ঈদের পর ভোজ্যতেলের দাম আরও কমার ইঙ্গিত

ঈদের পর ভোজ্যতেলের দাম আরও কমার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক বাজারে গত ২৭ জুন প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম ছিল ৯৮৫ ডলার। পরের দিন দাম কমে দাঁড়ায় ৯৭২ দশমিক ৫০ ডলার। গত মাসের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১২৫ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে পাম অয়েলের দাম কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে ঈদের পর ভোজ্যতেলের দাম আরও কমানো হতে পারে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা কমানোর দিনই আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা সাপেক্ষে কোরবানি ঈদের পর আরও কমানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৯ টাকা বাড়ানোর এক মাস পর ৪ টাকা কমানো হয়েছে। সয়াবিন ও পাম অয়েলের বোতলজাত ও খোলা উভয় তেলের ক্ষেত্রে এই হ্রাসকৃত দাম কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার থেকেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তেল উৎপাদকদের সমিতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সব ধরনের তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বুধবার বিকেলে লিটারপ্রতি ৪ টাকা হারে সব ধরনের তেলের দাম কমানোর প্রস্তাবটির অনুমোদন দেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি অনুবিভাগ) এ এইচ এম সফীকুজ্জামান।

মন্ত্রীর এই অনুমোদনের ফলে বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম হবে ১৪৯ টাকা। বর্তমানে এর দাম লিটারে ১৫৩ টাকা।

একইভাবে ৫ লিটারের বোতলজাত তেলের বর্তমান দাম ৭২৮ টাকা থেকে কমে বিক্রি হবে ৭০৮ টাকা। আর খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে প্রতি লিটার ১২৫ টাকায়। বর্তমানে এর দাম ১২৯ টাকা। এ ছাড়া প্রতি লিটার পাম অয়েল বিক্রি হবে ১০৮ টাকা, যার বর্তমান দাম রয়েছে ১১২ টাকা।

এ বিষয়ে তেল বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঈদ সামনে রেখে আমাদের অনুরোধ করেছিল দাম কমাতে। আমরাও ঈদ ও লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোক্তার স্বার্থে সব ধরনের তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে গত কয়েক মাস ধরেই দেশে ভোজ্যতেলের দামে অস্থিরতা দেখা যায়। গত ২৭ মে সবশেষে তেলের দাম লিটারে ৯ টাকা করে বাড়ানো হয়। ওই সময় দাম সহনশীল রাখতে সরকার অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েল তেলের ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম করও প্রত্যাহার করে নেয়।

গত ২৭ জুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৪৪৮ দশমিক ৬৪ মার্কিন ডলার। গত ২৭ মে এর দাম ছিল ১৬০২ দশমিক ৩০ ডলার। এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জন্য ভোজ্যতেলের বৃহৎ বাজার ব্রাজিলে বর্তমানে পণ্যটির মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। সে জন্য ঈদের পর তেলের দাম আরও কমার ইঙ্গিত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত ২৭ জুন প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম ছিল ৯৮৫ ডলার। পরের দিন দাম কমে দাঁড়ায় ৯৭২ দশমিক ৫০ ডলার। গত মাসের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১২৫ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে পাম অয়েলের দাম কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক মাসে যে হারে তেলের দাম কমেছে, দেশে তেলের দাম সেই হারে কমেনি।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) এ এইচ এম সফীকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে সব ধরনের তেলের দাম কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছিল। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা সব ধরনের তেলে লিটারে ৪ টাকা করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হ্রাসকৃত এই দাম বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমার প্রবণতার সঙ্গে হ্রাসকৃত তেলের দাম কতটা সমন্বয় হলো, এমন প্রশ্ন রাখা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিবের কাছে।

জবাবে সফীকুজ্জামান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এই কমার হার ঈদের পর আমরা পর্যালোচনা করব। যদি দেখা যায় আন্তর্জাতিক বাজার ঈদের পরও স্থিতিশীল রয়েছে, তাহলে আমরা ঈদের পর আবার মূল্য সমন্বয় করব।’

আরও পড়ুন:
ভোজ্যতেল: ৯ টাকা বাড়িয়ে ৪ টাকা কমানোর প্রস্তাব
ভোজ্যতেলের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা
কমল ভোজ্যতেলের দাম
লাভের গুড় পিঁপড়ে খাচ্ছে
কর ছাড়েও ‘কমবে না’ ভোজ্য তেলের দাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য