সোম থেকে বুধ ব্যাংকে লেনদেন আগের মতোই

সোম থেকে বুধ ব্যাংকে লেনদেন আগের মতোই

গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ ব্যাংকে দুই ঘণ্টা লেনদেন চললেও এখন চলছে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের একটি প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আবার যেহেতু ব্যাংকগুলোর জুন ক্লোজিং, তাই জুনের শেষ পর্যন্ত পূর্বের নিয়মেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা চলবে। এ তিনদিনের জন্য আর নতুন কোনো নির্দেশনা জারি করা হবে না। জুলাইয়ে ১ তারিখে নতুন করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিনের লকডাউনে ব্যাংকে লেনদেনের সময়সীমা পাল্টায়নি। আগের মতোই সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত লেনদেন চলবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই তিন দিন লকডাউন ঘোষণা করে রিকশা ছাড়া আর কোনো বাহন চলবে না বলে জানানোর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে সোমবার ভোর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত। একে বলা হচ্ছে লকডাউন।

এরপর বৃহস্পতিবার থেকে দেয়া হবে কঠোর লকডাউন, যেটি এবার পরিচিতি পেয়েছে শাটডাউন হিসেবে। সরকার এবার সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে রাখতে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে যে, সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হচ্ছে।

এই অবস্থায় ব্যাংক চালু থাকবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল যে, ব্যাংক বন্ধ হবে না।

কারণ, লকডাউন বা শাটডাউন যাই থাকুক না কেন, জরুরি সেবা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। আর ব্যাংককে জরুরি সেবা হিসেবেই ধরা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন বা শাটডাউন ঘোষণার কথা জানানো হয়েছিল। তবে বাজেট পাসের জন্য পরে তা ১ জুলাই থেকে করা হয়েছে। তার আগের দুই দিন বাজেট সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো খোলা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের একটি প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আবার যেহেতু ব্যাংকগুলোর জুন ক্লোজিং, তাই জুনের শেষ পর্যন্ত পূর্বের নিয়মেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা চলবে। এ তিনদিনের জন্য আর নতুন কোনো নির্দেশনা জারি করা হবে না। জুলাইয়ে ১ তারিখে নতুন করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

সোম থেকে বুধ ব্যাংকে লেনদেন আগের মতোই
সরকার সারাদেশে বিধিনিষেধ দিলেও ব্যাংকে লেনদেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক

গত ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরু হলে ব্যাংক খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। পরে ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত করা হয়।

এই নিয়মেই সোম থেকে বুধবার লেনদেন চলবে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে ৫ টা পর্যন্ত।’

এপ্রিল থেকে ব্যাংক চলেছে যেভাবে

৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ ব্যাংকে লেনদেন আড়াই ঘণ্টা চললেও ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসার পর প্রথমে জানানো হয়, ব্যাংক বন্ধ থাকবে। কিন্তু উল্টো পরে সময় বাড়িয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন চলতে থাকে।

বিধিনিষেধ চতুর্থ দফা বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করার প্রজ্ঞাপন আসার পর ৫ মে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় লেনদেন চলবে ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত।

২৪ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরেক দফা বাড়ালে ব্যাংকে লেনদেন আধাঘণ্টা বাড়িয়ে ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত করা হয়।

পরে ৩১ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন আবার আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে চলে ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত করা হয়।

১৭ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত আবার বিধিনিষেধ দিলে ব্যাংক চলে ১০ টা থেকে সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত। এরপর আর বিষয়টি পাল্টানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে পেছাবে না এনবিএলের লভ্যাংশের সভা
এনআরবিসির এজিএমে সাধারণ বিনিয়োগকারী সাকিব
শাটডাউনেও ব্যাংক খোলা রাখার ইঙ্গিত
অবশেষে লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ এনবিএলের
রূপালী ব্যাংকের আবার বোনাস শেয়ার ঘোষণা

শেয়ার করুন

মন্তব্য