× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
এলএনজি আমদানিতে ৪ কোম্পানিকে অনুমোদন
hear-news
player
print-icon

এলএনজি আমদানিতে ৪ কোম্পানিকে অনুমোদন

এলএনজি-আমদানিতে-৪-কোম্পানিকে-অনুমোদন
কোম্পানি চারটি হচ্ছে : জাপানের আটিওসিএইচইউ করপোরেশন, সিঙ্গাপুরের গুনভর সিঙ্গাপুর পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, দুবাইয়ের শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেপিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড।

দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য ৪টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বুধবার এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরক্তি সচিব শামসুল আরেফিন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করবে চারটি কোম্পানি।

কোম্পানি চারটি হচ্ছে : জাপানের আটিওসিএইচইউ করপোরেশন, সিঙ্গাপুরের গুনভর সিঙ্গাপুর পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, দুবাইয়ের শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেপিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পেঁয়াজ, রসুন, মশুর ডাল, ছোলা, মসলা-শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল, চিনি, ইত্যাদি পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০২৩ সালের ২৬ মে পর্যন্ত দুই বছর বাড়ানোর নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবারের সভায় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটিতে দুটি এবং ক্রয়কমিটিতে ১৪টিসহ এক হাজার ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য দরপ্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে:

# স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়নে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ।

# বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সিগন্যালিংসহ রেল লাইন সংস্কার ও নির্মাণ শীর্ষক সংশোধিত প্রকল্পের দর প্রস্তাবের অনুমোদন।

# খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য ভারতের বাগডিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ প্রদান।

# ‘যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক সংশোধিত প্রকল্পের দর প্রস্তাবের অনুমোদন।

# বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক ‘সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষি সেচ’ প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীন টার্ন-কী পদ্ধতিতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়নের দরপ্রস্তাবে অনুমোদন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Provision deficit of 9 banks is 18 thousand 931 crores

৯ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা

৯ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিডেট। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঘাটতির তালিকায় রয়েছে সরকারি অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী। বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে নানামুখী সুবিধা দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও বিভিন্ন ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে নয়টি ব্যাংক।

নয় ব্যাংকের তালিকায় চারটি সরকারি ও বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে।

চলতি জুন শেষে এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঘাটতির তালিকায় রয়েছে সরকারি অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী। বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম।

তবে কিছু কিছু ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করায় পুরো ব্যাংকিং খাতের ঘাটতি ১৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

সরকারি চার ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১১ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ঘাটতি বেসিক ব্যাংকে ৪ হাজার ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এর পরেই অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৯৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রূপালীর ঘাটতি ২ হাজার ৯৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা৷ জনতা ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৬৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন দুই ব্যাংক অতিরিক্ত প্রভিশন রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি অতিরিক্ত রয়েছে ৩৮০ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি পাঁচ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে শুধু ন্যাশনাল ব্যাংকেরই ঘাটতি ৭ হাজার ১১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

মোট ঋণ

চলতি জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরনের ব্যাংক যেসব ঋণ দেয় তার গুণমান বিবেচনায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রভিশন হিসেবে জমা রাখতে হয়। কোনো ঋণ শেষ পর্যন্ত মন্দ ঋণে পরিণত হলে তাতে যেন ব্যাংক আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য এ প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়ম রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি
পুঁজিবাজারে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি: হাইকোর্ট
সুইস ব্যাংকে অর্থের বিষয়ে ‘তথ্য চেয়েছিল বিএফআইইউ’
নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
This time the limit of profit in the sale of dollars is determined

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার কেনাবেচায় দামের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ কত হতে পারবে, তা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে দরে ডলার কেনা হবে, বিক্রির দাম হবে তার চেয়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা বেশি ।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার কিনবে, তার সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের একটি সিলিং করতে হবে। সব ব্যাংক এটি ফলো করবে বলে তারা জানিয়েছেন।’

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে ডলার কেনা ও বেচার ওই ব্যবধান এক টাকার বেশি হবে না।

করোনা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বে রীতিমতো ভীতি সঞ্চার করেছে। জ্বালানির দর বৃদ্ধির পাশাপাশি এটির সরবরাহে অনিশ্চয়তাসহ নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডলারের সংকটও তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না।

ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলার নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর এসব ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বাফেদা চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আতাউর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, বাফেদা ও এবিবিকে ডলার মার্কেট খুব দ্রুত স্থিতিশীল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাফেদা ও এবিবি একমত হয়েছে, খুব দ্রুত ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করবে।

ব্যাংকগুলো রপ্তানি করার পর যদি দ্রুত ডলার দেশে ফিরিয়ে আনে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো যদি আন্তব্যাংকের মধ্যে ডলার সরবরাহ করতে পারে, সেই বিষয়গুলোও বলা হয়েছে।

সিরাজুল বলেন, ‘চলতি আগস্টের প্রথম ১১ দিনে ১ বিলিয়ন কম এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে বিলাসপণ্য আমদানি বন্ধ করতে পেরেছি। ফলে এই পদক্ষেপের কারণে অসামাঞ্জস্যতা কমে আসবে।’

আরও পড়ুন:
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bright lotus dollar on a cloudy day

মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের

মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
এক ব্যবসায়ী রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে দর ১২০ টাকায় ওঠার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যায়। সে কারণে ভয়ে কেউ ডলার কিনছেও না; বিক্রি করছে না। কিছু লেনদেন হচ্ছে খুবই গোপনে।’

কয়েকদিনের তীব্র গরম কমিয়ে রোববার নেমেছে বৃষ্টি। সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণে কমেছে তাপমাত্রা।

আবহাওয়ার সঙ্গে ডলারের যোগাযোগ না থাকলেও রোববার খোলাবাজারে বেশ কিছুটা উত্তাপ হারিয়েছে আমেরিকান এই মুদ্রা। গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের তুলনায় চার টাকারও বেশি দর হারিয়েছে ডলার।

সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার প্রতি ডলারের জন্য ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা; কিনেছেন ১১৪ টাকায়। তবে ব্যাংকগুলো আগের দামেই নগদ ডলার বিক্রি করছে।

খোলাবাজারে গত সপ্তাহে ডলারের দর এক লাফে ১২০ টাকায় উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তা এক টাকা কমে বিক্রি হয় ১১৯ টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে দর ১২০ টাকায় ওঠার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যায়। সে কারণে ভয়ে কেউ ডলার কিনছেও না; বিক্রি করছে না। কিছু লেনদেন হচ্ছে খুবই গোপনে।’

বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা একটু বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে, সে কারণেই দামটা নিম্নমুখী।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক রোববার ১০৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৪ টাকা ২৫ পয়সা। বেসরকারি সিটি ব্যাংক প্রতি ডলারের জন্য নিয়েছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৭ টাকায়। এসআইবিএল নিয়েছে ১০৫ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো ৯৫ টাকায় রোববার ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটাকে আন্তব্যাংক বা ইন্টারব্যাংক রেট বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই রেট গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত অচল।

ব্যাংকগুলো এখনও এই দরের চেয়ে ৯ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। আবার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে ১০৪-১০৫ টাকা দিয়ে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে নিচ্ছে ১০৪-১০৫ টাকা।

মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের

পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলা ডলারের দৌড় থামাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ মাস ১১ দিনে (১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট) ১৭২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৭২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরেও বাজারে ডলারের সংকট কাটছে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, শিগগিরই ডলারের সংকট কেটে যাবে। বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সেই চাহিদা পূরণের জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলার ছাড়া হচ্ছে। আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ এটি। যখন বাজারে ডলারের ঘাটতি দেখা দেবে তখন ডলার বিক্রি করা হবে। আবার যখন সরবরাহ বেশি হবে তখন কেনা হবে।

‘ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে রিজার্ভ পরিস্থিতিও সব সময় বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ঢালাও বিক্রি করলে রিজার্ভ কমে আসবে। সেক্ষেত্রে অন্য সমস্যা হবে। সে কারণেই ভেবেচিন্তে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তাণ্ডবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব দেশের মতো আমাদেরও আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। সে কারণে রিজার্ভের ওপরও চাপ পড়েছে।

‘তবে সুখের খবর হচ্ছে, আমদানি কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্সও বাড়ছে। শিগগিরই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ডলার কেনাবেচা করতে ভয় পাচ্ছেন।

খোলাবাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন মানি চেঞ্জারে অভিযান চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি অবৈধভাবে ডলার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডলার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে এরপরও বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dollar Business leaders lash out at banks

ডলার: ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ব্যবসায়ী নেতারা

ডলার: ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ব্যবসায়ী নেতারা ডলার নিয়ে ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন এফবিসিসিআই নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
‘অবিলম্বে ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ, আপনি যখন ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছেন তখন অবশ্যই আপনাকে কন্ট্রোল করতেই হবে। আপনি তো একদম ছেড়ে দিতে পারেন না। ছেড়ে দিলে কী হয় তা তো দেখেছেন? কোনো কোনো ব্যাংক একটা ডলার থেকে ৪২৫ পার্সেন্ট প্রফিট করেছে- এটা তো হতে পারে না।’

ডলারের বাজারে অস্থিরতার পেছনে ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এফবিসিসিআই।

রোববার বঙ্গবন্ধুর এসএমই উন্নয়ন ভাবনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে এই ক্ষোভ ঝাড়েন তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

অস্থিরতা দূর করতে ডলার কেনাবেচার ক্ষেত্রে মুনাফার সিলিং নির্ধারণ করে দেয়ার প্রস্তাব করেন ব্যবসায়ী নেতারা। অবশ্য একই দিন এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ডলার কেনার চেয়ে বিক্রিতে এক টাকার বেশি মুনাফা করা যাবে না।

সেমিনারে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর কোনো ডিসিপ্লিন নাই। ডলার নিয়ে তারা যা খুশি তাই করছে। ডলারকে রাখিমালের ব্যবসার মতো করে ফেলা হয়েছে। আপনি পণ্য কিনবেন, রেখে দিবেন, লাভ হবে -তারপর বিক্রি করে দেবেন। ঠিক ডলারকেও পণ্যের মতো লাভ করার আশায় কিনে রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনাবেচা কেন সিলিং করে দিচ্ছে না। যে রেটে ডলার কেনা হয়, তার থেকে এক দুই টাকা বেশি বিক্রি করতে পারবে না- কেন এমন বাদ্যবাধকতা বেঁধে দিচ্ছে না? অতি দ্রুত ডলারের সিলিং বেঁধে দিতে হবে। তা না হলে ডলার নিয়ে যেভাবে খেলা খেলছে তারা, দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।’

বাংলাদেশ ব্যাংকে উদ্দেশ করে এফবিসিসিআই প্রধান বলেন, ‘অবিলম্বে ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ, আপনি যখন ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছেন তখন অবশ্যই আপনাকে কন্ট্রোল করতেই হবে। আপনি তো একদম ছেড়ে দিতে পারেন না। ছেড়ে দিলে কী হয় তা তো দেখেছেন? কোনো কোনো ব্যাংক একটা ডলার থেকে ৪২৫ পার্সেন্ট প্রফিট করেছে- এটা তো হতে পারে না।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআইর প্যানেল উপদেষ্টা ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের মাত্র ১৮ শতাংশ দেয় দেশের এসএমই খাতে। যা পায় মাত্র ৯ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। বাকি ৯১ শতাংশ এসএমই ব্যাংক ঋণের সহায়তা বঞ্চিত। এছাড়াও গত কয়েক বছরে ব্যাংকের মোট ঋণের অনুপাতে এসএমই ঋণের হার কমেছে। যা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এসএমইর উন্নয়ন করে বৈষম্য কমিয়ে আনতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই বিষয়টির উল্লেখ করে সিপিডি পরিচালক বৈষম্যের পেছনে এসএমই খাতের বিকাশ না হওয়াকে দায়ী করেন। জানান, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশের এসএমই ঋণের সম্ভাব্য বাজার ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ কাঠামোতে এসএমই খাত অবহেলিত। তাই এই বিশাল লাভজনক খাতে ব্যাংকগুলো নজর দিচ্ছে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘শুধু ডলার বিক্রি করে লাভ করার জন্য এতগুলো ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়নি। এটা নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।

‘শুধু মুনাফা করাই ব্যাংকের কাজ নয়। তাদেরকে অবশ্যই জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সে জন্যই তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। নগরাঞ্চলে বড় গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে শহর-গ্রামের মধ্যে বৈষম্য বাড়ানো ব্যাংকের কাজ নয়। বরং উন্নয়ন সুষম করার দায়িত্ব।’

এসএমই নিয়ে সবাই কথা বলে, কিন্তু কোনো কাজ করে না- এমন কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারি পর্যায়ের সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দেন। বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশনকে আর্থিকভাবে সক্ষম করতে হবে।’

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এসএমই খাতের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসএমইর জন্য প্লট বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বড় শিল্প যেভাবে সরকারি নীতি সহায়তা পায়, ছোট উদ্যোক্তারা সেভাবে পান না। কর ও শুল্ক কাঠামোর কারণে তারা স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য না কিনে বিদেশ থেকে আমদানি উৎসাহিত হচ্ছেন।’

সরকারি প্রকল্পের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপের আহ্বানও জানান তিনি।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এসএমই বিকাশে সরকারের আর্থিক আনুকুল্য ও প্রকল্প আনুকুল্য পাওয়া যায় না। ২০১৯ সালের এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকার বাজেট হলেও কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি।

তৃনমূলের এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ব্যাংকের শহরের প্রতি তিনটি শাখার বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে সাতটি শাখা স্থাপনের নিয়ম করার আহ্বান জানান বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ। তিনি জানান, তার ব্যাংকের ৯০ শতাংশ গ্রাহক এসএমই খাতের।

মুক্ত আলোচনায় নারী ক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সনদ প্রাপ্তি সহজ করা, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ বন্ধে প্রতিযোগিতা আইন কার্যকর করা, এসএমই খাতে গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নে ইনস্টিটিউট স্থাপন করা, সরকারের নীতির কারণে কারখানা বন্ধ হলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে এক্সিট পলিসি প্রণয়ন, শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ, প্রকৃত এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন:
এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ
মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Stress in the economy is not a cause for temporary panic

‘অর্থনীতিতে চাপ সাময়িক, আতঙ্কের কারণ নেই’  

‘অর্থনীতিতে চাপ সাময়িক, আতঙ্কের কারণ নেই’  
ডিসিসিআই নেতারা মনে করেন, বৈশ্বিক যে সংকট চলছে, তা শুধু বাংলাদেশেই প্রভাব ফেলছে না, সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট বেশি দিন থাকবে না।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা সাময়িক। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি’বিষয়ক এক আলোচনা সভায় রোববার এ কথা বলেন আলোচকরা।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। এতে ঢাকা চেম্বারের অন্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

ডিসিসিআইয়ের নেতারা মনে করেন, বৈশ্বিক যে সংকট চলছে, তা শুধু বাংলাদেশেই প্রভাব ফেলছে না, সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে। বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। চাপে পড়েছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। এ সংকট বেশি দিন থাকবে না বলে মত দেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘সৃষ্ট সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সবকিছুর দাম কমছে। কাজেই অর্থনীতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কোনো কারণ দেখছি না।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রিজার্ভের চাপ কমাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত ঋণ পাওয়া যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কিছুটা বাড়ানোর বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করা যেতে পারে বলে অভিমত দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে দেশের উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ, ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হয়। কর আহরণ বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণে দেশের রাজস্ব কাঠামোর অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

গত অর্থবছরে দেশ থেকে ১০ লাখ শ্রমিক বিদেশ গেছে। ফলে আমাগীতে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ্য সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশই জ্বালানি সংকটে রয়েছে। আমাদের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর গ্যাসকূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।’

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী আমাদের রপ্তানি আয় প্রায় ৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে যেতে পারে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে বিদ্যমান শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষর এবং দ্রুত ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তা মোকাবিলা করতে হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কর নেট বৃদ্ধি এবং পুরো রাজস্ব বিভাগের অটোমেশনের বিকল্প নেই।’

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ঋণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আশাব্যঞ্জক নয় বলে মত প্রকাশ করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তরুণ এই ব্যবসায়ী নেতা।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-হ্যানয় ফ্লাইট চায় ডিসিসিআই
অটোমোবাইলে জাপানি বিনিয়োগ চেয়েছে ‘ঢাকা চেম্বার’
ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজনে সহযোগিতা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
New MD at Sonali Rupali Agrani

সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি

সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি সোনালী ব্যাংকের নতুন এমডি আফজাল করিম, রূপালী ব্যাংকের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং অগ্রণী ব্যাংকের মুরশেদুল কবীর। ছবি: সংগৃহীত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আগামী তিন বছরের জন্য চুক্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

এরমধ্যে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকে এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম।

সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরশেদুল কবীরকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও করা হয়েছে। আর রূপালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে তিন বছরের জন্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

তিন জনকেই ব্যাংক তিনটির শীর্ষ পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রোববার তিনটি আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আফজাল করিম, শামস-উল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মুরশেদুল কবির এবং ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তারা গত ছয় বছর ধরে ব্যাংক তিনটির শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই তিন জনের মেয়াদই চলতি মাসের শেষের দিকে শেষ হবে। রূপালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের মেয়াদ শেষ হবে ২৫ আগস্ট। অন্য দুজনের মেয়াদও এক দিন আগে পরে শেষ হবে। এই তিন জনের বয়সই ৬৫ বছর হতে আর অল্প কিছুদিন বাকি আছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আগামী তিন বছরের জন্য চুক্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

ব্যাংক তিনটির বর্তমান এমডি এর আগে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে আতাউর রহমান প্রধান এক মেয়াদে রূপালী ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করে সোনালী ব্যাংকের এমডি হন। উবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ সোনালী ব্যাংকে এমডি পদের মেয়াদ শেষ করে রূপালী ব্যাংকের এমডি হন। আর মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকেই পুনর্নিয়োগ পান একাধিকবার।

আরও পড়ুন:
‘সুইস ব্যাংকের কাছে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ’
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং বন্ডের সাবস্ক্রিপশন ক্লোজার অনুষ্ঠান
পদ্মা ব্যাংক ও ফ্লোরা সিস্টেমসের চুক্তি
সুইস ব্যাংকের কাছে কেন তথ্য চায়নি সরকার: হাইকোর্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Expatriates are sending 800 crore rupees to the lighthouse every day

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্টেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্টেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের সূচক ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগস্ট মাসের ১১ দিনেই ৯২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাব বিবেচনায় নিলে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

মাসের বাকি ২০ দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্টেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

‘মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা’- এই মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছিল ৬৪০ কোটি টাকা।

এখন তার চেয়েও বেশি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত বছরের জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে রোববার প্রতি ডলার ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর প্রায় একই। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণের কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১১ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স জুলাইয়ে
অর্থনীতিকে চাপমুক্ত করছে রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া, নতুন রেকর্ডের আশা
রপ্তানি কমবে, রেমিট্যান্স বাড়বে: বাংলাদেশ ব্যাংক
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে ভালো গতি

মন্তব্য

p
উপরে