আরও চার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব

আরও চার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব

এখন থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রির জন্য যে অগ্রিম টাকা নেবে, তা থাকবে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংক বা এ ধরনের বিভিন্ন বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার পর সেই টাকা যাবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে।

আরও চারটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে বুধবার চিঠি দেয়া হয় ইঅরেঞ্জ ডট শপ, কিউকম ডট কম, দালাল প্লাস ও বাজাজ কালেকশন নামের প্রতিষ্ঠানকে। এক সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেন-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাঠাতে হবে।

বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে কোনো হিসাব বর্তমানে বা এর আগে পরিচালিত হলে তা জানাতে হবে। একই সঙ্গে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীও দিতে হবে।

এর আগের দিন আলেশা মার্টসহ সাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট তলব করে বিএফআইইউ। মঙ্গলবার হিসাব তলবের তালিকায় ছিল আলেশা মার্ট, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস।

হিসাব তলবের তালিকায় থাকা ১১ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা ই-ভ্যালির সঙ্গে কার্ডে লেনদেন স্থগিত করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। এর আগে গত বছর ই-ভ্যালির হিসাব তলবের পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। ই-ভ্যালি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।

বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অফারের নামে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য বিক্রি, পণ্য দেয়ার অনেক আগেই টাকা নেয়া এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ রয়েছে। আগাম টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহে সময়ক্ষেপণ করার ব্যাপারেও অভিযোগ বিস্তর। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের এ ধরণের প্রবণতা থামাতে এবার পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার।

নতুন নির্দেশনা মোতাবেক, গ্রাহক অন্য কোনো শহরে থাকলে বা তিনি গ্রামের হলে সময় নেয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০ দিন। তবে বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ওই পণ্য ডেলিভারিম্যান বা ডেলিভারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এখন থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রির জন্য যে অগ্রিম টাকা নেবে, তা থাকবে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংক বা এ ধরনের বিভিন্ন বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার পর সেই টাকা যাবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই বুধবার এই আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে বেড়েছে অনলাইনে কেনাকাটা
ই-কমার্সে এক বছরে প্রবৃদ্ধি ৩০০ শতাংশ: পলক

শেয়ার করুন

মন্তব্য