর করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ বার জাপান ভ্রমণ করেছেন। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হয়েছে।’

জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সালমান এফ রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নে আগামীতেও জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আগামীতে আরও স্মার্ট বাংলাদেশ হবে।’

এ সময় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বানের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ২০২১ ও ২০২২ সালে দুবাই, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান্তাক্লারা, জুরিখ, জেনেভা, লন্ডন, ম্যানচেস্টার এবং আবুধাবিতে বিনিয়োগ সম্মেলন করেছে ঢাকা।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ জ্বালানিসংকট: সালমান
বছরের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি: সালমান এফ রহমান
‘ব‌রিশালে বেসরকা‌রি শি‌ল্প উন্নয়নে যা সহায়তা দরকার কর‌ব’
বেকারত্ব কোথায়, প্রশ্ন সালমান এফ রহমানের
মানবাধিকার প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
At the last moment the deadline for return submission may increase

শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমার হিড়িক, সময় বাড়তে পারে

শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমার হিড়িক, সময় বাড়তে পারে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কর অফিসে মঙ্গলবার রিটার্ন জমা দিতে আসা করদাতার ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআর বুধবার জাতীয় আয়কর দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন।

শেষ মুহূর্তে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার হিড়িক পড়েছে। মঙ্গলবার সারা দেশের কর অফিসগুলোতে ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার কর অফিসগুলো করদাতাদের পদচারণে ছিল মুখর।

এদিকে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি-শ্রেণির আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়তে পারে। বেঁধে দেয়া সময়সীমার শেষ দিন বুধবার ৩০ নভেম্বর এই ঘোষণা আসতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার জাতীয় আয়কর দিবস পালন করবে এনবিআর। এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বুধবার রিটার্ন জমার শেষ সময়। বরাবরই শেষ সময়ে এসে রিটার্ন জমার চাপ বেশি থাকে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

তরুণ করদাতা আব্দুল হামিদ একজন ব্যাংকার। তিন ধরে তিনি নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবার মতিঝিলে নিজের অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তিনি সেগুনবাগিচায় আসেন আয়কর রিটার্ন জমা দিতে।

রাজধানীর কর আঞ্চল-৮-এর সার্কেল ১৭০ অফিসের করদাতা তিনি। নিজের ফাইল নিজেই পূরণ করেন তিনি।

সেগুনবাগিচায় কর অফিসে কথা হলো আব্দুল হামিদের সঙ্গে। ‍নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে ভালো লেগেছে। তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কর্মকর্তারা যথেষ্টই আন্তরিক। দ্রুত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে পেরেঠি। আমরা চাই কর অফিসে সারা বছর এমন পরিবেশ বজায় থাকুক।’

এনবিআর এবার কর মেলার আয়োজন করেনি। তবে করদাতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি কর অফিস প্রাঙ্গণে মেলার আদলে সেবার আয়োজন করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে কর সেবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে শেষ দিন পর্যন্ত। সহজে ও কম সময়ে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন বলে এনবিআরের এই উদ্যোগে সন্তুষ্ট করদাতারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত ২১ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে জমা পড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। তবে করদাতা শনাক্তকরণ বা টিআইএনধারীর সংখ্যা ৮০ লাখ।

নিবন্ধনের তুলনায় রিটার্ন জমার সংখ্যা কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ক্রয়সহ ৩৯ সেবা খাতে রিটার্নের সঙ্গে প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তিস্বীকার দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে এনবিআর আশা করছে এবার রিটার্ন জমার সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

রিটার্ন জমার সময় বারবার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৬ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবসে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্দিষ্ট করা হয়। এ নিয়ে সে বছরই সংসদে আইন পাস হয়।

এনবিআর বলেছে, দেশে কোনো মহামারি কিংবা দুর্যোগ পরিস্থিতি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে করোনা সংক্রমণের মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৮৪ জি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত দুই বছর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ব্যবসায়ীরাও ভালো নেই। এমন পরিস্থিতিতে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর দাবি এসেছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পক্ষ থেকে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা দিতে হয়। তবে জরিমানা এড়াতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলেই কর
টাকা সাদা করার সুযোগের বিপক্ষে এনবিআর
ব্যক্তি আয়করে ছাড়ের সম্ভাবনা নেই
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
5 percent of the banks CSR should be given to the Prime Ministers Education Fund

ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে

ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছর সিএসআর খাতে যে বাজেট ধরা হবে তার ৫ শতাংশ অর্থ আগামী বছরের ৩০ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিলে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে অনুদান হিসেবে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ সোমবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, চলতি বছর সিএসআর খাতে যে বাজেট ধরা হবে তার ৫ শতাংশ অর্থ আগামী বছরের ৩০ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিলে জমা দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিলের আকার বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর খাতের বরাদ্দের ৫ শতাংশ অর্থ এই তহবিলে অনুদান হিসেবে জমার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই অর্থ দেশের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিরবচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য উপযোগী মানবসম্পদ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলের আকার বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ডিসেম্বরভিত্তিক নিট মুনাফার (নিরীক্ষিত/অনিরীক্ষিত) ভিত্তিতে নির্ধারিত সিএসআরের বাজেট থেকে ৫ শতাংশ অর্থ পরবর্তী বছরের ৩০ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত তহবিলের ব্যাংক হিসাবে জমা করতে হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে অর্থাৎ ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৬৩৪ কোটি টাকা সিএসআর খাতে খরচ করেছে।

আরও পড়ুন:
ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন সংযোজন ‘বিনিময়’ শুরু রোববার
১৫ নভেম্বর থেকে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণসীমা নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মন্তব্য

p
উপরে