বিনিয়োগ মন্দায় বেড়েই চলেছে আমানত

আমানতের সুদ হার কমলেও ব্যাংকে এখন উপচে পড়ছে টাকা। ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগ মন্দায় বেড়েই চলেছে আমানত

২০২০ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে তারল্য বেড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মার্চ শেষে তারল্য ছিল ৮৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। চলতি বছর মার্চের শেষে সেটা বেড়ে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

করোনাকালীন বিনিয়োগে গতি নেই। করোনা শনাক্ত হওয়ার আগে যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ হয়েছে, মহামারির সময়ে তা নেমে এসেছে ৯ শতাংশের কাছাকাছি। তবে এর পেছনে আছে অন্য কারণও।

সরকার যে সোয়া লাখ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা বিতরণ হয়েছে ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে আর এ কারণেই বিতরণ করা অঙ্কটা বেশ স্ফীত দেখাচ্ছে।

তবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণের পরও ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৪ শতাংশ থেকে বেশ দূরে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে আমানতের সুদহার কমলেও ব্যাংকে এখন উপচে পড়ছে টাকা।

বছর পাঁচেক আগেও আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলো ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দিত। তবে ঋণের সুদহার এককের ঘরে নামিয়ে আনতে সরকার চাপ দেয়ার পর আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ করার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা।

সুদহার কমলে আমানত পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদেও করোনার মধ্যেও টাকার ঢল নেমেছে ব্যাংকে।

ঋণ কম বিতরণ আর আমানতের ঢেউয়ের কারণে ব্যাংক খাতে তারল্যের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

২০২০ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে তারল্য বেড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

২০২০ সালের মার্চ শেষে তারল্য ছিল ৮৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। চলতি বছর মার্চের শেষে সেটা বেড়ে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বিনিয়োগ মন্দায় বেড়েই চলেছে আমানত

আমানতের হিসাবনিকাশ

আমানতের সুদহার কমে এলেও ভালো বিকল্প না থাকায় নিশ্চিত মুনাফা ও নিরাপদে টাকা ফেরতের আশায় কিছু ব্যাংকে আমানতে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিমান্ড ডিপোজিট (যখন তখন তোলা যায়) ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। আর টাইম ডিপোজিট (মেয়াদি আমানত) ১১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা।

২০২০ সালের মার্চ শেষে আমানত ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমানতে প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

যেভাবে বাড়ল আমানত

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে ব্যাংকগুলো থেকে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায়। ফলে মার্চে সেটা কমে ৮৯ হাজার ৯০৯ টাকায় নেমে যায়।

এমন অবস্থায় ১ এপ্রিল থেকে কমানো হয় ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার (সিআরআর)। ফলে এপ্রিল শেষে অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে হয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এরপর তারল্য টানা বাড়তে থাকে।

জুলাইয়ে যা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা ও আগস্টে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এরপর ডিসেম্বর শেষে সেটা আরও বেড়ে ২ লাখ কোটি ৪ হাজার কোটি টাকা পার হয়ে যায়।

আর চলতি বছরের মার্চ শেষে তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এক বছরের ব্যবধানে তারল্য বেড়েছে ৫৮ শতাংশ।

এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর কাছে তারল্য ৬১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংকের রয়েছে ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ২৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

আর ১৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার তারল্য জমা হয় বিদেশি ব্যাংকগুলোর হাতে।

ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চাহিদামতো সরকারের ট্রেজারি বিল-বন্ড, কলমানি ও অন্য ব্যাংকে আমানত হিসেবেও রাখতে পারছে না। এতে জমা টাকা নিয়ে সমস্যায় পড়ে গেছে কিছু ব্যাংক।

তবে তারল্য নিয়ে সব ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। অনেক ব্যাংক টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। গ্রাহক থেকে আমানত না পেয়ে বেশি সুদে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিচ্ছে।

ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তারল্যের অর্থ বিনিয়োগ করত সরকারি বিল-বন্ড বা কলমানি বাজারে। কিন্তু বর্তমানে ট্রেজারি বিলের সুদহার নেমে এসেছে ১ শতাংশের নিচে। চাহিদা না থাকায় কলমানি বাজারের সুদহারও নেমেছে ১ শতাংশে।

ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ

২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয় ১০ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার। চলতি মার্চে সেটা সামান্য বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে ঋণ বেড়েছে এক লাখ কোটি টাকারও কম। অথচ এই সময়ে প্রণোদনার ঋণই বিতরণ হয়েছে এর চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছিল মাত্র ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এটি গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

চলতি অর্থবছরেও বেসরকারি খাতের ঋণে শনির দশা চলছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ১১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এটি স্মরণকালের সর্বনিম্ন।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারিতে নতুন বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ। ফলে বেসরকারি খাত সংকুচিত হয়েছে। আবারও সরকারও ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া কমিয়ে দিয়েছে। বিপরীতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ ও রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলোয় অলস অর্থের পরিমাণ বাড়ছে।

বিনিয়োগ মন্দায় বেড়েই চলেছে আমানত

তবে সরকারি-বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে না পারলে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ ছিল ব্যাংকগুলোর কাছে। কিন্তু সে পথেও সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য যে তহবিল গঠন করা হয়েছে, তার ৪০ শতাংশের মতো বিনিয়োগ হয়েছে এখন পর্যন্ত।

এডিআরের অনুপাত কমেছে

মার্চ মাসে ব্যাংক খাতে ঋণ আমানত অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকের হাতে ১০০ টাকা থাকলে ঋণ হিসেবে বিতরণ হয়েছে ৭২ টাকা ৮২ পয়সা।

অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ১০০ টাকায় ৮৭ থেকে ৯২ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে ব্যাংককে।

এই এডিআর রেশিও (অনুপাত) আবারও প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় ইসলামি ব্যাংকে বেশি।

প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে এই হার ৬৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, আর ইসলামি ব্যাংকগুলোতে ৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

গত বছরের মার্চে এডিআর রেশিও ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এরপর ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় এ অনুপাত কমতে থাকে। ডিসেম্বর শেষে এডিআর রেশিও কমে ৭২ দশমিক ৬৯ এ দাঁড়ায়।

অবশ্য এর মধ্যেও ১১টি ব্যাংকের এডিআর রেশিও বেশি। এগুলো হলো বেসিক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, এবি, ওয়ান, মিডল্যান্ড, ইউনিয়ন, এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংক।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, অতিরিক্ত তারল্য ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর। বিনিয়োগ বাড়ছে না, এটা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। কারণ, বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে না।

তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ও মাঝারিদের সমস্যা না হলেও কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) খাতে ঋণ বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে ঋণের প্রসার বাড়াতে পারে।

বিকল্প পথেও বিনিয়োগ বাড়াতে যায় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা নতুন কোনো প্রোডাক্ট নিয়ে আসতে পারে। তবে আমাদের ব্যাংকারদের এই সৃজনশীলতা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

‘টাকা নিয়ে বসে থাকবে কেউ ঋণ নিতে আসবে না। নতুন নতুন প্রোডাক্ট চালু করলে বিনিয়োগ বাড়বে’ বলে মন্তব্য করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগ করতে চাই; কিন্তু বিনিয়োগ যে করব, সেই চাহিদা তো থাকতে হবে। দেশে এ মুহূর্তে বড় কোনো শিল্প উদ্যোগ নেই বললেই চলে। ভালো ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। এ জন্য ব্যাংকে অলস টাকা বাড়ছে।’

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ

জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ

গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: ফাইল ছবি

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীর মাত্র ৭-৮টি দেশে এ পদ্ধতির অর্থবছর হিসাব করা হয়। জুন-জুলাই মেয়াদের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন শুরুতে বর্ষকাল থাকে। অর্থবছরে শুরুতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছরের শেষে গিয়ে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। কিন্তু বেশির ভাগ দেশে অর্থবছর থাকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর। এমনকি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও একই সময় অর্থবছর হিসাব করে।’

বাজেট বাস্তবায়নের সমস্যা দূরীকরণে দেশের অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে সরিয়ে বিশ্বের অন্য দেশের মতো জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কি বৈষম্যমূলক পুনরুদ্ধারের পথে?’ শীর্ষক ওয়েবিনারের শুক্রবার এ তাগিদ দেয়া হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সিজিএসের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

বাজেট প্রণয়নের অর্থবছর পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে সিজিএস চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো সনাতন পদ্ধতিতে জুলাই-জুন অর্থবছর ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হয়, যা অন্যান্য দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাজেট বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। সরকারকে এই সনাতনী পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর মাত্র ৭-৮টি দেশে এ পদ্ধতির অর্থবছর হিসাব করা হয়। জুন-জুলাই মেয়াদের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন শুরুতে বর্ষকাল থাকে। অর্থবছরে শুরুতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছরের শেষে গিয়ে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। কিন্তু বেশির ভাগ দেশে অর্থবছর থাকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর। এমনকি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও একই সময় অর্থবছর হিসাব করে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘কিছুটা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও সরকার উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে অবিচল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে। গত ২০ বছর আগেও তা কেউ ভাবতে পারেনি। দুই তৃতীয়াংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও গ্রাম অবহেলিত ছিল। এ সরকার গ্রামের উন্নয়নে কাজ করেছে। শহরের মতো গ্রামেরও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরাও বলছেন বাজেট ভালো হয়েছে। কিছু এরিয়া পলিশ করার দরকার আছে। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা অর্থমন্ত্রীও সবচেয়ে সেরা বাজেট দিতে পারেন না। কিছু সমস্যা থাকবেই।’

বাজেট প্রণয়ন অর্থনীতির চেয়েও বেশি রাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে একটি বিশেষ শ্রেণি। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্ত বাজার অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাজেটের বরাদ্দও হয়ে পড়েছে গোষ্ঠীতান্ত্রিক। ফলে অর্থনীতিতে বাজার মূল্য ধারণাটির অধঃপতন হয়েছে।

‘এতে বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মডেল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এখানে সম্পদ কেবল এক শতাংশ মানুষের হাতে পুঞ্জিভূত। দেশে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলমান থাকবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘মহামারিকালীন মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। এ সময় সরকারের বেশি ব্যয় করার কথা। কিন্তু চলতি বছরেই রাজস্ব ব্যয় সবচেয়ে সংকুচিত হয়েছে। অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়ছে, সম্পদ চলে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষের হাতে, প্রান্তিক হয়ে পড়ছে অপর শ্রেণি। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘করোনায় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, বৈষম্য বেড়েছে, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানও নেই। এতে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যে আশা রয়েছে, তা সংকটের মুখে পড়ছে। সংকট উত্তরণে সঠিক নীতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।’

তিতুমীর জানান, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে সবচেয়ে বেশি মানুষের অন্তর্ভুক্তি থাকলেও এই খাতে বরাদ্দকৃত অধিকাংশ অর্থই মানুষের কাছে এসে পৌঁছায় না। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে বরাদ্দ ১৩ শতাংশ বাড়লেও মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ কমেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বিগত বছরের চেয়ে কম। গোষ্ঠী স্বার্থ চিন্তা না করে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ চিন্তা করলেই বৈষম্যমূলক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে তিনটি ধাপ- বাজেট প্রণয়ন, বাজেট পরবর্তী আলোচনা এবং বাস্তবায়ন। বলা হয়- বাজেট জনগণের জন্য। তাহলে, জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বাজেট আলোচনা হয় পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। বাজেট প্রস্তাবের পরেও মুক্ত আলোচনার সুযোগ থাকে না। এতে বাজেট বাস্তবায়নেও জবাবদিহিতা এবং স্বছতার অভাব থাকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বাজেট বাস্তবায়নের গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কর ব্যবস্থাপনাকে প্রগতিশীল করতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে বিভাজন ব্যবস্থা রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে করপোরেট করের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে আরও বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়া।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে যে ধরনের কর সুবিধা রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের শিল্পগুলো সেধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

রিকন্ডিশনড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক বলেন, বাজেট ব্যবসাবান্ধব হলেও ব্যবসায়ীদের বাজেটের মাধ্যমেই বিভিন্ন কৌশলে আটকে দেয়া হচ্ছে। যার ফলে দেশে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

বেসরকারি খাতগুলোকে দলীয়করণ না করে গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার মত দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে ১৬০০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে ১৬০০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রতীকী ছবি

বিশ্বব্যাংক বলেছে, কোভিড-১৯ অতিমারি দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে, যার প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে এবং কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেনি। কোভিডের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বৈরী প্রভাব পড়েছে এবং এর ফলে উচ্চশিক্ষা খাতে জেন্ডার বৈষম্য বাড়ছে। প্রকল্পটি ডিজিটাইজেশনের ওপর জোর দিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতে অতিমারির কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং টিকে থাকার পদ্ধতিগত সামর্থ্য বাড়াতে সহায়তা করবে।

করোনাভাইরাস মহামারিকালে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশকে ১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বাজার দরে টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই ঋণ অনুমোদন দেয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

একই সভায় আফগানিস্তানের অনুকূলে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে।

‘হাইয়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন ট্রানফরমেশন প্রজেক্ট’ নামে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শিক্ষা খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম আঞ্চলিক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি উচ্চশিক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াবে, যার মধ্যে রয়েছে এ অঞ্চলের মধ্যে সমজাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গতিশীলতা, ক্রেডিট ট্রান্সফার স্কিম বা এক দেশ থেকে অন্য দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে অংশীদারত্বের ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করা হবে, যা শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, কোভিড-১৯ অতিমারি দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে, যার প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে এবং কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেনি। কোভিডের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বৈরী প্রভাব পড়েছে এবং এর ফলে উচ্চশিক্ষা খাতে জেন্ডার বৈষম্য বাড়ছে। প্রকল্পটি ডিজিটাইজেশনের ওপর জোর দিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতে অতিমারির কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং টিকে থাকার পদ্ধতিগত সামর্থ্য বাড়াতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘আমাদের সবার ভবিষ্যতের জন্য উচ্চশিক্ষা অপরিহার্য। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে একটি দক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগী সক্ষম শ্রমশক্তি তৈরিতে যুব জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনিয়োগ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই অর্থায়ন উচ্চশিক্ষায় বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে শিক্ষার মান বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা নিশ্চিত করবে।’

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভার্চুয়াল গতিশীলতা’ তৈরিতে ‘দক্ষিণ এশিয়া উচ্চশিক্ষা পোর্টাল’ চালু হবে, যার মাধ্যমে নিবন্ধিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স নেয়ার অনুমোদন দেয়া হবে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা এই পোর্টালে সংযুক্ত হতে পারবেন।

এটি জাতীয় গবেষণা ও শিক্ষা নেটওয়ার্কগুলোর মাঝে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করবে। শিক্ষার্থীদের যুক্ত হতে এবং সংযোগের জন্য সম্প্রসারিত সুবিধা দেবে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের জাতীয় গবেষণা ও শিক্ষা নেটওয়ার্কের উন্নয়ন করবে এবং এই নেটওয়ার্কে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সংযোগ প্যাকেজ দেবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হারে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। আরও বেশি নারীকে গুণগতমানের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে, তুলনামূলক ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে এবং তাদের নেতৃত্বে আনতে প্রকল্পটি নারী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। এটি প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ উইমেন’ সমন্বয় করবে।

আফগানিস্তানে উচ্চশিক্ষা খাত দ্রুত বাড়ছে। তবে এ দেশের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩০ শতাংশ নারী। আফগানিস্তানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেনরি কারালি বলেন ‘আঞ্চলিক এই প্রকল্প শিক্ষার্থীদের বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের পর্যায়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে কাজ করার জন্য গড়ে তুলবে।’

প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার মোখলেসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ায় মানসম্মত শিক্ষার জন্য বর্ধিত চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। এ ছাড়া, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উপকৃত হবে এবং এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াবে।

এই প্রকল্পের ঋণ আসবে বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে। যার মেয়াদ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছর। বাংলাদেশ বর্তমানে সর্বাধিক আইডিএ গ্রহীতা দেশ, যার পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

শাটডাউনেও ব্যাংক খোলা রাখার ইঙ্গিত

শাটডাউনেও ব্যাংক খোলা রাখার ইঙ্গিত

৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন এবং ২০২০ সালের সাধারণ ছুটির মধ্যেও খোলা রয়েছে ব্যাংক। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘সারা দেশে যদি শাটডাউন হয়, তাহলে ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে নতুন করে নির্দেশনা দেয়া হবে। তবে করোনার পর এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সীমিত করা হয়েছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে তার সঙ্গে সমন্বয় করেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গত বছর করোনা সংক্রমণের পর ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি আর ৫ এপ্রিল থেকে চলমান বিধিনিষেধেও বন্ধ না থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নতুন আলোচনা শাটডাউনেও খোলা রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।

দেশের পশ্চিম সীমান্তে করোনায় ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়া, রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে আশপাশের চার জেলায় গণপরিবহন বন্ধ রেখে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পর এবার সরকার আবার কঠোর বিধিনিষেধের কথা বলছে।

এবার সরকারের পক্ষ থেকে ‘শাটডাউন’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। এর বিধিনিষেধ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ধারণা দেয়া হয়নি।

তবে সারা দেশে কখনো ব্যাংক বন্ধ রাখার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ২০২০ সালের মার্চে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর যেসব প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যাংক।

গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ লকডাউন দেয়ার পরও সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা থাকে। আর ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন দেয়ার পর প্রথমে ব্যাংক বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত জানালেও পরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্টো ব্যাংকের সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়।

তখন থেকে ধাপে ধাপে লকডাউনের মেয়াদ বাড়াতে থাকলে ব্যাংকে লেনদেনের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে প্রায় স্বাভাবিক সময়ে নিয়ে আসা হয়।

করোনার আগে ব্যাংকে লেনদেন চলত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এখন চলে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে বিধিনিষেধ আবার কঠোর করে যেকোনো সময় ‘শাটডাউন’ ঘোষণার কথা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার।

এই ঘোষণার পরই শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়ে যাওয়া এবং পরদিন শনিবারও সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে সরকার আসলে কী ভাবছে, তা নিয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে রোববার।

তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ইঙ্গিত দিয়েছেন, জরুরি সেবা ছাড়া অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন বন্ধ রাখা হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ যেন ঘরের বাইরে না আসে, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

ব্যাংককে সাধারণত জরুরি সেবা হিসেবেই ধরা হয়। তাই কঠোর শাটডাউনেও প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে কি না, এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা আছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশে যদি শাটডাউন হয়, তাহলে ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে নতুন করে নির্দেশনা দেয়া হবে। তবে করোনার পর এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সীমিত করা হয়েছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে তার সঙ্গে সমন্বয় করেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘জরুরি সেবার আওতায় ব্যাংক খোলা থাকলে সেটা কি চলতি নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে, নাকি আবার নতুন করে নির্দেশনা জারি হবে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জেলায় জেলায় বিধিনিষেধেও চলছে ব্যাংক

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী- এ সাত জেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এমনকি সব ধরনের যানবাহন একসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয় গত ২১ জুন।

এর আগে-পরে নানা সময় একইভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলা।

এসব জেলাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে সরকার কঠোর লকডাউনে যাওয়ার কথা জানানোর পরও ব্যাংক খোলা রাখা হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সংকটের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায় সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সে সময় প্রথমে ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি তখন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক সেবা একবারে বন্ধ করে দেয়ায় বড়সংখ্যাক মানুষ সমস্যায় পড়বে। অন্যান্য বিষয় বাদ দিলাম, চিকিৎসা করতেও মানুষের টাকার প্রয়োজন হবে।’

ব্যাংক বন্ধ থাকলে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনও বিঘ্নিত হবে। কারণ, ব্যাংক বন্ধ থাকলে এজেন্টরা টাকা তুলতে পারবেন না।

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা

ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা

ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরার পর চার কোম্পানির শেয়ার দর টানা ১০ দিন বেড়েছে যত বাড়া সম্ভব ততই।

ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরা ইউসিবি ব্যাংক, সোনালী পেপার, এর আগে ফেরা ওয়াটা ক্যামিকেল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও এভাবে লাফাতে লাফাতে বেড়েছে। পরে শেয়ার দর কমে হতাশায় ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের। এবার নতুন করে ফেরা চারটি কোম্পানির দামও একইভাবে লাফাচ্ছে। টানা ১০ দিন দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ বা আশেপাশে। তবে একটি কোম্পানি ছাড়া বাকিগুলোর

২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি থেকে ফেরার পর ইউসিবিএল টানা ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শেয়ার দর এক পর্যায়ে ছাড়ায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।

সে সময় শেয়ারের ফেসভ্যালু ছিল ১০০ টাকা। এখন ১০ টাকা। এই হিসাবেও দাম ছাড়ায় ৩৫০ টাকা।

তখন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ছিল কম, শেয়ার সংখ্যা ছিল সীমিত। পরে বোনাস শেয়ার নিয়ে শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তবে সেই হিসাব ধরলেও এখন শেয়ার দর ৮ ভাগের এক ভাগ মাত্র।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শেয়ার দর ছিল ১৬ টাকা ৮০ পয়সা। ২০০৯ সালের পর থেকে বোনাস শেয়ার বিবেচনায় আনলে দাম হয় ৪৫ টাকা মাত্র।

এই এক দশকে ব্যাংকের শেয়ার দরে ধস নেমেছে-এটা ঠিক। তবে অন্য যেসব কোম্পানি ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে এসেছে, তার সবগুলোর দশাই কম বেশি একই রকম।

মূল মার্কেটে আসার পর ধাই ধাই করে বাড়তে থাকে দাম। পরে দাম কমে যায়। আর উচ্চমূল্যে যারা শেয়ার কেনেন তারা কেউ লোকসান না দিয়ে হতে পারেন না।

সম্প্রতি চারটি কোম্পানি ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে আসার পর একই ঘটনা ঘটছে।

গত ১৩ জুন মুন্নু ফেব্রিক্স, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, মনস্পুল পেপার ও পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের শেয়ার দর প্রতিদিনই লাফাচ্ছে। প্রতিদিনই দাম আগের দিনের তুলনায় ১০ শতাংশ বা কাছাকাছি বেড়েছে। কিন্তু একটি ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলোর শেয়ারধারীরা পর পর ১০ কার্যদিবস এভাবে সর্বোচ্চ দাম বাড়ার পরও বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন না।

এরই মধ্যে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ও শেয়ার প্রতি আয়ের বিবেচনায় এসব কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছর মূল মার্কেটে ফেরা সোনালী পেপার, এর আগে ফেরা ওয়াটা ক্যামিকেল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও এভাবে লাফাতে লাফাতে বেড়েছে। পরে শেয়ার দর কমে হতাশায় ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা বিনিয়োগকারীদের পুরনো অভ্যাস। তারা মনে করে নতুন শেয়ার কিনলেই লাভ হবে। কিন্ত বাস্তবে তা ঠিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘ওটিসি থেকে যে কোম্পানিগুলো এসেছে সেগুলোর আয় কত তা দেখা উচিত। এর আগেও আগেও যেসব দুর্বল কোম্পানি ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে এসেছে বিনিয়োগকারীরা সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে।’

দেবব্রত বলেন, ‘কোম্পানিগুলো দুর্বল বলেই এতদিন ওটিসিতে ছিল। এখন মূল মার্কেটে আসলেই যে সেটি একদিনে ভালো হয়ে যাবে তা ভাবাও ঠিক না।’

আগের অভিজ্ঞতা

ওয়াটা কেমিক্যালস

২০১৪ সালে ওটিসি থেকে মূল বাজারে আসা ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড।

মূল মার্কেটে আসার আগে শেয়ার মূল্য ছিল ৫০ টাকার আশেপাশে। মার্কেটে আসার পর ১২ কর্মদিবসে লেনদেন হয় কেবল দুই দিন। পরে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মে কোনো মূল্যসীমা না থাকার সুযোগে সেদিন দাম বেড়ে হয় ৪৮৫ টাকা। এক দিনেই বাড়ে ৭৩৫ শতাংশ। আগের দিন দাম ছিল ৫৯ টাকা।

সেখানেই থেমে থাকেনি। এক পর্যায়ে তা এক হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এর পরের বছর ২৫ শতাংশ, পরের বছর ১০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৫ শতাংশ, পরের বছর ৩০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া কোম্পানিটির শেয়ার দর এখন ২৮২ টাকা। সব বোনাস শেয়ার হিসেবে নিলেও এখন দাম ৮২৫ টাকা দাঁড়ায়। অর্থাৎ সাত বছর রেখেও কোনো মুনাফা পাননি বিনিয়োগকারীরা।

ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর আকাশচুম্বী হয়ে পরে ধসের কারণে ব্যাপক লোকসান হয়েছে বিনিয়োগকারীদের

কোম্পানিটি গত ৩১ জানুয়ারি তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৩১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ১১ পয়সা।

গত দুই বছরের মধ্যে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ২০১৯ সালে ১০ অক্টোবর ৬৯১ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর এই সময়ে আর কখনও এই দরে লেনদেন হয়নি।

আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ

২০১৮ সালে ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে আসার পরই আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার দর ১৩০ টাকায় শুরু হয়ে ১৪৩ টাকায় লেনদেন হয়। এরপর আরও বেড়ে ১৮০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়।

কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার দর ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা। তাও কিছুটা ভদ্রস্ত দেখাচ্ছে। এক মাসে সর্বনিম্ন দাম ছিল ২২ টাকা ৯০ পয়সা।

গত দুই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ওঠেছে ৬৩ টাকা ২০ পয়সা।

মূল মার্কেটে ফেরার পর এক বার ১০ শতাংশ এবং একবার ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছে আলিফ। অর্থাৎ বোনাস শেয়ার পেয়েও বিনিয়োগকারীরা তাদের লোকসান কাটাকে পারেননি।

সোনালী পেপার

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিল ২০১৯ সালের ২ জুলাই থেকে মূল মার্কেটে লেনদেন হচ্ছে। মূল বাজারে ফিরিয়ে আনতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ধরা হয় ২৭৩ টাকা। পরে বাড়তে বাড়তে দাম দাঁড়ায় ৩৫০ টাকায়।

এক বছরের মধ্যে দাম কমে হয়েছে ২০৬ টাকা ২০ পয়সা। আর মূল মার্কেটে আসার পর দুই বারে ১০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ার দিয়েছে তারা।

অর্থাৎ বোনাস শেয়ার নিয়েও বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানে আছেন।

গত ২৫ এপ্রিল কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিকের যে হিসাব প্রকাশ করেছে, তাতে শেয়ার দর যে অতিমূল্যায়িত, তা বোঝাই যায়।

বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ২৯ পয়সা।

এই হারে আয় করলে কোম্পানিটির বর্তমান মূল্য তুলতে সময় লাগবে ৬৮ বছর।

অবশ্য এটাও ঠিক যে, এর শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য অনেক। সব শেষ নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী ১০ টাকার শেয়ারে সম্পদ মূল্য আছে ৩০৭ টাকা ৮৮ পয়সা।

কোম্পানিটি তাদের নতুন প্রোডাকশন লাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। জানানো হয়েছে, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার বক্স তৈরির এই নতুন লাইনের উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি দিন এক লাখ পিস। এবং তারা এও জানিয়েছে যে, নতুন উৎপাদন লাইনের যে উৎপাদন ক্ষমতা তার পুরোটাই ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তবে এই খবরেও শেয়ার দাম বাড়াতে পারেনি। সম্পদমূল্যের চেয়ে ১০০ টাকা কমে লেনদেন হচ্ছে বর্তমানে।

চার কোম্পানির শেয়ার দর থামার নাম নেই

গত ১৩ জুন ওটিসি থেকে ফেরা চার কোম্পানির প্রতিদিনই দাম ১০ শতাংশ বা শতকরা হিসেবে সামান্য কিছু কম বাড়বে, এটা যেন নিয়ম হয়ে গেছে।

চারটি কোম্পানিই জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করেছে।

মুন্নু ফেব্রিক্সের লেনদেন শুরু হয়েছিল ১০ টাকায়, ক্রমাগত বেড়ে পৌঁছেছে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায়। আর বৃহস্পতিবার এই দামে হাতবদল হয়েছে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ১১৭টি।

চারটি কোম্পানির মধ্যে এই একটি কোম্পানির শেয়ারই লেনদেন হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

কোম্পানিটির সর্বোচ্চ শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ জুন ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৫২১টি। সেদিন দাম ছিল ২৩ টাকা ৩০ পয়সা।

তার আগের দিন ২১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩১টি শেয়ার হাতবদল হয় ২১ টাকা ২০ পয়সায়।

তারও আগের দিন ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫টি শেয়ার লেনদেন হয় ১৯ টাকা ৩০ পয়সা।

এর আগে একটি থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ২০৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

চলতি বছর ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে মাত্র ৪ পয়সা। এই হারে আয় করতে থাকলে বর্তমান শেয়ার মূল্য ফিরে পেতে সময় লাগবে ৪৮০ বছর।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ২৭ টাকা ৩০ পয়সা।

ওটিসি মার্কেটে মনোস্পুলের শেয়ারের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। প্রতিদিন এই কোম্পানির দামও বেড়েছে ১০ শতাংশ বা আশেপাশে। বিপুল সংখ্যক শেয়ারের ক্রয়াদেশ থাকলেও বিক্রেতা এখন পর্যন্ত নেই, যদিও দাম বেড়ে হয়েছে ১২৯ টাকা ২০ পয়সা।

এই ১০ দিনে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ হাজার ৩৮টি। ২০ জুন এই লেনদেনের দিন দাম ছিল ৮৮ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ১৩০ টাকার আশেপাশে শেয়ার বিক্রি হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৮০৯টি।

চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় মাত্র ২৯ পয়সা। আয় বাড়াতে না পারলে বর্তমান শেয়ার মূল্য তুলতে সময় লাগবে ৩৪৬ বছর।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য অবশ্য ভালো, ১২৫ টাকা ৬১ পয়সা।

একই অবস্থা তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের। মার্কেটে ফেরার দিন শেয়ারের মূল্য ছিল ১২ টাকা। সেটি বাড়তে বাড়তে এখন দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৬০ পয়সায়।

এক সঙ্গে ফেরা চার কোম্পানির মধ্যে এটির আয়ই সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে তাদের ইপিএস হয়েছে ৯৮ পয়সা।

দাম বেড়ে প্রায় আড়াইগুণ হয়ে গেছেও কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রেতা নেই। বৃহস্পতিবার ৩০ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়েছে সর্বোচ্চ ৬০০টি শেয়ার। বাকি দিন কোনোদিন একটি, কোনোদিন দুইটি শেয়ার বিক্রি হয়েছে ১০ শতাংশ বেশি দামে।

এই কোম্পানিটিরও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বেশ আকর্ষণীয়; ৮০ টাকা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেয়ার সম্পদমূল্যের দিক দিয়ে এরা এগিয়ে।

আরেক কোম্পানি পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ার ১৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা ৯০ পয়সা।

তবে ১০ দিনেও বলার মতো বিক্রেতা নেই। সর্বোচ্চ ৯২১টি শেয়ার বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ শেয়ারধারীরা দাম আরও বাড়বে, এই আশায় অপেক্ষা করে আছেন। এর আগে কোনোদিন একটি কোনোদিন দুটি, একদিন ১০১টি এবং একদিন ৬৬টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪৪ পয়সা। এই হারে কায় করতে থাকলে বর্তমান শেয়ার মূল্য উঠতে সময় লাগবে ৬৯ বছর।

এই কোম্পানিরও শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য আকর্ষণীয়; ৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা। বস্ত্র খাতে আর কোনো কোম্পানির শেয়ার প্রতি এত সম্পদ নেই।

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

‘যৌথ প্রয়াসে গড়া হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি’

‘যৌথ প্রয়াসে গড়া হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: সংগৃহীত

পলক বলেন, ‘‘২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার আইটি শিল্পের জন্য ‘মিশন ৫ বিলিয়ন ডলার’ শীর্ষক প্রবৃদ্ধিকৌশল প্রণয়ন করেছে। সরকার বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়াকে সঙ্গে নিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন চায়।’’

সরকারি-বেসরকারি ও একাডেমিয়ার সম্মিলিত প্রয়াসে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আইসিটি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এলআইসিটি প্রকল্প ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের জন্য তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনীতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এরই মধ্যে দেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলার অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই আয় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি।

পলক বলেন, ‘‘২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার আইটি শিল্পের জন্য ‘মিশন ৫ বিলিয়ন ডলার’ শীর্ষক প্রবৃদ্ধিকৌশল প্রণয়ন করেছে। সরকার বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়াকে সঙ্গে নিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন চায়।’’

এ জন্য তিনি আইটি প্রতিষ্ঠানের সিইওদের যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

জোনায়েদ আহমেদ পলক জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সামনে রেখে বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে। দেশেই ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনে মেড ইন বাংলাদেশ-আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাটেজির খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

পলক বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত প্রয়াস ও সহযোগিতার কারণেই করোনাকালেও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে।

‘২০২০ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার জন্য পেমেন্ট সিস্টেমের ডিজিটাইজেশন করেছে, যা মোবাইল আর্থিক সেবা ও ই-কমার্সের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটায়। ২০২১ সালের এপ্রিলে মোবাইলে লেনদেন হয় ৬৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ১৬৬ শতাংশ।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে সরকারের সকল সেবা ডিজিটালাইজেশন করা হবে। এর মধ্যে ৭ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৬০ লাখ মানুষকে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে।’

এলআইসিটি প্রকল্পের আইটি-আইটিইএস পলিসি অ্যাডভাইজার সামি আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, অধ্যাপক শেখ মোরশেদ জাহান, বাক্কোর পরিচালক রাশেদ নোমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাত আনোয়ার।

দেশের আইটি প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

পরে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ফরহাত আনোয়ার সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধনের পর এক মাসের কম সময়ে ট্রেনটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি আম পরিবহন করেছে।

রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

জেলার রেলস্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ মে এই ম্যাঙ্গো ট্রেন উদ্বোধন করেন। গত ২১ জুন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এই ট্রেনের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ (৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি) আম পরিবহন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দিনে। গত বছর গোটা আম মৌসুমে ট্রেনে আম গিয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭২ কেজি।

তিনি মনে করেন, খরচ কম হওয়ায় ট্রেনে আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে বাগানমালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের।

উদ্বোধনের পর থেকেই সপ্তাহের সাত দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। প্রথম দিন ৯৬০ কেজি আম নিয়ে যাত্রা করলেও দিন যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে পরিমাণ।

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে বুকিং দিতে রেলস্টেশনে এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অনুপনগর গ্রামের নাঈম আলী। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে আম সরবরাহ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে নাঈম বলেন, ‘আমি এক ক্যারেট (২৫ কেজি) আম পাঠালাম (ঢাকায়) ৫০ টাকায়। যেখানে কুরিয়ারে এক কেজি আমেই লাগত ১২ টাকা। ট্রেনের আরেকটা সুবিধা হলো, পরের দিনই আম পৌঁছে যাচ্ছে। সেখানে কুরিয়ারে অনেক সময় দুই-তিন লেগে যায়। অনেক সময় আম পচেও যায়। অন্যদিকে ট্রেনে আম খুব সুন্দর থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আম পৌঁছানোর পর স্টেশন থেকে গ্রাহককে ফোন করে খবরটা জানানো হলে আরও ভালো হতো। ঠিক যেমন কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রে হয়।’

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা


স্পেশাল ট্রেনে আম বুকিং দিতে এসেছিলেন সাহাদাত হোসেন নামে সদর উপজেলার আরেক লোক। তিনি ঢাকায় মামার বাসায় আম পাঠাতে চান।

নিউজবাংলাকে সাহাদত বলেন, ‘কোনো কোনো কুরিয়ারে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে ১৫ টাকা লেগে যায়। অন্যদিকে ট্রেনে কুলি খরচসহ দুই টাকাতেই আম পাঠাতে পারছি। ট্রেনে বেশি সুবিধা, তাই ট্রেনেই পাঠাচ্ছি। এর আগেও একবার ১০ মণ আম পাঠিয়েছি।’

করোনার কারণে অনেক দিন রেলসেবা বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন কুলি, মজুর ও শ্রমিকরা। ম্যাঙ্গো ট্রেনের কারণে কাজ ফিরে পাওয়ায় তারাও এখন বেশ খুশি।

রেলস্টেশনে প্রায় ৩৬ বছর ধরে কুলির কাজ করেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কোনো কাজ ছিল না। ম্যাঙ্গো ট্রেন চালু হওয়ায় কাজের সুযোগ হয়্যাছে, হ্যামরা খুশি… এ্যাতে খুশি, আল্লাহ আছে, আলহামদুল্লিহ, ভালো আছি।’

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহনের সুযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম ১ টাকা ৩০ পয়সায় পরিবহনের সুযোগ এখানকার আমচাষিরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, সারা বছরই এ সেবা অব্যাহত রাখবে রেলওয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাল্টা, পেয়ারাসহ অন্য কৃষি পণ্য পরিবহনে সারা বছরই এমন সেবা চালু থাকলে উপকৃত হবে কৃষি খাত।’

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন

হালাল ফুড: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী ঢাকা

হালাল ফুড: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী ঢাকা

‘বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা হালাল ফুড উৎপাদনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের সাথে কাজ করতে পারে। মিউচুয়াল রিকগনিশন, সার্টিফিকেশন এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

হালাল ফুড রপ্তানিতে সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নেবে বাংলাদেশ। দেশটির নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা দেশের হালাল ফুড উৎপাদনে আরো সহায়ক হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদনে সিঙ্গাপুরের সাথে যৌথভাবে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ‘স্পট লাইট বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই আগ্রহের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ভার্চু্য়ালি যোগ দেন সিঙ্গাপুরের ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড মিনিস্টার ইন চার্জ অফ ট্রেড রিলেশনস এস. ইসওয়ারান।

ওয়েবিনারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের ট্রেড রিলেশনস মিনিস্টারও বাংলাদেশে যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাই কমিশন ইন সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে কাজ করছে। বিশ্ববাজারে হালাল ফুডের একটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে প্রায় ২.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের হালাল পণ্যের বাজার সৃষ্টি হতে পারে।

‘বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা হালাল ফুড উৎপাদনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের সাথে কাজ করতে পারে। মিউচুয়াল রিকগনিশন, সার্টিফিকেশন এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ সফল করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পেপারলেস ট্রেডে সক্ষমতা অর্জন করছে। এ জন্য বাংলাদেশ ইউএনএস্ক্যাপ এ চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করছে।

তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে দক্ষতা অর্জন করে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের এর মতো বাণিজ্য চুক্তি করে বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর এ ধরনের অনেক বাণিজ্যচুক্তি করেছে, তাই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এতে করে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সময় নেগোসিয়েশনে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

টিপু মুনশি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্সে বিশ্বে যে ২০ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ তার একটি।

বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি বলেও মনে করেন মন্ত্রী। বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আমদানি ও রপ্তানি অফিস, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এর অফিস, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সেবা প্রদান ডিজিটাল করা হয়েছে, সেখানে অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আমদানি রপ্তানি সহজ করতে ন্যাশনাল সিংগেল উইনন্ডোজ চালু করেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে নৌ ও আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়েছে। পটুয়াখালীতে নতুন সমুদ্র বন্দর চালু হয়েছে, মোংলা সমুদ্র বন্দরকে আধুনিক করা হয়েছে, চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামের মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এসবিএফ দক্ষিণ এশিয়া বিজনেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান প্রসন মুখার্জি, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আয়সা আজিজ খান, সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মিডিল ইস্ট পিএসএ-এর রিজিওনাল সিইও ওয়ান সি ফং, মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে এর বোর্ড মেম্বার আসিফ ইকবাল, গ্রামীণ ফোন এক্সেলেটর এর প্রধান মিনহাজ আনোয়ার।

আরও পড়ুন:
আমানত কমেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর

শেয়ার করুন