লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক

লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক

গত ৫ এপ্রিল প্রথমবারের মতো লকডাউন শুরু হওয়ার ঘোষণায় ৪ এপ্রিল পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক পড়ে ১৮১ পয়েন্ট। তবে লকডাউনের প্রথম দুই দিনে বাড়ে ১৯৬ পয়েন্ট। আর পৌনে তিন মাসে বাড়ে ১ হাজার ৪ পয়েন্ট। এই সময়ে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। অথচ এবার শাটডাউনের ঘোষণার পরও সেই লকডাউনের মতো আতঙ্কে বড় পতন হলো।

ঠিক ৪ এপ্রিলের মতো ঘটনা। পরের দিন থেকে লকডাউন, এই আতঙ্কে পুঁজিবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নাই ১৮১ পয়েন্ট।

একই চিত্র সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার। শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর লকডাউন শুরুর কথা ছিল সোমবার থেকে। পরে তা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। আর এই ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকে হলো বড় পতন। আতঙ্কে কম দামে শেয়ার বিক্রি করেছেন বিনিয়োগকারীরা। আর দিন শেষে নাই ১০০ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে বেড়েছে ৫৪টির, কমেছে ৩০৬টির দাম। আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দর।

সূচক নামল গত ৭ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। সেদিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৯৭৫ পয়েন্টে।

প্রায় তিন মাস আগে যখন প্রথম বিধিনিষেধ বা লকডাউন শুরু হয়, তার আগে আগে এভাবে আতঙ্কে পতন হলেও পরে বিনিয়োগকারীরা দেখেছেন সুদিন।

বিধিনিষেধের পৌনে তিন মাসে আকর্ষণীয় মুনাফা পেয়েছেন তারা। প্রথমে বিমা, পরে ব্যাংক ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এরপর বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে উত্থান দেখেছেন তারা। বেশিরভাগ কোম্পানির দামই বেড়েছে এই সময়ে।

এই অভিজ্ঞতার পরেও আগামী ১ জুলাই থেকে শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর লকডাউন শুরু হতে যাওয়ার আগে আগে সেই এপ্রিলের শুরুর মতোই আতঙ্ক পুঁজিবাজারে। কোনো খাত নিয়ে নেতিবাচক তথ্য না থাকার পরেও পুঁজিবাজারে ঢালাও মূল্য পতন হয়েছে প্রায় সব খাতেই। এর পেছনে শাটডাউন আতঙ্ক কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সে সময়ও লকডাউন হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। তেমনি আশ্বাসও ছিল। এবারও তাই। বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে শঙ্কা, লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, তেমনি ব্যাংক ও পুঁজিবাজার চালু থাকার আশ্বাসও আছে।

এক দিনে বড় পতনে মূল্য সূচক প্রায় এক মাস আগের অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে লেনদেন আগের কর্মদিবসের মতোই আছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শাটডাউনে পুঁজিবাজার পড়ে যাবে, এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকে শেয়ার বিক্রি করেছেন।

তবে আবার একে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন বহুজন। বিও হিসাবে নগদ টাকা ছিল যাদের, তারা শেয়ার কিনেছেন। আর এ কারণেই আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

গত ৫ এপ্রিল প্রথমবারের মতো লকডাউন শুরু হওয়ার ঘোষণায় ৪ এপ্রিল পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক পড়ে ১৮১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে নাই হয়ে যায় হারায় ৫৪২ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

সেদিন এত দরপতনের কারণ ছিল, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা জন্মেছিল যে লকডাউনে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকবে। তবে সেদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংক চালু থাকবে আর এরপর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, লেনদেন চলবে পুঁজিবাজারেও।

পর দিনই বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। লকডাউন শুরুর দিন সূচক বাড়ে ৮৯ পয়েন্ট, তার পর কর্মদিবসে বাড়ে আরও ১০৭ পয়েন্ট।

রোববারের আগে শেষ কার্যদিবস ২৪ জুন পর্যন্ত সূচকে যোগ হয় এক হাজার ৪ পয়েন্ট।

এই অভিজ্ঞতার পরেও এবারও কঠোর বিধিনিষেধের আতঙ্কে সেই ৪ এপ্রিলের মতোই লেনদেনের শুরুতেই শেয়ার দর পড়ে যায়। মাঝেমধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও কখনও আগের দিনের সূচক ৬ হাজার ৯২ পয়েন্টের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। আর শেষ এক ঘণ্টায় বাজার কেবল পড়েছেই।

অথচ লকডাউনের আগের মতোই জানা যাচ্ছে শাটডাউনেও ব্যাংক খোলা থাকবে সীমিত সময়ের জন্য। আর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তার আগের নীতিতেই আছে। অর্থাৎ ব্যাংক খোলা থাকলে লেনদেন চলবে পুঁজিবাজারেও।

ব্যাংক-বিমায় ধস

গত এক বছরে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিমা খাত কয়েক দিন ধরেই সংশোধনে ছিল। এর মধ্যে যোগ হলো শাটডাউন আতঙ্ক। দুয়ে মিলে আরও একটি ধস দেখা গেল এই খাতে। সবচেয়ে বেশি দর হারানোর তালিকায় এই খাতের প্রাধান্যই ছিল সবচেয়ে বেশি।

সব মিলিয়ে ৫০টি কোম্পানির মধ্যে ৪৪টির দামই কমেছে। বেড়েছে কেবল ৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল একটির দর।

সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির ৬টি আর ২০টির মধ্যে ১৩টি ছিল বিমা খাতের।

লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি কমেছে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের দর। কোম্পানিটি ১২.০৭ শতাংশ দাম হারিয়েছে। এক দিনে ১০ শতাংশের বেশি দর না কমার সুযোগ না থাকলেও কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত সমন্বয়ের কারণে এই পরিমাণ কমতে পেরেছে।

এ ছাড়া শেয়ার প্রতি ২ টাকা করে নগদ ও সঙ্গে পাঁচ বছর পর প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাস দেয়ার ঘোষণা দেয়া পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৯.৬ শতাংশ।

সোনার বাংলা ৯.৩২, অগ্রণী ৮.৮, প্রগতি ৮.৫, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৮.২ শতাংশ।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি দর কমার তালিকায় না থাকলেও ব্যাংক খাতেও দেখা গেছে করুণ চিত্র। এই খাতে দাম বেড়েছে কেবল ৩টির, কমেছে ২৫টির। আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৩টির।

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে গত তিন মাসে সবচেয়ে বেশি বাড়া এনআরবিসি। আগের দিনের চেয়ে ৬.১৯ শতাংশ দর কমেছে ব্যাংকটির।

এ ছাড়া মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৪.১৬ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ৪.০২ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ৩.০৪ শতাংশ, ইউসিবির ২.৯৭ শতাংশ দাম কমেছে। বাকিগুলোর দাম কমার হার খুব একটি বেশি নয়।

পতনের দিন ব্যাংক খাতে ডাচবাংলা ব্যাংকের ২ টাকা ৬০ পয়সা এবং আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের দাম বেড়েছে ১০ পয়সা।

ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছে ১৪৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

ধস বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, ওষুধ খাতেও

অর্থবছর শেষ হতে চলা এই তিন খাতের মধ্যে বিদ্যুৎ এবং ওষুধ খাতে কেবল একটি করে আর প্রকৌশল খাতে কেবল ৩টি শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিবিধ খাতেও বেড়েছে কেবল একটির দর।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে ২১টির, ওষুধ খাতে ২৯টি আর প্রকৌশল খাতে ৩৯টি আর বিবিধ খাতে কমেছে ১৩টির দর। ফলে সহজেই অনুমেয় যে, এসব খাতের শেয়ারধারীরাও ব্যাপকভাবে হতাশ।

দাম কমার ক্ষেত্রে যেসব কোম্পানি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ভালো মুনাফা করেছে আর যেসব কোম্পানি ভালো করতে পারেনি, তার মধ্যে কোনো পার্থক্যই দেখা যায়নি।

প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১২১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতে হাতবদল হয়েছে ১০৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।

প্রায় শতভাগ পতন মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

অর্থবছর শেষ হতে যাওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে একটির লেনদেন হয়নি। বাকি ৩৬টির সবগুলো দর হারিয়েছে।

এই ফান্ডগুলোর ৩০টির অর্থবছর শেষ হতে চলেছে আগামী ৩০ জুন। আর এর মধ্যে সিংহভাগ ফান্ডই চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাপক মুনাফা করার তথ্য প্রকাশ করেছে। আর ১ এপ্রিল থেকে শুরু চতুর্থ প্রান্তিকে এখন পর্যন্ত ৭৫০ পয়েন্টের মতো সূচক বৃদ্ধির সুফলও তারা পাবে।

এই অবস্থায় গত কয়েক দিনে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এক দিনে লেনদেন হওয়া সব কটি ফান্ডের দর বৃদ্ধির চিত্রও দেখা গেছে পুঁজিবাজারে। অথচ উল্টোচিত্র দেখা গেল আতঙ্কের দিন।

লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি কমেছে ফিনিক্স ফিনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর। আগের দিনের তুলনায় ৭.২৭ শতাংশ কমেছে এর ইউনিট দর।

এসইএমএল আইবিবি শরিয়া ফান্ড ৪.৬৯ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ৪.৬৩ শতাংশ, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৪.৬১ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ৪.৪ শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইক্যুয়েটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ৪.৩৯ শতাংশ, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৪.৩৫ শতাংশ দর হারিয়েছে।

পতনের দিন উজ্জ্বল কেবল বস্ত্রখাত

যে ৫৪টি কোম্পানির দর বেড়েছে তার মধ্যে এই একটি খাতেরই ২৩টির দর বৃদ্ধিই বলে দেয়, এই খাতের শেয়ারধারীদের মধ্যে হতাশার বোধ কম। আর সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই খাতেরই প্রাধান্য দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৬টি আর ২০টির মধ্যে ১৫টি ছিল বস্ত্র খাতের। ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরা মুন্নু ফেব্রিক্স তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দাম আবারও বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

দিনের দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়েছে মতিন স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, আরগন ডেনিম, জাহিন স্পিনিং, হাওয়েল টেক্সটাইলের দরও।

দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি বেড়েছে ঢাকা ডায়িং, কুইনসাউথ, জাহিন টেক্সটাইল, শাসা ডেনিমের দরও।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে গত এক মাসে ব্যাপকভাবে দাম বৃদ্ধি পাওয়া সাফকো স্পিনিং দর হারিয়েছে সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির একটি ছিল এই কোম্পানিটি। এর বাইরে এমএল ডায়িং, পিটিএল, দুলামিয়া কটন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজও দর হারিয়েছে তিন থেকে চার শতাংশের মাঝামাঝি।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে ৪৬১ কোটি ৩ লাখ টাকার। যা আগের দিন ছিল ৪৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০০ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক ১৪ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে।

লকডাউনে লাভবান, তবু শাটডাউন নিয়ে আতঙ্ক
রোববার পুঁজিবাজারে লেনদেনের চিত্র

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৩০ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৭৪০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল এক হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ২৯৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ২১০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও, ফার্মগেট দিয়ে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কার্জন হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে মেট্রোরেল। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে মুগ্ধ বিশ্বব্যাংক। আর সেই মুগ্ধতা থেকে সোমবার একটি প্রচ্ছদ গল্প প্রকাশ করেছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল এই সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

‘একটি লক্ষ্যে রাষ্ট্র: বাংলাদেশের উন্নয়নের ঐতিহাসিক যাত্রা’ শিরোনামের এই গল্পের শুরুটা সাদিয়া আফরিন নামের এক ছাত্রীর স্বপ্ন দিয়ে।

সাদিয়ার স্বপ্ন পেশাদার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবেন। লক্ষ্যে পৌঁছাতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, কার্টুন ও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন। অথচ সাদিয়াদের আগের প্রজন্মের কাছে এমন ভাবনা ছিল কল্পনাতীত।

সাদিয়ার বাবা সৌদি প্রবাসী, মা গৃহিনী।

সাদিয়া বলেন, ‘প্রথম কম্পিউটার দেখার পর ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তা চালানো শিখি।’

সেখানেই সাদিয়া প্রথম শেখেন কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্টুন তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একদিন জাপান যাব, অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করব।’

সাদিয়ার মতো দেশের নিম্ন আয়ের ৪০ হাজার ছাত্রী বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইএফ) এর আওতায় ৪৫টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠছেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

সাদিয়ার কথা শেষ না হতেই গল্পে বাংলাদেশের জন্মের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, তখন এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশ। পরবর্তী ৫০ বছরে রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নের অনেক গল্প যুক্ত হয়েছে দেশটির ইতিহাসে।

সেই থেকে রেকর্ড গতিতে দেশের দারিদ্র্য কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। প্রাথমিক শিক্ষা এখন সবার নাগালে। লাখো নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়ে দারুন অগ্রগতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটি এখন অনেক দক্ষ।

বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক কিছু। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে দেশটি। শিল্প ও সেবা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, অবকাঠামোসহ অন্য খাতেও বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন অনেকটাই প্রস্তুত বাংলাদেশ।

এর ফলে দেশের অর্থনীতি মজবুত একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের এই প্রচ্ছদ গল্পে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে (উন্নত দেশ) পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তার জন্য এখন আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা সেই স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করব।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার কথা স্বীকার করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক অবশ্যই আমাদের এই উন্নয়ন যাত্রায় একটি ভালো অংশীদার।’

গল্পে বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিশ্বব্যাংকের পাশে থাকার কথা বার বার উল্লেখ করা হয়। কোন খাতে কতো ঋণ-সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি সে বিষয়েও বিশদ আলোকপাত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ-সহায়তা দিয়ে আসছে ১৯৭২ সাল থেকে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান মার্শি টেম্বন বলেছেন, ‘যখন আমরা বাংলাদেশে কাজ শুরু করি তখন আইডিএ একটি তরুণ প্রতিষ্ঠান ছিল। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। এই সম্পর্ককে অনেক দূর নিয়ে গেছি; বাংলাদেশ সফল হয়েছে।’

‘সেই অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য অনেক দেশে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করেছে।’

গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চমৎকার সব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার হয়েছে গল্পে।

বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করে এমন কাহিনী বা গল্প এবারই প্রথম প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণ আদায়ে সহজ হলো বন্ধকি সম্পদ বিক্রি

খেলাপি ঋণ আদায়ে সহজ হলো বন্ধকি সম্পদ বিক্রি

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা

বন্ধকি সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হবে। আর সম্পদমূল্য কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

খেলাপি ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ মালিকানায় আনার পর সেই সম্পদ ব্যাংকগুলো কীভাবে ব্যবহার করবে- সে বিষয়ে একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদে মালিকানা প্রতিষ্ঠার পর তা দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

বন্ধকি সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হবে। আর সম্পদমূল্য কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

সোমবার এই নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অ-ব্যাংকিং সম্পদ (নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট বা এনবিএ) সংক্রান্ত নীতিমালা’ শীর্ষক সার্কুলারটি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়, ব্যাংকের কোনো দাবি বা প্রাপ্য পরিশোধের সূত্রে অর্জিত সম্পদকে ব্যাংকের ব্যালেন্সশিটে অ-ব্যাংকিং সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়। সাধারণত ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ অনাদায়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে নেওয়া জামানত বা বন্ধকি সম্পদের মালিকানা লাভ করলে এ ধরনের সম্পদ সৃষ্টি হয়।

‘ঋণের বিপরীতে এই বন্ধকি সম্পদের মালিকানা ব্যাংকের অনুকূলে পাওয়ার পর দ্রুত তা ব্যাংকের নামে রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশন করে দখলি স্বত্ব নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ঋণ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই এ ধরনের সম্পদ বেশি দিন নিজ অধিকারে রাখা যাবে না। সম্পদ অর্জনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করতে হবে।’

ঋণগ্রহীতার ঋণ সমন্বয়পূর্বক প্রাপ্ত সম্পদ ব্যাংকের হিসাবে `নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ হিসেবে অন্তভুর্ক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে নিচের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে হবে-

সম্পদের মূল্যায়ন

`নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ ব্যাংকের হিসাবে অন্তর্ভুক্তিকালে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কমপক্ষে তিনজন কর্মকর্তা/নির্বাহীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

মূল্যায়ন কমিটি সম্পদের যে মূল্য নির্ধারণ করবে, তার সঙ্গে সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্য হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এর যৌক্তিকতা থাকতে হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তা/নির্বাহীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দিয়ে সম্পদ মূল্যায়নের পাশাপাশি ভ্যালুয়ার ফার্ম বা পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করতে হবে।

পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান এবং কমিটির মূল্যের মধ্যে যেটি কম সেটিকে সম্পদের বাজার মূল্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সম্পদের বাজার মূল্য ঠিক হওয়ার পর তা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী অনুমোদন করবেন।

সম্পদের বাজার মূল্য নির্ধারণের সময় টিন/সেমি পাকা দালান, ব্যবহার অযোগ্য স্থাপনা ও মেশিনারি যতদূর সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিক্রি করে ঋণের বিপরীতে জমা করতে হবে।

কোনোভাবেই এ সম্পদকে `নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ হিসেবে অন্তভুর্ক্ত করা যাবে না। তবে যে জমির উপর টিন/সেমি পাকা দালান, ব্যবহার/বিক্রয় অযোগ্য স্থাপনা ও মেশিনারি থাকবে সে জমির বাজার মূল্য থেকে সেই স্থাপনা বা যন্ত্রপাতি অপসারণ করার ব্যয় বাদ দিতে হবে।

ঋণ সমন্বয়ের মাধ্যমে হিসাবে অন্তভুর্ক্ত করতে হবে

‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ এর দ্বারা ঋণগ্রহীতার ঋণ সমন্বয়ের পূর্বে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ব্যাংকের মোট পাওনা হিসাব করে ঋণের স্থিতি নিরূপণ করতে হবে। অনারোপিত সুদকে অবশ্যই ‘ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে’ স্থানান্তর করতে হবে।

সম্পদের বাজার মূল্য ঋণের মোট স্থিতির সমান বা বেশি হলে ঋণ স্থিতির সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা সংশ্লিষ্ট ‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’কে (খাত-ভিত্তিক) ডেবিট করে ঋণের স্থিতি সমন্বয় করতে হবে।

বন্ধকি সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হবে। আর সম্পদমূল্য কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

অবলোপনকৃত ঋণ

অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে প্রাপ্ত ‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ দ্বারা অবলোপন করা ঋণগ্রহীতার ঋণ সমন্বয়ের আগে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অনারোপিত সুদসহ সব পাওনা অন্তভুর্ক্ত করে (আদালতে ভিন্নরূপ নির্দেশনা না থাকলে) ব্যাংকের মোট পাওনা নিরূপণ করতে হবে।

সম্পদের মূল্য অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে মোট পাওনার সমান বা বেশি হলে ব্যাংকের মোট পাওনার সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা সংশ্লিষ্ট ‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ কে (খাত-ভিত্তিক) ডেবিট করে সমপরিমাণ অর্থ এনবিএ এর বিপরীতে প্রভিশন হিসেবে ক্রেডিট করতে হবে।

এক্ষেত্রে ঋণ স্থিতির সম্পূর্ণ অংশ সমন্বিত হওয়ায় ঋণগ্রহীতাকে ঋণের দায় হতে অব্যাহতি দিতে হবে এবং সিআইবিতে উক্ত ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে না।

আর সম্পদের মূল্য অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে মোট পাওনার তুলনায় কম হলে কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

৪৮ ঘণ্টায় রেফার কন্টেইনারের পণ্য খালাসের নির্দেশ

৪৮ ঘণ্টায়  রেফার কন্টেইনারের পণ্য খালাসের নির্দেশ

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কন্টেইনার সংকটে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়ার্ডে থাকা রেফার কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নামিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কন্টেইনার বেসরকারি ডিপােতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সোমবার এক চিঠিতে সব আমদানিকারককে এ নির্দেশনা দেয়।

রেফার কন্টেইনার সংকটের কারণে দেশ থেকে মাছ-মাংস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত রেফার কন্টেইনার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। পরিস্থিতি উত্তরণে বাণিজ্য ও নৌ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দরকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘নৌ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার সংকটে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতি উত্তরণে চিঠি দিয়েছে। এরপরই আমরা ইয়ার্ডে থাকা রেফার কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে সুফল মিলবে।’

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিদ্দিক ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়েছি। তবে সবক্ষেত্রে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রেফার কন্টেইনার থেকে পণ্য খালি করা সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত খালাসের।’

বন্দর সূত্র জানায়, রেফার কন্টেইনারে সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ফলমূল আমদানি হয়। জাহাজে সেই কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট ইয়ার্ডে রাখার সময় থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হয়। আমদানিকারক তার সুবিধামতো কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় নেয়ায় ইয়ার্ডে জট লেগে যায়।

বেসরকারি ডিপােতে খালি রেফার কন্টেইনারে মাছ, ফলমুল, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য ভর্তি করে বন্দরে নিয়ে জাহাজীকরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২-এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

১৮৩ কোটি টাকা ঋণখেলাপি মামলায় মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্স (এমইবি) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল আলমসহ ৫ পরিচালককে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২-এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার করা মামলায় এ আদেশ দেয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলা করে ব্যাংকটি।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে এমইবি গ্রুপের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের আবেদন করে।
এমইবির এখন এক ডজন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে। প্রায় সব ঋণ এখন খেলাপি।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পণ্যবাহী পরিবহনের শ্রমিকরা। দাবি মানা না হলে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।

মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপ করা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পণ্যবাহী পরিবহনের শ্রমিকরা।

দাবি মানা না হলে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক সামশুজ্জামান সুমন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের কদমতলীতে আন্তজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছিল।

ওই দিন সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম বলেন, ‘রোববারের মধ্যে ১৫ দফা দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে আমাদের কর্মবিরতি সারা দেশে শুরু হবে। দাবিগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে।

‘তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের আগামী ২০ বছর আর কোনো আন্দোলনে যেতে হবে না।’

অ্যাসোসিয়েশনের ১৫ দাবির মধ্যে রয়েছে, মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়করে (এআইটি) চাপানো বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার, যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছে তাদের সবাইকে সহজ শর্তে এবং সরকারি ফির বিনিময়ে লাইসেন্স দেয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়নের হয়রানিমূলক ফিটনেস ও পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা এবং সরকার নিবন্ধিত শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল সংগ্রহের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করা।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা শ্রমিকদের প্রস্তাব বা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় সারা দেশে দুই লাখের বেশি যানবাহন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

পূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি

পূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি

২ হাজার ৮০ টন ইলিশ রপ্তানি করতে পারবে ৫২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ অনুমতি বহাল থাকবে। বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। ২০১৯-২০২০ সালে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন।

৯ বছর পর ইলিশ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিল সরকার। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে রপ্তানি হবে ২ হাজার ৮০ টন ইলিশ।

দেশের অনুমোদিত ৫২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পরিমাণ ইলিশ যাবে ভারতে। অনুমোদিত রপ্তানিকারকরা প্রত্যেকে গড়ে ৪০ টন করে রপ্তানির সুযোগ পাবে। ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ অনুমতি বলবৎ থাকবে।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে ছয়টি শর্ত দিয়ে ইলিশ রপ্তানির এই অনুমোদন দেয়া হয়। ইতিমধ্যে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ও তার বিপরীতে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উপসচিব তানিয়া ইসলাম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে ছয় শর্ত উল্লেখ করে বলা হয়, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ এর বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। শুল্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রপ্তানিকৃত পণ্যের কায়িক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি কনসাইনমেন্ট শেষে রপ্তানিসংক্রান্ত কাগজপত্র রপ্তানি-২ অধিশাখায় দাখিল করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি ইলিশ রপ্তানি করা যাবে না।

অনুমোদিত রপ্তানিকারক ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইলিশ রপ্তানি করা যাবে না।

দেশের বাজারে ইলিশের জোগান কম থাকার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ৯ বছরে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে মেঘনা ও পদ্মায় বর্ষাশেষে ধরা পড়া ইলিশ খুবই সুস্বাদু বলে মনে করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের কদর বেশি।

বাংলাদেশে পোনা ইলিশ বা জাটকা ধরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ নানান উদ্যোগের কারণে গত দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়েছে।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ইলিশের উৎপাদন হলেও ২০১৯-২০২০ সালে ইলিশের উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। গত ১১ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা বেশ কিছুদিন ধরে ইলিশ রপ্তানির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ ঠিক রাখা ও ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এ নিষেধ বহাল রাখে।

ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেল যেসব প্রতিষ্ঠান

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি-২ শাখা সূত্র জানায়, দুই মাস ধরে সারা দেশ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৪ শতাধিক ইলিশ রপ্তানির আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কমপ্লায়েন্স, সক্ষমতা এবং সুনাম বিবেচনায় নিয়ে এর থেকে ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়।

এসব প্রতিষ্ঠান হলো:

মেসার্স লাকি এন্টারপ্রাইজ, আরিফ সি ফুড, এম এস চেইন ইন্টারন্যাশনাল, সেইভ অ্যান্ড সেফটি ইন্টারন্যাশনাল, যমুনা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, বিডিএস করপোরেশন, এমআর ট্রেডার্স, টাইগার ট্রেডার্স, মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডার্স, নিজাম এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আজম ট্রেডার্স, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, ফাহিম সি ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ফার্মিং লি., কেজিএন এন্টারপ্রাইজ, প্যাসিফিক সি ফুড লি., মাসুদ ফিস প্রসেসিং অ্যান্ড আইচ কমপ্লেক্স লি., সেভেন স্টার ফিস প্রসেসিং কোম্পানি লি., ফেমগ্লেম লি., জেজে ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, অনরাজ ফিশ প্রোডাক্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লি., বাগেরহাট সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি., আলফা এক্সেসরিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো এক্সপোর্ট লি., সাউদার্ন ফুড লি., রূপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লি., এম ইউ সি ফুডস লি., জে বি এস ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লি., মেসার্স রহমান ইমপেক্স, পদ্মা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, জাহানাবাদ সি ফুডস লি., জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস লি., রিভারাইন ফিশ অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, এ আর ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিয়ন ভেঞ্চার লি., ইউটেক সিস্টেম লি., আরমান ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স সাততারা মৎস্য ব্যবসায়ী, কাশফি সি ফুড এক্সপোর্ট, নোরা ফিশ ফার্ম, মেসার্স এস জে এল ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ, প্যাসিফিক ফিশ প্রোডাক্টস লি., এ এম আই এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স জয় এন্টারপ্রাইজ, এ এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স জারা এন্টারপ্রাইজ, দীন বাংলাদেশ করপোরেশন, মেসার্স শংকর অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স ফিশ অ্যান্ড ওশান, ভিজিল্যান্স এক্সপ্রেস লি., মেসার্স মেহেদী এন্টারপ্রাইজ, পপুলার ট্রেড সিন্ডিকেট ও স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ।

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন

আমেরিকায় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম

আমেরিকায় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের দেশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। এই তিন জেলায় প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টন কাজু উৎপাদিত হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

নীলফামারীতে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চিনিকুটিতে জ্যাকপট ক্যাশুনাটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শনের সময় সোমবার দুপুরে মোহাম্মদ ইউসুফ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কাজুবাদাম গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় বৈদেশিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। নীলফামারীতে প্রক্রিয়াজাত কাজু চার মাস হলো আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে। এর উৎপাদন বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

‘আমাদের দেশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। এই তিন জেলায় প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টন কাজু উৎপাদিত হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

জ্যাকপট ক্যাশুনাটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল আরিফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রতি মাসে ৪২ টন কাজু প্রক্রিয়াজাত করে ৭ টন উৎপাদিত হয়। কাঁচামালের জোগান কম হওয়ায় এখানে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না।

‘স্থানীয় পদ্ধতিতে নারী শ্রমিকরা কাজটি করছেন। কারখানায় নিয়মিত ৭৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।’

চারা রোপণের ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর ফলন শুরু হয়। নীলফামারীতেও এর চাষ শুরু হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার জাতীয় বিপণন নীতিমালা তৈরি করেছে বলে জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। ভোক্তারাও পণ্যের মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
পুরোদমে চালু হচ্ছে রিং সাইন, শেয়ার কমছে ৫৪%
ব্যাংক খুললে শাটডাউনেও চলবে পুঁজিবাজার
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রের সম্মিলিত উত্থানে ফিরল স্বস্তি
পুঁজিবাজারে ‘৬ হাজারের লড়াইয়ে’ ব্যাংকের হাত ধরে ‘জয়’

শেয়ার করুন