× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
কোরবানির চামড়া আগের দাম চান সংশ্লিষ্টরা মঙ্গলবার বৈঠক
google_news print-icon

কোরবানির চামড়া: আগের দাম চান সংশ্লিষ্টরা, বৈঠক আজ

কোরবানির-চামড়া-আগের-দাম-চান-সংশ্লিষ্টরা-বৈঠক-আজ
প্রতি বছরই কমছে কোরবানির চামড়ার দাম। ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বর্গফুট লবণজাত চামড়ার এ বছর যে দাম নির্ধারণ হয়, পরের বছর তা ১০ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ২০১৩ সালে দেশে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ২০২০ সালে সেই গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিত হয় ঢাকায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এভাবে গত সাত বছরে প্রতি বর্গফুটে মূল্য নির্ধারণের স্তর বিবেচনায় গরুর চামড়া ছাগলের চামড়ায় পরিণত হয়েছে।

দেশে সব কিছুর দাম বাড়ে। অথচ চামড়ার দাম কমে ধারাবাহিকভাবে। প্রতি বর্গফুট লবণজাত চামড়ার এ বছর যে দাম নির্ধারণ হয়, পরের বছর তা ১০ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

২০১৩ সালে দেশে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ২০২০ সালে সেই গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিত হয় ঢাকায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এভাবে গত সাত বছরে প্রতি বর্গফুটে মূল্য নির্ধারণের স্তর বিবেচনায় গরুর চামড়া ছাগলের চামড়ায় পরিণত হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সময়ে গরুর চামড়া দাম কমেছে ৫৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ছাগলের চামড়ার দাম কমেছে ৭৪ শতাংশ। এর ফলাফলও পেয়েছে দেশ। ক্ষুব্ধ কোরবানিদাতাদের অনেকে পানির দরে বিক্রি না করে সেই চামড়া মাটিচাপা দিয়েছেন। কেউ ভাসিয়েছেন নদীর জলে।

তবে এবার চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চান না পণ্যটির সংগ্রাহক, প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিখাত সংশ্লিষ্টরা। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে এবার চামড়ার দর গতবারের চেয়ে কিছুটা ঊর্ধমুখী হওয়ায় এ বছর দাম বাড়ুক তাও চান না তারা। বরং তারা চান, সরকার বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বছরের নির্ধারিত মূল্যই বহাল রাখুক।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ, সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় খাতসংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সরকার।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ট্যারিফ কমিশন বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে কোনস্তরে এবার চামড়ার দর নির্ধারণ করা যায় তার একটি সুপারিশ দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। অনলাইন প্লাটফর্মে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ছাড়াও মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিসিক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ চামড়া সংগ্রহ, ক্রয় ও ব্যবস্থানা কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

গত বছর কোরবানির ঈদটি কেটেছে বৈশ্বিক করোনার প্রকোপে। এর নেতিবাচক প্রভাব চামড়ার আন্তর্জাতিক ভোগ ও বাজার দাম—দুইটিতেই ধস নামায়। দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। ২০২০ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ২৮ থেকে ৩২ টাকা। ২০১৯ সালে ঢাকায় এই দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। সে তুলনায় ২০২০ সালে ঢাকায় চামড়ার দাম কমানো হয় প্রায় ২৯ শতাংশ এবং বাইরে প্রায় ২০ শতাংশ।

একইভাবে ২০২০ সালে ছাগলের চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয় ১৩-১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা। ২০১৯ সালে এই দাম ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে আগের বছরের তুলনায় ছাগলের চামড়ার দাম কমে প্রায় ২৭ শতাংশ।

বাংলাদেশে সারা বছর যে পরিমাণ পশু জবাই হয়, তার ৬০ শতাংশই হয় এই কোরবানির মৌসুমে। কোরবানি যারা দেন, তাদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন পাইকার বা আড়তদারদের কাছে। তারা সেই চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজটি সেরে বিক্রি করেন ট্যানারিতে। আর ট্যানারি কেমন দামে চামড়া কিনবে, তা প্রতিবছর নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

গত বছর এই হ্রাসকৃত দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিবেচনায় রাখে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা, করোনা পরিস্থিতিতে সেই চাহিদা সঙ্কোচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা, বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান এবং দেশে তখনকার চামড়ার মজুদ পরিস্থিতি।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে গত বছর ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার ভোগ সূচক এবং উৎপাদকের নির্ধারিত মূল্য সূচক বাড়তে থাকে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ফ্রেড-এর ইকনোমিক ডাটার চামড়া সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পণ্যটির উৎপাদক মূল্য সূচক ছিল ১৫৫.১-তে। সেটি চলতি বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের মে মাসে দাঁড়ায় ২০৬. ৩-তে। এর মানে হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে এবং উৎপাদকরা দামও পেতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চীনের আলিবাবা এবং ভারতের ইন্ডিয়ান মুন্ডিতে প্রতিবর্গফুট প্রক্রিয়াজাত চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার দর দেখা গেছে সর্বনিম্ন ১ ডলার ১০ সেন্ট থেকে মান ও গ্রেড অনুযায়ী ৬ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য মন্দ নয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বৈঠকে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য কোন স্তরে নির্ধারণ করা যায়, তার একটা কাঠামো ঠিক করা হবে। তবে তা এখনই ঘোষণা দেয়া হবে না। ঈদের তিন-চার দিন আগে চামড়া মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেয়া হবে।

তিনি জানান, চামড়ার মূল্য নির্ধারণই এই বৈঠকের একমাত্র এজেন্ডা নয়। কারা কোন প্রক্রিয়ায় চামড়া কিনবেন, লবণ পরিস্থিতি কী অবস্থায় রয়েছে, ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনায় ব্যাংক কেমন ঋণ দিতে পারবে, আইন-শৃংখলা পরিস্থতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উৎপাদন ও রপ্তানি করতে না পারায় সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলোতে তাদের বর্তমানে ৪৫ শতাংশ চামড়া জমা আছে। আবার ব্যাংকঋণের বিষয় আছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারও খুব একটা ভাল না। এমন পরিস্থিতিতে এবার কোরবানির চামড়ার দর বাড়ানো যৌক্তিক হবে না। উল্টো কমালেই ভাল। কিন্তু আমরা চামড়ার দাম কমাতেও বলবো না। আমরা চাই কোরবানির চামড়া সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ করার স্বার্থে সেটি যেন গত বছরের দামেই বহাল থাকে।’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান নিউজবাংলাকে জানান, ‘চামড়ার দাম আর কমানোর পক্ষে নই আমরা। তবে এটাও মনে রাখতে হবে করোনা পরিস্থিতিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারও ভাল নেই। তাই দাম বাড়ানোটাও ঠিক হবে না। আমার মনে হয় সরকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে গতবারের দামটা বহাল রাখলেই ভাল হয়।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে টানা তিনবছর প্রতি বর্গফুট গরু চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা অপরিবর্তিত ছিল। তবে ২০১৭ সালে ছাগলের প্রতিবর্গফুট চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকায় নির্ধারণ করা হলেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তা আরও কমিয়ে ১৮ থেকে ২০ টাকা করা হয়।

অন্যদিকে দাম কমিয়ে ২০১৪ সালে গরুর চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পরপর দুই বছর প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকায় অপরিবর্তিত থাকে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Freedom fighters must be respected irrespective of party affiliation PM

দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে ফেলোশিপ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবনের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে, পরিবার-পরিজন, বাবা-মাসহ সবকিছু ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাদের সব সময় সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া উচিত।’

দলমত নির্বিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সবসময় সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৪-২৫’ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা এটা সব সময় মনে রাখতে হবে। নিজের জীবনের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে, পরিবার-পরিজন, বাবা-মাসহ সবকিছু ফেলে রেখে তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।’

‘তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাদের সব সময় সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের হয়তো আমার দলের প্রতি সমর্থন নেই, হয়তো অন্য দলে চলে গেছেন বা অন্য কোনো কারণ।

‘অনেক মুক্তিযোদ্ধা আমার মতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। আমার দলের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু তারপরও তারা মুক্তিযোদ্ধা।’

তিনি বলেন, ‘তারা যেখানেই যাক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে তারা এই দেশকে মুক্ত ও বিজয়ী করতে তাদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন। তাদের অনেকে পঙ্গু হয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুকে পরাজিত করে বিজয় এনে দিয়েছেন। তাই এক্ষেত্রে আমি মনে করি, তাদের সম্মানই হতে হবে সর্বোচ্চ।’

‘আমি সবাইকে সম্মান করি। এদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে তাদের এই সম্মান দিক- এটাই চাই আমরা।’

একসময় মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। আজ তারা গর্ব করে বলতে পারেন- আমি মুক্তিযোদ্ধা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। এটা মাথায় রেখেই আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাউকে অবহেলা করা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে সংখ্যালঘু আছে, প্রতিবন্ধী মানুষ আছে। সরকার তাদের সবার প্রতি সহানুভূতিশীল। তারা যেন সমাজের সব সুযোগ-সুবিধা পায়, তারা যেন পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে আমরা বিশেষ নজর রাখছি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের ফেলোদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে দেশের দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের অনেক কিছু দেয়ার আছে। ভবিষ্যতে আপনাদেরই দেশকে আরও উন্নত করতে হবে।’

জনগণের টাকায় ফেলোশিপ নিয়ে তারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন এই বিষয়টি তাদের মনে রাখতে বলেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনাদের উচ্চশিক্ষায় যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা জনগণের। জনগণের সেবায় আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

এ বছর ১১ জন পিএইচডি এবং ৩৯ জন মাস্টার্স ফেলোশিপ পেয়েছেন।

বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে এ পর্যন্ত ৩০৮ জন মাস্টার্স ফেলো ও ১১৬ জন পিএইচডি ফেলোকে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২১৫ জন মাস্টার্স ফেলো এবং ২৬ জন পিএইচডি ফেলো ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

তিনটি ক্যাটাগরিতে এই ফেলোশিপ দেয়া হচ্ছে- সরকারি কর্মকর্তা (বিসিএস), সরকারি কর্মকর্তা (নন-বিসিএস) ও অন্যান্য (বেসরকারি পরীক্ষার্থী)।

সব সেক্টরের সম্পদের সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৮ সালে এই ফেলোশিপ চালু করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটকে (জিআইইউ) এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছেন এই ফেলোরা।

ফেলোশিপ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

ফেলোশিপ পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে কয়েকজন পিএইচডি ও মাস্টার্স ফেলো তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ ও এর জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তারা।

অনুষ্ঠানে ফেলোশিপের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ
নিজেদের ‘রাজাকার’ বলতে তাদের লজ্জা হয় না: প্রধানমন্ত্রী
গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিমদের ঐক্য চান প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের ওপর হামলা নিন্দনীয়: প্রধানমন্ত্রী
আমার সাবেক পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক, হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BGB deployment in Dhaka Chittagong Rajshahi and Bogra
কোটা সংস্কার আন্দোলন

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়ায় বিজিবি মোতায়েন

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়ায় বিজিবি মোতায়েন ফাইল ছবি।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবিতে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে যুবক নিহত
ঢাবি ক্যাম্পাসে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ২
রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নিহত
শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার ঢাবির সহকারী প্রক্টর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
DU assistant proctor victimized by students

শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার ঢাবির সহকারী প্রক্টর

শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার ঢাবির সহকারী প্রক্টর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী প্রক্টরদের ধাওয়া করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত ও বদরুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে শহিদ মিনারে এলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। শিক্ষার্থীরা তাদেরকে উদ্দেশ করে ‘দালাল’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যাপক মুহিতকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সহকারী প্রক্টর বদরুল ইসলামকেও ধাওয়া দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী প্রক্টররা শহিদ মিনারে এলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। শিক্ষার্থীরা তাদেরকে উদ্দেশ করে ‘দালাল’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ধাওয়া করেন। এ সময় শিক্ষকরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে চাইলে আন্দোলনকারীরা তাদের দিকে বিভিন্ন বস্তু এবং কাঠের টুকরো ছুড়ে মারেন। একটু পর পেছন থেকে কয়েকজন আন্দোলনকারী এসে অধ্যাপক মুহিতকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরপর কয়েকটি আঘাতের পর মাটিতে পড়ে যান অধ্যাপক মুহিত।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন শুরু থেকেই শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ না করার আহ্বান জানান। তারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাতে উদ্যত অনেক শিক্ষার্থীকে বাধা দেন।

অধ্যাপক মুহিত যখন মাটিতে পড়ে যান তখন একজন শিক্ষার্থী তাকে রিকশায় তুলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

জানা যায়, বহিরাগত তাড়াতে শহিদ মিনার এলাকায় গিয়েছিলেন সহকারী প্রক্টরবৃন্দ। বহিরাগতদের ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেন- গতকাল কই ছিলেন, যখন আমাদের বোনদের ওপর হামলা করা হয়েছে?

এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে মাইকিংও করেন সহকারী প্রক্টরবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
সারা দেশে মঙ্গলবার বিক্ষোভ কোটা আন্দোলনকারীদের
ঢাবি প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভা, পাঁচ সিদ্ধান্ত
ঢাবির শহীদুল্লাহ হল এলাকায় ফের ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ
চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা
জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Behind the quota movement is the Matlabi faction who

কোটা আন্দোলনের পেছনে মতলবি মহল আছে, সময়মতো ব্যবস্থা: কাদের

কোটা আন্দোলনের পেছনে মতলবি মহল আছে, সময়মতো ব্যবস্থা: কাদের ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে টার্গেট করে যে আন্দোলন তা প্রতিহত করা হবে। ধৈর্য্য ধারণ করা মানে নীরবতা নয়, সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কোটা আন্দোলনের পেছনে একটি মতলবি মহল আছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের একটা অংশ রাজাকারের পক্ষে কথা বলছে। এটা স্পষ্ট যে এর পেছনে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত।

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিনা উস্কানিতে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগের ওপর নির্বিচার হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে টার্গেট করে যে আন্দোলন তা প্রতিহত করা হবে। ধৈর্য্য ধারণ করা মানে নীরবতা নয়, সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতেও সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে চেয়েছিল বিএনপি। তারা অগ্নি-সন্ত্রাস করেছে। কিন্তু সে আন্দোলনে তারা সাড়া পায়নি। জনগণের শক্ত অবস্থানের কাছে তারা পরাস্ত হয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে যে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছে, এ আন্দোলনেরও নেতৃত্ব নিয়েছে তারেক রহমান। তার দল বিএনপি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে। একটা অরাজনৈতিক ইস্যুকে রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করতে চক্রান্ত করছে। একটা অপশক্তিকে এর পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী কোটা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কোটা আন্দোলনের কাউকে উদ্দেশ করে রাজাকার শব্দ ব্যবহার করেননি।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা ছাত্রদের আন্দোলনে নামতে চাপ দিচ্ছে। বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগসহ সাধারণ ছাত্রদের ওপর গতকাল (সোমবার) তারা হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগের অন্তত ৫শ’ নেতাকর্মী আহত ও দুজন নেতা গুলিবিদ্ধ। ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতার ভুয়া ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন পেজে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোটা সংস্কারের বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের বিষয়। আদালত ছাড়া আর কোনো উপায় বা বল প্রয়োগ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

চলমান কোটা আন্দোলনে দুজন নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার যে বক্তব্য দিয়েছেন তার নিন্দা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, অন্য দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখা উচিত।

‘যে আন্দোলন স্বাধীনতাকে টার্গেট করে সে আন্দোলন মোকাবেলা করবে আওয়ামী লীগ। আন্দোলনের নামে কোনো প্রকার জনদুর্ভোগ সরকার মেনে নেবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনোপ্রকার অবমাননা সহ্য করা হবে না। প্রশাসনের ধৈর্য্য ধরা মানে দুর্বলতা নয়। সময়মতো যথাযথ অ্যাকশন নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক কাদেরের
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
কোটার আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: কাদের
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান কাদেরের
দুই আন্দোলন নিয়ে সরকার সতর্ক: কাদের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
US claims of death in protests are baseless Ministry of External Affairs

বিক্ষোভে মৃত্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভিত্তিহীন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বিক্ষোভে মৃত্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভিত্তিহীন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন মঙ্গলবার ঢাকায় ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘দেশের কোনো গণমাধ্যমে বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে এমন মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের এ জাতীয় দাবি সহিংসতায় ইন্ধন জোগাতে পারে এবং শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’

বাংলাদেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সূত্র: ইউএনবি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন মঙ্গলবার বলেন, ‘দেশের কোনো গণমাধ্যমে বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে এমন মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বক্তব্যে দুজনের মৃত্যুর দাবি ভিত্তিহীন। এ জাতীয় দাবি সহিংসতায় ইন্ধন জোগাতে পারে এবং শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’

সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় ১৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বাংলাদেশে চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে কমপক্ষে দু’জন নিহত হওয়ার ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।

‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং সরকার জনগণের সম্পত্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত রাখতে অবিচল রয়েছে। গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।’

সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সে দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা আমরা ভয়াবহতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছি। ওই ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এ ধরনের সহিংসতা গণতন্ত্রের মূল মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথকভাবে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ট্রাম্প নিরাপদ আছেন ও সুস্থ হয়ে উঠছেন জেনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।’

গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র লিওনার্ড হিল বলেন, ‘বিবৃতিটি আহত ও নিহতের মনিটরিং রিপোর্ট-এর ভিত্তিতে ছিল।

‘আমরা সব সময় সবচেয়ে সঠিক তথ্য খোঁজার চেষ্টা করি এবং সত্য উদঘাটনে সাংবাদিকদের কাজকে স্বাগত জানাই।’

আরও পড়ুন:
চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা
জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০
ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ববিতে বিক্ষোভ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Blockade of Khulna Jesore highway by quota activists

খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ কোটা আন্দোলনকারীদের

খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ কোটা আন্দোলনকারীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার খুলনা-যশোর মহাসড়কের দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড় অবরোধ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
বিপুল শিক্ষার্থীর অবরোধ ও মিছিলের কারণে খুলনা শহরের ময়লাপোতা থেকে শিববাড়ী হয়ে দৌলতপুর পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেছেন খুলনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১১টার দিকে তারা মহাসড়কের দৌলতপুরের নতুন রাস্তা মোড় অবরোধ করেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে খুলনার শিববাড়ী মোড়ের দিকে রওনা হন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, মিছিলটি নিয়ে তারা পরবর্তী সময়ে খুলনার জিরো পয়েন্ট মোড়ে যাবেন। সেখানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আজ খুলনার বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও।

এদিকে বিপুল শিক্ষার্থীর অবরোধ ও মিছিলের কারণে খুলনা শহরের ময়লাপোতা থেকে শিববাড়ী হয়ে দৌলতপুর পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রদের আন্দোলনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা আরও তীব্রভাবে আন্দোলন শুরু করেছেন।

অবরোধের সময়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুন:
চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা
জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০
ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ববিতে বিক্ষোভ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Newsbangla Jabi Correspondent Sergil injured in police firing

পুলিশের গুলিতে আহত নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল

পুলিশের গুলিতে আহত নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল জাবিতে সোমবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে আহত হন নিউজবাংলার প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল। কোলাজ: নিউজবাংলা
নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসির বাসভবনে ঢুকে আন্দোলনকারীদের মারধর করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছড়রা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অনেকেই আহত হয়। আমরা চার গণমাধ্যমকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে সোমবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও গুলিবিদ্ধ সার্জিল জানান, রাতে ‍পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে বিদ্ধ হন সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ চারজন। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জাবি ক্যাম্পাসে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত উত্তেজনা চলে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

তারা আরও জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ জাবি শাখা ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা সশস্ত্র অবস্থায় হেলমেট পড়ে ভিসি ভবনের সামনেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। তখন আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের মারধর করে আহত করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন হল থেকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসলে পুলিশ-ছাত্রলীগ ও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও ছড়রা গুলি ছোড়ে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন জাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার লুৎফুল এলাহী, নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল ও বণিক বার্তার মেহেদী মামুনসহ চারজন।

নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসির বাসভবনে ঢুকে আন্দোলনকারীদের মারধর করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

‘পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছড়রা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অনেকেই আহত হয়। আমরা চার গণমাধ্যমকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

এনাম মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার আলী বিন সোলাইমান বলেন, ‘(সোমবার) রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ৬০ জন আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।’

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা যখন ভিসির বাসভবনের সামনে মুখোমুখি হয়, অপর দিক থেকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। সে সময় আমাদের টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের হামলায় আমিসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন পুলিশ আহত হয়েছে, তবে সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জাবির বাজেটে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যখাত
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুই বহিরাগত গ্রেপ্তার
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি
অবশেষে ঈদের নাটকে মেহজাবীন
জাবি ক্যাম্পাসে ছিনতাইকালে আটক ৩

মন্তব্য

p
উপরে