লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেনেও নেই পরিবর্তন

লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেনেও নেই পরিবর্তন

শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত রাখার পক্ষে নয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক যেভাবে চলবে পুঁজিবাজারেও সে অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা হবে। লকডাউনে বুধবার পর্যন্ত ব্যাংক আগের নিয়মেই চলবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারির পর সে অনুযায়ী আমরা পুঁজিবাজারের লেনদেনের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করব।’

সোম থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাতে পুঁজিবাজারের লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়ছে না।

আগের মতোই সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত একটানা চলবে লেনদেন।

রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লকডাউন নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকের লেনদেনের সময় পাল্টাচ্ছে না। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত যেভাবে লেনদেন চলছে, সেভাবেই চলবে।

এরপর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের লেনদেনের সময় না পাল্টানোয় পুঁজিবাজারেও পাল্টাবে না।

ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের প্রবেশেও কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।

২০২০ সালে দেশে করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে বন্ধ হয়ে যায় পুঁজিবাজার। আর বন্ধ থাকাকালে বিএসইসির নেতৃত্বে আসে পরিবর্তন।

শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন করোনায় পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত রাখার পক্ষে না। গত ৫ এপ্রিল লকডাউন দেয়ার আগেই জানানো হয়েছিল, ব্যাংক খোলা থাকলে লেনদেন চলবে পুঁজিবাজারেও।

ওই লকডাউনের আগে ব্যাংক খোলা থাকবে কি না, এ নিয়ে যখন বিভ্রান্তি, তখন ৪ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হারায় ১৮১ পয়েন্ট। তবে লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই চাঙ্গা থাকে পুঁজিবাজার।

রোববার নতুন করে লকডাউনের প্রজ্ঞাপন আসার আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সূচকে যোগ হয় ১ হাজার ৪ পয়েন্ট।

এবার সরকার কঠোর লকডাউনের কথা জানালে সেটি পরিচিতি পায় শাটডাউন হিসেবে। প্রথমে জানানো হয়, এটি শুরু হবে সোমবার থেকে। পরে শনিবার রাতে জানানো হয়, শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে।

গতবারের অভিজ্ঞতার পরেও পুঁজিবাজারে দেখা দেয় আতঙ্ক। লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এই ভয়ে বিনিয়োগকারীদের একাংশ কম দামে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার পর সূচক পড়ে ১০০ পয়েন্ট।

বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তিন দিনের বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন আসার কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায় তার সিদ্ধান্ত। তারা জানায়, ব্যাংকে লেনদেনের সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। জুন ক্লোজিং এর পর আগামী রোববার থেকে নতুন সিদ্ধান্ত আসলে আসতে পারে।

এরপর বিএসইসি সিদ্ধান্ত জানায় পুঁজিবাজার নিয়ে।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক যেভাবে চলবে পুঁজিবাজারেও সে অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা হবে। লকডাউনে বুধবার পর্যন্ত ব্যাংক আগের নিয়মেই চলবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারির পর সে অনুযায়ী আমরা পুঁজিবাজারের লেনদেনের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করব।’

গত ৫ এপ্রিল যখন করোনো পরিস্থিতিতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে তখন বলা হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের ব্রোকার হাউজে না গিয়ে ডিজিটাল ডিভাইসে লেনদেন করার।

লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেনেও নেই পরিবর্তন
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি

এবার এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, এমন প্রশ্নে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের কোনো বিশেষ নির্দেশনা নেই। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্রোকার হাউজে যাওয়া আসা করতে পারে।’

এবার লকডাউন দিয়ে সরকার রিকশা চলাচলে বিধিনিষেধ না থাকার কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।

তবে বিএসইসি মুখপাত্র অনলাইনে শেয়ার কেনাবেচার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তারা তো চাইলে মোবাইলে শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করতে পারে।’

গত এপ্রিলে প্রথম লকডাউন দেয়া হলে ৫ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত আধা ঘণ্টা প্রয়োজন হওয়ায় লেনদেন সময়সীমা নির্ধারন করা হয়ে বেলা ১২ টা পর্যন্ত।

এরপর তিন দফা সময় বাড়য়ে গত ৩০ মে থেকে পুরো সময় সকাল ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে পুঁজিবাজারে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য