চট্টগ্রামে পানি সরবরাহে দ. কোরিয়ার আরও সহায়তা

চট্টগ্রামে পানি সরবরাহে দ. কোরিয়ার আরও সহায়তা

চট্টগ্রামে ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ আরও ৪৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলীতে ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ সুপেয় পানি সরবরাহে কোরিয়ান সরকারের এই ৪০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তাসহ মোট ঋণ দাঁড়াচ্ছে ১,২২৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের পুরো অর্থ ছাড় দিবে ইডিসিএফ। নমনীয় এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার হবে ০.০১ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধকাল ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৪০ বছর।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর-সংলগ্ন এলাকায় আবাসিক বসতি ও শিল্পকারখানায় সুপেয় পানি সরবরাহ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ জন্য নেয়া চলমান ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ আরও ৪৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশটির উন্নয়ন সহযোগী তহবিল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সঙ্গে মঙ্গলবার বাংলাদেশের ঋণ চুক্তি সই হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

ইআরডি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এশিয়া-জেইসি ও এফ অ্যান্ড এফ অনুবিভাগের প্রধান মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং কোরিয়া সরকারের পক্ষে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কিমতায়ে-সো ঋণ চুক্তিতে সই করেন।

২০১৬ সালে অনুমোদন পাওয়া ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ এর আগে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ৯৭ মিলিয়ন ডলার বা ৮২৪ কোটি টাকা সহজ ঋণ দেয়ার কথা ছিল। বালাদেশ সরকারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি এ ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলি নদীর বাম তীরে আবাসিক এবং অনাবাসিক এলাকায় প্রতিদিন ৬০ হাজার ঘন মিটার নিরাপদ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

ইআরডি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চট্টগ্রাম ওয়াসা এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চলমান অতিমারি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার তাদের উন্নয়ন সহযোগি তহবিল ইডিসিএফ থেকে এ প্রকল্পে বাড়তি অর্থায়নে সম্মতি জানিয়েছে।

এতে এ প্রকল্পে কোরিয়ান সরকারের ঋণ সহায়তা দাঁড়াচ্ছে ১,২২৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের পুরো অর্থ ছাড় করবে ইডিসিএফ। নমনীয় এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার হবে ০.০১ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধকাল ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৪০ বছর।

শুরুতে এ প্রকল্পে ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন এবং ব্যয়ও বাড়িয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বৃহৎ আকারের পানি শোধনাগার, পানি সংরক্ষণ আধারসহ ১১৩ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হবে। এতে কর্ণফুলী নদীর তীর-সংলগ্ন বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারার আবাসিক এলাকার নিরাপদ পানির সমস্যা মিটবে। প্রকল্পের সার্বিক কাজ করছে কোরিয়ার তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের

রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের

চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ ঘাটে ইলিশের জোগান বাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে। ছবি: নিউজবাংলা

দামের বিষয়ে জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শবে বরাত বলেন, ‘ভারতে ইলিশ রপ্তানির ঘোষণার পর থেকে বড় ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। এই মৌসুমে ইলিশের দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই।’ তবে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্যের আশা, ভারতে রপ্তানির সিদ্ধান্তের কারণে দাম বাড়লেও ইলিশের সরবরাহ বাড়লে এই মাছ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

মৌসুমের শেষ দিকে চাঁদপুরের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। এতে হতাশ ক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, ভারতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্তে চাহিদা বাড়ায় দামও কিছুটা বাড়তি।

এ বছর ইলিশের মৌসুম এলেও পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের জালে দেখা মিলছিল না রূপালি এই মাছের। মৌসুমের শেষ দিকে সেপ্টেম্বরে পূর্ণিমার সময় দক্ষিণাঞ্চলে ও সমুদ্র উপকূলে ধরা পড়ে প্রচুর ইলিশ।

জেলেরা এসব ইলিশ নৌকা ও ট্রাকে করে নিয়ে আসেন চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ ঘাটে। বাজারে ইলিশের জোগান বাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে। কম দামে ইলিশ কেনার আশা করেন ক্রেতারা।

এই মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ডাকাতিয়া নদীতে ৮ থেকে ১০টি ফিশিং বোট ভেড়ানো। ইলিশ বোঝাই ট্রাকও এসেছে বেশ কয়েকটা। সারা দিনে এই বাজারে প্রায় ৪ হাজার মণ ইলিশ কেনাবেচা হয়েছে।

রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের

ইলিশ ব্যবসায়ী সম্রাট বেপারী জানান, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, আলেকজান্ডার, সন্দ্বীপ, হাতিয়া থেকে প্রতিদিন ইলিশ আসছে। এসব জায়গা থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মণ ইলিশ আসে। স্থানীয় পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে আসে ৪ শ থেকে ৫ শ মণ।

আরেক ইলিশ ব্যবসায়ী বিপ্লব খান জানান, স্থানীয় পদ্মা-মেঘনা নদীর ৫ শ থেকে ৭ শ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৭ থেকে সাড়ে ৭ শ টাকায়, ৭ শ থেকে ৯ শ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ৯ শ থেকে সাড়ে ৯ শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

১ কেজি থেকে ১২ শ গ্রামের ইলিশ সাড়ে ১২ শ থেকে ১৩ শ টাকায় এবং দেড় কেজি থেকে ১৮ শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪ শ থেকে ১৫ শ টাকা কেজি দরে।

রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের

সমুদ্র ও দক্ষিণাঞ্চলের নদীর ইলিশ প্রকার ভেদে ১ থেকে ২ শ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ বাড়ার পরও দাম কমেনি বরং বেড়েছে। নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে থেকে গেছে ইলিশ। এ ছাড়া গত বছরের চেয়ে ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি।

কুমিল্লা থেকে এই বাজারে ইলিশ কিনতে এসেছেন আশিকুর রহমান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাঁদপুর ইলিশের জন্য বিখ্যাত। তাই প্রতি বছরই ইলিশের মৌসুমে এখানে কিনতে আসি। আজকে দেখলাম কেজি প্রতি ইলিশের দাম আগের চেয়ে দেড় থেকে দুইশ টাকা বেশি চাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় তো বেশিই।’

স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক নাজির আহমেদ বাদল বলেন, ‘অন্যান্য বছর ৬ শ থেকে ৭ শ গ্রামের ইলিশ সাড়ে ৪ শ থেকে ৫ শ টাকা কেজি দরে কিনেছি। এ বছর কিনলাম ৫৭০ টাকায়।’

ক্রেতারা দাম বাড়ার অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন চাহিদার চেয়ে জোগান কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে।রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের

চাঁদপুর কান্ট্রি বোট ফিশিং মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার অনেক কম ইলিশ ধরা পড়ছে। যে পরিমাণ ইলিশ উঠছে তাতে কোনোমতে নৌকার খরচ উঠছে। লাভের মুখ দেখতে পারছি না। মা ইলিশ ধরা বন্ধ করে দিলে জেলেদের মহাবিপদে পড়তে হবে।’

দামের বিষয়ে জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শবে বরাত বলেন, ‘ভারতে ইলিশ রপ্তানির ঘোষণার পর থেকে বড় ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। এই মৌসুমে ইলিশের দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই।’

রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের

তবে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্যের আশা, ভারতে রপ্তানির সিদ্ধান্তের কারণে দাম বাড়লেও ইলিশের সরবরাহ বাড়লে এই মাছ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

কোকা-কোলা বাংলাদেশের নতুন এমডি তা জি তুং

কোকা-কোলা বাংলাদেশের নতুন এমডি তা জি তুং

কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তা জি তুং। ছবি: নিউজবাংলা

তা জি তুংকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিডিপির অসাধারণ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কোকা-কোলা বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে চায়।’

কোমল পানীয় কোম্পানি কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তা জি তুং। ১৫ বছর ধরে তিনি বহুজাতিক এই প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

কোকা-কোলা বাংলাদেশে যোগ দেয়ার আগে তুং ভিয়েতনামে কোকা-কোলা বেভারেজের মার্কেট অপারেশনস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ছিলেন।

ভিয়েতনামের হ্যানয় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ সার্জন ডিগ্রি পাওয়া তুং পরে হ্যানয় পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং ভারতের ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন।

তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিডিপির অসাধারণ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কোকা-কোলা বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পানীয় প্রস্তুতকারী অংশীদার প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেড (আইবিপিএল) ও আবদুল মোনেম লিমিটেড (এএমএল) এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা একযোগে বাংলাদেশের ভোক্তাদের উজ্জীবিত করতে কাজ করে যাব।’

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণার বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালে কোকা-কোলা সিস্টেম বাংলাদেশে ‘ভ্যালু অ্যাডেড ইমপ্যাক্ট’ হিসেবে ১২২ কোটি টাকা যোগ করেছে, যা বাংলাদেশের মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

ভ্যালু অ্যাডেড ইমপ্যাক্ট হলো একটি দেশের সব পরিবার, ব্যবসা ও সরকারের অর্জিত আয়ের যোগফল।

বাংলাদেশে কোকা-কোলার পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২২ হাজারের বেশি মানুষ জড়িত বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কোকা-কোলা বাংলাদশে ব্যবসা করছে পাঁচ দশক ধরে। কোকা-কোলা, ডায়েট কোক, স্প্রাইট, ফান্টা, কিনলে পানি, কিনলে সোডা, কোকা-কোলা জিরো, স্প্রাইট জিরো, থামস আপ কারেন্ট এ কোম্পানিরই পণ্য।

২০০৬ সালে আঞ্চলিক ট্রেড মার্কেটিং ম্যানেজার (উত্তর ভিয়েতনাম) হিসেবে কোকা-কোলায় যোগ দেন তুং। পরবর্তী সময়ে তিনি একাধিক অপারেশনস ও কমার্শিয়াল পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে ‘প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল’ এ কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

ঢাকা ইপিজেডে খেলনা তৈরিতে চীনের বিনিয়োগ ৬৫ লাখ ডলার

ঢাকা ইপিজেডে খেলনা তৈরিতে চীনের বিনিয়োগ ৬৫ লাখ ডলার

সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন এ খেলনা তৈরির কারখানায় প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ৯ লাখ পিস ডাই-কাস্ট, প্লাশ, প্লাস্টিক এবং কাপড়েরসহ বিভিন্ন ধরনের সংগ্রহযোগ্য খেলনা উৎপাদন হবে। কারখানাটিতে ১ হাজার ৬১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) খেলনা কারখানা স্থাপন করবে চীনা কোম্পানি মেসার্স মেইগো (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে বেপজা এবং মেসার্স মেইগো (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) আলী রেজা মজিদ এবং মেসার্স মেইগো (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার চেন সু কিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন এ খেলনা তৈরির কারখানায় প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ৯ লাখ পিস ডাই-কাস্ট, প্লাশ, প্লাস্টিক এবং কাপড়েরসহ বিভিন্ন ধরনের সংগ্রহযোগ্য খেলনা উৎপাদন হবে। কারখানাটিতে ১ হাজার ৬১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

বেপজার সদস্য (অর্থ) নাফিসা বানু, সচিব জাকির হোসেন চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিন্তে আলমগীর, মহাব্যবস্থাপক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন এবং মহাব্যবস্থাপক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) খুরশিদ আলম চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

৮টি ছাড়া স্থগিত সব নগদ হিসাব সচল

৮টি ছাড়া স্থগিত সব নগদ হিসাব সচল

নগদ বলছে, এই যাচাই বাছাইয়ের ফলে ‘চক্রান্তের সঙ্গে’ জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো সহজেই চিহ্নিত করার পাশাপাশি ১৮ হাজার গ্রাহকের অর্থও সম্পূর্ণ নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে।

কয়েক দফা যাচাই-বাছাই এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৮টি ছাড়া সব ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট আবার সচল করা হয়েছে।

পুনঃসচল হওয়া সব ‘নগদ’ গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে পারছেন। তাদের স্থগিত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কোনো গ্রাহকের কোনো টাকাই খোয়া যায়নি।

নগদ বলছে, এই যাচাই বাছাইয়ের ফলে ‘চক্রান্তের সঙ্গে’ জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো সহজেই চিহ্নিত করার পাশাপাশি ১৮ হাজার গ্রাহকের অর্থও সম্পূর্ণ নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে।

এই যাচাই বাছাই শেষে ‘সিরাজগঞ্জশপ ডটকম’ এর সিইও জুয়েল রানার অ্যাকাউন্ট ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ীক সহযোগী এবং কর্মচারীদের নামে থাকা ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সপ্তাহ তিনেক আগে ‘সিরাজগঞ্জশপ’ ও ‘আলাদীনের প্রদীপ’ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেনদেনের লক্ষণ দেখা দিলে গ্রাহকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের জন্য ‘নগদ’-এর অত্যাধুনিক আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স সিস্টেম ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টের স্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত করে দেয়।

পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে সন্তোষজনক ফলাফলের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্ট গুলো আবার সচল করা শুরু হয়।

এর আগে ‘নগদ’ ঘোষণা করেছিল, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চক্রান্তের পেছনে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলোকে চিহ্নিত করে বাকি সব সাধারণ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট পুনঃসচল হবে।

সেই সময়সীমার একদিন আগেই ‘নগদ’ বিষয়টি গ্রাহকের স্বার্থে সুরাহা করেছে।

‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, “আমি সবাইকে নিশ্চিন্ত করতে চাই, ‘নগদ’-এর কাছে তার গ্রাহকদের স্বার্থ সবার ওপরে। ইতিমধ্যে স্থিতি হোল্ড হওয়া গ্রাহকদের প্রত্যেকের অর্থের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতপূর্বক সিরাজগঞ্জশপ-এর কাছে গ্রাহকদের পাওনা রিফান্ডসহ সকল ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টিভেট করা হয়েছে।”

“প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘নগদ’-এর সম্মানিত গ্রাহকদের দুর্ভোগ দূর করতে আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি। আর এই ভরসার নামই ‘নগদ’।”

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পাশে দাঁড়াতে পুনঃসচল হওয়া ১৮ হাজার গ্রাহকের জন্যে একটি উপহারও ঘোষণা করেন তানভীর এ মিশুক। এই উপহার তাদের প্রত্যেকের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে।

‘নগদ’ সব সময়েই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছে। মানুষের অর্থ যাতে বিন্দুমাত্র ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, সে বিষয়ে ‘নগদ’ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ উদ্বোধনের পর থেকে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা ‘নগদ’ সাধারণ মানুষের লেনদেনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে আনতে কাজ করছে।

গত আড়াই বছরে ‘নগদ’ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক পেয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

ই-কমার্স: নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত

ই-কমার্স: নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত

ই-কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় একটি আলাদা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বা রেগুলেটরি বডি গঠন করা হবে। ভবিষ্যত প্রতারণা বন্ধে এবং প্রতারণা সংঘটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এর জন্য ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট নামে একটি স্বতন্ত্র আইন করা হবে।

ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে একটি সংস্থা গঠন করবে সরকার। একই সঙ্গে খাতটির সুষ্ঠু পরিচালনায় ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট নামে একটি স্বতন্ত্র আইন করা হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই এসব বিষয়ে কাজ শুরু করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বুধবার ই-কমার্স ব্যবসায় সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা ও এ-বিষয়ক নীতিনির্ধারণী সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

চার মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সভা চলে দুই ঘণ্টার বেশি। পরে আলোচনার বিভিন্ন বিষয় ও এ থেকে উঠে আসা সুপারিশ সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ।

এ সময় ই-কমার্স খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যসচিব জানান, সভায় ই-কমার্স খাতে যে প্রতারণা ঘটেছে, তার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে করণীয় কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ আলোচনায় অংশীজনদের থেকে কেউ কেউ বলেছেন ই-কমার্স খাত বন্ধ করে দিতে। তবে সর্বসম্মতভাবে আলোচনায় তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। কারণ দেশের ই-কমার্স খাতে এখন তৈরি হয়েছে ক্রমবর্ধমান ও সীমাহীন সম্ভাবনার। দশ-বারোটি প্রতিষ্ঠান জন্য লাখ লাখ উদ্যোক্তা এর দায় বহন করবে কেন?

সচিব জানান, এটা খুবই আশাব্যাঞ্জক যে গত ৪ জুলাই ই-কমার্স খাতের জন্য যে পরিচালন নির্দেশিকা জারি হয়েছে তারপর থেকে এ ধরনের প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এখন যে ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তা পরিচালন নির্দেশিকা জারি হওয়ার আগেই ঘটে গেছে।

তপন কান্তি ঘোষ জানান, সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় একটি আলাদা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বা রেগুলেটরি বডি গঠন করা হবে। ভবিষ্যত প্রতারণা বন্ধে এবং প্রতারণা সংঘটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এর জন্য ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট নামে একটি স্বতন্ত্র আইন করা হবে।

এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ অংশ নেন।

এ ছাড়া বৈঠকে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি অনুবিভাগ) এ এস এম সফিকুজজামান। ডিজিটাল ই-কমার্স সেল প্রধান ও ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান, উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ আলীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ই-কমার্স ব্যবসার বিভিন্ন দিক থেকে আসা অভিযোগ গ্রহণ ও আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ব্যবস্থাপনা রাখা বা সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দাঁড় করানো হবে বলে জানানো হয়।

ইতিমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ এসেছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে ই-কমার্স খাতের সঙ্গে এদুটো আইনের সামঞ্জস্য রাখতে আইনের কয়েকটি জায়গায় সংশোধনী আনতে হবে যার কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে।

এছাড়া নিবন্ধন ছাড়া কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এখন থেকে আর ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।

আর আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এস্ক্র ও সার্ভিস সিস্টেমে সর্বোচ্চ রকম গুরুত্ব দেয়া হবে।

ব্রিফিং শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে এর আগে যুবক, ডেসটিনিতে যে প্রতারণা ঘটেছে, ই-কমার্স খাতে সংঘটিত ঘটনাগুলো এক রকম নয়। কারণ যুবক-ডেসটিনির পর্যাপ্ত সম্পদ ছিল। ওই সব সম্পদের বিক্রয় মূল্য এখন অনেক বেড়েছে। তা দিয়ে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের একটি সুরাহা হতে পারে। এনিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আই নিড একটি পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে সম্পদ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যারা কারাগারে রয়েছেন তাদের মুক্তি দিতে হবে। সে বিষয়ে আইন মন্ত্রনালয় আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে।

তবে ইভ্যালির ক্ষেত্রে তেমনটি নয়। তাদের সম্পদ নেই। যে টাকা লেনদেন করেছে তা হয়তো তারা অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে নতুবা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক প্রচারণার কাজে খরচ করেছে। ফলে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের জন্য তাদের হাতে কোন অর্থ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকের টাকা পরিশোধের দায়ভার সরকার নেবে না।

ই-কমার্স খাতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ এবং তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার দায়ভার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায় অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, দায়ভার বলবো না। দায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্ব রয়েছে বলেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। তবে আপনাদের মনে রাখতে হবে যে সময়ে এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটেছে সে সময় পর্যাপ্ত ওয়ার্ক করা যায়নি। করোনা পরিস্থিতিতে হাফটাইম কাজ করা সম্ভব হয়নি।

তাছাড়া ই-কমার্স খাত দেশে নতুন হওয়ায় খুব একটা ধারণাও দেশের মানুষের ছিল না। এক সময় আমরা কেউ কল্পনাও করিনি কুরবানির গরু অনলাইনে বেচাকেনা হবে। এখন সেটাও হচ্ছে। ফলে এই অনলাইন মার্কেটিংয়ে এখন অনেক গ্রাহক আসছে, উদ্যোক্তা বাড়ছে এবং কিছু প্রতারণার কাজও সংগঠিত হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সময়ে সময়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ

সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম স্থলবন্দর। ফাইল ছবি

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) এমন এক চুক্তি, যার লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে গেলে আমদানি-রপ্তানির প্রশ্ন আসবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসা সহজ করতে বন্দর ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা সেপা নামে একটি নতুন চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে, যা স্বাক্ষর হলে দুই দেশের বাণিজ্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। চুক্তির প্রথম বছরেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার।

চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ (উভয় পক্ষই লাভবান হয় এমন পরিস্থিতি) তৈরি করতে সক্ষম হবে।

দুই দেশের মধ্যে এরকম একটি চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রাথমিক সমীক্ষায় এ দাবি করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সমীক্ষাটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)। একই সমীক্ষার আওতায় সেপা চুক্তির সম্ভাব্যতা ইস্যুতে ‘সেবা ও বিনিয়োগ খাত’ বিষয়ক ভিন্ন চ্যাপ্টার নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএফটিআই দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।

অন্যদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও অনুরূপ সমীক্ষা পরিচালনা করছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফরেন ট্রেড (আইআইএফটি)।

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) এমন এক চুক্তি, যার লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে গেলে আমদানি-রপ্তানির প্রশ্ন আসবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসা সহজ করতে বন্দর ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

এর পাশাপাশি শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করতে পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে। এরকম চুক্তি থাকলে চাইলেই কেউ চুক্তির তালিকায় থাকা পণ্যে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বসিয়ে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতে ১২৭ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার (প্রায় ১.২৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

বিএফটিআইয়ের প্রাথমিক সমীক্ষায় দাবি করা হয়, ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তি হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত বাধাগুলো দূর হবে। তখন যৌথ টেস্টিং সার্ভিস, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হবে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বর্তমান (প্রায় ১.২৮ বিলিয়ন ডলার) রপ্তানি আয়ের বাইরে আরও ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, সেপা চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য বাধাগুলো দূর হয়ে গেলে পাল্টে যাবে বাংলাদেশের আমদানি চিত্রও। ভারতের বেশিরভাগ পণ্য ও সেবা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে সহনীয় বলে এবং পরিবহণ খরচ কম ও সময় সাশ্রয়ের কারণে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা একই পণ্যের জন্য দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোর বদলে ভারতমুখী হবে। তখন ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান ৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি আরও ৪ থেকে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে যাবে।

সমীক্ষায় দাবি করা হয়, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির যে ঘাটতি, তা পণ্য ও সেবা বৈচিত্র্যর সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব।

চলতি বছর মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের নিয়মিত বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সেপা স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রথম ঐক্যমত দেখা যায়। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় সবুজ সংকেত মেলে। এরপরই সেপা স্বাক্ষরের বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ একযোগে কাজ শুরু করে।

এর পাঁচ মাসের মাথায় ভারতের সঙ্গে সেপা স্বাক্ষরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খোঁজার প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করল বাংলাদেশ। এর ওপর এখন খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশিজনদের (স্টেকহোল্ডার) মতামত নেয়া হচ্ছে।

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। ২০২৬ সালের পর বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ পরিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে।

এর আগেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে হবে, যার মধ্যে আছে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) ও ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ)। চুক্তি করতে হবে আঞ্চলিক জোটগুলোর (আরটিএ) সঙ্গেও। এর বাইরে বৃহৎ বাণিজ্যকারী দেশগুলোর সঙ্গে এরকম সেপা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবেশী ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশটির বাজারে আরও বেশি বাণিজ্যসুবিধা সৃষ্টির জন্য সেপা চুক্তি স্বাক্ষরে কাজ করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দ্বার খুলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

২০১১ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ভারতের স্পর্শকাতর পণ্যতালিকা ৪৮০টি থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫টিতে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে কার্যত বাংলাদেশকে ভারতের বাজারে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেয়া হয়।

প্রতিবেশী হওয়ায় বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় ভারতে কম খরচে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা। স্বাভাবিক নিয়মে এই বিপুল পরিমাণ শুল্ক সুবিধায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার কথা।

এই সম্ভাবনা দেখে ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বিশ্বব্যাংক বলেছিল, বাণিজ্য সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।

দু দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ গত ১০ বছরে গড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের মতো ছিল।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ১০৯ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। আর বিপরীতে আমদানি করা হয় ৫৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৬৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে রপ্তানি করেছিল ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬৪০ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৪৫ কোটি ২৯ হাজার ডলার। রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬৯ লাখ ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৭৬ কোটি ডলার।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ রোববার এ সংক্রান্ত এক অংশীজন পরামর্শ সভায় বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট প্রভৃতি উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতি হলেও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। সেপা স্বাক্ষর হলে সেটি ত্বরান্বিত হবে।’

সম্ভাব্যতার বিষয়ে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা প্রতিষ্ঠান বিএফটিআই-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ড. মো. জাফর উদ্দীন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সফল বাণিজ্যিক চুক্তি (সেপা) শুধু দুই দেশের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বাড়াতেই সাহায্য করবে না, একই সঙ্গে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের সেপা চুক্তি সম্পাদিত না হলেও ভারত ইতোমধ্যে সাতটি দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করেছে।

১৯৯৮ সালে ভারত শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেপা চুক্তি করে। এরপর সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২০০৫ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ২০০৯ সালে, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ২০১০-১১ সালে এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে ২০১৫ সালে ভারতের সেপা চুক্তি হয়।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুতে রেলের কাজ করছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি

‘ব্যবসার প্রতিযোগিতা, বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি-বৈচিত্র্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য ধারাবাহিক সংস্কার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উদ্দীপিত এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে।’

গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে ম্যানিলাভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি এখন বলছে, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

তবে এর আগে তারা বলেছিল প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে।

বুধবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের (এডিও) হালনাগাদ প্রতিবেদনে নতুন এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এডিবি।

এডিবির এই প্রতিবেদনের সেপ্টেম্বর আপডেটে গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছিল এই ঋণদাতা সংস্থা।

এডিবি ঢাকা কার্যালয়ের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবছর এপ্রিলে যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রকাশ করা হয়ে থাকে, পরে তার তিনটি আপডেট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। একটি করা হয় জুলাইয়ে। পরেরটা প্রকাশ করা হয় সেপ্টেম্বরে। আর সর্বশেষটা প্রকাশ করা হয় ডিসেম্বরে।’

তিনি জানান, পরের তিনটি প্রতিবেদনকে সম্পূরক প্রতিবেদন বলা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনটি বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে।

কেবল বাংলাদেশ নয়, প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই কমিয়েছে এডিবি।

আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ এপ্রিলের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে।

প্রক্ষেপণ কমিয়ে আনার মূল কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ, যা এ বছর পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দারুণভাবে ব্যাহত করেছে। করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাবে এ বছরও কয়েক দফা লকডাউনের বিধিনিষেধ দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

পাশাপাশি টিকাদানের ধীরগতির কারণেও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না বলে এডিবি মনে করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় যেসব দেশে টিকাদানের গতি সবচেয়ে ধীর, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এদিক দিয়ে নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘জীবিকা রক্ষায় সরকারের নীতি বাংলাদেশে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশ এই কঠিন সময়ে প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি।

‘বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, প্রণোদনা কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা, দ্রুত টিকা দেয়া এবং দেশীয় সম্পদ আহরণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে মনমোহন বলেন, ‘ব্যবসার প্রতিযোগিতা, বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি-বৈচিত্র্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য ধারাবাহিক সংস্কার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উদ্দীপিত এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরো (বিবিএস) ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে, তাতে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরলেও মহামারি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্বলন করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে গত আগস্টে পরিসংখ্যার ব্যুরোর প্রাক্কলনে তা আরও কমে আসে।

মহামারির শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন