টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দর সংশোধনের দিনে লেনদেন দেখছেন এক বিনিয়োগকারী। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা

সূচক পড়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ভাটা। টানা তিন দিন পর লেনদেন নেমেছে দুই হাজার পয়েন্টের নিচে। সারা দিনে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪৫৬ কোটি টাকা কম।

সোয়া তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ছয় হাজার পয়েন্ট ছোঁয়ার আনন্দ স্থায়ী হলো না।

২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো সূচক ছয় হাজারের ওপরে উঠে রোববার। পরদিন সোমবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পাঁচ মিনিটেই সূচক কমে যায়। এক পর্যায়ে সেটি ৫১ পয়েন্ট নেমে যায় আগের দিনের চেয়ে।

এরপর শেয়ারদর কিছুটা বাড়তে থাকায় সেখান থেকে সূচক ফিরে পায় ৩৪ পয়েন্ট। ফলে দিন শেষে আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে।

সূচক পড়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ভাটা। টানা তিন দিন পর লেনদেন নেমেছে দুই হাজার পয়েন্টের নিচে। সারা দিনে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪৫৬ কোটি টাকা কম।

সূচক পতনের দিন দর হারিয়েছে ব্যাংক, বিমা, বস্ত্র, প্রকৌশল, খাদ্য, জ্বালানি খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি। আগের দিন সব কটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বাড়লেও দ্বিতীয় দিনেই দর হারিয়েছে বেশিরভাগ।

‘ভয়ের কারণ নেই, দর সংশোধন’

ছয় হাজার পয়েন্টের সীমা পার হওয়ার পরদিনই বাজারে নেতিবাচক প্রবণতায় কোনো শঙ্কার কিছু দেখছেন না পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সোমবার লেনদেনে সূচকের যে পতন তা মূলত মূল্য সংশোধনের কারণে হয়েছে। গত তিন বছর ধরে ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়ছিল। ফলে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগকারীরা ভালো মুনাফা পেয়েছে। তাই তারা সেগুলো বিক্রি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘লেনদেন যে অবস্থা আছে সেটি ধরে রাখা গেলে সূচক তিনশ পয়েন্ট কমলেও আতঙ্কের কিছু নয়।’

ব্যাংক-বিমার পতন

গত সাত কার্যদিবস ভালো সময় কাটিয়ে ব্যাংকের একটি খারাপ দিন গেল।

সোমবার লেনদেন হওয়া ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে দর বেড়েছে পাঁচটির। পাল্টায়নি ছয়টির। বাকি ১৯টি ব্যাংকের শেয়ারের দর কমেছে।

এনআরবিসির লেনদেন হয়নি রেকর্ড ডেটের কারণে।

দর পতনে এগিয়ে থাকলেও সোমবার দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে ব্যাংকের ছিল একটি।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ৬৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৬ দশমিক ২০ পয়সা। এ নিয়ে টানা দুই কার্যদিবস এই ব্যাংকটির শেয়ার দর সর্বোচ্চ পরিমাণে বাড়ল।

টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা

টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা
সোমবার ব্যাংক খাতে একটি খারাপ দিন গেছে পুঁজিবাজারে

এবি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। শেয়ার দর ১৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। শেয়ার দর ১৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে দশমিক ৪১ শতাংশ। শেয়ার দর ২৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪ টাকা ১০ পয়সা।

ক্রমাগত উত্থানে থাকা সাধারণ ও জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলো দর হারিয়েছে ব্যাপক হারে।

লেনদেন হওয়া ৫০টি কোম্পানির মধ্যে সোমবার দর হারিয়েছে ২৯টির। দর পাল্টায়নি একটির। আর দর বেড়েছে ২০টির।

টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা

টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা
উড়তে থাকা বিমা খাতেরও পতন হয়েছে সোমবার

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৩ টাকা ৩০ পয়সা।

পিপলস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

দর হারালো মিউচ্যুয়াল ফান্ডও

চলতি সপ্তাহের শুরুতে দাপটে ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো। লেনদেন ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছিল ৩৬টির। স্থান করে নিয়েছিল দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ তালিকায়।

সোমবার লেনদেনে তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র তিনটির। দর পাল্টায়নি ছয়টির। বাকি ২৫টির দর কমেছে।

লেনদেনে আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল আইসিবি অগ্রনী ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

তবে সবচেয়ে বেশি মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে দর পতন হওয়া শীর্ষ তালিকায়। এদিন প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানে ইউনিট প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি দর কমেছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দর ৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৬ টাকা ৫০ পয়সায়।

ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি দর কমেছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এবিব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ।

সূচক ও লেনদেন

সোমবার লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৬ পয়েন্টে।

টিকল না ছয় হাজারের সূচক, লেনদেনেও ভাটা
ছয় হাজার পয়েন্ট উঠার পর দিনই ১৭ পয়েন্ট কমে সূচক নেমে গেল পাঁচ হাজার পয়েন্টের প্রান্তসীমায়

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ পয়েন্টে।

লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪১৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৫৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অর্থবছর শেষ হওয়ার এক বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণার সভা

অর্থবছর শেষ হওয়ার এক বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণার সভা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। তবে গত বছরের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য এই সভা করেনি গ্রিনডেল্টা ও ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড। সেই সভা হবে আগামী ২৯ জুন।

অর্থবছর শেষ হওয়ার এক বছর পর বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‍দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ দেয়া বা না দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ডিবিএই্ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আগামী ২৯ জুন এই বৈঠক হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হয়।

তবে এই দুটি ফান্ড গত বছর এই সভা করেনি। আইনি জটিলতার জন্য এক বছর আগের ২০২০ সালের হিসাব পর্যালোচনা করতে হচ্ছে এখন।

ফান্ড দুটির সম্পদ ব্যবস্থাপক এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। গত বছরের শুরুতে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৭২.৭৫ শতাংশ এবং গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের ৭০.১০ শতাংশ ইউনিটহোল্ডার সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বাদ দেয়ার আবেদন করে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে এলআর গ্লোবালকে অপসারণের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। এই অনুমোদন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট করে এলআর গ্লোবাল।

ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়ার পাশাপাশি বিএসইসির ওই সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে।

গত বছরের মার্চে গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার করে আপিল বিভাগ। ফলে এই দুই ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এলআর গ্লোবালকে রাখতে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি বাতিল হয়।

এরপর চলতি বছরের মার্চে এসে বিএসইসিও তাদের আগের নির্দেশনা থেকে সরে আসে। ফলে এই দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কর্তৃত্ব থাকে যায় এলআর গ্লোবালের হাতে।

এ বিষয়ে এলআর গ্লোবালের হেড অফ লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছরের আমাদের এই দুই ফান্ড পরিচালনা বৈধতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। গত ৩০ মার্চ বিএসইসি’র আগের অর্ডার পরিবর্তন করার পর আমরা ২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করেছি। সেটি ২৯ মার্চ পর্যালোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ২০২১ সালের অর্থবছর শেষ হবে জুনে। এ ক্ষেত্রে আমরা নির্ধারীত সময়েই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বোর্ড সভা করতে পারব।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

বেতন চেয়ে রিজেন্টকে ৯ পাইলটের উকিল নোটিশ

বেতন চেয়ে রিজেন্টকে ৯ পাইলটের উকিল নোটিশ

এয়ারলাইনসটির বহরে বর্তমানে রয়েছে দুটি বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ও একটি ড্যাশ এইট মডেলের উড়োজাহাজ। কোনো উড়োজাহাজই বর্তমানে ওড়ার মতো অবস্থায় নেই। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন উড়োজাহাজের পরীক্ষামূলক উড়াল সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি দুটির ইঞ্জিন এখনও দেশে আসেনি।

বকেয়া বেতনের দাবিতে রিজেন্ট এয়ার কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে এয়ারলাইনসটির ৯ জন পাইলট।

নোটিশে অবিলম্বে কর্মরত পাইলটদের বকেয়া বেতন ও সিমুলেটর ট্রেনিংয়ের খরচ দিতে এয়ারলাইনসটিকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পাইলটরা যাতে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পান এজন্য এনওসি বা অনাপত্তিপত্র দিতেও বলা হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গত বছরের মার্চ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বেসরকারি এয়ারলাইনস রিজেন্ট এয়ার। গত দেড় বছরে বারবার তারিখ দিয়েও ফ্লাইটে ফিরতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। গত দেড় বছর পাইলট কিংবা অন্যকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারিকে কোনো বেতনও দেয়নি তারা। সবাইকে রাখা হয়েছে অবৈতনিক ছুটিতে।

এরই মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও এনবিআরের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দেনা ছাড়িয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। বন্ধ হওয়ার আগে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা টিকিটের টাকাও ফেরত দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সরকারি ফি বাবদ বেবিচক এয়ারলাইনসটির কাছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পায়।

এ ছাড়া তাদের কাছে এনবিআরের পাওনার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ফ্লাইটে ফিরতে বেবিচককে ধীরে ধীরে পাওনা পরিশোধের কথা বলা হলেও কয়েক মাস ধরে কোনো টাকাই দিচ্ছে না রিজেন্ট।

এই দেড় বছরে বেশ কয়েকবারই ফ্লাইটে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিল রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ। সবশেষ চলতি বছরের মার্চে ফ্লাইট শুরুর কথা জানালেও বাস্তবায়ন হয়নি সে উদ্যোগও।

এয়ারলাইনসটির বহরে বর্তমানে রয়েছে দুটি বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ও একটি ড্যাশ এইট মডেলের উড়োজাহাজ। কোনো উড়োজাহাজই বর্তমানে ওড়ার মতো অবস্থায় নেই। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন উড়োজাহাজের পরীক্ষামূলক উড়াল সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি দুটির ইঞ্জিন এখনও দেশে আসেনি।

শুধু বকেয়া বেতনই নয়, বন্ধ হওয়ার পর পাইলটদের সক্রিয় রাখতে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণগুলোও শেষ করেনি রিজেন্ট। আন্তর্জাতিক বেসমারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়মানুসারে প্রত্যেক পাইলটকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলকভাবে সিম্যুলেটরে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়।

পাইলটরা বলছেন, লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে নিজ খরচেই ট্রেনিং সম্পন্ন করতে হয়েছে তাদের।

রিজেন্টের পাইলট ক্যাপ্টেন তারেক হাদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছরের মার্চের পর কোনো বেতনও দেয়া হয়নি। বারবার বলা হয়েছে আমরা ফ্লাইটে ফিরব কিন্তু সেটিও সম্ভব হয়নি। আমরা যে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করব রিজেন্ট আমাদের এনওসি (অনাপত্তি পত্র) দিচ্ছে না।

‘এখন সমস্যা আমাদের রুজি রুটির। আমরা পাইলট, আমরা তো চাইলেই অন্য কোনো কাজ সহসা শুরু করতে পারব না। অন্তত আমাদের এনওসি দিলেও আমরা অন্য কোথায়ও চাকরির চেষ্টা করতে পারি। এ কারণেই সিনিয়ররা উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। আমিও তাদের সাথে আছি।’

রিজেন্ট এয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর। এক দশক যেতে না যেতেই জোর ধাক্কা খেল এয়ারলাইনসটি। বন্ধ হওয়ার আগে দেশের ভেতরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং আন্তর্জাতিক গন্তব্য কলকাতা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, মাসকট ও দোহায় ফ্লাইট চালাচ্ছিল এয়ারলাইনসটি।

প্রায় দুই যুগে দেশে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলেও এখন টিকে আছে মাত্র দুটি। এ সময়ের মধ্যে একে একে পাখা গুটিয়েছে অ্যারো বেঙ্গল, এয়ার পারাবত, রয়্যাল বেঙ্গল, এয়ার বাংলাদেশ, জিএমজি এয়ারলাইন্স, বেস্ট এয়ার ও ইউনাইটেড এয়ার। এর মধ্যে শুধু জিএমজি ও ইউনাইটেড আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালাত।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

ঋণ পুনর্গঠনে চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও সময়

ঋণ পুনর্গঠনে চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও সময়

সার্কুলারে বলা হয়, ‘দ্বিতীয় দফায় কোভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাব দেখা দেয়ায় ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। পুনর্গঠন/পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণে ইচ্ছুক গ্রাহকদের ডাউনপেমেন্টের অর্থ নগদে জমা দিয়ে আবেদনের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলো।’

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সময় আরও তিন মাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট করে এই সুবিধা নিতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। আগের সময়সীমা ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।

বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জা‌রি ক‌রে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগু‌লোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘দ্বিতীয় দফায় কোভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাব দেখা দেয়ায় ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। পুনর্গঠন/পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণে ইচ্ছুক গ্রাহকদের ডাউনপেমেন্টের অর্থ নগদে জমা দিয়ে আবেদনের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলো।’

গত ৬ জানুয়ারি দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ২০২০ সা‌লের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ স্থিতির ন্যূনতম ২ শতাংশ অর্থ ডাউনপেমেন্ট হিসাবে নগদে আদায় সাপেক্ষে এক্সিট সুবিধা দেয়া যাবে।

এক্ষেত্রে ২০২০ সা‌লের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত, সেসব প্রতিষ্ঠানকে দায়-দেনা পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি ৫ কোটি টাকার বে‌শি, তা‌দের দায়-দেনা পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর সময় দেয়া যাবে।

পরে পুনর্গঠন বা পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণে ইচ্ছুক গ্রাহক নগদে ডাউনপেমেন্টের অর্থ পরিশোধ করে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আবেদন জমা দেয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। ১২ এপ্রিল জারিকৃত সার্কুলারে এ সময় তিন মাস বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এবার আরো তিন মাস বাড়ানো হলো।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা: এস কে সুর

আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা: এস কে সুর

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠার পর আদালতের নির্দেশে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের অভিযোগে জেরার মুখে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক দুই ডেপুটি গভর্নর সীতাংশ কুমার চৌধুরী (এস কে সুর) ও এস এম মুনিরুজ্জামান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার দুজনকে তলব করে অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’।

প্রথম দফায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এস কে সুর চৌধুরীকে। বেলা ২টার দিকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুর চৌধুরী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা। আমার যা বলার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে বলেছি।’

এর পরপরই আর কোনো কথা না বলে দ্রুত গাড়িতে উঠে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় বেলা ১১টায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তদন্ত কমিটি।

কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান এ জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যা বলার মুখপাত্র বলবেন।’

বিকেলে সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস এম মুনিরুজ্জামানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমসহ সাবেক ও বর্তমান ব্যাংকার, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলেছে। কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছে তারা।

মূলত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) আর্থিক অনিয়মে জড়িতদের খোঁজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি। তারা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মও খতিয়ে দেখছে।

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠার পর আদালতের নির্দেশে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ কমিটির প্রধান ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান। কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক বিচারক ও আমলারা।

আগামী মাসে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে গভর্নরের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই

রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই

রড ও সিমেন্টের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের চলমান উন্নয়নকাজ তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ঠিকাদাররা যে দামে কাজের আদেশ পেয়েছিলেন, তাতে তাদের পোষাচ্ছে না।

নির্মাণের অন্যতম উপকরণ রড। ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণের যেকোনো কাজে রডের পেছনেই বেশি ব্যয় হয়। সেই রডের দাম এখন আকাশছোঁয়া। লাগামহীন দামের কারণে রডের গায়ে হাতই দেয়া যায় না।

মিলমালিকরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপের (পুরোনো লোহালক্কড়) দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে দেশীয় বাজারে এর দাম শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। রডের দাম টনপ্রতি এক লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

নির্মাণশিল্পের আরেকটি উপকরণ সিমেন্টের দামেও একই অবস্থা। এ কারণে নির্মাণ খাত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

রড ও সিমেন্টের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের চলমান উন্নয়নকাজ তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ঠিকাদাররা যে দামে কাজের আদেশ পেয়েছিলেন, তাতে তাদের পোষাচ্ছে না। এ অবস্থায় তারা সরকারের কাছে কার্যাদেশ সংশোধনের দাবি করছেন। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত তাদের দাবি গ্রহণ করেনি।

এদিকে নতুন বাজেটে রড ও সিমেন্টের ওপর কর-সুবিধা দেয়া হলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজেটে যে সুবিধা দেয়া হয়েছে তাতে রড ও সিমেন্টের দাম কমবে না; বরং আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে এই দুটি পণ্যের কাঁচামালের দাম বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে দেশীয় বাজারে দাম আরও বেড়ে যাবে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে ব্র্যান্ডভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি টন রডের গড় দাম ছিল ৫৩ থেকে ৫৪ হাজার টাকা। সোমবার পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭৬ হাজার টাকা।

অর্থাৎ এই সময়ে প্রতি টনে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, যা শতকরা হারে প্রায় ৩০ শতাংশ। এর আগে কখনই রডের দাম এত বেশি বাড়েনি।

অপরদিকে গত ডিসেম্বরে ব্র্যান্ডভেদে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম ছিল ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকায়। এ সময় প্রতি ব্যাগের দাম বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বা শতকরা ১৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ স্টিল মিলস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসুদুল আলম মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল পুরোনো লোহা, যা স্ক্র্যাপ নামে পরিচিত। এই স্ক্র্যাপ আমদানি করে আমরা কারখানায় বিলেট তৈরি করে রড উৎপাদন করি।’

তিনি আরও জানান, আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন স্ক্র্যাপের দাম ছিল ৩৩০ ইউএস ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫০০ থেকে ৫৭০ ডলার।

রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই

কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মাসুদুল আলম মাসুদ জানান, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববাজারে স্ক্র্যাপ সংকট দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে। এ ছাড়া জাহাজ ও কনটেইনার ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। এসব কারণে দেশে রডের দাম হু হু করে বাড়ছে।

এমএস রড উৎপাদনকারী দেশি রি-রোলিং কারখানাগুলো যে কাঁচামাল ব্যবহার করে, তার ৮০ শতাংশ আমদানি করা হয়।

মিলমালিকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা ৫৫ লাখ টন। রি-রোলিং মিল ছোট বড় মিলে প্রায় ১৩০টি। এর মধ্যে বড় আকারের ৫০টি। বাকিগুলো ছোট ও মাঝারি।

বাজেটে যে সুবিধা দেয়া হয়েছে

প্রস্তাবিত বাজেটে রড ও সিমেন্টের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর এবং ভ্যাটের আগাম কর ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজেটে যে কর সুবিধা দেয়া হয়েছে, তা দেশীয় বাজারে রড এবং সিমেন্টের দামে তেমন প্রভাব ফেলবে না।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি টন স্ক্র্যাপের সুনির্দিষ্ট ট্যারিফ দেড় হাজার টাকা। এর সঙ্গে অগ্রিম আয়কর ৫০০ টাকা এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।

মিলমালিক মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, রডের কাঁচামালে বিদ্যমান করকাঠামো থাকলে এই পণ্যের দাম কখনোই কমবে না; বরং আরও বাড়বে।

রডের দাম সহনীয় রাখতে নির্ধারিত ট্যারিফ দেড় হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা এবং উৎপাদন পর্যায়ে ২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা ‍নির্ধারণ করার দাবি জানান তিনি।

প্রস্তাবিত করকাঠামো কার্যকর করলে দেশের বাজারে রডের দাম টনপ্রতি ৬০ হাজার টাকায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিমেন্টের দামেও প্রভাব নেই

প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট খাতে যে করভার কমানো হয়েছে, তা খুবই নগণ্য।

বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে বাজেটে দেয়া এ ছাড় দামের ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা।

সিমেন্টের অন্যতম কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে শুল্কহার এখন টনপ্রতি ৫০০ টাকা।

রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই

ব্যবসায়ীরা আমদানি মূল্যের ওপর শুল্ক হার ৫ শতাংশ করার দাবি করছেন। সেটি করা হলে সিমেন্টের দাম সহনীয় হবে এবং ভোক্তারা সুবিধা পাবে।

কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে সিমেন্টের দামে কর কমানোর প্রভাব পড়ছে না। কারণ কাঁচামালের দাম না কমলে কার্যত ভোক্তা পর্যায়ে সুখবর আসবে না। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

গত অর্থবছর বিশ্ববাজারে ক্লিংকারের প্রতি টনের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪২ ডলার। সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ ডলার। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে প্রতি বস্তা সিমেন্টের উৎপাদন খরচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

সিমেন্ট শিল্পের সব কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। গত অর্থবছরও দেশে ১ কোটি ৮৭ লাখ টন ক্লিংকার আমদানি হয়েছে।

উন্নয়নকাজ ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

রড ও সিমেন্টের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের উন্নয়নকাজে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন ঠিকদার ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার বলেন, নির্মাণ খাত হচ্ছে বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম শিল্প। বর্তমানে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১০ শতাংশের বেশি। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রতি দেশের বাজারে রডের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নয়নকাজের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দাম না কমলে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

রডের দাম কমাতে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে বিএসিআই। এগুলো হলো সরকারি ক্রয় নীতিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু, সরকারি কাজের মূল্য সমন্বয় করা, সব ধরনের শুল্ক-কর কমানো, সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে দ্রুত শুল্কবিহীন রড আমদানির উদ্যোগ নেয়া ও বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে গণপূর্তের কাজের মূল্য হালনাগাদ করা।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

বেনাপোল বন্দরে ফের পাথর আমদানি শুরু

বেনাপোল বন্দরে ফের পাথর আমদানি শুরু

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার থেকে শর্তসাপেক্ষে ফের পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। তবে ভারতীয় গাড়ি সরাসরি বন্দরে খালাস করা হবে না। পাথরবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশি ড্রাইভাররা নিয়ে যাবেন ফাঁকা জায়গায়। সেখানে পাথর আনলোড করার পর গাড়ি ফেরত দেয়া হবে।

যশোরের বেনাপোল বন্দর এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ফের পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিসহ কয়েকটি কারণে গত বুধবার থেকে বন্ধ ছিল পাথর আমদানি।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, পাথর আমদানির যেসব গাড়ি ভারত থেকে আসে সেগুলো বন্দরের বাইরে আনলোড করা হচ্ছিল।

এসময় ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও সহযোগীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঘুরে বেড়াতেন। তাদের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ বাড়ার সম্ভবনা থাকায় পাথরের গাড়ি বন্দরে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।

এ দিকে বন্দরের বাইরে বেনাপোল পৌর ট্রাক টার্মিনাল ও বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনে ট্রাক প্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছিল ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ভারতীয় ট্রাক ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে তারা মনে করেন। এ নিয়ে দুইদেশের ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাময়িক সংকট তৈরি হয়।

বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার থেকে শর্তসাপেক্ষে ফের পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। তবে ভারতীয় গাড়ি সরাসরি বন্দরে খালাস করা হবে না। পাথরবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশি ড্রাইভাররা নিয়ে যাবেন ফাঁকা জায়গায়।

সেখানে পাথর আনলোড করার পর গাড়ি ফেরত দেয়া হবে। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে ১০০ হতে ১২০ ট্রাক পাথর আমদানি হয়।

বেনাপোলের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পাথরবোঝাই ভারতীয় ট্রাক বন্দর হয়ে বাইরে গেলে ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। পৌর ট্রাক টার্মিনাল চালু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে ট্রান্সপোর্টের চাঁদা।

কিন্তু বন্দরের বাইরে পাথর আনলোড করতে গিয়ে ফের আলোচনায় আসে চাঁদার বিষয়টি। এসব নিয়ে জটিলতায় ভারত থেকে পাথর আমদানি বুধবার থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

ভারতের পেট্রাপোল স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর এলাকায় দুটি সংস্থার বিরোধে ভারত থেকে পাথর নেয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের উদ্যোগে আবার তা চালু হয়েছে।’

বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি পরিচালক মামুন তরফদার জানান, বেনাপোল বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে ভারত থেকে আমদানি করা পাথর বন্দর এলাকার পাশেই আনলোড করা হচ্ছিল। সেখানে আমদানিকারকের নিজস্ব জায়গায় পাথর আনলোড করার কাজ চলে।

কিন্তু ভারতীয় ড্রাইভার ও সহযোগীরা সেখানে গেলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। এখন বন্দর এলাকা থেকে ভারতীয় পাথরবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশি ড্রাইভাররা নিয়ে যাবেন আমদানীকারকের জায়গায়। এভাবে পাথর আনলোড করার শর্তে ফের আমদানি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন

সুপেয় পানির জন্য প্রয়োজনে প্রতিটি গ্রামে ট্যাংক

সুপেয় পানির জন্য প্রয়োজনে প্রতিটি গ্রামে ট্যাংক

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘একনেক সভায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এই প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি গ্রামে সুপ্রিয় পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে প্রত্যেকটি গ্রামে আলাদা ট্যাংক স্থাপন করতে হবে।’

দেশের প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে চায় সরকার। গ্রামগুলোতে প্রয়োজনে সুপেয় পানির ট্যাংক বসানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভাপতিত্বও করেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে সভার বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একনেক সভায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এই প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি গ্রামে সুপ্রিয় পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে প্রত্যেকটি গ্রামে আলাদা ট্যাংক স্থাপন করতে হবে।

‘গ্রামে সুপেয় পানি দিলে মানুষের রোগ বালাই কম হবে। রোগ বালাই কম হলে কাজ করার শক্তি বাড়বে ফলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। বৃষ্টির পানি সবচেয়ে নিরাপদ পানি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু টিউবওয়েল স্থাপন নয় ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির ট্যাংক আমাদের কাছে কিন্তু পরিচিত শব্দ। ফকিরাপুলের পানির ট্যাংকি সবার চেনা। তেমনি পানির ট্যাংক স্থাপন করে গ্রামে গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহের কথা বলেছেন। দেশের প্রান্তিক অঞ্চল বা গ্রামগুলোকে শহরের রূপ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে যে সকল প্রকল্প নেয়া হবে দ্রুত পাস করা হবে।’

বৈঠকে ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ জেলার পল্লী এলাকার নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ২০২১ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার ঢাকা বাইপাস সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। চলমান ‘সাপোর্ট টু জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস) পিপিপি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১৮৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। সেই সঙ্গে মেয়াদ বাড়ছে আরও ৪ বছর। এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বঙ্গবন্ধু’ -এর মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের প্রভাবমুক্ত পুঁজিবাজার
সোয়া তিন বছর পর সূচক ছয় হাজার পয়েন্টে
পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
৩৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
লেনদেনে ১০ বছরের রেকর্ড ছুঁইছুঁই

শেয়ার করুন