× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
লকডাউনে সাড়ে ৫ কোটি মানুষের জীবিকার শঙ্কা
google_news print-icon

লকডাউনে সাড়ে ৫ কোটি মানুষের জীবিকার শঙ্কা

লকডাউনে-সাড়ে-৫-কোটি-মানুষের-জীবিকার-শঙ্কা
লকডাউনে আবারও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সাড়ে ৫ কোটি শ্রমিকের জীবিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ফাইল ছবি
লকডাউনে বন্ধ থাকবে শপিং মল, মার্কেট, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদনকেন্দ্রসহ প্রায় সবকিছুই। এ সময় এসব খাতের মানুষ থাকবে কাজহীন।  এতে তাদের আয়-রোজগারের খাতাও থাকবে শূন্য।

সরকারঘোষিত লকডাউন বা শাটডাউনে আবারও কাজহীন হয়ে পড়ায় জীবিকার অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছেন দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আংশিক ও তার পর সর্বাত্মক শাটডাউন দেয়া হচ্ছে দেশে। এ সময়ে বন্ধ থাকবে শপিং মল, মার্কেট, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদনকেন্দ্রসহ প্রায় সবকিছুই।

স্বাভাবিক কারণেই এসব খাতের মানুষ থাকবেন কাজহীন। এতে তাদের আয়-রোজগারের খাতাও থাকবে শূন্য।

আবার শুধু খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু থাকলেও তাতেও থাকছে সময়ের সীমাবদ্ধতা। লোকজন ঘর থেকে বের হতে না পারলে কিংবা মানুষের আয়ের চাকা বন্ধ থাকলে এসব খাবারের দোকান চলবে কীভাবে, সেটা নিয়েও আছে সংশয়।

অন্যদিকে করোনার প্রকোপে দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম ও সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ফলে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় ও ব্যয় বৃদ্ধিজনিত বাড়তি খরচের চাপে এসব মানুষ জীবিকার প্রশ্নে চোখে শুধুই অনিশ্চয়তাই দেখছেন।

বাংলাদেশ দোকানমালিক সমিতির তথ্য বলছে, দেশে দোকান বা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫৪ লাখ (৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬টি)। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ২ কোটি ১৪ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী।

ঘোষিত শাটডাউনে এ পরিমাণ দোকান-কর্মচারী আয়হীন হয়ে পড়বেন। আবার খাত হিসাবে এক দিন বন্ধ থাকলে তাদের ক্ষতি গড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে হতাশা ব্যক্ত করে বাংলাদেশ দোকানমালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোথাও লকডাউন, কোথাও নেই। কখনো শিথিল, আবার কঠিন। কারা এর মধ্যে পড়বে এইগুলোর সংজ্ঞা আমরা এখন আর বুঝি না।

‘এখন আমাদের আর কিছু করার নাই। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত মেনেই চলতে হবে। যদিও তাতে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। মানুষ একসময় অসহিষ্ণু হয়ে পড়বে। এটাই সত্য।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি। দরকার সবাই মিলে এটা মোকাবিলা করার। কিন্তু কেউ মোকাবিলা করবেন, কেউ করবেন না, এটা হতে পারে না।’

তিনি বড় ও রপ্তানিমুখী শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সবচেয়ে ছোট ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দরিদ্র ব্যবসায়ীদের সব সময় সবকিছুতে কেন সবার আগে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। এটা কতটুকু যৌক্তিক আমি জানি না।’

হতাশ হেলাল উদ্দিন লকডাউন-শাটডাউনে বিরক্তি প্রকাশ করে খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য প্রণোদনা চাইবেন বলেও জানান।

তিনি দাবি করেন, এই প্রণোদনা চেয়েও কোনো লাভ হবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির তথ্য বলছে, পরিবহন খাতে কাজ করেন অন্তত ৪০ লাখ শ্রমিক। দেশে এক দিন পরিবহন বন্ধ থাকলে এই খাতের দৈনিক ক্ষতি হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৬৬ দিনে পরিবহন খাতের ক্ষতি হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এই শাটডাউন যতদিন চলবে খাতসংশ্লিষ্টরা অনুরূপ ক্ষতির মুখে পড়বেন।

বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব) বলছে, পর্যটন খাতে কাজ করেন ৪০ লাখ মানুষ। পর্যটক না থাকলে তাদের ব্যবসাও থাকে না। ফলে খাতসংশ্লিষ্ট মালিক-কর্মচারী ও গাইডরা এই সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর করোনায় পর্যটকশূন্যতায় তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টার, ডেকোরেটর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য খাতেও সরাসরি কাজ করেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। এর বাইরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ফটোগ্রাফি, সাজসজ্জা, লজিস্টিক সেবা, ফুল সরবরাহ, বোর্ড মিস্ত্রি, ডেকোরেশন ও ক্লিনিং কাজসহ বিভিন্ন কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

শাটডাউনে সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ফলে আয়হীন হয়ে পড়বেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার কনভেনশন হল ও ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এই সেবা প্রদানকারী শুধু তাদের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই চার হাজার। এক দিন বন্ধ থাকলে তাদের ক্ষতি হয় প্রায় শত কোটি টাকা।

এদিকে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৮ লাখ ১৩ হাজারের বেশি। এদের শতকরা ৯৯ ভাগের বেশি হচ্ছে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বা সিএমএসএমই খাতের। সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ২ কোটি মানুষের।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের আনা-নেয়া করবে। কিন্তু এই খাতের ৯০ ভাগ উদ্যোক্তারই নেই সে সক্ষমতা। আবার কেউ প্রতিষ্ঠান চালু রাখলেও তার পণ্যের সঠিক সরবরাহ ও মূল্য পাওয়ার অনিশ্চয়তা তো আছেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তি ৬ কোটি ৮ লাখ। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে (শ্রম আইনের সুবিধা পান এমন) কর্মরত জনশক্তি মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে বড় অংশ ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত।

এসব শ্রমিকের হিসাব করলে দেখা যায়, প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে দিনমজুরের মতো কাজ করেন। যাদের শ্রম আইন-২০০৬ প্রদত্ত নিয়োগপত্র, কর্মঘণ্টা, ঝুঁকিভাতা, চিকিৎসাভাতা, বাড়িভাড়াসহ বেশির ভাগ অধিকারই নিশ্চিত নয়।

তারা দৈনিক কাজের ভিত্তিতেই সাধারণত মজুরি পান। ফলে এই শাটডাউনে বন্ধ থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এসব কর্মজীবীকে মজুরি দেবে না বলেই আশঙ্কা শ্রমিক-কর্মচারীদের।

অর্থনীতিবিদ ও শ্রম খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা ও তৃতীয় দফার দেশব্যাপী এই শাটডাউনে কাজহীন থাকা এসব মানুষের জীবিকার বিষয়টি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের হার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার প্রকোপ ও দফায় দফায় লকডাউনের প্রভাবে মানুষের হাতে এখন সঞ্চয় কম। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ সঞ্চয়শূন্য।

‘তাই এই দফার লকডাউনে সরকারকে অনেক বেশিসংখ্যক মানুষকে সাহায্য করতে হবে। প্রায় ৫ কোটি দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব খাত বা যারা শাটডাউন পরিস্থিতিতে যাবে, তাদের জন্য সরকারকে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

‘বিশেষ করে দিন আনে দিন খায়সহ স্বল্প আয়ের মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জীবিকা সচল রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:
‘পেডের জ্বালাই মেঘের মধ্যেও রিকশা চালাই’
ঢাকা ছাড়তে তাদের ভরসা ট্রাক
চা-দোকানির ছেলে যখন প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The attack on BTVs head office the fire the fear of stopping broadcasting

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপুরায় বিটিভি প্রধান কার্যালয় প্রবেশ করে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিভি কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। পরে তারা ভেতরে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার চার ঘণ্টাতেও ফায়ার সার্ভিস বিটিভি ভবনে আসেনি। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

‘সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে শতাধিক লোক প্রধান ফটক ভেঙে বিটিভি কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় প্রধান ফটকের বাইরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বিটিভি কার্যালয়ে অবস্থানরত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিক্ষুব্ধদের তৎপরতার মুখে বিটিভি কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মালিবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা কিছুক্ষণ পরপর বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন।

পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিটিভি ভবনের সামনে এসে অভিযান শুরু করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিটিভি কার্যালয়ের ওপর দিয়ে টহল দেয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে র‌্যাবের একটি হেলিকপ্টারও টহল দেয় সেখানে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিটিভিতে ভয়াবহ আগুন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে।’

আন্দোলনকারীরা এর আগে দুপুরে রামপুরা ব্রিজের পাশে ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে একটি পুলিশ ফাঁড়ির ফটকে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Metro train closed from Mirpur 12 to Agargaon due to fire in police box

মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন

মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন মিরপুর-১০ নম্বরে জ্বলছে আগুন। এর উপরেই রয়েছে মেট্রো রেললাইন। ছবি: সংগৃহীত
মেট্রোরেলের পরিচালক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে গোলচত্বরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টায় মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ইউএনবি জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

মেট্রোরেলের পরিচালক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে গোলচত্বরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টায় মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এছাড়া পুরাতন মিরপুর-১০ নম্বরে ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্স ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
If Bangabandhu was alive he would have won the Nobel Peace Prize Afizur

ইসিটির সেমিনারে শান্তি, সম্প্রীতিতে জোর

ইসিটির সেমিনারে শান্তি, সম্প্রীতিতে জোর ঢাকার আসাদ গেটে অবস্থিত সিবিসিবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারটির শিরোনাম ছিল ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ: আস্থার নেতৃত্ব’। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু গবেষক আফিজুর রহমান বলেন, ‘একজন বঙ্গবন্ধু গবেষক হিসেবে আমি বলতে চাই, কোনো জায়গাতে কোনোখানে বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম ঘাটতি পাই না আমি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতেন।’ 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতেন বলে বুধবার মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. আফিজুর রহমান।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিষ্টান ট্রাস্ট (ইসিটি) এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঢাকার আসাদ গেটে অবস্থিত সিবিসিবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারটির শিরোনাম ছিল ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ: আস্থার নেতৃত্ব’।

এতে বঙ্গবন্ধু গবেষক আফিজুর রহমান বলেন, ‘একজন বঙ্গবন্ধু গবেষক হিসেবে আমি বলতে চাই, কোনো জায়গাতে কোনোখানে বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম ঘাটতি পাই না আমি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতেন।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মিল্টন বিশ্বাস।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সময় এ দেশের সব ধর্মের মানুষ সম্পূর্ণ সম্প্রীতির বন্ধনে তাদের স্ব-স্ব ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ এর ফাদার লুক কাকন কোড়াইয়া।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কীভাবে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির দিকে যেতে পারে সে লক্ষ্যেই তার সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও খ্রিষ্ট ধর্মতত্ত্বের গবেষক এস এম তানভীর আহমদ বলেন, ‘আমরা যদি বাংলার ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, গত ৫০০ বছরে এ অঞ্চলের ইতিহাস চর্চায় অন্যান্য ধর্ম যেভাবে চর্চিত হয়েছে, খ্র্রিষ্টান ধর্ম সেভাবে আলোচিত হয়নি।’

সেমিনারে বক্তারা শান্তি, সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ কীভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে তার নানা দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ফাদার তপন ডি রোজারিও, ইসিটির চেয়ারম্যান রেভারেন্ড ইমানুয়েল মল্লিক, ইসিটি ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রেজারার জন সুশান্ত বিশ্বাসসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান শেষে ইসিটির চেয়ারম্যান ইমানুয়েল মল্লিক স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রার্থনা করেন।

আরও পড়ুন:
‘বঙ্গবন্ধু সারা জীবন শান্তির পক্ষে কথা বলেছেন’
‘নিজস্ব আয়েই প্রতিস্থাপন খরচ মেটাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’
রবীন্দ্রনাথে প্রভাবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন: ঢাবি উপাচার্য
মে দিবসের মাধ্যমে শ্রমিকদের মানুষ বলে গণ্য করার নিয়ম পেয়েছি
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The prime minister has assigned two ministers to negotiate with the quota protesters
সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ফাইল ছবি
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তাদের সাথে বসব এবং আমরা এটাও বলতে চাই যে, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয়, আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।’

দেশজুড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেল গেটে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের (কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী) সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

‘আমরা তাদের সাথে বসব এবং আমরা এটাও বলতে চাই যে, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয়, আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘোষণা দিতে বলেছেন যে, আগামী ৭ অগাস্ট, ২০২৪ সালে যে মামলাটা শুনানির কথা ছিল, সে মামলাটার শুনানি এগিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে।

‘আমি সেই মর্মে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আগামী রবিবার তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন, যাতে মামলাটার শুনানির তারিখ তারা এগিয়ে আনেন।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তৃতীয়ত হচ্ছে যে, আপনারা জানেন যে গতকালকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন।

‘সেই প্রেক্ষিতে আমরা একজন বিজ্ঞ বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জনাব খন্দকার দিলীরুজ্জামানকে এই কমিটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার জন্য কমিটি তৈরি করেছি।’

আরও পড়ুন:
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ
শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি
ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The body of the young man was lying in the drain

সেচের ড্রেন থেকে মরদেহ উদ্ধার

সেচের ড্রেন থেকে মরদেহ উদ্ধার প্রতীকী ছবি
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে সবুজ হোসেন (৪৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের ঝিকরা ইটভাটার পাশে পানি সেচের ড্রেন থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে সজিব হোসন (৩০) নামের আরও একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রাণ হারানো সবুজ হোসেন বর্ষাইল ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের প্রয়াত সাইদুল হোসেনের ছেলে।

আহত সজিব হোসেন একই গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে ও সবুজের চাচাতো ভাই।

স্থানীয় ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, সবুজ হোসেন তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে তার ছোট বোনের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য বাড়িতে আসেন। অস্ত্রোপচার শেষে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার গাড়িতে নওগাঁ থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে রাখেন তিনি। রাত সাড়ে ৯টায় তার চাচা সাখাওয়াত মোটরসাইকেলে করে হাঁপানিয়া পর্যন্ত তাদের দুই ভাইকে নামিয়ে দিয়ে যান।

পরে সজিবের বাবা রাত সাড়ে ১২টায় তার মোবাইল ফোনে কল দিলে সজিব জানান, তারা সমস্যায় পড়েছেন। তার কিছু পর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভোররাতে একজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
‘ভাই যে নদীতে নেমেছিল, এ কথা কেউ জানায়নি’
পুকুরে ডুবে যমজ শিশুর মৃত্যু
ভবিষ্যতে চাল রপ্তানি করব: খাদ্যমন্ত্রী 
শিল্পীর কণ্ঠ অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী: খাদ্যমন্ত্রী
সাভারে কলেজের কক্ষ থেকে অধ্যক্ষের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shabi students protest by blocking Sylhet Sunamganj road

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে এ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছেন। এতে সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল কম। দূরপাল্লার বাস প্রায় বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে জরুরি প্রয়োজনেও কেউ যাতায়াত করতে পারছেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরাও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন।

শাবির বিভিন্ন হলের সামনেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

বেলা ১১টার দিকে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ফটকে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও কিছু ধস্তাধস্তি হয়। পরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। অবস্থানকালে শাবি ফটকের সামনে এক প্লাটুন বিজিবি এলে তাদের গাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। পরে বিজিবি কিছুটা দূরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এ আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

যান চলাচল কম

এদিকে কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল একেবারেই কম।

যদিও পুলিশ বলছে, সিলেটে যান ও মানুষ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান, অনেক চালক ভয়ে বাস বা অন্য গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হননি, তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু বাস চলাচল করছে।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চালকদের চালকদের গাড়ি না চালাতে কোনো নির্দেশনা দিইনি, তবে ভয়ে অনেক চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হননি।

‘তাই সিলেটে গণপরিবহন চলাচল কিছুটা কম, তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু যানবাহন চলাচল করছে।’

সড়কে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানান ময়নুল।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (গণমাধ্যম) বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে শাবিসহ সিলেটের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে রয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক
কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ
শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Protesters block the Dhaka Chittagong highway in Ghazaria

গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের

গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থীদের অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলেও মহাসড়কের আশেপাশে বিভিন্ন দোকান ও সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

তাদের অবরোধের মুখে কিছুক্ষণ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলেও মহাসড়কের আশেপাশে বিভিন্ন দোকান ও সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

গজারিয়া উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজের ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়, গজারিয়া সরকারি কলেজ, গজারিয়া কলিম উল্লাহ কলেজ, জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী‌রা জানান, যতদিন না পর্যন্ত কোটা প‌দ্ধতি সংস্কার করা হবে, ততদিন পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ওই সময় তারা শিক্ষার্থী হত্যা ও তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবি করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রাজিব খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল বের করেছিল। আমরা তাদের মহাসড়ক থেকে নামিয়ে দিয়েছি।

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক। গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার

মন্তব্য

p
উপরে