খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ আরও দুই মাস

খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ আরও দুই মাস

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিধিনিষেধের কারণে ঋণ পরিশোধে নতুন সুবিধা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঋণগ্রহীতাদের সুরক্ষা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিলে ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। তখন ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করেও খেলাপির তালিকা থেকে মুক্ত থাকা গেছে। পরে সেই সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন করা হয়।

করোনা ভাইরাসের বিস্তারে চলাচলে নতুন করে বিধিনিষেধ দেয়ার পর উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে নতুন সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপির তালিকায় নাম না উঠার যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সুবিধা দেয়।

রোববার সরকার নতুন করে চলাচলে বিধিনিষেধ দেয়ার দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলারে জানিয়েছে, জুনের মধ্যে যে টাকা দেয়ার কথা ছিল, তার ২০ শতাংশ পরিশোধ করলেই ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সেই ঋণ আর খেলাপি হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কিন্তু কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের গতি স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঋণগ্রহীতাদের সুরক্ষা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিলে ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়।

সরকারের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণ শোধ না করলেও ঋণের শ্রেণিমানে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। এরপর এ ছাড়ের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে তৃতীয় দফায় এ সুযোগ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়

আগের সার্কুলারে যা ছিল

ডিসেম্বরের পরের সার্কুলারে বলা হয়, যেসব চলমান ঋণ বা বিনিয়োগের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং প্রচলিত নীতিমালার আওতায় ব্যাংক কর্তৃক নবায়ন করা হয়নি সেসব ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে গত বছর ১ জানুয়ারি হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরোপিত সুদ (অনাদায়ী থাকলে) চলতি মার্চ থেকে আগামী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ৬টি সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

২০২০ সালের অনাদায়ী সুদ এ নিয়মে শোধ হওয়ার পাশাপাশি ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত আরোপিত সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে শোধ হলে এসব ঋণ ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

তলবি ঋণের ক্ষেত্রে চলতি মার্চ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৮টি সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে শোধ করা যাবে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধ করে এসব ঋণ শ্রেণিকরণ করা যাবে না।

তবে উল্লিখিত নিয়মে কোনো ত্রৈমাসিকে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে এ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। তখন যথানিয়মে ঋণ বা বিনিয়োগ শ্রেণিকরণ করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য