লকডাউন আতঙ্কে শেয়ার বেচে এখন কিনছে বিনিয়োগকারীরা

লকডাউন আতঙ্কে শেয়ার বেচে এখন কিনছে বিনিয়োগকারীরা

শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর লকডাউন শুরুর কথা ছিল সোমবার থেকে। পরে তা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার করা হয়। আর এই ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকে বড় পতন হয়। আতঙ্কে কম দামে শেয়ার বিক্রি করেন বিনিয়োগকারীরা। পরের দিনই দেখা গেলো উল্টো চিত্র।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর চিত্রে কোনোভাবেই বলার ওপায় নেই লকডাউনের আতঙ্কে একদিন আগে রোববার ১০০ পয়েন্ট পতন হয়েছিল। আতঙ্ক কাটিয়ে শেয়ার কিনতে মনোযোগী হয়ে ওঠেছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে সোমবার লেনদেনের শুরুতেই সূচক বাড়ে ৩৩ পয়েন্ট।

শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর লকডাউন শুরুর কথা ছিল সোমবার থেকে। পরে তা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার করা হয়। আর এই ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকে বড় পতন হয়। আতঙ্কে কম দামে শেয়ার বিক্রি করেন বিনিয়োগকারীরা।

কিন্তু কেন বিক্র কনেছেন তার উত্তরে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, মূলত রোববার বেশি বিক্রি হয়েছে বিমা খাতের শেয়ার। আর এ খাতেই এখন বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, সপ্তাহ আগে যারা বিমা খাতের বিনিয়োগ করেছে তাদের সিংহভাগই মুনাফা ওঠানোর যোগ্য। ফলে লকডাউনের পুঁজিবাজারের খারাপ অবস্থা হবে সে ভাবনা থেকেই বিনিয়োগকারীরা ঢালাও শেয়ার বিক্রি করেছেন।

দেবব্রত জানান, শুধু বিমা নয়, কয়েকদিনে শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রায় সব খাতের শেয়ারের দর পতন হয়েছে সেদিন। সোমবার লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান পুঁজিবাজারের জন্য ভালো ইঙ্গিত, যা লকডাউনের আতঙ্ক কাটাতে সহায়ক হবে।

সোম থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাতে পুঁজিবাজারের লেনদেনের সময়ে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

আগের মতোই সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত একটানা চলবে লেনদেন।

রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লকডাউন নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকের লেনদেনের সময় পাল্টাচ্ছে না। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত যেভাবে লেনদেন চলছে, সেভাবেই চলবে।

এরপর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের লেনদেনের সময় না পাল্টানোয় পুঁজিবাজারেও পাল্টাবে না।

ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীদের প্রবেশেও কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।

শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন করোনায় পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত রাখার পক্ষে না। গত ৫ এপ্রিল লকডাউন দেয়ার আগেই জানানো হয়েছিল, ব্যাংক খোলা থাকলে লেনদেন চলবে পুঁজিবাজারেও।

ওই লকডাউনের আগে ব্যাংক খোলা থাকবে কি না, এ নিয়ে যখন বিভ্রান্তি, তখন ৪ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হারায় ১৮১ পয়েন্ট। তবে লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই চাঙ্গা থাকে পুঁজিবাজার।

সূচক ও লেনদেন

সোমবার লেনদেনে শুরুর ৪ মিনিটে সূচকের উত্থান হয় ৩৩ পয়েন্ট। তারপর পাঁচ মিনিট চলে সূচকের উত্থান পতন। এ সময় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩০ পয়েন্টে।

১০ টা ৪২ মিনিটে এই সূচক পৌঁছে ৬ হাজার ৫৬ পয়েন্টে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ১১টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে সূচক ৫৮ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫১ পয়েন্টে। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের উত্থানেও কিছুটা ভাটার টানা লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে ৫৬৮ কোটি টাকা।

সোমবার লেনদেনে ব্যাংক খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে এই সময়ে দর বেড়েছে ১৮টির। কমেছে ৩টির। বাকি ১০টি কোম্পানির শেয়ার দর পাল্টায়নি।

সপ্তাহের শুরুতে বিমা খাতের শেয়ারের যে ঢালাও পতন হয়েছিল তা থেকে বেরিয়ে এখন পর্যন্ত দর বৃদ্ধির তালিকায় আছে এ খাত। লেনদেনে থাকা ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ৫টির। দর পাল্টায়নি তিনটির। বাকি ৪২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৮টির। কমেছে ২৭টির। বাকি ৩টির কোম্পানির শেয়ার দর পাল্টায়নি।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেনেও নেই পরিবর্তন
লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা

শেয়ার করুন

মন্তব্য