বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

উচ্চমূল্যে বিমা খাতের শেয়ার যারা কিনেছেন, পুঁজিবাজারের আচরণে তারা আছেন বেশ উৎকণ্ঠায়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

গত বছরের জুলাই থেকে এক দফা আর ৫ এপ্রিল লকডাউনের শুরু থেকে আরেক দফা উত্থানে সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারগুলো দৌড়াতে থাকে পাগলা ঘোড়ার মতো। যাচাই-বাছাই ছাড়াই দাম বাড়তে থাকে। গত এক বছরে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ছয় গুণ, কোনোটির সাত গুণ, কোনোটির আবার ১০ গুণ হয়েছে। অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে বারবার আলোচনা হচ্ছিল। অন্যদিকে বাজেটে অর্থমন্ত্রী করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করার পর থেকে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে আগ্রহ বেড়েই চলেছে।

উড়তে থাকা বিমা খাতে হঠাৎ করেই উদ্বেগ। ঢালাও দরপতনের পাশাপাশি কমেছে লেনদেন। আশার বেলুন ফুটে উঠার আগেই চুপসে গেল ব্যাংক খাত। অন্যদিকে বস্ত্র খাতের নতুন রাজা হওয়ার ইঙ্গিত। প্রকৌশল ও জ্বালানি খাতেও আগ্রহ বেড়েছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার তো বটেই, গোটা সপ্তাহের পুঁজিবাজারকে মূল্যায়ন করতে গেলেই এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংক বিমায় পতনের পরও পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে উৎপাদন খাতে দর বৃদ্ধির ওপর ভর করে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেষ দুই ঘণ্টায় ৪৭ পয়েন্ট সূচক কমলেও আগের দিনের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশিতে শেষ হলো সপ্তাহের লেনদেন।

হাতবদল হওয়ার শেয়ারের মূল্য আবারও ছাড়িয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা টাকা। এটি আগের দিনের চেয়ে ৩১ কোটি টাকার মতো কম।

গত বছরের জুলাই থেকে এক দফা আর ৫ এপ্রিল লকডাউনের শুরু থেকে আরেক দফা উত্থানে সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারগুলো দৌড়াতে থাকে পাগলা ঘোড়ার মতো। যাচাই বাছাই ছাড়াই দাম বাড়তে থাকে।

গত এক বছরে কোনো কোম্পানির দাম ছয় গুণ, কোনোটির সাত গুণ, কোনোটির আবার ১০ গুণ হয়েছে। অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে বারবার আলোচনা হচ্ছিল। বলাবলি হচ্ছিল যে, এমন উত্থানের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় পতনও অনিবার্য।

গত দুই কার্যদিবস ধরে এই ঘটনাটিই ঘটল। এই দর সংশোধন স্থায়ী হবে না কি আবার উত্থানে যাবে, সেই পূর্বাভাস দেয়ার সুযোগ পুঁজিবাজারে নেই। তবে এই খাতের বিনিয়োগকারীরা যে উৎকণ্ঠিত, সেই সন্দেহ নেই।

দর কমার পাশাপাশি লেনদেনে হিস্যাও কমেছে এই খাতের।

অনেক দিন পর সর্বাধিক দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে একটিও নেই বিমা খাতের। আর সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ২০টি কোম্পানির মধ্যে কেবল একটি জীবন বিমা খাতের।

এই খাতের মোট ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৫টি, বেড়েছে ১৪টির। রেকর্ড ডেটের কারণে একটির লেনদেন স্থগিত।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার কোন খাতে কত লেনদেন

বিমা খাতে লেনদেন হয়েছে ৫৬০ কোটি ৮ লাখ টাকা। এটি মোট লেনদেনের শতকরা ২০ শতাংশ। গত সপ্তাহেও এই খাতে লেনদেন ছিল ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ২০টি কোম্পানির মধ্যে এই খাতের কেবল তিনটি, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল আট থেকে ১০টি।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকা ব্যাংক খাত মে মাসে যে আগ্রহের সঞ্চার করেছিল, সেটিও অনেকটাই চুপসে গেছে। শেয়ার কেনায়ও আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। মোট লেনদেন বেড়ে চললেও এই খাতে কমছে।

এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে রেকর্ড ডেটের কারণে লেনদেন স্থগিত ছিল একটির। বাকি ৩০টির মধ্যে দর বেড়েছে কেবল আটটির, একটির দর ছিল অপরিবর্তিত। আর বাকি সবগুলোর দাম কমেছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ১৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা। এটি মোট লেনদেনের ৭.৩৪ শতাংশ। গত সপ্তাহেও লেনদেনের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ছিল এই খাতে।

অন্যদিকে বাজেটে অর্থমন্ত্রী করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করার পর থেকে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে আগ্রহ বেড়েই চলেছে।

বস্ত্র খাতের ৫৬টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে কেবল সাতটির, অপরিবর্তিত ছিল একটির, বেড়েছে বাকি ৪৮টির।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির চারটি আর ২০টি কোম্পানির আটটি ছিল এই একক খাতে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ২০টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটি এই খাতের।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০৬ কোটি এক লাখ টাকা। মোট লেনদেনের ১৫.২১ শতাংশ। গত সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৫টির। কমেছে ১৭টির। সবচেয়ে বেশ দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির চারটি ও ২০টি কোম্পানির ছয়টি এই খাত থেকে এসেছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ২৯৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এটি মোট লেনদেনের ১১.০১ শতাংশ।

লেনদেনে আবার সেরা বেক্সিমকো

বাজারে উত্থান পতন, এক খাত ছেড়ে অন্য খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বা অন্য যে পরিবর্তনই হোক না কেন, লেনদেনের রাজা গত সাত থেকে আট মাস ধরে বেক্সিমকো লিমিটেডই।

গোটা ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ লেনদেন তার চেয়ে ৩১ কোটি টাকা বেশি হাতবদল হয়েছে কেবল এই একটি কোম্পানির। সব মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ২২৯ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার।

এত বিপুল লেনদেনেও দামে অবশ্য হেরফের কম। আগের দিনের চেয়ে তিন টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৪০ পয়সা।

বেক্সিমকোর ওপর ভর করে বিবিধ খাত লেনদেনের তৃতীয় অবস্থানে আছে। মোট হাতবদল হয়েছে ৩০৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৬৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে ১৬৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

রাজা এবার বস্ত্র খাত

এই খাতের তো বটেই, শতকরা হিসেবে দর বৃদ্ধির শীর্ষ পর্যায়ে ছিল বস্ত্র খাতের জাহিন স্পিনিং, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছ ১০ শতাংশ। শেয়ার দর ৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা।

এছাড়া আলিফ ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শেয়ার দর ২৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩১ টাকা ৩০ পয়সা।

নূরানী ডাইংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৮ টাকা ১০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা।

সোনারগাঁও টেক্সটাইল কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মিথুন নিটিং কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
বৃহস্পতিবার বস্ত্র খাতে লেনদেনের চিত্র

জাহিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। শেয়ার দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা ৯০ পয়সা।

রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৪০ পয়সা।

হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। শেয়ার দর ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।

তুং হাই নিটিং অ্যান্ড নিটিং কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। একই হারে শেয়ার দর বেড়েছে অলেম্পিক এক্সসোসরিজ লিমিটেডের।

নতুন উত্থান প্রকৌশল খাতে

মীর আক্তার হোসেন কোম্পানি শেয়ার দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। শেয়ার দর ৭৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৭ টাকা ৪০ পয়সা।

একই হারে দর বেড়েছে এস আলম কোল্ড রোলিং স্টিল লিমিটেডের।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকৌশল খাতে ৪২ কোম্পানির লেনদেনের চিত্র

কপারটেক লিমিটেডের শেয়ার দরও বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। শেয়ার দর ২৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা।

দেশবন্ধু পলিমার কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। শেয়ার দর ১২ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। ন্যাশনাল পলিমার কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

লেনদেনে এগিয়ে দরে পিছিয়ে বিমা

সাধারণ বিমার দর পতনের মধ্যে কিছুটা হলেও উজ্জ্বল অবস্থানে দেখা গেছে জীবন বিমা খাত।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পপুলার লাইফের ৮.৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া ফারইস্ট লাইফের ৬.১ শতাংশ, পপুলার লাইফের ৪.৭২ শতাংশ, পদ্মা লাইফের ৩.৬৯ শতাংশ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২.৬২ শতাংশ দাম বেড়েছে।

সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের ৩.৬ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের দাম বেড়েছে ২.২৮ শতাংশ।

বাকি যে দুই একটির দাম বেড়েছে, তার পরিমাণ একেবারেই কম।

উত্থানের চিত্রের চেয়ে দর পতনের তালিকায় বেশি ছিল বিমা খাত।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
টানা বাড়তে থাকা বিমা খাতের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে

এদিন ঢাকা ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ১১.৪৯ শতাংশ। কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি তার আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। করপোরেট ডিক্লারেশনের ঘোষণার কারণে বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ার দরে কোনো সার্কিট ব্রেকার দেয়া ছিল না।

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ৮.৯৯ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ৭.৮৭ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ৭.৫৭ শতাংশ, ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ৭.২৫ শতাংশ, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের ৬.৫১ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের ৬.৩১ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের ৬.২৭ শতাংশ দাম কমেছে।

ইস্টল্যান্ড, ফেডারেল, প্রাইম, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের দরও ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আগ্রহ হারিয়েছে ব্যাংক

এই খাতে পতনের মধ্যে উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছে লভ্যাংশ ঘোষণা না করা রূপালী ব্যাংক। ৯.৬৪ শতাংশ বেড়ে সর্বাধিক বৃদ্ধির তালিকায় ছিল এই কোম্পানিটি।

এনআরবিসি ব্যাংকের দর কমেছে সবচেয়ে বেশি ৫.০১ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৬ টাকা।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
ব্যাংক খাতে দর পতনের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে কমে গেছে লেনদেন

ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৩.৭৫ শতাংশ। এছাড়া মার্কেন্টাইল, এবি, স্ট্যান্ডার্ড, এনসিসির দর কমেছে ২ শতাংশ পর্যন্ত।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে চমক

লেনদেনে পিছিয়ে থাকলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে দেখা গেছে চমক। এই খাতের ৩৭টি কোম্পানির মধ্যে সিংহভাগই জুন মাস শেষে অর্থবছর হিসাব করে ঘোষণা করবে লভ্যাংশ। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ব্যাপক মুনাফায় থাকা বেশিরভাগ ফান্ড চতুর্থ প্রান্তিকেও ভালো মুনাফা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে প্রায় আটশ পয়েন্ট। এই সময়ে শেয়ার মূল্য বাড়ার সুফল পাবেন ফান্ডের ইউনিটধারীরা।

এই খাতের ৩৭টি তহবিলের মধ্যে একটির লেনদেন হয়নি, একটির দাম ছিল অপরিবর্তিত। বাকি ৩৫টিরই দাম বেড়েছে।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
ভালো লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির একটি ছিল এই খাতেন, ফিনিক্স ফিনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আগের দিনের চেয়ে ৯.৪ শতাংশ বেড়ে ১২ টাকা ৮০ পয়সা। এর চেয়ে বেশি দাম বাড়া সম্ভব ছিল না।

বাকি ৩৪টি ফান্ডের দাম ১০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

সূচক ও লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৬ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ পয়েন্টে।

বিমায় ছন্দপতন, বস্ত্র-প্রকৌশলে তুমুল আগ্রহ
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ৬৯ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৮৫ পয়েন্টে। হয়েছে মোট ১১৪ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভল্টের টাকা আত্মসাৎ: প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ভল্টের টাকা আত্মসাৎ: প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ফাইল ছবি

রোববার মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার এ নির্দেশ দেন। গত শনিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আগামি ২০ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

গত শনিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

রোববার মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার এ নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলায় অভিযোগ করা হয়, ব্যাংকটির বংশাল শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক গত ১৭ জুন বাদী হয়ে রিফাতুল হক ও এমরান আহম্মেদকে আসামি করে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর অভিযোগ করেন।

রিফাত বংশাল শাখায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে কর্মরত রয়েছেন।

গত ১৭ জুন আইসিসি ডিভিশনের ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ইউনিট বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বংশাল শাখা পরিদর্শনে যায়।

তদন্তে এ শাখার ভল্টে মোট ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার অসামঞ্জস্যতা বা ঘাটতি পায়।

তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা স্বীকার করেন রিফাতুল হক।

২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অল্প অল্প করে টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

গত ১৮ জুন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভোল্ট থেকে তিন কোটি ৭৭ লাখ টাকা গায়েব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় ইমরান ও রিফাতকে আটক করা হয়। মামলাটি দুদকের শিডিউলভূক্ত হওয়ায় আসামিদেরকে ১৮ জুন ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

আমদানি পণ্য আমরা রপ্তানি করছি: বিএসইসি চেয়ারম্যান

আমদানি পণ্য আমরা রপ্তানি করছি: বিএসইসি চেয়ারম্যান

শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে ওয়ালটনের তৈরি নতুন মডেলের একটি স্মার্ট টেলিভিশন উন্মোচন করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি ওয়ালটনের তৈরি নতুন মডেলের একটি স্মার্ট টেলিভিশন উন্মোচন করেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেছেন, ‘উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দ্বিতীয় ধাপে যেখানে আমাদের হাই টেক ও হেভি ইন্ডাস্ট্রিতে যেতে হবে, সেখানে ওয়ালটন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা যেসব পণ্য আমদানি করতাম, এখন তা রপ্তানি করছি। বাংলাদেশে যে সব কিছুই সম্ভব, সেটা ওয়ালটনের মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারব।’

শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

সে সময় তিনি ওয়ালটনের তৈরি নতুন মডেলের একটি স্মার্ট টেলিভিশন উন্মোচন করেন। বিএসইসি চেয়ারম্যান ওয়ালটনের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে হাই-এফিশিয়েন্ট ইনভার্টার কম্প্রেসরের প্রোটোটাইপ পরিদর্শন করেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওয়ালটন কারখানা একটি গ্রিন টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন কমপোনেন্ট তৈরি হচ্ছে। কাঁচামাল থেকে একটি সম্পূর্ণ পণ্য কীভাবে ওয়ালটন তৈরি করছে, সেটা নিজ চোখে দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। ওয়ালটনকে দেখে বুঝতে পারলাম, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। ওয়ালটন সবদিক থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ।’

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, ‘ওয়ালটন টেকসই, ক্রমবর্ধমান ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে নেক্সট ফেইজে নিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে আসা দরকার। এতে দেশের শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। সর্বোপরি রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন নার্সিং করে যাবে।’

এর আগে অতিথিরা কারখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছলে তাদের স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম, এস এম মাহবুবুল আলম, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

নির্বাচনি এলাকায় সোমবার ব্যাংক বন্ধ

নির্বাচনি এলাকায় সোমবার ব্যাংক বন্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকাধীন যেসব স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সে সকল স্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকের সকল শাখা বন্ধ থাকবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপ-নির্বাচন, ঝালকাঠি পৌরসভা ও দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনসহ সারা দেশে ২০৪ ইউনিয়নের নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকায় তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা সোমবার বন্ধ থাকবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে ।

সার্কুলারে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকাধীন যেসব স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সে সকল স্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকের সকল শাখা বন্ধ থাকবে।

সার্কুলারে নির্বাচনি এলাকায় ব্যাংকের শাখায় কর্মরত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

ঢাকা চেম্বারে বসছে ‘ভিয়েতনাম ডেস্ক’

ঢাকা চেম্বারে বসছে ‘ভিয়েতনাম ডেস্ক’

দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশস্থ ভিয়েতনাম দূতাবাসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশে সরকার নানাবিধ সুবিধা প্রদান করছে, যেগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়নে ভিয়েতনাম দূতাবাস ঢাকা চেম্বার কার্যলায়ে ‘ভিয়েতনাম ডেস্ক’ স্থাপন করবে।

বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচ-মেকিং, ক্রেতা-বিক্রেতার সম্মেলন, বাণিজ্য মেলা আয়োজন, পণ্য ও সেবা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে যৌথ গবেষণা পরিচালনায়ও একযোগে কাজ করবে দেশটি।

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশস্থ ভিয়েতনাম দূতাবাস কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ফাম ভিয়েত চিয়েন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রিজওয়ান বলেন, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশে সরকার নানাবিধ সুবিধা প্রদান করছে, যেগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।

‘কৃষি, খাদ্য-প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, চামড়া, পাট, হালকা প্রকৌশল এবং হ্যান্ডিক্রাফ্ট প্রভৃতি শিল্পে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য দূতাবাসের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

জবাবে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ফাম ভিয়েত চিয়েন স্বাক্ষরিত সহযোগিতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, যেখানে দুদেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে মবিন এবং সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

হালকা প্রকৌশল শিল্প নিয়ে আশাবাদী সরকার

হালকা প্রকৌশল শিল্প নিয়ে আশাবাদী সরকার

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বাহিনী তৈরির মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন এবং পণ্য বহুমুখীকরণের ফলে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারিত হবে।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বা হালকা প্রকৌশল পণ্য উৎপাদনের খাতকে রপ্তানিমুখী করা সম্ভব হলে দেশে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় খাত। সরকার এ খাতটিকে রপ্তানিমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে রোববার ভার্চুয়াল পরামর্শক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বাহিনী তৈরির মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন এবং পণ্য বহুমুখীকরণের ফলে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারিত হবে। তবে এর জন্য সরকারি উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে ‘বর্ষপণ্য-২০২০’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে এ খাতের বড় বাজার গড়ে উঠেছে। বিদেশেও হালকা প্রকৌশল পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে খাতটির উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। সেদিন বেশি দূরে নয়।

পরামর্শক কর্মশালায় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান ছাড়াও শিল্প মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. আব্দুল রহিমের সঞ্চালনায় কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

বিমার ৬০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের ধারণ করতে হবে: আইডিআরএ

বিমার ৬০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের ধারণ করতে হবে: আইডিআরএ

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন

আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন, ‘তাদের পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনতে হবে। এজন্য হঠাৎ করে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। তবে যেহেতু এটি আইনগত বিষয়, তাই জটিলতা থাকলেও আইগনত বিষয়টিকেই আমরা গুরুত্ব দেবো।’

আইনগতভাবেই বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন।

বিমা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) এর সঙ্গে রোববার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিমা আইন ২০১০-এর ২১(৩) ধারার তফসিল-১-এ বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ আসবে উদ্যোক্তাদের কাছ থাকে। বাকি ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।

সাধারণ বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন হবে ৪০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ উদ্যোক্তারা দেবেন। বাকি ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ৬০ শতাংশ না থাকায় এমন চিঠিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে। পুঁজিবাজার থেকে বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তারা শেয়ার কিনবেন এমন ধারণায় হু হু করে দাম বাড়তে থাকে বিমার শেয়ারের।

এ বিষয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, এখানে দুটি বিষয় আছে। একটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, অপরটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছাড়া। যেসব বিমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেগুলোর ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা আছে। তা হচ্ছে আইনগত নির্দেশনা আর অপারেশন কার্যক্রম।

‘তাদের পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনতে হবে। এজন্য হঠাৎ করে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। তবে যেহেতু এটি আইনগত বিষয়, তাই জটিলতা থাকলেও আইগনত বিষয়টিকেই আমরা গুরুত্ব দেবো।

‘তবে যেসব বিমা কোম্পানি এখনও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি তারা যখন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাবে তখন তাদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পরিপালন না থাকলে আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেবো না।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫০ বিমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র ছয়টির উদ্যোক্তাদের শেয়ার রয়েছে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি। ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে ৪৪টি কোম্পানির উদ্যোক্তাদের শেয়ার।

মত বিনিময় সভায় মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নন লাইফের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু জটিলতা আছে। আমরা সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ করছি। এ সেক্টরেও যাতে শৃঙ্খলা ফিরে সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যার সুফল আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে।’

জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের এখানে ইতোমধ্যে নিচের দিকে ১৭ জন জনবলেল অনুমোদন পাওয়া গেছে। আর ৪০ জনকে দেয়া হবে। তখন কাজের অনেকটা গতি আসবে।’

জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অভিযোগ আসে। আমরা সবগুলোরই তদন্ত করি। সানলাইফের ক্ষেত্রে দাবি পরিশোধ না করার বিষয়ে নজরে আসলে, আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি।’ তিনি জানান, ইতোমধ্যে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের সম্পদ বিক্রি করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করেছে। বাকি দাবিগুলোও পরিশোধ করবে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, লাইফ বিমা কোম্পানির মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করায় কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। গত বৃহস্পতিবার জারিকৃত এ সংক্রান্ত সার্কুলারটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

বিমা খাতের একচ্যুয়ারি সমস্যা দীর্ঘ দিনের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ মে বিমা দিবসে একচ্যুয়ারি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বলেছেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে একচ্যুয়ারি প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য আমরা একটি স্কলারশিপ প্রোগামেরও আয়োজন করেছি, যা পাঁচজনকে দেয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনজনকে পাওয়া গেছে। প্রতি জনের ৫ কোটি টাকা স্কলারশিপ ঘোষণা করার পরও আগ্রহী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ খাতের উন্নয়নে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হবে।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইআরএফ সভাপতি গোলাম মওলা। সঞ্চালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন সুমন।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন

আতঙ্ক কাটিয়ে পুঁজিবাজারে স্বস্তি

আতঙ্ক কাটিয়ে পুঁজিবাজারে স্বস্তি

ধারণা করা হয়েছিল, কোনো কোম্পানিতে ফ্লোর প্রাইস না থাকায় কিছুটা ধাক্কা লাগবে পুঁজিবাজারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আবারও আস্থার পরিচয় দিলেন। পতন নয়, বরং উত্থানে স্বাভাবিক ছিল পুঁজিবাজার। বেড়েছে সূচক।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান শেয়ার দরের প্রান্তসীমা তথা ফ্লোর প্রাইস থেকে বের হয়ে রোববার প্রথম লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। করোনার মহামারিতে পুঁজিবাজারে দরপতন ঠেকাতে ২০২০ সালের মার্চে বেঁধে দেয়া হয় প্রতিটি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তৃতীয় পর্যায়ে পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে। ফলে রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ফ্লোর প্রাইসহীন লেনদেন হয়েছে।

ধারণা করা হয়েছিল, কোনো কোম্পানিতে ফ্লোর প্রাইস না থাকায় কিছুটা ধাক্কা লাগবে পুঁজিবাজারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আবারও আস্থার পরিচয় দিলেন। পতন নয়, বরং উত্থানে স্বাভাবিক ছিল পুঁজিবাজার। বেড়েছে সূচক।

চলতি বছরের করোনা পরিস্থিতি যখন উদ্বেগ আকার ধারণ করে, তখন সরকারের লকডাউন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে পুঁজিবাজারেও লেনদেন সময় কমিয়ে আনা হয়।

৫ এপ্রিল লকডাউনের আগে সংক্রামক পতনে ছিল পুঁজিবাজার। লকডাউনেও সেই পতন আরও ত্বরান্বিত হবে, এমন গুজব ছিল পুঁজিবাজারে। তবে ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছিল ফ্লোর প্রাইসকে।

লকডাউনের মধ্যে যখন পুঁজিবাজারের লেনদেন ও সূচকের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল, তখন ৭ এপ্রিল বাতিল করা হয় ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। তার পরদিন যে লেনদেন হয়েছিল, তখন ঢালাওভাবে কোম্পানির শেয়ার দর পতনের কমেছিল সূচক।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে ভরসা ছিল, কোম্পানির শেয়ার যতই পতন হোক ফ্লোর প্রাইসের নিচে নামবে না। হঠাৎ ফ্লোর প্রাইস বাতিল করার আতঙ্কে ফ্লোর প্রাইসে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর আরও কমবে, এমন ভাবনায় বেড়ে যায় শেয়ার বিক্রি।

যদিও এ আতঙ্ক বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে ফ্লোর প্রাইসে থাকা কোম্পানিরগুলোর শেয়ার আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লেনদেন হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের এমন আস্থার ৬৬ কোম্পানির বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উঠে আসে ফ্লোর প্রাইসের ওপরে।

৩ জুন দ্বিতীয় দফায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে। তবে এবার ফ্লোর প্রত্যাহারের ফলে ঢালাও শেয়ার বিক্রি দেখা যায়নি। কিছু কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও পরবর্তী কয়েক দিনেই এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পাশাপাশি দরও বেড়েছে।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার বাতিল করা হয় পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। বিএসইসির এমন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা ছিল, পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস রোববার ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের পতন হবে পুঁজিবাজারে।

কিন্তু রোববার লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং আগের কার্যদিবসের মতো স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। সূচকও বেড়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে বিনিয়োগকারীদের তারল্য এতদিন আটকে ছিল। এখন সেগুলো মুক্ত হয়েছে। যেসব কোম্পানির অনেক বেশি ফ্লোর প্রাইস ধরা হয়েছিল, সেগুলোর কোনো লেনদেন হতো না, এখন হবে।

তিনি বলেন, যারা বেশি দামে শেয়ার কিনেছিল, তাদের জন্য ফ্লোর প্রাইস ভালো ছিল। কিন্তু যারা পুঁজিবাজারে নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচা করেন, তারা লেনদেন হওয়া কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করেন। ফলে এখন আর কারো তারল্য আটকে থাকবে না। লেনদেনের মাধ্যমে যৌক্তিক দামে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে।

রোববার লেনদেনে ভালো অবস্থানে ছিল তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো। লেনদেনে ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে দর বেড়েছে ২০টির। কমেছে ৭টির। দর পাল্টায়নি চারটির।

দর কমেছে বিমা খাতের। এদিন লেনদেনে ৫০টি বিমা কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির। দর কমেছে ৭টির এবং একটির দর পাল্টায়নি।

বস্ত্র খাতের কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৪টির। কমেছে ৩২টির।

ব্যাংকের শেয়ার দরে উত্থান

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের উত্থান দেখা গেছে। এদিন এ খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। ব্যাংকের পাশাপাশি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও শেয়ার দরে উত্থান দেখা গেছে। এদিন নন ব্যাংক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।

রোববার লেনদেনে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এনআরবিসি ব্যাংকের ৭.১৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৩০ পয়সা।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৫১ শতাংশ। প্রতিটি শেয়ার ৭৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৩ টাকা ৩০ পয়সা। স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ৩.১৩ শতাংশ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ২.৯৮ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ২.৬৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিটি শেয়ার ৩৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা ১০ পয়সা।

ফার্স্টসিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ২ শতাংশ। এবি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১.১৩ শতাংশ। যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১ শতাংশের কিছু বেশি।

এক্সিম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আইএফআইসি, পূবালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে এক শতাংশের কম।

দর কমলেও লেনদেনে এগিয়ে বিমা

রোববার তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ঢালাওভাবে কমলেও লেনদেনে এগিয়ে ছিল। রোববার বিমা খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৪২২ কোটি টাকা।

এদিন বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি ছিল প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩.৩৩ শতাংশ। তারপর আছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ।

দর বাড়ার চেয়ে কমার তালিকায় বেশি ছিল বিমার শেয়ার। এদিন সবচেয়ে বেশি দর কমেছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ৯.০৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৬৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬২ টাকা ১০ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৬.৬০ শতাংশ। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪.৭৭ শতাংশ। তাক্বাফুল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪.১৬ শতাংশ। স্ট্যন্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪.৩৫ শতাংশ।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.৬০ শতাংশ। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.৫৩ শতাংশ। ঢাকা ইন্সুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.০৩ শতাংশ।

এ ছাড়া ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর তিন শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আগ্রহ ছিল বস্ত্র খাতেও

রোববার লেননদেনে বস্ত্র খাতের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের ছিল বাড়তি আগ্রহ। এদিন লেনদেন তালিকাভুক্ত ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে দিনে যতটা বাড়া সম্ভব।

এদিন সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে মুন্নু ফেব্রিক্সের ১০ শতাংশ। এ ছাড়া তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৯.৯৪ শতাংশ। সম্প্রতি কোম্পানিটিকে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট (ওটিসি) থেকে মূল মার্কেটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর শেয়ার দর ১৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ টাকা। নিউলাইন ক্লোথিং লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৭.১১ শতাংশ।

রোববার বস্ত্র খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা।

সূচক ও লেনদেন

প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯ পয়েন্টে।

শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৫ দশমিক ৬৬ পয়ন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৭ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৬টির, দর কমেছে ১৭৯টির। দর পাল্টায়নি ৩৮টির। লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৮৩ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ১৫৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে

শেয়ার করুন