বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার

ব্রোকারেজ হাউজে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার

এক সপ্তাহ আগেও ব্যাংক আর বিমা খাতে যেখানে ৫০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি লেনদেন হতো, সেটি কমে হয়েছে ৩৫ শতাংশের কম। অর্থমন্ত্রী করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করার পর থেকে খাদ্য, বস্ত্র, প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি, ওষুধ রসায়নের মতো উৎপাদনশীল খাতের কোম্পানির শেয়ার কেনায় মনযোগ বাড়িয়েছেন বিনিয়োগারীরা।

বস্ত্র খাতে পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার মূল্য বাড়তে বাড়তে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করার পর বিক্রেতা শূন্য কয়েকটি। আরও কয়েকটির দাম সার্কিট ব্রেকার ‍ছুঁই ছুঁই।

প্রকৌশল খাতেও দুটি কোম্পানি দাম বেড়েছে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই। আরও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার মূল্যও এই সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও দুটি কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে ফেলার পর ফেলা ছাড়াও আরও কয়েকটি কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই চিত্র।

তথ্য প্রযুক্তিতেও একই চিত্র। দুটির দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণে। আর ১১টির মধ্যে ১০টি কোম্পানির দামই বেড়েছে।

বুধবার পুঁজিবাজারে এই চিত্রটি বলে দেয় এখন কেবল বিমা ও ব্যাংক নির্ভরতা থেকে বিনিয়োগকারীরা বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

কেবল দাম বৃদ্ধির তালিকা নয়, লেনদেনের তালিকা দেখলেও বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এক সপ্তাহ আগেও ব্যাংক আর বিমা খাতে যেখানে ৫০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি লেনদেন হতো, সেটি কমে হয়েছে ৩৫ শতাংশের কম।

অন্যদিকে খাদ্য, বস্ত্র, প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি, ওষুধ রসায়নের মতো উৎপাদনশীল খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন বিনিয়োগারীরা।

এই ঘটনাটি ঘটছে আগামী অর্থবছর থেকে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাবের পর থেকে।

গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী অর্থবছর থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। তবে এই কর কমার সুফল পাবে না ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা ও টেলিকম খাত। এসব খাতের কর আগের হারেই রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।

কর কমলে উৎপাদন কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়বে আর এতে লভ্যাংশ বেশি পাওয়া যাবে- এমন আশা তৈরি হওয়াই এর কারণ।

অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাব করার পর প্রথম লেনদেন হয় রোববার। সেদিন থেকেই উৎপাদখাতের কোম্পানিতে তৈরি হয় আগ্রহ।

বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
বুধবার সাড়ে ১০ বছরে সর্বোচ্চ লেনদেনের দিন বিভিন্ন খাতের হিস্যা

বুধবার বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রধান খাত হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বিবিধ খাতের মধ্যে পড়া উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেও লেনদেন হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

তিনটি খাতেই লেনদেন ব্যাংক খাতের চেয়ে বেশি দেখা গেছে।

অবশ্য গত ‍দুই সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় এদিনও বিমা খাতেই সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে সেটি কমে ৬৩৬ কোটি টাকা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবের দিন একটি সাতশ কোটি টাকার বেশি ছিল।

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজেটের পর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে বাজেটে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় পুঁজিবাজারে এ খাতের কোম্পানিগুলোর দর উত্থান দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকৌশল খাতের সুযোগ সুবিধা দেয়ায় সে খাতের শেয়ারেরও দর বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘করপোরেট কর কমায় মূলত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে কম কর প্রদান খাতে ব্যয় করতে হবে। ফলে তাদের লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা বাড়বে।’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই কেবল বিমা খাতের ওপর ভিত্তি করে পুঁজিবাজারে উত্থানে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি মনে করেন, এটা ঝুঁকি।

অন্যান্য খাতের শেয়ারেও আগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও ভারসাম্য আসেনি। বিনিয়োগকারীরা এখনও বিমা খাত নিয়ে মেতে আছে। অথচ মৌলভিত্তিক আরও অনেক কোম্পানির শেয়ার দর পড়ে আছে।’

অবশ্য পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার বলেন, ‘বিভিন্ন খাতের অংশগ্রহণ এখানে দৃশ্যমান। একদিন বিমার শেয়ারের দর বাড়লে সেদিনই আবার ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যসংশোধন হচ্ছে। একই ভাবে খাতভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থান পতন থাকায় সার্বিক পুঁজিবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক অবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এটি পুঁজিবাজারের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক।’

লেনদেনে বিমা খাতের অংশগ্রহণ কমছে

বুধবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫০টি বিমা কোম্পানির মোট লেনদেন হয়েছে ৬৩৬ কোটি টাকা। যা একক খাত হিসাবে সর্বোচ্চ।

তবে গত ৩ জুন বাজেট পেশের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৭৩৪ কোটি টাকা। আর সেদিন সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজারে লেনদেন বুধবারের তুলনায় ৪১৮ কোটি টাকা কম ছিল। সেদিন লেনদেন হয়েছিল ‍দুই হাজার ২৮২ কোটি টাকা।

বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
আইডিআরএর নানা সিদ্ধান্তে উড়তে থাকা বিমা খাত এখনও লেনদেনে সেরা হলেও হিস্যা কমেছে

এদিন ২১টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। একটির দর পাল্টায়নি। বাকি ২৮টির দর কমেছে। তারপরও এ খাতের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দর পতনের দিক দিয়েও এগিয়ে ছিল বিমা খাত।

এককভাবে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ৩৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের ৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের ৩৩ কোটি ১২ লাখ আর গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাত

বুধবার বস্ত্র খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৩২৩ কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় ধরে ঝিমিয়ে থাকা এই খাতের উত্থান এখন চোখে পড়ার মতো।

ঈদের ছুটির আগে দুদিন আর ঈদের ছুটির পর একদিন উত্থান দেখা গেছে বস্ত্র খাতে। তবে লেনদেনে গতি ছিল না এত। কিন্ত ৩ জুনের পর থেকে বস্ত্র খাতের একটি কি দুটি কোম্পানি থাকছেই দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তালিকায়।

বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর অর্থবছর শেষ হচ্ছে জুনে। ফলে আগামী দুই থেকে তিন মাস পর কোম্পানিগুলো তাদের ২০২১ সালের জন্য শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ ঘোষণা করবে।

বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
বাজেটের পর ব্যাপকভাবে বেড়েছে বস্ত্র খাতের শেয়ারের চাহিদা

এদিন এ খাতের ভিএফএস থ্রেড ডাইং, এসকোয়ার নিট, রিং শাইন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, নুরানী ডায়িংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ।

ভিএসএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আলিফ ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

দুর্বল কোম্পানি হিসাবে চার মাস আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি রিং সাইন কোম্পানির পর্ষদ ভেঙ্গে নতুন পর্ষদ পুনগঠন করেন। সেই কোম্পানিও বুধবার ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ম্যাকসন স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার।

প্রকৌশল খাত

গত বছর করোনা সংক্রমণের পর থেকে ঘুমে যাওয়া প্রকৌশল খাতে হঠাৎ করেই চাঙ্গাভাব দেখা দিচ্ছে দলতি সপ্তাহ থেকে।

ক্রমেই বাড়তে বাড়তে বুধবার এই খাতের লেনদেন হয়েছে ৩১১ কোটি টাকা।

অবশ্য এর মধ্যে ২১ শতাংশ অবদান এককভাবে ন্যাশনাল পলিমার কোম্পানির, লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মীর আক্তার হোসেনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ইফাদ অটোস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

এসএস স্টিল লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

বিবিধ খাত

গত ছয় থেকে সাত মাস ধরেই বিবিধ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেড হাত গোনা এক দুই দিন ছাড়া প্রতিদিনই লেনদেনের শীর্ষে থাকছে। এর মধ্যে দাম বেড়ে সাত গুণ হয়েছে এক বছরে। এমনকি গত তিন মাস ধরে দাম একটি বৃত্তে ঘুরপাক খেলেও শেয়ারটিতে আগ্রহ কমেনি বিনিয়োগকারীদের।

অর্থমন্ত্রী কর কমানোর যে প্রস্তাব করেছেন, তার সুবিধা পাবে এই কোম্পানিটিও, যেটি চলতি বছর এখন পর্যন্ত যে মুনাফা করেছে, সেটি গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অবশ্য এক দিন এর দ্বিগুণ লেনদেনের রেকর্ডও আছে এক দিনে।

বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
পিপিপি রপ্তানিতে বেক্সিমকোর শিল্প পার্ক উদ্বোধনের আগে থেকেই লেনদেনে নিয়মিত শীর্ষস্থানে থাকছে বেক্সিমকো গ্রুপ

সব মিলিয়ে এই খাতে লেনদেন হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে চারটির। আর বাকি ১০টির শেয়ার বেড়েছে।

এছাড়া ন্যাশনাল ফিড মিলের লেনদেন হয়েছে ৬১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আমান ফিডের লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

ব্যাংক খাত

এই খাতকে আগামী অর্থবছরেও ৪০ শতাংশ হারেই কর দিতে হবে। দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকা এই খাতের প্রতি বাজেট প্রস্তাবের আগে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিলেও বাজেটের পর শেয়ার মূল্যে কমতে থাকার পাশাপাশি লেনদেনের হিস্যাও কমেছে।

বুধবার দুই হাজার সাতশ কোটি টাকা লেনদেনের দিন সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধনের এই খাতে হাতবদল হয়েছে ২০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার দুটি ব্যাংকের লেনদেনই হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

বিমা-ব্যাংকের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার
দুই সপ্তাহ আগে চাঙ্গা থাকলেও হঠাৎ আগ্রহ হারিয়েছে ব্যাংক খাত

গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটিই এই খাতে সবচেয়ে কম লেনদেন।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এনআরবিসি ব্যাংকের ৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

ডাচবাংলা ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

ওষুধ রসায়ন

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনার টিকা আনার ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মা লোকাল এজেন্ট হওয়ার পর এই খাতে লেনদেনের জোয়ার ছিল গত বছরের শেষ ও চলতি বছরের শুরুর দিকে।

তবে টিকার অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর থেকে এই কোম্পানির পাশাপাশি গোটা খাতেই লেনদেন নেমে আসে তলানিতে। তবে চলতি সপ্তাহে এই খাতেও লেনদেনের গতি দেখা যাচ্ছে।

বুধবার এ খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৪৩ কোটি টাকা। এখাতে তালিকাভুক্ত ২২টি কোম্পানির মধ্যে এদিন দর কমেছে আটটির। বাকি ১৪টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মার ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ ছাড়া এভডেন্ট ফার্মার ১৬ কোটি ৭১ লাখ, স্কয়ার ফার্মার ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি

কেপিসিএলের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকার পর গোটা খাতেই যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেটিও কাটতে শুরু করেছে।

বুধবার এই খাতে হাতবদল হয়েছে ১২১ কোটি টাকার শেয়ার।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লুব রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ৩৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া সামিট পাওয়ারের ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ও জিবিবি পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

তথ্য প্রযুক্তি ও অন্যান্য

পুঁজিবাজারে এ খাতের উত্থান নেই বললেই চলে। শেষ কবে এ খাতের শেয়ারের ঢালাও শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে তার সঠিক সময় জানা প্রায় অসম্ভব।

তবে বুধবার ১১ টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র একটি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। বাকি ১০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ছে। মোট লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা।

এর মধ্যে এককভাবে জেনেক্স ইনফোয়েন্স লিমিটেডের ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। বিডি কম লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আইটি কনসালটেন্ট লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অগ্নি সিস্টেমের শেয়ার লেনদেন হয়েছে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

এছাড়া খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা এবং সেবা খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ১৫১৬ টাকা

স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ১৫১৬ টাকা

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৭০ টাকা। একইভাবে প্রতি গ্রাম ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৫০ টাকা এবং সনাতনী ৪ হাজার ২৬৫ টাকা।

টানা দুই দফা দাম বাড়ানোর পর এবার দেশের বাজারে সব ধরনের স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বিশ্ববাজারে বড় দরপতন হওয়ার পর এবার দেশে ভরিতে স্বর্ণের দাম কমানো হলো ১ হাজার ৫১৬ টাকা, হ্রাসকৃত এই নতুন দাম রোববার থেকে বাজারে কার্যকর হবে।

স্বর্ণের দাম কমানোর ফলে দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসার অচলাবস্থা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন বাজুস-সংশ্লিষ্টরা।

তবে বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সর্বশেষ গত ২৩ মে থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়, যা শনিবার পর্যন্ত বহাল ছিল।

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৭০ টাকা। একইভাবে প্রতি গ্রাম ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৫০ টাকা এবং সনাতনী ৪ হাজার ২৬৫ টাকা।

এই নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ হাজার ৯৬৬ টাকা ৮৮ পয়সা। শনিবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭ টাকা ৬০ পয়সা। শনিবার পর্যন্ত ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল ৭০ হাজার ৩৩৩ টাকা।

আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম হবে ৬০ হাজার ৬৯ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমান দাম রয়েছে ৬১ হাজার ৫৮৪ টাকা।

প্রতি ভরি সনাতনী স্বর্ণের নতুন দাম হবে ৪৯ হাজার ৭৪৬ টাকা ৯৫ পয়সা। এ ক্যাটাগরির স্বর্ণের বর্তমান দাম ৫১ হাজার ৬২ টাকা।

অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। এতে আগের মতোই দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ২২৫ টাকা ও সনাতনী প্রতি ভরি ৯৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।

এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় মে মাসে দেশের বাজারে দুই দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ায় বাজুস।

ওই সময় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাজুস জানায়, করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও নানা জটিল সমীকরণের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক জটিলতা (উপকরণ কর রেয়াত) ও নানা ধরনের দাপ্তরিক জটিলতার কারণে গোল্ড ডিলাররা স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারছে না। তা ছাড়া চাহিদার বিপরীতে জোগান কম থাকায় দেশীয় বুলিয়ান/পোদ্দার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে বিশ্ববাজারের ওপর। বিশ্ববাজারে বাড়লে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়। ঠিক তেমনি বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমে স্বর্ণের দাম।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার পর এখন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় কমেছে। সেই হ্রাসকৃত দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারেও এখন স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমানো হলো।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাকালীন বিশ্ব অর্থনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে অস্থির আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের বাজারে অচলাবস্থা কাটাতে ও ভোক্তাসাধারণের কথা চিন্তা করে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে বাজুস নির্ধারিত মূল্যতালিকায় স্বর্ণ বিক্রির অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার সিনিয়র ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক ও ম্যানাজার অপারেশন এমরান আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

কারাগারে আটক রাখার পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়।

‘ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আইসিসি ডিভিশনের ইন্টারন্যাল অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ইউনিটের একটি দল বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন ব্যাংকটির বংশাল শাখা পরিদর্শনে যায়। এ সময় ভল্টে থাকা নগদ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পরিদর্শনকারী দলের কর্মকর্তারা সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) রিফাতুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এবং ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদ লোভের বশবর্তী হয়ে গত বছরের ২০ জুন থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত ওই টাকা অল্প অল্প করে সরিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রিফাতুল হক ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন ওই ব্যাংকে। সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) রিফাতুল হক এবং এফভিপি ও ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদের কাছে ভোল্টের একটি চাবি থাকতো। তারা যৌথভাবে ভল্টের রক্ষক। তারা পরস্পর যোগসাজশে এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ভল্টের টাকা জুয়ায়

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা কোম্পানিগুলোর লেনদেনের চিত্র

প্রথম ধাপে ৭ এপ্রিল যে ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রত্যাহার করা হয় তার মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত, একটির লেনদেন কখনও হয় না। বাকি ৬৪টির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ১৮টির। তবে এই ১৮টির দাম যে কোনো একদিনই বেড়ে যেতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে ফ্লোর তুলে নেয়া কোম্পানিগুলোর দাম এখনও পড়তির দিকে।

ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার পর এখন বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উঠে এসেছে প্রান্তসীমার উপরে।

প্রথম পর্যায়ে যে ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল তার ৪৬টি দর এখন ফ্লোর প্রাইসের ওপরে। পরের যে আরও ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করা হয় সেগুলোর এখনও উত্থান পতনের মধ্যেই আছে। এর মধ্যে চারটি এখন বাতিল করা ফ্লোর প্রাইসের ওপরে উঠে এসেছে।

যেসব কোম্পানি বাতিল করা ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে নিচে আছে, সেগুলোর একটি বড় অংশই ভালো কোনো একটি দিনে উঠে আসতে পারে সেই দামের ওপরে।

করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেয়া হয়। এটি পরিচিতি পায় ফ্লোর প্রাইস হিসেবে।

ওই বছর পুঁজিবাজারের দরপতন ঠেকানো গেছে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। তবে চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে লকডাউনের মধ্যে প্রথমে ৬৬টি আর পরে ৩০টির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের কারণ ছিল, সর্বনিম্ন দামে শেয়ারগুলো লেনদেন হচ্ছিল না। অর্থাৎ এই দামকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তিযুক্ত মনে করছিলেন না। ফলে তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে থাকে।

৭ এপ্রিল ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রত্যাহারের পর দিন প্রায় সবকটি কোম্পানির ব্যাপক দরপতন হয়। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জানায়, এসব কোম্পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে, কিন্তু কমতে পারবে ২ শতাংশ। এতে দরপতন ঠেকে।

তবে এক পর্যায়ে দেখা যায়, আগে ফ্লোর প্রাইসে যে কোম্পানিগুলোর লেনদেন হতো না বললেই চলে, সেগুলোরও লাখ লাখ শেয়ার বিক্রি হতে থাকে। এক পর্যায়ে বেশিরভাগ শেয়ারই বাতিল হওয়া ফ্লোর প্রাইসের ওপরে চলে আসে। তার চেয়ে বড় কথা, শেয়ারগুলো বিক্রি করে বিনিয়োগকারীরা তাদের পছন্দের অন্য শেয়ার কিনতে পেরেছেন।

এভাবে পুঁজিবাজারে লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকে।

তার মধ্যেও বেশ কিছু কোম্পানির লেনদেন আটকে থাকে। আর এগুলোর হিসাবনিকাশ করে ৩ জুন আরও ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হয়। এবারও সেই ৬৬ কোম্পানির দশাই হয় প্রথম দুই দিন।

তবে এবার দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশের বিধান প্রথম দিন থেকেই কার্যকর থাকায় বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলনামূলক কম কমেছে এক দিনে।

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪
দুই ধাপে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শুরুতে দরপতন হলেও পরে এর প্রভাব ইতিবাচক দেখা যায়

তবে তৃতীয় দিনেই পাঁচটি কোম্পানির দর বাতিল হওয়া ফ্লোর প্রাইসের ওপরে উঠে আসে। তার চেয়ে বড় কথা, আগে যে কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হতো না বললেই চলে, সেই কোম্পানির লেনদেন এমনকি কোটির ঘরে চলে যায়।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিএসইসি জানায়, বাকি শেয়ারগুলোরও ফ্লোর প্রাইস থাকবে না। তবে এখন হাতে গোনা দুই একটি কোম্পানি আছে যেগুলোর দাম ফ্লোরে আছে।

তবে দাম কমার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশের বদলে আগের মতোই ১০ শতাংশ হওয়ায় যেসব কোম্পানির দর পড়তি, সেগুলোর দাম আরও দ্রুত পড়তে পারবে।

ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইসের কারণে পুঁজিবাজারে যে তারল্য আটকে ছিল সেটি বোঝা গেছে যখন ফ্লোর প্রাইস বাতিল করা হলো। অনেক কোম্পানির যে আর্থিক অবস্থা তার চেয়ে অনেক বেশি হারে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা ছিল। ফলে বিনিয়োগকারীরা সেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ আগ্রহী হচ্ছিল না।

‘সেসব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করায় অনেক কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বেড়েছে। শেয়ার দরও ফ্লোর প্রাইসের ওপরে উঠে লেনদেন হচ্ছে, যেখানে আগে এসব কোম্পানির দর একটি পর্যায়ে স্থির হয়ে ছিল।’

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪
২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর শেয়ার দরে ধস ঠেকাতে ১৯ মার্চ সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি

প্রথম ধাপে ফ্লোর প্রত্যাহার করা যেসব কোম্পানির দাম বেড়েছে

কাট্টালী টেক্সটাইলের দর ছিল ৯ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭০ পয়সা।

প্রাইম টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৬০ পয়সা।

আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৬ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪০ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকা ১০ পয়সা।

রূপালী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৭.১ টাকা।

এসস্কয়ার নিট কম্পোজিটের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪০ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৫০ পয়সা।

আইপিডিসি ফিন্যান্সের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

ফিনিক্স ফিনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৮০ পয়সা।

ফিনিক্স ফিনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার এর দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৩০ পয়সা।

এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সা।

বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা।

আর এন স্পিনিং মিলসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা।

এডভান্ট ফার্মা লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩০ পয়সা।

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪
ফ্লোর প্রাইস সংযোজনের ১৫ মাস পর গত ১৭ জুন ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের আদেশ দেয় বিএসইসি

এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৭ টাকা। বৃহস্পতিবার কোম্পানি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ টাকা ৩০ পয়সায়।

আরগন ডেনিমের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ টাকা ৭০ পয়সা।

বেঙ্গল উন্ডশন থার্মোপ্লাস্টিস ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৭ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা পয়সা।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২০ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা।

ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা।

হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা।

প্যাসিফিক ডেনিম লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৮ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৭০ পয়সা।

সাফকো স্পিনিং ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৯০ পয়সা।

জাহিন স্পিনিং মিলসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা।

রিং সাইন টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬০ পয়সা।

রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৫০ পয়সায়।

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা।

কুইন সাউথ টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ২০ পয়সা।

শাসা ডেনিমের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সায়হাম কটনের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৬ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৮ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ১০ পয়সা।

ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৮০ পয়সা।

নূরানী ডাইংয়ের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৮০ পয়সা।

উসমানিয়া গ্লাস শিটের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৮০ পয়সা।

নাভানা সিএনজি লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩৩ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ১০ পয়সা।

অলেম্পিক একসেসরিসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৪০ পয়সা।

সিলভা ফার্মার ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৮ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৪০ পয়সা।

বিচ হ্যাচারির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

ডেসকোর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৮০ পয়সা।

দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০ টাকা ৪০ পয়সা। সোমবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫০ পয়সা।

ইভিন্স টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৮ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪
প্রথম ধাপে গত ৭ এপ্রিল ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেয়া হয়

গ্লোবাল হ্যাভি ক্যামিকেল লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩১ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৬০ পয়সা।

সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৮ টাকা ১০ পয়সা। সোমবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ১০ পয়সা।

ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৯ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫০ পয়সা।

মেট্রো স্পিনিং এর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৮ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা।

ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৩০ পয়সা।

প্রথম ধাপে ফ্লোর প্রত্যাহার করা যেসব কোম্পানির দাম কমেছে

সবচেয়ে বেশি কমেছে এমএল ড্রাইং লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৫০ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম ছিল ২৯ টাকা ৪০ পয়সা।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১০ পয়সা।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২০ পয়সা।

আরএসআরএম স্টিল মিলসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৮০ পয়সা।

সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্লোর প্রাইস ছিল ১২ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৯০ পয়সায়।

কেপিসিএলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৬০ পয়সা।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস ২৪ টাকা ১০ পয়সা। এই ব্যাংকটি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রস্তাব করেছে। এরই মধ্যে রেকর্ড ডেটও পেরিয়ে গেছে। ফলে সমন্বয়ের পর সে দাম দাঁড়ায় ২১ টাকা ৯০ পয়সা। তবে বৃহস্পতিবার দাম ছিল ২০ টাকা ৮০ পয়সা।

ফার ক্যামিকেলের প্রাইস ছিল ৯ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রোর ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ২০ পয়সা।

খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৬০ পয়সা।

নাহী অ্যালুমিনিয়ামের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৭ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৫ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা।

সায়হাম টেক্সটাইলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। সোমবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা।

উত্তরা ফিন্যান্সের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা|

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬০ পয়সা।

ইউনিক হোটেলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ২০ পয়সা।

দুলামিয়া কটনের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৮ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৪০ পয়সা।

ইয়াকিন পলিমারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা।

এই ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া পিপলস লিজিং এর লেনদেন স্থগিত আছে। আর বিডি সার্ভিসের লেনদেন কখনও হয় না বললেই চলে

দ্বিতীয় ধাপে ফ্লোর প্রত্যাহারে পর দাম বেড়েছে যেগুলোর

জেমিনি সি ফুডসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪৪ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪৫ টাকা ৩০ পয়সা।

ডেফোডিল কম্পিউটারের দর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৫৩ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ২০ পয়সা।

ন্যাশনাল পলিমারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৯০ পয়সা।

অ্যাপেক্স ট্যানারির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ৮০ পয়সা।

দ্বিতীয় ধাপে ফ্লোর প্রত্যাহার করা যেগুলোর দাম কমল

বঙ্গজের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১৬ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১১ টাকা ৯০ পয়সা।

এটলাসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০৯ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ৭০ পয়সা।

ফ্লোর প্রত্যাহার: দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৩৪
দ্বিতীয় ধাপে গত ৩ জুন প্রত্যাহার করা হয় ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১৯ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১৭ টাকা।

রেনউইক যগেশ্বরের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৯০০ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৮০৬ টাকা।

মুন্নু অ্যাগ্রোর দর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭৯৪ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬৪৯ টাকা ৯০ পয়সা।

নর্দার্ন জুটের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩২৪ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭৩ টাকা ৪০ পয়সা।

ইস্টার্ন কেবলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪০ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা ৩০ পয়সা।

বাটা শুর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬৯৩ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ টাকা ২০ পয়সা।

ওয়াটা ক্যামিকেলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩০৬ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকা ৩০ পয়সা।

অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৩০ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১৫ টাকা ৬০ পয়সা।

সিভিও পেট্রো কেমিক্যালের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১৫ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা।

সোনালী পেপারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৭৩ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২২৩ টাকা ৫০ পয়সা।

কে অ্যান্ড কে-এর ফ্লোর প্রাইস ছিল ২০৭ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৮০ টাকা ৪০ পয়সা।

স্টাইলক্রাফটের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪৬ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪১ টাকা ৩০ পয়সা।

বিডিঅটোকারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪৭ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকা ২০ পয়সা।

সমতা লেদারের দর ফ্লোর প্রাইস ছল ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৮৭ টাকা ৭০ পয়সা।

আজিজ পাইপের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা।

ন্যাশনাল টিউবের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০৩ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা।

ওরিয়ন ইনফিউশনের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭২ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা।

এসকে ট্রিমসের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬২ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ২০ পয়সা।

লিগ্যাসি ফুটওয়ারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬২ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা।

সি পার্লের দর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭৯ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ১০ পয়সা।

হাক্কানি পাল্পের দর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭৪ টাকা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৮০ পয়সা।

কোহিনুর ক্যামিকেলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৭২ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪০৩ টাকা ৬০ পয়সা।

মুন্নু সিরামিকের দর ফ্লোর প্রাইস ছিল ১২৬ টাকা ৮০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩০৭ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৫২ টাকা।

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

টাকা সংরক্ষণের জন্য মানুষের নিরাপদ স্থান ব্যাংক। কষ্টার্জিত আমানত ভল্টেই রাখা হয়। কিন্তু সেই ভল্ট কি নিরাপদ? দেখা যাচ্ছে ভল্ট থেকে হাওয়া হচ্ছে টাকা। আর এই কাজে যুক্ত হচ্ছে খোদ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এই অর্থ নিয়ে খেলা হচ্ছে জুয়া, যা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

শুধু বংশাল শাখাই নয়, এর আগে গেল বছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরিয়ে ফেলেন ৩ কোটি ৪৫ কোটি টাকা। তিনিও পুলিশি জেরায় স্বীকার করেন, একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সেখানেই এই অর্থ খোয়া গেছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের ইন্টারনাল অডিটে এটা ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখায় ইন্টারনাল অডিটে ক্যাশ কম পাওয়া যায়। পরে আবারও ইনভেস্টিগেশন করা হয়।

‘পৌনে ৪ কোটি টাকার মত কম ছিল। এরপর দায়িত্বে থাকা ক্যাশ-ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ক্যাশ সরিয়ে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। ব্রাঞ্চের ক্যাশ-ইনচার্জ ও ম্যানেজার (অপারেশন) দুইজনকে থানায় দেয়া হয়েছে। এ দুইজনের কাছে ভল্টের চাবি থাকে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তারা টাকা সরানো একটা বিপজ্জনক প্রবণতা। আমানতকারীদের অর্থ সরিয়ে তারা বিনিয়োগ করবে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। এটা বন্ধ করতে হবে। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের অতিসত্ত্বর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে হবে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত এটা সমাধান নয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা করতে হবে।

‘একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছে মানে এতে বোঝা যায় অধিকাংশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুব দুর্বল। সুপারভিশন ও মনিটরিংও ঠিকমতো হয় না। যে যার মতো ছেড়ে দিয়েছে। জনগণের টাকা নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক না।’

জুয়ায় ঢাকা ব্যাংকের টাকা

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জুয়ায় গেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের টাকাও

গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উধাওয়ের আরও একটি ঘটনা ঘটে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরাতেন। ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। তিনি টাকার বান্ডেলের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে টাকা সরাতেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। এভাবে তিনি ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে সরিয়ে ফেলেন।

এরপর এই টাকা দিয়ে শামসুল জুয়া খেলেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। জবানবন্দিতে তখন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, লোভে পড়ে তিনি ২০১৮ সাল থেকে কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে জুয়া খেলতে শুরু করেন।

পিছিয়ে নেই অন্য ব্যাংকও

কিছু দিন আগে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের একজন আইটি অফিসারের ২ কোটি ৫৭ লাখ সরিয়ে ফেলেন। ব্যাংকের ইন্টারনাল ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তিন বছরে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের ১৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই ওই কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা করে। ওই ঘটনার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বড় অঙ্কের অর্থ জুয়ায় ব্যবহার হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জুয়ার এমন নেশায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, রক্ষক ভক্ষক হলে কোথায় যাবে মানুষ। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতেই ব্যাংকের টাকা এখন নিরাপদ নয়।

শুধু জুয়াতেই বিনিয়োগ নয়, ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভল্টের অর্থ তছরুপের ঘটনা ঘটে। নিরীক্ষাতে এমন অনিয়ম অহরহ উঠে আসছে।

টাকা নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগ

একের পর এক বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা খোয়া যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। তারা বলছেন, ব্যাংকের ভল্টে যদি টাকা সুরক্ষিত না থাকে তাহলে তারা টাকা কোথায় রাখবেন!

ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে লোপাট করা টাকা গ্রাহকের আমানত। তাই যেসব গ্রাহক এই ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন, তাদের অর্থ পেতে সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ব্যাংক। তারপরেও গ্রাহকের উদ্বেগের শেষ নেই।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারণ, টাকা তো উদ্ধার করতে হবে। যারা এ টাকা নিয়েছে তাদেরকে এ টাকা ফেরত দিতে হবে। যতদিন না পাওয়া যাবে, ততদিন প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

ঢাকা ব্যাংকে কমিটি গঠন রোববার

কীভাবে, কতদিনে এত টাকা সরানো হয়েছে সে বিষয়ে একটি কমিটি করবে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘এটা এখন আইনিভাবেই এগিয়ে গেছে। ক্রিমিনাল কেস সুতরাং, পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যাংক থেকে একটা তদন্ত কমিটি করা হবে।

‘বৃহস্পতিবারের ঘটনা কিন্তু পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন। রোববারে কমিটি করা হবে। এজন্য কয়েকদিন সময় লাগবে। কমিটি গঠন করার পর পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে কেনাকাটা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

করোনায় আয় কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত কমিয়ে দিয়েছে বিলাসিতা। তার নিচের স্তরের মানুষ প্রয়োজন বিবেচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে অগ্রাধিকার খাতকে। এরও নিচের স্তরের লোকজন অল্প খেয়ে পড়ে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টায় লিপ্ত। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিখাতের চাহিদা ও ভোগব্যয়ের ওপর। দেশ থেকে উধাও হয়ে গেছে ভোক্তার অতিরিক্ত ভোগ প্রবণতা।

করোনায় কাজ হারিয়ে ফেলেছেন বিভিন্ন খাতে লাখ লাখ মানুষ। সরকারি হিসাবই বলছে, এ সংখ্যা ১৬ লাখের কম নয়। আয়শূন্য এসব মানুষের বেশিরভাগ আজও নতুন করে কোনো কাজ জোটাতে পারেনি। অনেকের কমে গেছে আগের নিয়মিত আয়ও।

বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য বলছে, গত সোয়া এক বছরে নতুন করে দারিদ্র্যের শিকার হয়েছে দেশের আড়াই থেকে ৩ কোটি মানুষ।

অর্থাৎ সবারই সংকট আয়ের ধারাবাহিকতা। নগদ অর্থে বড় রকমের টান পড়ায় বদলে গেছে আগের জীবন ব্যবস্থাও। জীবন-জীবিকার তাল মেলাতে হিমসিম খাওয়া মানুষের চাহিদায় ব্যাপক পতন ঘটেছে। তারা উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যয় সংকচোনের পথ।

মধ্যবিত্ত কমিয়ে দিয়েছে বিলাসিতা। তার নিচের স্তরের মানুষ প্রয়োজন বিবেচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে অগ্রাধিকার খাতকে। এরও নিচের স্তরের লোকজন প্রয়োজনের সঙ্গে আপোষ করে অল্প খেয়ে পড়ে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টায় লিপ্ত।

এসবের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিখাতের চাহিদা ও ভোগব্যয়ের ওপর। দেশ থেকে উধাও হয়ে গেছে ভোক্তার অতিরিক্ত ভোগ প্রবণতা।

সরকারের মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ব্যক্তিপর্যায়ের ভোগ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে


নীতি বিবৃতিতে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিখাতের ভোগের যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, করোনার আগের দুই অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮ ও ২০১৯-এ যেখানে ব্যক্তিখাতে সার্বিক ভোগ ব্যয়ের সক্ষমতা সূচক ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থবছর ২০২০-এ সেই ভোগ ব্যয়ের সক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ করোনার পর প্রথম ধাক্কতাতেই ব্যক্তিখাতের ভোগ সক্ষমতা ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

অর্থবছর ২০২১ এর ভোগ সক্ষমতা সূচক এখনও পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্যুদস্ত অর্থনীতির মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কাও মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর প্রভাবে ব্যক্তিখাতের ভোগ ব্যয়ের সক্ষমতা সূচক আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

এর আগের তিন অর্থবছর ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ তে ব্যক্তিখাতের ভোগ সক্ষমতা সূচকের পরিমাপ ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে।

তবে করোনার এই সময়ে শুধু ব্যাক্তিখাতের ভোগই হ্রাস পায়নি, সরকারি ও বেসরকারি খাতেও ভোগব্যয়ের পরিমাণ কমে গেছে।

নীতি বিবৃতির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি খাতের ভোগ ব্যয় ছিল যেখানে ০.৪ শতাংশ, এবং ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ০.৫ শতাংশ, সেখানে এই ভোগ ব্যয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ০.৩ শতাংশে।

একইভাবে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ভোগ সক্ষমতা যেখানে ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০১৬-১৭ তে উন্নীত হয় ১ দশমিক ৭ শতাংশে। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই ভোগ সক্ষমতা যথাক্রমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নিত হলেও সেটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে নেমে এসেছে ১ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে করোনায় ভোগ সক্ষমতা কমে গেছে ০.৭ শতাংশ পর্যন্ত।

২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনা মহামারির শিকার হয় দেশ। এরপর যে দুঃস্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়, তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতির শুধু গলা চেপেই ধরা হয়নি, তা আয় ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক উৎসগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে। এতে দেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকার ভবিষ্যতও অনিশ্চত হয়ে পড়েছে।

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে


কারণ সাময়িক বিরতি দিয়ে দফায় দফায় গত সোয়া এক বছর ধরে লকডাউনের সম্মুখীন দেশ। এতে দেশের শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সার্বিক উৎপাদন ও সেবার সরবরাহ ব্যাহত ও বিঘ্নিত হয়েছে। বিনিয়োগ ও আমদানি-রপ্তানিতে মন্দার কারণে দেশের গত কয়েক বছরের গতিশীল অর্থনীতি যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থান হারিয়ে আয় শূন্য হয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

অন্যদিকে করোনায় সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী মন্দার ঢেউও এই সময়ে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গুটিকয়েক পণ্য ছাড়া বেশিরভাগেই বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। করোনার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলসহ জীবনধারনে ব্যবহৃত সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। এসবের উত্তাপ এসে লাগে দেশের সার্বিক দ্রব্যমূল্যেও। এতে ব্যক্তির চাহিদা কমে যায় এবং ভোগব্যয়ের সক্ষমতাকে তলানিতে নামিয়ে দেয়।

ব্যক্তিখাতের এই ভোগ সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় কী – এমন প্রশ্নের জবাবে বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবার আগে আমাদের চাহিদাযোগ্য পণ্য ও সেবার যোগান বাড়াতে হবে। যোগান বাড়াতে হলে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতগুলোকে সচল করে তোলতে হবে।

‘আমদানির উৎস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। এসবের জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও পুণঃবিনিয়োগ দরকার। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। এই বিনিয়োগ বাড়লে বেসরকারিখাত চাঙ্গা হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান বাড়লে আয়ও বাড়বে। আর আয় বাড়লে মানুষের চাহিদা ও ভোগ ও বিলাসিতা সবটাই বাড়বে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২৩টি খাতে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার যে প্রণোদনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, তার সফল বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে। তখন মানুষের ভোগ সক্ষমতাও বাড়বে। এর জন্য আগামী দুই-এক বছর অপেক্ষা করতেই হবে।

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়াবে জ্বালানির নিরাপত্তা

গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়াবে জ্বালানির নিরাপত্তা

বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব খাত থেকে আসে ৭৪ শতাংশ। বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উৎপাদন নেমে আসবে মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে। আর আমদানি-নির্ভরতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ শতাংশে। তখন খরচ কমার চেয়ে উল্টো বাড়বে। এমন বাস্তবতায় দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধানের গৃহীত পদক্ষেপগুলো মোটেও যুগোপযোগী নয়। আবার বিকল্প জ্বালানি এলএনজি ও এলপিজি ব্যবহারের খরচও বেশি। এর ব্যবহার প্রবণতাও কম। এ পরিস্থিতিতে দেশে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম উপায় হতে পারে নতুন করে আরও বেশি হারে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান করা।

শনিবার ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের জ্বালানি উৎসের ভবিষ্যৎ: এলপিজি এবং এলএনজি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এই দাবি করেন।

তারা বলেন, এলপিজি ও এলএনজি হলো শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি। কিন্তু দেশে এর খরচ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় শিল্প খাতে এই জ্বালানির ব্যবহার মাত্র ১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দুই কারণে জ্বালানি ব্যবহার ও সরবরাহে এই সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবাহরের যৌক্তিক পরিকল্পনা হওয়া এবং অপরটি হলো সহনশীল দামে এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহ না দেয়া।’

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘সরকার ঘোষিত ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিল্প খাতের চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। একইভাবে এ খাতে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানোই হতে পারে ভবিষ্যতে শিল্প খাতে চাহিদামাফিক জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণের অন্যতম উপায়।

বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ও এলএনজি আমদানি এবং উৎপাদনের ওপরও আরও বেশি জোর দেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি জানান, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ মেটানো হয় এলপিজির মাধ্যমে। এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক পর্যায়ে গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে এলপিজি এবং এলএনজির চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টানরশিপের মাধ্যমে স্টোরেজ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব এলপিজি ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে একটি সমন্বিত টেকসই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘সরকার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ জকিগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সেখান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এর জন্য প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ঝুঁকি কম থাকায় বর্তমানে সবাই এলএনজি ব্যবসায় ঝুঁকছে। দেশে এলপিজির বাজার প্রায় ১২ লাখ টন। ২৯টি কোম্পানি স্থানীয় বাজারে এলপিজি অপারেটর হিসেবে কাজ করছে। তবে ৫৬টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছোট ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করায় খরচ বাড়ছে।

মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনালের কার্যক্রম চালু হলে এ খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাবে বলেও আশাবাদী তিনি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের গ্যাসের মজুত মাত্র ৬ টিসিএফ। সারা দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের কার্যক্রম দরকার ছিল, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি।’

তিনি জানান, বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাসের ৭৪ শতাংশ আসে নিজস্ব খাত থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উৎপাদন নেমে আসবে মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে। আর আমদানি-নির্ভরতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ শতাংশে। তখন খরচ কমার চেয়ে উল্টো বাড়বে। এমন বাস্তবতায় দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

মূল প্রবন্ধে পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) খন্দকার সালেক সুফী বলেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে নেয়া পদক্ষেপসমূহ যুগোপযোগী নয়। অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ৩০তম স্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় সহনশীল দামে এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এর জন্য অবকাঠামো উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস্য থেকে আসবে। যেখানে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশই নবায়নযোগ্য খাত হতে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান আমের আলী হোসেন বলেন, জ্বালানির জন্য শুধু একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন খাত থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও একই সঙ্গে জ্বালানির বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেয়া জরুরি।

তিনি বাপেক্সকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার বলেও মত দেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন এম শামসুল আলম বলেন, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের স্বার্থে প্রাকৃতিক গ্যাসকেই আরও বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তৈরি পোশাক খাতে এলপিজি ও এলএনজি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তবে পোশাক খাত এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার

বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার

বিজরা এন্টারপ্রাইজের সিইও জানান, কাতারের দোহায় অবস্থিত আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং নামের একটি নার্সারি এই চারাগুলো বাংলাদেশ থেকে আমদানি করছে। চালানটিতে রয়েছে আট প্রজাতির ৩ হাজার ৭৪৭টি চারাগাছ। এর মধ্যে মাল্টার ৭৯৫টি, জামরুলের ১৫২, লেবুর ৯৫০, নিমের ১ হাজার ২৮০, বটের ৪০, সফেদার ৩২০, কাঠবাদামের ১৭০ এবং বাবলার ৪০টি চারা রয়েছে।

সমুদ্রপথে প্রথমবারের মতো গাছের চারা রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ১১ জুন উপসাগরীয় আরব দেশ কাতারে জাহাজে চারাগাছের প্রথম চালানটি গেছে। আগামী ৩০ জুন কাতারে পৌঁছাবে চারাগুলো।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিজরা এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শামসুল ইসলাম শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘মার্কস শিপিং লাইনের একটি জাহাজ গত ১১ জুন রপ্তানি করা চারাগুলো নিয়ে কাতারের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে গেছে। আগামী ৩০ জুন এসব চারা কাতারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’

এর আগে ২০১৯ সালে কার্গো বিমানে করে কাতারে চারা পাঠান তিনি।

শামসুল ইসলাম জানান, কাতারের দোহায় অবস্থিত আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং নামের একটি নার্সারি এই চারাগুলো বাংলাদেশ থেকে আমদানি করছে। চালানটিতে রয়েছে আট প্রজাতির ৩ হাজার ৭৪৭টি চারা গাছ। এর মধ্যে মাল্টার ৭৯৫টি, জামরুলের ১৫২, লেবুর ৯৫০, নিমের ১ হাজার ২৮০, বটের ৪০, সফেদার ৩২০, কাঠবাদামের ১৭০ এবং বাবলার ৪০টি চারা রয়েছে।

চালানটির শিপমেন্টে নিয়োজিত ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান সেভারেল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিজরা এন্টারপ্রাইজ ওই সব চারা দুটি ট্রাকে করে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর সেগুলো পতেঙ্গার ইস্টার্ন লজিস্টিক ডিপোতে রাখা হয়। পরে একটি ৪০ ফুটের হিমায়িত কনটেইনারে চারাগুলো লোড করা হয়। কাস্টমস ক্লিয়ারিং শেষে গত ১১ জুন চারাগুলো নিয়ে জাহাজ রওনা দেয়।’

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এর আগে কার্গো বিমানে করে বিদেশে চারা রপ্তানি হয়েছে। তবে এবারই প্রথম বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে চারাগাছের একটি চালান কাতারে রপ্তানি হলো।’

এই উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের রোগতত্ত্ববিদ সৈয়দ মুনিরুল হক বলেন, ‘কাতারে রপ্তানি করা চারাগুলো দুই দফায় পরীক্ষা করা হয়েছে। চারাগুলো সুস্থ, মাটি মুক্ত অবস্থায় স্টেরিলাইজড কোকো পিটে শিকড় গজানো অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী চারায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। ওই গাছ রপ্তানির জন্য একদম নিরাপদ।’

বিজরা এন্টারপ্রাইজের সিইও শামসুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে জানতে পারি কাতারের আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গাছের চারা আমদানি করে। এর পরই ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ২০১৯ সালে আমি প্রথম রপ্তানি আদেশ পাই। প্রথমবারে দুই হাজার গাছ রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে কার্গো বিমানে চারা রপ্তানি করে অতটা লাভ হয়নি। এরপরও রপ্তানি বন্ধ করিনি। পরে ওই প্রতিষ্ঠানকে সমুদ্রপথে চারা নেয়ার প্রস্তাব দিলে তারা সেটিতে রাজি হয়।’

নতুন নতুন পণ্য রপ্তানিতে যোগ হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

চিটাগং চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রপ্তানিতে নতুন নতুন পণ্য যোগ হওয়া দেশের জন্য ইতিবাচক। আগে বাংলাদেশ থেকে শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। আশা করি, গাছের চারা রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।’

আরও পড়ুন:
ইতিহাসের রেকর্ড ছুঁইছুঁই লেনদেন
পুঁজিবাজারে ৭২ মিনিটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
বিমায় অবিশ্বাস্য উত্থান চলছেই, চাপ কাটল ব্যাংকেও
‘ছয় হাজারের যুদ্ধে’ অস্বস্তি আরও বাড়ল পুঁজিবাজারে
মহাধসের পর সর্বোচ্চ লেনদেনেও পুঁজিবাজারে ‘অস্বস্তি’

শেয়ার করুন