দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

আপাতত দিনে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে এয়ারলাইনসগুলো। বেবিচকের অনুমতি পাওয়ার পরপরই রুটটিতে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএসবাংলা ও নভো এয়ার।

প্রায় দুই মাস পর ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কক্সবাজারে। মঙ্গলবার থেকে রুটটিতে ফ্লাইট চালাতে এয়ারলাইনসগুলোকে অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

আপাতত দিনে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে এয়ারলাইনসগুলো।

বেবিচকের অনুমতি পাওয়ার পরপরই রুটটিতে ফ্লাইট ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা ও নভো এয়ার।

বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারে দিনে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

নভো এয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারে দিনে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম ফ্লাইটটি যাবে সকাল সাড়ে ৯টায়; দ্বিতীয়টি বিকেল ৩টায়।

অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে একটি এবং বিকেল চারটা ৩৫ মিনিটে আরেকটি ফ্লাইট ঢাকায় আসবে বলে জানিয়েছে নভো এয়ার।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ও বেলা সাড়ে তিনটায় দুটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাবে। আর সকাল ১১টা পাঁচ মিনিট ও বেলা পাঁচটা পাঁচ মিনিটে একটি ফ্লাইট কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসবে।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার শুরুতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। সেই সময় আন্তজেলা পরিবহনগুলোর মতো বন্ধ করা হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলও। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু থাকায় এসব বিধিনিষেধ করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কাজে আসেনি।

সে প্রেক্ষাপটে গত ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রথমে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অবস্থা চলার কথা থাকলেও পরে তা বৃদ্ধি করা হয় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। এতেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ৬ জুন পর্যন্ত।

গত ২১ এপ্রিল থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ রুটেও ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বেবিচক। সে সময় কক্সবাজার ও রাজশাহী ছাড়া বাকি পাঁচটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট শুরু হয়। পরে রাজশাহীতে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হলেও কক্সবাজারে ফ্লাইট চলাচল বন্ধই ছিল।

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবার ঠিকাদারদের জন্য দুঃসংবাদ। ঠিকদারি ব্যবসাসহ সরবরাহ পর্যায়ে ‘উৎসে কর’ হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে এ খাতের জন্য উৎসে কর কাঠামোর স্তরে আনা হয়ছে পরিবর্তন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঠিকাদারি ব্যবসা কোনোরকম টিকে আছে। নতুন বাজেটে বর্ধিত হারে উৎসে কর কার্যকর হলে এ ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়কর খাতে আদায়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আসে উৎসে কর থেকে। মোট আয়করের ৬০ শতাংশ আসে উৎসে কর থেকে। এর মধ্যে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসার অবদান ৩০ শতাংশ।

বর্তমানে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকে মেয়াদি আমানত বা এফডিআই, রপ্তানি, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাভেল এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ কমিশনসহ ৫৮টি খাত থেকে উৎসে কর আদায় করে সরকার। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎসে কর আসে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে কর হার গড়ে ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তরের পরিবর্তে তিনটি স্তরে উৎসে কর আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির অন্যতম খাত নির্মাণশিল্পে ব্যবহৃত রড ও সিমেন্টের দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। পাথর, ইলেকট্রিক্যাল কেব্‌লসহ অন্যান্য উপকরণের দাম গড়ে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এসব কারণে নির্মাণশিল্প এমনিতেই স্থবির। তার ওপর ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায় উৎসে কর বাড়ানোর ফলে এ খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় দেশের নামি-দামি অনেক ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। যারা নতুন, তাদের অনেকেই খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে করের বোঝা আরও চাপানোর ফলে এ ব্যবসা ব্যাপক চাপে পড়বে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলা অবস্থা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মককর্তা বলেন, তারা এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কাঠামোতে কিছুটা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করেছেন। এই কর প্রস্তাব কার্যকর করলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে, বাড়বে বড় ব্যবসায়ীদের ওপর।

এবারের বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ৫০ লাখ টাকার বেশি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তন হবে ৩ শতাংশ, ৫০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজে ৫ শতাংশ এবং এবং ২ কোটি টাকার বেশি কাজের বেলায় ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।

ঠিকাদারি ও সরবরাহকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য বর্তমান করকাঠামোই বহাল রাখার দাবি জানান বিএসিআইএর সভাপতি সফিকুল হক তালুকদার।

বর্তমানে এ খাতে সর্বোনিম্ম উৎসে কর হার ২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ঠিকাদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত।

সরকারি উন্নয়ন কাজের বা এডিপির ৯৫ শতাংশই করে থাকে ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা। নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অসংখ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের আদেশ পাওয়ার পরও মাসের পর মাস বসে আছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজই শুরু করতে পারছে না তারা। এ অবস্থায় বাড়তি করের চাপ এ খাতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

পাঁচ বছরেও উৎসে কর খাতে সংস্কার নেই

২০১৬ সালে উৎসে কর বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল এনবিআর। এতে বলা হয়, উৎস কর আহরণে বড় গলদ রয়েছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে উৎসে কর আদায় বাড়াতে একটি সংস্কার কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে। এতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে উৎসে কর আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং বিছিন্নভাবে আদায় না করে কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর আহরণের কথা বলা হয়। এ জন্য আলাদা একটি কর অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু পাঁচ বছরেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় নি।

নির্মাণশিল্প রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি

বিপর্যয়ের মুখ থেকে নির্মাণখাত রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই)। তাতে এ খাতের সংকট উত্তরণে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির মধ্যে আছে: সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী সকল কাজে মূল্য সমন্বয় (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) চালু করা, সরকারি পরিপত্র জারি করে চলমান প্রকল্পের মূল্য তারতম্য (ভেরিয়েশন) সমন্বয় করা, এমএস রড় ও সিমেন্টের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা ও নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর জন্য অতি দ্রুত শুল্কমুক্ত রড সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করা।

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি

ওসিটি থেকে মূল মার্কেটে ফেরা চার কোম্পানির দাম বৃদ্ধির হার ও লেনদেনের পরিমাণ

উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগজের শেয়ার রাখা, নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করা প্রায় ৬৬টি কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওটিসি মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে মোট আটটি।

মুনাফায় ফেরার পাশাপাশি সুশাসনে উন্নতি করায় ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেট থেকে মূল বাজারে ফিরেই চার কোম্পানি করল বাজিমাত। চারটি কোম্পানির দামই বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

তবে এই বাড়তি দামেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে পারেননি। কারণ, বিক্রেতা ছিল না।

চার কোম্পানি হলো তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি লিমিটেড, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড এবং মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড।

চারটি কোম্পানিই জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করেছে।

এদের মধ্যে ১০ শতাংশ বেশি দরে মুন্নু ফেব্রিকের ১০ টাকার শেয়ার ১১ টাকায় বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫০১টি। তবে এই পরিমাণ শেয়ারও বিক্রি হয়নি অন্য তিন কোম্পানির।

ওটিসি মার্কেটে মনোস্পুলের শেয়ারের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বেড়ে হওয়ার সুযোগ ছিল ৫৫ টাকা। এই দরে শেয়ার কেনার আদেশ ছিল লাখ লাখ। কিন্তু দুটি শেয়ার বিক্রি হওয়ার পর কেউ আর বিক্রি করেননি।

তমিজউদ্দিনের শেয়ারের মূল্য ছিল ১২ টাকা। ১০ শতাংশ দাম বেড়ে হওয়ার সুযোগ ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা। এই দামে বিপুল পরিমাণ ক্রেতা থাকলেও বিক্রি হয়েছে কেবল একটি শেয়ার।

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা

পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ার ১৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। এই দরে হাতবদল হয়েছে কেবল একটি শেয়ার।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭৬০তম কমিশন সভায় কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেটে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারি।

সিদ্ধান্তের চার মাস পর কোম্পানিগুলো রোববার থেকে মূল মার্কেটে জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করে।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কার আয় কত

পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড রোববার তাদের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে। যেখানে জানুয়ারি থেকে মার্চ ‘২১ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ পয়সা।

মুন্নু ফেব্রিক্সও ওটিসি থেকে ফিরে তাদের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ পয়সা।

দুই বছর ধরে মুনাফায় কোম্পানিটি। ২০১৯-২০ সালে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১১ পয়সা। আগের অর্থবছরের যা ছিল ৫ পয়সা। মুন্নু ফেব্রিক্স পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে।

মনোস্পুল পেপারও রোববার লেনদেন শুরুর দিন আর্থিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৮ পয়সা।

তমিজউদ্দিন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ ’২১ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৯৮ পয়সা।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক অবস্থা বিবেচনা করে ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন এখানে ভালো করলে ক্যাটাগরিভিত্তিক উন্নতি হবে।’

ওটিসি মার্কেট কী

উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগজের শেয়ার রাখা, নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করা প্রায় ৬৬টি কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওটিসি মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানিয়েছেন, তারা ওটিসি মার্কেট রাখবেন না

এমন কোম্পানিগুলোকে নিয়ে ২০০৯ সালে এই ওটিসি মার্কেট গঠন করা হয়।

কোম্পানির সুশাসনে উন্নতি করে এর আগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়াটা ক্যমিকেল, সোনালি পেপার ও আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ মূল মার্কেটে ফিরেছে।

ওটিসি মার্কেটই থাকছে না

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তারা ওটিসি মার্কেট রাখবেন না।

এই মার্কেটে এখনও কোম্পানি আছে ৫৮টিল। এর মধ্যে ১৫টি যাচ্ছে এসএমই বোর্ড বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানি জন্য তৈরি করা বোর্ডে।

৩০টি কোম্পানি যাচ্ছে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবিতে)। বিভিন্ন ধরনের বন্ড, অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ ও বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনের জন্য এটি তৈরি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

আর ১৩টি কোম্পানি তালিকাচ্যুতির আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানিকে বাজারে রাখার চেষ্টা করছে বিএসইসি।

চারটিকে তালিকাচ্যুতির কাজ শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

এসব কোম্পানি যে জনগণের কাছ থেকে টাকা তুলে তা আত্মসাৎ করেছে, তার কী হবে- এমন প্রশ্নে বিএসইসির চেয়ারম্যান সম্প্রতি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা টাকা উঠিয়ে চলে গেছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করব।’

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

রোববার পুঁজিবাজারে প্রধান খাতগুলোর বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে।

বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দাম বাড়ার পাশাপাশি কমেছে ৩৩টির দাম। তবে আটটির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ২২টি।

পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ হওয়ার পর বেশ আলোচনা ছিল বিমা খাত নিয়ে। এই খাতে দরপতন হয় কি না, এ নিয়ে যুক্তি পাল্টা-যুক্তির মধ্যে মূল ঝড়টা গেল ব্যাংক খাতের ওপর।

বিমাও বাদ যায়নি, এই খাতেরও সিংহভাগ কোম্পানির দর হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির পাঁচটিই এই খাতের।

অন্যদিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের তালিকায় না থাকলেও ব্যাংক খাতের প্রতি তিনটি কোম্পানির দুটিই দর হারিয়েছে।

সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে দরপতনের কারণে পতন হলো সূচকেও। যদিও দরপতনের বিপরীতে দর বাড়ার সংখ্যাটিও নেহায়েত কম না।

১৯২টি কোম্পানি দর হারানোর বিপরীতে বেড়েছে ১৫৯টির দর। অপরিবর্তিত ছিল ২১টি।

এপ্রিলে লকডাউনের শুরু থেকে দুই মাসে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট উত্থানের পর পুঁজিবাজারে দর সংশোধন হবে বলে যে আলোচনা ছিল গত দুই দিন ধরে, তার কিছুটা নমুনা দেখা গেল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে।

দিনভর যুদ্ধ করেও শেষ বেলায় এসে পতন হলো সূচকের। সেই সঙ্গে লেনদেনও কমল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

দিন শেষে সূচক পড়েছে ৩০ পয়েন্ট। অথচ দিনের শুরুতে লেনদেন শুরুর ১২ মিনিটে সূচক বেড়েছিল ৩২ পয়েন্ট। সেখান থেকে বেলা একটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সূচক ধরে রাখার লড়াই চলেছে। তবে শেষ পৌনে এক ঘণ্টায় কেবল নিচের দিকেই নেমেছে।

সূচক কমার দিন লেনদেনও কমেছে ব্যাপক হারে। দিন শেষে দুই হাজার কোটি টাকার বেশিই লেনদেন হলেও সেটি আগের দুই দিনের তুলনায় ব্যাপক কম।

লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।

গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, আর বৃহস্পতিবার দুই হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার কিছু বেশি।

ব্যাংকের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ২২টিই। এর মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা রূপালী ও ট্রাস্ট ব্যাংক। রূপালী ব্যাংকের দাম পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে হাতবদল হয়েছে। অতটা না বাড়লেও ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৪ শতাংশ।

বিমা খাতে পতন যেমন ছিল, তেমনি উত্থানও ছিল।

এই খাত নিয়ে তুমুল আলোচনা একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের পর। গত বছর করোনায় সাধারণ ছুটি শেষে বিশেষ করে সাধারণ বিমার শেয়ার দর বেড়েছে পাগলা ঘোড়ার মতো। এমনকি ১০ ‍গুণ হয়েছে একটি কোম্পানির দর। কোনো কোনোটির তিন থেকে চার গুণ, কোনো কোনোটির পাঁচ থেকে ছয় বা সাত গুণ হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিমা খাতের শেয়ারধারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পষ্টত দুটি ভাগ তৈরি হয়। একটি ভাগ বলতে থাকে বিমার দাম আরও বাড়বে, একটি পক্ষ বলতে থাকে ব্যাপকভাবে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে রোববার কী হয়, এ নিয়ে দৃষ্টি ছিল।

দিনের শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। তবে শেষ বেলায় বিমা খাতেও গেছে ঝড়।

অবশ্য এই খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে অন্তত আটটির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। অন্যদিকে নয়টি কোম্পানির পতন হয়েছে ব্যাপক হারে। বাকিগুলো দর হারালেও শতকরা হিসেবে তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

সর্বাধিক দর বৃদ্ধি পেয়ে যেসব কোম্পানির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল, তার মধ্যে বিমা খাতের রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সও আছে। এক দিনেই ৯ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়েছে দাম।

সব মিলিয়ে এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪টির, দুটি ছিল অপরিবর্তিত, একটির লেনদেন রেকর্ড ডেটের কারণে স্থগিত। কমেছে বাকি ৩৩টির দাম।

বিমায় লেনদেনের চিত্র

সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে রিলায়েন্স ইন্স্যরেন্সের ৯.৯৬ শতাংশ।

এ ছাড়া অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৩ শতাংশ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৫.০৫ শতাংশ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ৪.৪৬ শতাংশ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

আর দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এদিন দিনের সর্বোচ্চ দর পতন হয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের, যার পরেই আছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স।

বিমা খাতের প্রভাতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৭ দশমকি ৭৬ শতাংশ। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৬.৫৬ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৫.৫৬ শতাংশ, সান লাইফের ৫.১১ শতাংশ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ৫.০৮ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
বিমা খাতে লেনদেনের চিত্র

এছাড়া ঢাকা, গ্লোবাল, জনতা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ২ শতাংশ পর্যন্ত।

দরপতনের পাশাপাশি এই খাতে লেনদেনও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। রোববার হাতবদল হয়েছে মোট ৩৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার। যা গত বৃহস্পতিবারও ছিল ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

এদিন মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ হয়েছে বিমা খাতে। কিছুদিন আগেও যা ছিল ৩৬ শতাংশেরও বেশি।

ব্যাংকে আরও পতন

বাজেট ঘোষণার দিন ৩ জুন থেকে ব্যাংকে যে ধারাবাহিক পতন হচ্ছে, সেটি থামার কোনো নামই নেই।

দর পতন হওয়ার কোম্পানির তালিকার শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাতের আল আরাফাহ ইসলাম ব্যাংকের ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একদিন ব্যাংকটির শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না।

এর বাইরে এবি ব্যাংকের দর কমেছে ৪.৩৮ শতাংশ, ডাচ বাংলার ৩.৪১ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ৩. ২৮ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ৩.১৮ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ৩.১০ শতাংশ দর কমেছে।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
ব্যাংক খাতে দরপতনের চিত্র

এছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দরও কমেছে এক শতাংশ করে।

লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা রূপালী ও ট্রাস্ট ছাড়া ছাড়া কেবল আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ২.৬২ শতাংশ, এনবিএলের ১.২৭, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১.১৪ শতাংশ আর ইসলামী ব্যাংকের ০.৩৬ শতাংশ দম বেড়েছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫.৬৭ শতাংশ।

বস্ত্র খাতই এখন আলোচনার কেন্দ্রে

লভ্যাংশ ঘোষণার সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বস্ত্র খাতে লেনদেন বাড়িয়েই চলেছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এই খাতের লাভে থাকা কোম্পানির চেয়ে বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানির দাম রকেট গতিতে ছুটতে থাকায় এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এদিন ওটিসি মার্কেট থেকে যে চারটি কোম্পানি এদিন মূল মার্কেটে ফিরেছে, তার মধ্যে মুন্নু ফেব্রিক আর তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের ১০ শতাংশ করে দাম বেড়েছে। তবে এগুলোর বিক্রেতা ছিল না। মুন্নুর দেড় হাজার শেয়ার লেনদেন হলেও তমিজউদ্দিনের শেয়ার হাতবদল হয়েছে কেবল একটি শেয়ার।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
বস্ত্র খাতে লেনদেনের চিত্র

এ ছাড়া ফ্যামিলি টেক্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, মিথুন নিটিং, জেনারেশন নেক্সট, সাফকো স্পিনিং, তাল্লু স্পিনিং, অলটেক্স, জাহিন স্পিনিং, জাহিন টেক্সটাইল, তুংহাই নিটিং, আর এন স্পিনিং, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দাম বেড়েছে একদিন যত বাড়া সম্ভব ততই।

এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেবল আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ মুনাফায় আছে। বাকিগুলো হয় বন্ধ নয় বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনেছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ২৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা যা মোট লেনদেনের ১৩.৮৮ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি উত্থান মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

জুন মাসের আর দুই সপ্তাহ পার করলেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই লভ্যাংশ ঘোষণা করবে।

এসব ফান্ডের মধ্যে সিংহভাগই তিন প্রান্তিক শেষে ব্যাপক মুনাফায় আছে। আবার চতুর্থ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি। এর সুফল অবশ্যই পাবে ফান্ডগুলো। কিন্তু বেশিরভাগ ফান্ডই অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

এই অবস্থায় গত দুই সপ্তাহ ধরেই মাঝেমধ্যেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বাড়তে দেখা যায়, যার আরও একটি নমুনা দেখা গেল আজ।

৩৭টি ফান্ডের মধ্যে দাম কমেছে কেবল একটির, একটির লেনদেন হয়নি, দুটির দাম পাল্টায়নি, বেড়েছে বাকি ৩৩টির দামই।

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও

আলোচনা বিমা নিয়ে, ঝড় গেল ব্যাংক খাতেও
রোববার খাতভিত্তিক সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর। ৭.২৪ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৯০ পয়সার ফান্ড হয়েছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা যা সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

অন্যান্য বড় খাতের মধ্যে প্রকৌশল খাতে ১৯০ কোটি টাকা, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৮০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৯৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯৫ কোটি টাকা, খাদ্য ও আনুষঙ্গিত খাতে ৪২ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে।

সূচক ও লেনদেন

রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএস আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৮ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইস ৬ দশমিক ০৫ পয়েন্টে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১২ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে। মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা যা আগের দিনের চেয়ে ৬০০ কোটি টাকা কম।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমেছে ১৭ হাজার ৫২৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৯০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার আভাস

স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার আভাস

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের দাম প্রতিদিনই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে দেশটির স্বর্ণ খাত ১৩ বছরের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ বার্ষিক দরবৃদ্ধি দেখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুদ্রাস্ফীতি অপ্রত্যাশিত রূপ নেয়ায় আগামী কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের দাম প্রতিদিনই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে দেশটির স্বর্ণ খাত ১৩ বছরের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ বার্ষিক দরবৃদ্ধি দেখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুবাইভিত্তিক দৈনিক খলিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে গত মাসে ভোক্তা পর্যায়ের সূচকে (সিপিআই) স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

এর আগে এপ্রিলে এ সূচক বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

দুবাইয়ের আর্থিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের বিনিয়োগবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা বিজয় ভালেচা বলেন, ‘সিপিআই সূচকে প্রত্যাশার বিপরীত ধারার মধ্যেই গত সপ্তাহে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা ছিল। অর্থাৎ কিছু দেশে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অনেক জায়গায় ছিল নিম্নমুখী।

‘মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে অর্থনীতির রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণ। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি কল্পনার চেয়েও বেশি বাড়ছে বলে তথ্য পাচ্ছি আমরা। এ কারণেই স্বর্ণের দাম বাড়ছে এবং এটি সুখবর।’

বিজয় ভালেচা আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলে ১ হাজার ৮৪৫ থেকে ১ হাজার ৮৫০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে স্বর্ণের দাম, যা ১ হাজার ৯১০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছি আমরা।’

দুবাইয়ে অনেক মূল্যের এ ধাতুর দর ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে শুক্রবার আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়। আউন্সপ্রতি দাম কমে ২১ দশমিক ২১ ডলার।

দুবাই গোল্ড অ্যান্ড জুয়েলারি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রি হয়েছে ২২৭ দশমিক ৫ দিরহামে। ২২ ক্যারেট ২১৩ দশমিক ৭৫ দিরহামে, ২১ ক্যারেট ২০৪ দিরহামে এবং ১৮ ক্যারেট ১৭৪ দশমিক ৭৫ দিরহামে বিক্রি হয়।

দুবাইসহ পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমে গ্রামপ্রতি গড়ে ২২৭ দশমিক ৫ দিরহাম হয়েছে।

ভালেচা বলেন, এখন পর্যন্ত ২২৪ দিরহামের কমে এ দর নামেনি। আগামী সপ্তাহেই এ দাম লাফিয়ে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরএম ক্যাপিটাল অ্যানালিটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রাশেদ হাজিয়েভের মতে, স্বর্ণের দাম এরই মধ্যে বেড়ে ১ হাজার ৮৫৫ থেকে ১ হাজার ৮৭০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।

দ্রুতই এ দাম ১ হাজার ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৯৭৫ ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।

গত বছরের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বড় ধরনের সংটের আশঙ্কায় চীনসহ বিভিন্ন দেশের বায়াররা স্বর্ণ কিনে মজুত রাখতে শুরু করে।

চাহিদা বাড়ায় সে সময় স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) স্পট গোল্ড ২ হাজার ৬৩ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে অবশ্য তা কমে আসে।

বাংলাদেশের বাজারে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় গত ২৩ মে। সে সময় সব ধরনের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৪১ টাকা করে বাড়ানো হয়।

সে অনুযায়ী, দেশে এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার ৩৩৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা।

তার ১২ দিন আগে ১০ মে স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

গত বছরের আগস্টে দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি ৭৭ হাজার ২১৬ টাকায় উঠেছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম ওঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি, বিবিসি জানালায় ফ্রি কোর্স

বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি, বিবিসি জানালায় ফ্রি কোর্স

এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে সারা দেশের ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি বিকাশে পরিশোধ করে এই অফার নেয়া যাবে। ৫০ টাকা বা তার অধিক যেকোনো অঙ্কের ফি পরিশোধ করলে দারাজের ৫০ টাকার কূপন পাবেন গ্রাহকরা। আর বিবিসি জানালার একটি ইংরেজি শিক্ষার কোর্স করা যাবে বিনা মূল্যে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি বিকাশে পরিশোধ করলে গ্রাহকরা পাবেন দারাজের কূপন এবং বিবিসি জানালায় ফ্রি কোর্স করার সুযোগ।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

এতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে সারা দেশের ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি বিকাশে পরিশোধ করে এই অফার নেয়া যাবে।

৫০ টাকা বা তার অধিক যেকোনো অঙ্কের ফি পরিশোধ করলে দারাজের ৫০ টাকার কূপন পাবেন গ্রাহকরা। আর বিবিসি জানালার একটি ইংরেজি শিক্ষার কোর্স করা যাবে বিনা মূল্যে।

বিকাশে ফি পরিশোধের পরের কর্মদিবসে এসএমএসের মাধ্যমে দারাজ শপিং ভাউচার এবং বিবিসি জানালার কোর্স সাবস্ক্রিপশনের কোডের লিংক পাঠানো হবে গ্রাহকের কাছে।

দারাজের কূপন দিয়ে ডিজিটাল পণ্য এবং শিশু খাদ্য ছাড়া যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রে অন্তত ৩০০ টাকার কেনাকাটায় ভাউচারটি ব্যবহার করা যাবে।

একজন গ্রাহক মাসে একবার এবং অফার চলাকালে তিন মাসে মোট তিনবার অফারটি পেতে পারেন। দারাজ কূপনটি পরের মাসের ১০ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন গ্রাহকরা। কিন্তু বিবিসি জানালার কোর্সের ক্ষেত্রে সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

অ্যাপ থেকে কিংবা *২৪৭# ডায়াল করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি বিকাশ করতে পারবেন আগ্রহীরা।

এ বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই অফার। বিস্তারিত জানতে https://www.bkash.com/bn/edu-payment এই ওয়েবসাইট ভিজিটের পরামর্শ দিয়েছে বিকাশ।

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

কমলা হ্যারিসের যত সম্পদ

কমলা হ্যারিসের যত সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৭০ লাখ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও কমলা হ্যারিস তাদের পদের বিপরীতে সরকারের তরফ থেকে ১০ লাখ ডলার করে পেনশন হিসেবে পাবেন। তবে পার্থক্য হলো যে, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টের হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে আবাসন খাতে। কমলা হ্যারিসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৭০ লাখ ডলার। সিনেটর থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হবার পর তার আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এশীয়-আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৭০ লাখ ডলার। স্বামী সেকেন্ড জেন্টেলম্যান ডগলাস এমহফের সঙ্গে তার যৌথ সম্পদের মধ্যে রয়েছে লসএঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ৫০ লাখ ডলারের দুটি বাড়ি।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করায় হ্যারিসের একটি ১০ লাখ ডলার সমমূল্যের পেনশন রয়েছে। আর চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ায় তার স্বামী পেয়েছেন ১০ লাখ ২০ হাজার ডলার সমপরিমাণের পেনশন।

ব্যবসাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

আমেরিকার প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন জো বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিস। একই সঙ্গে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্টও তিনি।

৫৬ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার এই সিনেটর ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তার পূর্ব পুরুষের ভিটা তামিলনাডুর তিরুভারু জেলায়। তার মা শ্যামলা গোপালন এই জেলাই থাকতেন একসময়। বাবা জ্যামাইকান। দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার অঙ্গরাজ্যের জনবহুল শহর ওকল্যান্ডে এমন এক অভিবাসী বাবা-মায়ের সংসারে জন্ম কমলা হ্যারিসের। জামাইকা ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাগরিকত্ব পেয়েছেন তারা। কমলা হ্যারিসের ছোট বোনের জন্মের পরেই তাদের বাবা ও মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

ছোট বোন আর হ্যারিসকে নিয়ে তাদের মা কানাডার মন্ট্রিয়লে চলে আসেন। তখন হ্যারিসের বয়স মাত্র ১২। তাদের মা পেশায় একজন স্তন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ।

কানাডায় স্কুলের পাঠ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন হ্যারিস। আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে তিনি ফিরে যান জন্মস্থান ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে।

১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি কাজ শুরু করেন জন্মস্থান অকল্যান্ডের আলামেডা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে। ৯ বছর পরে তিনি বদলি হন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের আরেক জনবহুল শহর সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে।

এ সময় তিনি সো’মা শহরতলিতে প্রায় ৩ লাখ ডলার মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট (কন্ডো) কেনেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে তিনি সেই কন্ডোটি বেচে দেন তিন গুণ দামে।

২০০৩ সালে স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির পদে নিযুক্ত হন। এ সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। সে সময়কার তার দেয়া আয়করের নথি থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

৭ বছর পর ২০১০ সালে হ্যারিস দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিযুক্ত হন। এ পদে তিনিই ছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী।

২০১৪ সালে তিনি সংসার শুরু করেন এমহফের সঙ্গে। এতে আরও সম্পদশালী হয়ে ওঠেন তিনি। আগের স্ত্রীর সঙ্গে ঘর ভাঙার সময় এমহফের বার্ষিক আয় ছিল ১০ লাখ ডলার। সে সময় তিনি লসএঞ্জেলেসের একটি বিনোদনমূলক ফার্মের আইনি পরামর্শকের দায়িত্বে ছিলেন।

হ্যারিস বনাম পেন্স

দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও কমলা হ্যারিস তাদের পদের বিপরীতে সরকারের তরফ থেকে ১০ লাখ ডলার করে পেনশন হিসেবে পাবেন।

তবে পার্থক্য হলো যে, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে আবাসন খাতে।

সিনেটর হওয়ার লড়াইয়ে নামার আগে ২০১৫ সালে হ্যারিস তার সম্পদের হিসাব জমা দেন সরকারের কাছে। এ সময় স্বামী এমহফসহ তাদের যৌথ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার।

হ্যারিসের তারকাখ্যাতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার আয়ও। ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার লেখা আত্মজীবনীমূলক বই দ্য ট্রুথস উই হোল্ডের অন্তত ২ লাখ কপি বিক্রি হয় দেশটিতে। এ তথ্য দিয়েছে এনপিডি বুকস্ক্যান।

২০১৮ সালের পর থেকে কেবল লেখালেখি থেকে বছরে তিনি আয় করতে শুরু করে ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তার আয়কর হিসাব থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

সিনেটর থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হওয়ার পর তার আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

ছোট ছোট ত্যাগ স্বীকার মানুষের জীবনে অনেক বড় ধরনের ফল নিয়ে আসে। জো বাইডেন যখন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তার স্ত্রীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতেন। এ সময় তিনি দুটি বই প্রকাশ করেছিলেন। এসব থেকে তাদের চার বছরে আয় ছাড়িয়ে গিয়েছিল ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে কয়েক মাস আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পর বইয়ের দুটি প্রকাশনীর সঙ্গে মাইক পেন্সের চুক্তি হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের।

কোটি নারীর কাছে রোল মডেল হিসেবে সুপরিচিত এক উদ্যমি নারীর নাম কমলা হ্যারিস। এটি বলা বেশি হবে না যে, তিনি দেশটির এমন শীর্ষ পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তার সঙ্গে শত কোটি ডলারের চুক্তি সই করতে মরিয়া হবে বিভিন্ন প্রকাশনীর কর্ণধারেরা।

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন

ভারত জয় করছে বাংলাদেশের বিস্কুট

ভারত জয় করছে বাংলাদেশের বিস্কুট

বাংলাদেশের বিস্কুট মাতিয়েছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় অনেক কোম্পানি থাকার পরও এক দশক আগে প্রাণের পণ্য এ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে। পটাটা তাদের প্রথম পণ্য যা পুরো ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি এখন পূর্বে জয়পুর থেকে দক্ষিণে বেঙ্গালুর পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

শুরুটা ছিল অবসাদগ্রস্ত দিনের একটি টুইট থেকে। টুইটে লেখা ছিল, ‘এই বিস্কুট সত্যিই আসক্তিকর।’

উজ্জ্বল লাল রঙের বিস্কুটের প্যাকেটের ওপর টানা অক্ষরে লেখা ছিল ‘প্রাণ পটাটা স্পাইসি বিস্কুট’।

তারপর দেখলাম এই প্যাকেটটি প্রায় সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে। আমার টুইটার টাইম লাইনের সবাই এটি নিয়ে কথা বলছে। কীভাবে লকডাউনের সময় কেউ এটি খুঁজে পেয়েছে সেটি নিয়েও কথা হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও স্টোরিতেও একই অবস্থা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও আলোচনা দেখলাম কীভাবে এই মেড ইন বাংলাদেশ বিস্কুটটি সহজে সংগ্রহ করা যাবে।

দেরি না করে আমাজনে অর্ডার করলাম। একজন জানাল, সে তার কাছের এক মুদি দোকানে এই বিস্কুট খুঁজে পেয়েছে। শিগগিরই কয়েক প্যাকেট পটাটা বিস্কুট ডেলিভারি সেবা ডুঞ্জোর মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে অনেকের কাছে পাঠানো হলো।

কয়েক ঘণ্টা পর একজন জানাল, ‘আমি এক শ্বাসে পুরো এক প্যাকেট খেয়ে ফেলি’।

আমার প্যাকেটটি পৌঁছাল পরের দিন। আমি এক প্যাকেট আলাদা করলাম। তবে ভয়ে ছিলাম, যদি হতাশ হই।

পাঠক, এখন বাস্তবে পরখ করে দেখার পালা। প্যাকেটের ভেতর চিকন সারিতে গোল ও সোনালি চাকতির মতো বিস্কুটগুলো ঠিকঠাক রাখা। এতে যথেষ্ট পরিমাণে আলুকে বিস্কুটে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এগুলো পাতলা, ছোট এবং মুড়মুড়ে। স্বাদের মিশ্রণ, প্রয়োজনীয় মিষ্টি-লবণ-টক-মসলার সমন্বয় এটিকে পরিণত করেছে শক্তিশালী স্বাদের বোমায়।

পটাটা নিয়ে মুম্বাইয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহুল যাদব বলেন, ‘এটি একেবারেই বহুমুখী স্বাদের। চিজ এবং মসলাদার আলুর তরকারি হিসেবেও এটিকে পরখ করেছি। এটি স্বাদে অনন্য।’

রাহুলের করা টুইটে অনেকে প্রথমবারের মতো পটাটার নাম শোনেন। তিনি বিস্কুটটি সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলেন ২০১৯ সালের দিকে ‘হাইওয়ে অন মাই প্লেট’ নামের শোর দুই হোস্ট রোকেয়া সিং ও ময়ূর শর্মার টুইট থেকে।

এটি অনেকটাই ধাঁধার মতো, কেন একটি প্যাকেজড ফুড মানুষের কাছে এত জনপ্রিয় হলো।

কেন ম্যাগি নুডলস ভারতের অন্য যেকোনো নুডলসের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়?

পালস ক্যান্ডি আসার অনেক আগে থেকেই লেমন ক্যান্ডি ছিল। তবুও এখন পালস যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, অন্য কোনো ক্যান্ডি সেটি স্বপ্নেই দেখে।

একই কথা কোকা-কোলা, আমুল বাটার বা হলদিরাম আলু ভুজিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হয়তো তারা মানুষের অতীত স্মৃতি-প্রত্যাশা-নতুনত্বের মধুর কোনো জায়গাকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছে।

বাংলাদেশি কনজ্যুমার কোম্পানি প্রাণের এই বিস্কুট সেই জায়গাটি খুঁজে পেয়েছে।

লাইভমিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় অনেক কোম্পানি থাকার পরও এক দশক আগে প্রাণের পণ্য এ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল টোস্ট বিস্কুট, প্যাকেট ঝালমুড়ি, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্যাকেট জুস।

সম্ভবত পটাটা তাদের প্রথম পণ্য যা পুরো ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি এখন পূর্বে জয়পুর থেকে দক্ষিণে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণ এখন পুরো ভারতেই ছড়িয়ে পড়েছে। এই ব্র্যান্ডের মূল কোম্পানি কৃষি ও খামার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে স্টেশনারি, খেলনাসহ প্রায় সব কিছু তৈরি এবং বিক্রি করছে।’

প্রাণ কি বাংলাদেশে রিলায়েন্স (ভারতের বহুজাতিক কোম্পানি)- এমন প্রশ্নে আহসান খান বলেন, ‘না না, ভারতের বড় কোম্পানির তুলনায় আমরা অনেক ছোট। যদিও এই কোম্পানি এখন পর্যন্ত এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান করেছে। ১৪৫ দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি টাকা বা প্রায় ৯৩ কোটি ভারতীয় রুপি।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ভারতে তাদের প্রথম কারখানা চালু করে ত্রিপুরার আগরতলায়। আহসান খান বলেন, ‘ভারত আমাদের জন্য বড় বাজার। আমরা ভারতের ৭০০ জেলায় থাকতে চাই। আমরা করপোরেট ভারতকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি, কীভাবে আরও সংগঠিত হওয়া যায়, কীভাবে আরও প্রফেশনালি কোম্পানি চালানো যায়।

‘মাত্রই আমি ঝাড়খন্ডের এক ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলেছি, এর কিছু আগে আফ্রিকায় একজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার স্বপ্ন একটি গ্লোবাল কোম্পানি হওয়া। বর্ডারস আর মিনিংলেস।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক দশক পর ১৯৮১ সালে প্রাণ ফুডসের মূল কোম্পানি প্রাণ-আরএফএল শুরু করেছিলেন আহসান খানের বাবা আমজাদ খান চৌধুরী।

আহসান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরীর ছিল কঠিন দেশপ্রেম। তিনি চেয়েছিলেন নবীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হোক, দারিদ্র্যমুক্ত হোক। কৃষি-ব্যবসার মাধ্যমে কৃষকদের শক্তিশালী করা ছিল তার লক্ষ্য।

আহসান খান আমেরিকার আইওয়া রাজ্যের ওয়ার্টবুর্গ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২১ বছর বয়সে প্রাণে যোগ দেন। তিনি কোম্পানিকে আরও বেশি ভোক্তার কাছে নিয়ে যাওয়া এবং নতুনত্ব আনতে কাজ করছেন। নতুন কিছু বের করতে এবং কারখানায় তা উৎপাদনে বেশ দক্ষ আহসান খান।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি দক্ষিণ ভারতে সফরে যাই, দেখি এমটিআরের (ভারতের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতিষ্ঠান) মতো কোম্পানি খাবার উপযোগী উপমা-ইডলি মিক্স বিক্রি করছে। ইন্ডিগোতে ভ্রমণের সময় দেখি তাদের উপমা ও ডাল-চাল বক্সে গরম পানির সঙ্গে মেশালে খাবার তৈরি হয়ে যায়। আমি ভাবি কীভাবে এমন খাবার আমরা তৈরি করতে পারি।’

চীন ভ্রমণের সময় তাদের আলুর ওয়েফারের মতো বিস্কুট দেখে পটাটা তৈরির উৎসাহ পান আহসান খান। দেশে আসার পর তিনি খাদ্য প্রকৌশলীদের ডেকে পটেটো প্লেক্স, পটেটো পেস্ট এবং স্টার্চের সঙ্গে অন্যান্য স্বাদের মিশ্রণে পটেটো চিপসের মতো নতুন কিছু তৈরি করতে বলেন, যা খেতে মুড়মুড়ে হলেও পাতলা হবে।

আহসান খান জানতেন, তিনি ব্রিটানিয়া ও আইটিসি বিস্কুটের দাপট থাকা ভারতের বড় বাজারে ঢুকতে যাচ্ছেন। তবে সাহস হারাননি প্রাণের এই কর্ণধার।

আহসান খান বলেন, ‘তারা অনেক বড়, তাদের কাছ থেকে আমার অনেক কিছু শেখার আছে। এমনকি ভারতের অন্য বড় কোম্পানি থেকেও শেখার আছে। ভারত অনেক বড় বাজার। আমি পটাটা বিস্কুটকে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাই।’

আরও পড়ুন:
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

শেয়ার করুন