বৃষ্টি-শাটডাউনে কাঁচাবাজারে গরম

বৃষ্টি-শাটডাউনে কাঁচাবাজারে গরম

লকডাউনের তৃতীয় দিন কাঁচাবাজারে বেড়েছে শাক-সবজির দাম। ছবি: নিউজবাংলা

শাটডাউন ও বৃষ্টিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির যোগান কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়েছে দামেও। কেজি প্রতি শাক-সবজির দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

টানা বৃষ্টি আর শাটডাউনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে। কঠোর বিধি নিষেধের তৃতীয় দিনেই শাক সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর কঠোর লকডাউনের কারণে কাঁচা তরকারির সরবরাহ কম। এই কারণে দাম বাড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শনিবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে খোঁজ খবর নিয়ে সবজির দাম বৃদ্ধির তথ্যই পাওয়া গেছে।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, তিন সপ্তাহ আগে যে টমেটো কেজি ছিল ৭০ টাকা, সেটির দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি নামে বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য সবজিও।

উচ্ছে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। সমপরিমাণ দাম বেড়ে কচুর মুখি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। এ ছাড়া, প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৪০, বেগুন ৬০, বরবটি ৭০, কচুর লতি ৫০, পটল ৪০, কাঁকরোল ৫০, ধুন্দল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জালি আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়, লাউ মাঝারি সাইজের প্রতি পিছ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাচাঁ মরিচ প্রতি কেজির দাম ৬০, শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কমেছে লেবুর দাম। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়।

বৃষ্টি-শাটডাউনে কাঁচাবাজারে গরম

সবজি বিক্রেতা রোমান জানান, ‘এই সময়ে এমনিতেই সবজির দাম বেশি থাকে। তারপর কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে সবজির সরবরাহ কম। আমাদেরকে বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হয়। বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে। যার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।’

সবজির দাম বাড়লেও দোকানে বেচা বিক্রি কমে গেছে জানিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, ‘আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারতাম। এখন সেটি কমে গিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় এসেছে। লকডাউনে মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। এজন্য ক্রেতাও কম। কাস্টমাররা সব কিছুই কম করে কিনছেন।’

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাটডাউন বা বৃষ্টিতে দামে খুব একটা হেরফের হয়নি।

বড় সাইজের রুই, কাতলা কেজিতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছের কেজি ৫০০ টাকা, তেলাপিয়ার কেজি ১৬০ টাকা। চিংড়ি আকার অনুসারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

মাছ বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, ইলিশ মাছের দাম সব থেকে বেশি। আজ এক কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি করেছি ১৫শ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া টুনা মাছ ৩০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সব মাছেরই দাম আগের মতই আছে। শুধুমাত্র ইলিশ মাছের দাম বাড়তি।’

একই সবজি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি দামে। চট্টগ্রামে বাজার ঘুরে নিউজবাংলার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত তিন দিনে চট্টগ্রামে সবজির দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন আর পটলের দাম বেশি বেড়েছে।

বৃষ্টি-শাটডাউনে কাঁচাবাজারে গরম

উচ্ছে ও করলা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল ৬০, কচুরমুখী ৬০ টাকা, বরবটি ৭০টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা কেজি। ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামে সব থেকে দাম বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের। লকডাউনের কারণে সমুদ্রিক মাছের যোগান একেবারে কমে গেছে। সামুদ্রিক মাছের ঘাটগুলোতে এখন নিরবতা। স্থানীয় বাজারে রুই মাছের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা বাজারে ভিড় বেড়েছে। যেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। স্বাভাবিক দিনের মতই বাজার করে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ সচেতন থাকলেও বাজারে গেলে তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন:
সব ভিড় কাঁচাবাজারে
কাঁচাবাজারে ক্রেতা কম
সবজির দাম কম, ভিড় নেই বাজারে
লকডাউন: ক্রেতার চাপ কম কাঁচাবাজারে
গরু চড়া, তেজ কমেছে সবজির

শেয়ার করুন

মন্তব্য