পেঁয়াজের দাম

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে রাজবাড়ীতে। ছবি: নিউজবাংলা

২ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বাড়ল ২০ টাকা

আড়তদার রশিদ মণ্ডল জানান, বেশি লাভের আশায় কৃষকরা ঘর থেকে পেঁয়াজ বের করছেন না। আর বাজারে পেঁয়াজের আমদানি কম থাকার কারণে দাম বেড়েছে।

রাজবাড়ীর বাজারে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে আমদানি কম থাকার কারণে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

জেলার কাঁচাবাজারে রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকা।

আরজু খন্দকার নামে এক ক্রেতা জানান, কয়েক দিন আগে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনলেও আজ তা কিনছেন ৫০ টাকায়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ ছাড়াই তরকারি খাবে।

রফিকুল ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা জানান, ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পেঁয়াজ। যেভাবে প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে ২০০ টাকা কেজি হলো বলে।

আড়তদার রশিদ মণ্ডল জানান, বেশি লাভের আশায় কৃষকরা ঘর থেকে পেঁয়াজ বের করছেন না। আর বাজারে পেঁয়াজের আমদানি কম থাকার কারণে দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের মণ ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এখন দাম ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৬৮০ টাকা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান শেখ জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো বিক্রেতা পেঁয়াজের দাম বেশি নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

টাকা সংরক্ষণের জন্য মানুষের নিরাপদ স্থান ব্যাংক। কষ্টার্জিত আমানত ভল্টেই রাখা হয়। কিন্তু সেই ভল্ট কি নিরাপদ? দেখা যাচ্ছে ভল্ট থেকে হাওয়া হচ্ছে টাকা। আর এই কাজে যুক্ত হচ্ছে খোদ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এই অর্থ নিয়ে খেলা হচ্ছে জুয়া, যা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

শুধু বংশাল শাখাই নয়, এর আগে গেল বছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরিয়ে ফেলেন ৩ কোটি ৪৫ কোটি টাকা। তিনিও পুলিশি জেরায় স্বীকার করেন, একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সেখানেই এই অর্থ খোয়া গেছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের ইন্টারনাল অডিটে এটা ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখায় ইন্টারনাল অডিটে ক্যাশ কম পাওয়া যায়। পরে আবারও ইনভেস্টিগেশন করা হয়।

‘পৌনে ৪ কোটি টাকার মত কম ছিল। এরপর দায়িত্বে থাকা ক্যাশ-ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ক্যাশ সরিয়ে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। ব্রাঞ্চের ক্যাশ-ইনচার্জ ও ম্যানেজার (অপারেশন) দুইজনকে থানায় দেয়া হয়েছে। এ দুইজনের কাছে ভল্টের চাবি থাকে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তারা টাকা সরানো একটা বিপজ্জনক প্রবণতা। আমানতকারীদের অর্থ সরিয়ে তারা বিনিয়োগ করবে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। এটা বন্ধ করতে হবে। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের অতিসত্ত্বর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে হবে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত এটা সমাধান নয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা করতে হবে।

‘একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছে মানে এতে বোঝা যায় অধিকাংশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুব দুর্বল। সুপারভিশন ও মনিটরিংও ঠিকমতো হয় না। যে যার মতো ছেড়ে দিয়েছে। জনগণের টাকা নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক না।’

জুয়ায় ঢাকা ব্যাংকের টাকা

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জুয়ায় গেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের টাকাও

গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উধাওয়ের আরও একটি ঘটনা ঘটে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরাতেন। ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। তিনি টাকার বান্ডেলের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে টাকা সরাতেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। এভাবে তিনি ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে সরিয়ে ফেলেন।

এরপর এই টাকা দিয়ে শামসুল জুয়া খেলেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। জবানবন্দিতে তখন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, লোভে পড়ে তিনি ২০১৮ সাল থেকে কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে জুয়া খেলতে শুরু করেন।

পিছিয়ে নেই অন্য ব্যাংকও

কিছু দিন আগে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের একজন আইটি অফিসারের ২ কোটি ৫৭ লাখ সরিয়ে ফেলেন। ব্যাংকের ইন্টারনাল ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তিন বছরে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের ১৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই ওই কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা করে। ওই ঘটনার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বড় অঙ্কের অর্থ জুয়ায় ব্যবহার হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জুয়ার এমন নেশায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, রক্ষক ভক্ষক হলে কোথায় যাবে মানুষ। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতেই ব্যাংকের টাকা এখন নিরাপদ নয়।

শুধু জুয়াতেই বিনিয়োগ নয়, ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভল্টের অর্থ তছরুপের ঘটনা ঘটে। নিরীক্ষাতে এমন অনিয়ম অহরহ উঠে আসছে।

টাকা নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগ

একের পর এক বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা খোয়া যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। তারা বলছেন, ব্যাংকের ভল্টে যদি টাকা সুরক্ষিত না থাকে তাহলে তারা টাকা কোথায় রাখবেন!

ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে লোপাট করা টাকা গ্রাহকের আমানত। তাই যেসব গ্রাহক এই ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন, তাদের অর্থ পেতে সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ব্যাংক। তারপরেও গ্রাহকের উদ্বেগের শেষ নেই।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারণ, টাকা তো উদ্ধার করতে হবে। যারা এ টাকা নিয়েছে তাদেরকে এ টাকা ফেরত দিতে হবে। যতদিন না পাওয়া যাবে, ততদিন প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

ঢাকা ব্যাংকে কমিটি গঠন রোববার

কীভাবে, কতদিনে এত টাকা সরানো হয়েছে সে বিষয়ে একটি কমিটি করবে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘এটা এখন আইনিভাবেই এগিয়ে গেছে। ক্রিমিনাল কেস সুতরাং, পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যাংক থেকে একটা তদন্ত কমিটি করা হবে।

‘বৃহস্পতিবারের ঘটনা কিন্তু পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন। রোববারে কমিটি করা হবে। এজন্য কয়েকদিন সময় লাগবে। কমিটি গঠন করার পর পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে কেনাকাটা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

করোনায় আয় কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত কমিয়ে দিয়েছে বিলাসিতা। তার নিচের স্তরের মানুষ প্রয়োজন বিবেচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে অগ্রাধিকার খাতকে। এরও নিচের স্তরের লোকজন অল্প খেয়ে পড়ে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টায় লিপ্ত। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিখাতের চাহিদা ও ভোগব্যয়ের ওপর। দেশ থেকে উধাও হয়ে গেছে ভোক্তার অতিরিক্ত ভোগ প্রবণতা।

করোনায় কাজ হারিয়ে ফেলেছেন বিভিন্ন খাতে লাখ লাখ মানুষ। সরকারি হিসাবই বলছে, এ সংখ্যা ১৬ লাখের কম নয়। আয়শূন্য এসব মানুষের বেশিরভাগ আজও নতুন করে কোনো কাজ জোটাতে পারেনি। অনেকের কমে গেছে আগের নিয়মিত আয়ও।

বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য বলছে, গত সোয়া এক বছরে নতুন করে দারিদ্র্যের শিকার হয়েছে দেশের আড়াই থেকে ৩ কোটি মানুষ।

অর্থাৎ সবারই সংকট আয়ের ধারাবাহিকতা। নগদ অর্থে বড় রকমের টান পড়ায় বদলে গেছে আগের জীবন ব্যবস্থাও। জীবন-জীবিকার তাল মেলাতে হিমসিম খাওয়া মানুষের চাহিদায় ব্যাপক পতন ঘটেছে। তারা উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যয় সংকচোনের পথ।

মধ্যবিত্ত কমিয়ে দিয়েছে বিলাসিতা। তার নিচের স্তরের মানুষ প্রয়োজন বিবেচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে অগ্রাধিকার খাতকে। এরও নিচের স্তরের লোকজন প্রয়োজনের সঙ্গে আপোষ করে অল্প খেয়ে পড়ে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টায় লিপ্ত।

এসবের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিখাতের চাহিদা ও ভোগব্যয়ের ওপর। দেশ থেকে উধাও হয়ে গেছে ভোক্তার অতিরিক্ত ভোগ প্রবণতা।

সরকারের মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ব্যক্তিপর্যায়ের ভোগ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে


নীতি বিবৃতিতে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিখাতের ভোগের যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, করোনার আগের দুই অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮ ও ২০১৯-এ যেখানে ব্যক্তিখাতে সার্বিক ভোগ ব্যয়ের সক্ষমতা সূচক ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থবছর ২০২০-এ সেই ভোগ ব্যয়ের সক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ করোনার পর প্রথম ধাক্কতাতেই ব্যক্তিখাতের ভোগ সক্ষমতা ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

অর্থবছর ২০২১ এর ভোগ সক্ষমতা সূচক এখনও পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্যুদস্ত অর্থনীতির মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কাও মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর প্রভাবে ব্যক্তিখাতের ভোগ ব্যয়ের সক্ষমতা সূচক আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

এর আগের তিন অর্থবছর ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ তে ব্যক্তিখাতের ভোগ সক্ষমতা সূচকের পরিমাপ ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে।

তবে করোনার এই সময়ে শুধু ব্যাক্তিখাতের ভোগই হ্রাস পায়নি, সরকারি ও বেসরকারি খাতেও ভোগব্যয়ের পরিমাণ কমে গেছে।

নীতি বিবৃতির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি খাতের ভোগ ব্যয় ছিল যেখানে ০.৪ শতাংশ, এবং ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ০.৫ শতাংশ, সেখানে এই ভোগ ব্যয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ০.৩ শতাংশে।

একইভাবে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ভোগ সক্ষমতা যেখানে ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০১৬-১৭ তে উন্নীত হয় ১ দশমিক ৭ শতাংশে। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই ভোগ সক্ষমতা যথাক্রমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নিত হলেও সেটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে নেমে এসেছে ১ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে করোনায় ভোগ সক্ষমতা কমে গেছে ০.৭ শতাংশ পর্যন্ত।

২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনা মহামারির শিকার হয় দেশ। এরপর যে দুঃস্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়, তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতির শুধু গলা চেপেই ধরা হয়নি, তা আয় ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক উৎসগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে। এতে দেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকার ভবিষ্যতও অনিশ্চত হয়ে পড়েছে।

ব্যক্তির ভোগ ৬ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে


কারণ সাময়িক বিরতি দিয়ে দফায় দফায় গত সোয়া এক বছর ধরে লকডাউনের সম্মুখীন দেশ। এতে দেশের শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সার্বিক উৎপাদন ও সেবার সরবরাহ ব্যাহত ও বিঘ্নিত হয়েছে। বিনিয়োগ ও আমদানি-রপ্তানিতে মন্দার কারণে দেশের গত কয়েক বছরের গতিশীল অর্থনীতি যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থান হারিয়ে আয় শূন্য হয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

অন্যদিকে করোনায় সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী মন্দার ঢেউও এই সময়ে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গুটিকয়েক পণ্য ছাড়া বেশিরভাগেই বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। করোনার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলসহ জীবনধারনে ব্যবহৃত সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। এসবের উত্তাপ এসে লাগে দেশের সার্বিক দ্রব্যমূল্যেও। এতে ব্যক্তির চাহিদা কমে যায় এবং ভোগব্যয়ের সক্ষমতাকে তলানিতে নামিয়ে দেয়।

ব্যক্তিখাতের এই ভোগ সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় কী – এমন প্রশ্নের জবাবে বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবার আগে আমাদের চাহিদাযোগ্য পণ্য ও সেবার যোগান বাড়াতে হবে। যোগান বাড়াতে হলে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতগুলোকে সচল করে তোলতে হবে।

‘আমদানির উৎস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। এসবের জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও পুণঃবিনিয়োগ দরকার। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। এই বিনিয়োগ বাড়লে বেসরকারিখাত চাঙ্গা হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান বাড়লে আয়ও বাড়বে। আর আয় বাড়লে মানুষের চাহিদা ও ভোগ ও বিলাসিতা সবটাই বাড়বে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২৩টি খাতে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার যে প্রণোদনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, তার সফল বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে। তখন মানুষের ভোগ সক্ষমতাও বাড়বে। এর জন্য আগামী দুই-এক বছর অপেক্ষা করতেই হবে।

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়াবে জ্বালানির নিরাপত্তা

গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়াবে জ্বালানির নিরাপত্তা

বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব খাত থেকে আসে ৭৪ শতাংশ। বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উৎপাদন নেমে আসবে মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে। আর আমদানি-নির্ভরতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ শতাংশে। তখন খরচ কমার চেয়ে উল্টো বাড়বে। এমন বাস্তবতায় দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধানের গৃহীত পদক্ষেপগুলো মোটেও যুগোপযোগী নয়। আবার বিকল্প জ্বালানি এলএনজি ও এলপিজি ব্যবহারের খরচও বেশি। এর ব্যবহার প্রবণতাও কম। এ পরিস্থিতিতে দেশে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম উপায় হতে পারে নতুন করে আরও বেশি হারে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান করা।

শনিবার ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের জ্বালানি উৎসের ভবিষ্যৎ: এলপিজি এবং এলএনজি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এই দাবি করেন।

তারা বলেন, এলপিজি ও এলএনজি হলো শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি। কিন্তু দেশে এর খরচ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় শিল্প খাতে এই জ্বালানির ব্যবহার মাত্র ১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দুই কারণে জ্বালানি ব্যবহার ও সরবরাহে এই সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবাহরের যৌক্তিক পরিকল্পনা হওয়া এবং অপরটি হলো সহনশীল দামে এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহ না দেয়া।’

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘সরকার ঘোষিত ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিল্প খাতের চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। একইভাবে এ খাতে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানোই হতে পারে ভবিষ্যতে শিল্প খাতে চাহিদামাফিক জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণের অন্যতম উপায়।

বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ও এলএনজি আমদানি এবং উৎপাদনের ওপরও আরও বেশি জোর দেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি জানান, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ মেটানো হয় এলপিজির মাধ্যমে। এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক পর্যায়ে গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে এলপিজি এবং এলএনজির চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টানরশিপের মাধ্যমে স্টোরেজ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব এলপিজি ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে একটি সমন্বিত টেকসই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘সরকার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ জকিগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সেখান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এর জন্য প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ঝুঁকি কম থাকায় বর্তমানে সবাই এলএনজি ব্যবসায় ঝুঁকছে। দেশে এলপিজির বাজার প্রায় ১২ লাখ টন। ২৯টি কোম্পানি স্থানীয় বাজারে এলপিজি অপারেটর হিসেবে কাজ করছে। তবে ৫৬টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছোট ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করায় খরচ বাড়ছে।

মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনালের কার্যক্রম চালু হলে এ খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাবে বলেও আশাবাদী তিনি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের গ্যাসের মজুত মাত্র ৬ টিসিএফ। সারা দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের কার্যক্রম দরকার ছিল, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি।’

তিনি জানান, বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাসের ৭৪ শতাংশ আসে নিজস্ব খাত থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উৎপাদন নেমে আসবে মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে। আর আমদানি-নির্ভরতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ শতাংশে। তখন খরচ কমার চেয়ে উল্টো বাড়বে। এমন বাস্তবতায় দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

মূল প্রবন্ধে পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) খন্দকার সালেক সুফী বলেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে নেয়া পদক্ষেপসমূহ যুগোপযোগী নয়। অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ৩০তম স্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় সহনশীল দামে এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এর জন্য অবকাঠামো উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস্য থেকে আসবে। যেখানে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশই নবায়নযোগ্য খাত হতে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান আমের আলী হোসেন বলেন, জ্বালানির জন্য শুধু একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন খাত থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও একই সঙ্গে জ্বালানির বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেয়া জরুরি।

তিনি বাপেক্সকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার বলেও মত দেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন এম শামসুল আলম বলেন, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের স্বার্থে প্রাকৃতিক গ্যাসকেই আরও বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তৈরি পোশাক খাতে এলপিজি ও এলএনজি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তবে পোশাক খাত এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার

বাংলাদেশি গাছে সবুজ হচ্ছে মরুর কাতার

বিজরা এন্টারপ্রাইজের সিইও জানান, কাতারের দোহায় অবস্থিত আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং নামের একটি নার্সারি এই চারাগুলো বাংলাদেশ থেকে আমদানি করছে। চালানটিতে রয়েছে আট প্রজাতির ৩ হাজার ৭৪৭টি চারাগাছ। এর মধ্যে মাল্টার ৭৯৫টি, জামরুলের ১৫২, লেবুর ৯৫০, নিমের ১ হাজার ২৮০, বটের ৪০, সফেদার ৩২০, কাঠবাদামের ১৭০ এবং বাবলার ৪০টি চারা রয়েছে।

সমুদ্রপথে প্রথমবারের মতো গাছের চারা রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ১১ জুন উপসাগরীয় আরব দেশ কাতারে জাহাজে চারাগাছের প্রথম চালানটি গেছে। আগামী ৩০ জুন কাতারে পৌঁছাবে চারাগুলো।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিজরা এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শামসুল ইসলাম শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘মার্কস শিপিং লাইনের একটি জাহাজ গত ১১ জুন রপ্তানি করা চারাগুলো নিয়ে কাতারের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে গেছে। আগামী ৩০ জুন এসব চারা কাতারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’

এর আগে ২০১৯ সালে কার্গো বিমানে করে কাতারে চারা পাঠান তিনি।

শামসুল ইসলাম জানান, কাতারের দোহায় অবস্থিত আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং নামের একটি নার্সারি এই চারাগুলো বাংলাদেশ থেকে আমদানি করছে। চালানটিতে রয়েছে আট প্রজাতির ৩ হাজার ৭৪৭টি চারা গাছ। এর মধ্যে মাল্টার ৭৯৫টি, জামরুলের ১৫২, লেবুর ৯৫০, নিমের ১ হাজার ২৮০, বটের ৪০, সফেদার ৩২০, কাঠবাদামের ১৭০ এবং বাবলার ৪০টি চারা রয়েছে।

চালানটির শিপমেন্টে নিয়োজিত ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান সেভারেল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিজরা এন্টারপ্রাইজ ওই সব চারা দুটি ট্রাকে করে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর সেগুলো পতেঙ্গার ইস্টার্ন লজিস্টিক ডিপোতে রাখা হয়। পরে একটি ৪০ ফুটের হিমায়িত কনটেইনারে চারাগুলো লোড করা হয়। কাস্টমস ক্লিয়ারিং শেষে গত ১১ জুন চারাগুলো নিয়ে জাহাজ রওনা দেয়।’

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এর আগে কার্গো বিমানে করে বিদেশে চারা রপ্তানি হয়েছে। তবে এবারই প্রথম বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে চারাগাছের একটি চালান কাতারে রপ্তানি হলো।’

এই উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের রোগতত্ত্ববিদ সৈয়দ মুনিরুল হক বলেন, ‘কাতারে রপ্তানি করা চারাগুলো দুই দফায় পরীক্ষা করা হয়েছে। চারাগুলো সুস্থ, মাটি মুক্ত অবস্থায় স্টেরিলাইজড কোকো পিটে শিকড় গজানো অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী চারায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। ওই গাছ রপ্তানির জন্য একদম নিরাপদ।’

বিজরা এন্টারপ্রাইজের সিইও শামসুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে জানতে পারি কাতারের আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গাছের চারা আমদানি করে। এর পরই ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ২০১৯ সালে আমি প্রথম রপ্তানি আদেশ পাই। প্রথমবারে দুই হাজার গাছ রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে কার্গো বিমানে চারা রপ্তানি করে অতটা লাভ হয়নি। এরপরও রপ্তানি বন্ধ করিনি। পরে ওই প্রতিষ্ঠানকে সমুদ্রপথে চারা নেয়ার প্রস্তাব দিলে তারা সেটিতে রাজি হয়।’

নতুন নতুন পণ্য রপ্তানিতে যোগ হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

চিটাগং চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রপ্তানিতে নতুন নতুন পণ্য যোগ হওয়া দেশের জন্য ইতিবাচক। আগে বাংলাদেশ থেকে শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। আশা করি, গাছের চারা রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।’

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ ভালো: সালমান রহমান

পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ ভালো: সালমান রহমান

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান

‘পুঁজিবাজারে এখন নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনা হচ্ছে। নতুন নতুন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগে শেয়ার দরের প্রান্তসীমা বা ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে, আরও নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ ভালো দেখছি।’

দেশের পুঁজিবাজারের দারুণ ভবিষ্যৎ দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

পুঁজিবাজার নিয়ে সব সময় আলোচনায় থাকা এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেছেন, ‘নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছরে পুঁজিবাজারের অনেক উন্নতি হয়েছে। নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনা হচ্ছে।’

শনিবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এর বিষয় ছিল ‘বাজেট-পরবর্তী আলোচনা ও পুঁজিবাজারে উন্নয়নের পথ’।

সেমিনারে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়াসহ নানা পরামর্শ উঠে আসে।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সেমিনারে যেসব বিষয় আলোচনা হয়েছে, সবগুলোর পেছনে যুক্তি আছে। প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট এ মাসের শেষে পাস হবে। আমি চেষ্টা করব যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করার।’

করোনাকালীন দেশের বিনিয়োগ চাঙা করতে বাজেটে করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে কর সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। আবার সরকারকেও রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে। বাজেটে সব সময় এ বিষয়টির ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।’

এই ভারসাম্যের জন্যই পুঁজিবাজারের জন্য কর ছাড়ের সব দাবি ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেভাবে গ্রহণ করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ ভালো: সালমান রহমান
পুঁজিবাজারে লেনদেন আগের চেয়ে এখন অনেক বেড়েছে। ফাইল ছবি

গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছরে বাজারে সূচক বেড়েছে দেড় হাজার পয়েন্টের বেশি। লেনদেন বেড়ে হয়েছে তিন গুণ। গত এক মাস ধরে প্রতিদিনই গড় লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। এ অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ে দীর্ঘদিনের হতাশা দূর হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘গত এক বছরের বিএসইসি নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনারা যেভাবে কাজ করছেন, তাতে পুঁজিবাজারে আস্থা অনেক বেড়েছে। তারা বন্ড মার্কেট নিয়ে কাজ করছেন। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।

‘ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য ব্যাংকে যান, কিন্তু পুঁজিবাজারে যদি বন্ড মার্কেট সক্রিয় হয়, তাহলে ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক কমে আসবে। আর শুধু ব্যবসায়ীরা নন, সরকারও বন্ড মার্কেট থেকে অর্থের সংস্থান করতে পারবে।‘

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে এখন নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনা হচ্ছে। নতুন নতুন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগে শেয়ার দরের প্রান্তসীমা বা ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে, আরও নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ ভালো দেখছি।’

পুঁজিবাজার যত ভালো হবে, ততই এর সঙ্গে সম্পৃক্তদের দায়িত্ব বেড়ে যাবে উল্লেখ করে সালমান বলেন, ‘মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকার হাউস, ডিএসই, সিএসই তাদের পুঁজিবাজারের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পুঁজিবাজারের সঙ্গে আরো সম্পৃক্ত হতে হবে।’

সেমিনারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমানো হয়েছে, যা ভালো সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বাড়বে।’

পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ ভালো: সালমান রহমান
পুঁজিবাজারে লেনদেনে ব্যস্ত বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

তবে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে করের ব্যবধান ৭.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ থাকা উচিত বলে মত দেন তিনি।

সেই সঙ্গে চূড়ান্ত বাজেটে লভ্যাংশে দ্বৈত করহার প্রত্যাহার, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে বিশেষ করহারের বাইরে রাখার দাবি করেন বিএমবিএর সভাপতি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও।

উপস্থিত ছিলেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসাইন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সিএমজেএফের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন।

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

মোবাইল ব্যাংকিং: আঞ্চলিক রোল মডেল ‘নগদ’

মোবাইল ব্যাংকিং: আঞ্চলিক রোল মডেল ‘নগদ’

নগদ ভবিষ্যতে ‘গেম চেঞ্জারের’ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশে কয়েকবার ঘুরে এটা অনুভব করেছি যে, সামনের দিনে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে ‘নগদ’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক বড় ধরনের সম্ভাবনা আছে: নেপালের ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম লিমিটেডের ইন্টার্ন সিইও সঞ্জীব শুভ

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রথম সারির নেতারা।

তারা বলেছেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে থাকা মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আনতে নগদ রোল মডেলের ভূমিকা পালন করতে পারে।

সম্প্রতি এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এআইটি) ‘১১তম সিইও টক’ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি’ বিষয়ে ওয়েবিনারে আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নেতারা নগদ-এর উদ্ভাবন অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির গতি সঞ্চারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা তানভীর এ মিশুক ওয়েবিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, যদি বেসরকারি পর্যায়ে সঠিক যন্ত্রপাতি ও উদ্যোগ থাকে, তাহলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বে সরকার পিপিপি দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

তানভীর এ মিশুক জানান, ২০২২ সালের মধ্যে ৩৬০ ডিগ্রি আর্থিক সেবা দেয়ার জন্য ডিজিটাল ব্যাংক দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ওয়েবিনারে এআইটির স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের ডিরেক্টর ড. সান্দার ভেঙ্কটেশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন এআইটির নলেজ ট্রান্সফার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. নাভিদ আনোয়ার।

বাংলাদেশ রেটিং এজেন্সি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি নগদ-এর অবিশ্বাস্য অগ্রযাত্রা প্রত্যক্ষ করছেন এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ জগতে বেঞ্চমার্ক হিসেবে দেখছেন।

নেপালের ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম লিমিটেডের ইন্টার্ন সিইও সঞ্জীব শুভ বলেন, ‘বড় প্রতিষ্ঠানগুলো খুব কম সময়ের মধ্যে পড়ে যাবে। সেটা হতে পারে আগামী দশকের মধ্যে। আর এই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করবে এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে ডিজিটাল স্টার্টআপগুলো।’

নগদ ভবিষ্যতে ‘গেম চেঞ্জারের’ ভূমিকা পালন করবে বলেও মনে করেন তিনি। জানান, বাংলাদেশে কয়েকবার ঘুরে তিনি এটা অনুভব করেছেন যে, সামনের দিনে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নগদ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক বড় ধরনের সম্ভাবনা আছে।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর উইরাকুন বিজয়াবর্ধনে, বাংলালিংকের সাবেক চিফ কমপ্লেইন্ট অফিসার এম নুরুল আলম, শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিপিএ করুণাতিলক ওয়েবিনারে অংশ নেন এবং উদ্ভাবন ও বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য তানভীর এ মিশুকের প্রশংসা করেন।

তারা সবাই বলেছেন, নগদকে অনুসরণ করে আরও অন্যান্য দেশে এমন মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।

নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘শুরুর দিকে আমরা আমাদের অংশীদারের কাছ থেকে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছি। পরবর্তী সময়ে তারাও আমাদের সহযোগিতা করেছে এবং সরকারের আন্তরিক সাহস পেয়ে আমরা প্রতিবন্ধকতা জয় করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ডাক বিভাগ একটি লস প্রোজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। পরে আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পার্টনারশিপ করি। প্রথম দিকে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিন্তু আমি জানি ডাক বিভাগের অবকাঠামো দিয়েই একটা পার্থক্য তৈরি করা সম্ভব।’

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা নগদ এখন দেশের অন্যতম সেরা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)।

ইতোমধ্যে সফল একটি ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে নগদ সর্বজন স্বীকৃত। আর প্রযুক্তিগত দক্ষতাই এর অন্যতম কারণ। যার ফলে খুব অল্প সময়ে নিজেদের এই অবস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যাত্রার দুই বছরের মাথায় দেশের এক নম্বর ডাউনলোড অ্যাপের স্থানটিও দখল করে নগদ।

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় বিএসইসি

পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় বিএসইসি

বিএসইসি চেয়াম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে উত্থান, তার পেছনে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট প্রস্তাব করার দিন তিনি বলেন, পুঁজিবাজার চাঙা হয়েছে কালো টাকায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রাখার সুপারিশ করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়াম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

শনিবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘বাজেট পরবর্তী আলোচনা ও পুঁজিবাজারে উন্নয়নের পথ’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে যেন পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধাটি রাখা হয়।’

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে উত্থান, তার পেছনে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট প্রস্তাব করার দিন তিনি বলেন, পুঁজিবাজার চাঙা হয়েছে কালো টাকায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক বছর লকইনসহ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের আওতায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১১ জন করদাতা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

এই বিনিয়োগ থেকে সরকার ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৮ টাকা আয়কর পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী হয়েছে।

আগামী অর্থবছরেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে, এটা অর্থমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ফলে পুঁজিবাজারে আগের মতো এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

এমন অবস্থায় সেদিনই বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। প্রস্তাবিত বাজেটের পর দিন অর্থমন্ত্রীর নিয়মিত বাজেট বিষয়ক সংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, অপ্রদশিত অর্থের বিষয়ে আরও এক মাস পর্যালোচনা করা হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বলা হয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১৯ (এ) ধারা যুক্ত করে ১০ শতাংশ কর পরিশোধ সাপেক্ষে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। ফ্ল্যাট-প্লট ও রিটার্নে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে।

শনিবারের সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারি ছুটির দিনেও আমি ঢাকার বাইরে অফিসের কাজেই ব্যস্ত আছি। ফলে বেশি আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছি না।

‘বন্ড ও সুকুক নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই। প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর হার আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে, এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

বিএসইসি চেয়ারম্যানের মতে, সব মিলিয়ে এবারের বাজেট হচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাজেট। সরকারের সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে যেসব উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে তার সবই আছে বলে মনে করেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেট একটি ফিসক্যাল পলিসি। এটি রাষ্ট্রীয় দর্শন। এখানে একটি বিষয়কে চিন্তা করা হয় না, রাষ্ট্রের সব দিক নিয়ে বিবেচনা করা হয়।

‘প্রস্তাবিত বাজেটে আপনাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা আছে, আমাদের পার্টে যেগুলো আছে সেগুলো আমরা বিবেচনা করছি। আমাদের ইন্টার এজেন্সি রিলেশনশিপ আরও গভীর ও কার্যকর করতে হবে। সেটি আগের তুলনায় অনেক সমন্বয় হয়েছে। আমরা সেটি নিয়েও কাজ করছি। সুকুক ও বন্ডের অনেকগুলো আবেদন আছে আমাদের কাছে, সেগুলোর পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

মিউনিসিপাল বন্ড নিয়েও বিএসইসি কাজ করছে বলে জানালেন শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। জানালেন, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসাইন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সিএমজেএফ সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিএমজেএফ সাধারণ সম্পাদিক মনির হোসেন।

আরও পড়ুন:
টিসিবির চিঠি পেয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যার হুমকি
প্রণোদনার গ্যারান্টির পেঁয়াজবীজে সর্বস্বান্ত কৃষক
পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
ভারতীয় পেঁয়াজে চিন্তার ভাঁজ চাষির কপালে
হিলিতে ভারতের পেঁয়াজ, একদিনে দাম কমল ১০ টাকা

শেয়ার করুন