বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। ছবি: নিউজবাংলা

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় তোলে। এটি আন্তর্জাতিক হ্যাকিংয়ের ইতিহাসে এক দুর্ধর্ষ ঘটনা। এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশই নয়, যুক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন ও শ্রীলঙ্কা। উত্তর কোরিয়ার একদল হ্যাকার কীভাবে ১ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, কীভাবে তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা ঘটনাচক্রে কেঁচে যায়, সে কাহিনি উঠে এসেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ডের ১০ পর্বের পডকাস্টে। সেটির সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। তারা প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিল। নেহাত ভাগ্যের জোরে তাদের পরিকল্পনা হোঁচট খায়। বাংলাদেশ ৮১ মিলিয়ন ডলার খোয়ানোর পর এই চুরি ঠেকাতে সক্ষম হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া কীভাবে এত চৌকস একটি সাইবার অপরাধী দল তৈরি করতে পারল?

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড ১০ পর্বের একটি পডকাস্ট তৈরি করেছে, যার শিরোনাম: ‘লাজারাস হেইস্ট: হাউ নর্থ কোরিয়া অলমোস্ট পুলড অফ আ বিলিয়ন ডলার’ (লাজারাস হেইস্ট: যেভাবে উত্তর কোরিয়া বিলিয়ন ডলার প্রায় সরিয়ে ফেলেছিল)।

এখানে সেই পডকাস্টের কিছুটা সংক্ষেপিত রূপ তুলে ধরা হলো:

এ গল্পের শুরু একটি অকেজো প্রিন্টার দিয়ে। প্রিন্টারটি নষ্ট হলে অন্য সকলের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ভেবেছিলেন, এটি মামুলি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি।

কিন্তু প্রিন্টার যেখানে রাখা, সেটা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দশম তলার একটি কক্ষ আর এই প্রিন্টারও কোনো যেনতেন প্রিন্টার না। এর একটিই কাজ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি-কোটি টাকার আদান-প্রদানের রেকর্ড প্রিন্ট করা।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা টের পান, ওই প্রিন্টারটি কাজ করছে না। ডিউটি ম্যানেজার জুবায়ের বিন হুদা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, সাধারণ কোনো সমস্যা। যেমনটা সাধারণত ঘটে থাকে, তেমন কিছু হয়েছে। আগেও এ ধরনের সমস্যা দেখে দিয়েছে প্রিন্টারে।’

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক যে এক বিরাট সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে, এটি ছিল তার প্রথম আলামত। হ্যাকাররা ততক্ষণে ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েছে এবং ওই সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চকাঙ্ক্ষী সাইবার অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এক বিলিয়ন ডলার চুরি করা।

চুরি করা টাকা সরিয়ে নিতে হ্যাকাররা নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, দাতব্য সংস্থা, ক্যাসিনো এবং সহযোগীদের এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

এই হ্যাকাররা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে?

সকল ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট কেবল একটি দিকই নির্দেশ করছিল: উত্তর কোরিয়া সরকার।

সাইবার-অপরাধের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ করা হবে এটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো লাগতে পারে। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি। দেশটি প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল, অর্থনৈতিক ও প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন।

তারপরও এফবিআইয়ের মতে, এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হ্যাকার ও মধ্যস্থতাকারীদের গোপন একটি দলের বহু বছরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফসল ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে এই দুঃসাহসী হ্যাকিং অভিযান।

সাইবার নিরাপত্তা ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের ডাকা হয় ল্যাজারাস গ্রুপ নামে। নামটি দেয়া হয়েছে বাইবেলে বর্ণিত ল্যাজারাসের নাম অনুযায়ী, যিনি মৃত্যু থেকে ফিরে এসেছিলেন। এই গ্রুপের কম্পিউটার ভাইরাসগুলিকে সামলানো বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই হ্যাকাররাও বারবার ফিরে আসে।

গ্রুপটি সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায়নি। এফবিআই এই গ্রুপের শুধু একজন সন্দেহভাজনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পেরেছে, তার নাম পার্ক জিন-হিয়ুক। তিনি পার্ক জিন-হেক ও পার্ক কোয়াং-জিন নামেও পরিচিত।

কে এই পার্ক?

এফবিআই বলছে, পার্ক একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে তিনি চীনা বন্দর শহর দালিয়ানে উত্তর কোরিয়ার একটি সংস্থা চোসুন এক্সপোর হয়ে কাজ করতেন। পার্ক সারা বিশ্বের ক্লায়েন্টদের জন্য অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন।

দালিয়ানে থাকার সময় তিনি একটি ই-মেইল আইডি ও একটি সিভি তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নেটওয়ার্কও তৈরি করেন। এফবিআইয়ের তদন্তকারীর হলফনামায় বলা হয়েছে, পার্কের সাইবার-ফুটপ্রিন্ট থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের দিকে দালিয়ানে তার যাতায়াত শুরু হয়, যা ২০১৩ বা ২০১৪ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর তার ইন্টারনেট কার্যকলাপ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং থেকে রেকর্ড করে এফবিআই।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি
উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন হ্যাকার পার্ক জিন-হিয়ুক আছেন এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায়

আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাটি পার্কের একটি ছবিও প্রকাশ করে, যা ক্লায়েন্টের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য একটি ই-মেইলে ব্যবহার করেছিলেন চসুন এক্সপোর ম্যানেজার। ছবিতে দেখা যায়, ক্লিন-শেভ বিশ বা ত্রিশের ঘরের এক কোরিয়ান যুবক পার্ক। পরনে ছিল চকোলেট রঙের সুট ও কালো রঙের পিন স্ট্রাইপ শার্ট। একবারেই সাধারণ একটি চেহারা, যাতে ক্লান্তির ছাপ রয়েছে।

এফবিআইয়ের দাবি, পার্ক দিনে প্রোগ্রামার হলেও রাতে হ্যাকারের কাজ করেন।

২০১৮ সালের জুনে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ পার্ককে সেপ্টেম্বর ২০১৪ ও আগস্ট ২০১৭-এর মধ্যে করা কম্পিউটার জালিয়াতি ও অপব্যবহারের ষড়যন্ত্র এবং ই-মেইল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। ধরা পড়লে তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। (অভিযোগ দায়েরের চার বছর আগে তিনি চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যান।)

পার্ক রাতারাতি হ্যাকার হননি। তিনি হাজার হাজার তরুণ উত্তর কোরিয়ানের একজন, যাদের শৈশব থেকেই সাইবার-যোদ্ধা হওয়ার জন্য বেছে নেয়া হয়। গণিতে ভালো এইসব প্রতিভাবান কিশোরদের, যাদের অনেকের বয়স ১২, স্কুল থেকে রাজধানীতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের সকাল থেকে রাত অবধি নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির চক্কর

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন সেই প্রিন্টারটি রিস্টার্ট করেন, তখন তাদের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ। প্রিন্টার থেকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে আসা জরুরি কিছু বার্তা প্রিন্ট হয়ে বের হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের ইউ ডলারের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমেরিকান ব্যাংকটি জানায়, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার উঠিয়ে নেয়ার নির্দেশ পেয়েছে।

ফেডারেল ব্যাংক অফ রিজার্ভের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু হ্যাকারদের দক্ষতায় তারা সেটা করতে পারেনি।

আগের দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় হ্যাকিং শুরু হয়। বাংলাদেশ যখন ঘুমন্ত তখন নিউ ইয়র্কে বৃহস্পতিবার সকাল। ফলে ফেডারেল ব্যাংকের হাতে ওই নির্দেশ পালনের জন্য যথেষ্ট সময় ছিল।

পরের দিন থেকে বাংলাদেশের শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়। যার কারণে ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দিনের ছুটিতে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন শনিবার এই চুরির বিষয়টি ধরতে পারে, তখন নিউ ইয়র্কে উইকেন্ড শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্থানা বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায় আক্রমণ কতটা নিঁখুত ছিল। বৃহস্পতিবার এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে কাজের দিন আর বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার যখন খুলছে, তখন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে পুরো বিষয়টি ধরা পড়তে পড়তে তিন দিন দেরি হয়।’

সময়ক্ষেপণ করতে হ্যাকাররা আরও একটি কৌশল অবলম্বন করে। ফেড থেকে বের করার পর তারা টাকাটা পাঠিয়ে দেয় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কয়েকটি অ্যাকাউন্টে। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল চন্দ্রবর্ষের প্রথম দিন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ওই দিন সরকারি ছুটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক ও ফিলিপাইনের সময়ের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা টাকা সরিয়ে নিতে পুরো পাঁচ দিনের একটা সময় বের করে।

বহুদিন ধরেই তারা এই সমস্ত পরিকল্পনা করে। চুরির আগে প্রায় এক বছর ল্যাজারাস গ্রুপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে লুকিয়ে ঘোরাফেরা করছিল।

চুরির এক বছর আগে

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আপাতদর্শনে নিরীহ একটি ই-মেইল পান। রাসেল আহলাম নামের এক চাকরি প্রার্থীর মেইল ছিল সেটি। বিনম্রভাবে মেইলে রাসেল ব্যাংকে চাকরির বিষয়ে আর তার সিভি ডাউনলোডের জন্য একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেয়।

এফবিআই জানায়, রাসেল নামের কেউ আসলে ওই মেইল করেননি। মেইল করেছিল ল্যাজারাস গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত একজন কর্মকর্তা ল্যাজারাসের ধোঁকায় পা দেন ও ওই সিভি ডাউনলোড করেন। অজান্তেই তাতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে আক্রমণ করে।

ব্যাংকের সিস্টেমে ঢোকার পর ল্যাজারাস গ্রুপ গোপনে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে প্রবেশ করে। যে ডিজিটাল ভল্টে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাখা ছিল, সেটায় ঢোকার কাজ শুরু করে তারা।

এবং তারপরে তারা থেমে যায়।

হ্যাকাররা প্রাথমিক ফিশিং ই-মেইল পাঠানোর এক বছর অপেক্ষার পর কেন টাকা চুরি করল? ব্যাংকের সিস্টেমে এক বছর লুকিয়ে থাকতে গিয়ে ধরা পড়ার ঝুঁকি কেন নিল তারা?

নিয়েছে, কারণ চুরির টাকা বের করে নেয়ার পথ ঠিক করতে ল্যাজারাসের সময় দরকার ছিল।

ঢাকার টাকা ম্যানিলায়

ম্যানিলার ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি জুপিটার স্ট্রিট। ফিলিপাইনের অন্যতম বড় ব্যাংক আরসিবিসির একটা শাখা রয়েছে এখানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ২০১৫ সালের মে মাসে এই শাখায় চারটি অ্যাকাউন্ট খোলে হ্যাকারদের সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

পরে জানা যায়, অ্যাকাউন্টগুলো খোলার সময় ব্যবহার করা হয় জাল ড্রাইভার্স লাইসেন্স। আর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা চার আবেদনকারীর জব টাইটেল ও বেতন ছিল হুবহু এক। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ডলার দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টগুলো মাসের পর মাস একইভাবে পড়ে ছিল। কেউ ওই টাকাতেও হাত দেয়নি। এই অস্বাভাবিকতা কারও চোখে পড়েনি। হ্যাকাররা ততদিনে পালানোর অন্য বুদ্ধি আঁটছিল।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাক করে ও টাকা সরিয়ে ফেলার পথ পরিষ্কার করে ল্যাজারাস গ্রুপ প্রস্তুত হয়ে যায় চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য।

তবে তাদের সামনে তখনও একটা বাধা ছিল।

১০ তলার সেই প্রিন্টার।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত লেনদেন রেকর্ড করার জন্য একটি পেপার ব্যাক-আপ সিস্টেম তৈরি করে। লেনদেনের এই রেকর্ড সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনা প্রকাশ করার ঝুঁকিতে ফেলে দেয় হ্যাকারদের। তারা তাই একে নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারটিতে আগে হ্যাক করে ও অকার্যকর করে দেয়।

নিজেদের গোপনীয়তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পর, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে হ্যাকাররা টাকা সরাতে শুরু করে।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের জমা করা টাকার প্রায় পুরোটাই, মোট ৩৫টি লেনদেনে তারা সরাতে শুরু করে। এর পরিমাণ ছিল ৯৫১ মিলিয়ন ডলার।

চোররা যখন নিজেদের বড় পারিশ্রমিকের স্বপ্নে বিভোর, তখন একেবারে হলিউডি ফিল্মের মতো ছোট্ট একটা ভুলে ভন্ডুল হয়ে যায় সবকিছু। ধরা পড়ে তাদের চুরি।

পরের দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা টাকা খোয়া গেছে বুঝতে পারলেও ঠিক কী হয়েছে ধরতে পারছিলেন না।

গোপন রাখা হয় চুরি

ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে রাকেশ আস্থানা ও তার সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাটিকসের পরিচয় ছিল। গভর্নর রাকেশকে সাহায্যের জন্য ফোন করেন।

আস্থানা বিবিসিকে জানান, ওই মুহূর্তেও গভর্নর ভাবছিলেন, তিনি চুরি হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। যার কারণে তিনি হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি শুধু জনগণের কাছ থেকেই নয়, দেশের সরকারের কাছেও গোপন রাখেন।

আস্থানা বোঝার চেষ্টা করছিলেন, হ্যাকাররা কতদূর কী করেছে। তিনি বের করেন, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমের অন্যতম অংশ সুইফটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হাজারো ব্যাংকের বড় অঙ্কের লেনদেনের সামাল দেয় সুইফট সফটওয়্যার সিস্টেম। সুইফটের কোনো দুর্বল দিক হ্যাকাররা কাজে লাগায়নি। তার দরকারও পড়েনি। কারণ সুইফট সফটওয়্যার হ্যাকারদের ব্যাংকের কর্মচারী ভেবে নিয়েছিল।

দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তারা বুঝতে পারেন, হারানো টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। ততক্ষণে ফিলিপাইনে কিছু টাকা পৌঁছে গিয়েছিল।

ওখানকার কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া আদালতের আদেশ ছাড়া শুরু করা সম্ভব নয়। আদালতের আদেশ সরকারি নথি। যে কারণে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আবেদন করে, তখন পুরো বিষয়টি সবাই জানতে পারেন ও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর তোপের মুখে পড়েন। আস্থানা বলেন, ‘তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তাকে আমি আর দেখিনি।’

টাকা যেভাবে বের করা হয়

হ্যাকাররা ম্যানিলার অসংখ্য ব্যাংক ব্যবহার করতে পারত, কিন্তু তারা জুপিটার স্ট্রিটে অবস্থিত আরসিবিসি ব্যাংকের শাখাটিকেই বেছে নেয়। এই সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের কয়েক শ মিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আর্থিক সেবা বিষয়ক কমিটির সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি জানান, ঘটনাচক্রে ইরানের একটি জাহাজের নামের সঙ্গে মিলে যায় এ ব্যাংকের ঠিকানা।

তিনি বলেন, লেনদেনগুলোকে ফেড আটকে দেয়। কারণ এর ঠিকানায় জুপিটার শব্দটি ছিল। জুপিটার একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজেরও নাম, যার ওপর ফেডের নিষেধাজ্ঞা আছে। এটি কালো তালিকাভুক্ত।

‘জুপিটার’ শব্দটির কারণেই ফেডারেল ব্যাংকের কম্পিউটারগুলো সতর্ক হয়ে ওঠে এবং লেনদেনগুলো রিভিউ করা হয়। এ কারণে অধিকাংশ লেনদেন ঠেকানো সম্ভব হয়। তবে ১০১ মিলিয়ন ডলার ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

এই ১০১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার একটি দাতব্য সংস্থা ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’-এর নামে। হ্যাকারদের দোসররা চুরি করা টাকা পাচারের জন্য আগেই একে ঠিক করে রাখেন। এর মালিক শালিকা পেরেরা জানান, তার ধারণা ছিল লেনদেনগুলো বৈধভাবে দান করা হয়েছে।

এখানেও ছোট একটা ঝামেলার কারণে ফেঁসে যায় হ্যাকাররা। টাকা পাঠানো হয় ‘Shalika Fundation’ এর নামে। এক ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে পড়ে এই বানান ভুল, কারণ এতে ফাউন্ডেশনের একটি অক্ষর (o) বাদ পড়েছে। ফলে লেনদেনটি ফেরত পাঠানো হয়।

শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার

লক্ষ্য ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। লক্ষ্য পূরণ না হলেও বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে পাঁচজনের একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, তাদের জন্য এই ক্ষতিও ছিল বড় অঙ্কের।

বাংলাদেশ ব্যাংক যতক্ষণে টাকা ফেরত নেয়ার চেষ্টা শুরু করে, ততক্ষণে হ্যাকাররা একে নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। হ্যাকিংয়ের পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জুপিটার স্ট্রিটের আরসিবিসি শাখায় এক বছর আগে খোলা অ্যাকাউন্ট হঠাৎই যেন জীবন ফিরে পায়।

টাকাগুলোকে চারটি অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর সেখান থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জ ফার্মে পাঠানো হয়। স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত করার পর সেগুলোকে আবারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিছু অংশ নগদ হিসেবে ব্যাংক থেকে তোলাও হয়েছে।

মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো বিষয়টিই ছিল নিয়মমাফিক। ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের প্রধান মোয়ারা রুয়েসেন বলেন, ‘পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য সমস্ত বেআইনি উপার্জনকে সাদা দেখাতে হবে ও এমনভাবে দেখাতে হবে যেন মনে হয় তা বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত। অর্থের লেনদেনটিকে যতটা সম্ভব ঘোলা ও অস্পষ্ট করে তুলতে হবে।’

তারপরও তদন্তকারীদের সামনে টাকার উৎস খুঁজে পাওয়ার উপায় ছিল। সম্পূর্ণ আত্মগোপনের জন্য এর দরকার ছিল ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়া।

ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি করা দলটির পরের গন্তব্য ছিল সলিটেয়ার হোটেল। ম্যানিলার এই হোটেলটি বিখ্যাত এর ক্যাসিনোর জন্য। ৪০০টি জুয়ার টেবিল ও ২ হাজার স্লট মেশিন সংবলিত ক্যাসিনোটিতে মোটা পকেটওয়ালা চীনা ব্যবসায়ীরা জুয়া খেলতে আসেন।

চুরি করা ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার এই ক্যাসিনো ও মাইডাস নামের আরেকটি ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি ৩১ মিলিয়ন ডলারের কী হলো সেটা জানতে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের দাবি, বাকি টাকা শু ওয়েইকাং নামের এক চীনা ব্যক্তিকে দেয়া হয়, যিনি একটি প্রাইভেট জেটে শহর ছাড়েন ও তারপর কোনোদিন আর ম্যানিলায় আসেননি।

অর্থের উৎস ও লেনদেন গোপনের জন্যই ক্যাসিনোতে টাকা পাঠানো হয়। চুরি করা টাকা দিয়ে ক্যাসিনোর চিপস কিনে, জুয়া খেলার পর নগদ টাকায় বদলে ফেলা হলে তদন্তকারীদের পক্ষে একে খুঁজে বের করা অসম্ভব।

ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে যেন টাকা খোয়া না যায় সে জন্য চোরদের দল প্রাইভেট রুম ভাড়া করে এবং নিজেদের লোকদের সঙ্গেই নিজেরা জুয়া খেলে। এতে করে তারা পুরো জুয়ার টাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ত তারা চুরি করা টাকা দিয়ে ‘বাকারাত’ খেলে। এটি এশিয়ার বহু দেশে প্রচলিত জনপ্রিয় একটি জুয়া, যেটাতে শুধুমাত্র দুটা ফল। হার অথবা জিত। এবং অধিকাংশ টাকা (প্রায় ৯০ শতাংশ) ফিরে পাওয়া সম্ভব।

অপরাধীরা চুরি হওয়া টাকা লন্ডারিং করে লাভের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করতে খেলোয়াড় ও তাদের ধরা বাজিকে খুব সাবধানে তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বেশ খানিকটা সময় নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা টাকা সাদা করার জন্য ম্যানিলার ক্যাসিনোতে অপেক্ষায় ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকও তখন টাকা উদ্ধারের চেষ্টায় বেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। এর কর্মকর্তারা ম্যানিলা সফরে আসেন ও টাকা পাচারের পথ খুঁজে পান। কিন্তু ক্যাসিনোতে যাওয়ার পর তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন। ওই সময়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলো মানি লন্ডারিংয়ের নিয়মের অধীনে ছিল না। ক্যাসিনোদের হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টের টাকা বৈধ ও বৈধ জুয়াড়িদের টাকা। তাদের নিজের টাকা দিয়ে তারা বৈধভাবেই জুয়া খেলছেন।

সলিটেয়ার জানায়, তারা জানত না যে, তাদের ক্যাসিনোতে অবৈধ টাকা ঢালা হচ্ছে, এ নিয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। আর মাইডাস বিবিসির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিম ওয়ং নামের মাইডাস ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরের আয়োজনকারী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকি ৩৪ মিলিয়ন তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এর পরবর্তী গন্তব্য উত্তর কোরিয়ার আরও এক ধাপ কাছে।

তদন্তকারীদের বিশ্বাস ছিল যে, চুরি যাওয়া অর্থের পরবর্তী গন্তব্য মাকাও।

চীনের এই রাজ্যটির সঙ্গে সলিটেয়ারে জুয়া খেলা অনেকেরই সম্পর্ক ছিল। সলিটেয়ারে প্রাইভেট রুম ভাড়া করা দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল মাকাওয়ের। তদন্তকারীরা দাবি করেন অধিকাংশ অর্থ মাকাও থেকেই উত্তর কোরিয়ায় ঢুকেছে।

বাংলাদেশ চুরি হওয়া বাকি অর্থ প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকও আছে। তারা অবশ্য আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে আক্রমণের পরের বছর ২০১৭ সালের মে মাসে ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে আক্রমণ করে। আক্রান্তদের ব্ল্যাকমেইল করা হয় ও বিটকয়েনের বিনিময়ে তাদের ডেটা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির এক গোয়েন্দা এফবিআইয়ের সঙ্গে মিলে র‍্যানসমওয়্যারের কোড ভাঙার চেষ্টা করে দেখেন এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ২০১৪ সালে সোনি পিকচার্সে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ভাইরাসের অনেকাংশে মিল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এফবিআই এই আক্রমণের জন্য পার্ক জিন-হিয়ুককে দোষী সাব্যস্ত করে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস আরও দুই উত্তর কোরিয়ার নাগরিককে দোষী খুঁজে পায়। তাদের দাবি ওই দুইজনও ল্যাজারাস গ্রুপের সদস্য এবং ক্যানাডা থেকে নাইজেরিয়া পাঠানো একটি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান

দেশের ৮০ শতাংশ লোককে দেয়ার জন্য টিকা কিনতে যে টাকা লাগবে, তা পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ের প্রায় সমান। সরকার এ অর্থের জোগাড়ের যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে সিংহভাগ আসবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। এ অর্থ ঋণ হিসেবে নেয়া হবে, যার কোনো কোনোটি শোধ দিতে লেগে যাবে ত্রিশ বছর।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কিনতে অর্থায়নের একটি পরিকল্পনা করেছে সরকার। দুই বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনায় টাকা কোথায় থেকে আসবে এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে করোনা প্রতিরোধে টিকা দেবে সরকার।

হিসাব কষে দেখা গেছে, এতে মোট ব্যয় হবে ৩৭০ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, এটি পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ের প্রায় সমান।

সরকার এ বিপুল অর্থের জোগান দেবে কোথা থেকে?

সরকারের পরিকল্পনায় এর সিংহভাগ আসবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। সহায়তার পরিমাণ হবে ২৯৫ কোটি ডলারের বেশি। অবশিষ্ট টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

জুলাইয়ের শেষে অর্থায়নের পরিকল্পনা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপন করেছে সরকার। কীভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, কত টিকা লাগবে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে পরিকল্পনায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক ঋণদানকারী সংস্থা কাছ এডিবির কাছ থেকে। সংস্থাটি দেবে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ডলার।

এরপর রয়েছে বাংলাদেশের অপর উন্নয়ন সহযোগী ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তারা দেবে ৫৫ কোটি ডলার। এ ছাড়া চীনের নেতৃতাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক বা এআইআইবি অর্থায়ন করছে ৫০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অপর উন্নয়ন অংশীদার জাপানের জাইকা দিচ্ছে ৩৫ কোটি ডলার। এর বাইরে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা দিচ্ছে ৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান
জাপান থেকে আসা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার চালান। ছবি: নিউজবাংলা

সব মিলিয়ে টিকা কিনতে উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সহজ শর্তে এবং কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এডিবি তাদের বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এ ঋণের সুদ হার হবে ২ শতাংশ এবং ২০ বছরে পরিশোধ যোগ্য। ‘রেসপনসিভ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচি’র আওতায় এডিবি এ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশকে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ঋণের সুদ হার ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং পরিশোধ করতে হবে ত্রিশ বছরে।

বিশ্বব্যাংকও তাদের বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। দুই ধাপে এই ঋণ দেয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়েরে এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী মাসে জাইকা ও এআইআইবি তাদের অর্থ ছাড় করবে।’

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও অর্থ ছাড় করবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে টিকার কার্যক্রমের আওতায় আনাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

সরকারের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সরকার প্রতি মাসে কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লাখ লোককে টিকা দেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৩ কোটি ৮২ লাখ লোককে টিকা দেয়া হবে।

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান
১২ মে চীনের উপহারের টিকা পৌঁছে ঢাকায়

অর্থাৎ দেশের ৮০ ভাগ লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে গরিব দেশগুলোর জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘কোভ্যাক্স’ এর কাছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডোজ টিকা অনুদান হিসেবে দেয়ার কথা। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ডোজ ফাইজারের টিকা।

সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের আরও বলেছে, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হওয়ায় চীন ও রাশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

সব মিলিয়ে চীন থেকে সিনোফার্মের ৬১ লাখ টিকা দেশে আসছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আরও ৩০ লাখ টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সোমবার চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে করোনার টিকা কিনতে ২৬৭ কোটি টাকা অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। এ লক্ষ্য অর্জনে থোক বরাদ্দের ১০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বরাদ্দের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলে টিকা কেনার পেছনে ব্যয় করা হবে।

তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে টাকার কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যখন যা চাইবে, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

দ্য লাস্ট মার্সেনারি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: আইএমডিবি

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ভ্যান ড্যাম অভিনীত ছবি ‘দ্য লাস্ট মার্সেনারি’। এতে একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একজন অভিনয়শিল্পী বলছেন, ‘হ্যাঁ, এটা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট’। প্রত্যুত্তরে আরেকজন বলেন, ‘এটা মেড ইন ফ্রান্স। তবে যদি এটি বাংলাদেশ থেকে আসে, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।’

কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া একটি চলচ্চিত্রে বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে।

প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারী কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক মুহম্মদ খান এই সংলাপের প্রতিবাদ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী অনেক প্রবাসী মুহম্মদ খানের ফেসবুক ওয়ালে লিখে প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করেছেন দেশের অনেকে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানও উষ্মা প্রকাশ করেছেন ওই সংলাপে।

গত ৩০ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ভ্যান ড্যাম অভিনীত ছবি ‘দ্য লাস্ট মার্সেনারি’। চলচ্চিত্রটি এখন এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তার তালিকার সেরা দশে অবস্থান করছে।

বহুল ভিউ হওয়া ছবিটিতে বাংলাদেশি পণ্যবিরোধী প্রচারণার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলচ্চিত্রটির একটি সংলাপে তার প্রমাণও মেলে।

অনেকেই মন্তব্য করেছেন ডেভিড চারহন পরিচালিত ফ্রেঞ্চ ভাষার এ ছবির মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে নিম্নমানের বলে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ছবিটির ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটে শুরু হওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, একজন অভিনয়শিল্পী বলছেন, ‘হ্যাঁ, এটা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট (Ah, yes. Bulletproof tuxedo)’।

প্রত্যুত্তরে আরেকজন বলেন, ‘এটা মেড ইন ফ্রান্স। তবে যদি এটি বাংলাদেশ থেকে আসে, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব (Made in France. If it was from Bangladesh, I,d be gone.)।

সংলাপটি নিয়ে মুহম্মদ খান তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন…

#হোক_প্রতিবাদ

"The Last Mercenary" : এ বছরই মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্স অরিজিনাল মুভি। জানি না বাংলাদেশে কতজন দেখছে, তবে কানাডায় আজকের 'টপ টেন' তালিকায় ৭-এ। মানে, লাখো কানাডিয়ান দেখছে মুভিটা। সারা বিশ্ব মিলে নিশ্চয়ই কোটি দর্শক!

মুভিটার শেষভাগে এসে একটা ডায়লগ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলাম না। পরিচালক ডেভিড চ্যারন কিংবা দারুণ জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম-এর মুভিতে এমন ডায়লগ কোনোভাবেই আশা করিনি। ডায়লগটা এমন : Ah, yes. Bulletproof tuxedo. Made in France. If it was from Bangladesh, I,d be gone.

বাংলাদেশকে, আরও স্পষ্ট করে বললে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যকে খুব নিম্নমানের হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। (স্ক্রিনশট দেখলেই বুঝবেন। অথবা মুভিটার ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের পরপরই আছে ডায়লগটা)

বিষয়টাকে নেহাত সিনেমার একটা ডায়লগ মনে করলে আমার মনে হয় চরম বোকামি হবে। এটা খুব প্রচ্ছন্নভাবে করা হয়েছে বলেই ধরে নেয়া ভালো। এবং বাংলাদেশের বা বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের নেগেটিভ ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য এসব মুভি যে মোক্ষম অস্ত্র, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না! একটা জুতসই প্রতিবাদ হওয়া দরকার না?’

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

সুজন হোসেন নামের একজন লেখেন, ‘আমরা বুলেটপ্রুফ কিছু তৈরি করি না। তার পরেও এর সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জুড়ে নিম্নমানের প্রমাণ করাটা সত্যিকার অর্থে একটা গভীর চক্রান্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক, চামড়া, ওষুধ এবং অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে।’

সুমন কায়সার লিখেছেন, ‘এত দেশ থাকতে বাংলাদেশ! প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচার হওয়া অসম্ভব না।’

শেখ শাফায়েত হোসেন লিখেছেন, ‘খান ভাই, এ রকম একটি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবাদ হওয়া দরকার। একজন বিজনেস রিপোর্টার হিসেবে আমি তো ভাই কোনোভাবেই মেলাতে পারছি না।

‘বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক। এসব পোশাকের মান এতই ভালো যে, এই লকডাউনের মধ্যেও কারখানা খুলে পোশাক বানিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পোশাকের বাইরে অন্য যেসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়, এগুলোও দেশের মধ্যে থেকে বাছাই করা সেরা পণ্য। তাহলে কেন বিদেশি মুভিতে বাংলাদেশের পণ্য নিম্নমানের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বুঝলাম না।’

সাংবাদিক নাসরিন গীতি লেখেন, ‘এটা সচেতনভাবেই ফিল্ম মেকার ব্যবহার করেছেন। দুঃখজনক। জুতসই প্রতিবাদ দরকার।’

রাশেদুজ্জামান লিটু লেখেন, ‘অবশ্যই এর যথার্থ প্রতিবাদ হওয়া উচিত। এভাবে কূটকৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগীর দালালি করে মুভির মতো একটা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অতিরিক্ত স্বার্থ হাসিলের যে অপপ্রয়াস মি. পরিচালক ডেভিড চ্যারন করেছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তার এই নেতিবাচক উক্তির ফলে আমাদের তৈরি পোশাকের বাজারে যে মর্যাদাহানি হয়েছে, তার বিপরীতে তাকে ক্ষতিপূরণসহ ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’

বিজিএমইএর সভাপতিরও উদ্বেগ

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুভিটি আমি দেখিনি। তবে যা শুনছি…সত্যিই যদি বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে এ ধরনের কোনো সংলাপ কোনো ছবিতে দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিবাদ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় উন্নত মানের পোশাক রপ্তানি করি, সে কারণেই বিশ্বের বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো আমাদের পোশাক কেনে। কোনো চলচ্চিত্র বা মুভিতে বাংলাদেশকে নিয়ে বিতর্কিত কোনো সংলাপ মোটেই সমীচীন নয়।’

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

নেটফ্লিক্স একটি মার্কিন বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সালের ২৯ আগস্ট মাসে রিড হ্যাস্টিংস এবং মার্ক রেন্ডোল্ফ দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের স্কটস ভ্যালি শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত সংস্থান মিডিয়া দর্শন এবং প্রয়োজন মাফিক অনলাইন।

নেটফ্লিক্স পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র এবং ছোট পর্দার ধারাবাহিক, চলচ্চিত্র পরিচালনায় সম্প্রসারিত হয়, এর সঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক অনলাইনে চলচ্চিত্রের বণ্টনও চালু করে।

নেটফ্লিক্স ২০১৩ সালে কনটেন্ট (নাটক, চলচ্চিত্র, ভিডিও) প্রযোজনা শিল্পে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

খাতুনগঞ্জে ক্রেতা নেই, পচে যাচ্ছে পণ্য

খাতুনগঞ্জে ক্রেতা নেই, পচে যাচ্ছে পণ্য

ক্রেতার অভাবে খাতুনগঞ্জের আড়তে পচে যাচ্ছে পণ্য। ছবি: নিউজবাংলা

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি ও তৈয়্যবিয়া ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা বলেন, বাজারে ক্রেতা নেই। আড়তে পণ্য পচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্রেতার অভাবে দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তে পচে যাচ্ছে পণ্য। কাঁচা পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে এক হাজার বস্তা আদা ও রসুন পচে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কাঁচা মসলার আড়ত হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, প্রতিবছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে মার্কেটে কাঁচা মসলার চাহিদা থাকে। এ বছরও ঈদের আগে ব্যবসায়ীরা মসলার জোগান বাড়ান, কিন্তু লকডাউনে ক্রতা না থাকায় বিক্রি হয়নি। সব মসলা পচে যেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে এক হাজার বস্তা আদা-রসুন পচে গেছে।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও পণ্য পচে যাবে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

খাতুনগঞ্জের আড়তে চীনের রসুন কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৮২ টাকা, আদা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৭ টাকায়। আর মিয়ানমারের আদা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা ও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে যে আদা বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকা কেজিতে, এখন সেই আদা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মিয়ানমারের আদা বিক্রি হয়েছিল ৬৫ টাকা করে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। রসুনও কেজিপ্রতি এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ১৭০ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি ও তৈয়্যবিয়া ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা বলেন, বাজারে ক্রেতা নেই। আড়তে পণ্য পচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কাঁচা পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিদ্দিক ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, ‘বাজারে টান নেই। এ জন্য আমদানি করা আদা-রসুন বন্দরে ফেলে রেখেছি। খালাস করেও লাভ নেই। বিক্রি হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি

মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নে প্রান্তিক খামারিদের বদলে স্বচ্ছলদের প্রণোদনার অর্থ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০১৪ এর পরবর্তী তিন বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেসরকারি ঋণ প্রবাহ বেশ কম ছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে সেই গতি ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। ফলে সম্প্রতি ঘোষণা করা মুদ্রানীতিতে প্রায় ১৫ শতাংশ ঋণ প্রদানের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। ঋণের বাজারে চাহিদাও কমেছে। করোনামুক্ত বা কমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন বেশিরভাগ উদ্যোক্তা। এর ফলে গত কয়েকবছরে ব্যাংকের তারল্য অনেক বেড়েছে।

করোনাকালে বিপর্যস্ত অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত মুদ্রানীতি খুব বেশি সহায়ক হবে না। কারণ, মহামারির এসময়ে, চলতি অর্থবছরে কি এমন চাহিদার সৃষ্টি হবে, যাতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়তে পারে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশে এমন প্রশ্নই তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

‘সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি কি অর্থনীতির বর্তমান চাহিদা মেটাতে পারবে? সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার এ কথা জানায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংস্থাটি জানায়, করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বিপর্যস্ত দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা। যার প্রভাব পড়েছে পুরো অর্থনীতির খাত-উপখাতে। আর এ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সম্প্রতি আগামী অর্থবছরের জন্য বাজারে মুদ্রা সরবরাহ নীতি অব্যাহত রেখেই সম্প্রসারণশীল মুদ্রানীতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি

সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা

সিপিডি বলছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ পর্যাপ্ত নয়। করোনার আগে একাধিক বছরে এ অর্থায়ন নিম্নমুখী ছিল। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক বিনিয়োগে। লাগামহীন খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ছে ব্যাংকগুলোতে। যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়ার শংকার পাশাপাশি পুঁজিবাজারসহ অন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগেরও শংকা বাড়াচ্ছে।

তারা বলছে, বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাপক মুদ্রার যোগান কিংবা মূল্যস্ফীতি, চলতি অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া মুদ্রানীতিতে বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অপূর্ণই থেকে যাবে। মুদ্রানীতির আলোচনায় ব্যাংক খাতে অধিক তারল্য, প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকারের দেয়া ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার অপব্যবহার আর নগদ প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক বন্টন না হবার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

এ অবস্থায়, করোনার এই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মুদ্রানীতির গুণগত বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

সংস্থাটি বলছে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জীবন ও জীবিকার মেলবন্ধনের জন্য অন্তত ৭০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। আর এ জন্য সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূল প্রবন্ধে দেশে করোনা শুরু আগের অর্থনীতির সূচকগুলোর চালচিত্র ও পরের দিনগুলোতে ব্যাংক খাতের সংকটের ওপর আলোকপাত করেন ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ২০১৪ এর পরবর্তী তিন বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেসরকারি ঋণ প্রবাহ বেশ কম ছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে সেই গতি ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। ফলে সম্প্রতি ঘোষণা করা মুদ্রানীতিতে প্রায় ১৫ শতাংশ ঋণ প্রদানের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। ঋণের বাজারে চাহিদাও কমেছে। করোনামুক্ত বা কমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন বেশিরভাগ উদ্যোক্তা। এর ফলে গত কয়েকবছরে ব্যাংকের তারল্য অনেক বেড়েছে।

মহামারিতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিডি। তারা দাবি করেন, করোনায় নিম্নবিত্তের আয় আরও কমেছে। বেড়েছে অনেক পণ্যের দাম। তাই এ লক্ষ্য বাস্তবতা বিবর্জিত।

সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েক মাস অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত নতুন মুদ্রানীতিতে তাদের সম্প্রসারণমূলক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। বেসরকারিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন কঠিন হবে। এ পরিস্থিতিতে, ঋণ প্রবাহ ১২ শতাংশ পর্যন্ত সংশোধন করা যেতে পার।

প্রণোদনার টাকা ফেরত আসা নিয়ে শঙ্কা

সিপিডি বলছে, প্রণোদনার ঋণের টাকা ফেরত আসবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ব্যাংকগুলো। কারণ, ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হওয়ার প্রবণতা এ দেশে আছে। করোনার মতো সংকটের সুযোগে অনেকে ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হয়ে যেতে পারেন। বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রণোদনার টাকা বড় উদ্যোক্তারা ব্যবহার করতে পারছেন। কিন্তু ছোট উদ্যোক্তারা প্রণোদনার অর্থ তেমন পাচ্ছেন না। ফলে ছোটরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না, তারা পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। মহামারির সময় এতে বৈষম্য বেড়ে যাবে এমন আশঙ্কা আছে।

অতিরিক্ত তারল্য তুলে নেয়া

সিপিডি মনে করে, বাজারে এখন অধিক তারল্য আছে। উৎপাদনশীল খাতে অর্থ না গিয়ে পুঁজিবাজারে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি।

তারা বলছে, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রণোদনার অর্থ শেয়ারবাজারে যাচ্ছে। সিপিডি মনে করে, করোনার কারণে অর্থনীতির এই অবস্থায় শেয়ারবাজার চাঙা হওয়ার কারণ নেই।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ইদানীং সন্দেহজনক স্টকে বিনিয়োগ বাড়ছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি শেয়ারের দাম বাড়িয়ে টাকা বানানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কাজ করতে পারে।’

ফাহমিদা খাতুন তার উপস্থাপনায় বলেন, গত এক বছরে অতিরিক্ত তারল্য দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারিখাতের ঋণের চাহিদা না থাকায় তারল্য বেড়েছে।

তিনি বলেন, নতুন মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রার হার শিথিল রেখেছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে চিন্তা করার। অতিরিক্ত তরলতা সংগ্রহের জন্য সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) প্রয়োজন বাড়িয়ে দিতে পারে।

রেমিট্যান্স প্রণোদনা

প্রবাসী আয় অধিক তারল্য সৃষ্টি করছে কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিভিন্ন পরিবারের আয় কমেছে, তাদের সহায়তায় বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসছে। ২ শতাংশ প্রণোদনাও এতে কাজ করছে। রেমিট্যান্সের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন রেমিট্যান্স থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা উঠিয়ে নিতে পারে। তিনি রেমিটেন্সের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ৫ হাজার ডলার রেমিট্যান্সে কোনো যাচাই–বাছাই ছাড়া ২ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ করুন বাংলাদেশের আইটি খাতে  

বিনিয়োগ করুন বাংলাদেশের আইটি খাতে  

সানফ্রান্সিসকোর সান্তা ক্লারার হায়াত রিজেন্সিতে হয় ১০ দিনব্যাপী রোডশোর সমাপনী। ছবি: নিউজবাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে রোডশোতে একাধিক বক্তা বলেন, বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের পরই সম্ভাবনাময় আইটি খাত। একদিকে দেশীয় বাজারে আইটি খাতের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রপ্তানি খাতেও তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এসব বিষয় সামনে রেখে বিনিয়োগবান্ধর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে এ খাতে বিনিয়োগে বিদেশি ও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত রোডশোর বক্তারা।

তারা বলেছেন, বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের পরই সম্ভাবনাময় আইটি খাত। একদিকে দেশীয় বাজারে আইটি খাতের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রপ্তানি খাতেও তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এসব বিষয় সামনে রেখে বিনিয়োগবান্ধর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ১০ দিনের রোড শোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

তারা বলেন, আইটি খাতে বিনিয়োগ করলে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে।

সানফ্রান্সিসকোর সান্তা ক্লারার হায়াত রিজেন্সিতে রোডশোর মূল বিষয় ছিল ‘রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়াল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মেয়র লিসা এম গিলমোর। বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, বিএসইসির কমিশনার ড. মিজানুর রহমান।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাত। বিভিন্ন উৎপাদনশীল কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা, মিডিয়া এবং বিদ্যুৎ খাতেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাত। অর্থমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে নেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এই অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ চাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উচিত। আর প্রবাসীদের সব ধরনের জটিলতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে যাচ্ছি।’

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, মুদ্রার বিনিময় হার, যুব শ্রমশক্তি এবং ইকো সিস্টেম সবকিছুই বিনিয়োগ উপযোগী।’

তিনি বলেন, ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ বিজনেসের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাপক বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ।

‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার রয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। কম মূল্যে শ্রমিক, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অন্যান্য সেবা মিলছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের প্রথম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে রপ্তানিতে বিভিন্ন দেশে উচ্চ শুল্ক দিতে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করলে চীন, ভারত, ইউরোপ ও জাপানের বাজার থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিতে পারবে।’

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতি পরিস্থিতি নিয়ে শিবলী বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে বেশ কিছু সংস্কার হয়েছে। আর এসব সংস্কারের সুফল মিলছে।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আইটিভিত্তিক স্টার্টআপকে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এবারের বাজেটেও বিভিন্ন সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ২৯টি হাইটেক পার্কের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব পার্কে ইউটিলিটি সুবিধা সবচেয়ে বেশি।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে। করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে সরকার। এগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

‘সবকিছু মিলে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে আর্কষণীয় পরিবেশ রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তুলে ধরতে গিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলো বাংলাদেশ। একই পূর্বাভাস দিয়েছে আরেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ। আর মোট জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিকে সাপোর্ট দিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৬০ ডলার। বর্তমানে তা ২ হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

করোনার মধ্যেও ২০২০ সালে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুসারে করোনার মধ্যে ২৩ দেশ অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক অবস্থানে থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমশক্তি ৭ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কোটিই বয়সে তরুণ। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

এ সময়ে হাতে নগদ টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠছে নাগরিকদের কাছে নগদ টাকা। চাহিদামতো দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট ক্রয়, দেশে ও বিদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ—সবই হচ্ছে এ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। সময়মতো বিল পরিশোধ করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিস্তি না দিলেই গুনতে হবে চড়া জরিমানা।

‘করোনা মহামারি চলছে। চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে শাটডাউন দিয়েছে সরকার। এই মুহূর্তে কী করে ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধ করব? বের হলেই তো রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে জবাবদিহি করতে হবে। হেনস্তার শিকার হতে হবে। কিন্তু সময়মতো কিস্তি জমা না দিলেও আছে জরিমানার খড়্গ।’

আক্ষেপের সুরে এসব কথা জানান বেসরকারি একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী আতিয়া খানম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবারের পর রোববারও ব্যাংক বন্ধ ছিল। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতে কোন শাখা খোলা, সেটা জানেন না তিনি। এখন বিল কীভাবে দেবেন, সেটা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। কারণ সপ্তাহে মাত্র সোম, মঙ্গল আর বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখা খোলা।

এ সময়ে হাতে নগদ টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠছে নাগরিকদের কাছে নগদ টাকা। চাহিদামতো দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট ক্রয়, দেশে ও বিদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ—সবই হচ্ছে এ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। সময়মতো বিল পরিশোধ করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিস্তি না দিলেই গুনতে হবে চড়া জরিমানা।

গত বছর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর লম্বা একটা সময় ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর চলতি বছর ৫ এপ্রিল এক সপ্তাহের লকডাউন চলাকালে ক্রেডিট কার্ডধারীদের বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনায় রাখলেও এরপর দফায় দফায় শাটডাউনে সেটি নিয়ে ভাবা হয়নি। সময়মতো বিল পরিশোধ না করা হলে জরিমানা না নেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

কঠোর বিধিনিষেধে ব্যাংকের সব শাখাও খোলা থাকবে না। সব ব্যাংকের বুথে টাকা জমা দেয়ার পদ্ধতিও নেই। ফলে এবার সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ডের বিল জমা দেয়ার কোনো একক তারিখ নেই। একেকজনের ক্ষেত্রে এটি একেক রকম। তবে নির্ধারিত সময়ে বিল দিতে না পারলে সেখানে বিলম্ব ফি ছাড়াও উচ্চ হারে সুদ গুনতে হয়। এ কারণে গ্রাহকরা কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধে জোর দিয়ে থাকেন।

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

ক্রেডিট কার্ডের বিল অনলাইনেও জমা দেয়া যায়। তবে সবাই অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করেন না। তারা ব্যাংকে গিয়েই টাকা পরিশোধ করেন।

পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) বিকাশের মাধ্যমে সহজেই কার্ডের বিল পরিশোধ করা গেলেও সবাই সেটা বোঝেন না। দেশে ইস্যু হওয়া ভিসা ও অ্যামেক্স ব্র্যান্ডের সব ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করা যাবে বিকাশের মাধ্যমে। এর বিপরীতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১ শতাংশ মাশুল গুনতে হবে।

এবার শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর বিধিনিষেধে সরকার অনেক কঠোর। মানুষকে ঘরে রাখতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বের হওয়ায় মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, বিধিনিষেধ চলাকালে শুক্র ও শনিবারের পাশাপাশি ব্যাংক বন্ধ থাকবে রোববার ও বুধবার। বাকি দিন সবগুলো শাখা খুলবে না। প্রতিটি ব্যাংক প্রয়োজন অনুসারে শাখা খোলা রাখতে পারবে।

ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো দিতে না পারলে জরিমানার পাশাপাশি অনেক বেশি হারে সুদ দিতে হয়। ব্যাংকে সুদহার ৯ শতাংশ হলেও কার্ডের সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আছে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফুল হোসেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে আয় কমে গেছে। কোম্পানি বন্ধ থাকার কারণে লোকসান গুনতে হবে। সামনে অবস্থা আরও খারাপ হবে কি না, বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে গত মাসে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা ঋণ নিয়েছি। এই মুহূর্তে কিস্তি দেয়া সম্ভব নয়। বিলম্ব ফি ও চক্রবৃদ্ধি সুদ আরোপ হলে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।’

ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার

বাংলাদেশে গত এক দশকে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক ছিল ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭১, যা চলতি মে মাসে বেড়ে হয়েছে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৪। ফলে এক বছরে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪১৩।

গত মে মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৭১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ বছর মে মাসে সেটা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশে ইস্যু হওয়া ১৭ লাখ ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশই ভিসা ও অ্যামেক্স ব্র্যান্ডের। এর মধ্যে ভিসা কার্ড রয়েছে প্রায় সব ব্যাংকের। আর অ্যামেক্স কার্ড এককভাবে বাজারে এনেছে দ্য সিটি ব্যাংক। এর বাইরে আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের কার্ড চালু রয়েছে দেশে।

ব্যাংকাররা যা বললেন

দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে কার্ড সেবায় শীর্ষে বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অনেকে শাখায় গিয়ে সেবা নিতে চাইছেন না। ফলে বিকল্প সেবা মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। তবে কিস্তি শোধে এবার কোনো ছাড়ের নির্দেশনা নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেয়নি। ’

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরফান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে বেশ কিছুদিন ধরে শাখা থেকে সীমিত লেনদেন চলছে। এ জন্য কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে ব্যাংকগুলো বেশ আগ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। আগে কার্ডের ব্যবহার করতেন না- এ রকম অনেকেই এখন এদিকে ঝুঁকছেন। করোনার এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেকোনো নির্দেশ পরিপালন করা হয়। ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো নির্দেশনা দিলে সেটা মানা হবে।’

ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে কোনো ছাড় দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালায় অন্য যেকোনো ঋণের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বেশি সুদ নিতে পারবে বলে জানানো হয়।

২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব ঋণে সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মানে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। তবে এই নির্দেশনাও অমান্য করে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করত।

ফলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না বলে নতুন নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।

এতে আরও বলা হয়, ক্রেডিট কার্ডে সুদ আরোপ শুরু হবে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের পর। বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৪৫ দিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়।

আর ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমার বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না।

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটায় ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনা সুদে বিল পরিশোধের সুযোগ থাকে। অর্থাৎ প্রতি ৩০ দিনের খরচের ওপর বিল তৈরি করে ওই বিল পরিশোধের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে কোনো সুদ আরোপ করা হয় না। আর এই সময় পার হয়ে গেলে ওই বিলের ওপর সরল হারে সুদ আরোপ করে ব্যাংক। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে এই সুদহার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা তার অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করছে। এতে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুসরণীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা না হলে প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।’

মহামারি করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার যে ঋণ বিতরণ করেছে সেই ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা তার অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করছে। এতে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুসরণীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা না হলে প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।’

সোমবার দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রণোদনার ঋণ যাতে যথাযথ ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

‘করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ যাতে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার না হয়, সেজন্য এসব ঋণের সদ্ব্যবহারের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।’

এর আগে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে একই ধরনের নির্দেশনা দেয়।

১ আগস্ট রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের আরেকটি চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার যে ঋণ বিতরণ করেছে, সেই ঋণ কোথায় গেছে, কারা নিয়েছে, তা ১৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে। যদি এই প্রণোদনার টাকা যাদের প্রয়োজন তারা না পেয়ে থাকেন, অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্তরা না পেয়ে অন্য কেউ পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ঋণগ্রহিতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সব মিলিয়ে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ছোট ও বড় ব্যবসায়ীরা (বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত) স্বল্প সুদে ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণের মোট সুদের অর্ধেক ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধন জোগান দেয়ার জন্য ৩৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের মতো এসব ঋণের সুদহারও হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ দেবেন গ্রাহক। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময়ও প্রণোদনা ঋণের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন গভর্নর ফজলে কবির।

তিনি বলেন, ‘এটা অনস্বীকার্য যে, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম অনেকটা শিথিল থাকায় প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কিছু অপব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশের গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’

‘এ প্রসঙ্গে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, বর্তমানে করোনার দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরেজমিনে পরিদশর্ণ/নিরীক্ষা কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্থ হলেও প্রযুক্তিনির্ভর অফ-সাইট নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর টাকা যে উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে, তা যেন অন্য কোন উদ্দেশে ব্যবহৃত হতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নজরদারি বাড়িয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

‘একইসঙ্গে, করোনা পরিস্থিতির কাঙ্খিত উন্নতির সাথে সাথেই প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদারকরণের পাশাপাশি এর ব্যবহার ও ফলাফল বিষয়ে বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’

এছাড়া আর্থিক খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং বিদেশে অর্থপাচার রোধকল্পে বিএফআইইউয়ের মাধ্যমে আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান ফজলে কবির।

আরও পড়ুন:
গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

শেয়ার করুন