× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান
google_news print-icon

আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান

আতঙ্কে-পতনের-পর-লকডাউনের-দিন-এবারও-উত্থান
৫ এপ্রিল লকডাউনের আগের দিন সূচক পড়েছিল ১৮১ পয়েন্ট। আর এবার লকডাউন শুরুর আগের দিন সূচক পড়ে ১০০ পয়েন্ট। ৫ এপ্রিল লকডাউনের প্রথম দিন সূচক বাড়ে ৮৯ পয়েন্ট। এবার সোমবার লকডাউনের শুরুর দিন সূচক বাড়ল প্রায় ৩৪ পয়েন্ট।

এপ্রিলে যখন প্রথমবারের মতো লকডাউন দেয়া হয়, ঠিক তখনকার মতো অবস্থা। লডকাউনের আগের দিন বড় পতন, আর বিধিনিষেধ শুরুর দিন সূচক বৃদ্ধি।

তবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় পতন যেমন এবার কম হয়েছে, তেমনি কম হয়েছে উত্থানেও।

৪ এপ্রিলের তুলনায় লকডাউন শুরুর দিন ৫ এপ্রিল লেনদেন কমেছিল ২৮৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর এবার লডকাউন শুরুর আগের দিনের তুলনায় শুরুর দিন লেনদেন কমেছে ৪১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

৫ এপ্রিল লকাউনের আগের দিন সূচক পড়েছিল ১৮১ পয়েন্ট। আর এবার লকডাউন শুরুর আগের দিন সূচক পড়ে ১০০ পয়েন্ট।

৫ এপ্রিল লকডাউনের প্রথম দিন সূচক বাড়ে ৮৯ পয়েন্ট। এবার সোমবার লকডাউনের শুরুর দিন সূচক বাড়ল প্রায় ৩৪ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা, অকারণ আতঙ্ক আর বিনিয়োগ শিক্ষার অভাব নিয়ে বারবার কথা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বারবার এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

৫ এপ্রিল লকডাউনের আগেও পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন গুজব ছড়িয়েছিল। আর এই পরিস্থিতিতে আগেভাগে শেয়ার বিক্রি করে হাতে নগদ টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান
বিধিনিষেধের কারণে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল কম

কিন্তু প্রথমে লকডাউন, আর পরে কঠোর লকডাউনেও লেনদেন স্থগিত হয়নি। আর এবার শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া লকডাউনের ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত সূচক বেড়েছে ১ হাজার ৪ পয়েন্ট।

এবারও শাটডাউনের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জানিয়েছে, ব্যাংক চালু থাকলে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে। আর ব্যাংক যে বন্ধ থাকবে না, সেই ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়ে রেখেছে। সরকারও জানিয়েছে জরুরি সেবা চালু থাকবে, আর ব্যাংককে জরুরি সেবা হিসেবেই ধরা হয়।

তবু সেই এপ্রিলর আতঙ্ক ভর করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। আর রোববার কম দামে শেয়ার বিক্রি করে দেন বহু জন।

৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর দিন পুঁজিবাজারে লেনদেনের দিন যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, এবারও সীমিত লকডাউন শুরুর দিন দেখা গেল একই চিত্র।

তবে সে সময় লকডাউনের শুরুর দিন প্রধানত বেড়েছিল বিমার শেয়ারের দর। এবার অল্প করে বেড়েছে ব্যাংকের শেয়ারের দর। বিমাও বাড়েনি, এমন নয়। তবে সেখানে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর কমেছেও।

রোববার পতনের দিন উজ্জ্বল বস্ত্র খাতে এদিন পতনের প্রবণতাই দেখা গেছে। আগের দিন পতন হওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড দর ধরে রেখেছে অথবা কিছু বেড়েছে।

প্রধান অন্য খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় সব কোম্পানির দর বেড়েছে। উত্থান দেখা গেছে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। বিবিধ খাতে ছিল মিশ্র প্রবণতা।

খাতওয়ারি লেনদেন বিবেচনা করলে দেখা যায়, প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে কমেছে ব্যাংক, বস্ত্র এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে।

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যাংক খাত

আগের দিন ব্যাংক খাতে কমেছিল ২৫টি কোম্পানির শেয়ার দর। বিপরীতে বেড়েছিল ৩টি। আর বিপরীত চিত্র দেখা গেল লকডাউনের দিন। এদিন বেড়েছে ২২টি বেড়েছে আর কমেছে ৪টির দর।

এই খাতে কেবল শেয়ারের দাম বাড়ার দিন লেনদেন কমে গেছে। আগের দিনের হাতবদল হয়েছিল মোট ১৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার। আর সোমবার হাতবদল হয়েছে ১২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান

তবে দাম বাড়া কমার হার খুবই সামান্য। আর সর্বাধিক দর বৃদ্ধির প্রথম ৫০ কোম্পানির একটিও ছিল না এই খাতের।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ইউসিবির শেয়ার দর। আগের দিনের তুলনায় ৩.০৬ শতাংশ।

এ ছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংকের ২.৪৭ শতাংশ আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১.৮১ শতাংশ বেড়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর।

এর বাইরে যেসব ব্যাংকের দর বেড়েছে সেগুলোর বেশিরভাগেরই বেড়েছে ১০ থেকে ২০ পয়সা।

তবে পতনের শীর্ষ তালিকায় ছিল আগের দিন দাম বৃদ্ধি পাওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংক। আগের দিনের তুলনায় ৬.৯২ শতাংশ দাম হারিয়েছে গত দুমাসে দেড় ‍গুণ হয়ে যাওয়া ব্যাংকটির শেয়ারদর।

এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক ২০ পয়সা এবং স্ট্যান্ডার্ড ও সাউথইস্ট ব্যাংক ১০ পয়সা করে দর হারিয়েছে।

লেনদেন বেড়েছে বিমায়

লকডাউনের আগে পতনের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ১৪৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মোট লেনদেন চারশ কোটিরও বেশি কমলেও এই খাতে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

রোববার বিমা খাতের ১৪৯ কোটি ৮৫ রাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হলেও এদিন হয়েছে ২৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার।

আগের দিন এই খাতের ৪৪টি কোম্পানি দর হারালেও এর মধ্যে ২৮টি দাম ফিরে পেয়েছে কিছুটা। অন্যদিকে আগের দিন দাম বেড়েছিল ৫টি কোম্পানির শেয়ার দর। আর আজ কমেছে ২১টির দর।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল এই খাতের। এর মধ্যে গ্লোবাল, ডেল্টা লাইফ ও রূপালী ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত।

এর বাইরে ফারইস্ট লাইফের ৭.২২ শতাংশ, পপুলার লাইফের ৬.০৮ শতাংশ, প্রগতি লাইফের ৫.৪৫ শতাংশ, প্রাইম লাইফের ৫.২৫ শতাংশ, সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের ৫.০১ শতাংশ দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি কমেছে কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের দর। আগের দিনের তুলনায় ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৪.৮৭ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি।

এ ছাড়া বিজিআইসির ২.৮১ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ২.০১ শতাংশ, রিপাবলিকের ১.৬০ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ১.৫ শতাংশ।

খাদ্য, জ্বালানি, প্রকৌশল ওষুধ খাতে উত্থান

আগের দিন হতাশ করা এই চারটি খাতই এদিন বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিয়েছে।

৩০ জুন অর্থবছর শেষ হতে চলা এই তিন খাতের মধ্যে প্রকৌশল খাতে বেড়েছে ৩০টির দাম, কমেছে ৯টির। আগের দিন এই খাতে কমেছিল ৩৮টির দাম। বেড়েছিল মাত্র ৩টির।

প্রকৌশল খাতে এদিন ১০৫ কোটি টাকা হাতবল হয়েছে যা আগের দিন ছিল ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের দিন ২১টি কোম্পানির দাম কমলেও বেড়েছিল কেবল একটির দর। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এদিন বেড়েছে ১৬টির দর। কমেছে ৪টির।

ওষুধ ও রসায়ন কাতে আগের দিন ২৯টি কোম্পানির দাম কমার বিপরীতে বেড়েছিল কেবল একটির। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আজ বেড়েছে ২০টির দর। কমেছে ছয়টির।

দাম বাড়লেও লেনদেন কমেছে এই খাতে। আগের দিন এই খাতে হাতবদল হয়েছিল ১০৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭১ কোটি টাকা।

চমক দেখিয়েছে খাদ্য খাতও। এই খাতের ১৮টি কোম্পানির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে কেবল দুটির। অথচ আগের দিন কমেছিল ১৪টির দাম। বেড়েছিল কেবল ৬টির।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফিরেছে আগ্রহ

আগের দিন এই খাতে হাতবদল হওয়া সব কটি ফান্ডই দর হারিয়েছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এবার বেড়েছে ২০টির দর বেড়েছে। কমেছে ৫টির দর।

এই ফান্ডগুলোর ৩০টির অর্থবছর শেষ হতে চলেছে আগামী ৩০ জুন। আর এর মধ্যে সিংহভাগ ফান্ডই চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাপক মুনাফা করার তথ্য প্রকাশ করেছে। আর ১ এপ্রিল থেকে শুরু চতুর্থ প্রান্তিকে এখন পর্যন্ত ৭৫০ পয়েন্টের মতো সূচক বৃদ্ধির সুফলও তারা পাবে।

এই অবস্থায় গত কয়েক দিনে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এক দিনে লেনদেন হওয়া সব কটি ফান্ডের দর বৃদ্ধির চিত্রও দেখা গেছে পুঁজিবাজারে।

তবে শতকরা হিসেবে দাম বৃদ্ধি বা কমার হার বেশি ছিল না।

আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান

এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১.৪৩ শতাংশ। ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড দর হারিয়েছে ১.২৫ শতাংশ করে।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রাইম ফিনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর। আগের দিনের দরের সঙ্গে যোগ হয়েছে ৩.৯২ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেড়েছে ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২.২৯ শতাংশ। বাকি বেশিরভাগের দাম ১০ থেকে ২০ পয়সা বেড়েছে।

উচ্ছ্বাস হারাল বস্ত্র খাত

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের লকডাউন ঘোষণার আগের দিন রোববার উজ্জ্বল ছিল একমাত্র বস্ত্র খাতের কোম্পানির শেয়ার। সেদিন সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৬টি ছিল বস্ত্র খাতের।

সোমবার লেনদেন হওয়া বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। ৩৫টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

এদিন বস্ত্র খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৩০১ কোটি টাকা। রোববার লেনদেন হয়েছিল ৪৬১ কোটি টাকা।

সোমবার বস্ত্র খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে জেড ক্যাটাগরির দুর্বল কোম্পানি দুলা মিয়া কটনের ৯.৯৬ শতাংশ। এছাড়া ওটিসি থেকে ফেরা মুন্নু ফেব্রিক্স ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দাম আবার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিন সবচেয়ে বেশি দর কমেছে সাফকো স্পিনিংয়ের ৮.৮৮ শতাংশ। এ ছাড়া কুইন সাউথ টেক্সটাইলের ৮.৫৭ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের ৭.৮০ শতাংশ দাম কমেছে।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৬ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক ৭ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৪ পয়েন্টে।

আতঙ্কে পতনের পর লকডাউনের দিন এবারও উত্থান
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৪০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ৭৯ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৩৯ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৩৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
লকডাউন আতঙ্কে শেয়ার বেচে এখন কিনছে বিনিয়োগকারীরা
লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেনেও নেই পরিবর্তন
লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market passed a good week of bad

’মন্দের ভালো’ সপ্তাহ পার করল পুঁজিবাজার

’মন্দের ভালো’ সপ্তাহ পার করল পুঁজিবাজার ফাইল ছবি।
ক’দিন আগে দুশ-তিনশ কোটির ঘরে নেমে যাওয়া ডিএসইর মোট লেনদেন এ সপ্তাহে ছুঁয়েছে হাজার কোটির ঘর। সব মিলে পুরো সপ্তাহের হিসাবে সূচকের বড় কোনো উত্থান না হলেও লেনদেন নিয়ে সন্তুষ্ট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

টানা পতনের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। এ নিয়ে পরপর তিন সপ্তাহ ধরে অল্প হলেও বেড়েছে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর প্রধান সূচক।

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া সপ্তাহে অবশ্য সূচকের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। কদিন আগে দুশ-তিনশ কোটির ঘরে নেমে যাওয়া ডিএসইর মোট লেনদেন এই সপ্তাহে ছুঁয়েছে হাজার কোটির ঘর। সব মিলে পুরো সপ্তাহের হিসাবে সূচকের বড় কোনো উত্থান না হলেও লেনদেন নিয়ে সন্তুষ্ট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

মতিঝিলের একটি ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারী হানিফ মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব বিনিয়োগকারী এতদিন চুপচাপ বসে ছিলেন তারাও সজাগ হতে শুরু করেছেন। সূচক ও লেনদেন কিছুদিন বাড়লেই অনেক বিনিয়োগকারী আবার সক্রিয় হবেন। বাজার যেভাবে নিচে নেমেছে এখান থেকে লাভ হওয়ার কতটা সম্ভাবনা আছে তা বিনিয়োগকারীরা ঠিকই জানেন।’

তবে সেজন্য এক/দুই সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস ধরে বাজার ইতিবাচক ধারায় থাকার ওপর জোর দেন এই বিনিয়োগকারী।

‘দেখুন, এখন চীনে বিএসইসি বিনিয়োগ সম্মেলন করছে। অনেকেই বলছেন চীন থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আসবে। আসুক বা না আসুক মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণাটা তৈরি হলেই মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে এটা নিশ্চিত,’ যোগ করেন হানিফ।

সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচ কর্মদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে চার হাজার ৪৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৮৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। লেনদেনের এই পরিমাণ আগের সপ্তাহের গড় লেনদেনের চেয়ে ৪৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। ডিএসইতে এর আগের সপ্তাহে চার কর্মদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিলো ৬১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। গড় কিংবা মোট লেনদেন নিয়ে নিউজবাংলার কাছে সন্তুষ্টির কথা জানান বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারের সঙ্গে থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শিমুল বলেন, ‘পুঁজিবাজারে লেনদেন ভালো হওয়া মানেই বাজার ভালো হওয়ার লক্ষণ।

‘অনেকদিন ধরে বাজারে খারাপ সময় যাচ্ছে। তবে শেয়ার মার্কেটের ইতিহাস বলে- কিছুদিন খারাপ থাকার পর আবার বাজার ভালো হয়। আমাদের দেশের বাজার অবশ্য কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। এখানে যারা প্লেয়ার তারা অ্যাকটিভ হলেই বাজার ভালো হয়।’

তাহলে কি আপনার হিসাবে প্লেয়াররা আবার অ্যাকটিভ হচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চারদিকে একটা খবর শুনতেছি যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নাকি বাজার অনেক ভালো থাকবে। অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী আবার বাজারে ফিরতে শুরু করেছে বলেও শুনেছি। দেখুন, লেনদেন তো হাজার কোটিও হলো একদিন। আমাদের মতো ক্ষুদ্ররা তো এতো লেনদেন করতে পারে না।’

এদিকে ডিএসইতে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে বাড়তে দেখা যায় সব সূচক। তবে শেষ দুদিনের মূল্য সমন্বয়ে তা স্থায়ী হতে পারেনি। সপ্তাহের শুরুর দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিলো পাঁচ হাজার ৪৯৭ পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার দিনশেষে তা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ পয়েন্টে।

অর্থাৎ পুরো সপ্তাহে ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট। পাশাপাশি ডিএসইর এসএমই ইনডেক্স প্রায় ৩০ পয়েন্ট বেড়ে সপ্তাহ শেষে অবস্থান নিয়েছে ১ হাজার ৫০৮ পয়েন্টে। তবে এ সপ্তাহে কমেছে ডিএসইর নির্বাচিত ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক।

লেনদেন ইতিবাচক থাকার সপ্তাহেও কমেছে ডিএসইর বাজার মূলধন। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিলো ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা সপ্তাহ শেষে এসে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ পুরো সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন খোয়া গেছে ৭ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।

এদিকে পুরো সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২২০টির, কমেছে ১৫৪টির। আর অপরিবর্তিত ছিলো ২২টি কোম্পানির শেয়ার দর।

পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থাকে মন্দের ভালো বলছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, লেনদেনের এই ধারা বজায় থাকলে সাইডলাইনে থাকা বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারমুখী হবে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে দু-তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার ইতিবাচক জায়গায় যাবে। তবে এই বাজারেও কিছু শেয়ার নিয়ে কারসাজি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে সেসব শেয়ার না কেনার পরামর্শ দেন তিনি।

‘যদি আপনি মনে করেন আমার বিবেচনায় আমি শেয়ারটি কিনবো, তাহলে ওটি কিনে বিপদে পড়লে দোষ শুধুই আপনার’, মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সরকারি চাকুরেদের বিনিয়োগের খবরে বড় উত্থান পুঁজিবাজারে
ডিএসইতে লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ২৮ হাজার কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক ও লেনদেনে গতি, নেতৃত্বে বিমা খাত
সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The news of the investment of government employees saw a big rise in the capital market

সরকারি চাকুরেদের বিনিয়োগের খবরে বড় উত্থান পুঁজিবাজারে

সরকারি চাকুরেদের বিনিয়োগের খবরে বড় উত্থান পুঁজিবাজারে ফাইল ছবি।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে বড় কোনো উত্থান না হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে লেনদেন ও সূচক বাড়তে থাকে। ডিএসইতে বৃহস্পতিবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ১২৪ পয়েন্ট। পাশাপাশি লেনদেন হয়েছে ৭৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। সূচক, লেনদেন কিংবা বাজার মূলধন সব খাতেই ছিলো বড় উলম্ফন। সরকারি কর্মচারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন- বুধবার গণমাধ্যমে এমন খবর আসার পর বৃহস্পতিবার ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইতে বৃহস্পতিবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ১২৪ পয়েন্ট। পাশাপাশি লেনদেন হয়েছে ৭৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। সকালে বড় কোনো উত্থান না হলেও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে লেনদেন ও সূচক বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইতে এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সব কোম্পানির দাম বাড়তে দেখা যায়। ৩৬৫টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৩টির। আর অপরিবর্তিত দেখা গেছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে।

লেনদেনেও বেশ গতি ছিলো। বিশেষ করে কার্যদিবসের শেষ সময়ে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেশি থাকায় লেনদেন ছাড়িয়েছে সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকার ঘর। আগের দিনের চেয়ে এদিন লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৩১ কোটি টাকা। সূচকের বড় উত্থানে দিন শেষে ডিএসইএক্স অবস্থান নিয়েছে ৫ হাজার ৪৯৭ পয়েন্টে।

লেনদেন ও সূচকের উত্থানে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী রতন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে গতি আসবে আমরা সেদিকেই তাকিয়ে আছি। তা কারণ যেটাই হোক। কমতে কমতে একেবারে তলানিতে চলে গেছে প্রায় সব শেয়ারের দাম। এখন সরকারি কর্মচারীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন- এমন খবরে শুনলাম অনেকে শেয়ার কেনা শুরু করেছে। এই বাজারে যারা শেয়ার কিনবে তারা লাভ করবে।’

আরেক বিনিয়োগকারি শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা তো দেশেরই নাগরিক। তারা এতোদিন কেন শেয়ার কিনতে পারতেন না এটাই আমার মাথায় আসছে না। তাদেরকে আগেই পুঁজিবাজারে আনা উচিত ছিল। শুনলাম আইন পরিবর্তন করে তাদেরকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এটা পুঁজিবাজার ও সরকারি কর্মচারী দুপক্ষকেই লাভবান করবে।’

এদিনের উত্থানে ডিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৯ হাজার ২শ’ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার দিনশেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকার কিছুটা বেশি।

এদিকে একই সংবাদে বড় উত্থান হয়েছে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসইতেও। এই বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩০৬ পয়েন্ট। লেনদেনেও গতি ছিলো এদিন। সিএসইতে এদিন মোট লেনদেন ছাড়িয়ে গেছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ঘর।

জানা গেছে, সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা, ১৯৭৯-এর একটি খসড়ার সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। যাচাইয়ের পর তা আবার মন্ত্রণালয়ে ফেরত এসেছে। সেখানে কয়েক দশকের পুরনো আইন পরিবর্তন করে সরকারি কর্মচারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, সরকারি কর্মচারীরা শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত যে কোনো কোম্পানির শেয়ার বা বন্ড কিনতে বা বিক্রি করতে পারবেন। তবে তারা অফিস সময়ে এ ধরনের কাজ করতে পারবেন না বলে জানা গেছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন না।

আরও পড়ুন:
ডিএসইতে লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ২৮ হাজার কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক ও লেনদেনে গতি, নেতৃত্বে বিমা খাত
সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ
পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Transactions on DSE fell to Rs 400 crore
পুঁজিবাজার

ডিএসইতে লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে

ডিএসইতে লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে ফাইল ছবি।
ঈদের পর দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আবার পতন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের দিন পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার পর মঙ্গলবার সূচকে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সেসঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি।

ঈদের পর দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আবার পতন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের দিন পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার পর মঙ্গলবার সূচকে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সেসঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও কমেছে অপর দুই সূচক। তবে বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। আর ৭০০ কোটি টাকার ঘরে চলে যাওয়া লেনদেন কমে নেমে এসেছে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বাড়লেও কমেছে বাছাই করা সূচক। তবে এ বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। অবশ্য ডিএসই’র মতো এই বাজারটিতেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

এদিন পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মধ্য দিয়ে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সবকটি সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার ধারণা অব্যাহত থাকায় এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৯ পয়েন্ট কমে যায়।

তবে লেনদেনের শেষদিকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকা থেকে দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে। ফলে এদিকে দাম বাড়ার তালিকা বড় হয়, অন্যদিকে প্রধান মূল্যসূচক বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক মিশ্র থাকার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমে এসেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সব থেকে বেশি অবদান রেখেছে বিচ হ্যাচারির শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্যালভো কেমিক্যালের ১৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মালেক স্পিনিং, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আইসিবি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট নিটিং এবং জেমিনি সি ফুড।

অপরদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮২টির এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
শেয়ারের দাম দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমবে না
ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে সূচক ১৫ মাসে সর্বোচ্চ
পুঁজিবাজারে সুবাতাস, ‘ফ্লোর প্রাইস’মুক্ত আরও ২৩ কোম্পানি
অবশেষে ফ্লোর প্রাইসের বাধামুক্ত হলো পুঁজিবাজার, তবে…

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
DSEs market capitalization increased by Tk 28 thousand crores
ঈদের ছুটির পরের সাত কার্যদিবস

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ২৮ হাজার কোটি টাকা

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ২৮ হাজার কোটি টাকা
গত এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার উপরে বেড়েছে। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এতে ঈদের পর লেনদেন হওয়া সাত কার্যদিবসেই ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনেই বড় উত্থান হয়েছে। এর ফলে সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বেড়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের।

গত এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার উপরে বেড়েছে। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এতে ঈদের পর লেনদেন হওয়া সাত কার্যদিবসেই ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকও বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের গতিও। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির। আর ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, যা গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসে বাজার মূলধন বাড়ে ১০ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। ফলে ঈদের পর লেনদেন হওয়া ৭ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।

এদিকে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে বেড়েছে ১১১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে ১২৬ দশমিক ৩১ পয়েন্ট। অর্থাৎ ঈদের পর সাত কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ২৩৭ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। গত সপ্তাহজুড়ে এ সূচকটি বেড়েছে ৪৭ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের সপ্তাহের দুই কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে ৫৩ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট।

ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও টানা বেড়েছে। গত সপ্তাহে এ সূচকটি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহের দুই কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে ৩৪ পয়েন্ট।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৮৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ৪৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ারের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রেনেটার শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ক্যাপটিক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বিচ হ্যাচারি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক ও লেনদেনে গতি, নেতৃত্বে বিমা খাত
সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ
পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার
পুঁজিবাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে গুটিকয়েক ট্রেডারের কারসাজি
শেয়ারের দাম দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমবে না

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In the capital market the insurance sector led the rate and transaction speed

পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক ও লেনদেনে গতি, নেতৃত্বে বিমা খাত

পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক ও লেনদেনে গতি, নেতৃত্বে বিমা খাত
একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব চারটি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম ততটাই বেড়েছে। ৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশের উপরে। ৮ শতাংশের বেশি দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪৭টিই দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রোববার দেশের পুঁজিবাজারে সুবাতাস বয়ে গেছে। বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধির সুবাদে সার্বিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে টানা তিন কার্যদিবসের পতন কেটে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সবক’টি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রোববার ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে বিমা খাত যতটা দাপট দেখিয়েছে আর কোনো খাত ততটা দেখাতে পারেনি। বিমা খাতের ৮১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে পৌনে এক শতাংশ।

একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব চারটি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম ততটাই বেড়েছে। ৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশের উপরে। ৮ শতাংশের বেশি দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪৭টিই দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার চেয়ে বেশি। তবে এই বাজারেও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিমা খাত। ফলে বেড়েছে সবক’টি মূল্যসূচক। মূল্যসূচক বাড়লেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২টির দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে। এর মধ্যে বিমা কোম্পানি রয়েছে চারটি।

শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির এমন দাপটের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৯৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৫০ পয়েন্ট হয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে।

এদিকে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৮৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৭৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে বেশি অবদান রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৭ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেস্ট হোল্ডিংয়ের ৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৩৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নাভানা ফার্মা।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- গোল্ডেন সন, ফরইস্ট নিটিং, ই-জেনারেশন, মালেক স্পিনিং, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, লাভেলো আইসক্রিম ও কহিনুর কেমিক্যালস।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০১টির। ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ
পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার
পুঁজিবাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে গুটিকয়েক ট্রেডারের কারসাজি
শেয়ারের দাম দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমবে না
ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Three arrested for destabilizing the capital market

পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার

পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার রাজধানীতে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ছবি: নিউজবাংলা
ডিবির আইসিটি বিভাগের উপকমিশনার শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ডিএমপি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে সর্বদা কাজ করে চলেছে। এ বিষয়ে নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো মনিটরিং এবং সাইবার পেট্রলিং পরিচালনা হচ্ছে। পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উসকানি দিয়ে কেউ যাতে স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে অভিযান চলছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পুঁজিবাজার, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিভিন্ন শেয়ারের দাম নিয়ে কারসাজি ও গুজব রটিয়ে মার্কেটকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রাজধানীতে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আমির হোসাইন ওরফে নুরনুরানী (৩৭), নুরুল হক হারুন (৫২) ও আবদুল কাইয়ুম (৩৯)।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার একটি স্পর্শকাতর জায়গা; দেশের অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী তাদের সর্বস্ব নিয়ে এসে বিনিয়োগ করে থাকেন। অল্পতেই এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক থাকে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, কমিশনের চেয়্যারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামে গোপনীয় গ্রুপ খুলে বিভিন্ন মিথ্যা, ভুয়া এবং প্রতারণামূলক তথ্য সরবরাহ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে আসছে। ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যবহার করে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে আসছে। এ বিষয়ে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উক্ত মামলায় তদন্ত করে মামলা সংশ্লিষ্ট তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।’

হারুন বলেন, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রমনা মডেল থানায় মামলা করার পর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ এই চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করতে থাকে। গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর জন্য ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামে গোপনীয় গ্রুপ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রুপগুলোতে আসামিরা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, কমিশনের চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার নামে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রদান করে বিভিন্ন প্রকার প্রাইস সেনসেটিভ ইনফরমেশন (মূল্য সংবেদনশীল তথ্য) আগেভাগে প্রকাশ করে দেয়, যা বেশির ভাগ সময় বানোয়াট ও মিথ্যা, যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন সময় আন্দোলনের নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যবহার করে রাস্তা দখল করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে।

‘তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ওইসব কোম্পানি সম্পর্কে অনলাইনে অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি কোম্পানির অফিসগুলোতেও হামলা করে।’

ডিবির আইসিটি বিভাগের উপকমিশনার শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ডিএমপি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে সর্বদা কাজ করে চলেছে। এ বিষয়ে নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো মনিটরিং এবং সাইবার পেট্রলিং পরিচালনা হচ্ছে। পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উসকানি দিয়ে কেউ যাতে স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে অভিযান চলছে।

ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, ‘পুঁজিবাজার ও দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য দেশের চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি জড়িত, যারা এই চক্রের বিভিন্ন গ্রুপে সক্রিয়।

‘চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে চাঁদাবাজি করে আসছে। এদের সঙ্গে যুক্ত আট থেকে ১০টি গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
অবশেষে ফ্লোর প্রাইসের বাধামুক্ত হলো পুঁজিবাজার, তবে…
পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধিতে গভর্নরের সহযোগিতা চাইলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
লেনদেন ও সূচকে হতাশার মাঝে শেষ দিনে আশা
‘বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক লভ্যাংশ দিতে সক্ষম বেস্ট হোল্ডিংস’
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দৃঢ় ও সম্ভাবনাময়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The manipulation of a few traders behind the instability in the capital market

পুঁজিবাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে গুটিকয়েক ট্রেডারের কারসাজি

পুঁজিবাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে গুটিকয়েক ট্রেডারের কারসাজি ফাইল ছবি
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক সময়ের টানা পতন ঠেকাতে আবারও শেয়ারের মূল্যসীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর এক দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। দেশের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিএসইর আদেশে জানানো হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাতে সমগ্র বিশ্ব যখন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে পতিত হয়, ঠিক সেই সময় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিশ্বের দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

যদিও একটি শ্রেণি বাজারে নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে বরাবরই সক্রিয় ছিল। তবে দূরদর্শী নেতৃত্বগুণে বিনিয়োগকারীদের অর্থের সুরক্ষা দিতে বারবার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতে দেননি অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক আচরণ করছে পুঁজিবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে বাজারকে স্থিতিশীল করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে গতকাল ফ্লোর প্রাইসমুক্ত সব শেয়ারে একদিনের দর কমার নিম্নসীমা (সার্কিট ব্রেকার) ৩ শতাংশে বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএসইসির সময়োপযোগী এমন পদক্ষেপ বাজারকে আবারও টেনে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সন্দেহভাজন বেশকিছু লেনদেন পরিলক্ষিত হয়েছে বাজারে। এতে বিশেষ একটি শ্রেণি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বাজারকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছে। কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসও এতে জড়িত রয়েছে। বাজারে অবাঞ্ছিত বিক্রির আদেশ দিয়ে তারা অস্থিরতা তৈরি করছে। তাছাড়া বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে বাজারে একটা শ্রেণি স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে বাজার কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

এ বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশ কিছু ট্রেডার নিজেদের মধ্যে যোগশাজসের মাধ্যমে প্রথমে কম দরে শেয়ার বিক্রি করত। পরে তাদের দেখাদেখি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন প্যানিক হয়ে শেয়ার বিক্রি করত তখন তারা আবার কম দরে শেয়ারগুলো কিনে নিত। এভাবে তারা নিজেদের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে প্যানিক সৃষ্টির মাধ্যমে ভালো শেয়ারগুলোর দাম কমাত। এই কাজে তাদের বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসও সহযোগিতা করত।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ারের দর কমার কথা নয়। গুটি কয়েক অসাধু ট্রেডারের কারসাজিতে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে বড় বড় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, ‘এক শ্রেণির অসাধু বিনিয়োগকারী চাচ্ছেন বর্তমান কমিশন বিদায় হয়ে নতুন কেউ দায়িত্বে আসুক, যাতে তারা নতুন করে আরও সুযোগ নিতে পারেন। তারাই বিভিন্ন দুর্বল শেয়ারে কারসাজি করে সুবিধা নিচ্ছেন।

‘ফোর্সড সেলের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার তারা কম দরে কিনে নিচ্ছেন। কমিশনের উচিত হবে কারসাজিকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা, যাতে তারা বারবার বাজারকে ম্যানিপুলেট করার সাহস না পায়।’

এদিকে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক সময়ের টানা পতন ঠেকাতে আবারও শেয়ারের মূল্যসীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিএসইসি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।

ওই আদেশে বলা হয়, এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর এক দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। বর্তমানে দরভেদে কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।

দেশের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আদেশে জানানো হয়েছে। সার্কিট ব্রেকারের এ সিদ্ধান্ত বুধবার থেকে কার্যকর করতে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আজকের এই সার্কিট ব্রেকার আরোপ বাজারে কারসাজি রোধ করবে। এটি সন্দেহভাজন লেনদেন বন্ধ করবে। আর এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি সক্রিয় হবে বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো শেয়ার বর্তমানে আন্ডারভ্যালুতে আছে। এখানে তারা বিনিয়োগ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

সার্কিট ব্রেকার বাজারের দরপতন ফেরাতে ব্যর্থ হলে আবারও ফ্লোর প্রাইস দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আশা করছি, আমাদের বাজারে আর কখনও ফ্লোর প্রাইস দিতে হবে না। শিগগিরই বাজার একটা স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরবে।’

আরও পড়ুন:
শেয়ারের দাম দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমবে না
ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

p
উপরে