পুঁজিবাজার: ২২০০ কোটি টাকা নিয়ে বসে ব্যাংক

পুঁজিবাজার: ২২০০ কোটি টাকা নিয়ে বসে ব্যাংক

পুঁজিবাজারের জন্য ৪১ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। আর ২০টি ব্যাংক এখনও তহবিল গঠন করেনি। এর মধ্যে ২৭ ব্যাংক বিনিয়োগ করেছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। হাতে আছে এখনও ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে বিশেষ তহবিল করেছে, তার একটি বড় অংশ এখনও বিনিয়োগ করা হয়নি।

ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা করে তহবিল গঠনের অনুরোধ করলেও সবাই এই পরিমাণ তহবিল করেনি। আর যে তহবিল গঠন হয়েছে, তার মধ্যে বিনিয়োগও হয়নি বেশির ভাগ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, পুঁজিবাজারের জন্য ৪১ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। আর ২০টি ব্যাংক এখনও তহবিল গঠন করেনি।

এর মধ্যে ২৭ ব্যাংক বিনিয়োগ করেছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। হাতে আছে এখনও ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ব্যাংকগুলোতে যে পরিমাণের তহবিল গঠন হয়েছে, তার মাত্র ৪০ শতাংশ বিনিয়োগে এসেছে।

শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো অতিমাত্রায় সতর্ক। আর বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে কোনো চাপ দিচ্ছে না। কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তারা কোনো ব্যাংককে বাধ্য করতে পারেন না। এ জন্য ব্যাংকগুলোর বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তারা। তবে পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। এই অবস্থা স্থায়ী হলে ব্যাংকগুলো নিজেরাই শেয়ার কিনবে।

সূচকের সঙ্গে বাড়ছে তহবিল-বিনিয়োগ

গত দুই মাসে পুঁজিবাজারে সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে তহবিল ও বিনিয়োগের পরিমাণ।

গত মার্চ পর্যন্ত ২৬টি ব্যাংক ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করে। সে সময় বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্ট থেকে পুঁজিবাজারে টানা উত্থান চলতে থাকে জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাজার যায় সংশোধনে। ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর দিন থেকে আবার শুরু হয় উত্থান।

৩১ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৬০২ পয়েন্ট। সেখান থেকে সূচক সাড়ে পাঁচ শ পয়েন্ট বেড়ে এখন হয়েছে ৬ হাজার ৫৩ পয়েন্টে।

শেয়ারের দর বৃদ্ধির এই সময়টিতে গত আড়াই মাসে বিশেষ তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। আর এ সময়ে বিনিয়োগও বেড়েছে ৩৬৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে একটা সুবিধা দেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য। এটা ব্যাংক ইচ্ছামতো করতে পারবে। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি সাপোর্ট আছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারও রয়েছে। কোনো ব্যাংক আমাদের কাছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অনুমতি চাইলে আমরা অনুমতি দিই।’

তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতেই হবে, বিষয়টি এমন নয়।

মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সব পলিসি মেনেই তারা বিনিয়োগ করেছে এবং করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেয়া হয়নি।’

কোন ব্যাংকের কত টাকার তহবিল

সবচেয়ে বেশি ২০০ কোটি টাকার তহবিল করেছে আটটি ব্যাংক। এগুলো হলো সোনালী, জনতা, অগ্রণী, ওয়ান, ইউসিবি, এনসিসিবিএল, ইসলামী ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

আর এই বিশেষ তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, আইএফআইসি, ইউসিবি ও রূপালী ব্যাংক।

বিশেষ তহবিল গঠন করেছে এক্সিম, সিটি, রূপালী, পূবালীসহ আরও ১৯ ব্যাংক। তবে সবগুলোর নাম এখন পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, যারা তহবিল গঠন করেছে, তাদের বেশির ভাগই ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে।

যা বলছে ব্যাংকগুলো

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণ দেয়ায় যেমন ঝুঁকি আছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগেও ঝুঁকি আছে। তবে এসব ঝুঁকি নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে।

‘এ ঝুঁকি আমাদের জন্য আশীর্বাদ, মুনাফা নিয়ে আসে। এগুলো নির্ভর করে প্রতিটি ব্যাংকের পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের ওপর। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংককেই নির্দ্বিধায় পুঁজিবাজারে আসা উচিত।’

রূপালী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শওকত জাহান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী মূলধনের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে। অন্য ব্যাংক কেন বিনিয়োগ করছে না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

তবে পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ার না বাড়িয়ে কেবল বিনিয়োগ বাড়ালে সেটি ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করেন এই ব্যাংকার।

তিনি বলেন, ‘ইস্যু (শেয়ার) না বাড়িয়ে যদি মানি ফ্লো বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে খারাপ শেয়ারগুলো অতিমূল্যায়িত হয়ে যাবে। তখন বিনয়োগকারীরা সমস্যায় পড়ে, পরে হতাশায় ভোগে।

‘বাজার অতিমূল্যায়িত হোক, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হতাশাগ্রস্ত হোক– এটা আমরা কখনও চাই না। ২০১০-১১ সালের মতো ঘটনা শেয়ারবাজারে হোক এটা চাই না। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, সরকারি কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসা উচিত।’

বিশেষ তহবিল কবে

২০২০ সালের শুরুতে পুঁজিবাজারের টানা দরপতন সামাল দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠন-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উৎস থেকেও এমন তহবিল গঠন করতে পারে।

ওই বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ব্যবহার করতে পারবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠন করা বিশেষ তহবিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে ব্যাংক, যা পুঁজিবাজারে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বর্ণিত বিনিয়োগ গণনার বাইরে থাকবে।

তহবিলের অর্থ শুধু পুঁজিবাজারের ২১৭টি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা যাবে, যা পুঁজিবাজারে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বর্ণিত বিনিয়োগ গণনার বাইরে থাকবে। ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির নিজস্ব নতুন পোর্টফোলিও গঠনের জন্য ঋণ হিসেবে তহবিলের ২০ শতাংশ দেয়া যাবে।

অন্য ব্যাংকের বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসের নিজস্ব নতুন পোর্টফোলিওর জন্য ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের নিজস্ব নতুন পোর্টফোলিও গঠনের জন্য তহবিলের ১০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয়া যাবে।

এই বিশেষ সুবিধায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের সুযোগ হয়।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এলডিসি উত্তোরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তোরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এফবিসিসিআই-এর নবনির্বাচিত নেতারা সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

এলডিসি উত্তোরণ পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ আসবে। এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনশি।

সচিবালয়ে সোমবার এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত পরিষদের ৪৫ সদসস্যের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করতে এলে বাণিজ্যমন্ত্রী এই পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে টিপু মুনশি বলেন, এলডিসিসি উত্তরণের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সেক্টরভিত্তিক সাব-কমিটি গঠন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে এফবিসিসিআই-এর প্রতিনিধি থাকবে। গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে এফবিসিসিআইকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে ভুমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আরও তৎপর থাকতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। সরকার এসব খাতে রপ্তানি বাণিজ্য দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এখানেও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী অর্থবছর আমরা ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে চাই। এজন্য দেশের রপ্তানিকারকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানায় এফবিসিসিআই। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও আলোচনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এম এ মোমেন, মো. আমীন হেলালী, সালাহউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবিব উল্লাহ ডন এবং এম এ রাজ্জাক খান সহ সংগঠনের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সুযোগ দিতে হবে, অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এফবিসিসিআই, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করার কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বাণিজ্য সংগঠনের কিছু নীতিমালা সংস্কার করার কথা জানান। এফবিসিসিআই ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করেন।

এছাড়া, সভায় ই-কমার্স, আইসিটি, শিপিং কস্ট, ঘরে ঘরে উদ্যেক্তা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এফবিসিসিআয়ের পরিচালকরা। তারা ব্যবসাবান্ধব পলিসি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

খুলনায় কেপিসিএলের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএলের দু্টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে শেয়ারধারীদের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা, তার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

উৎকণ্ঠার কারণ ছিল, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর অনুমোদন করবে না। আর এই নীতিতে অটল থাকলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারত।

কেপিসিএলের এই অনিশ্চয়তা নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও তৎপর হয়। কেন্দ্রগুলোকে যেন বিশেষ বিচেনায় অনুমোদন দেয়া হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে সুপারিশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেন সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

নিউজবাংলা গত ১৯ মে বিশেষ শর্তে কেপিসিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ ছিল, বাড়তি মেয়াদে তারা কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ, অর্থাৎ বিদ্যুৎ কেনা না হলে সরকার কেন্দ্র বসিয়ে রেখে যে অর্থ দেয়, সেটি দেবে না।

পরে বিএসইসি চেয়ারম্যান নিজেও নিউজবাংলাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছিল না। আর এ কারণে শেয়ার মূল্যও ক্রমেই কমছিল।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

তবে মন্ত্রণালয় থেকে ফিরতি চিঠি এসেছে কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে কবে থেকে কেন্দ্রগুলো আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে এসএসএস পাঠিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি জবাব দেননি।

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও বিষয়টি জানেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যে পাওয়ার প্লান্টগুলো আছে সেগুলো যে অনুমোদন হয় সেদিকে আমরা শুরু থেকেই নজর রাখছি। প্লান্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীগের স্বার্থে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হতে যাওয়া প্লান্টগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম।’

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন কেপিসিএল অনুমোদন পাবে

সম্প্রতি নিউজবাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সরকারের সাথে একটু নেগোসিয়েশন পর্যায়ে আছি। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট-এ রকম একটা ব্যবস্থাপনায়। এটা হলে লিস্টেড কোম্পানিগুলো কিছুটা বেনিফিট পাবে। তাদের যতটুকু বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ততটুকুর জন্য পেমেন্ট পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎকে এ ধরনের কোম্পানি অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে অংক কষে নেব। যেন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অগ্রগতি জানতে কোম্পানি সচিব আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে কথা হয় কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সোহরাব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে পত্রিকা পড়ে জেনেছি। পত্রিকায় সংবাদ যেহেতু এসেছে, নিশ্চয় এর একটি গ্রাউন্ড আছে। শুধু শুধু তো আর নিউজ হয় না।’

কেপিসিএল ছাড়াও অনুমোদন পাচ্ছে আরও কয়েকটি

এই সুবিধা কেপিসিএল ছাড়াও সামিট পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মার সাবসিডিয়ারি ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট ও ডাচ বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড এসোসিয়েটসও পাচ্ছে।

এর সামিট পাওয়ারের ১০২ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে গত ৩১ মার্চ। আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বছরের শেষে। তবে এই দুটি একেবারেই ছোট কেন্দ্র। একটি সাড়ে ১৩ মেগাওয়াটের, একটি ২৪.৩০ মেগাওয়াটের।

এ ছাড়াও ওরিয়ন ইনফিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে আগামী ২০ জুলাই। মধ্যে ডাচ বাংলা পাওয়ারের মেয়াদ শেষ হবে জুলাই মাসে।

বিএসইসি চেষ্টা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি কেপিসিএল-এর দুটি প্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ থেকেই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত ২৩ মার্চ বিএসইসি কার্যালয়ে ডাকা হয় কেপিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তারা বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর গত ১৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানকে চিঠি দেয় বিএসইসি। এতে দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে কেপিসিএল যে আবেদন করেছে, সেদিক বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজার থেকে বিভিন্ন সময় মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
খুলনায় কেপিসিএলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

এ পরিস্থিতিতে খুলনা পাওয়ার কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অর্থ লভ্যাংশ থেকে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত আসেনি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কমিশন উদ্বিগ্ন। তাই কেপিসিএলসহ অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির পিপিএ চুক্তি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য অনুরোধ করে কমিশন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও। তার বক্তব্য শুনে তিনি মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। আর তিনিই বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ‘নো পে নো ইলেকট্রিসিটির’ ভিত্তিতে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান।

কেপিসিএল আদ্যোপান্ত

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয় গড়ে ২১১ টাকায়। এটি যে মেয়াদী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধারণা ছিল না।

কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মোট তিনটি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে।

এরপর থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে লভ্যাংশ পেয়ে আসছে বিনিয়োগকারীরা। এই দুটির মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১ এর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। আর ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

গত ২০ মে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে।’

মেয়াদ শেষে কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চেষ্টা তদবিরের কতটা আগাল, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
কেপিসিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র

তিনটি কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কোম্পানির মালিকানায় এখন আছে কেবল সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা।

পটুয়াখালী জেলার খলিসাখালী এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনবে আগামী ১৫ বছর। এটি উৎপাদন শুরু করেছে গত ১৮ জানুয়ারি।

গত ৩১ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯.২ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২০.৫১ শতাংশ শেয়ার। আর দশমিক ৩০ শতাংশ আছে বিদেশীদের হাতে।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

জাপানে টয়োটা গাড়ির কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের এমন আগ্রহে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণে মুভমেন্ট হচ্ছে, কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে আমরা শুধু ইমপোর্ট করব, সেটা না। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরও কিছু ডেভেলপ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি করতে চায় জাপান। দেশটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশে অটোমোবাইল শিল্পে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জন, উৎপাদন এবং এ শিল্পের বিকাশে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। তাই শিল্প মন্ত্রণালয়ের আনা ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২১’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভা বৈঠক। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশে গাড়ি উৎপাদনের বিষয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত একটা প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘তারা জাপানের একটা বিখ্যাত কোম্পানির গাড়ি এখানেই প্রডিউস করতে চান।’

জাপানের এমন আগ্রহে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণে মুভমেন্ট হচ্ছে, কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে আমরা শুধু ইমপোর্ট করব, সেটা না। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরও কিছু ডেভেলপ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

ইতিমধ্যে এ খাতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘অনেক কিছু অলরেডি চালু আছে। সেটাকে সিস্টেমেটিক ওয়েতে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সে জন্য তারা (শিল্প মন্ত্রণালয়) এই অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে আসছে।’

নীতিমালার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘অটোমোবাইল, যন্ত্র উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশীয় শিল্পকে বিকশিত করা। স্থানীয় অটোমোবাইলের উৎপাদনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগ সুযোগ বৃদ্ধি করা। যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের মডেল ও গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ হয়।’

স্থানীয় ডিজাইন তৈরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলাকৌশলের উৎকর্ষতা অর্জনে অটোমোবাইল খাতে গবেষণা ও উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

রাষ্ট্রায়াত্ব রূপালী ব্যাংকের কার্যালয়

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

গত তিন কার্যদিবসে ৩১ শতাংশ দর বৃদ্ধির মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব একমাত্র ব্যাংক রূপালীর লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভার তারিখ জানানো হলো।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে আগামী সোমবার লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা করবে ব্যাংকটি।

এখন কেবল ন্যাশনাল ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাকি আছে।

এরই মধ্যে ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে একটি কেবল বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও একটি ব্যাংক আজ রাতেই সভা করবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ক্লোজিং বা আর্থবছর শেষে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড সভার করার নিয়ম থাকলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও এক মাস বাড়তি সময় দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ফলে নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যে ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের কোম্পানিগুলোর অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সভায় লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে।

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

এই দামে হাতবদল হয় মোট চার লাখ ৭ হাজার ৫১টি শেয়ার। লেনদেন ছিল এক কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার টাকা।

গত ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা প্রত্যাহারের দিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা ৪০ পয়সা।

৪ মে এক পর্যায়ে দাম কমে ২২ টাকা ১০ পয়সা। সেদিন থেকেই দাম বাড়তে থাকে।

তবে ২৭ মে ৩১ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পর ব্যাংক খাতে যে দর সংশোধন শুরু হয়, তাতে পড়ে যায় রূপালী ব্যাংক। এক পর্যায়ে ৯ জুন দাম কমে হয়ে যায় ২৮ টাকা।

১০ জুন ২ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ার সুযোগ থাকলেও বাড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা। অথচ সেদিন ব্যাংক খাতের প্রায় সব কটি কোম্পানি দর হারায়।

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ
গত তিন কার্যদিবসে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

আর রোববার ব্যাংক খাতের ৩১টি কোম্পানির দর হারানোর মধ্যে উজ্জ্বল ছিল রূপালী ব্যাংকই। আর সোমবার এ খাতের ২০টি ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়লেও রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

সেদিনও কেবল একটি দাম ৩৩ টাকা ৭০ পয়সায় পাঁচ লাখেরও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়।

ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর তিনি ইতোমধ্যে কাজে যোগদান করেছেন। যোগদান করেই বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করেছেন। রূপালী ব্যাংককে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হঠাৎ আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ চেয়ারম্যান যোগদান করার পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা।

গত বছর ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেও তা দিতে পারেনি ব্যাংকটি। এবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতিমালার কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলে একটি অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এর পর থেকেই ব্যাংকটির শেয়ার দর হারাতে থাকে।

তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশ ঘোষণায় এবার কোনো বাধা নেই।

গত ১ এপ্রিল ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দুই মাসের মতো শূন্য ছিল পদনি। ৩০ মে নিয়োগ দেয়া হয় হাজী সানাউল হককে। তিনি কাজে যোগ দেন দুই এক দিন পর। লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ে চেয়ারম্যানের পদ ফাঁকা থাকার কারণেই মূলত এই বিলম্ব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

৪৩ টাকা দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রামের নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের নাসির উদ্দিন।

আগ্রাবাদে সৈকত সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) লটারি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন।

গত ২৯ মে নগরের হোটেল গোল্ডেন ইনে অবস্থান করেন নাসির উদ্দিন। তখন ৫০০ টাকা রুম ভাড়ার সঙ্গে ৪৩ টাকা ভ্যাট দেন তিনি।

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

ভ্যাট কমিশনার বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ভ্যাট দেয়া। ইএফডি চালান পেলেই বুঝবেন ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।’

এবার চট্টগ্রামে ১৬ জন পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে আগ্রাবাদ ডিভিশন থেকে ১৩ জন, চান্দগাঁও একজন, পটিয়া একজন, চট্টলা থেকে একজন পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

মুজিববর্ষে জামানাতহীন ঋণ ৯০১ কোটি টাকা

মুজিববর্ষে জামানাতহীন ঋণ ৯০১ কোটি টাকা

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ জন বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু যুবঋণ কার্যক্রমের আওতায় জামানতবিহীন ৯০১ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হাবিব হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ জন বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবকদের জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ৩১ হাজার ৩৯ ঋণগ্রহীতাকে ৮ হাজার ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন

৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য না নিলে নিলাম

৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য না নিলে নিলাম

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ‘যেকোনো পণ্য চালান যত দ্রুত খালাস নেয়া যায়, ততই সকলের জন্য মঙ্গল। কারণ কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিদেশ থেকে কেনেন নিজের প্রয়োজনে। কিন্তু সেটি দিনের পর দিন বন্দরের ইয়ার্ডে রেখে দেয়া উচিত নয়। তাই দ্রুত খালাস নেয়ার জন্য আমরা তাগাদা দিয়েছি।’

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগে ৪৫ দিনের মধ্যে আমদানি করা পণ্য খালাস নেয়ার বিধান থাকলেও এখন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালাস নিতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। অন্যথায় এ চালান নিলামযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।

আদেশসংক্রান্ত একটি চিঠি রোববার সকল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট ও বন্দর ব্যবহারকারী সংস্থার কাছে পাঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর দিয়ে কোনো পণ্য চালান আনা হলে তা ২১ দিনের মধ্যে খালাস করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কাস্টমস আইন অনুযায়ী কাস্টমস হাউস অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়সীমার মধ্যে শুল্ক-কর পরিশোধ করে পণ্য চালান খালাস নিতে হবে। অন্যথায় এ চালান নিলামযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।

এই আইন লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ও পোর্ট চার্জ যাতে না দিতে হয়, এই জন্য পণ্য চালান দ্রুত খালাস নিতে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ‘যেকোনো পণ্য চালান যত দ্রুত খালাস নেয়া যায়, ততই সকলের জন্য মঙ্গল। কারণ কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিদেশ থেকে কেনেন নিজের প্রয়োজনে। কিন্তু সেটি দিনের পর দিন বন্দরের ইয়ার্ডে রেখে দেয়া উচিত নয়। তাই দ্রুত খালাস নেয়ার জন্য আমরা তাগাদা দিয়েছি।’

এদিকে, পণ্য চালানের জন্য আগে ৪৫ দিনের মধ্যে খালাস নেয়ার নিয়ম ছিল। বিমানবন্দরে এ ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল ৩০ দিনের।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, ‘কোনো একটা পণ্য চালানে দীর্ঘসূত্রতা হতে পারে, যেমন ফাইল যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে যায় তখন অনেক সময় লাগে। তখন দেরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনার জন্য কাস্টমস কমিশনারের কাছে আমরা অনুরোধ করেছি।’

আরও পড়ুন:
কালোটাকায় চাঙা পুঁজিবাজার: অর্থমন্ত্রী
বাজেট: পুঁজিবাজারে বাড়তে পারে লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে ‘ছয় হাজারের যুদ্ধ’, উত্থানে ফিরল ব্যাংক
ব্যাংকের ঢালাও পতন, বিমায় উত্থান
টিকার অনিশ্চয়তায় দর হারাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শেয়ার করুন