করোনা: প্রণোদনা প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

করোনা: প্রণোদনা প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত

সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্যাকেজের প্রায় ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা সর্বমোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ। এসব প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৯টির কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত।

করোনাভাইরাসের ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী সময়ে ইডিএফের মাধ্যমে প্যাকেজটি আরও ৪,২৫০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। মোট প্রণোদনার আর্থিক মূল্য ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৯টির কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত।

এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্যাকেজের প্রায় ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

আর এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা সর্বমোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ।

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিতকরণ, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে অন্যতম একটি খাত হলো এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)। যার পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ প্যাকেজের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার প্রায় ৯৯ দশমিক ৫০ ভাগ। এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫০ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমেরিকাসহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সংগঠন ওইসিডিভুক্ত দেশগুলো যেখানে করোনা মহামারিতে শূন্যের কোঠায় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে ৫ শতাংশের ওপরে। এটা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য খাতের দক্ষতা, সামর্থ্য ও একান্ত কর্মনিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

দেশের ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সার্ভিস সেক্টর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প, কৃষি খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃ অর্থায়ন স্কিম, বিতরণকৃত শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে কৃষিঋণ প্রদান, ৫ বছর মেয়াদি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণ, ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ, উৎপাদন বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দ ইত্যাদি মোট ১০টি প্যাকেজের আওতায় প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহক হলেও পরোক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি।

এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন। আর পরোক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১১ লাখ।

কৃষি খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিপরীতে মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ।

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ৩ হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।

শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারের কৃষিঋণ প্রদান প্যাকেজ হবে চাহিদা অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে মোট বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬ কোটি টাকা আর প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ গ্রাহক।

আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কৃষি খাতে ৩০০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা।

অপরদিকে, ক্ষুদ্রঋণে ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এ উপখাতে মোট প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার।

গার্মেন্টসশ্রমিক কর্মচারীদের ৩ মাসের বেতন-ভাতা এবং এপ্রিল ও মে ২০২০ মাসের ঋণের বিপরীতে সুদ ভর্তুকি বাবদ মোট ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যেখানে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৩৮ লাখ ও ৭৩ লাখ।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাটার টান বিমায়, দামের সঙ্গে কমছে লেনদেন

ভাটার টান বিমায়, দামের সঙ্গে কমছে লেনদেন

৩ জুন বিমা খাতে লেনদেন হয়েছিল ৭৩৪ কোটি টাকা। সেদিন মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশের বেশি ছিল এই একটি খাতের। বাজেট ঘোষণার পরের কার্যদিবস ৬ জুন লেনদেন হয় আরও বেশি। সেদিন এই খাতে লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়; যা এই খাতে মোট লেনদেনের ৩৪ শতাংশের বেশি ছিল। অন্যদিকে সোমবার এই খাতে লেনদেন হয়েছে ২৬৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এক বছর ধরে দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। সেই সঙ্গে কোনো দিন লেনদেনের এক চতুর্থাংশ, কোনো দিন এক তৃতীয়াংশের বেশি এক খাতেই।

তবে বিমা খাতে হুমড়ি খেয়ে শেয়ার প্রবণতায় অবশেষে ভাটা দেখা যাচ্ছে। দামের সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে লেনদেনও।

পুঁজিবাজারে বিমাখাত নিয়ে অস্বাভাবিক আগ্রহ নিয়ে কথা হচ্ছে বারবার। এই সময়ে এই খাত নিয়ে অনেক উচ্চাশার কথা বলাবলি হয়েছে। নানা পরিবর্তনে আয় বাড়বে ব্যাপকভাবে, এমন কথা হয়েছে অসংখ্যবার। আর আয় বাড়া মানে লভ্যাংশ বাড়ার সম্ভাবনায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিনিয়োগকারীরা।

তবে আয় বাড়ার এই পূর্বাভাস সত্য প্রমাণ হয়নি। বেশিরভাগ কোম্পানির আয় বেড়েছে অল্পেই। হাতে গোনা দুই একটি কোম্পানিই কেবল ভালো করেছে। আর প্রত্যাশিত লভ্যাংশও পাওয়া সেভাবে।

গত সপ্তাহ থেকেই বিমা খাতে সংশোধন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আর শেয়ার দর যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল, সেভাবে না কমলেও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

তবে দাম বাড়ার সময় যেভাবে শেয়ার কেনায় আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, কমার সময় আর সেটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে কমে আসছে এ খাতের লেনদেন।

ভাটার টান বিমায়, দামের সঙ্গে কমছে লেনদেন
গত এক মাসে সোনারবাংলা ইনস্যুরেন্সের শেয়ার দরের চিত্র।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, লেনদেন কমে আসার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। দাম আবার বাড়বে, এই আশায় শেয়ার বিক্রি কমিয়ে দিতে পারেন কেউ কেউ। আবার শেয়ার দর অতিমূল্যায়িত মনে করে এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে নাও চাইতে পারেন তারা। এ কারণে শেয়ার বিক্রি কমে যেতে পারে।

চলতি মাসে গত ৩ জুন বিমা খাতে লেনদেন হয়েছিল ৭৩৪ কোটি টাকা। সেদিন মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশের বেশি ছিল এই একটি খাতের। সেদিন বাজেট ঘোষণার পরের কার্যদিবস ৬ জুন লেনদেন হয় আরও বেশি। সেদিন এই খাতে লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেদিন মোট লেনদেনের ৩৪ শতাংশের বেশি ছিল এই খাতে।

অন্যদিকে সোমবার এই খাতে লেনদেন হয়েছে ২৬৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাতের মধ্যে দ্বিতীয় হলেও এটি সাম্প্রতিককালের মধ্যে সবচেয়ে কম।

আগের দিনও এই খাতে হাতবদল হয়েছিল মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ বা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এক দিনেই লেনদেন কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেল।

বিমার কদর হারানোর মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো সোমবার বস্ত্র খাতে হাতবদল হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এদিন মোট ৩৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

লেনদেন চিত্র

৩ জুন বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা, যার মধ্যে বিমার খাতের লেনদেন ছিল ৭৩৪ কোটি টাকা।

৬ জুন লেনদেন হয় দুই হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে বিমা খাতের অবদান ছিল ৯০৭ কোটি টাকা যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। সেদিন লেনদেনের ৩৪ শতাংশ ছিল এই একটি খাতের।

ভাটার টান বিমায়, দামের সঙ্গে কমছে লেনদেন
উড়তে থাকা প্রভাতী ইনস্যুরেন্সের শেয়ার দর এখন উঠানামা করে কমতির দিকে

৮ জুন ২০৬৫ কোটি টাকা লেনদেনের দিন বিমা খাতের অংশগ্রহণ ছিল চার ভাগের এক ভাগ বা ৬১২ কোটি টাকা।

৯ জুন বিমার লেনদেন আরও বেড়ে হয় ৬৩৬ কোটি টাকা। সেদিন পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন হয় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

১০ জুন পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা, এর মধ্যে বিমা খাতে হাতবদল হয় ৫৬০ কোটি টাকা।

দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৩ জুন মোট লেনদেন হয় ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা, এরমধ্যে বিমা খাতের অবদান ছিল ৩৭৮ কোটি টাকা।

১৪ জুন পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন ছিল ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, এর মধ্যে বিমা খাতের ছিল ৪১১ কোটি টাকা।

১৬ জুন লেনদেন হয় ২ হাজার ১০৯ কোটি টাকা, এর মধ্যে বিমার খাতে ছিল ৬১৪ কোটি টাকা।

১৭ জুন মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, এর মধ্যে বিমা খাতের ছিল ৪৮১ কোটি টাকা।

চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে বিমার ছিল ৪২২ কোটি টাকা।

পরের দিন তা কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।

ভাটার টান বিমায়, দামের সঙ্গে কমছে লেনদেন
শেয়ারের হিস্যা নিয়ে গুজব ধরা পড়ার পর থেকে ঢাকা ইনস্যুরেন্সের শেয়ার দর কমছে

কেন কমছে লেনদেন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রুত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিমা খাতের শেয়ার নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই আলোচনায়। এই আলোচনার মধ্যেই এই খাতের শেয়ারের দর অনেক বেড়েছে। তবে দর বাড়ার পেছনে কিছু কারণ ছিল। যে কারণগুলো ছিল সে কারণে শেয়ার দর যেহারে বেড়েছে ততটা বাড়া উচিত ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘এখন লেনদেন কমে আসার কারণ হচ্ছে, অতিমূল্যায়িত শেয়ার কেউ কিনতে চাচ্ছে না। ফলে বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা থাকছে না। ফলে দর কমছে। এখন বিমার বিনিয়োগ যাচ্ছে অন্যান্য খাতে। ব্যাংকের শেয়ার দর বাড়ছে। জুন ক্লোজিং হিসেবে বস্ত্র খাতের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। আল্টিমেটলি বিমা থেকে বিনিয়োগ অন্য খাতে প্রবাহিত হচ্ছে।’

দামও কমেছে

বিমা খাতের তুমুল আলোচিত কয়েকটি কোম্পানির দামের চিত্র দেখলেই এই খাতে দরপতনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।

গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার মূল্য গত ১৬ জুনও ছিল ২০১ টাকা ১০ পয়সা। সেটি এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সা।

ভাটার টান বিমায়, দামের সঙ্গে কমছে লেনদেন
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমছে মের মাঝামাঝি থেকেই

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর গত ১৪ জুন ছিল ২০৮ টাকা ৯০ পয়সা। সেটি কমে সোমবার দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকা ১০ পয়সা।

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর গত ৮ জুন ছিল ১১২ টাকা ৫০ পয়সা। সেটি সোমবার কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায়।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর গত ১৬ জুন ছিল ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি সোমবার কমে হয়েছে ১১০ টাকা ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমছে গত ১৬ মে থেকেই। সেদিন দর ছিল ১৪৯ টাকা ৩০ পয়সা। সেটি সোমবার নেমে আসে ১২০ টাকায়।

সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর গত ৯ জুন ছিল ১২১ টাকা ৮০ পয়সা। সেটি কমে সোমবার দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৫০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার

খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার

মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়ার বিতরণ করা মোট ঋণ ২৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৯৩ কোটি টাকা। তিন মাসে আদায় হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটি তার মোট খেলাপি ঋণের ২২ শতাংশ এই তিন মাসেই আদায় করতে পেরেছে।

করোনাকালে অর্থনীতির দুর্দিনে এক অনন্য নজির দেখাল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি ব্যাংক।

মহামারির মধ্যেও নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যখন ব্যাংকের সার্বিক খেলাপি ঋণ ৬ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা বেড়েছে, তখন ব্যাংক এশিয়া উল্টো ১৭৫ কোটি টাকা আদায় করেছে।

গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির কোনো গ্রাহকের নাম খেলাপির খাতায় ওঠেনি। উল্টো বেশ কয়েকজন গ্রাহক কিস্তি পরিশোধ করে তাদের ঋণ নিয়মিত করেছেন।

মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়ার বিতরণ করা মোট ঋণ ২৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬১৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৯৩ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল।

অর্থাৎ ব্যাংকটি তার মোট খেলাপি ঋণের ২২ শতাংশ এই তিন মাসেই আদায় করতে পেরেছে।

মার্চ মাস শেষে দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সেই হিসাবে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা।

মার্চ শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে এ সময়ে সাতটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে। আর ৫০টি ব্যাংকের বেড়েছে। আর অপরিবর্তিত রয়েছে সরকারি বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ।

এই ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরফান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সুবিধা (ডেফার্ড বা অতিরিক্ত সময়) দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ভালো গ্রাহক নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন। আবার কেউ কেউ আরও সুযোগ-সুবিধা খুঁজছেন।’

খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার

রাজধানীর পুরানা পল্টনে ব্যাংক এশিয়ার প্রধান কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো খেলাপি হয়নি। কারণ কিস্তি পরিশোধে কিছু ছাড় চলছে। অনেক গ্রাহক এ সুবিধা নেয়ার কারণে নতুন করে খেলাপি হয়নি। পুরাতন ঋণের মধ্যে অনেক গ্রাহক নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেছেন। নতুন খেলাপি না হওয়া আর পুরান ঋণ আদায়ের কারণে সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণ আদায় কিছুটা বেড়েছে।’

সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার বলেন, ‘এগুলোর বেশিরভাগই মন্দ মানের ঋণ। এসব ঋণের এক কিস্তি দিতে না পারলেই মন্দ মানের খেলাপিতে পরিণত হয়।’

তবে কোনো ঋণখেলাপি টাকা পরিশোধ না করে সামনে যেতে পারবে না। এই বিষয়টা বারবার মনে করিয়ে দেয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

সাফল্য দেখিয়েছে অন্য আরও ছয়টি ব্যাংক।

১. ডাচ্‌-বাংলা

শতকরা হারে এই ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ সবচেয়ে কম। এদের মোট বিতরণ ২৭ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ৬৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯২ কোটি টাকা, যা ছিল ওই সময় বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এই ব্যাংকটিও তিন মাসে ৫৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে পেরেছে।

জনতা

মার্চ শেষে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ৫৭ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১৩ হাজার ৫৭০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

তবে ডিসেম্বরের তুলনায় খেলাপি ঋণের পরিস্থিতিটা কিছুটা হলেও ভালো দেখাচ্ছে।

সে সময় ছিল ১৩ হাজার ৬২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তিন মাসে ব্যাংকটি ৫১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আদায় করেছে।

সোনালী

মার্চ শেষে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ৫৩ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১০ হাজার ৬৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল আরও বেশি ১০ হাজার ৭২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

তিন মাসে ব্যাংকটি ৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আদায় করেছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান

এ ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের প্রায় পুরোটাই খেলাপি। মার্চ শেষে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

প্রায় সব টাকাই খেলাপিতে পরিণত হওয়া ব্যাংকটি তিন মাসে ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আদায় করেছে।

ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক

বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই খেলাপিতে পরিণত। মার্চ পর্যন্ত মোট ঋণ ৮৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬৬৯ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এই হার ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তবে ডিসেম্বরের পরিসংখ্যানের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভালো দেখাচ্ছে। সে সময় খেলাপি ঋণ ছিল ৬৭১ কোটি টাকা, যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

আদায়ের অঙ্কটা খুব বেশি না হলেও দুই কোটি টাকা আদায় কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে আসতে পেরেছে।

ব্যাংক আল ফালাহ

বিদেশি এই ব্যাংকটির মার্চ শেষে ঋণ বিতরণ ৯৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৩৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।

ব্যাংকটির অবস্থা ডিসেম্বর শেষেও ছিল খুবই ভালো অবস্থানে। সে সময় খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

তিন মাসে ব্যাংকটি ২২ লাখ টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

পোশাক খাতে প্রণোদনা: টাকা ফেরতে আরও সময় দাবি

পোশাক খাতে প্রণোদনা: টাকা ফেরতে আরও সময় দাবি

একটি পোশাক কারখানার চিত্র

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই আমরা কঠিন সময় পার করছি। সব মালিক অর্থ সংকটে আছেন। অনেক বায়ার ঠিকমতো টাকা দিচ্ছে না। অনেকে পোশাকের দাম কমিয়ে দিচ্ছে। সে কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আমরা সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছি।’

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের অজুহাত দেখিয়ে সরকারের কাছ নতুন দাবি করেছেন পোশাক শিল্পমালিকরা। মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০ হাজার কোটি টাকার যে ঋণ নিয়েছেন আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই টাকা ফেরত দিতে চান না তারা।

মহামারির মধ্যে রপ্তানিমুখী পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান চলমান রাখতে এই সুবিধা চেয়েছেন তারা।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন- বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান ও বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান রোববার এ–সংক্রান্ত একটি আবেদন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে দিয়েছেন। মহামারিকালে রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে এই সুবিধা চেয়েছেন তারা।

অর্থমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সভাপতি বলেছেন, করোনার কারণে তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারকেরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিদেশি ক্রেতারা একদিকে ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের মূল্য পরিশোধে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্যোক্তারা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মসংস্থান ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই আমরা কঠিন সময় পার করছি। সব মালিক অর্থ সংকটে আছেন। অনেক বায়ার ঠিকমতো টাকা দিচ্ছে না। অনেকে পোশাকের দাম কমিয়ে দিচ্ছে। সে কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আমরা সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আমরা সুবিধাটি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। আশা করছি, আগামী অক্টোবর থেকে রপ্তানি পরিস্থিতি ভালো হবে। তখন আর কিস্তি দিতে সমস্যা হবে না।’

চিঠিতে যে কথা বলা হয়েছে

অর্থমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের প্রধান কাঁচামাল সুতা ও কাপড়ের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই অবস্থায় পোশাকের মূল্য নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে দর–কষাকষি করে ক্রয়াদেশ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা টিকে থাকার জন্য লোকসান দিয়েও ক্রয়াদেশ নিচ্ছেন। এসব কারণে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারল্যসংকট বাড়ছে।

‘এমন অবস্থায় শ্রমিকের মজুরি দেওয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্বেগের মধ্যে আছেন উদ্যোক্তারা। এদিকে আগামী মাসেই পবিত্র ঈদুল আজহা। তার আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত ঋণের বিপরীতে কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের পক্ষে কঠিন।’

এসব কারণ দেখিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণ শ্রেণিকরণ না করা এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পুনঃ তফসিল করার সুযোগ চেয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের ঋণ সুবিধা

করোনার কারণে গত বছরের মার্চে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিতাদেশ আসতে থাকে। তখন পোশাকশিল্পের মালিকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সরকার রপ্তানিমুখী শ্রমিকদের এপ্রিল, মে ও জুন—তিন মাসের মজুরি দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।

ওই ঋণের বিপরীতে সেবা মাশুল ছিল ২ শতাংশ। পরে পোশাকশিল্পের মালিকেরা আরও এক মাসের মজুরি দেয়ার জন্য ঋণ দেওয়ার দাবি করেন। সরকারও মেনে নেয়।

তখন তহবিলের আকার বেড়ে ৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা দাঁড়ায়। তবে চতুর্থ মাসের বেতনের জন্য ঋণের ক্ষেত্রে মালিকদের সুদ দিতে হবে সাড়ে ৪ শতাংশ। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার।

চলতি বছর ঈদুল ফিতরের আগেও শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন-ভাতা দিতে ঋণ দিতে সরকারের কাছে আবেদন করেছিল বস্ত্র খাতের তিন সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য প্যাকেজটি ঘোষিত হলেও তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১ হাজার ৮০০ কারখানা মালিক ঋণ নিয়েছেন। এই ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ছিল ছয় মাস। পরে ১৮ মাসের কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধের শর্ত ছিল। তবে গত বছরের শেষ দিকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রণোদনার ঋণের গ্রেস পিরিয়ডের সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। সরকারও তা মেনে নেয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রণোদনা তহবিল থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে ১ মার্চ থেকে বাড়তি ছয় মাস সময় দেয়ার নির্দেশনা দেয়। তার ফলে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণের কিস্তি দিতে হবে মালিকদের।

করেনা সংকট কাটিয়ে উঠতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এরমধ্যে বড় উদ্যোক্তাদের জন্য ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকার তহবিল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক; ২০ হাজার কোটি টাকা (শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ) নিয়েছেন পোশাক শিল্পমালিকরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সার্বিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ১ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। ছবি: নিউজবাংলা

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় তোলে। এটি আন্তর্জাতিক হ্যাকিংয়ের ইতিহাসে এক দুর্ধর্ষ ঘটনা। এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশই নয়, যুক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন ও শ্রীলঙ্কা। উত্তর কোরিয়ার একদল হ্যাকার কীভাবে ১ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, কীভাবে তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা ঘটনাচক্রে কেঁচে যায়, সে কাহিনি উঠে এসেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ডের ১০ পর্বের পডকাস্টে। সেটির সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। তারা প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিল। নেহাত ভাগ্যের জোরে তাদের পরিকল্পনা হোঁচট খায়। বাংলাদেশ ৮১ মিলিয়ন ডলার খোয়ানোর পর এই চুরি ঠেকাতে সক্ষম হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া কীভাবে এত চৌকস একটি সাইবার অপরাধী দল তৈরি করতে পারল?

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড ১০ পর্বের একটি পডকাস্ট তৈরি করেছে, যার শিরোনাম: ‘লাজারাস হেইস্ট: হাউ নর্থ কোরিয়া অলমোস্ট পুলড অফ আ বিলিয়ন ডলার’ (লাজারাস হেইস্ট: যেভাবে উত্তর কোরিয়া বিলিয়ন ডলার প্রায় সরিয়ে ফেলেছিল)।

এখানে সেই পডকাস্টের কিছুটা সংক্ষেপিত রূপ তুলে ধরা হলো:

এ গল্পের শুরু একটি অকেজো প্রিন্টার দিয়ে। প্রিন্টারটি নষ্ট হলে অন্য সকলের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ভেবেছিলেন, এটি মামুলি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি।

কিন্তু প্রিন্টার যেখানে রাখা, সেটা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দশম তলার একটি কক্ষ আর এই প্রিন্টারও কোনো যেনতেন প্রিন্টার না। এর একটিই কাজ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি-কোটি টাকার আদান-প্রদানের রেকর্ড প্রিন্ট করা।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা টের পান, ওই প্রিন্টারটি কাজ করছে না। ডিউটি ম্যানেজার জুবায়ের বিন হুদা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, সাধারণ কোনো সমস্যা। যেমনটা সাধারণত ঘটে থাকে, তেমন কিছু হয়েছে। আগেও এ ধরনের সমস্যা দেখে দিয়েছে প্রিন্টারে।’

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক যে এক বিরাট সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে, এটি ছিল তার প্রথম আলামত। হ্যাকাররা ততক্ষণে ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েছে এবং ওই সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চকাঙ্ক্ষী সাইবার অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এক বিলিয়ন ডলার চুরি করা।

চুরি করা টাকা সরিয়ে নিতে হ্যাকাররা নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, দাতব্য সংস্থা, ক্যাসিনো এবং সহযোগীদের এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

এই হ্যাকাররা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে?

সকল ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট কেবল একটি দিকই নির্দেশ করছিল: উত্তর কোরিয়া সরকার।

সাইবার-অপরাধের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ করা হবে এটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো লাগতে পারে। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি। দেশটি প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল, অর্থনৈতিক ও প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন।

তারপরও এফবিআইয়ের মতে, এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হ্যাকার ও মধ্যস্থতাকারীদের গোপন একটি দলের বহু বছরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফসল ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে এই দুঃসাহসী হ্যাকিং অভিযান।

সাইবার নিরাপত্তা ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের ডাকা হয় ল্যাজারাস গ্রুপ নামে। নামটি দেয়া হয়েছে বাইবেলে বর্ণিত ল্যাজারাসের নাম অনুযায়ী, যিনি মৃত্যু থেকে ফিরে এসেছিলেন। এই গ্রুপের কম্পিউটার ভাইরাসগুলিকে সামলানো বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই হ্যাকাররাও বারবার ফিরে আসে।

গ্রুপটি সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায়নি। এফবিআই এই গ্রুপের শুধু একজন সন্দেহভাজনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পেরেছে, তার নাম পার্ক জিন-হিয়ুক। তিনি পার্ক জিন-হেক ও পার্ক কোয়াং-জিন নামেও পরিচিত।

কে এই পার্ক?

এফবিআই বলছে, পার্ক একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে তিনি চীনা বন্দর শহর দালিয়ানে উত্তর কোরিয়ার একটি সংস্থা চোসুন এক্সপোর হয়ে কাজ করতেন। পার্ক সারা বিশ্বের ক্লায়েন্টদের জন্য অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন।

দালিয়ানে থাকার সময় তিনি একটি ই-মেইল আইডি ও একটি সিভি তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নেটওয়ার্কও তৈরি করেন। এফবিআইয়ের তদন্তকারীর হলফনামায় বলা হয়েছে, পার্কের সাইবার-ফুটপ্রিন্ট থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের দিকে দালিয়ানে তার যাতায়াত শুরু হয়, যা ২০১৩ বা ২০১৪ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর তার ইন্টারনেট কার্যকলাপ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং থেকে রেকর্ড করে এফবিআই।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি
উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন হ্যাকার পার্ক জিন-হিয়ুক আছেন এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায়

আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাটি পার্কের একটি ছবিও প্রকাশ করে, যা ক্লায়েন্টের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য একটি ই-মেইলে ব্যবহার করেছিলেন চসুন এক্সপোর ম্যানেজার। ছবিতে দেখা যায়, ক্লিন-শেভ বিশ বা ত্রিশের ঘরের এক কোরিয়ান যুবক পার্ক। পরনে ছিল চকোলেট রঙের সুট ও কালো রঙের পিন স্ট্রাইপ শার্ট। একবারেই সাধারণ একটি চেহারা, যাতে ক্লান্তির ছাপ রয়েছে।

এফবিআইয়ের দাবি, পার্ক দিনে প্রোগ্রামার হলেও রাতে হ্যাকারের কাজ করেন।

২০১৮ সালের জুনে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ পার্ককে সেপ্টেম্বর ২০১৪ ও আগস্ট ২০১৭-এর মধ্যে করা কম্পিউটার জালিয়াতি ও অপব্যবহারের ষড়যন্ত্র এবং ই-মেইল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। ধরা পড়লে তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। (অভিযোগ দায়েরের চার বছর আগে তিনি চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যান।)

পার্ক রাতারাতি হ্যাকার হননি। তিনি হাজার হাজার তরুণ উত্তর কোরিয়ানের একজন, যাদের শৈশব থেকেই সাইবার-যোদ্ধা হওয়ার জন্য বেছে নেয়া হয়। গণিতে ভালো এইসব প্রতিভাবান কিশোরদের, যাদের অনেকের বয়স ১২, স্কুল থেকে রাজধানীতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের সকাল থেকে রাত অবধি নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির চক্কর

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন সেই প্রিন্টারটি রিস্টার্ট করেন, তখন তাদের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ। প্রিন্টার থেকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে আসা জরুরি কিছু বার্তা প্রিন্ট হয়ে বের হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের ইউ ডলারের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমেরিকান ব্যাংকটি জানায়, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার উঠিয়ে নেয়ার নির্দেশ পেয়েছে।

ফেডারেল ব্যাংক অফ রিজার্ভের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু হ্যাকারদের দক্ষতায় তারা সেটা করতে পারেনি।

আগের দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় হ্যাকিং শুরু হয়। বাংলাদেশ যখন ঘুমন্ত তখন নিউ ইয়র্কে বৃহস্পতিবার সকাল। ফলে ফেডারেল ব্যাংকের হাতে ওই নির্দেশ পালনের জন্য যথেষ্ট সময় ছিল।

পরের দিন থেকে বাংলাদেশের শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়। যার কারণে ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দিনের ছুটিতে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন শনিবার এই চুরির বিষয়টি ধরতে পারে, তখন নিউ ইয়র্কে উইকেন্ড শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্থানা বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায় আক্রমণ কতটা নিঁখুত ছিল। বৃহস্পতিবার এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে কাজের দিন আর বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার যখন খুলছে, তখন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে পুরো বিষয়টি ধরা পড়তে পড়তে তিন দিন দেরি হয়।’

সময়ক্ষেপণ করতে হ্যাকাররা আরও একটি কৌশল অবলম্বন করে। ফেড থেকে বের করার পর তারা টাকাটা পাঠিয়ে দেয় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কয়েকটি অ্যাকাউন্টে। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল চন্দ্রবর্ষের প্রথম দিন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ওই দিন সরকারি ছুটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক ও ফিলিপাইনের সময়ের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা টাকা সরিয়ে নিতে পুরো পাঁচ দিনের একটা সময় বের করে।

বহুদিন ধরেই তারা এই সমস্ত পরিকল্পনা করে। চুরির আগে প্রায় এক বছর ল্যাজারাস গ্রুপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে লুকিয়ে ঘোরাফেরা করছিল।

চুরির এক বছর আগে

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আপাতদর্শনে নিরীহ একটি ই-মেইল পান। রাসেল আহলাম নামের এক চাকরি প্রার্থীর মেইল ছিল সেটি। বিনম্রভাবে মেইলে রাসেল ব্যাংকে চাকরির বিষয়ে আর তার সিভি ডাউনলোডের জন্য একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেয়।

এফবিআই জানায়, রাসেল নামের কেউ আসলে ওই মেইল করেননি। মেইল করেছিল ল্যাজারাস গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত একজন কর্মকর্তা ল্যাজারাসের ধোঁকায় পা দেন ও ওই সিভি ডাউনলোড করেন। অজান্তেই তাতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে আক্রমণ করে।

ব্যাংকের সিস্টেমে ঢোকার পর ল্যাজারাস গ্রুপ গোপনে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে প্রবেশ করে। যে ডিজিটাল ভল্টে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাখা ছিল, সেটায় ঢোকার কাজ শুরু করে তারা।

এবং তারপরে তারা থেমে যায়।

হ্যাকাররা প্রাথমিক ফিশিং ই-মেইল পাঠানোর এক বছর অপেক্ষার পর কেন টাকা চুরি করল? ব্যাংকের সিস্টেমে এক বছর লুকিয়ে থাকতে গিয়ে ধরা পড়ার ঝুঁকি কেন নিল তারা?

নিয়েছে, কারণ চুরির টাকা বের করে নেয়ার পথ ঠিক করতে ল্যাজারাসের সময় দরকার ছিল।

ঢাকার টাকা ম্যানিলায়

ম্যানিলার ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি জুপিটার স্ট্রিট। ফিলিপাইনের অন্যতম বড় ব্যাংক আরসিবিসির একটা শাখা রয়েছে এখানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ২০১৫ সালের মে মাসে এই শাখায় চারটি অ্যাকাউন্ট খোলে হ্যাকারদের সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

পরে জানা যায়, অ্যাকাউন্টগুলো খোলার সময় ব্যবহার করা হয় জাল ড্রাইভার্স লাইসেন্স। আর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা চার আবেদনকারীর জব টাইটেল ও বেতন ছিল হুবহু এক। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ডলার দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টগুলো মাসের পর মাস একইভাবে পড়ে ছিল। কেউ ওই টাকাতেও হাত দেয়নি। এই অস্বাভাবিকতা কারও চোখে পড়েনি। হ্যাকাররা ততদিনে পালানোর অন্য বুদ্ধি আঁটছিল।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাক করে ও টাকা সরিয়ে ফেলার পথ পরিষ্কার করে ল্যাজারাস গ্রুপ প্রস্তুত হয়ে যায় চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য।

তবে তাদের সামনে তখনও একটা বাধা ছিল।

১০ তলার সেই প্রিন্টার।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত লেনদেন রেকর্ড করার জন্য একটি পেপার ব্যাক-আপ সিস্টেম তৈরি করে। লেনদেনের এই রেকর্ড সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনা প্রকাশ করার ঝুঁকিতে ফেলে দেয় হ্যাকারদের। তারা তাই একে নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারটিতে আগে হ্যাক করে ও অকার্যকর করে দেয়।

নিজেদের গোপনীয়তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পর, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে হ্যাকাররা টাকা সরাতে শুরু করে।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের জমা করা টাকার প্রায় পুরোটাই, মোট ৩৫টি লেনদেনে তারা সরাতে শুরু করে। এর পরিমাণ ছিল ৯৫১ মিলিয়ন ডলার।

চোররা যখন নিজেদের বড় পারিশ্রমিকের স্বপ্নে বিভোর, তখন একেবারে হলিউডি ফিল্মের মতো ছোট্ট একটা ভুলে ভন্ডুল হয়ে যায় সবকিছু। ধরা পড়ে তাদের চুরি।

পরের দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা টাকা খোয়া গেছে বুঝতে পারলেও ঠিক কী হয়েছে ধরতে পারছিলেন না।

গোপন রাখা হয় চুরি

ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে রাকেশ আস্থানা ও তার সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাটিকসের পরিচয় ছিল। গভর্নর রাকেশকে সাহায্যের জন্য ফোন করেন।

আস্থানা বিবিসিকে জানান, ওই মুহূর্তেও গভর্নর ভাবছিলেন, তিনি চুরি হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। যার কারণে তিনি হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি শুধু জনগণের কাছ থেকেই নয়, দেশের সরকারের কাছেও গোপন রাখেন।

আস্থানা বোঝার চেষ্টা করছিলেন, হ্যাকাররা কতদূর কী করেছে। তিনি বের করেন, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমের অন্যতম অংশ সুইফটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হাজারো ব্যাংকের বড় অঙ্কের লেনদেনের সামাল দেয় সুইফট সফটওয়্যার সিস্টেম। সুইফটের কোনো দুর্বল দিক হ্যাকাররা কাজে লাগায়নি। তার দরকারও পড়েনি। কারণ সুইফট সফটওয়্যার হ্যাকারদের ব্যাংকের কর্মচারী ভেবে নিয়েছিল।

দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তারা বুঝতে পারেন, হারানো টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। ততক্ষণে ফিলিপাইনে কিছু টাকা পৌঁছে গিয়েছিল।

ওখানকার কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া আদালতের আদেশ ছাড়া শুরু করা সম্ভব নয়। আদালতের আদেশ সরকারি নথি। যে কারণে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আবেদন করে, তখন পুরো বিষয়টি সবাই জানতে পারেন ও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর তোপের মুখে পড়েন। আস্থানা বলেন, ‘তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তাকে আমি আর দেখিনি।’

টাকা যেভাবে বের করা হয়

হ্যাকাররা ম্যানিলার অসংখ্য ব্যাংক ব্যবহার করতে পারত, কিন্তু তারা জুপিটার স্ট্রিটে অবস্থিত আরসিবিসি ব্যাংকের শাখাটিকেই বেছে নেয়। এই সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের কয়েক শ মিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আর্থিক সেবা বিষয়ক কমিটির সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি জানান, ঘটনাচক্রে ইরানের একটি জাহাজের নামের সঙ্গে মিলে যায় এ ব্যাংকের ঠিকানা।

তিনি বলেন, লেনদেনগুলোকে ফেড আটকে দেয়। কারণ এর ঠিকানায় জুপিটার শব্দটি ছিল। জুপিটার একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজেরও নাম, যার ওপর ফেডের নিষেধাজ্ঞা আছে। এটি কালো তালিকাভুক্ত।

‘জুপিটার’ শব্দটির কারণেই ফেডারেল ব্যাংকের কম্পিউটারগুলো সতর্ক হয়ে ওঠে এবং লেনদেনগুলো রিভিউ করা হয়। এ কারণে অধিকাংশ লেনদেন ঠেকানো সম্ভব হয়। তবে ১০১ মিলিয়ন ডলার ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

এই ১০১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার একটি দাতব্য সংস্থা ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’-এর নামে। হ্যাকারদের দোসররা চুরি করা টাকা পাচারের জন্য আগেই একে ঠিক করে রাখেন। এর মালিক শালিকা পেরেরা জানান, তার ধারণা ছিল লেনদেনগুলো বৈধভাবে দান করা হয়েছে।

এখানেও ছোট একটা ঝামেলার কারণে ফেঁসে যায় হ্যাকাররা। টাকা পাঠানো হয় ‘Shalika Fundation’ এর নামে। এক ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে পড়ে এই বানান ভুল, কারণ এতে ফাউন্ডেশনের একটি অক্ষর (o) বাদ পড়েছে। ফলে লেনদেনটি ফেরত পাঠানো হয়।

শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার

লক্ষ্য ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। লক্ষ্য পূরণ না হলেও বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে পাঁচজনের একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, তাদের জন্য এই ক্ষতিও ছিল বড় অঙ্কের।

বাংলাদেশ ব্যাংক যতক্ষণে টাকা ফেরত নেয়ার চেষ্টা শুরু করে, ততক্ষণে হ্যাকাররা একে নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। হ্যাকিংয়ের পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জুপিটার স্ট্রিটের আরসিবিসি শাখায় এক বছর আগে খোলা অ্যাকাউন্ট হঠাৎই যেন জীবন ফিরে পায়।

টাকাগুলোকে চারটি অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর সেখান থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জ ফার্মে পাঠানো হয়। স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত করার পর সেগুলোকে আবারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিছু অংশ নগদ হিসেবে ব্যাংক থেকে তোলাও হয়েছে।

মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো বিষয়টিই ছিল নিয়মমাফিক। ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের প্রধান মোয়ারা রুয়েসেন বলেন, ‘পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য সমস্ত বেআইনি উপার্জনকে সাদা দেখাতে হবে ও এমনভাবে দেখাতে হবে যেন মনে হয় তা বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত। অর্থের লেনদেনটিকে যতটা সম্ভব ঘোলা ও অস্পষ্ট করে তুলতে হবে।’

তারপরও তদন্তকারীদের সামনে টাকার উৎস খুঁজে পাওয়ার উপায় ছিল। সম্পূর্ণ আত্মগোপনের জন্য এর দরকার ছিল ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়া।

ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি করা দলটির পরের গন্তব্য ছিল সলিটেয়ার হোটেল। ম্যানিলার এই হোটেলটি বিখ্যাত এর ক্যাসিনোর জন্য। ৪০০টি জুয়ার টেবিল ও ২ হাজার স্লট মেশিন সংবলিত ক্যাসিনোটিতে মোটা পকেটওয়ালা চীনা ব্যবসায়ীরা জুয়া খেলতে আসেন।

চুরি করা ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার এই ক্যাসিনো ও মাইডাস নামের আরেকটি ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি ৩১ মিলিয়ন ডলারের কী হলো সেটা জানতে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের দাবি, বাকি টাকা শু ওয়েইকাং নামের এক চীনা ব্যক্তিকে দেয়া হয়, যিনি একটি প্রাইভেট জেটে শহর ছাড়েন ও তারপর কোনোদিন আর ম্যানিলায় আসেননি।

অর্থের উৎস ও লেনদেন গোপনের জন্যই ক্যাসিনোতে টাকা পাঠানো হয়। চুরি করা টাকা দিয়ে ক্যাসিনোর চিপস কিনে, জুয়া খেলার পর নগদ টাকায় বদলে ফেলা হলে তদন্তকারীদের পক্ষে একে খুঁজে বের করা অসম্ভব।

ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে যেন টাকা খোয়া না যায় সে জন্য চোরদের দল প্রাইভেট রুম ভাড়া করে এবং নিজেদের লোকদের সঙ্গেই নিজেরা জুয়া খেলে। এতে করে তারা পুরো জুয়ার টাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ত তারা চুরি করা টাকা দিয়ে ‘বাকারাত’ খেলে। এটি এশিয়ার বহু দেশে প্রচলিত জনপ্রিয় একটি জুয়া, যেটাতে শুধুমাত্র দুটা ফল। হার অথবা জিত। এবং অধিকাংশ টাকা (প্রায় ৯০ শতাংশ) ফিরে পাওয়া সম্ভব।

অপরাধীরা চুরি হওয়া টাকা লন্ডারিং করে লাভের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করতে খেলোয়াড় ও তাদের ধরা বাজিকে খুব সাবধানে তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বেশ খানিকটা সময় নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা টাকা সাদা করার জন্য ম্যানিলার ক্যাসিনোতে অপেক্ষায় ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকও তখন টাকা উদ্ধারের চেষ্টায় বেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। এর কর্মকর্তারা ম্যানিলা সফরে আসেন ও টাকা পাচারের পথ খুঁজে পান। কিন্তু ক্যাসিনোতে যাওয়ার পর তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন। ওই সময়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলো মানি লন্ডারিংয়ের নিয়মের অধীনে ছিল না। ক্যাসিনোদের হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টের টাকা বৈধ ও বৈধ জুয়াড়িদের টাকা। তাদের নিজের টাকা দিয়ে তারা বৈধভাবেই জুয়া খেলছেন।

সলিটেয়ার জানায়, তারা জানত না যে, তাদের ক্যাসিনোতে অবৈধ টাকা ঢালা হচ্ছে, এ নিয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। আর মাইডাস বিবিসির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিম ওয়ং নামের মাইডাস ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরের আয়োজনকারী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকি ৩৪ মিলিয়ন তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এর পরবর্তী গন্তব্য উত্তর কোরিয়ার আরও এক ধাপ কাছে।

তদন্তকারীদের বিশ্বাস ছিল যে, চুরি যাওয়া অর্থের পরবর্তী গন্তব্য মাকাও।

চীনের এই রাজ্যটির সঙ্গে সলিটেয়ারে জুয়া খেলা অনেকেরই সম্পর্ক ছিল। সলিটেয়ারে প্রাইভেট রুম ভাড়া করা দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল মাকাওয়ের। তদন্তকারীরা দাবি করেন অধিকাংশ অর্থ মাকাও থেকেই উত্তর কোরিয়ায় ঢুকেছে।

বাংলাদেশ চুরি হওয়া বাকি অর্থ প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকও আছে। তারা অবশ্য আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে আক্রমণের পরের বছর ২০১৭ সালের মে মাসে ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে আক্রমণ করে। আক্রান্তদের ব্ল্যাকমেইল করা হয় ও বিটকয়েনের বিনিময়ে তাদের ডেটা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির এক গোয়েন্দা এফবিআইয়ের সঙ্গে মিলে র‍্যানসমওয়্যারের কোড ভাঙার চেষ্টা করে দেখেন এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ২০১৪ সালে সোনি পিকচার্সে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ভাইরাসের অনেকাংশে মিল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এফবিআই এই আক্রমণের জন্য পার্ক জিন-হিয়ুককে দোষী সাব্যস্ত করে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস আরও দুই উত্তর কোরিয়ার নাগরিককে দোষী খুঁজে পায়। তাদের দাবি ওই দুইজনও ল্যাজারাস গ্রুপের সদস্য এবং ক্যানাডা থেকে নাইজেরিয়া পাঠানো একটি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক অর্থায়নে নতুন সুদহার

স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক অর্থায়নে নতুন সুদহার

নতুন নীতিমালায় ৬ মাসের নির্ধারিত মেয়াদের পরিবর্তে অর্থায়নের সময়কালের ভিত্তিতে বেঞ্চমার্ক হার প্রয়োগের সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদভিত্তিক (যেমন- ৩ মাস/৬ মাস মেয়াদি) বেঞ্চমার্ক হারের অনুপস্থিতিতে রপ্তানি বিলের বিপরীতে অগ্রিমমূল্য পরিশোধের তারিখের পূর্বের সংশ্লিষ্ট সময়কালের কম্পাউন্ডিং পদ্ধতিতে আগাম সুদহার হিসাবায়ন করা যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক অর্থায়নের সুদের হার নির্ধারণ বিষয়ে নতুন করে নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থা থেকে লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফারড রেট) হার প্রত্যাহারের পর স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক অর্থায়নে বিকল্প সূচক হারের প্রয়োগ হবে।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারি (অথরাইজড) ডিলার ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিন্যানশিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে বেঞ্চমার্ক হার হিসেবে লাইবরের প্রয়োগ ২০২১ সাল থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ফলে ২০২২ সালের পরবর্তীতে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের সুদহার নির্ধারণে লাইবরের পরিবর্তে নতুন বেঞ্চমার্ক হার এর প্রয়োগ হবে। একই সঙ্গে লাইবর প্রত্যাহারের আগে লাইবরের ভিত্তিতে গৃহীত সব ধরনের অর্থায়নের সুদ নতুন বেঞ্চমার্ক রেটে স্থানান্তর করতে হবে।

বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নে ৬ মাসভিত্তিক লাইবরের সঙ্গে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ মার্কআপ যুক্ত করে বার্ষিক সুদহার নির্ধারিত হয়।

সার্কুলারে লাইবরের পাশাপাশি যে মুদ্রায় অর্থায়ন করা হবে সে মুদ্রায় প্রযোজ্য বেঞ্চমার্ক হারের সঙ্গে নির্দেশিত মার্কআপ যুক্ত করে রপ্তানি বিল ডিসকাউন্টিং কিংবা মেয়াদপূর্তির আগেই রপ্তানি মূল্য প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

ঝুঁকিমুক্ত বেঞ্চমার্ক রেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কআপ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশের ওপর বার্ষিক ২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ৬ মাসের নির্ধারিত মেয়াদের পরিবর্তে অর্থায়নের সময়কালের ভিত্তিতে বেঞ্চমার্ক হার প্রয়োগের সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদভিত্তিক (যেমন- ৩ মাস/৬ মাস মেয়াদি) বেঞ্চমার্ক হারের অনুপস্থিতিতে রপ্তানি বিলের বিপরীতে অগ্রিমমূল্য পরিশোধের তারিখের পূর্বের সংশ্লিষ্ট সময়কালের কম্পাউন্ডিং পদ্ধতিতে আগাম সুদহার হিসাবায়ন করা যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি শরীয়াহভিত্তিক অর্থায়নে প্রচলিত ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক হার প্রয়োগ করা যাবে।

খসড়া নীতিমালায় বায়ার্স/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় গৃহীত স্বল্পমেয়াদি আমদানি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আমদানি বাণিজ্যেও অর্থায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদভিত্তিক (যেমন- ৩ মাস/৬ মাস মেয়াদি) বেঞ্চমার্ক হারের অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সময়কালের জন্য কম্পাউন্ডিং পদ্ধতিতে বকেয়াভিত্তিক সুদহার হিসাবায়ন করা যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

একইসঙ্গে লাইবর প্রত্যাহারকালীন সময়ের পূর্বের ভিত্তিতে গৃহীত ঋণ বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মুদ্রাভিত্তিক বেঞ্চমার্ক রেটে উক্ত ঋণ রূপান্তর করা যাবে।

নীতিমালায় লাইবর রহিতকরণের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তীতে লাইবরভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে লাইবর ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পূর্বে এ বিষয়ক নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউনেও ৭ জেলায় ব্যাংক খোলা

কঠোর লকডাউনেও ৭ জেলায় ব্যাংক খোলা

জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এমনকি সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রেখে কঠোর লকডাউন দেয়া হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাংক খোলা রাখা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সরকারের ঘোষিত ৭ জেলায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাংক খোলা রাখা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য ঢাকার আশপাশের ৪ জেলাসহ দেশের ৭ জেলায় কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী এ ৭ জেলাতে লকডাউনের প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এসব জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এমনকি সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রেখে কঠোর লকডাউন দেয়া হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাংক খোলা রাখা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে জরুরি সেবা হিসেবেই দেখার কথা জানিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর আগে ২৫ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে।

ওই সার্কুলারে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯-এর বিস্তার রোধকল্পে মহানগর/জেলা প্রশাসন কর্তৃক স্থানীয়ভাবে লকডাউন ঘোষিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যাংকিং লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।’

‘এ ক্ষেত্রে শাখার কর্মকর্তা/কর্মচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত রাখতে হবে।’

এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিদিনই রেকর্ড করতে থাকায় সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম চলছে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন

বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১০.৮ শতাংশ: আঙ্কটাড

বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১০.৮ শতাংশ: আঙ্কটাড

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এফডিআই ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই বিনিয়োগপ্রবাহ আগের অবস্থায় আসতে সময় লাগবে।

২০২০ সালে ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ (২.৫৬ বিলিয়ন) ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে বাংলাদেশে। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২১’-এ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার বিশ্বব্যাপী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশ।

সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ কমার কারণে বাংলাদেশে এফডিআইপ্রবাহ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নিয়ে পরপর দুই বছর আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমল। ২০১৮ সালে ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ, এক বছরে যা ছিল এ যাবতকালে সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছর প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের ৩০০ কোটি ডলারের আদেশ বাতিল হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর ক্রেতারা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এই সময়ে ফিনটেক, ওষুধ, এলএনজি কেন্দ্র ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে স্থানান্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এসব খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য উৎসাহিত করে আসছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সরকার বিদেশি বিনিয়োগের বাধা দূর করতে আইন সংস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও আঙ্কটাডের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে পাঁচটি আইন সংস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ আগের অবস্থায় আসতে সময় লাগবে। কারণ, বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এখনও দুর্বল। তৈরি পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহ কম বলে মনে করছে আঙ্কটাড।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিদেশি বিনিয়োগে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছর ধরে এফডিআইয়ের হিসাব করা হয় দেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২৯৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে বাংলাদেশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ২৭৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। পুরো অর্থবছরে (জুলাই-জুন) এসেছিল ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

কোভিডের ধাক্কায় বিপর্যয়

বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত আঙ্কটাডের এই প্রতিবেদনে এফডিআইয়ে বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২০ সালে বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনের ভূমিকায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস বলেন, এক দশক আগে বিশ্ব মন্দার সময়কার চেয়েও তা নিচে নেমে গেছে।

এ সময়ে বিশেষভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশের শিল্প-কারখানার পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, ‘এটি এখন শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা গরীব দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এফডিআই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

আঙ্কটাডের হিসাবে গত বছরে বিশ্বজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ১ লাখ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগের বছর যা ছিল দেড় লাখ ট্রিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ও বিশ্বে কমলেও গত বছর এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৩৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

আঙ্কটাডের বিনিয়োগ ও উদ্যোগ বিষয়ক পরিচালক জেমস জান বলেছেন, ‘মহামারিকালেও এই অঞ্চলে এফডিআই যেমন বেড়েছে, তেমনি এখান থেকে অন্যত্রও বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। শুধু উন্নয়নশীল এশিয়াতেই বিদেশি বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে বিশ্বের মোট এফডিআইয়ের অর্ধেকের বেশি এখান হয়েছে এবং এখান থেকে অন্য দেশে করা হয়েছে।’

তার মতে, ২০২১ সালেও বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে এশিয়া সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০ শতাংশ বেড়ে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৭১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতে ২৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলার।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেবল ভারতেই গত বছর এফডিআইপ্রবাহ বেড়েছে।

এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে সবচেয়ে বেশি ৪৩ শতাংশ। পাকিস্তানের ৬ শতাংশ কমে এফডিআইয়ের পরিমাণ ২১০ কোটি ডলার।

তবে চীন ও হংকংয়ের কারণে সার্বিকভাবে এশিয়ায় বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ খামারি পাবেন প্রণোদনা
সরকারের টাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন আর না
প্রণোদনার সিংহভাগই পাচ্ছেন পোশাকমালিকরা

শেয়ার করুন