২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স

২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রেমিট্যান্স

দেশের ইতিহাসে এর আগে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। অর্থবছর শেষ হতে আরও ১৩ দিন বাকি। এই ১৩ দিনে যদি ৯২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, তাহলেই এবার ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ২৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়ে চলেছে। প্রতি মাসেই বেশি বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি জুন মাসের ১৭ দিনেই (১ থেকে ১৭ জুন) ১২৪ কোটি ৪৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

আর সব মিলিয়ে ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাস ১৭ দিনে (২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৭ জুন) ২ হাজার ৪০৮ কোটি ১৭ লাখ (২৪.০৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

দেশের ইতিহাসে এর আগে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আসেনি। অর্থবছর শেষ হতে আরও ১৩ দিন বাকি। এই ১৩ দিনে যদি ৯২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, তাহলেই এবার ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।

এমন প্রত্যাশা কিছু দিন ধরেই জানিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মাসখানেক আগে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’

অর্থমন্ত্রীর সেই আশার হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ১৭ দিনে যে রেমিট্যান্স এসেছে, বাকি ১৩ দিনে যদি সেই হারে আসে, তাহলে এই ১৩ দিনে আসার কথা ৯৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্সের অঙ্ক দাঁড়াবে ২১৯ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে।

আর ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ গিয়ে ঠেকবে ২৫ দশমিক ০৩ ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণত দুই ঈদের আগে রেমিট্যান্স বেশি আসে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে কোরবানির ঈদ। কোরবানির গরু কেনাসহ ঈদের অন্য খরচের জন্য এই মাসের শেষের দিকে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘সে হিসাবে অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, এবার রেমিট্যান্স ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াচ্ছে।’

গত মে মাসে ২১৭ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৭০ লাখ (২২.৮৩ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

এই ১১ মাসে গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস, জুলাই-জুন) চেয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহে ভাটা পড়ে। ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

এই বছরের মার্চ মাসে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের মার্চের চেয়ে ৫০ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের মার্চে ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার এসেছিল।

মহামারির মধ্যেই অর্থবছরের প্রথম মাস গত বছরের জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এক মাসের হিসাবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। কোভিডের আঁচ বিশ্বের অর্থনীতিতে লাগার পর গত বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স কমলেও এরপর থেকে বাড়ছেই।

গত আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। সেপ্টেম্বরে আসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছিল ২১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে আসে ২০৫ কোটি ডলার।

এ বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমে ১৭৮ কোটি ডলারে নেমে আসে। মার্চ মাসে আসে ১৯১ কোটি ডলার। এপ্রিলে এসেছিল ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ। তবে দেখা গেছে, পাশের দেশ ভারতে ৩২ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রিজার্ভ

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েই চলেছে। সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৮ এপ্রিল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে গত ৪ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এক মাসেরও কম সময়ে ১ জুন তা ফের ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত তিন সপ্তাহে তা আরও বেড়ে ৪৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এই অর্থবছরেই অর্থাৎ, জুন মাসের মধ্যেই রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাইভেটকার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রাইভেটকার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ভ্যানচালক সৈয়দ আলী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাইভেটকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ্যানের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলীর বাড়ি উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের সাংরাইল গ্রামে। আরেকজনের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সৈয়দ আলী ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তার ভ্যানে এক যাত্রী ছিলেন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত ভ্যানচালক সৈয়দ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

এসআই বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত সৈয়দ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরেকজনের মরদেহ নিয়ে গেছে তার পরিবার। মৃত আরেকজনের বাড়ি আশপাশের ইউনিয়নে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার থানাপাড়া পুরাতন বাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত মা ও বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন ও তার ২ বছর বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা ওই এলাকার মো. রতনের স্ত্রী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে রতনের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমা ও জিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয়েছে প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয় প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট https://bit.ly/3lqzGPo থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

কবে পরীক্ষা

আগামী ৩০ অক্টোবর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

যেভাবে মূল্যায়ন হবে

মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্জিত মেধা স্কোরের ক্রমানুসারে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ জন্য মাধ্যমিক/ও লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ; উচ্চ মাধ্যমিক/এ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ করে এই দুইয়ের যোগফল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ তে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধাস্কোর নির্ণয় করা হবে। সে অনুযায়ী তৈরি করা হবে মেধাতালিকা।

মেধাস্কোরের ভিত্তিতে নির্ণয় করা মেধাক্রম অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাতালিকা ও ফলাফল ভর্তি পরীক্ষার পর সাত দিনের মধ্যে ঢাবির ভর্তি ওয়েবসাইটে (http://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে। প্রার্থী এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারবেন।

মেধাতালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অনলাইনে কলেজ ও বিষয় পছন্দকরণ ফরম পূরণ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম ও ভর্তির যোগ্যতা অনুসারে বিভাগ বণ্টনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসএসসি এবং এইচএসসির মূল নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা রাখা হবে।

সাত কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’   

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন।

যশরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম রিয়েল বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে তামজিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

নিহত তামজিরুলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কোর্শাপুর গ্রামে। তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিমানবন্দরে কাজ করার সময় তাকে পতাকা স্ট্যান্ডে পতাকা বাঁধতে এবং লাইট সেট করতে বলা হয়। সে সময় তামজিরুল কোমরে সেফটি বেল্ট বেঁধে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ সেফটি বেল্টটি ছিঁড়ে গেলে তিনি নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

গফরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।’

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

নওগাঁয় ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় বিপাকে কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

আমন চাষের মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ নওগাঁয় বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম। ধান চাষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারটির প্রতি বস্তায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রায় ৬৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিশস্য রয়েছে আরও ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

ভরা মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া সারের আনুমানিক চাহিদা ৩৩ হাজার টন। এসব সার সরবরাহে জেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন ১২৭ জন।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৬৬ হাজার পরিবার কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে।

তবে গত ১০-১৫ দিন আগে নানা অজুহাতে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

এ বিষয়ে সঠিক তদারকি ও বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন জানান, ‘হামি পাঁচ বিঘা জমিত আমনের আবাদ করিছি। ধান লাগানার শুরুত ইউরিয়া সারের দাম আছিল বস্তাপ্রতি ৮১০-৮২০ টেকা করা। বর্তমানে প্রতি বস্তা দাম ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টেকা পর্যন্ত বাড়া গেছে।

‘প্রতি বস্তায় যদি কয়েক দিনের মধ্যে ৮০ থ্যাকা ১০০ টেকা পর্যন্ত বাড়া যায় তালে হামরা কীভাবে আবাদ করা পোষামু। বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াছে ইচ্ছা করা।’

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক সুবল দাস বলেন, ‘হামি ১০ বিঘা জমিত আমন ধানের আবাদ করিছি। প্রতি বিঘাত জমি হালচাষ, নিড়ানি, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ দিয়া মোট সাড়ে ৭ হাজার থ্যাকা ৮ হাজারের মতো খরচ হয়। আর ফলন ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮ থ্যাকা ১০ মণের মতো ধান পাওয়া যায় প্রতি বিঘাত।

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

‘এখন আমনের ভরা মৌসুম, তাই এখন ইউরিয়া সার জমিত দেওয়া লাগে। তবে বাজারোত প্রতি বস্তাত প্রায় ৮০-১০০ টেকার মতো বেশি দাম বাড়া গেছে। দোকানদাররা কচ্ছে, সারের নাকি সাল্পাই কম, তাই দাম বেশি। এত দাম যদি সারোত বাড়া যায়, জমির অন্য খরচ তো আছেই, সব মিলা তো কুলা উঠা পারমু না হামরা।’

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন বলেন, ‘হামাকেরে এটি ইউরিয়া সার বস্তাপ্রতি কেনা লাগিচ্ছে ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টাকা দরে। কয়েক দিন আগেই ৮১০ থ্যাকা ৮২০ টেকা বস্তা দাম আছল। হঠাৎ দাম বাড়া গেল। কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সবার চাহিদা মিটায়, কিন্তু কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে কেউ দেখে না।’

নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জাহিদুর রহমান জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে খুচরায় বিক্রি করেছেন ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে।

এখন ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সেই সার তারা কৃষকের কাছে ৮৯০ কেউ ৯২০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রি করছেন।

নিয়ামতপুর উপজেলার স্থানীয় ছাতড়া বাজারের সার ডিলার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পাচ্ছি না। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়াও বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে সার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে আমরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি তো করছি না।’

জেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কোনো সংকট হয়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে বিসিআইসি ডিলাররা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সার উত্তোলন করেছেন।

‘এখন পর্যন্ত ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনোভাবেই যাতে সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি না নেয়া হয় সেটা ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানান, ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি। তবে কৃষকরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন তাহলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়ার কথা বললেন, সে ক্ষেত্রে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

মোবাইল ও কম্পিউটার ডিভাইস মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিতে বাড়ছে শিশুদের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ মাইয়োপিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় বাচ্চাদের হাতে উঠেছে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, নোটবুক। যারা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে ছিল তারাও হয়েছে আসক্ত। খেলার সময়, খাওয়ার আগে, অনলাইন ক্লাস, ঘুমের সময় ক্ষণে ক্ষণে চাই মোবাইল। আর এতে করে শিশুদের মাঝে ‘মাইয়োপিয়া’ বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী আরিশা। বয়স ১১ বছর। চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে গেল তিন বছর ধরে চশমা ব্যবহার করছেন। ছয় মাস পর পর চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা লাগে। সবশেষ জুনে চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরিশার মা ফামিদা তারিন জানান, এটা জন্মগত কোনো সমস্যা নয়। পড়াশোনা ও অধিক সময় মোবাইল ব্যবহারের কারণে কমে এসেছে দূরের দৃষ্টি শক্তি। করোনার কারণে মোবাইল নির্ভরতা আরও অনেক বেড়েছে। করোনার মধ্যে রুটিনের বাইরে চলে গেছে মোবাইল ব্যবহারের পরিমাণ।

ফামিদা বলেন, ‘মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা ও চোখ ব্যথায় ভোগে আরিশা। এখন রাতে ঘুমায় দেরি করে, সকালে ওঠে দেরি করে। উঠেই মোবাইল খোঁজে। কিছু বললে বলে মোবাইলে পড়ালেখা করবে। আর আমরা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় মনিটরিংও করতে পারছি না।’

আরিশার মতো হাজার শিশু এখন এই সমস্যায় ভুগছে।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় বাচ্চাদের হাতে উঠেছে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, নোটবুক। যারা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে ছিল তারাও হয়েছে আসক্ত। খেলার সময়, খাওয়ার আগে, অনলাইন ক্লাস, ঘুমের সময় ক্ষণে ক্ষণে চাই মোবাইল। আর এতে করে শিশুদের মাঝে ‘মাইয়োপিয়া’ বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।

করোনার সময়ে মাইয়োপিয়ায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

কী পরিমাণ এমন রোগী রয়েছে তার পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। গেল দুই বছরে এই হাসপাতাল থেকে সেবা নেওয়া মাইয়োপিয়া রোগী সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ।

হাসপাতাল পরিসংখ্যান বলছে, করোনার আগে এই হাসপাতালে সেবা নেয়া রোগীর ২২ শতাংশ মাইয়োপিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেতে। করোনা কারণে ঘরবন্দি থাকায় শিশুদের মধ্যে বেড়েছে এ রোগ। এখন বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর শিশুরা ঘরবন্দি। কাজ না থাকায় সারাক্ষণ স্ক্রিনে; দূরের জিনিস দেখেনি। ফলে তাদের দূরের দৃষ্টিশক্তি ঠিকমতো তৈরিই হচ্ছে না। আটবছর পর্যন্ত শিশুদের চোখের গঠনগত পরিবর্তন হতে থাকে। এই বয়সের শিশুরা যদি দূরের জিনিস না দেখে তাহলে আস্তে আস্তে দূরের দৃষ্টিশক্তিই হারিয়ে ফেলবে। বড় হওয়ার পরেও তাদের এই সমস্যা কাটবে না।

এ বিষয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিউটের অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, করোনার কারণে মায়োপিয়া রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসপাতালে রোগী অনেকগুণ বেড়েছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী দেখলেও এখন এই সংখ্যা বেড়ে ৩০০ খেকে ৪০০ হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩ শতাংশই দূরে দেখার দৃষ্টিতে সমস্যা নিয়ে আসে। তার একটি বড় অংশ শিশুরা।’

খায়ের আহমেদ জানান, করোনার আগে ২০১৯ সাল ও ২০২০ সালে ২০ থেকে ২২ শতাংশ ছিল মাইয়োপিয়া। করোনার মধ্যে এ জাতীয় রোগীর হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ করোনা মধ্যে শিশুদের ডিভাইসে আশক্তি।

শিশুরা এখন অধিকাংশ সময় এখন অনলাইনে কাটায়। করোনা সংক্রমণের আগে বাচ্চারা বাবা-মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানের ঘুরতে যেতে পারত, এখন সেটাও করতে পারেনা। ঘরবন্দি বাচ্চারা সময় কাঁটতে মোবাইলকে বেছে নিচ্ছে। ঘুমের সময় ছাড়া বাকি সময় কাটছে মোবাইলের মাধ্যমে।

কারণীয় কী

করোনার কারণে এতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে। শিশুদেরকে মোবাইল, ল্যাপটপ জাতীয় ডিভাইস থেকে ফেরাতে তাদের হাতে তুলে দেয়া যেতে পারে গল্পের বই। সেই সঙ্গে শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়েরা গল্প করতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে মিলে মাঝে মাঝে আড্ডার ব্যবস্থা করতে পারে।

সবাই মিলে চেষ্টা করলে এই সমস্যা কাটিয়ে তোলা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিলে যেন বিরতি নেয়। ৩০ মিনিট পর পর গ্যাপ দিলে বেশি ভালো হয়।

এ সমস্যা কাটাতে আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছেন তারা। শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে। শহর এলাকার বাচ্চাদের বেশির ভাগ চিকেনের ওপর নির্ভরশীল। এই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দূরের দৃষ্টি কমছে শিশুদের

ডিভাইসগুলো অবশ্যই সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে হবে। অল্প আলোতে লেখাপড়া যাতে না করে সেটাও লক্ষ্যে রাখতে হবে। বাড়ির কাজ করলে বিরতি দিয়ে দিয়ে করতে হবে। গল্পের বই একটানা যেন দীর্ঘ সময় ধরে না পড়ে। এক্ষেত্রে শুধু অভিভাবকরা নয়, চিকিৎসক ও শিক্ষকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞানের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজনীন খান নিউজবাংলাকে বলেন, চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত সমস্যা দূর করতে কোনোভাবে যেন একনাগাড়ে কম্পিউটারের সামনে বা কোনো ডিভাইসের সামনে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষ্য, শিশুদের চোখের সমস্যা স্থায়ী হয়ে যাওয়ার কারণ সঠিক সময়ে তাদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় না। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি কম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যতক্ষণ তারা কথা না বলে বোঝাতে পারছে ততক্ষণ তাদের অভিভাবকরা বুঝতেই পারেন না তার শিশুর চোখের দৃষ্টিশক্তি কত।

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন

জামিন চেয়ে ‘শিশু বক্তা’ রফিকুলের হাইকোর্টে আবেদন

জামিন চেয়ে ‘শিশু বক্তা’ রফিকুলের হাইকোর্টে আবেদন

মতিঝিল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ২৫ মার্চ আটক করা হয় ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে, যিনি ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

রফিকুলের আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আমরা জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। মামলা দুটির মধ্যে একটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানায়, আরেকটি গাজীপুরে বাসন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাসহ দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আটক ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানি।

তার পক্ষে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে বুধবার আবেদন করেন আইনজীবী আশরাফ আলী মোল্লা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আমরা জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। মামলা দুটির মধ্যে একটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানায়, আরেকটি গাজীপুরে বাসন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।’

বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানান এই আইনজীবী আশরাফ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত ১১ এপ্রিল মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি মামলা হয়। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ৭ এপ্রিল ভোরে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাবের একটি দল।

এর আগে মার্চে পল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছিল। সেবার কিছু শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। পরে শর্তগুলো রাখেননি তিনি।

আরও পড়ুন:
২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সে চমক
১১ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯.৫%, রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঈদের পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স

শেয়ার করুন