আয় বেড়েছে ইউসিবির, লভ্যাংশ ১০ শতাংশ

আয় বেড়েছে ইউসিবির, লভ্যাংশ ১০ শতাংশ

ব্যাংকটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ বা শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি কোম্পানি ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) তার শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গেল বছরে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৭ পয়সা।

মঙ্গলবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সবশেষ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ব্যাংকটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ বা শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হবে।

এ সময়ে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৪২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা। ফলে এই সময়ে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৭ পয়সা।

ব্যাংকটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে ৫ আগস্ট।

অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করার নিয়ম থাকলেও ইউসিবি ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং অর্থবছর শেষ হওয়ার ৫ মাস পর লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের প্রথম কোয়াটর্টার প্রকাশ করতে হয়। ইউসিবি ব্যাংকের ২০২০ অর্থবছর শেষে ২০২১ অর্থবছরের ছয় মাসও শেষ হওয়ার পথে।

২০২১ অর্থবছরের পাঁচ মাস শেষে মঙ্গলবার ব্যাংকটি তাদের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির প্রথম কোয়ার্টার জানুয়ারি ২০২১-মার্চ ২১ সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে, যা ছিল ৩২ পয়সা ।

ব্যাংকটি ২০১৯ সালেও শেয়ারধারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ বোনাস, ২০১৭ সালে ১০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি

বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি

এফসিসিআই মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ডিসিসিআই সভাপতি রিজোয়ান রাহমানের সৌজন্য বৈঠক

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সুবিধা যেমন রাখা হয়েছে, কিছু অসুবিধাও পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারের সঙ্গে এই অসুবিধাগুলো সুরাহার দাবি নিয়ে শিগগিরই কথা বলার উদ্যোগ নেয়া হবে। সেই সুযোগ এখনও সুযোগ আছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিয়ে শিগগিরই সরকারের সঙ্গে বসতে চায় ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। অসুবিধাগুলো নিয়ে এখনও আলোচনার সুযোগ আছে বলে মনে করেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন প্রধান মো. জসিম উদ্দিন।

রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ডিসিসিআই সভাপতি রিজোয়ান রাহমানকে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সুবিধা যেমন রাখা হয়েছে, কিছু অসুবিধাও পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারের সঙ্গে এই অসুবিধাগুলো সুরাহার দাবি নিয়ে শিগগিরই কথা বলার উদ্যোগ নেয়া হবে। সেই সুযোগ এখনও সুযোগ আছে।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাজেটে রাখা সরকারি প্রণোদনার সুষম বণ্টন, গবেষণা উন্নয়নে গুরুত্ব, ক্যাপিটাল মেশিনারি, কর্পোরেট ট্যাক্স, ফ্রেশ ফ্রুটস্, পাটজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, বেসরকারি খাত উন্নয়নে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন হওয়া দরকার, যেখানে নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে। সেখানে ব্যবসাযীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকবে। এর জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

বিসিকের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু

বিসিকের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু

বিসিকের ওয়ানস্টপ সার্ভিস উদ্বোধনে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিক এই সার্ভিসে যুক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করল। এখন থেকে উদ্যোক্তারা শিল্প নিবন্ধন সেবা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। তবে বিসিককে অবশ্যই এই ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে নন স্টপ সার্ভিসে রূপ দিতে হবে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) চালু হয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস।

এর মধ্য দিয়ে দেশে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন-২০১৮’ এর ‘ক’ তফসিলে পঞ্চম প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হলো বিসিক।

এর আগে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনে যুক্ত হয়। বর্তমানে এই সার্ভিসটি ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম অনুষঙ্গ বিবেচিত হচ্ছে ।

রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিসিকের এই ওয়ানস্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনে অন্তর্ভুক্তির ফলে কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা বিসিকের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, জমি নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ, টেলিফোন সংযোগ, বিস্ফোরক লাইসেন্স, বয়লার সার্টিফিকেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করে একই জায়গা থেকেই এ সকল সেবা নিতে পারবেন। ফলে কোনো বিনিয়োগকারীকে প্রাথমিক অনুমোদন ও অন্যান্য সেবার জন্য আর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে যেতে হবে না।

এর মাধ্যমে বিসিকের নিজস্ব ২৯টি সেবা এবং বিসিক বহির্ভূত ১৩টি সেবা ক্রমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস এর আওতায় আনা হবে। এছাড়াও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৭টি সেবাও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে বিসিক।

বর্তমানে সারা দেশে বিসিকের ৭৬টি শিল্পনগরী রয়েছে। এ ছাড়া, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিকভাবে গুরত্বপূর্ণ এলাকায় ৪০ হাজার একর জমিতে ১০০টি পরিবেশবান্ধব শিল্পপার্ক স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর ফলে ১ কোটি উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি ২ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিসিক এর চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান এনডিসির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের বিকল্প নেই। বিসিক এই সার্ভিসে যুক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করল। এখন থেকে উদ্যোক্তারা শিল্প নিবন্ধন সেবা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। তবে বিসিককে অবশ্যই এই ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে নন স্টপ সার্ভিসে রূপ দিতে হবে।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিসিক কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাগণকে অল্প সময় ও খরচে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান করতে পারবে। বিসিকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার ফলে এখণ থেকে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে পারবেন। ফলে তাদের একদিকে যেমন সময় কম লাগবে অপরদিকে অর্থেরও সাশ্রয় হবে।

বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান জানান, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার ফলে বিনিয়োগে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের সম্ভব হবে। এর ফলে দেশে সহজ ব্যবসা সূচকের উন্নতি ঘটবে এবং এর দরুন বিসিক শিল্পনগরীগুলাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

করোনায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে তরুণরা

করোনায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে তরুণরা

কোভিড পরিস্থিতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ—এসব খাতে উদ্যোগের ঘাটতি আছে। জনমিতির সুবিধা (জনসংখ্যার অনুপাতে তরুণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি) কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে কথা বলতে বলতেই সময় ফুরিয়ে যাবে।

কোভিড পরিস্থিতিতে ভয়াবহ কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়েছে তরুণ জনগোষ্ঠী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়েও তরুণদের ওপর নানা অভিঘাত আসছে, যার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তরুণ জনশক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে বাজেটে সুস্পষ্ট কোনো দিক নির্দেশনা নেই।

রোববার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘তরুণদের প্রেক্ষাপটে বাজেট’ বিষয়ে আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের গবেষক ইশরাত শারমীন।

সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। সঞ্চালনা করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক বিদিশা।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক।

বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মো. হাসানুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কার্যক্রম এবং মূল্যায়ন) মোহাম্মদ ইসমাইল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (গবেষণা ও নীতি) ড. নাশিদ রিজওয়ানা মনির, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) সাবিনা ইয়াসমিন ও অগ্র ভেঞ্চারের চেয়ারম্যান ফারজিন ফেরদৌস আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ডিজিটাল বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের তরুণরা। এতে তারা শহরের তুলনায় নানাভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। মাত্র ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। ৫৭ শতাংশ তরুণই প্রযুক্তির সেবা নিতে পারেননি।

২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তরুণদের উন্নয়নের জন্য নানাভাবে যুক্ত। আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ সরাসরি তরুণদের কেন্দ্র করে বরাদ্দ দেয়া হয়। ৬০ শতাংশ বরাদ্দ তরুণদের কাজে লাগে না। আর বাকি ২৬ শতাংশ বরাদ্দ আংশিকভাবে তরুণদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।

১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দে তরুণদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ—এসব খাতে উদ্যোগের ঘাটতি আছে। জনমিতির সুবিধা (জনসংখ্যার অনুপাতে তরুণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি) কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে কথা বলতে বলতেই সময় ফুরিয়ে যাবে।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, বাজেটে এ সময় সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু তরুণদের ছাড়া কীভাবে এত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব? তাই তরুণদের তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে হবে। আর তরুণরা দক্ষ হলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে।

সাংসদ নাহিম রাজ্জাক বলেন, তরুণদের জন্য অনেক ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ঘাটতি আছে। তরুণদের যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, সেটা শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুল ইসলাম বলেন, ‘গেল দেড় বছরে কোভিডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তরুণসমাজ। বিশেষ করে বস্তি এলাকার অনেকে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়েছেন। কত শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছেন, এখনও জানি না। স্কুল-কলেজ খুললে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বোঝা যাবে। কারা ঝরে পড়ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, করোনায় দরিদ্র পরিবারের অনেক তরুণ কাজ হারিয়েছেন। এমন তরুণদের নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে।

অগ্র ভেঞ্চারের চেয়ারম্যান ফারজিন ফেরদৌস আলম তরুণ উদ্যোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার আলোচনায় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য ব্যাংকে আবেদন করার পর যেসব শর্ত দেয়া হয় তা ছিল অত্যন্ত জটিল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব না। প্রণোদনা পাওয়ার জন্য প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। তিন মাস চেষ্টা করার পরও সেই প্রণোদনা না পেয়ে আশাহত হয়ে তিনি আর চেষ্টা চালাননি।

তিনি আরও জানান, এই কোভিড চলাকালে তিন-চার মাসের চেষ্টায় তিনি সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ড থেকে দেড় কোটি টাকার বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পাননি।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

লোকসানি কোম্পানিতে কী আকর্ষণ

লোকসানি কোম্পানিতে কী আকর্ষণ

রোববার বস্ত্র খাতে যে ১৪টির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তার মধ্যে ১১টিই লোকসানি অথবা বন্ধ কোম্পানি

লোকসান ও ব্যবসায় অনিশ্চয়তার কারণে অভিহিত মূল্যের অর্ধেক বা এক তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ দামে নেমে আসা কোম্পানিগুলোর দাম শতকরা হিসেবে বাড়ছে মৌলভিত্তিক ভালো কোম্পানির তুলনায় বেশি।

পুঁজিবাজারে বিমা খাতের পর বস্ত্রে উত্থানের মধ্যে লোকসানি ও বন্ধ থাকা কোম্পানির দাম বৃদ্ধির যে প্রবণতা, তা অব্যাহত রয়েছে।

রোববার বস্ত্র খাতের ১৪টি কোম্পানি দিনের সর্বোচ্চ দর ১০ শতাংশ বা তার আশেপাশে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি থেকে কোনো লভ্যাংশ আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত কোম্পানিগুলো ব্যাপক লোকসানে আছে।

জুন শেষে যে অর্থবছর শেষ হচ্ছে, তাতে এপ্রিল থেকে তিন মাসে ব্যবসায় অলৌকিক মুনাফা না করলে সেগুলো লোকসানের বৃত্তেই থাকবে।

অথচ এই ১১টি কোম্পানিই দাম বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেড়েছে তিনটি। বাকিগুলো ১০ পয়সার ড্রিপের হিসাবে কিছুটা কম বাড়তে পেরেছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারের যে খাতওয়ারি উত্থান হচ্ছে, তাতে কি লোকসানি, কি অস্তিস্থহীন কোনো কিছুইর বালাই নেই। মনে হচ্ছে সিন্ডিকেট ট্রেডিং হচ্ছে। তা না হলে যে খাতের শেয়ারের দাম বাড়ে সেটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘বস্ত্র খাতের আগামীতে লভ্যাংশ ঘোষণা আছে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি কারণ হতে পারে। তবে লোকসানি বা বন্ধ কোম্পানি থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আশা করার তো কোনো কারণ দেখি না।’

লোকসানি কোম্পানিতে কী আকর্ষণ
রোববার বস্ত্র খাতে যে ১৪টির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তার মধ্যে ১১টিই লোকসানি অথবা বন্ধ কোম্পানি

কোন কোম্পানির শেয়ার মূল্য কত বাড়ল

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির গত কমিশনের আমলে বস্ত্র খাতের বেশ কিছু কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে, যেগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে।

তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানিগুলো প্রতি বছর মুনাফা দেখালেও পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার পর পরই তারা লোকসান করতে থাকে। এক পর্যায়ে বেশ কিছু কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গত বছর করোনা সংক্রমণের পর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যেসব খাতের ব্যবসা, তার অন্যতম বস্ত্র খাত। পুঁজিবাজারে প্রতি প্রান্তিকের যে হিসাব দেয়া হয়, তাতেও বিষয়টি স্পষ্ট।

চলতি বছর যেসব কোম্পানি তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব জমা দিয়েছে, তার মধ্যে বস্ত্র খাতের ২০টি কোম্পানি লোকসানে আছে। আর দ্বিতীয় প্রান্তিক জমা দেয়া আরও দুটি কোম্পানি লোকসানে। সব মিলিয়ে ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ২২টিই লোকসানি- এই চিত্র পুঁজিবাজারে আর একটিও নেই।

কিন্তু বিমা খাতে অস্বাভাবিক ঢালাও উত্থানের পর মে মাসের শেষ দিক থেকে বস্ত্র খাতেও দর বৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে লাভে থাকা আর লোকসানি কোম্পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

বরং লোকসান ও ব্যবসায় অনিশ্চয়তার কারণে অভিহিত মূল্যের অর্ধেক বা এক তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ দামে নেমে আসা কোম্পানিগুলোর দাম শতকরা হিসেবে বাড়ছে মৌলভিত্তিক ভালো কোম্পানির তুলনায় বেশি।

যে তিনটি কোম্পানির দর ১০ শতাংশ বেড়েছে, তার মধ্যে দুটি ওটিসি মার্কেট থেকে লেনদেন শুরু করেছে আজই। মুন্নু ফেব্রিক ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো বাজারে আসার পর দাম বাড়বে, এটা অনুমেয়ই ছিল। আর ১০ শতাংশ বাড়তি দামে যে শেয়ারধারীরা শেয়ার বিক্রি করতে রাজি নয়, তাও স্পষ্ট।

মুন্নুর শেয়ার তাও হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৫০১টি। কিন্তু তমিজউদ্দিনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে কেবল একটি।

এর বাইরে ফ্যামিলি টেক্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, মিথুন নিটিং, জেনারেশন নেক্সট, সাফকো স্পিনিং, তাল্লু স্পিনিং, অলটেক্স, জাহিন স্পিনিং, জাহিন টেক্সটাইল, তুংহাই নিটিং, আর এন স্পিনিং, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দাম বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

এগুলোর মধ্যে কেবল আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ মুনাফায় আছে।

বাকি কোম্পানির মধ্যে ফ্যামিলি টেক্সের মালিকরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার ঘোষণা না দিয়ে বিক্রি করে কোম্পানি বন্ধ করে দিয়েছেন। কোম্পানিকে বাঁচাতে বিএসইসি পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে। কিন্তু নতুন বোর্ড যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে এই কোম্পানিটিকে বাঁচানো যাবে না বলে ধারণা করছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

এই কোম্পনির শেয়ার দর ৩ টাকা থেকে ১০ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে।

একই অবস্থা সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের। ফ্যামিলিটেক্সের পাশাপাশি এই কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার কথা ভাবছে বিএসইসি।

ফ্যামিলি টেক্সটাইলের দর ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৭.৪১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৯০ পয়সা।

মিথুন নিটিং এর মালিকরা কোম্পানি বিক্রি করে দিতে চান বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এরা সব শেষ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৬ সালে।

চলতি বছর তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে এক টাকা ২৩ পয়সা। এই কোম্পানির শেয়ার দর ৯.৯ শতাংশ বা এক টাকা বেড়ে হয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা।

জেনারেশন নেক্সট ২০১৮ সালের পর থেকে লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারছে না। চলতি বছরও তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ৩ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানির শেয়ার দর ৯.৮ শতাংশ বেড়ে ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৬০ পয়সা।

সাফকো স্পিনিং চলতি বছর প্রথম তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ৪ টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটি সব শেষ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৮ সালে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে ২৯ এপ্রিল থেকে দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

যেদিন বাড়তে শুরু করে, সেদিন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা। সেটি এখন দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকায়।

এর মধ্যে রোববার ৯.৭ বেড়ে শেয়ার মূল্য ১৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়েছে এক টাকা ৬০ পয়সা।

দুই বছর ধরে তাল্লু স্পিনিং কোনো আয় ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছে না, সব শেষ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৫ সালে। এই কোম্পানির শেয়ার দর ৯.৬ শতাংশ বেড়ে ৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা।

অলটেক্স সব শেষ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ২০১৫ সালে। আর সব শেষ মুনাফা করতে পেরেছে ২০১৬ সালে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তাদের লোকসান শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ১০ পয়সা।

এই কোম্পানির শেয়ার দরও এক দিনে ৯.৬ শতাংশ বেড়ে ৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

বস্ত্র খাতে হতাশার দুই নাম জাহিন স্পিনিং ও জাহিন টেক্সটাইল।

জাহিন স্পিনিং মিলস বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিয়েও ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৩৯ পয়সা আর চলতি বছর প্রথম তিন প্রান্তিকে এক টাকা ৩৭ পয়সা লোকসান দিয়েছে কোম্পানিটি।

এ কারণে চলতি বছর এক পর্যায়ে দাম নেমে যায় ৪ টাকা ৯০ পয়সায়। তবে গত ২৮ এপ্রিল থেকেই কোম্পানির শেয়ার মূল্য বাড়তে শুরু করে।

এই কোম্পানির শেয়ার দর ৯.১ শতাংশ বেড়ে ৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে হয়েছে ৮ টাকা ৪০ পয়সা।

অন্যদিকে জাহিন টেক্সটাইল টানা তিন বছর ধরে লোকসানে। ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ২৪ পয়সা, পরের বছর ৩ টাকা ৭৭ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটি চলতি বছর ৯ মাসে লোকসান দিয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা।

গত বছর এক পর্যায়ে কোম্পানির শেয়ার মূল্য তিন টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে। পরে কিছুটা বাড়ে।

তবে সাম্প্রতিক উত্থান শুরু গত ৩ মে থেকে। সেদিন শেয়ার মূল্য ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। এই কয়দিনে দাম বাড়ল ৪৪ শতাংশ।

এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য ৮.৭ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা।

তুংহাই নিটিং সব শেষে হিসাব দিয়েছে ২০১৭ সালে। শেষ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৬ সালে। বন্ধ থাকা কোম্পানির মালিকপক্ষ কোনো তথ্যই দিচ্ছে না।

তার আগের চার বছর লোকসান ছিল যথাক্রমে শেয়ার প্রতি ৫ টাকা ৪৭ পয়সা, ৬ টাকা ৯ পয়সা, ৭ টাকা ৯৭ পয়সা ও ২ টাকা ১৩ পয়সা।

এমন বিপুল লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা কী আশায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

এই কোম্পানির শেয়ার মূল্যও দিনের সর্বোচ্চ সীমায় উঠে ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৯০ পয়সা হয়েছে। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে ৮.৩৩ শতাংশ।

বস্ত্র খাতে পুঁজিবাজারে আর এন স্পিনিং এর শেয়ার নিয়ে প্রায়ই নানা ‘খেলা’ হয়। ২০১৭ সালে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য হিসাব পর্যালোচনা করে সালে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। সে সময় শেয়ার মূল্য ৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এরপর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে আবার ১০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ার দেয়া হয়। কিন্তু লোকসানের কারণে পরে আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এর মধ্যে ২০১৯ সালের এপ্রিলে কুমিল্লায় কোম্পানির কারখানা আগুনে পুড়ে যায় পুরোপুরি। সেই ক্ষতি আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।

চলতি বছর প্রথম তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১৬ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য আছে কেবল ১৭ পয়সা। অথচ গত ৮ জুন থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ দাম বাড়ল কোম্পানিটির।

এর মধ্যে আজ এক দিনেই বাড়ল ৮.২ শতাংশ। ৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সা।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দাম ২ টাকা ৭০ পয়সা ছিল বৃহস্পতিবার। এখান থেকে ২০ পয়সা বেড়ে দাম হওয়ার সুযোগ ছিল ২ টাকা ৯০ পয়সা। হয়েছেও তাই।

এই কোম্পানিটি ২০১৭ সালে বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে কোনো হিসাব দিচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবার ঠিকাদারদের জন্য দুঃসংবাদ। ঠিকদারি ব্যবসাসহ সরবরাহ পর্যায়ে ‘উৎসে কর’ হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে এ খাতের জন্য উৎসে কর কাঠামোর স্তরে আনা হয়ছে পরিবর্তন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঠিকাদারি ব্যবসা কোনোরকম টিকে আছে। নতুন বাজেটে বর্ধিত হারে উৎসে কর কার্যকর হলে এ ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়কর খাতে আদায়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আসে উৎসে কর থেকে। মোট আয়করের ৬০ শতাংশ আসে উৎসে কর থেকে। এর মধ্যে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসার অবদান ৩০ শতাংশ।

বর্তমানে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকে মেয়াদি আমানত বা এফডিআই, রপ্তানি, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাভেল এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ কমিশনসহ ৫৮টি খাত থেকে উৎসে কর আদায় করে সরকার। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎসে কর আসে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে কর হার গড়ে ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তরের পরিবর্তে তিনটি স্তরে উৎসে কর আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির অন্যতম খাত নির্মাণশিল্পে ব্যবহৃত রড ও সিমেন্টের দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। পাথর, ইলেকট্রিক্যাল কেব্‌লসহ অন্যান্য উপকরণের দাম গড়ে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এসব কারণে নির্মাণশিল্প এমনিতেই স্থবির। তার ওপর ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায় উৎসে কর বাড়ানোর ফলে এ খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় দেশের নামি-দামি অনেক ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। যারা নতুন, তাদের অনেকেই খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে করের বোঝা আরও চাপানোর ফলে এ ব্যবসা ব্যাপক চাপে পড়বে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলা অবস্থা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মককর্তা বলেন, তারা এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কাঠামোতে কিছুটা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করেছেন। এই কর প্রস্তাব কার্যকর করলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে, বাড়বে বড় ব্যবসায়ীদের ওপর।

এবারের বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ৫০ লাখ টাকার বেশি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তন হবে ৩ শতাংশ, ৫০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজে ৫ শতাংশ এবং এবং ২ কোটি টাকার বেশি কাজের বেলায় ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।

ঠিকাদারি ও সরবরাহকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য বর্তমান করকাঠামোই বহাল রাখার দাবি জানান বিএসিআইএর সভাপতি সফিকুল হক তালুকদার।

বর্তমানে এ খাতে সর্বোনিম্ম উৎসে কর হার ২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ঠিকাদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত।

সরকারি উন্নয়ন কাজের বা এডিপির ৯৫ শতাংশই করে থাকে ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা। নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অসংখ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের আদেশ পাওয়ার পরও মাসের পর মাস বসে আছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজই শুরু করতে পারছে না তারা। এ অবস্থায় বাড়তি করের চাপ এ খাতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

পাঁচ বছরেও উৎসে কর খাতে সংস্কার নেই

২০১৬ সালে উৎসে কর বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল এনবিআর। এতে বলা হয়, উৎস কর আহরণে বড় গলদ রয়েছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে উৎসে কর আদায় বাড়াতে একটি সংস্কার কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে। এতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে উৎসে কর আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং বিছিন্নভাবে আদায় না করে কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর আহরণের কথা বলা হয়। এ জন্য আলাদা একটি কর অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু পাঁচ বছরেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় নি।

নির্মাণশিল্প রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি

বিপর্যয়ের মুখ থেকে নির্মাণখাত রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই)। তাতে এ খাতের সংকট উত্তরণে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির মধ্যে আছে: সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী সকল কাজে মূল্য সমন্বয় (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) চালু করা, সরকারি পরিপত্র জারি করে চলমান প্রকল্পের মূল্য তারতম্য (ভেরিয়েশন) সমন্বয় করা, এমএস রড় ও সিমেন্টের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা ও নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর জন্য অতি দ্রুত শুল্কমুক্ত রড সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করা।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি

ওসিটি থেকে মূল মার্কেটে ফেরা চার কোম্পানির দাম বৃদ্ধির হার ও লেনদেনের পরিমাণ

উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগজের শেয়ার রাখা, নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করা প্রায় ৬৬টি কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওটিসি মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে মোট আটটি।

মুনাফায় ফেরার পাশাপাশি সুশাসনে উন্নতি করায় ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেট থেকে মূল বাজারে ফিরেই চার কোম্পানি করল বাজিমাত। চারটি কোম্পানির দামই বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

তবে এই বাড়তি দামেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে পারেননি। কারণ, বিক্রেতা ছিল না।

চার কোম্পানি হলো তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি লিমিটেড, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড এবং মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড।

চারটি কোম্পানিই জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করেছে।

এদের মধ্যে ১০ শতাংশ বেশি দরে মুন্নু ফেব্রিকের ১০ টাকার শেয়ার ১১ টাকায় বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫০১টি। তবে এই পরিমাণ শেয়ারও বিক্রি হয়নি অন্য তিন কোম্পানির।

ওটিসি মার্কেটে মনোস্পুলের শেয়ারের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বেড়ে হওয়ার সুযোগ ছিল ৫৫ টাকা। এই দরে শেয়ার কেনার আদেশ ছিল লাখ লাখ। কিন্তু দুটি শেয়ার বিক্রি হওয়ার পর কেউ আর বিক্রি করেননি।

তমিজউদ্দিনের শেয়ারের মূল্য ছিল ১২ টাকা। ১০ শতাংশ দাম বেড়ে হওয়ার সুযোগ ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা। এই দামে বিপুল পরিমাণ ক্রেতা থাকলেও বিক্রি হয়েছে কেবল একটি শেয়ার।

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা

পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ার ১৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। এই দরে হাতবদল হয়েছে কেবল একটি শেয়ার।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭৬০তম কমিশন সভায় কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেটে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারি।

সিদ্ধান্তের চার মাস পর কোম্পানিগুলো রোববার থেকে মূল মার্কেটে জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করে।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কার আয় কত

পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড রোববার তাদের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে। যেখানে জানুয়ারি থেকে মার্চ ‘২১ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ পয়সা।

মুন্নু ফেব্রিক্সও ওটিসি থেকে ফিরে তাদের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ পয়সা।

দুই বছর ধরে মুনাফায় কোম্পানিটি। ২০১৯-২০ সালে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১১ পয়সা। আগের অর্থবছরের যা ছিল ৫ পয়সা। মুন্নু ফেব্রিক্স পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে।

মনোস্পুল পেপারও রোববার লেনদেন শুরুর দিন আর্থিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৮ পয়সা।

তমিজউদ্দিন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ ’২১ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৯৮ পয়সা।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক অবস্থা বিবেচনা করে ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন এখানে ভালো করলে ক্যাটাগরিভিত্তিক উন্নতি হবে।’

ওটিসি মার্কেট কী

উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগজের শেয়ার রাখা, নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করা প্রায় ৬৬টি কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওটিসি মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানিয়েছেন, তারা ওটিসি মার্কেট রাখবেন না

এমন কোম্পানিগুলোকে নিয়ে ২০০৯ সালে এই ওটিসি মার্কেট গঠন করা হয়।

কোম্পানির সুশাসনে উন্নতি করে এর আগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়াটা ক্যমিকেল, সোনালি পেপার ও আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ মূল মার্কেটে ফিরেছে।

ওটিসি মার্কেটই থাকছে না

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তারা ওটিসি মার্কেট রাখবেন না।

এই মার্কেটে এখনও কোম্পানি আছে ৫৮টিল। এর মধ্যে ১৫টি যাচ্ছে এসএমই বোর্ড বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানি জন্য তৈরি করা বোর্ডে।

৩০টি কোম্পানি যাচ্ছে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবিতে)। বিভিন্ন ধরনের বন্ড, অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ ও বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনের জন্য এটি তৈরি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

আর ১৩টি কোম্পানি তালিকাচ্যুতির আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানিকে বাজারে রাখার চেষ্টা করছে বিএসইসি।

চারটিকে তালিকাচ্যুতির কাজ শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

এসব কোম্পানি যে জনগণের কাছ থেকে টাকা তুলে তা আত্মসাৎ করেছে, তার কী হবে- এমন প্রশ্নে বিএসইসির চেয়ারম্যান সম্প্রতি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা টাকা উঠিয়ে চলে গেছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করব।’

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

রোববার পুঁজিবাজারে প্রধান খাতগুলোর বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে।

বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দাম বাড়ার পাশাপাশি কমেছে ৩৩টির দাম। তবে আটটির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ২২টি।

পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ হওয়ার পর বেশ আলোচনা ছিল বিমা খাত নিয়ে। এই খাতে দরপতন হয় কি না, এ নিয়ে যুক্তি পাল্টা-যুক্তির মধ্যে মূল ঝড়টা গেল ব্যাংক খাতের ওপর।

বিমাও বাদ যায়নি, এই খাতেরও সিংহভাগ কোম্পানির দর হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির পাঁচটিই এই খাতের।

অন্যদিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের তালিকায় না থাকলেও ব্যাংক খাতের প্রতি তিনটি কোম্পানির দুটিই দর হারিয়েছে।

সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে দরপতনের কারণে পতন হলো সূচকেও। যদিও দরপতনের বিপরীতে দর বাড়ার সংখ্যাটিও নেহায়েত কম না।

১৯২টি কোম্পানি দর হারানোর বিপরীতে বেড়েছে ১৫৯টির দর। অপরিবর্তিত ছিল ২১টি।

এপ্রিলে লকডাউনের শুরু থেকে দুই মাসে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট উত্থানের পর পুঁজিবাজারে দর সংশোধন হবে বলে যে আলোচনা ছিল গত দুই দিন ধরে, তার কিছুটা নমুনা দেখা গেল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে।

দিনভর যুদ্ধ করেও শেষ বেলায় এসে পতন হলো সূচকের। সেই সঙ্গে লেনদেনও কমল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

দিন শেষে সূচক পড়েছে ৩০ পয়েন্ট। অথচ দিনের শুরুতে লেনদেন শুরুর ১২ মিনিটে সূচক বেড়েছিল ৩২ পয়েন্ট। সেখান থেকে বেলা একটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সূচক ধরে রাখার লড়াই চলেছে। তবে শেষ পৌনে এক ঘণ্টায় কেবল নিচের দিকেই নেমেছে।

সূচক কমার দিন লেনদেনও কমেছে ব্যাপক হারে। দিন শেষে দুই হাজার কোটি টাকার বেশিই লেনদেন হলেও সেটি আগের দুই দিনের তুলনায় ব্যাপক কম।

লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।

গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, আর বৃহস্পতিবার দুই হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার কিছু বেশি।

ব্যাংকের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ২২টিই। এর মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা রূপালী ও ট্রাস্ট ব্যাংক। রূপালী ব্যাংকের দাম পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে হাতবদল হয়েছে। অতটা না বাড়লেও ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৪ শতাংশ।

বিমা খাতে পতন যেমন ছিল, তেমনি উত্থানও ছিল।

এই খাত নিয়ে তুমুল আলোচনা একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের পর। গত বছর করোনায় সাধারণ ছুটি শেষে বিশেষ করে সাধারণ বিমার শেয়ার দর বেড়েছে পাগলা ঘোড়ার মতো। এমনকি ১০ ‍গুণ হয়েছে একটি কোম্পানির দর। কোনো কোনোটির তিন থেকে চার গুণ, কোনো কোনোটির পাঁচ থেকে ছয় বা সাত গুণ হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিমা খাতের শেয়ারধারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পষ্টত দুটি ভাগ তৈরি হয়। একটি ভাগ বলতে থাকে বিমার দাম আরও বাড়বে, একটি পক্ষ বলতে থাকে ব্যাপকভাবে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে রোববার কী হয়, এ নিয়ে দৃষ্টি ছিল।

দিনের শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। তবে শেষ বেলায় বিমা খাতেও গেছে ঝড়।

অবশ্য এই খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে অন্তত আটটির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। অন্যদিকে নয়টি কোম্পানির পতন হয়েছে ব্যাপক হারে। বাকিগুলো দর হারালেও শতকরা হিসেবে তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

সর্বাধিক দর বৃদ্ধি পেয়ে যেসব কোম্পানির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল, তার মধ্যে বিমা খাতের রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সও আছে। এক দিনেই ৯ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়েছে দাম।

সব মিলিয়ে এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪টির, দুটি ছিল অপরিবর্তিত, একটির লেনদেন রেকর্ড ডেটের কারণে স্থগিত। কমেছে বাকি ৩৩টির দাম।

বিমায় লেনদেনের চিত্র

সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে রিলায়েন্স ইন্স্যরেন্সের ৯.৯৬ শতাংশ।

এ ছাড়া অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৩ শতাংশ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৫.০৫ শতাংশ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ৪.৪৬ শতাংশ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

আর দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এদিন দিনের সর্বোচ্চ দর পতন হয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের, যার পরেই আছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স।

বিমা খাতের প্রভাতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৭ দশমকি ৭৬ শতাংশ। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৬.৫৬ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৫.৫৬ শতাংশ, সান লাইফের ৫.১১ শতাংশ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ৫.০৮ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
বিমা খাতে লেনদেনের চিত্র

এছাড়া ঢাকা, গ্লোবাল, জনতা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ২ শতাংশ পর্যন্ত।

দরপতনের পাশাপাশি এই খাতে লেনদেনও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। রোববার হাতবদল হয়েছে মোট ৩৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার। যা গত বৃহস্পতিবারও ছিল ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

এদিন মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ হয়েছে বিমা খাতে। কিছুদিন আগেও যা ছিল ৩৬ শতাংশেরও বেশি।

ব্যাংকে আরও পতন

বাজেট ঘোষণার দিন ৩ জুন থেকে ব্যাংকে যে ধারাবাহিক পতন হচ্ছে, সেটি থামার কোনো নামই নেই।

দর পতন হওয়ার কোম্পানির তালিকার শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাতের আল আরাফাহ ইসলাম ব্যাংকের ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একদিন ব্যাংকটির শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না।

এর বাইরে এবি ব্যাংকের দর কমেছে ৪.৩৮ শতাংশ, ডাচ বাংলার ৩.৪১ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ৩. ২৮ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ৩.১৮ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ৩.১০ শতাংশ দর কমেছে।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
ব্যাংক খাতে দরপতনের চিত্র

এছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দরও কমেছে এক শতাংশ করে।

লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা রূপালী ও ট্রাস্ট ছাড়া ছাড়া কেবল আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ২.৬২ শতাংশ, এনবিএলের ১.২৭, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১.১৪ শতাংশ আর ইসলামী ব্যাংকের ০.৩৬ শতাংশ দম বেড়েছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫.৬৭ শতাংশ।

বস্ত্র খাতই এখন আলোচনার কেন্দ্রে

লভ্যাংশ ঘোষণার সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বস্ত্র খাতে লেনদেন বাড়িয়েই চলেছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এই খাতের লাভে থাকা কোম্পানির চেয়ে বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানির দাম রকেট গতিতে ছুটতে থাকায় এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এদিন ওটিসি মার্কেট থেকে যে চারটি কোম্পানি এদিন মূল মার্কেটে ফিরেছে, তার মধ্যে মুন্নু ফেব্রিক আর তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের ১০ শতাংশ করে দাম বেড়েছে। তবে এগুলোর বিক্রেতা ছিল না। মুন্নুর দেড় হাজার শেয়ার লেনদেন হলেও তমিজউদ্দিনের শেয়ার হাতবদল হয়েছে কেবল একটি শেয়ার।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
বস্ত্র খাতে লেনদেনের চিত্র

এ ছাড়া ফ্যামিলি টেক্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, মিথুন নিটিং, জেনারেশন নেক্সট, সাফকো স্পিনিং, তাল্লু স্পিনিং, অলটেক্স, জাহিন স্পিনিং, জাহিন টেক্সটাইল, তুংহাই নিটিং, আর এন স্পিনিং, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দাম বেড়েছে একদিন যত বাড়া সম্ভব ততই।

এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেবল আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ মুনাফায় আছে। বাকিগুলো হয় বন্ধ নয় বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনেছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ২৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা যা মোট লেনদেনের ১৩.৮৮ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি উত্থান মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

জুন মাসের আর দুই সপ্তাহ পার করলেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই লভ্যাংশ ঘোষণা করবে।

এসব ফান্ডের মধ্যে সিংহভাগই তিন প্রান্তিক শেষে ব্যাপক মুনাফায় আছে। আবার চতুর্থ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি। এর সুফল অবশ্যই পাবে ফান্ডগুলো। কিন্তু বেশিরভাগ ফান্ডই অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

এই অবস্থায় গত দুই সপ্তাহ ধরেই মাঝেমধ্যেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বাড়তে দেখা যায়, যার আরও একটি নমুনা দেখা গেল আজ।

৩৭টি ফান্ডের মধ্যে দাম কমেছে কেবল একটির, একটির লেনদেন হয়নি, দুটির দাম পাল্টায়নি, বেড়েছে বাকি ৩৩টির দামই।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
রোববার খাতভিত্তিক সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর। ৭.২৪ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৯০ পয়সার ফান্ড হয়েছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা যা সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

অন্যান্য বড় খাতের মধ্যে প্রকৌশল খাতে ১৯০ কোটি টাকা, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৮০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৯৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯৫ কোটি টাকা, খাদ্য ও আনুষঙ্গিত খাতে ৪২ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে।

সূচক ও লেনদেন

রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএস আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৮ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইস ৬ দশমিক ০৫ পয়েন্টে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১২ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে। মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা যা আগের দিনের চেয়ে ৬০০ কোটি টাকা কম।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমেছে ১৭ হাজার ৫২৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৯০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
তৃতীয়বারের মতো সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কায়সার
রপ্তানিতে নীতিসহায়তার সময় আবার বাড়ল
লকডাউনে ব্যাংক চলবে আগের মতোই
ফাইন্যান্স এশিয়ার চোখে দেশসেরা সিটি ব্যাংক

শেয়ার করুন