সামাজিক উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

সামাজিক উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান পুনরুদ্ধারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করতে এ ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা

এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক খাতবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ হিরোকো উচিমুরা শিরোশিই বলেছেন, মহামারির প্রভাব মোকাবিলার জন্য সামাজিক সুরক্ষায় সহায়তা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান পুনরুদ্ধারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করতে হবে। এডিবির এই অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা)। অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি ও সামাজিক উন্নয়নে এই ঋণ দিচ্ছে এডিবি।

আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে এই ঋণ দেবে এডিবি।

ম্যানিলাভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ গত দুই দশকে দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের তথ্যানুযায়ী কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনও শুধু জীবনধারণের পর্যায়ে আছে। এ ছাড়া কোভিডের অভিঘাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরে কমে গেছে।

ঋণ সম্পর্কে এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক খাতবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ হিরোকো উচিমুরা শিরোশিই বলেছেন, মহামারির প্রভাব মোকাবিলার জন্য সামাজিক সুরক্ষায় সহায়তা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান পুনরুদ্ধারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করতে হবে। এডিবির এ অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারকে সামাজিক সুরক্ষাগুলো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

কর্মসূচির মাধ্যমে ৬২ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য বয়স্ক ভাতা এবং ১৫০টি জেলা বা উপজেলায় বিধবা, নিঃসঙ্গ ও নিঃস্ব নারীদের জন্য ভাতার আওতা বাড়ানো হবে। অবহেলিত নারীদের কাছে এর পরিধি আরও প্রসারিত হবে। অন্যান্য সংস্কারের মধ্যে রয়েছে মোবাইল আর্থিক পরিষেবা ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া এবং ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।

এর আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কার কর্মসূচি আছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কেবল দারিদ্র্য বিমোচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যেও এই ঋণসহায়তা ব্যবহৃত হবে।

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ধোঁয়াশা

সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ধোঁয়াশা

সিঙ্গার কারখানার গুদামে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে মালামাল। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তারের মাধ্যমে আগুন গুদামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকলেও আগুন লাগার কারণ অন্য কিছু। আর ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামের ভেতর থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার সাভারে সিঙ্গারের কারখানার গুদামে অগুনে পুড়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক পণ্য। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তারের মাধ্যমে আগুন গুদামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকলেও আগুন লাগার কারণ অন্য কিছু।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামের ভেতর থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করে।

ঢাকার সাভারে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশের গুদামে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে জানান, প্রথমে দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যায়। পরে নিয়ন্ত্রণে কাজে যোগ দেয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, গুদামে সিঙ্গারের ফ্রিজ, এসি ও টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ছিল।

চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পুড়ে যাওয়া গুদাম পরিদর্শন করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেস্তোরা মালিক জীবন সরকার বলেন, ‘আমরা ভোর ৪টার দিকে দোকান খুলছি। সকাল সাড়ে ৭টার পর খাম্বা থেকে দুইটা ফায়ার হয়। একটা ফায়ার খুব জোরে হয়। তহন আমরা এই দিকে আয়্যা পড়ি। তখন একটা তার ঝুইলা থাকে।

‘ওই তারটা বাড়ি খায়্যা আবার ফায়ার হয়। তখন এই জায়গাটা থাইকা একটা তার ছিড়া যায়। ছিড়া তার থেকে গুদামের পিছনে মিটারে আগুনডা ধইরা যায়। পরে পুরা গোডাউনে আগুন ধইরা যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ’সকালে গুদামের সামনে প্রথম টান্সমিটারে বিস্ফোরণ হইছে। তখন একটা তার ছিড়া নিচে পড়ে। পরে দেখি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হইছে। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিছি।’

সিঙ্গারের ওয়্যারহাউজ ম্যানেজার মৃণাল কান্তি জানান, ‘হঠাৎ করে আমরা খবর পাই ভেতর থেকে ধোঁয়া আসতেছে। তখন সাথে সাথে চলে আসছি। সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন একজন, উনি আমাদের ফোন করছে।

‘আমাদের স্থানীয় লোকজন জানান, বাইরে যে ট্রান্সমিটার ছিল, ওইটা ব্লাস্ট হইছিল। কিন্তু ওনারা বুঝতে পারে নাই যে ভেতরে আগুন লাগছে। পরে যখন ধোঁয়া উঠছে তখনি আমাদের ইনফর্ম করে। তবে মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই।

‘ভিতরে ম্যাক্সিমাম নতুন ফ্রিজ আর কিছু জিনিসপত্র ছিল। সবকিছু পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে ৩-৪ ঘণ্টা লাগছে।’

ফায়ার সার্ভিসের ৪ নম্বর জোন কমান্ডার আব্দুল আলীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম যে ম্যাসেজ দিয়েছেন, তিনি জানান, এখানে একটা ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটছে। পরে ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে গেছে। এই আগুন থেকে গুদামে আগুন লেগে গেছে।’

এভাবে আগুন লাগতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তার সরাসরি গুদামের ভেতরে গেছে। ওই সাইডে গিয়ে আগুন লেগে গেছে। এভাবে আগুন লাগা সম্ভব। অবশ্যই এটা একটা বড় কারণ।

‘আমরাও ধারণা করছি ওইটাই হয়েছে। পোড়া তার ওখানে ছিল। উপস্থিত লোকজনও এটাই বলছে। বিদ্যুতের লোকজন পরে ট্রান্সফরমারটা খুলে নিয়ে গেছেন।’

ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মাল বিক্রি করা যায় নাই। সেই মালগুলো এখানে জমা ছিল। ফ্রিজ, এসি, টিভি, রাইস কুকার, সেলাইমেশিনসহ আরও জিনিস ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

আগুন নেভাতে সময় লাগলো কেন এ বিষয়ে বলেন, ‘ওনারা যেটা বলেছেন গুদামটা ১৭ হাজার স্কয়ার ফুট। টিনশেডের গুদামের ভেতরে কোন পাটিশন বা ওয়াল ছিল না। ওয়াল থাকলে আগুনটা স্প্রেড হতে পারতো না। যে কারণে আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শুক্রবার নাগাদ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হতে পারে। তবে এটা অধিদপ্তরের বিষয়।’

ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ হারুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের লাইনের কোন সমস্যা হয় নাই। লাইন থেকে ওই খানে আগুন লাগবে কীভাবে? তার ছিঁড়ছে আমার সাব-স্টেশনের কাছে, সেখানেতো আগুন লাগে নাই। সেটা কোন ফেইস তার না। উপরে থাকে নিউট্রল তার। বজ্রপাতের প্রটেকশনের জন্য যেটা থাকে।

‘তার পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪২ সেকেন্ডের একভাগ সময় লাগবে বন্ধ হতে। এটা অটো বন্ধ হয়ে যাবে। না হলেতো আমার ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন সবকিছু পুড়ে যাবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে মানুষ বিদ্যুৎ হ্যানত্যান এসব বলে। অন্য কারণে গুদামে আগুন লাগতে পারে। অনেক কিছুইতো হতে পারে। ভেতরে কী হয়েছে আমরাও বুঝতে পারতেছি না।’

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে প্রথম ভ্যাট দিল গুগল

বাংলাদেশকে প্রথম ভ্যাট দিল গুগল

মে মাসের জন্য ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং জুন মাসের জন্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে গুগল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি এই দুই মাসের জন্য মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিচ্ছে।

ফেসবুকের পর প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিয়েছে।

মে ও জুন মাসের আয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ভ্যাট দিয়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার প্রমীলা সরকার এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মে মাসের জন্য ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং জুন মাসের জন্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে গুগল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি এই দুই মাসের জন্য মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিচ্ছে।

গত ২৩ মে অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুগল ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধন নেয়।

প্রমীলা সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার এনবিআর-এর কাছে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার আগেই ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাংক খোলার দিন এই অর্থ এনবিআরে জমা দেয়া হবে।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পর গুগল দ্বিতীয় অনিবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাট দিলো। বাংলাদেশে ব্যবসারত কিন্তু নিজস্ব কার্যালয় নেই এমন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠান ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় নিবন্ধিত।

প্রমীলা সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গুগলের বাংলাদেশের অ্যাজেন্ট প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস (পিডব্লিউসি) এর প্রতিনিধি মে ও জুন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে এসেছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে গিয়ে একটু দেরি হয়ে যায়। এতে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। তাই তারা সব কাজ শেষ করলেও চেকটা ব্যাংকে জমা দেয়া হয়নি। সিটিব্যাংক এনএ এর মাধ্যমে পরবর্তী ব্যাংক খোলার দিন এই টাকা জমা করা হবে।’

গত ২৩ মে অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুগল ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধন নেয়।

মে মাসের ভ্যাট দিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রমীলা সরকার বলেন, মে মাসের রিটার্ন সময়মত দাখিল করতে না পারায় ওই মাসের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিচ্ছে গুগল।

গত ১৫ জুলাই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ১৩ জুন থেকে ৩০ জুন ১৭ দিনে আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দেয় বাংলাদেশ সরকারকে।

এ পর্যন্ত চারটি অনাবাসী প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের নিবন্ধন নিয়েছে। ফেসবুক ও গুগল ছাড়া অন্য দুই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট।

২৭ মে অ্যামাজন ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। আর ১ জুলাই মাইক্রোসফট ভ্যাট নিবন্ধন নেয়।

অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট আগামী আগস্টে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেবে বলে জানান প্রমীলা।

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল

ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদায়ন বা নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ১০ বছর অভিজ্ঞতার মধ্যে অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবায়ন অথবা কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে অন্যূন তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এখন থেকে ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং তথ্য প্রযুক্তি কর্মকর্তা হতে হলে কোনো ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে।

এতদিন এই পদে ১২ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। এ অভিজ্ঞতার মধ্যে অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবায়ন বা কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদায়ন বা নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ১০ বছর অভিজ্ঞতার মধ্যে অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবায়ন অথবা কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে অন্যূন তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে জারি করা নীতিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদায়ন বা নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং হিসাব ও কর সম্পর্কিত কার্যক্রমে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চার্টাড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) বা সার্টিফাইড ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট (সিএফএ) বা অনুরূপ পেশাগত ডিগ্রি বা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন (এমবিএ), ব্যাংক ব্যবস্থাপনা (এমবিএম), অর্থনীতি, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান কিংবা ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে।

ওই সার্কুলারের অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ‍ু

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক

ভাল দাম পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের অনেক চাষি। ছবি: নিউজবাংলা

নাগরপুরের কৃষকরা জানান, বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর তারা পাট কাটা শুরু করেন। ওই পানিতেই জাগ দেন। গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। ভালো দাম পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের অনেক চাষি। এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট তোলায় ব্যস্ত কিষান-কিষানি, এ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে গ্রামে।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, গত বছরের চেয়ে এবার পাট চাষ বেড়েছে। উপজেলায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আগের বছর আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে।

অন্য ফসলের চেয়ে পাটের জমিতে শ্রমিকের মজুরিসহ অন্য খরচ কম। এতে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ বেড়েছে। গত মৌসুমের শেষের দিকে পাটের দাম দাঁড়িয়েছিল মণপ্রতি ৬ হাজার টাকায়।

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক
পাটের আঁশ শুকাতে দিচ্ছেন কৃষক

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, প্রকৃতি ও বাজার চাষিদের অনুকূলে হওয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নাগরপুরে প্রতিবছরই বাড়ছে। এ বছর আবাদ করা পাটগাছ কেটে কৃষকরা এরই মধ্যে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান চাষিরা।

নাগরপুর উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় কমবেশি সব ইউনিয়নে পাটের আবাদ হয়ে থাকে। বাজারদর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে পাটের ভালো লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা।

তারা জানান, বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর তারা পাট কাটা শুরু করেন। ওই পানিতেই জাগ দেন। গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের চাষি রবি মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা ও রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত আনুষঙ্গিক খরচ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আমি দুই জাতের পাটের আবাদ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস পাটবীজসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এলাকায় পাটের হাট হিসেবে প্রায় প্রতিটি বাজার পরিচিত হলেও গয়হাটার হাট উল্লেখযোগ্য। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা এসে পাট কিনে নিয়ে যান।’

সোনালি আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক
পাট কাটতে ব্যস্ত কৃষক

পাটচাষি হাসমত আলী বলেন, ‘ধানের মতো পাটের বাজারও যেন সিন্ডিকেটের দখলে চলে না যায়, সে জন্য সরকারিভাবে পাটের দাম নির্ধারণ ও ক্রয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন শাকিল নিউজবাংলাকে জানান, পাটের জমিতে শ্রমিক কম লাগে, জমির আগাছা ওষুধ প্রয়োগ করেই নির্মূল সম্ভব। সব মিলিয়ে পাটের দাম বেড়েছে। পাট ছাড়ানোর পর কাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব কারণে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছেন।

বর্তমান বাজারদরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট চাষ করে কৃষকের লোকসান হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান কৃষিবিদ ইমরান।

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

ব্যাংকের জন্য আরেক সুখবর

ব্যাংকের জন্য আরেক সুখবর

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক

মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে।  বাংলাদেশে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে। একটি ব্যাংকের এমডি বলেছেন, এতে তাদের বিনিয়োগের খরা কিছুটা হলেও কাটবে।

করোনাকালে ব্যাংককে নানা নীতিগত সুবিধা দেয়ার পর এবার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অলস পড়ে থাকা তারল্য তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে ব্যাংকে আমানতের সুদহার কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকেরও অলস টাকার বিপরীতে বেশ কিছু আয় হবে। ফলে তাদের ব্যালান্স শিটও স্ফীত হবে।

আগামী সোমবার থেকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’-এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সে উদ্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’-এ অংশগ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতে আমানতকারীরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি ব্যাংক যে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ খরা ছিল, সেটা কিছুটা হলেও কাটবে।’

করোনাকালে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতায় ব্যাংকে এখন অলস টাকার পাহাড় জমেছে। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলোতে নতুন করে আমানত রাখতে গেলে তারা সুদহার দিচ্ছে খুবই কম।

ব্যাংকের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টার সময় ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ করার ওপর জোর দেয়। তবে এখন স্বল্পমেয়াদী আমানতে আড়াই থেকে তিন শতাংশের বেশি সুদ দিতে চাইছে না ব্যাংকগুলো। একটি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে দেড় শতাংশ সুদ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ব্যাংকে আগে উচ্চসুদের এফডিআর থাকার পরও আমানতের সার্বিক সুদহার এখন ৪ শতাংশের কিছু বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে কেউ ব্যাংকে ১০০ টাকা রাখলে পরের বছর ১০৪ টাকা হয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকে বলে আগের বছরের ১০০ টাকার মূল্যমান তখন এর চেয়ে নিতে নেমে যায়। অথচ ব্যাংকে সুদহার মূল্যস্ফীতির নিচে নামা উচিত নয় বলে মত দিয়ে থাকেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা জানাল

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে।

তবে এর মাধ্যমে ঠিক কত টাকা তুলে নেয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হবে। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশে নিবাসী সকল ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিড করতে পারবেন।

প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের জন্য ডিস্কাউন্টে বিলের প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য উল্লেখসহ মোট অভিহিত মূল্য উদ্বৃত করে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় বেলা সাড়ে ১২ টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এমআই মডিউলে বিড দাখিল করতে হবে। বেলা ২ টার মধ্যে নিলামের ফল ঘোষণা করা হবে।

নিলামে অংশগ্রহণের বিশদ পদ্ধতিগত নির্দেশনা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সর্বশেষ ব্যাংকগুলো থেকে এভাবে টাকা তুলে নেয়া হয়েছিল।

২৯ জুলাই চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে বুদ্‌বুদ তৈরি করলে তা তুলে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অতিরিক্ত তারল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি বা সম্পদের দাম বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতি গ্রহণে দ্বিধা করবে না।

অতিরিক্ত তারল্য কত

করোনার মধ্যে প্রবাসী আয় অনেকটা বেড়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। আবার প্রণোদনার এক লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের একটি অংশ ঘুরে ফিরে আবার ব্যাংকেই এসেছে।

গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে একবারে অলস পড়ে আছে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অলস এ অর্থের বিপরীতে কোনো সুদ পায় না ব্যাংক। এতে করে অধিকাংশ ব্যাংক এখন আমানত নিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছর বাজারে তারল্য বাড়াতে নানা নীতিসহায়তা দিলেও ঋণ চাহিদা বাড়েনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সাড়ে ১৪ শতাংশ ধরে মুদ্রানীতি ঘোষণা হলেও অর্জিত হয়েছে ৮ শতাংশের মতো। প্রত্যাশিত ঋণ না বাড়ায় বাড়ছে অলস অর্থ।

সাধারণভাবে নগদ জমার হার (সিআরআর) সংরক্ষণের পর ব্যাংকগুলোর ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা অলস থাকে। তবে করোনা শুরুর পর ২০২০ সালের জুন শেষে তা ২৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হয়।

সম্প্রতি ঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিআরআরের অতিরিক্ত রিজার্ভ গত এক বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ গত বছরের জুনের তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংকের মোট দায়ের একটি অংশ বিধিবদ্ধ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এর মধ্যে বর্তমানে নগদে রাখতে হয় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা সিআরআর হিসেবে বিবেচিত। করোনা শুরুর আগে গত বছরও সাড়ে ৫ শতাংশ সিআরআর রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য বা এসএলআর রাখতে হচ্ছে আগের মতোই ১৩ শতাংশ।

উদ্বৃত্ত তারল্যের মধ্যে সিআরআরে থাকা অলস অংশ বাদে বাকি অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে থাকে। এ টাকা সরকারকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়।

ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অর্থ থাকায় সুদহার অনেক কমেছে। আমানতের গড় সুদহার নেমেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশে। ঋণের গড় সুদহার ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশে নেমেছে।

যা বলছেন সাবেক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকে তারল্য বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি থাকে। এত বেশি তারল্য আগে ছিল না। এতে কারও লাভ হচ্ছে না ।

‘তারল্য বেশির কারণে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুদহার কমতে কমতে তারা ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি লাভ পাচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’

তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে এর বিপরীতে সুদহার কম রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন। বলেছেন, সেটা না হলে বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশি বিনিয়োগ করতে চাইবে।

যদি ব্যাংকগুলো আগ্রহী না হয়-তাহলে কী হবে, এমন প্রশ্নে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘তারল্য তুলে নেয়ার এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য কমানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে চাপ দিতে পারে। তখন ব্যাংক তারল্য কমানোর জন্য ঋণ দিতে চাইবে।’

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ

গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ

২০২০-২১ অর্থবছরের নয় মাসের (২০২০ সালের ১ জুলাই-২০২১ সালের ৩০ মার্চ) হিসাব কষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত হিসাব।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত অর্থবছরে (২০২০-২১) বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। স্থিরমূল্যে এই জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ১১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

আর মাথাপিছু আয় ২০২৪ ডলার থেকে বেড়ে ২২২৭ ডলারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের নয় মাসের (২০২০ সালের ১ জুলাই-২০২১ সালের ৩০ মার্চ) হিসাব কষে এই তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে, এর আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশ খানিকটা কমেছে। প্রাথমিক হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ বলা হলেও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাব দেখা গেছে, ওই অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি অর্জন ছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

স্থিরমূল্যে চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। প্রাথমিক হিসাবে ওই অর্থবছরে জিডিপির আকার ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা হয়েছিল বলে এর আগে জানায় বিবিএস।

করোনাভাইরাস মহামারির কঠিন সময়ে গত অর্থবছর ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে আশাব্যঞ্জক মনে করছেন বিবিএসের মহাপরিচালক (ডিজি) তাজুল ইসলাম এবং অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের পুরোটা সময় দেশ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে ছিল। এরমধ্যেও ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খুবই ভালো অর্জন বলে আমি মনে করি।’

আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।

গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ


অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির এই মহাসংকটের সময়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে আমি মনে করি। প্রাথমিক হিসাবে বিবিএস সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অর্জনের যে তথ্য দিয়েছে, সেটা যদি অর্জিত হয়, তাহলে খুবই ভালো বলে আমি মনে করি।

“এই কঠিন সময়ে ৩/৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও যদি হয়, সেটাকেও আমি ‘অসম্ভব অর্জন’ বলে মনে করবো।”

২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরেও (২০১৯-২০) একই লক্ষ্য ছিল; ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে অবশ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরেছে সরকার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

মহামারির ধাক্কায় বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেক কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা।

দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগসহ (সিপিডি) বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাও বলেছিল, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের চেয়ে কম হবে।

সে কারণে সরকারও পরে লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। পরে তা আরও কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে আনে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে স্থিরমূল্যে ৩০ লাখ ১১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা জিডিপির মধ্যে মধ্যে সেবা খাত থেকে এসেছে ৫১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। টাকার অংকে এর পরিমাণ ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। শিল্প খাত থেকে এসেছে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। আর কৃষি খাত থেকে এসেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬১০ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ২০২৪ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ১৯০৯ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ১৭৫১ ডলার। তার আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ১৬১০ ডলার।

সাধারণত, প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসের দিকে ওই অর্থবছরের নয় মাসের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জিডিপির একটি প্রাথমিক হিসাব তৈরি করে থাকে বিবিএস। পরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের দিকে পুরো অর্থবছরের তথ্য-উপাত্ত হাতে পেয়ে জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব করা হয়।

তবে মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাব দেরিতে প্রকাশ করল পরিসংখ্যান ব্যুরো।

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

বর্তমানে যে পরিমাণে ভ্যাট আহরণ হয়, তার মধ্যে খুচরা পর্যায় থেকে আসে মাত্র ৫ শতাংশ। ভ্যাট কর্মকর্তারা বলেন, খুচরা পর্যায়ের সব খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনতে পারলে এ খাত থেকে ভ্যাট আহরণ ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

বাজেটের পর মূল্য সংযোজন কর আদায় (ভ্যাট) কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধতি সব ভ্যাটাদাতা প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে সেগুনবাগিচায় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভ্যাট বিভাগের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এ সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় এনবিআরের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও মাঠ পর্যায়ের সকল ভ্যাট কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সেবার অনেক খাত রয়েছে, যেখানে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা হচ্ছে না। এসব খাত শনাক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ভ্যাট আহরণের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, খুচরা পর্যায়ের বড় একটি অংশ ভ্যাটের আওতার বাইরে এখনও।

পরিসংখ্যানে বলে বর্তমানে যে পরিমাণে ভ্যাট আহরণ হয়, তার মধ্যে খুচরা পর্যায় থেকে আসে মাত্র ৫ শতাংশ। ভ্যাট কর্মকর্তারা বলেন, খুচরা পর্যায়ের সকল খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনতে পারলে এ খাত থেকে ভ্যাট আহরণ কমপক্ষে দশ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

এ জন্য খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৈঠকে। বলা হয়েছে, ভ্যাট দেয়ার যোগ্য অথচ আওতায় নেই, এমন প্রতিষ্ঠানকে আওতায় এনে আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

বৈঠকে এনবিআরের অধীনে প্রত্যেক ভ্যাট কমিশনারেটকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এনবিআরের অধীন সারা দেশে ভ্যাট কমিশনারেট অফিস রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় পাঁচটি।

বিদায়ী অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট ভ্যাট আহরণ হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সরকার। যোগ্য সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় এনে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এ সব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আহরণের লক্ষ্য স্থির করেছে রাজস্ব বোর্ড।

এখন পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন্ দাখিল করছে বছরে মাত্র ৪০ লাখ। সিংহভাগই অনলাইনের আওতার বাইরে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে নিবন্ধিত সকল ভ্যাটযোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আগে প্রচলিত প্রথায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন দেয়া হতো। যার অংক বা ডিজিট ছিল ১১। তিন বছর আগে অনলাইনে যে ভ্যাট নিবন্ধন চালু করা হয় তার ডিজিট ৯।

এখন ৯ ডিজিটের নাম্বারকে বলা হয় বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নাম্বার বা বা ই-বিআইএন।

মাসিক ভ্যাট রিটার্ন্ দাখিল করতে হলে ৯ ডিজিটিরে ই-বিআইএন অবশ্যই উল্লেখে করতে হয়। তা না হলে রিটার্ন গ্রহণ করা হয় না।

রিটার্নের ওপর ভিত্তি করেই ভ্যাট আদায় করা হয়। রিটার্নে প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বা লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট পরিশোধ করার যোগ্য, কিন্তু তাদের ভ্যাটের নিবন্ধন নেই।

সম্প্রতি বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন করে তারা দেখেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের নিবন্ধন নেয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর যে পরিমাণ বার্ষিক কেনাবেচা হয়, তাতে তাদের ভ্যাট দেয়ার সার্মথ্য রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং বাধ্যতামূলক রিটার্ন জমা দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় বড় শহরে অনেক মার্কেট আছে, যেখানে অধিকাংশ দোকান ভ্যাটের নিবন্ধন নেয়নি। এসব দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এসব দোকানে বসানো হবে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি)। এরই মধ্যে সুপারশপগুলোতে এই মেশিন বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বলা হয়, ভ্যাটের রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের নিয়ম চালু করা হলেও অধিকাংশ ভ্যাট কমিশনারেটে এখনও শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে দাখিল হচ্ছে না।

ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল তুলনামূলক বেশি। যদিও ঢাকায় মোট রিটার্নের সংখ্যা বেশি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা উত্তরে সবচেয়ে কম ২৭ শতাংশ ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দাখিল হচ্ছে। অথচ, রংপুরে ৯৮ শতাংশ রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা হচ্ছে।

আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের সিএ রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত তথ্য রিপোর্টে উপস্থাপিত হয়নি।

গত মে মাসে বিভিন্ন কমিশনারেটে ২২৫টির বেশি সিএ রিপোর্ট পরীক্ষা করা হয়েছে।

তাতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ রিপোর্টে প্রকৃত বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে বলা হয়।

সভায় ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের রিফান্ড (আগাম পরিশোধ করা ভ্যাট ফেরত দেওয়া) দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।

আরও পড়ুন:
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন
আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডলার দেবে এডিবি
টিকা: উন্নয়নশীল দেশকে ৯০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

শেয়ার করুন