এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এফবিসিসিআই-এর নবনির্বাচিত নেতারা সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ আসবে। এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে সোমবার এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত পরিষদের ৪৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করতে এলে বাণিজ্যমন্ত্রী এই পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে টিপু মুনশি বলেন, এলডিসিসি উত্তরণের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সেক্টরভিত্তিক সাবকমিটি গঠন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি থাকবে। গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে এফবিসিসিআইকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যসুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আরও তৎপর থাকতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। সরকার এসব খাতে রপ্তানি বাণিজ্য দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এখানেও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী অর্থবছর আমরা ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে চাই। এ জন্য দেশের রপ্তানিকারকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানায় এফবিসিসিআই। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও আলোচনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এম এ মোমেন, মো. আমীন হেলালী, সালাহউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবিব উল্লাহ ডন এবং এম এ রাজ্জাক খানসহ সংগঠনের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সুযোগ দিতে হবে, অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এফবিসিসিআই, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করার কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বাণিজ্য সংগঠনের কিছু নীতিমালা সংস্কার করার কথা জানান। এফবিসিসিআই ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করেন।

এছাড়া, সভায় ই-কমার্স, আইসিটি, শিপিং কস্ট, ঘরে ঘরে উদ্যেক্তা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা। তারা ব্যবসাবান্ধব পলিসি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মালেতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট নভেম্বর থেকে

মালেতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট নভেম্বর থেকে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চারদিন ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চলবে। দেশের পর্যটকদের ভ্রমণকে সাবলীল ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য মালদ্বীপের মালেতে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগামী নভেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চারদিন ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চলবে। দেশের পর্যটকদের ভ্রমণকে সাবলীল ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইউএস বাংলা জানিয়েছে, এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ১৬৪ আসনের বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

ধামাকার কাছে ২০০ কোটি টাকা ফেরত চান সেলাররা

ধামাকার কাছে ২০০ কোটি টাকা ফেরত চান সেলাররা

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে টাকা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘ধামাকা’ শপিং ডটকমের সেলাররা। ছবি: নিউজবাংলা

জাহিদুর ইসলাম বলেন, ‘সেলারদের পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মালিক পক্ষের কারও সাক্ষাৎ বা সমাধান পাইনি। সাড়ে ৬০০ সেলারের ধামাকার কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি।’

বকেয়া ২০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডটকমের সেলাররা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ধামাকা’ শপিং ডটকম (ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের) সেলার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

ধামাকা শপিং ডটকমের সেলার অ্যাসোসিয়েশনের গণযোগাযোগ বিষয়ক সমন্বয়ক জাহিদুর ইসলাম বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডটকমের সেলার বা মার্চেন্ট হিসেবে প্রায় ৬৫০ জন এসএমই উদ্যোক্তা ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ধামাকা শপিং ডটকমের নির্দেশনা ও চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে যাচ্ছিলাম।

‘ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে পণ্য সরবরাহের জন্য সেলারদের সঙ্গে চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল পণ্য সরবরাহের পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাওনা অর্থ পরিশোধ করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ১৬০ কার্যদিবস পার হলেও পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘সেলারদের পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মালিক পক্ষের কারও সাক্ষাৎ বা সমাধান পাইনি। সাড়ে ৬০০ সেলারের ধামাকার কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি।’

সংবাদ সম্মেলনে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সেলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যুব ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা শেষ সম্বল বিক্রি করে, স্বজনদের কাছ থেকে ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করেছি। এখন রাস্তার ফকির ও নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা সেলার ও তিন লাখ গ্রাহকের মানবিক দিক বিবেচনা করে ধামাকা শপিং ডটকমের ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়াসহ এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সব সেলারদের সঙ্গে ধাকামা একই চুক্তি করেনি জানিয়ে সেলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ব্যবসার প্রয়োজনে যে যার মতো করে চুক্তি করেছে। একসঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। তবে চুক্তিতে পণ্য সরবরাহের ১০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও এখন টাকা দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।’

পাওনা টাকা না পেলে মামলার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, ‘আমরা এখনও এক সপ্তাহ সময় দিতে চাই। এরপরও যদি বকেয়া টাকা ফেরত না দেয়, তাহলে অবশ্যই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ধামাকা শপিং ডটকমে পণ্য অর্ডার করে প্রায় এক লাখ গ্রাহক ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই হাজার ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছিল।’

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া জরুরি নোটিশ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তারের তৃতীয় দিন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি তাদের অফিসে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

নোটিশে ইভ্যালি বলেছে, ‘সম্মানিত গ্রাহক এবং সেলার, আপনাদের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোজ শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালি এমপ্লয়িগণ নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

‘হোম অফিস পদ্ধতিতে ইভ্যালির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে কাম্য। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’

এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘দারুণ ভদ্রতার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়া যেতে পারে। ইভ্যালি এই ঘোষণার সঙ্গে এটা শিখিয়ে দিলো। আপনারা সবাই বাসায় অফিস করেন। শুভ কামনা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আস্তা না রেখে কি পারি! ৭-৪৫ দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেবেন বলে অর্ডার নিয়ে ছয় মাস গেল কোনো খবর নাই। এখানেইতো আস্তা রাখার জায়গা। পুরা কপাল আমার কেন যে টাকাটা দিলাম!’

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

যে কারণে বন্ধ বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট

যে কারণে বন্ধ বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি চিলির তখনকার রাষ্ট্রপতি মিশেল বাশলে। ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে বিশ্বব্যাংকের এ সূচক তৈরির অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে।

চিলির সমাজতান্ত্রিক সরকারের বদনাম করতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট’ তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রিপোর্ট আর না করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এক ঘোষণায় বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানায়, ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর দেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবছর বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাংকের সদস্য দেশগলোর ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরি করে।

ব্যবসা শুরু, বিদ্যুৎ-সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, কর ব্যবস্থাসহ কয়েকটি নির্দেশক বা মানদণ্ডের প্রতিটির ওপর ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ণয় করা হয়। স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থানের তালিকা করা হয়।

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি চিলির তখনকার রাষ্ট্রপতি মিশেল বাশলে। ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে বিশ্বব্যাংকের এ সূচক তৈরির অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে চিলি ৩৪তম অবস্থানে ছিল। ২০১৭ সালে তা পিছিয়ে ৫৫তম অবস্থানে নেমেছে। এরপর চিলির রাষ্ট্রপতি ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। চিলির কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ক্ষেত্রে তাদের বার্ষিক ‘ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিযোগিতামূলক র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্যায় আচরণ করেছে।

২০১৪ সালে চিলির প্রেসিডেন্ট হন মিশেল বাশলে। এরপরে তার শাসনামলের পরবর্তী তিন বছরই ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অধঃপতন হয়। ২০১৫ সালে ৪১, ২০১৬ সালে ৪৮ ও ২০১৭ সালে ৫৫তম হয় চিলির অবস্থান।

চিলির প্রেসিডেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনায় নেয়া হয়। পরে বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার অসংগতির কথা জানান। তার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের একজন সাবেক পরিচালক এমনভাবে জালিয়াতি করে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যাতে চিলির ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়।

পল রোমার প্রতিবেদনের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের জন্য চিলির কাছে ক্ষমা চান। তিনি স্বীকার করেন বাশলের অধীন ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই র‌্যাঙ্কিং রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত। তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ফলে প্রতিবেদনে চিলির অবনমন হতে পারে।

সেসময় এ বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বক্তব্য দেন পল রোমার। তিনি বলেন, ‘আমি চিলি এবং অন্য যেকোনো দেশে যেখানে আমরা ভুল ধারণা দিয়েছি, তাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাই। আমার দায় রয়েছে। কারণ, আমরা বিষয়গুলো যথেষ্ট পরিষ্কার করিনি। বিশ্বব্যাংক অতীতের রিপোর্টগুলো সংশোধন করার পদ্ধতি শুরু করছে এবং পদ্ধতি পরিবর্তন না করে র‍্যাঙ্কিং কেমন হবে, তা পুনরায় প্রকাশ করবে।’

রোমার বলেন, সংশোধনগুলো চিলির জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, তাদের অবস্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্থিতিশীল ছিল। বিশ্বব্যাংকের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রেরণার কারণে বিষয়টি কলঙ্কিত হয়েছে। কারণ, বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদন ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কাভারেজ পায়।

এমন মন্তব্য করায় পল রোমারকে পদত্যাগ করতে হয়।

প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন করা সেই সাবেক পরিচালক ছিলেন অগাস্টো লোপেজ-ক্লারোস। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক লোপেজ-ক্লারোস সে সময় বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব থেকে ছুটি নিয়ে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় তার ওই কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

২০১৮ সালে মার্চে দায়িত্ব থেকে সরে যান মিশেল বাশলে। সমাজতান্ত্রিক দল থেকে ক্ষমতা চলে যায় কনজারভেটিভ দলের কাছে। দায়িত্ব পান প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা।

পল রোমারের ক্ষমা চাওয়ার পর ওই সময় এক টুইটে মিশেল বাশলে লেখেন, ‘বিশ্বব্যাংকের প্রতিযোগিতামূলক র‌্যাঙ্কিং তৈরিতে যা ঘটেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে র‌্যাঙ্কিং পরিচালনা করে, তা নির্ভরযোগ্য হওয়া উচিত। কারণ, তারা বিনিয়োগ ও দেশগুলোর উন্নয়নে প্রভাব ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে সম্পূর্ণ তদন্তের অনুরোধ জানাবে।’

গত বছরের আগস্টে বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অসংগতি থাকতে পারে, কিন্তু তা এখনও চিহ্নিত হয়নি।

তাই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তন এবং অসংগতির কারণে যেসব দেশ অধিক প্রভাবিত হয়েছে, সেসব দেশের সঠিক তথ্য পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর এ কারণে গত বছরের অক্টোবরে ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স তৈরি স্থগিত করে তারা।

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল। ফাইল ছবি

চিকিৎসকের বরাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার বাইরে থাকায় তার পেটে গ্যাস ও বমির সমস্যা হয়। চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি সুস্থবোধ করায় এখন হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’

চিকিৎসা শেষে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে ফের থানায় নেয়া হয়েছে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার রাসেলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিডফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে তিনি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার বাইরে থাকায় তার পেটে গ্যাস ও বমির সমস্যা হয়। চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি সুস্থবোধ করায় এখন হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উদ্দেশে ঢামেক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার মামলা করেন এই গ্রাহক।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর করবে না বিশ্বব্যাংক

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর করবে না বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক। ফাইল ছবি

বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বহুল আলোচিত ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বা ব্যবসা করার সূচকবিষয়ক প্রতিবেদন আর করবে না।

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর দেবে না বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিও দিয়েছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের গবেষণায় আস্থা অত্যাবশ্যক। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের গবেষণা নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করে, দেশগুলোকে আরও ভালোভাবে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং স্টেকহোল্ডারদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিগুলো আরও সঠিকভাবে পরিমাপ করার সুযোগ দেয়।

আরও বলা হয়, এ ধরনের অনুসন্ধান বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও অন্যদের জন্যও মূল্যবান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা পাওয়া যায়।

তবে ২০১৮ ও ২০২০ সালে যে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক প্রকাশ করা হয়, সেখানে তথ্য-উপাত্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করা হয় অক্টোবর ২০১৭ ও ২০১৯ সালে। তাতে তথ্য-উপাত্তের যে পরিবর্তন পাওয়া যায়, তা ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এরপর বিশ্বব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিষদ পরের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরির বিষয়টি স্থগিত করে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করতে শুরু করে।

সব পর্যালোচনা, নিরীক্ষার ফলাফল এবং ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদের যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তার সঙ্গে ডুয়িং বিজনেসের জন্য পাওয়া সব তথ্য পর্যালোচনা করার পর বিশ্বব্যাংকের গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট বৃহস্পতিবার এ সূচক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছরের আগস্টে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি টের পায় বিশ্বব্যাংক। এ কারণে ওই বছরের অক্টোবরের ‘ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না বলে জানায় তারা। এ ছাড়া গত পাঁচটি প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্যও ফরেনসিক অডিটরকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয় সে সময়।

ব্যবসা করার পরিবেশ কোথায় সবচেয়ে অনুকূল, তার নিরিখে ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বের ১৯০ দেশের একটি তুলনামূলক তালিকা ও রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে বিশ্বব্যাংক। এ রিপোর্টকে ভিত্তি করেই বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী কোন দেশে বিনিয়োগ করবেন বা কোন দেশ থেকে সরে আসবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেন। এমন গুরুত্ব থাকলেও সে প্রতিবেদনেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

২০১৮ সালে ওই রিপোর্টে গলদের কথা প্রথম উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ পল রোমার।

তখন তিনি বলেছিলেন, “বিশ্বব্যাংকের একজন সাবেক পরিচালক এমনভাবে জালিয়াতি করে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যা চিলির ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়ে ব্যবহার করা হয়। ওই পরিচালকের কারণে চিলির র‌্যাঙ্কিং পিছিয়ে দেয়া হয়।”

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতালে ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে।

হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশের উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে।

রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালের উদ্দেশে ঢামেক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার মামলা করেন এই গ্রাহক।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

আরও পড়ুন:
এলডিসির সুবিধা আরও ১২ বছর ধরে রাখার চেষ্টা
‘এলডিসি থেকে উত্তরণে সমন্বিত সহায়তা দরকার’
রপ্তানি-সহায়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে
অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
এলডিসি থেকে উত্তরণ: করতে হবে বাণিজ্য চুক্তি

শেয়ার করুন