চট্টগ্রামে পানি সরবরাহে দ. কোরিয়ার আরও সহায়তা

চট্টগ্রামে পানি সরবরাহে দ. কোরিয়ার আরও সহায়তা

চট্টগ্রামে ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ আরও ৪৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলীতে ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ সুপেয় পানি সরবরাহে কোরিয়ান সরকারের এই ৪০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তাসহ মোট ঋণ দাঁড়াচ্ছে ১,২২৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের পুরো অর্থ ছাড় দিবে ইডিসিএফ। নমনীয় এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার হবে ০.০১ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধকাল ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৪০ বছর।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর-সংলগ্ন এলাকায় আবাসিক বসতি ও শিল্পকারখানায় সুপেয় পানি সরবরাহ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ জন্য নেয়া চলমান ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ আরও ৪৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশটির উন্নয়ন সহযোগী তহবিল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সঙ্গে মঙ্গলবার বাংলাদেশের ঋণ চুক্তি সই হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

ইআরডি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এশিয়া-জেইসি ও এফ অ্যান্ড এফ অনুবিভাগের প্রধান মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং কোরিয়া সরকারের পক্ষে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কিমতায়ে-সো ঋণ চুক্তিতে সই করেন।

২০১৬ সালে অনুমোদন পাওয়া ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার ‘ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ এর আগে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ৯৭ মিলিয়ন ডলার বা ৮২৪ কোটি টাকা সহজ ঋণ দেয়ার কথা ছিল। বালাদেশ সরকারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি এ ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলি নদীর বাম তীরে আবাসিক এবং অনাবাসিক এলাকায় প্রতিদিন ৬০ হাজার ঘন মিটার নিরাপদ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

ইআরডি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চট্টগ্রাম ওয়াসা এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চলমান অতিমারি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার তাদের উন্নয়ন সহযোগি তহবিল ইডিসিএফ থেকে এ প্রকল্পে বাড়তি অর্থায়নে সম্মতি জানিয়েছে।

এতে এ প্রকল্পে কোরিয়ান সরকারের ঋণ সহায়তা দাঁড়াচ্ছে ১,২২৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের পুরো অর্থ ছাড় করবে ইডিসিএফ। নমনীয় এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার হবে ০.০১ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধকাল ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৪০ বছর।

শুরুতে এ প্রকল্পে ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন এবং ব্যয়ও বাড়িয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বৃহৎ আকারের পানি শোধনাগার, পানি সংরক্ষণ আধারসহ ১১৩ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হবে। এতে কর্ণফুলী নদীর তীর-সংলগ্ন বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারার আবাসিক এলাকার নিরাপদ পানির সমস্যা মিটবে। প্রকল্পের সার্বিক কাজ করছে কোরিয়ার তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
সুদানকে অর্থসহায়তা বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

মন্তব্য