× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
hear-news
player
google_news print-icon

আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

আরও-৩০-কোম্পানির-ফ্লোর-প্রাইস-প্রত্যাহার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন দেখছেন একজন বিনিয়োগকারী। ছবি: নিউজবাংলা
রেনউইক যগেশ্বর, মুন্নু এগ্রো, বাটা শু, কোহিনুর ক্যামিকেল, নর্দার্ন জুট, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ওয়াটা ক্যামিকেল, সোনালী পেপার, এপেক্স ফুটওয়্যার, কে অ্যান্ড কিউ, বিডিঅটোকার, স্টাইলক্রাফট, জেমিনি সি ফুড, ইস্টার্ন কেবল, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটওয়্যার, মুন্নু সিরামিক, বঙ্গজ, সিভিও পেট্রো ক্যামিকেল, এটলাস, এপেক্স ট্যানারি, সমতা লেদার, ন্যাশনাল টিউব, আজিজ পাইপ, সিপার্ল, হাক্কানি পাল্প, ওরিয়ন ইনফিউশন, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, এসকেট্রিমস, ন্যাশনাল পলিমার, ডেফোডিল কম্পিউটার।

৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্য প্রত্যাহারের দুই মাসের মধ্যে আরও ৩০টি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি।

রোববার থেকে এসব শেয়ারের কোনো সর্বনিম্ন মূল্য থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাজেট পেশের দিন বৃহসপতিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব কোম্পানির দাম এক দিনে সর্বনিম্ন কমতে পারবে দুই শতাংশ। আর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই ৩০টি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে। এ জন্য এই ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হয়েছে।’

এখন পর্যন্ত মোট ৯৬টি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। বাকিগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাকি যেগুলো হচ্ছে, সেগুলোর লেনদেন হচ্ছে। যদি ফ্লোর প্রাইসে কোনো কোম্পানির শেয়ার আটকে থাকে, তাহলে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দ্বিতীয় ধাপে ৩০ থেকে ৩২টির ফ্লোর প্রাইস যে প্রত্যাহার হচ্ছে, সেটি বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বুধবারই জানান নিউজবাংলাকে। এ নিয়ে প্রতিবেদনও তৈরি করা হয় সেদিন।

তিনি জানান, ফ্লোর প্রাইস থাকবে না কোনো কোম্পানির। তবে একসঙ্গে তুলে নিলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এ কারণে ধাপে ধাপেই তুলে নেয়া হবে।

আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
যেসব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হলো

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই কোম্পানিগুলো একদিন পড়ে ছিল। লেনদেন হচ্ছিল না। যে বাটা শু এ বছর বিপুল পরিমাণ লোকসান দিয়েছে। কিন্তু এর ফ্লোর প্রাইস অনেক বেশি ধরা হয়েছে। এই দামে কেউ শেয়ার কিনতে রাজি হচ্ছিল না। আবার যারা উচ্চমূল্যে কিনেছে, তারাও কম দামে কিনে সমন্বয় করতে পারছিল না। এখন দাম কমলে তারা সেটা কিনতে আগ্রহী হতে পারেন।’

যেসব কোম্পানির ফ্লোর উঠে গেল

রেনউইক যগেশ্বর, মুন্নু এগ্রো, বাটা শু, কোহিনুর ক্যামিকেল, নর্দার্ন জুট, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ওয়াটা ক্যামিকেল, সোনালী পেপার, এপেক্স ফুটওয়্যার, কে অ্যান্ড কিউ, বিডিঅটোকার, স্টাইলক্রাফট, জেমিনি সি ফুড, ইস্টার্ন কেবল;

এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটওয়্যার, মুন্নু সিরামিক, বঙ্গজ, সিভিও পেট্রো ক্যামিকেল, এটলাস, এপেক্স ট্যানারি, সমতা লেদার, ন্যাশনাল টিউব, আজিজ পাইপ, সিপার্ল, হাক্কানি পাল্প, ওরিয়ন ইনফিউশন, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, এসকেট্রিমস, ন্যাশনাল পলিমার, ডেফোডিল কম্পিউটার।

ফ্লোর প্রাইস যেভাবে এলো

গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর শেয়ার দরে ধস ঠেকাতে সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয়া হয়।

শেয়ারের মৌলভিত্তি বা মুনাফা বিবেচনা না করে কেবল পাঁচ দিনের বাজার দরের ওপর ভিত্তি করে এই ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু কোনো একটি সময়ে একটি শেয়ারের দাম বেড়ে যেতে পারে। এটি কারসাজির কারণেও হতে পারে। সে সময়ও কিছু শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যায়। যে কারণে পরে এই সর্বনিম্ন মূল্যেও শেয়ার কিনতে রাজি হচ্ছিল না বিনিয়োগকারীরা।

আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
আগের ৬৬ কোম্পানির মতোই এই ৩৩ কোম্পানির শেয়ার মূল্যও একদিন সর্বোচ্চ দুই শাতংশ কমতে পারবে

ফলে ফ্লোর প্রাইসেও বিপুল সংখ্যক শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না। আর এই অবস্থায় বাজার সচল করতে গত ৭ এপ্রিল ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়।

পরদিন সব শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের মধ্যে বিএসইসি জানায় ফ্লোর প্রত্যাহার করা কোম্পানির দাম সর্বোচ্চ দুই শতাংশ কমতে পারবে। তবে বাজারে একদিন দাম কমতে পারে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

ফ্লোর প্রত্যাহারের পর এসব কোম্পানির শেয়ার মূল্য শুরুতে ব্যাপকহারে কমে আসলেও পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এই ৬৬ কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত, একটি পুঁজিবাজারে লেনদেন হয় না বললেই চলে। আর বাকি কোম্পানির মধ্যে প্রায় অর্ধেকের দাম এখন প্রত্যাহার করা ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে বেশি।

আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
প্রথম ধাপে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা ৬৬ কোম্পানি

যেগুলোর দাম এখন প্রত্যাহার করা ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে কম, সেগুলোর একটি বড় অংশ এক দিনেই আগের ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেতে পারবে।

কেবল দামের ক্ষেত্রে নয়, ফ্লোর প্রাইসে যেসব শেয়ারের লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে, সেগুলো এখন বেশ বড় পরিমাণেই হাতবদল হচ্ছে। এটিও পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়ার একটি কারণ।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ধাপে উঠছে ৩২ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
NBR will conduct a survey on tax exemptions on the advice of the IMF

আইএমএফের পরামর্শে ‘কর অব্যাহতি’ নিয়ে সমীক্ষা করবে এনবিআর

আইএমএফের পরামর্শে ‘কর অব্যাহতি’ নিয়ে সমীক্ষা করবে এনবিআর নভেম্বর মাসে আইএমএফ মিশন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন খাতে দেয়া কর অব্যাহতি সুবিধা কমাতে বলেছে। এখন সে পথেই হাঁটছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, আইএমএফ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে কর অব্যাহতি কমানো। নভেম্বর মাসে আইএমএফ মিশন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন খাতে দেয়া কর অব্যাহতি সুবিধা কমাতে বলেছে। এখন সে পথেই হাঁটছে সরকার।

কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়ার ফলে বছরে কী পরিমাণ রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে তার সঠিক তথ্য নেই। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ব্যাপকভিত্তিক কোনো গবেষণাও হয়নি। দীর্ঘ সময় পর সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর। মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শেই এই উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী আইএমএফ আগে থেকেই বলে আসছে যে বাংলাদেশে কর অব্যাহতি বেশি। এ সুবিধা কমিয়ে আনতে সরকারকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছে ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থাটি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, আইএমএফ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে কর অব্যাহতি কমানো। নভেম্বর মাসে আইএমএফ মিশন বাংলাদেশ সফরে আসার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন খাতে দেয়া কর অব্যাহতি সুবিধা কমাতে বলেছে। সরকার এখন সে পথেই হাঁটছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে কর অব্যাহতির বিষয়ে জনগণকে একটি ধারণা দেয়া হবে সংসদে উপস্থাপিত বাজেটের মাধ্যমে। এতে এই সুবিধা দেয়ার কারণে বছরে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, কোন কোন খাতে সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং সুবিধা দেয়ায় দেশের আর্থ-সামাজিক সুফল কতটুকু পাওয়া গেছে– এসব বিষয় তুলে ধরা হবে। তার আগে কর অব্যাহতির বিষয়ে ব্যাপকভিত্তিক সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি শুল্ক– এই তিন খাতে সুবিধা দেয়ার কারণে যে পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তা তুলে ধরা হবে সমীক্ষায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের নীতিনির্ধারকপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর অব্যাহতি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক একটি সমীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোন পদ্ধতিতে করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমীক্ষাটি এনবিআরের কর্মকর্তারাই করবেন। এ ক্ষেত্রে বিদেশি পরামর্শকের সহায়তা নেয়া হবে। নতুন বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হবে। প্রতিবেদন সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত এখন ৮ শতাংশ। যদি আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর ধরা হয়, তাহলে আরও কম। মাত্র আড়াই শতাংশ। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে এই অনুপাত ১৫ শতাংশের ওপরে।

বর্তমানে বাংলাদেশে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার প্রায় ৪০ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে কৃষি, রপ্তানি, শিল্প, সামরিক, রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন খাত কর হ্রাস, কর হার কম, কর অবকাশ, কর রেয়াতসহ নানা নামে সুবিধা ভোগ করছে। এসব সুবিধা দেয়ার পর যে পরিমাণ রাজস্ব আহরণ হয় তা খুবই কম।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদায়যোগ্য রাজস্বের বড় একটি অংশ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে কর ফাঁকির পরিমাণ বেশি।

সবশেষ গত অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা।

আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ও গবেষণা সংস্থা পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশে জিডিপির যে আকার তার সঙ্গে রাজস্ব আদায় সংগতিপূর্ণ নয়। অর্থনীতির আকার অনুযায়ী, বছরে রাজস্ব আদায় হওয়া উচিত কমপক্ষে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। বাকি টাকা আদায় হচ্ছে না। এটা এনবিআরের বড় ব্যর্থতা বলে মনে করি।’

এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘জিডিপির ভিত্তিতে ৭০ শতাংশ জাতীয় ব্যয় ধরে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, জিডিপিতে শিল্প, সেবা ও বেতন-ভাতা খাতের অবদান, আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং, মুদ্রা পাচার, কর ফাঁকি ইত্যাদি বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত হওয়া উচিত কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। অথচ তা আছে ৯ শতাংশ।’

আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ার জন্য প্রধানত এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করেন তিনি।

এনবিআর সূত্র বলেছে, আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে অব্যাহতি সুবিধা আছে। এর মধ্যে বেশি সুবিধা ভ্যাটে। কৃষি, কৃষিজাত শিল্প রপ্তানির প্রায় পুরোটাই ভ্যাটের বাইরে।

পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে। পোশাক আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে যেসব কাঁচামাল আনেন তাতে কোনো শুল্ক লাগে না। এ জন্য বন্ড লাইসেন্স দেয়া হয়। তবে শর্ত হচ্ছে, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আনার পর তা দিয়ে পোশাকপণ্য তৈরি করে রপ্তানি করতে হবে।

কিন্তু অনেক পোশাক কারখানার মালিক বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি সম্পদশালী বনে গেছেন বলে অভিযোগ আছে।

এনবিআরের ২০০৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু বন্ড সুবিধা বাতিল করলে এই খাতে বছরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। অবশ্য এই সুবিধা রোধে এনবিআর এখন বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশন করেছে। আগামী বছর থেকে এর সুফল মিলবে।

সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অংশীজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর বিভিন্ন সময় প্রজ্ঞাপন জারি করে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আয়কর খাতে নানাভাবে অব্যাহতি সুবিধা দেয়।

আয়করে প্রায় ৫৮টি খাতে কর অব্যাহতি দেয়া আছে। ভ্যাটে আছে প্রায় এক হাজার পণ্য। আমদানি পর্যায়ে শতাধিক এসআরও আছে, যার মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যরা বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‌্যাপিডের চেয়াম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কর অব্যাহতির ফলে বছরে ক্ষতি হচ্ছে জিডিপির আড়াই শতাংশ।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি ইআরএফ আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক খাতে কর সুবিধা দেয়ায় বছরে রাজস্ব ক্ষতি দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

যদিও এসব তথ্যের সঠিক ভিত্তি নেই। এজন্য বস্তুনিষ্ঠ একটি সমীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআরের করনীতি বিভাগ।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি এনালাইসিস ইউনিট আয়োজিত ‘ট্যাক্স এক্সপেনডিচার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে যে পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়, তা জিডিপির আড়াই শতাংশ। গোলাম মেযাজ্জেম ও লৎফুন নাহার বেগম যৌথভাবে গবেষণাটি করেন।

জানা যায়, কর অব্যাহতির বিষয়ে গত বছর একটি সাময়িক সমীক্ষা চালায় এনবিআর। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন খাতে অব্যাহতি দেয়ার ফলে প্রতি বছর রাজস্ব ক্ষতি হয় মোট জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এখন অন্যরাও ঋণ দেবে, সংকট কেটে যাবে
আইএমএফের শর্তকে সহজ বলছেন অর্থনীতিবিদরা
সংস্কার বাস্তবায়ন হলে রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক হবে: আইএমএফ
বাংলাদেশকে সাড়ে চার শ কোটি ডলার দিচ্ছে আইএমএফ
আইএমএফের ঋণ নেব, কঠিন শর্তে নয়: কাদের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of vegetables is high even in season

মৌসুমেও দাম চড়া সবজির

মৌসুমেও দাম চড়া সবজির কারওয়ান বাজারেও অনেকটা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। ছবি: নিউজবাংলা
শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি আমদানির শুরুর দিকে প্রতি পিস বিক্রি হতো ৬০ টাকায়। এখন সেটা ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাঁধাকপি এখনও ৫০ টাকার ওপরে। কোথাও ৫০ আবার কোথাও ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কমছে না দাম। ফুলকপি, মুলা, বেগুন ও পেঁপে ছাড়া ৫০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। শীতকালীন সবজির মৌসুমেও সবজির এমন দামকে চড়া বলছেন ক্রেতারা। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, দাম কমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আরও কয়েকটি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি আমদানির শুরুর দিকে প্রতি পিস বিক্রি হতো ৬০ টাকায়। এখন সেটা ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাঁধাকপি এখনও ৫০ টাকার ওপরে। কোথাও ৫০ টাকা পিস আবার কোথাও ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ক্রেতা নাসিমা চৌধুরী বলেন, ‘এখনও বাঁধাকপির দাম ৫০ টাকা! তাহলে দাম আর কোথায় কমল? শুধু শীতকালীন সবজি নয়, সব জিনিসের দামই বেশি।’

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৪০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, মরিচ ৪০ টাকা, টম্যাটো ১০০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়েছে।

এসব সবজির দাম গত ১৫ দিন আগেও যেমন ছিল তেমনই রয়েছে।

তবে বিক্রেতা শাওন দাবি করেন সবজির দাম কমেছে। তিনি বলেন, ‘পেঁপে, ফুলকপি- এগুলোর দাম তো কমছে, আর কত কমবে?’

মৌসুমেও দাম চড়া সবজির
অনেকটা চড়া দামেই কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনছেন ক্রেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আরেক বিক্রেতা আলী রিয়াজের দাবি সবজির দাম কমেছে। পটোল, বেগুনের মতো সবজির দাম কেন কমেনি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো শেষ হয়ে যাবে, মৌসুম শেষ, তাহলে কীভাবে দাম কমবে?’

কথা হয় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডাক্তার ফয়সাল ইমনের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও সেরকমভাবে দাম কমেনি। ফুলকপি ও শিম কিছুটা কমেছে, বাকি সব সবজির দামি অনেক বেশি।’

বিক্রেতা মো. বাদশা জানান, কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া আদার দাম কিছুটা কমে দেশি আদা ১০০ টাকা এবং চায়না আদা ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থেকে দেশি রসুন ৬০ এবং চায়না রসুন ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। এ ছাড়া অপরিবর্তিত থেকে ব্রয়লার ১৪৫ থেকে ১৫০, লেয়ার ২৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা ইয়াসিন।

আরও পড়ুন:
আবার বাড়ছে ডিমের দাম
কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণহীন
রাত ৮টার পর মার্কেট-দোকান বন্ধের নির্দেশ
কাঁচাবাজারে পড়েনি ধর্মঘটের প্রভাব

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh has moved to another level in business BSEC Chairman

ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশ অন্য লেভেলে চলে গেছে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশ অন্য লেভেলে চলে গেছে: বিএসইসি চেয়ারম্যান আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সামনে কঠিন সময়, এসডিজি ও ভিশন-২০৪১ পূরণ করতে হলে প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। আমাদের সাপ্লাই চেইনে সমস্যা আছে। এ সমস্যা দূর করা জরুরি।’

বাংলাদেশ এখন ব্যবসা-বাণিজ্যে অন্য লেভেলে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, নভেম্বরে রেকর্ড ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। আরও বাড়বে, বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। মাথাপিছু আয় তিন হাজারে চলে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড-২০২১ এর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সামনে কঠিন সময়, এসডিজি ও ভিশন-২০৪১ পূরণ করতে হলে প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। আমাদের সাপ্লাই চেইনে সমস্যা আছে। এ সমস্যা দূর করা জরুরি। গ্যাস-বিদ্যুতের স্মুথ সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। এ জন্য সব কিছুর উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে চাইলে সব আইটেমই কোয়ালিটি সম্পন্ন হতে হবে। বিদেশে যেগুলো যায় সেগুলোর মান নিয়ে কাজ করতে কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দরকার।’

তিনি বলেন, ‘কস্ট ম্যানেজমেন্টদের বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত করছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ভালোভাবে নিয়মমাফিক কাজ করলে এসব প্রতিষ্ঠান আরও ভালো হবে। এসব হবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।’

আইসিএমএবির গুরুত্ব উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের দুর্বল কোম্পানির বোর্ডে আইসিএমএবিকে সংযুক্ত করছি, যাতে করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভালো করতে পারে। এমনকি কিছু ভালো কোম্পানিতেও সংযুক্ত করছি, যাতে তারা আরও ভালো মুনাফা করতে পারে। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।’

প্রধান অতিথি থেকে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্যসচিব একটা তথ্য দিয়েছিলেন যে গত মাসে আমরা (বাংলাদেশ) রেকর্ড ৫.০৯ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছি। এখানে এসে আমি বিএসইসি চেয়ারম্যানকে বলার পর তিনি আমাকে আরেকটা তথ্য জানালেন, তা হলো গত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ২ বিলিয়ন ডলার।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘চারদিকে বলাবলি হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। আমরা পিছিয়ে যাব। আজ অনেকের কথা শুনেছেন৷ তাদের এগিয়ে যাওয়া ও স্বীকৃতির মাধ্যমে বোঝা যায়, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এগিয়ে যাব।’

যারা রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কথা ছড়াচ্ছেন, তারা জেগে থেকে ঘুমাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আইসিএমএবি আজকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেনি, নিজেরাও বড় হয়েছেন। আমি শুনেছি, আইসিএমএবি অনেক পুরস্কার পেয়েছে ও পেতে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, তারা নিজেদের শিক্ষার মান বাড়িয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
এপিআরসির দায়িত্ব নিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
সেরা সম্পদ ব্যবস্থাপনার পুরস্কার পেল শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
বন্ড মার্কেট অনেক ভালো করবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
বিএসইসির পুরস্কার পেল ১১ প্রতিষ্ঠান
‘কারসাজির’ প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Historically exports have earned more than 5 billion in 1 month on average

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ৫০৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ; রপ্তানি বাণিজ্যে এক মাসে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রাতে রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ৫০৯ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার (৫.০৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলার ১০০ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সরকারের ধরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নভেম্বর মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। এই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪৩৫ কোটি ডলার। গত বছরের নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪০৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মাসেই পণ্য রপ্তানি থেকে এতো বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসেনি। এমনকি ৫ বিলিয়ন ডলারও ছাড়ায়নি। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ৪৯০ কোটি (৪.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

রপ্তানি বাণিজ্যে এই রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। গত মাসে ৪৩৮ কোটি ডলারের বা ৪৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।

নভেম্বর মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

নভেম্বরে উল্লম্ফনের কারণে চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। অক্টোবর শেষে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। নভেম্বর শেষে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।

এক মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি দেশে আসায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমরা কল্পনাও করিনি এই কঠিন সময়ে এই মাইলফল অর্জিত হবে আমাদের। এটা আসলেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি আয় বাড়াটা খুবই দরকার ছিল। এখন রিজার্ভ আবার বাড়তে থাকবে। সরকারের পক্ষে চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে। আমরা সাহস পাবো।’

‘সবাই সম্মিলিতভাবে করোনার মতো যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটও আমরা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করবো’ আশা কথা শুনিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত (নতুন) বাজারেও আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা খুবই ভালো খবর যে, এই কঠিন সময়ে আমরা এক মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তান আয় দেশে এসেছে। এটা আসলে অব্যাহত রাখতে হবে। সেজন্য সরকারি-বেসরকারি খাত যে যার অবস্থান থেকে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এই ইতিবাচক ধারা যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে আর আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্সও কিছুটা বেড়েছে। আইএমএফের প্রথম কিস্তির ঋণটাও ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে রিজার্ভের উপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আর থাকবে না। কোভিডের মতো এই সংকটও মোকাবিলা করতে পারবো।’

এর আগে একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছিল এক বছর আগে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৪৯০ কোটি ৭৭ লাখ (৪.৯০ বিলিয়ন) ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এসেছিল চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৪৮৫ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার (৪.৮৫ বিলিয়ন) ডলার। মার্চে এসেছিল ৪৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ (৪.২৯ বিলিয়ন) ডলার।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ২ হাজার ১৯৪ কোটি ৬০ লাখ (২১.৯৪ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন দেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

২০২১-২২ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।

দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, যুদ্ধের কারণে আমাদের পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণে এখন সেখানকার মানুষদের খাদ্যের জন্য বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় কম দামি পোশাক তাদের কিনতেই হবে। আমরা প্রচুর কম দামি পোশাক রপ্তানি করি। সে কারণে আমার মনে হয় না যে যুদ্ধের কারণে আমাদের রপ্তানিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে।’

‘তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি’ জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকান ক্রেতারা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে অনেক অর্ডর আসছে। তাই আগামী দিনগুলোতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব রপ্তানি আয়ে পড়বে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি খুব একটা কমবে না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও দেশটির অর্থনীতিতে কোনো সংকট নেই। সে কারণে ওই দেশের লোকজন পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে এমনটা আমার কাছে মনে হয় না।

‘তবে যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেখানে আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ২ হাজার ১৯৪ কোটি ৬০ লাখ (২১.৯৪ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন দেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

২০২১-২২ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, যুদ্ধের কারণে আমাদের পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণে এখন সেখানকার মানুষদের খাদ্যের জন্য বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় কম দামি পোশাক তাদের কিনতেই হবে। আমরা প্রচুর কম দামি পোশাক রপ্তানি করি। সে কারণে আমার মনে হয় না যে যুদ্ধের কারণে আমাদের রপ্তানিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে।’

‘তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি’ জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকান ক্রেতারা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে অনেক অর্ডর আসছে। তাই আগামী দিনগুলোতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব রপ্তানি আয়ে পড়বে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি খুব একটা কমবে না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও দেশটির অর্থনীতিতে কোনো সংকট নেই। সে কারণে ওই দেশের লোকজন পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে এমনটা আমার কাছে মনে হয় না।

‘তবে যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেখানে আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

৮৩.৫৩ শতাংশই এসেছে পোশাক থেকে

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই খাত থেকে আয় বেশি এসেছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে প্রায় ৮৩ দশমিক ৫৩ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। যার মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ১০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। লক্ষ্যে চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

অন্যান্য খাত

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, অন্যান্য খাতের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য বড় খাতগুলোর মধ্যে শুধু চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই খাত থেকে জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে এই পাঁচ মাসে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১৮ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। এসেছে প্রায় ১৯ কোটি ডলার।

এছাড়া জুলাই-নভেম্বর সময়ে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে ৪০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বাইসাইকেল ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং হ্যান্ডিক্যাফট রপ্তানি থেকে ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ রপ্তানি আয় কম এসেছে।

আরও পড়ুন:
রপ্তানি আয় নগদায়নে সনদ ইস্যু করতে পারবে এডি শাখা
রেমিট্যান্সে ধাক্কা ও রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমছে রিজার্ভ
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া
রেমিট্যান্সের পর অর্থনীতির চাপ কমাচ্ছে রপ্তানির উল্লম্ফন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Remittance will decrease by 5 to 40 percent World Bank

রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবাসী আয় কমার একমাত্র কারণ হচ্ছে অবৈধ হুন্ডি। প্রবাসীদের অবৈধ চ্যানেল অর্থ পাঠানো বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাস ধরে প্রবাসী আয় কমছে। আর এ কারণেই বিশ্বে রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ হিসেবে সপ্তম থেকে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি বলেছে, চলতি ২০২২ সাল শেষে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের তাদের দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সে অঙ্ক দাঁড়াবে ২১ বিলিয়ন (২ হাজার ১০০ কোটি) ডলার। যা হবে ২০২১ সালের চেয়ে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। এই নেতিবাচক প্রবণতা আগামী ২০২৩ সালেও অব্যাহত থাকবে। গত বছর দেশের প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রবাসী আয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘অভিবাসন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (নোমাড) এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর (২০২১ সাল) বাংলাদেশে ২২ দশমিক ২০ বিলিয়ন (২ হাজার ২২০ কোটি) আমেরিকান ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। সেই সুবাদে ওই বছরে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। চলতি বছর শেষে তা ১২০ কোটি বা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার কমে ২১ বিলিয়ন ডলারে রেনে আসবে। আর এতে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১৭৫ কোটি (২১.৭৫ বিলিয়ন) ডলার।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত মার্চ মাসে ২৪ শতাংশ উল্লম্ফন ছাড়া গত দশ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এপ্রিলে ২০১ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে ২০৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সবশেষ অক্টোবর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। অক্টোবরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৪ কোটি ডলার। গত বছরের অক্টোবরে এসেছিল ২১০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। রেমিটেন্সের হ্রাস রোধে সরকার অভিবাসীদের প্রণোদনা দিচ্ছে। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুতের বড় উৎস রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় ৩৫ শতাংশ বাড়লেও প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবাসী আয় কমার একমাত্র কারণ হচ্ছে অবৈধ হুন্ডি। প্রবাসীদের অবৈধ চ্যানেল অর্থ পাঠানো বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাস ধরে প্রবাসী আয় কমছে। আর এ কারণেই বিশ্বে রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ হিসেবে সপ্তম থেকে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ।’

প্রবাসী আয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ নবম

২০২২ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে শীর্ষস্থানে থাকবে ভারত। চলতি বছর দেশটি প্রবাসী আয় পাবে ১০ হাজার কোটি ডলার। গত বছর দেশটি প্রবাসী আয় পেয়েছিল ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে চীনকে ছাড়িয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মেক্সিকো। দেশটি পাবে ৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। গত বছর পেয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া চীনের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০২১ সালে ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে হবে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার নিয়ে চতুর্থ ও ৩ হাজার ২৩৩ কোটি ডলার নিয়ে মিসর পঞ্চম স্থানে থাকবে। ফ্রান্স ষষ্ঠ (৩ হাজার ১০০ কোটি), পাকিস্তান সমপ্ত (২ হাজার ৯০০ কোটি), জামানি অষ্টম (২ হাজার ১১২ কোটি), বাংলাদেশ নবম (২ হাজার ১০০ কোটি ডলার) স্থানে আছে।

মাসে বেড়েছে .৬৫ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৮৭৯ কোটি ৩১ লাখ (৮.৭৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।

সবশেষ নভেম্বর মাসে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। দুই মাস পর প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। আগের দুই মাস সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যথাক্রমে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ এবং ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

আরও পড়ুন:
হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠালে কঠোর ব্যবস্থা
উন্নয়নে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
রেমিট্যান্সে ভাটায় ‘হুন্ডির প্রভাব’, রিজার্ভ আরও কমার শঙ্কা
বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ
ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধনে অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
65 organizations received the ICMAB Best Corporate Award

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল ৬৫ প্রতিষ্ঠান

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল ৬৫ প্রতিষ্ঠান বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ২০২১ সালের গভর্ন্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ১৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়।

৬৫ প্রতিষ্ঠানকে বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ২০২১ সালের গভর্ন্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ১৭ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্য সচিব একটা তথ্য দিয়েছিলেন যে গত মাসে আমরা (বাংলাদেশ) রেকর্ড ৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছি। এখানে এসে আমি বিএসইসি চেয়ারম্যানকে বলার পর তিনি আমাকে আরেকটি তথ্য জানালেন। তা হলো গত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ২ বিলিয়ন ডলার।

‘চারদিকে বলাবলি হচ্ছে যে আমাদের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। আমরা পিছিয়ে যাব। আজকে অনেকের কথা শুনেছি৷ তাদের এগিয়ে যাওয়া ও স্বীকৃতির মাধ্যমে বোঝা যায়, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এগিয়ে যাব।’

যারা রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কথা ছড়াচ্ছেন তারা জেগে থেকে ঘুমাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি আইসিএমবি অনেক পুরস্কার পেয়েছে ও পেতে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় তারা নিজেদের শিক্ষার মান বাড়িয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে।

‘আইসিএমএবি আজ স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেনি, নিজেরাও বড় হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম ও ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশ নতুন লেভেলে চলে গেছে। নভেম্বরে রেকর্ড ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। আরও বাড়বে, বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। মাথাপিছু আয় তিন হাজারে চলে গেছে।’

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সামনে কঠিন সময়, এসডিজি ও ভিশন ২০৪১ পূরণ করতে হলে কম্পিটিটিভ হতে হবে। আমাদের সাপ্লাই চেইনে সমস্যা আছে। এ সমস্যা দূর করা জরুরি। গ্যাস বিদ্যুতের স্মুথ সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। এ জন্য সবকিছুর উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে চাইলে সবগুলো আইটেমই কোয়ালিটিসম্পন্ন হতে হবে। বিদেশে যেগুলো যায় সেগুলোর মান নিয়ে কাজ করতে কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দরকার।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কস্ট ম্যানেজমেন্ট সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ভালোভাবে নিয়মমাফিক কাজ করলে এসব প্রতিষ্ঠান আরও ভালো হবে। এসব হবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।’

আইসিএমএবির গুরুত্ব উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, ‘পুঁজিবাজারের দুর্বল কোম্পানির বোর্ডে আইসিএমবিকে সংযুক্ত করছি, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভালো করতে পারবে। এমনকি কিছু ভালো কোম্পানিতেও সংযুক্ত করছি, যাতে তারা আরও ভালো মুনাফা করতে পারে। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আইসিএমএবি যারা প্রফেশনাল তারা অনেকভাবে আমাদের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে পারে। এই পেশাটা বিভিন্ন রকমের অপচয় রোধে কাজ করে থাকে। এলডিসি থেকে উত্তরণ করতে যাচ্ছি আমরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর অবদান অসামান্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সুবিধাই থাকবে না। আমরা জিএসপি প্লাস নিয়ে কাজ করছি। আমেরিকান মার্কেটেও কাজ করছি। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ করছি। এজন্য দক্ষ জনবল দরকার। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমরা ভালো করতে পারব। এ নিয়ে আমি ভীত নই। যারা কস্ট অ্যাকাউন্টে কাজ করছেন তাদের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসায়ীদের সহায়ক হবে।’

আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল আজিজ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনিরুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এবার ১৬৫টি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ২৮টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১৭ বিভাগে তিনটি করে (প্রথম পুরস্কার স্বর্ণ, দ্বিতীয় পুরস্কার রৌপ্য ও তৃতীয় পুরস্কার ব্রোঞ্জ) মোট ৬৫ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হয়।

এ বছর জুরিবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বোর্ডে সদস্য হিসেবে ছিলেন বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ।

আইসিএমএবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাণাধীন পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং পেশার উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রসারের লক্ষ্যে দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি প্রদান এবং এসব বিষয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

১৭ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক: এই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। দ্বিতীয় সোনালী ব্যাংক ও তৃতীয় অবস্থানে আছে রূপালী ব্যাংক।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে ডাচ-বাংলা ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। তৃতীয় পুরস্কারও যুগ্মভাবে পেয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক লিমিটেড।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশন): এই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংক এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অফ বাংলাদেশ লিমিটেড।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। দ্বিতীয় আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন পিএলসি ও লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।

সাধারণ বীমা: বীমায় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন দ্বিতীয় এবং নিটোল ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

লাইফ ইন্স্যুরেন্স: এই ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে সন্ধ্যানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেছে ন্যাশনাল লাইফ ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ।

ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড প্রথম পুরস্কার ঘরে তুলেছে। আরেক শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানি রেনেটা লিমিটেড পেয়েছে দ্বিতীয় পুরস্কার। যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ওরিয়ন ফার্মা ও এসিআই লিমিটেড।

সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং: প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি। দ্বিতীয় হয়েছে এম.আই. সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড।

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং: প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইল। এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট এবং মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

এমএনসি ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি দ্বিতীয় ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেছে।

অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড প্রথম, আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড দ্বিতীয় এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড ও বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেড।

পাওয়ার জেনারেশন, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন: এই ক্যাটাগরিতে সামিট পাওয়ার লিমিটেড প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ডোরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড এবং বারাকা পাওয়ার লিমিটেড।

তেল, গ্যাস ও জ্বালানি: লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড প্রথম, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড দ্বিতীয় এবং এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

এনজিও: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক। দ্বিতীয় অ্যাকশন এইড-বাংলাদেশ। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে সাজিদা ফাউন্ডেশন ও ইউসেপ বাংলাদেশ।

অ্যাগ্রো এবং ফুড প্রসেসিং: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি ও ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স ফুডস লিমিটেড।

ট্রেডিং ও অ্যাসেম্বলি: প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। রানার অটোমোবাইলস পিএলসি পেয়েছে দ্বিতীয় পুরস্কার। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড।

আইটি ও টেলিকমিউনিকেশন: এই ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ পেয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বিডিকম অনলাইন লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
আইসিএমএবির নতুন সভাপতি মামুনুর রশিদ
সামাজিক নিরাপত্তায় আরও বরাদ্দ চায় আইসিএমএবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Entrepreneurs in Wales interested in investing in the IT sector

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ওয়েলসের উদ্যোক্তারা

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ওয়েলসের উদ্যোক্তারা বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে চেম্বারস ওয়েলসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান ওয়েলসের উদ্যোক্তারা। তারা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান ওয়েলসের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ সফররত চেম্বারস ওয়েলসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ‘বাংলাদেশ-ইউকে বিজনেস নেটওয়ার্কিং মিটিংয়ে’ তারা এ আগ্রহের কথা জানান। বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ২০০টি ব্রিটিশ কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যাংকিং, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, ওষুধ ও জ্বালানি প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ করেছে। গত অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি করেছে।’

যুক্তরাজ্যের বাজার বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্রিটেনের বাজারে হিমায়িত খাদ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, বাইসাইকেল এবং পাটপণ্যেরও প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’

ব্রেক্সিট এবং এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অধিকতর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং কম্প্রিহেনসিভ ইকনোমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন ঢাকা চেম্বার সভাপতি।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে এ খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন খাতেও বিনিয়োগের জন্য ওয়েলসের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান রিজওয়ান রাহমান।

চেম্বারস ওয়েলসের নির্বাহী চেয়ারম্যান পল স্লেভিন বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অনুসরণীয় উন্নতি দেখিয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।

‘বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিবর্তনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনেক। তেমনই ওয়েলসের বেসরকারি খাত বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ সম্প্রসারণে আগ্রহী।’

পল স্লেভিন বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তি খাত ও মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্রিটেনের সুদীর্ঘকালের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে তথ্য-প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজে লাগতে পারে।’

ডিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি আরমান হক অনুষ্ঠানে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে