রাজস্ব আদায় বেড়েছে বেনাপোল বন্দরে

রাজস্ব আদায় বেড়েছে বেনাপোল বন্দরে

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশের সিংহভাগ শিল্পকারখানা ও পোশাক কারখানার ৮০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি হয়। রপ্তানি হয় অর্ধেক পরিমাণ। করোনাসহ নানান সংকটের মাঝেই বন্দরটিতে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৫২ দশমিক ০১ শতাংশ।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বাড়ছে রাজস্ব আদায়। করোনাসহ নানান সংকটের মাঝেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৫২ দশমিক ০১ শতাংশ।

বেনাপোল কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরের তুলনায় বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ১২৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৪৩১ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা। চলতি বছরে একই সময়ের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৭৫৬ দশমিক ৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা শতকরা হিসেবে ৫২ দশমিক ০১ শতাংশ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, করোনার কারণে গত দেড় বছর উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। তারপরও ১১ মাসে তুলনামূলক বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশের সিংহভাগ শিল্পকারখানা ও পোশাক কারখানার ৮০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি হয়। রপ্তানি হয় অর্ধেক পরিমাণ। গত পাঁচ বছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮১১ টন পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১৮ লাখ ৭২ হাজার ২১০ টন পণ্য।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের কাঁচামাল, তৈরি পোশাকের কাঁচামাল, রাসায়নিক দ্রব্য, যন্ত্রাংশ, টায়ার, মোটরগাড়ি, বাস ও ট্রাকের চেসিস, ফল, পেঁয়াজ, মাছ, চাল, সুতা ও নানান খাদ্যপণ্য।

রপ্তানিপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ, সিরামিক, মেলামাইন, তৈরি পোশাক ও টিস্যু, মশারি, লুঙ্গি ও মাছ।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, করোনার কারণে উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। চাহিদা অনুপাতে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন হলে দ্বিগুণ পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, দেশের স্থলপথে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যে ৮০ শতাংশ পণ্য আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দরের সমতা বাড়লে বেনাপোল দিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল বলেন, বন্দরের জায়গা অধিগ্রহণের পাশাপাশি বন্দরে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি আধুনিক পণ্যাগার। সিসি ক্যামেরার কাজও চলছে। বন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে উঁচু প্রাচীরও নির্মাণ করা হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দেশে করোনার প্রভাব চলছে দেড় বছরের বেশি সময়। চলতি অর্থবছরে আমদানি বাড়লেও উচ্চ শুল্কহারের পণ্য কম এসেছে। আমরা ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে। এরই মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির জন্য চিঠি দিয়েছি। বন্দরের সমতা বাড়লে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বেড়ে রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালীন বেনাপোল কাস্টম হাউসের সকল স্তরের কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এক দিনের জন্যও বেনাপোল কাস্টম হাউস বন্ধ রাখা হয়নি। কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও এখানকার ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার কারণে রাজস্ব বেশি আদায় সম্ভব হয়েছে।'

আরও পড়ুন:
৩ জুন পর্যন্ত বন্ধ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মীদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য