বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১০.৮ শতাংশ: আঙ্কটাড

বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১০.৮ শতাংশ: আঙ্কটাড

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এফডিআই ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই বিনিয়োগপ্রবাহ আগের অবস্থায় আসতে সময় লাগবে।

২০২০ সালে ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ (২.৫৬ বিলিয়ন) ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে বাংলাদেশে। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২১’-এ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার বিশ্বব্যাপী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশ।

সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ কমার কারণে বাংলাদেশে এফডিআইপ্রবাহ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নিয়ে পরপর দুই বছর আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমল। ২০১৮ সালে ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ, এক বছরে যা ছিল এ যাবতকালে সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছর প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের ৩০০ কোটি ডলারের আদেশ বাতিল হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর ক্রেতারা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এই সময়ে ফিনটেক, ওষুধ, এলএনজি কেন্দ্র ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে স্থানান্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এসব খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য উৎসাহিত করে আসছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সরকার বিদেশি বিনিয়োগের বাধা দূর করতে আইন সংস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও আঙ্কটাডের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে পাঁচটি আইন সংস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ আগের অবস্থায় আসতে সময় লাগবে। কারণ, বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এখনও দুর্বল। তৈরি পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহ কম বলে মনে করছে আঙ্কটাড।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিদেশি বিনিয়োগে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছর ধরে এফডিআইয়ের হিসাব করা হয় দেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২৯৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে বাংলাদেশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ২৭৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। পুরো অর্থবছরে (জুলাই-জুন) এসেছিল ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

কোভিডের ধাক্কায় বিপর্যয়

বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত আঙ্কটাডের এই প্রতিবেদনে এফডিআইয়ে বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২০ সালে বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনের ভূমিকায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস বলেন, এক দশক আগে বিশ্ব মন্দার সময়কার চেয়েও তা নিচে নেমে গেছে।

এ সময়ে বিশেষভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশের শিল্প-কারখানার পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, ‘এটি এখন শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা গরীব দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এফডিআই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

আঙ্কটাডের হিসাবে গত বছরে বিশ্বজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ১ লাখ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগের বছর যা ছিল দেড় লাখ ট্রিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ও বিশ্বে কমলেও গত বছর এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৩৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

আঙ্কটাডের বিনিয়োগ ও উদ্যোগ বিষয়ক পরিচালক জেমস জান বলেছেন, ‘মহামারিকালেও এই অঞ্চলে এফডিআই যেমন বেড়েছে, তেমনি এখান থেকে অন্যত্রও বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। শুধু উন্নয়নশীল এশিয়াতেই বিদেশি বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে বিশ্বের মোট এফডিআইয়ের অর্ধেকের বেশি এখান হয়েছে এবং এখান থেকে অন্য দেশে করা হয়েছে।’

তার মতে, ২০২১ সালেও বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে এশিয়া সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০ শতাংশ বেড়ে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৭১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতে ২৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলার।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেবল ভারতেই গত বছর এফডিআইপ্রবাহ বেড়েছে।

এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে সবচেয়ে বেশি ৪৩ শতাংশ। পাকিস্তানের ৬ শতাংশ কমে এফডিআইয়ের পরিমাণ ২১০ কোটি ডলার।

তবে চীন ও হংকংয়ের কারণে সার্বিকভাবে এশিয়ায় বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য