বিশুদ্ধ বিবিএস চায় সরকার

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবন। ফাইল ছবি

বিশুদ্ধ বিবিএস চায় সরকার

‘পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূল তথ্য আসে বিবিএস থেকে। এজন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর আরও বিশুদ্ধতা দরকার।’

দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা, কৃষি উৎপাদন, জনসংখ্যার বিষয়ে তথ্য পেতে সরকারি সংস্থা পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের কাছ থেকে ‘বিশুদ্ধ’ তথ্য চান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

সরকার বিবিএসের এর ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূল তথ্য আসে বিবিএস থেকে। এজন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর আরও বিশুদ্ধতা দরকার।’

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত বিবিএস গ্লোসারি (কনসেপ্টস অ্যান্ড ডেফিনেশন) ' শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রণয়নে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে বিবিএসের বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ ও অন্যান্য পারিসংখ্যানিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত সংজ্ঞা ও ধারণাসমূহের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হতো।

জরিপে যদি ‘ভয়ংকর’ কিছু আসে তাহলে প্রয়োজন মনে করলে তাকে জানানোর পরামর্শও দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘আমি প্রয়োজনে তা সরকার প্রধানকে জানাব।’

সরকারি সংস্থাটির তথ্য নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। গত অর্থবছরের মাথাপিছু আয়ের হিসাব দিলেও সংস্থাটি এখনো জিডিপি প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব দেয়নি। আবার চলতি অর্থবছর শেষ প্রান্তে এখনো জিডিপির প্রাক্কলন হয়নি।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রাক্কলনের সঙ্গে বিবিএসের হিসাবের বড় ফারাকও থাকে। প্রান্তিকভিত্তিক জিডিপি গণনার কথা থাকলেও নেই কোনো উদ্যোগ।

ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শ্রমশক্তি জরিপের কথা থাকলেও পাঁচ বছর ধরে দেশে শ্রমশক্তি জরিপ নেই। তাই করোনার এ সময় দেশের শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারছে না সরকার।

সংস্থাটির ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এরপরে আর কোনো তথ্য নেই। এমনকি প্রায় দেড় বছরের করোনাকালীন সময়েও দরিদ্র মানুষের উপর কোনো বড় জরিপ নেই।

গত সেপ্টেম্বরে মাত্র ২ হাজার ৪০ জন গ্রাহকের উপর মোবাইল জরিপ চালায় সংস্থাটি। ফলে বাজেটে নতুন দরিদ্রদের জন্য কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারেনি সরকার।

গোপনীয়তা কেবল এক শতাংশে

সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাসী জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য প্রকাশে কোনো সমস্যা নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে এক শতাংশ গোপনীয়তা রয়েছে। গণমাধ্যমে সেটির প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাবে বলে তিনি আশা করেন।

মন্ত্রী এও বলেন যে, আগামীতে হয়ত সেই এক শতাংশও আর গোপন রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

মন্ত্রী আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘আমলাতন্ত্রের বিকল্প শূন্যতা। জীবনে শূন্যতা ভয়ঙ্কর।’

মন্ত্রী নিজেও সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমিও এক সময় আমলা ছিলাম। তবে ইউএনও, ডিসিসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচিত স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। আমলারে দক্ষতা বাড়াতে হবে, বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’

রাজধানীর আগারগাঁও-এ পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ফর ডেভেলপমেন্ট অব স্টাটিসটিকস (এনএসডিএস) প্রকল্পে পরিচালক দিলদার হোসেন।

মূল প্রবন্ধে দিলদার বলেন, ‘বিবিএসের বিভিন্ন শুমারিতে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা বা সংজ্ঞা ব্যবহৃত হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তথ্যও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ সমস্যা দূর করতে সব বিষয়ে অভিন্ন সংজ্ঞা থাকা দরকার।’

প্রকাশনাটিতে কৃষি, শিল্প, পরিবেশ, ব্যবসা, উৎপাদন, সেবা, জিডিপি, মূল্য ও মজুরি, বৈদেশিক বাণিজ্যে, ব্যাংকিং, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, শ্রমশক্তি, জেন্ডার, রেমিট্যান্স, ডেমোগ্রামি, ফার্টিলিটি, মর্টালিটি, মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক বিষয়ে ২ হাজার ৪১টি কনস্পেট ও ডেফিনেশন (সংজ্ঞা) স্থান পেয়েছে।

বিবিএস মহাপরিচাল তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক পরিসংখ্যান ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতীয় পরিসংখ্যান উন্নয়ন কৌশলপত্র বা ন্যাশনাল স্ট্র্যাটিজি ফর দ্যা ডেভলপমেন্ট অব স্টাটিসটিকস অনুমোদন করা আছে। এটা বাস্তবায়নে বিবিএসের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক

খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক

পুঁজিবাজারের ব্যাংকের ঋণ ও পুঁজি বাজারের বাইরের ঋণ। ছবি: নিউজবাংলা

‘শেয়ারবাজারের বাইরের ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় লোক থাকে কম। কোম্পানি ৫ থেকে ৬ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কয়েকজনকে ম্যানেজ করে চললে হয়। কিন্তু পুঁজিবাজারে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী থাকে। সেখানে অ্যাকাউন্টেবিলিটি (জবাবদিহি), গভর্ন্যান্স (সুশাসন) রেসপনসিবিলিটি (দায়িত্বশীলতা) অনেক বেশি। এ জন্য ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভালো করছে।’

বাংলাদেশে সব মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভু্ক্ত ব্যাংকগুলোর অনেকটাই স্বস্তিতে।

এই ৩১টি ব্যাংকে গড় খেলাপির হার ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ হলেও যেগুলো পুঁজিবাজারে নেই, সেগুলোর খেলাপির হার এর চেয়ে তিন গুণ বেশি।

তবে পুঁজিবাজারে যেসব ব্যাংক আছে, সেগুলোর মধ্যেও পাঁচটি আছে অস্বস্তিতে, যার মধ্যে আবার তিনটি ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ।

এর মধ্যে শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি খেলাপি আইসিবি ইসলামিক, আরব বাংলাদেশ বা এবি আর রূপালী ব্যাংকেরটা বাদ দিলে পরিস্থিতিটা আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারত।

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে খেলাপির হার ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ আর রূপালীর ১১ দমমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে এবির খেলাপি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে আর আইসিবি ইসলামিকের উন্নতি হয়েছে।

এই তিনটি ব্যাংক বাদ দিলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ওয়ান ও উত্তরা ব্যাংকের। প্রথমটির খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের ৮ শতাংশের বেশি, দ্বিতীয়টির ৭ শতাংশের বেশি।

মোট ঋণ কত

মার্চ পর্যন্ত পুঁজিবাজারের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ৮ লাখ ৫০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা।

এই ৪২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আইসিবি ইসলামিক, এবি ও রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণই ৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা।

এই তিনটি ব্যাংক ছাড়া বাকি ২৮টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বাকি ২৮টি ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫২ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। শতকরা হারে খেলাপি ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ যা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর তুলনায় তিন গুণ।

খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
পুঁজিবাজারের ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ

রাষ্ট্রায়ত্ব ছয়টি ব্যাংকের মধ্যেও রূপালীর অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো।

এর মধ্যে সোনালীর খেলাপি ঋণের হার ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, অগ্রণীর ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ, জনতার ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বেসিকের ৫৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ আর বিডিবিএলের ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

পুঁজিবাজারের ব্যাংকগুলো ভালো অবস্থানে কেন?

এই বিষয়টি নিয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অনেক বেশি রেসপনসিবিলিটি থাকে। এখানে আরও বেশি কেয়ারফুল হতে হয়। কারণ, বিনিয়োগকারীদের বিষয় সব সময় মাথায় রাখতে হয়।’

অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার বলেন, ‘শেয়ারবাজারের বাইরের ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় লোক থাকে কম। কোম্পানি ৫ থেকে ৬ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কয়েকজনকে ম্যানেজ করে চললে হয়। কিন্তু পুঁজিবাজারে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী থাকে। সেখানে অ্যাকাউন্টেবিলিটি (জবাবদিহি), গভর্ন্যান্স (সুশাসন) রেসপনসিবিলিটি (দায়িত্বশীলতা) অনেক বেশি। এ জন্য ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভালো করছে।‘

করোনাকালে সুবিধার পরেও বেড়েছে খেলাপি

করোনার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলেও খেলাপি না করার নির্দেশনা ছিল।

ধারণা করা হচ্ছিল এই নির্দেশনার কারণে খেলাপি ঋণ কমে আসবে ব্যাংকের। কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা। এই সময়ে বেড়ে গেছে ঋণ।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগেরও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তবে কোনো কোনো ব্যাংকের কমেছেও।

এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক খেলাপি ঋণের দিক দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

ছয়টি ব্যাংকে খেলাপির হার বিতরণ করা ঋণের ৩ শতাংশের কম। চারটি ব্যাংকের খেলাপি ৩ থেকে ৪ শতাংশের কম।

আরও ১০টির খেলাপি ঋণের হার ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে।

ব্যাংকাররা বলছেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় শতভাগ খেলাপিমুক্ত ব্যাংক অনেকটাই অসম্ভব ব্যাপার। বাংলাদেশে কাজ করা বহুজাতিক বেশ কিছু ব্যাংকও এই খেলাপি সমস্যায় ভুগছে। আর খেলাপির বিরপীতে বেশিরভাগ ব্যাংকই সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে নিরাপদ অবস্থানেই আছে।

বেশি খেলাপি তিন ব্যাংকে

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক: বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই খেলাপিতে পরিণত। মার্চ পর্যন্ত মোট ঋণ ৮৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬৬৯ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এই হার ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তবে ডিসেম্বরের পরিসংখ্যানের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভালো দেখাচ্ছে। সে সময় খেলাপি ঋণ ছিল ৬৭১ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এবি ব্যাংক: ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। মার্চ শেষে সেটা সামান্য বেড়ে ৪ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা হয়েছে। এটি বিতরণকৃত ঋণের ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। ব্যাংকটির মোট ঋণ ২৭ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংক: পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত একমাত্র রাষ্ট্রীয় ব্যাংকটির মোট ঋণ ৩২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে ডিসেম্বরের চেয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তখন ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিল খেলাপী।

খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
খেলাপি ঋণে সবচেয়ে ভালো করেছে যারা

৫ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ যেগুলোর

ওয়ান ব্যাংক: ব্যাংকটির মোট ঋণ ২২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। ওই সময় মোট ঋণের ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিল খেলাপি।

উত্তরা ব্যাংক: মোট ঋণ ১৩ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ৯৫০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ছিল ৭৫৩ কোটি টাকা। যা ওই সময় মোট ঋণের ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিল।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণ ছিল ৩০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা, যা ওই সময় মোট ঋণের ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ট্রাস্ট ব্যাংক: ব্যাংকটি বিতরণ করেছে মোট ২১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৯৬ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছিল।

এনসিসি ব্যাংক: মোট ঋণ ১৭ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ৯৭৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৬৭ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ ছিল।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক: মোট ঋণ ১৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ৮৬৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৭৫ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

ন্যাশনাল ব্যাংক: মোট ঋণ ৪৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ২ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট: মোট ঋণ ১৯ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ছিল ৮২৬ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

চার থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে যেগুলো

মার্কেন্টাইল ব্যাংক: মার্চ শেষে মোট ঋণ ২৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। খেলাপি ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

প্রাইম ব্যাংক: মোট ঋণ ২২ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৭২৫ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক: মোট ঋণ ১৯ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৮৯৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৬৫ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

পূবালী ব্যাংক: মোট ঋণ ৩১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি বেড়ে হয় ১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৮২৭ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ ছিল।

ব্র্যাক ব্যাংক: ব্যাংকটি মোট বিতরণ করেছে ২৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৮০০ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ছিল।

সাউথ ইস্ট ব্যাংক: মোট ঋণ ৩২ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৯৩ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: ব্যাংকটি ৩১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংক: মোট বিতরণ ৪০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। খেলাপি ১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছিল খেলাপি।

আইএফআইসি ব্যাংক: মোট ঋণ ২৬ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

সিটি ব্যাংক: ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণ ২৯ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি এক হাজার ১৮৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

তিন থেকে চার শতাংশের কম যেগুলো

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: ব্যাংকটির মোট ঋণ বিতরণ ৪৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩.৬২ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংক: মার্চ শেষে ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণ বিতরণ ৯৭ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

ঢাকা ব্যাংক: মার্চ শেষে ব্যাংকটি মোট বিতরণ করেছে ১৯ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৫৩ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক: মোট বিতরণ ৩৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৯৮ কোটি টাকা, যা ওই সময় মোট ঋণের ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

তিন শতাংশের কম খেলাপি যেগুলোর

ইস্টার্ন ব্যাংক: ব্যাংকটি মোট ঋণ দিয়েছে ২১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ৬৫৪ কোটি টাকা। এটি মোট ঋণের ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৬০৯ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

প্রিমিয়ার ব্যাংক: মার্চ শেষে মোট বিতরণ ২১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬০৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৮২ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৩৫ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

যমুনা ব্যাংক: ব্যাংকটি মোট বিতরণ করেছে ২০ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৬৩ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৪৮০ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এনআরবিসি ব্যাংক: পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত নতুন ব্যাংক এনআরবিসি মার্চ শেষে মোট ৮ হাজার ৬৫ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ২২২ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২. দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১৪০ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

ব্যাংক এশিয়া: খেলাপি ঋণের দিক থেকে এই ব্যাংকটি সবচেয়ে ভালো দুটি ব্যাংকের একটি। নতুন করে খেলাপি হয়নি, উল্টো আগের ঋণ আদায় করেছে ব্যাংকটি।

মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটি বিতরণ করেছে মোট ২৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬১৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২.৫৬ শতাংশ।

করোনার বছরে ব্যাংকটি ১৭৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে পেরেছে।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৯৩ কোটি টাকা। যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক: শতকরা হারে এই ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ সবচেয়ে কম। এদের মোট বিতরণ ২৭ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ৬৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯২ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এই ব্যাংকটিও তিন মাসে ৫৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে পেরেছে।

শেয়ার করুন

১৫০ টাকার তেল ১০০ টাকায়, টিসিবির ট্রাকে ভিড়

১৫০ টাকার তেল ১০০ টাকায়, টিসিবির ট্রাকে ভিড়

টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য নিতে ক্রেতাদের লাইন। সাইফুল ইসলাম ছবিটি তুলেছেন সচিবালয়ের পাশ থেকে

টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, ‘কথা কওয়ার সময় নাই ভাই। কয়েক দিন ধইরাই এ স্পটে ট্রাক দাঁড়ায়। আজ মাসের শেষ বেচা। তাই মানুষও বেশি। সবাই তেল চাইতাছে। চিনি, ডাল কম কাস্টটমারই নেয়। তবে কেউ সব মাল নিলে ৪২০ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজার থেকে যা প্রায় ১৮০ টাকা কম। তয় লাইন না ধরলে মাল দিমু না।’

বৃহস্পতিবার দুপর ১২টা। বাড্ডা লিংক রোড মোড় পেরিয়ে হাতির ঝিলের দিকে এগুলেই দূর থেকে দেখা যায়, রাস্তার পশ্চিম প্রান্তে মানুষের জটলা। তবে কাছে যেতেই দেখা গেল, শতাধিক নারী-পুরুষ সবাই আলাদা লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে টিসিবির ট্রাকের সামনে। ট্রাকের ৪ কর্মী তাদের পণ্য দিতে ব্যস্ত।

কর্মী মো. মানুন জানান, ‘আজ ভিড় বেশি। সবাই তেল চায়। আমরাও যে যেমন চাচ্ছে দিচ্ছি। যতক্ষণ আছে দিব। তেলের সঙ্গে মসুর ডাল ও চিনিও নিচ্ছে কেউ কেউ।’

বাজারে সয়াবিত তেলের প্রতি লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে প্রায় দেড়শ টাকায়। খুচরা দাম ১২৫ টাকার বেশি। টিসিবির ট্রাকে তেল বিক্রি হয় লিটার প্রতি ১০০ টাকা করে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনার তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এখন খোলা সয়াবিনের দাম ৪৪ শতাংশ, বোতলজাত সয়াবিনে ৪৩ শতাংশ এবং পাম অয়েলের দাম ৬৫ শতাংশ বেশি। এমনকি এক মাসের ব্যবধানেও বিভিন্ন তেলের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

আর মসুর ডালের দাম বছরের ব্যবধানে ৩ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে ১০ শতাংশ বেড়েছে। চিনির দামও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বাড়তি।

সংস্থাটির হিসাবে, বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২২ থেকে ১২৬ টাকায়, এক লিটারের বোতাল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৬৬০ থেকে ৭৩০ টাকা এবং পাম অয়েল ১১০ থেকে ১১৮ টাকা বিক্রি হয়েছে। আকার ভেদে প্রতি কেজি মসুর ৭৫ থেকে ১১০ টাকা এবং চিনি ৬৮ থেকে ৭০ টাকা।

টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, ‘কথা কওয়ার সময় নাই ভাই। কয়েক দিন ধইরাই এ স্পটে ট্রাক দাঁড়ায়। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) মাসের শেষ বেচা। (এ মাসে আর পণ্য বিক্রি করবে না টিসিবি) তাই মানুষও বেশি। সবাই তেল চাইতাছে। চিনি, ডাল কম কাস্টটমারই নেয়। তবে কেউ সব মাল নিলে ৪২০ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজার থেকে যা প্রায় ১৮০ টাকা কম। তয় লাইন না ধরলে মাল দিমু না।’

মামুন জানান, তিনি ট্রাকে ৪০০ কেজি করে মসুর ডাল ও চিনি এবং ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল পেয়েছেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে ডাল ও চিনি এবং দুই লিটার সাবিন তেল কিনতে পারছেন। এর মধ্যে তেল ১০০ টাকা লিটার এবং চিনি ও ডাল ৫৫ টাকা প্রতি কেজি।

ট্রাক থেকে চিনি তেল ও ডাল নিয়ে মুখে অনেকটা বিজয়ের হাসি দিয়ে রাজা মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক ঘণ্টা লাগছে। তাতে কী? কয়টা ট্যাকা তো বাঁচছে। মাসের শুরুতে আবার আইলে আবার কিনমু। দুই দিনের কষ্টে মাসের তেল ডালের চিন্তা শেষ। আমি আগে দাঁড়াইছি, সময় কম লাগছে। এখন মানুষ বেশি, সময়ও বেশি লাগতাছে।’

তবে এরই মধ্যে লাইনের বাইরেও ট্রাকের পাশ থেকে মাল নেয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় অনেককে। কিন্তু এতে লাইন থেকে সবাই চিৎকার করে উঠে। কেউবা আবার নিজের লাইন ঠিক রেখে ট্রাকের পাশ কেউ এলে তাকে সরিয়েও দিচ্ছেন।

লাইনে দাঁড়ানো মধ্য বয়স্ক নারী রহিমা বেগম বলেন, ‘কী করমু বাবা, চাইল-তেলের যে দাম। না কিনতে পারলে, বাঁচতাম। কিন্তু পেট তা বুঝবো না। তাই আধাঘণ্টা দাঁড়ায়া আছি, তেলের লাইগা। আর বেশি সময় লাগবো না। আশপাশ থাইকা মানুষ ঢুকলে সময় বেশি লাগতাছে। আমরা দাঁড়ায়া নিলে তারা পারবো না ক্যান।’

পাশে রিকসা রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ চালক আরজ মিয়া বলেন, তেলের জন্য লাইন ধরছি, দূরের কাস্টমার পাইলে চলে যামু। না পাইলে দুই লিটার তেল কিনমু। একশ টাকা লাভ হইব, না হয় ভাড়ার টাকা পামু।’

টিসিরি মুখপাত্র হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, এ ট্রাক সেল টিসিবির সারা বছরের কার্যক্রমের অংশ।

‘প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট সময় ট্রাকে সেল দেয় টিসিবি। আগামী মাসের ৪-৫ তারিখে নতুন করে পণ্য দেয়া হবে। মাসের শেষ সেল হিসাবে আজ ঢাকায় ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন ৮০টি ট্রাকে পণ্য দেয়া হলেও আজ ঢাকায় ১৩০টি ট্রাক পাঠানো না হয়েছে। যেমন, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা লিংক রোড, মাধ্য বাড্ডা, কুড়িল বিশ্ব রোড, নদ্দায় ট্রাক রয়েছে। যেসব এলাকায় চাহিদা বেশি সেখানে বেশি পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত পণ্যেও নগদ সহায়তা

প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত পণ্যেও নগদ সহায়তা

এখন থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি পণ্যেও নগদ সহায়তা দেবে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক প্রযুক্তি বের হওয়ায় হাতে তৈরি এসব পণ্য বর্তমানে মেশিনেও উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু নগদ সহায়তা সংক্রান্ত নীতিমালায় ‘হাতে তৈরি’ কথাটি থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এখন থেকে হাতের পাশাপাশি মেশিনে উৎপাদিত এসব পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

হোগলা, খড়, আখ কিংবা নারিকেলের ছোবড়া, গাছের পাতা কিংবা খোল এবং গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকে হাতের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করলে তার বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

আগে শুধু হাতে তৈরির পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ছিল।

তবে প্রযুক্তি পুরোপুরি অটোমেশন হওয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রযুক্তি ব্যবহারে শ্রমের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ (এফইপিডি) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠিয়েছে।

এতে বলা হয়, নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদিত প্রক্রিয়ায় হাতের পাশাপাশি প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে।

হোগলা, খড়, আখ কিংবা নারিকেলের ছোবড়া, গাছের পাতা কিংবা খোল এবং গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় ব্যবহার করে হাতে তৈরি পণ্য রপ্তানি করলে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য কোনো কোনো পণ্য রপ্তানিতে কী হারে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে, এই তালিকা প্রতি অর্থবছর সরকার নির্ধারণ করে দেয়।

এদিকে আরেক সার্কুলারে হাতে কিংবা মেশিনে যে মাধ্যমেই হোক, পাটের বৈচিত্রকৃত (ডাইভারসিফাইড) পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

রপ্তানির জন্য উৎপাদিত পণ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যমানের পাট ব্যবহৃত হতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদিত কোনো পণ্যের দাম ১০০ টাকা হলে তার মধ্যে ৫০ টাকার বেশি মূল্যমানের পাটের ব্যবহার থাকতে হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি বের হওয়ায় হাতে তৈরি এসব পণ্য বর্তমানে মেশিনেও উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু নগদ সহায়তা সংক্রান্ত নীতিমালায় ‘হাতে তৈরি’ কথাটি থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

এখন থেকে হাতের পাশাপাশি মেশিনে উৎপাদিত এসব পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে পাটের বৈচিত্রকৃত পণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। পাটের সুতার ক্ষেত্রে এই হার ৭ শতাংশ এবং পাটজাত চুড়ান্ত দ্রব্যের ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার হার ১২ শতাংশ।

শেয়ার করুন

৭ হাজার পোশাকশ্রমিক পেলেন আর্থিক সহায়তা

৭ হাজার পোশাকশ্রমিক পেলেন আর্থিক সহায়তা

বাছাই করা শ্রমিকদের মধ্যে মৃত্যুজনিত কারণে ৪ হাজার ১৮৮ জনের পরিবারকে ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা বাবদ ২ হাজার ৭৬ শ্রমিককে ৬ কোটি ১৩ লাখ এবং শিক্ষা সহায়তা হিসেবে শ্রমিকের ৭৩৬ সন্তানকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, প্রয়াত এবং সন্তানের শিক্ষার জন্য সাত হাজার পোশাকশ্রমিককে ৯৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তহবিলের ১৪তম বোর্ডসভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

শ্রম আইন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে গঠন করা এ তহবিলে এখন পর্যন্ত ২৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা পড়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসের মোট রপ্তানি মূল্যের ০.০৩ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি এ তহবিলে জমা হয়।

এবার বাছাই করা শ্রমিকদের মধ্যে মৃত্যুজনিত কারণে ৪ হাজার ১৮৮ জনের পরিবারকে ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা বাবদ ২ হাজার ৭৬ শ্রমিককে ৬ কোটি ১৩ লাখ এবং শিক্ষা সহায়তা হিসেবে শ্রমিকের ৭৩৬ সন্তানকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

সহায়তাপ্রত্যাশী শ্রমিক এবং তাদের স্বজনরা আবেদন করলেই যেন দ্রুত টাকা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় তহবিলের কার্যপরিধি বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কয়েকটি উপকমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় তহবিলের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. সেলিনা বকতার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গৌতম কুমার চক্রবর্তী, বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান কচি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান, শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনিসহ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

বোর্ডসভার আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তহবিলের সহকারী পরিচালক শামীমা সুলতানা হৃদয়।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী পরে করোনার সময় গঠিত ২৩টি বিশেষ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রমের ওপর প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন।

শেয়ার করুন

সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

সুমিজ হট কেকের কারখানায় ভ্যাট নীরিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযান। ছবি: নিউজবাংলা

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা হাতে তৈরি কেক বানায়। অথচ অভিযানে দেখা গেছে, তারা স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহার করে কেক প্রস্তত করে।

তথ্য গোপন করে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে ‘সুমিজ হট কেক’-এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নীরিক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার এ মামলা করেছে।

ভ্যাট নীরিক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল হক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন এবং মিথ্য ঘোষণা দিয়ে কেক প্রস্তুত করেছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হয়। এ অভিযোগে সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে মামলা করা হয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা হাতে তৈরি কেক বানায়।

কিন্তু ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে দেখতে পান, সুমিজ হট কেক স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহার করে কেক প্রস্তত করে।

গোয়েন্দারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা করে আসছে।

এনবিআরে ভ্যাট বিভাগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেশিনে তৈরি কেকের উপর ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ। আর হাতে তৈরি কেক বানালে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।

সুমিজ কর্তৃপক্ষ মাসিক ভ্যাট রিটার্নে উল্লেখ করেছে, তারা হাতে বানানো কেক উৎপাদন ও সরবরাহ করে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, সুমিজ হট কেক ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকৃত বিক্রিয়ের তথ্য গোপন করে সরকারের নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হারে ভ্যাট দিয়েছে।

হিসাব করে দেখা যায়, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা করায় আলোচ্য সময়ে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ভ্যাট নীরিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সার ও ফেরদৌসী মাহবুবের নেতৃত্বে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল সুমিজ হট কেকের কারখানা এবং প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট চালানসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জব্দ করে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করে।

সুমিজের কারখানা তুরাগের, প্লট-২০, রোড-১, লেন-৪ এ । আর প্রধান কার্যালয় রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত।

ভ্যাট কর্মকর্তারা বলেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির ২৬টি বিক্রয়কেন্দ্র। এসব বিক্রয়কেন্দ্রে কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করা হয়।

শেয়ার করুন

ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে

ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে

অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদ বাবদ এবারের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। গত পাঁচ অর্থবছরে এ খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা দিয়ে ৯টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত।

ঘাটতি না উদ্বৃত্ত বাজেট – এ বিতর্ক বহু পুরোনো। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই বর্তমানে ঘাটতি বাজেট করা হয়। বাংলাদেশ শুরু থেকে এ নিয়ম অনুসরণ করে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করে আসছে।

তবে এবারের বাজেটে যে ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মূলত, করোনাকালে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙা করতে ধার করে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে ঘোষণা করা হয় প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট।

তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক অর্থসচিব ড. আকবর আলি খান রচিত বাংলাদেশে বাজেট অর্থনীতি ও রাজনীতি বইয়ে বলা হয়েছে: ‘ইতিহাস বলে বেশির ভাগ সময়ই রাজাদের অর্থাভাব ছিল। আয় ও বেশি ব্যয়ের ফলে আর্থিক অনটনের সমস্যা দেখা যেত।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন ঘাটতি বাজেট করা হয়। বাংলাদেশে বাজেট ঘাটতি সহনীয় থাকলেও করোনার অভিঘাতে তা বেড়ে যায়। এ ছাড়া আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, যে কারণে বাজেট অর্থায়নে ধার বা ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অর্থনীতিতে ঘাটতির প্রভাব নিয়ে তর্ক আছে। যারা এর বিপক্ষে, তাদের মতে, বাজেট ঘাটতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বোঝা সৃষ্টি করে। কারণ, ঋণের প্রতিটি টাকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শোধ করতে হবে।

তাদের মতে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কর হার কমিয়ে বেসরকারি খাতকে সুবিধা দিতে হবে, যাতে তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়।

অপরদিকে যারা ঘাটতি বাজেটের পক্ষে তাদের মতে, ঘাটতি হলেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং ব্যয় বেশি করলে উৎপাদন কর্মকাণ্ড বেগবান হবে। ফলে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান।

ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ঘাটতি শুধু দায় সৃষ্টি করে না। ঘাটতি দিয়ে যদি অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হয়, তা হলে আয়ও সৃষ্টি করতে পারে।’

ঋণের সুদের পেছনে ব্যয়

বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। এটা এখন মোট বাজেটের ১৮ শতাংশের বেশি। প্রতি বছর বাজেটে এই বরাদ্দ বাড়ছেই। এবার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সুদ পরিশোধে মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করা হবে। বাকি ১০ শতাংশ বিদেশি ঋণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি ধরা হয়েছে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

যে অর্থবছরটি শেষ হতে যাচ্ছে, তাতেও ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ। তবে অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, চূড়ান্ত হিসাব শেষে এই ঘাটতি কমবে।

কারণ, অর্থবছরের শুরুতে সরকার ব্যয়ের বিশাল যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, শেষ পর্যন্ত তা খরচ করতে পারবে না।

সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা

জিডিপির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ঘাটতি ধরে বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়নের রেওয়াজ আছে। এতদিন তা মেনেই বাজেট ঘোষণা করে আসছিল সরকার।

কিন্তু করোনাকালে এই নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ঘাটতি ৬ শতাংশের বেশি ধরে দুটি বাজেট দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে: বেশি বেশি খরচ করে মন্দায় অচল অর্থনীতিকে চাঙা করা।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা, যা দিয়ে ৯টি পদ্মা সেতু বানানো যেত। পাঁচ বছরে এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বিদ্যমান বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির চেয়ে বেশি।

পাঁচ বছরে ঘাটতির চিত্র

অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৩ হাজার ৮২৩ কোটি কোটি টাকা।

এতে মূল বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৫৮ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছর মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ৫ শতাংশ।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের শেষ সময়ে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

ওই বাজেটে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৪৯ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। আর ঘাটতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

ওই বাজেটকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট বলে দাবি করেছিলেন মুহিত।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, মূল বাজেট ঘোষণার পর সংশোধন করা হয়। অর্থবছর শেষে দেখা যায়, সংশোধিত বাজেটও ঠিকমতো খরচ হয় না। ফলে প্রকৃত খরচেরে পর ঘাটতি কমে আসে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণেই বাজেট ঘাটতি পূরণে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এতে উদ্ধিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

কারণ, করোনাকালে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, ভোগ ব্যয় বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙা করা। এ জন্য ঋণের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করার পরামর্শ দেন তারা।

সাবেক অর্থউপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাটতি বেশি হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না আমি। এখন আমাদের বেশি বেশি খরচ করতে হবে ধার করে। তবে এই টাকা ব্যয় করতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অবকাঠামো খাতে। এর ফলে নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

বিদেশি ঋণ সস্তা

বিদেশি ঋণের সুদ হার নমনীয় হওয়ায় এটি বেশি করে সংগ্রহের পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা। যে পরিমাণ ঋণ জমেছে, তার বিপরীতে বছরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার সুদ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে।

তবে এ কথাও সত্যি, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে। এ কারণে ঋণের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফ-এর সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার অনেক বেশি, গড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ। আর বিদেশি ঋণের জন্য মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। অর্থাৎ দেশীয় ঋণের খরচ অনেক বেশি। এ কারণেই দেশি ঋণে সুদ অনেক বেড়ে যায়।’

সক্ষমতা বেড়েছে

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রেডিট রেটিংও ভালো।

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অনেক ভালো। ঋণ-অনুপাত জিডিপির ৪০ শতাংশের নিচে। এ ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থানে আছি।

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ঋণ একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও কয়েক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ কখনও খেলাপি হয় নি। ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দিতে আগ্রহী।

শেয়ার করুন

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল শতরঞ্জি

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল শতরঞ্জি

শতরঞ্জি উত্তরের জেলা রংপুরের ঐতিহ্যবাহী বুননশিল্প। একসময় রাজা-বাদশাহদের কাছে এর কদর ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের দরবারে শতরঞ্জি ব্যবহার করা হতো। জমিদারদের ভোজনের আসনেও ছিল এর ব্যবহার।

জামদানির পর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রংপুরের ‘শতরঞ্জি’।

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বুননশিল্পকে বৃহস্পতিবার স্বীকৃতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে রংপুরের শতরঞ্জিকে নিবন্ধনের জন্য ২০১৯ সালের ১১ জুলাই অধিদপ্তরটিতে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ফর্মস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অফিসের জিআই জার্নাল নম্বর-০৭-এ শতরঞ্জি নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। জার্নাল প্রকাশিত হওয়ার পর শতরঞ্জিকে রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে সনদ দিল ডিপিডিটি।

এর আগে ২০১৬ সালে দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে জামদানিকে নিবন্ধিত করে বিসিক।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধাসম্পদ’ শীর্ষক সেমিনার এবং বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস-২০২১ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিপিডিটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসানের হাতে শতরঞ্জির জিআই স্বীকৃতির সনদ তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী।

শতরঞ্জি হলো একধরনের কার্পেট। শব্দটি ফারসি শতরঞ্জ থেকে এসেছে। শতরঞ্জ হলো দাবা খেলার ছক। দাবার ছকের সঙ্গে নকশার মিল থেকে এসেছে নামটি।

শতরঞ্জি উত্তরের জেলা রংপুরের ঐতিহ্যবাহী বুননশিল্প। একসময় রাজা-বাদশাহদের কাছে এর কদর ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের দরবারে শতরঞ্জি ব্যবহার করা হতো। জমিদারদের ভোজনের আসনেও ছিল এর ব্যবহার।

ঐতিহ্যবাহী পণ্যটি একসময় নদীপথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রংপুর থেকে এই বুননশিল্প প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এই শিল্প। রংপুরের উৎপাদিত শতরঞ্জি এখন আবার ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নতুন করে এই হস্তশিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পেছনে বিসিকের অবদান আছে। ১৯৭৬ সালে সরকারিভাবে শতরঞ্জি তৈরির একটি প্রকল্প নেয় এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই উদ্যোগ খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তবে হাল ছেড়ে দেয়নি বিসিক।

ওই উদ্যোগের পর কিছু মানুষ এই শিল্পে যুক্ত হন। এরপর ১৯৯১ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে শতরঞ্জির উৎপাদন শুরু হয়। এখন রংপুরজুড়েই শতরঞ্জি উৎপাদিত হচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে পৃথিবীর প্রায় ৪০টি দেশে।

শেয়ার করুন