গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প

গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প

৪০ বছর আগে ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১২ কোটি ডলার। এখন সেই রিজার্ভ ৩৭৫ গুণ বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি (৪৫ বিলিয়ন) ডলারের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছে।

২০০১ সালেও বাংলাদেশের রিজার্ভ বা বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এমন জায়গায় ছিল যে, আমদানির মূল্য চুকাতে টান পড়ত। ওই বছর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধ করতে হলে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত।

এত কম রিজার্ভ থাকলে দেশের ‘ভাবমূর্তি নষ্ট হবে’ বলে সে বছর প্রথমবারের মতো আকুর আমদানি বিল বাকি রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ।

২০ বছর পর সেই রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। রিজার্ভ এখন এতই উদ্বৃত্ত যে অন্য দেশকে বৈদেশিক মুদ্রা ধার দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শরণাপন্ন হওয়ায় দেশটিকে অন্তত ২০ কোটি ডলার ধার দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক মর্যাদার আসনে বসতে চলেছে বাংলাদেশ।

৪০ বছর আগে ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১২ কোটি ডলার। এখন সেই রিজার্ভ ৩৭৫ গুণ বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি (৪৫ বিলিয়ন) ডলারের চূড়ায় অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি রিজার্ভ আগে কখনোই ছিল না। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রিজার্ভ বাড়তে বাড়তে এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সুখবর দিয়ে বলছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই রিজার্ভ ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হবে।

তবে এই দীর্ঘ পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কখনো কখনো হোঁচট খেয়েছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

অনেক সময় রাজনীতিতেও ইস্যু হয়েছে এই রিজার্ভ। এটি বাড়লে সরকারের সাফল্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। আবার কমে গেলে বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভে ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

সে সময় আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত। আর রিজার্ভ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ দাতাদের সহায়তা পাওয়া যাবে না, এই বিবেচনায় আকুর দেনা পুরোটা শোধ না করে অর্ধেক দেওয়া হয় তখন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই একবারই আকুর বিল বকেয়া রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয়ের খরচ হিসাবে বর্তমানে হাতে থাকা রিজার্ভ দিয়ে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

এশিয়ার নয় দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে, তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল।

দুই বছরে হবে ৭০ বিলিয়ন ডলার

করোনাভাইরাস মহামারির থাবায় বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার। তার অংশ হিসেবে ২০২০ সাল শেষে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে করোনার অভিঘাত নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প

তাতে বলা হয়, মহামাররিকালেও বাংলাদেশের রিজার্ভ মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে। এতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। প্রতি মাসেই বাড়ছে এই সূচক। এই ইতিবাচক ধারা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

আর তাই আগামী দুই বছর অর্থাৎ, ২০২৩ সালের মধ্যে রিজার্ভ বেড়ে ৭০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন দ্বিতীয়। ২৮ মে ভারতের রিজার্ভ ছিল ৫৯২ বিলিয়ন ডলার। গত ২১ মে পাকিস্তানের রিজার্ভ ছিল ২৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্ধেক। নেপালের ১১ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলঙ্কার মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভ একেবারে তলানিতে নেমে আসার কারণেই বন্ধুপ্রতিম দেশ শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শরণাপন্ন হওয়ায় দেশটিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০ কোটি ডলার ধার দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ রয়েছে চীনের। দেশটির রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩ হাজার ২০০ বিলিয়ন ডলার।

১২ কোটি ডলার দিয়ে শুরু

স্বাধীনতার পর প্রায় এক দশক বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নের (রিজার্ভ) কোনো তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেই। হয়তো ওই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে তেমন কোনো আয় দেশে আসেনি। রেমিট্যান্সও আসা শুরু হয়নি, বিদেশি ঋণ সহায়তাও মেলেনি। তাই রিজার্ভে কোনো বিদেশি মুদ্রার মজুতও ছিল না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৮১-৮২ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে বিদেশি মুদ্রার মজুত জমতে শুরু করে। ওই অর্থবছর শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার।

পাঁচ বছর পর ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছর শেষে সেই রিজার্ভ বেড়ে হয় ৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ১৯৯১-৯২ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। পরের ১৯৯২-৯৩ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছর শেষে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর শেষে তা কমে ২ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এরপর ১৯৯৭-৯৮ থেকে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর পর্যন্ত রিজার্ভ দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।

২০০০-০১ অর্থবছরে রিজার্ভ কমে ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। ওই অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থাকলেও অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে তা ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল। তখনই আকুর বিল পুরোটা পরিশোধ না করে অর্ধেক করা হয়েছিল।

এরপর অবশ্য কখনই রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আসেনি। ২০০১-০২ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ বেড়ে হয় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

২০০৫-০৬ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা ১৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বেড়েই চলেছে অর্থনীতির এই সূচক।

২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। পরের বছর ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০১৬ সালের জুনে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

মহামারির মধ্যেও রেকর্ডের পর রেকর্ড

মহামারির মধ্যেও একের পর এক রেকর্ড হয়েছে রিজার্ভে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার মাস গত বছরের মার্চ শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মহামারির এই সময়েই রিজার্ভ বেড়েছে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলার।

করোনা মহামারির মধ্যেই ২০২০ সালের ৩ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার হয়।

এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ৩০ জুন রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এক মাস পর ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরও অতিক্রম করে। তিন সপ্তাহ পর গত ১৭ আগস্ট রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

তথ্যে দেখা য়ায়, মাত্র দেড় মাসে ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে রিজার্ভ ৪ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে ওঠে।

২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ ছাড়ায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। ৮ অক্টোবর ছাড়ায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। ২৯ অক্টোবর অতিক্রম করে ৪১ বিলিয়ন ডলার। ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায় ১৫ ডিসেম্বর।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ ডিসেম্বর ৪৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে রিজার্ভ।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন আরেকটি মাইলফলক অতিক্রম করে ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

গত ২৮ এপ্রিল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। কিন্তু গত ৪ মে আকুর ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

গত তিন সপ্তাহে তা আবার বেড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই করছে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে ছিল ৪৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার।

খুশি অর্থমন্ত্রী

মহামারিকালে রিজার্ভ রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ায় খুবই খুশি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ একটার পর একটা রেকর্ড গড়ছে।’

গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প

এই কঠিন সময়ে বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অবদান রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

অর্থমন্ত্রী একই সঙ্গে বলেন, ‘এই রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকারের বড় ভূমিকা আছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

‘অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে সরকার তার সঙ্গে ২ টাকা যোগ করে স্বজনকে ১০২ টাকা দিচ্ছে। এতে প্রবাসীরা উৎসাহিত হচ্ছেন। বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়েও আমাদের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো ভালো অবস্থায় আছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স। আমি আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। আর তাতে ২০২১-২২ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আমাদের রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে।’

আত্মতুষ্টিতে না ভোগার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

তবে রিজার্ভ বৃদ্ধিতে আত্মতুষ্টিতে না ভোগার পরামর্শ দিয়েছেন দুই অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও আহসান এইচ মনসুর।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে। রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে রিজার্ভ বেড়েছে ঠিক। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমাও কিন্তু রিজার্ভ বাড়ার একটি কারণ। এ ছাড়া কোভিড মোকাবিলার জন্য বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা বেশি বেশি ঋণ সহায়তা দিয়েছে। সেটাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। সে পরিস্থিতিতে যদি রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি ঋণ এখনকার মতো না আসে তখন কিন্তু রিজার্ভে চাপ পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘সে কারণে সত্যিকার অর্থেই যদি সরকার রিজার্ভের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে চায়, তাহলে রেমিট্যান্স, এক্সপোর্ট ও ফরেন এইড যাতে বাড়ে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। একটা বিষয় পরিষ্কার মনে রাখতে হবে, আমদানি কমে রিজার্ভ বাড়া কিন্তু মোটেই ভালো নয়।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, রিজার্ভ বাড়া মানেই যে সবসময় সুখবর, বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়।

গর্ত থেকে রিজার্ভের উঠে আসার গল্প

উদাহরণ দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার হাতে টাকা আছে। আমি বালিশের নিচে রেখে শুয়ে থাকলাম। শুনতে ভালো হতে পারে। কিন্তু টাকা যদি ভোগে বা বিনিয়োগে কাজে না আসে তাহলে সে টাকার উপকারিতা থাকে না।

‘আমদানি কম হচ্ছে, রেমিট্যান্স এলেও তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। আবার বিদেশি ঋণ-সহায়তার অর্থ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। এগুলো অর্থনীতির জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়।’

নতুন উচ্চতায় রেমিট্যান্স

মহামারির এই কঠিন সময়েও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়তে বাড়তে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি মে মাসের ২০ দিনে ১৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। সব মিলিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাস ২০ দিনে (২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ২০ মে) ২ হাজার ২২৫ কোটি ৪৬ লাখ (২২.২৫ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

অর্থবছর শেষ হতে আরও এক মাস ১০ দিন বাকি। ৩০ জুন শেষ হবে এই অর্থবছর।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের আশা, অর্থবছর শেষে এবার রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

২০২০ সালে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ (২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল এক বছরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি

বস্ত্র খাতে বন্ধ ও লোকসানি যে কোম্পানিগুলো দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ছবি: নিউজবাংলা

বিমার শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত সপ্তাহের শেষে বস্ত্র খাতেও বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই খাতে মোট ৫৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিক ঘোষণা করেছে, এমন ২০টি কোম্পানি ব্যাপক লোকসানে আছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক ঘোষণা করা আছে, এমন আরও দুটি কোম্পানিও লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মুনাফায় থাকা কোম্পানির পাশাপাশি ঢালাও দাম বাড়ছে এসব লোকসানি কোম্পানিরও।

পুঁজিবাজারে বিমা খাতের মতো এবার বস্ত্র খাতেও যাচাই বাছাই ছাড়া ঢালাও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

জুনে অর্থবছর শেষ হবে। এই পরিস্থিতিতে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে, এমন কোম্পানির দাম বাড়া অস্বাভাবিক না হলেও সেসব কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ আসবে না, বরং অস্তিত্ব সংকটে আছে, এমন কোম্পানির দামও বাড়ছে।

এটির পেছনে কোনো কারসাজি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে নিয়মিত লভ্যাংশ দেয়, আয় ভালো, শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য বেশ আকর্ষণীয়, এমন মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানিই অভিহিত মূল্যের আশেপাশে রয়েছে।

কিন্তু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এগুলোর বদলে শেয়ার সংখ্যা কম- এমন কোম্পানির প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। প্রায়ই দেখা যায়, এসব লোকসানি কোম্পানির দাম একদিনে যত বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়ে সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ার এক দিনে কী পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে, তাকে বলে সার্কিট ব্রেকার। লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া, এই সার্কিট ব্রেকার থাকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। তবে ১০ পয়সা করে বাড়া বা কমার সুযোগ থাকায়, তখনও কখনও শতকরা হিসেবে কিছুটা কম বাড়তে বা কমতে পারে।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে বন্ধ হয়ে যায় পুঁজিবাজারের লেনদেন। ৬৬ দিন পর জুলাইয়ে লেনদেন চালু হলে বিমা খাতে দেখা যায় ঢালাও দর বৃদ্ধির প্রবণতা। চালু থাকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত।

এরপর ৫ এপ্রিল লকডাউন থেকে বিমায় দ্বিতীয় দফা দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়। গত এক বছরে একটি কোম্পানির শেয়ার দর ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। তিন থেকে আট গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বাকিগুলোর।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
হঠাৎ করেই ঢালাও ভাবে বেড়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানির শেয়ারের দাম

বিমার শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত সপ্তাহের শেষে বস্ত্র খাতেও বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই খাতে মোট ৫৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিক ঘোষণা করেছে, এমন ২০টি কোম্পানি ব্যাপক লোকসানে আছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক ঘোষণা করা আছে, এমন আরও দুটি কোম্পানিও লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মুনাফায় থাকা কোম্পানির পাশাপাশি ঢালাও দাম বাড়ছে এসব লোকসানি কোম্পানিরও।

পুঁজিবাজারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একক কোনো খাত নিয়ে বলা কঠিন। তবে বস্ত্র ও বিমা খাতে যেভাবে ঢালাও দাম বাড়ছে, সেটা ঠিক নয়। যারা শেয়ার কিনছে, তাদের ভাবা উচিত।’

এখানে আইনত কী করার আছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যিনি কিনছেন, তিনি তো তার নিজের টাকায় কিনছেন। এটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিনিয়োগকারীরা সচেতন না হলে আপনি তো আটকাতে পারবেন না।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনো খাতে ঢালাও দাম বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য না। বিমার ক্ষেত্রে তাও কিছু ঘোষণা ও কারণ ছিল। কিন্তু বস্ত্রের কী হলো তার তো কারণ বুঝতে পারছি না।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর বেশ কিছু আইনি সংস্কার হয়েছে। কারসাজির অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের জরিমানাও করা হয়েছে। তবে বিমা খাতে অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে কোনো তদন্তের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি সংস্থাটিকে।

বস্ত্র খাতেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই অনুসন্ধানের।

সংস্থাটির মুখপাত্র রেজাউল করিম একাধিকবার নিউজবাংলাকে বলেছেন, শেয়ারের দাম বাড়বে কি কমবে, এটা দেখা তাদের দায়িত্ব নয়। তারা কেবল দেখবেন, কোনো গুজব ছড়িয়ে বা অনিয়ম করে দাম বাড়ানো হয়েছে কি না, এমন কোনো অভিযোগ এখনও তারা পাননি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম সম্প্রতি বলেছেন, ভুল শেয়ারে বিনিয়োগ করলে সে দায়িত্ব বিএসইসি নেবে না।

গত ৩১ মে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘কমিশন কখনও নির্ধারণ করতে পারে না কোন শেয়ারের দর বাড়বে, কোনটির দর কমবে। তাই ভুলে শেয়ার কেনার দায় কমিশনের না।’

লোকসানি কোম্পানির দামে লাফ

ঢাকা ডায়িং

সবচেয়ে বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে এই কোম্পানিটির । ২০১৫ সালের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটি ২০১৮ সালের পর আর কোনো হিসাবও দেয়নি। কিন্তু গত ১১ এপ্রিল থেকে আকাশে উঠে যেতে চাইছে দাম।

সেদিন দাম ছিল ৭ টাকা ৪০ পয়সা। এখন দাম ১৭ টাকা ৩০ পয়সা। দাম বেড়েছে ১৩৩ শতাংশের বেশি।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ঢাকা ডায়িংয়ের শেয়ারের দাম

রিং সাইন টেক্সটাইল

২০১৯ সালের পর আর্থিক হিসাব না দেয়া কোম্পানিটি বন্ধ করে দিয়ে মালিকপক্ষ দেশ ছেড়ে তাইওয়ানে চলে গেছে। তবে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে সেটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। আর নতুন করে উৎপাদন শুরুর পর্যায়ে চলে এসেছে সেটি।

কিন্তু উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই শেয়ার দামে দিয়েছে লাফ। গত ১২ মে দাম ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। সেখান থেকে লাফ দিয়ে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা। শতকরা হিসেবে এক মাসে দাম বেড়েছে ৭৫.৮০ শতাংশ।

জেনারেশন নেক্সট

সামান্য কিছু মুনাফা করার পর গত দুই বছর ধরে লভ্যাংশ দিতে না পারা চলতি বছর তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ৩ পয়সা।

গত ২৯ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৩ টাকা। সেখান থেকে ৭০ শতাংশ বেড়ে বৃহস্পতিবার দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম ছিল ৪ টাকা ৭০ পয়সা। এক দিনে বাড়া সম্ভব ছিল ৪০ পয়সা, তাই বেড়েছে বৃহস্পতিবার।

ইভেন্স টেক্সটাইল

তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১৪ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটির দাম গত ৪ মে ছিল ৬ টাকা ৭০ পয়সা। সেখান থেকে এক মাসে ৫৫ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪০ পয়সা।

সাফকো স্পিনিং

মিলে লোকসান যত বাড়ছে, শেয়ার মূল্য বাড়ছে তত।

গত ২৯ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা। সেখান থেকে হঠাৎ করেই বাড়তে বাড়তে দাম পৌঁছে ১৬ টাকা ৪০ পয়সা।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
দাম বৃদ্ধি অব্যাহত আছে রিং শাইনেরও

এই দাম বাড়ার পেছনে দৃশ্যত কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। উল্টো যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, তাতে শেয়ার দামে এমন উত্থান হওয়ার কথা ছিল না।

কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি দুই টাকা ৯ পয়সা আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুই টাকা ৪৩ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি সাড়ে পাঁচ পয়সা মুনাফা করার পরেও জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে লোকসান দাঁড়িয়েছে চার টাকা ৪৩ পয়সা।

চতুর্থ প্রান্তিকে অভাবনীয় কিছু না ঘটলে এই কোম্পানি থেকে এবার মুনাফার আশা না করাই ভালো।
বৃহস্পতিবার এক লাফে ১০ শতাংশ দাম বাড়া জাহিন স্পিনিং মিলও বছরের তিন প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ার প্রতি লোকসানে আছে এক টাকা ৩৭ পয়সা।

ডুবন্ত এই কোম্পানিতে আগ্রহ থাকার কথা ছিল না কারও। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল থেকে দাম বেড়ে প্রায় দেড়গুণ হয়ে গেছে। সেদিন দাম ছিল শেয়ার প্রতি ৫ টাকা। আর সেখান থেকে বেড়েছে ৫৪ শতাংশ।

রিজেন্ট টেক্সটাইল

তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ৯২ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটির শেয়ার দরও গত বৃহস্পতিবার মূল্য বৃদ্ধির প্রান্তসীমা ছুঁয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল শেয়ার দাম ছিল ৭ টাকা ২০ পয়সা। এখন দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪০ পয়সা। এই কয় দিনে বেড়েছে ৪৪.৪৫ শতাংশ।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
দাম বৃদ্ধি নিয়ে শেষ করেছে জেননেক্সট

তাল্লু স্পিনিং মিলস

২০১৫ সালের পর থেকে লভ্যাংশ না দেয়া ২০১৯ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে হিসাব দেয়ার পর দুই বছর আর কোনো হিসাবও দিচ্ছে না।

দাম বেড়েছে এই কোম্পানিটিরও। গত ৪ মে থেকে কোম্পানির শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৩৩.৩৩ শতাংশ।

৪ মে শেয়ারের দাম ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। বর্তমান দাম ৫ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৪০ পয়সা বেড়েছে। সেদিন এর চেয়ে বেশি বাড়ার সুযোগ ছিল না সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী।

সোনারগাঁও টেক্সটাইল

২০১২ সালের পরে কেবল ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি ৩০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটি চলতি বছর লভ্যাংশ দিতে পারবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ, বন্ধ থাকা কোম্পানিটি নয় মাসে শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে এক টাকা ২৯ পয়সা।

কিন্তু গত ৬ মে থেকে এই কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২৫.৪৫ শতাংশ।

৬ মে শেয়ার মূল্য ছিল ১৬ টাকা ৯০ পয়সা, আর বৃহস্পতিবার দাঁড়ায় ২১ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

চলতি বছর প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ৭৯ পয়সা। কিন্তু শেয়ার দামে হঠাৎ আগ্রহ দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটির লভ্যাংশ অনিশ্চিত।

গত ১ জুন কোম্পানিটির শেয়ার দাম ছিল ১২ টাকা ৩০ পয়সা। সেখান থেকে ২১.১৩ শতাংশ বেড়ে গেছে সাত কার্যদিবসে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ

গত নয় মাসে এই কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ৪ টাকা ১১ পয়সা। কিন্তু গত ৪ মের পর দাম বেড়েছে ১৮.৫১ শতাংশ। লোকসানি এই কোম্পানিটি সব শেষ লভ্যাংশ দিয়েছিল ২০১৫ সালে।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
ইটিএল-এরও শেয়ারদর বেড়েছে

মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং

সবশেষ ২০১৬ সালে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির মালিকরা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিতে চাইছেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে। বন্ধ থাকা কোম্পানিটি চলতি বছর তিন প্রান্তিক শেষে লোকসানে আছে এক টাকা ২৩ পয়সা।

কিন্তু গত ২০ মে থেকে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ১৮.৮২ শতাংশ। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এক দিনে দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা।

আর এন স্পিনিং মিল

২০১৮ সালের পর লভ্যাংশ দিতে না পারা কোম্পানিটি চলতি বছরও লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলেই ধারণা করা যায় এর ব্যালান্সি শিট দেখলে।

বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ১৬ পয়সা। ৪ মে শেয়ার মূল্য ছিল ৪ টাকা ২০ পয়সা। সেখান থেকে ১৭ শতাংশ বেড়ে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ১০ পয়সা।

জাহিন টেক্সটাইল

সবশেষ ২০১৮ সালে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটি এবারও কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না, এটা বলাই যায়। বছরের তিন প্রান্তিক শেষে শেয়ার প্রতি এখন লোকসান দুই টাকা ৫২ পয়সা।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
সাফকো স্পিনিং-এর দরও ওঠানামার মধ্যেই ছিল

কিন্তু শেয়ার মূল্যে যে লাফ তাতে এই অনিশ্চয়তার কোনো নমুনাই নেই। গত ১ জুন কোম্পানির শেয়ার দর ছিল ৫ টাকা ৯০ পয়সা। সেখান থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। আর এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এক দিনেই বাড়ে প্রায় ১০ শতাংশ।

হামিদ ফেব্রিক্স

লোকসানি এই কোম্পানিটি ফ্লোর প্রাইস ১৫ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হতো না বললেই চলে। গত ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রত্যাহারের পর দাম কমতে কমতে ১৩ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে।

কিন্তু ২১ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দাম। গত বৃহস্পতিবার শেয়ার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।

এর মধ্যে কোম্পানিটির বছরের তিন প্রান্তিকের আয়ের তথ্য চলে এসেছে। নয় মাসে শেয়ার প্রতি এক টাকা ৩১ পয়সা লোকসান দেয়া এই কোম্পানিটিরও লভ্যাংশ দেয়া প্রায় অসম্ভবই বলা যায়।

তার পরেও বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশের কিছুটা কম দাম বাড়ে কোম্পানিটির।

স্টাইল ক্রাফট

বছর পাঁচেক আগে তুমুল আলোচিত কোম্পানিটি কয়েক গুণ শেয়ার বাড়িয়ে লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে ফ্লোর প্রাইস ১৪৬ টাকা ৩০ পয়সাতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হতো না বললেই চলে। কিন্তু গত ৩ জুন ফ্লোর প্রত্যাহারের পর এই কোম্পানির দাম প্রথম দুই কার্যদিবসে কমলেও পরের দুই দিনে বেড়েছে ১১ টাকা ৩০ পয়সা।

তিন প্রান্তিকে এই কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ৫৬ পয়সা।

বাড়ছে বস্ত্রের লোকসানি কোম্পানির দামও, ধারণা কারসাজি
গত মাসে দর একেবারে পড়ে গেলেও চলতি মাসে দর বেড়েছে তাল্লুরও

প্রাইম টেক্সটাইল

শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটির দাম গত দুই কার্যদিবসে বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল

২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে একে বাঁচাতে চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম জানিয়েছেন, এই কোম্পানিটি চালু করা যাবে না বলেই তারা ভাবছেন। কোম্পানির উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করবেন।

কিন্তু বস্ত্র খাতে সাম্প্রতিক উত্থানের মধ্যে দাম বেড়ে গেছে এই কোম্পানিরও। গত ৬ জুন থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ দাম বেড়ে গেছে কোম্পানিটির। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বেড়ে ছুঁয়েছে সার্কিট ব্রেকারও।

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। ফাইল ছবি

এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেননি।

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিল মাস শেষে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিচ্ছে না কেউ।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যের কিনারায় পড়ে আছে।

বছরের শেষ দুই মাস মে ও জুনেও উন্নতি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দেয়ার পর থেকে নতুন ঋণ বিতরণ হচ্ছে না বললেই চলে; সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করছে। ঋণ বিতরণ যেটা বেড়েছে, সেটা আসলে প্রণোদনার ঋণে ভর করেই বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; গত অর্থবছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিল শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল শেষে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে ৮৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

আর এই এক বছরে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এতেই বোঝা যায়, মহামারিকালে নতুন কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি; সামান্য কিছু যা বিতরণ হয়েছে, তা চলমান কিছু ভালো প্রকল্পের ঋণ।

গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ২৩টি প্যাকেজের আওতায় মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এই এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেনি।

তবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, মহামারির ধাক্কায় গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সরকারি ঋণপ্রবাহেও একই হাল

প্রবৃদ্ধি কমেছে সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহেও। এপ্রিল শেষে সরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের অঙ্ক ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে এই এক বছরে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এই ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও এই একই লক্ষ্য ধরা ছিল, বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, প্রণোদনার ঋণ ছাড়া ব্যাংকগুলো এখন অন্য কোনো ঋণ বিতরণ করছে না। কোভিড-১৯-এর কারণে বিশেষ ছাড়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণের কিস্তিও আদায় করেনি ব্যাংকগুলো। সে কারণে নতুন ঋণ বিতরণের টাকাও নেই অনেক ব্যাংকের।

তিনি বলেন, ‘তাই, মাঝে প্রণোদনার ঋণের কারণে কয়েক মাস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও এখন তা আবার কমে এসেছে। এখন সেটা কতটা কমবে; সেটাই উদ্বেগের বিষয়।’

গত বছরের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ; যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে এপ্রিল মাস শেষে দেশে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

গত বছরের এপ্রিল শেষে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। আর সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবেই এপ্রিল শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সরকারি ঋণের ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ; আর বেসরকারি খাতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন ঋণের চাহিদাই নেই। সাম্প্রতিককালে যেসব খাতে ভালো ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি শেষ অবধি কোথায় গিয়ে ঠেকে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- সে জন্য উদ্যোক্তারা অপেক্ষা করছেন।’

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অবিনশ্বর: বরিস জনসন

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অবিনশ্বর: বরিস জনসন

জি-সেভেন সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক নীতি ও ট্রান্সআটলান্টিক জোটে আস্থা রাখে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে শান্তি ও উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই সম্পর্ক।’

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার মৈত্রীর সম্পর্ক অবিনশ্বর হিসেবে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে এমনটাই বলেন।

গত বছর করোনাভাইরাস মহামারি আঘাত হানার পর এই প্রথম বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের নেতারা যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল কাউন্টিতে তিনদিনের সম্মেলনে বসছেন। করোনার টিকা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অ্যাজেন্ডা নিয়ে শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে জি-সেভেন সম্মেলন। চলবে রোববার পর্যন্ত।

সম্মেলনে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোরে কর্নওয়ালে পৌঁছান বাইডেন।

সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার কর্নওয়ালের কারবিস বে রিসোর্টে বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন জনসন।

করোনার টিকা নিয়ে এরই মধ্যে অঙ্গীকার করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী বছর দরিদ্র দেশে ১০ কোটির বেশি টিকা দান করবে যুক্তরাজ্য।

অন্যদিকে বিশ্বের ৯২টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশসহ আফ্রিকায় ৫০ কোটি ফাইজারের টিকার ডোজ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

করোনাভাইরাসের ইতি টানার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি করোনার টিকা সরবরাহে সম্মেলনে জি-সেভেনের নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জনসন বলেন, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক নীতি ও ট্রান্সআটলান্টিক জোটে আস্থা রাখে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে শান্তি ও উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই সম্পর্ক।’

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন

গত দুই সপ্তাহে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে যেসব কোম্পানি

২০১০ সালের মহাধসের পর ২০১২ ও পরে ২০১৭ সালেও এভাবে অল্প সময়ের জন্য এই খাতে চাঙাভাব দেখা দিয়েছিল। কিন্তু পরে তা স্থায়ী হয়নি।

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাত নিয়ে দীর্ঘ যে হতাশা, তা দূর হওয়ার আশা তৈরি হতে না-হতেই আবার আশাহত হতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

অবমূল্যায়িত এই খাত নিয়ে চাঙাভাব এক মাসও স্থায়ী হয়নি। নতুন করে শেয়ার কেনায় আগ্রহও কমেছে।

দুর্দান্ত লভ্যাংশ, আয়ে প্রবৃদ্ধি, তবু ব্যাংক খাত ঝিমিয়ে। অথচ সূচক আর বাজার মূলধনে সবচেয়ে বেশি প্রভাবক এই খাত।

তবে নিয়মিত কমপক্ষে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে, এমন কোম্পানির শেয়ারের দামও এখন অভিহিত মূল্য ১০ টাকার আশপাশে, এমনকি নিচেও আছে। ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে এমন সব ব্যাংকের শেয়ার আছে, যেগুলো চলতি বছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে।

ব্যাংকের শেয়ারের দর একটাই কম যে, কোম্পানিগুলো যে হারে নগদ লভ্যাংশ দেয়, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে এখন শেয়ার কিনে রাখাই বেশি লাভজনক।

২০১০ সালের মহাধসের পর থেকে এই খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশা দূর হবে কি না, এ নিয়ে আলোচনা শুরু গত মে মাসের শুরুতে।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
মে মাস জুড়ে আলো ছড়িয়েছে ব্যাংক খাত। তবে কোনোটি ২৮, কোনোটি ৩০ মে থেকে যায় সংশোধনে

এরপর প্রায় চার সপ্তাহ চাঙা থাকে এই খাত। দাম বাড়তে থাকায় এই খাতের শেয়ার কেনাও বাড়াতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।

গত এক বছরে বিমা খাতের উত্থান দেখে ব্যাংক খাতের বিনিয়োগকারীরাও আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন।

বিমায় টানা উত্থান দেখা দেয় গত বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি এবং এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। এই সময়ে কোনোটির তিন গুণ, কোনোটির চার গুণ, কোনোটির পাঁচ গুণ, এমনকি কোনোটির ১০ গুণ দাম হয়েছে।

এর পরে ব্যাংক খাতেও উত্থান শুরু হওয়ায় এই খাতের বিনিয়োগকারীরাও আশান্বিত হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু জুন মাসের শুরুতে আবার ছন্দপতন। কারণ ছাড়াই কমছে দাম। সেই সঙ্গে লেনদেনের হিস্যা।

মোট লেনদেনের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ থেকে কমতে কমতে বৃহস্পতিবার গিয়ে ঠেকেছে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশে।

আকর্ষণীয় লভ্যাংশে বাড়ে আগ্রহ

অন্যান্য যেকোনো খাতের তুলনায় ব্যাংকের লভ্যাংশে ইতিহাস তুলনামূলক ভালো। মহামারির এই বছরে আগের চেয়ে বেশি, বিশেষ করে নগদ লভ্যাংশ পকেট ভরিয়েছে শেয়ারধারীদের।

অথচ বলাবলি হচ্ছিল, এই খাতে আয় কমে যাবে, লভ্যাংশ নেমে আসবে তলানিতে। আবার বছরের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দিয়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
গত ২৭ মে এক দিনে বাড়ে সব কটি ব্যাংকের শেয়ার দর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সীমা বা আশেপাশে লেনদেন হয় ৩১টির মধ্যে ১৪টি

তবে পরে দেখা যায়, বেশির ভাগ কোম্পানি আয় করেছে গত বছরের চেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করা ২৯টি ব্যাংক ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি নগদে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে, সেই সঙ্গে আসছে কয়েক কোটি বোনাস শেয়ার।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও ব্যাংকগুলোর মুনাফা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি।

এ অবস্থায় ৩ মে থেকেই এই খাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এর মধ্যে ২৭ মে সব কটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি, সাতটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম দিনের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়, আরও সাতটির দর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছায় তৈরি হয় ব্যাপক আশা।

স্থায়ী হলো না উত্থান

তবে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৩০ মে সংশোধনে যায় এই খাত।

পুঁজিবাজারে কোনো খাত বা কোম্পানির শেয়ার টানা বাড়ে না সাধারণত। আর তিন দিনের সংশোধনের পর ওই সপ্তাহের বুধবার আবার প্রায় সব ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ে। কিন্তু এরপর আবার টানা ছয় কার্যদিবস পড়ে যায় দাম।

২৭ মে থেকে একটি ব্যাংক দর হারিয়েছে ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ, একটি ১৮ শতাংশ, একটি ১৬ শতাংশ, আর বেশ কয়েকটি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ এই সময়ে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে প্রায় ১০০ পয়েন্ট। লেনদেনও বেড়েছে কয়েক শ কোটি টাকা।

২০১০ সালের মহাধসের পর ২০১২ ও পরে ২০১৭ সালেও এভাবে অল্প সময়ের জন্য এই খাতে চাঙাভাব দেখা দিয়েছিল। কিন্তু পরে তা স্থায়ী হয়নি।

কী বলছেন বিশ্লেষক

লভ্যাংশ ঘোষণার বিপরীতে ব্যাংকের শেয়ার দর যেভাবে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত ছিল, সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের হাতে এখন টাকা আছে, তারা যে খাত থেকে মুনাফা পাচ্ছেন, সেখাতেই ঢালাও বিনিয়োগ করছেন। ফান্ডামেন্টাল বা ভালো কোম্পানির যাচাই-বাছাই করছেন না।’

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন ব্যাংক খাত অবমূল্যায়িত

তিনি বলেন, ‘এতে পুঁজিবাজারে যেভাবে সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে। এই উত্থানে যদি ভালো কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ত, তাহলেও হয়তো বর্তমানে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা থাকত না।’

১০ শতাংশের বেশি কমেছে যেগুলোর

গত ২৭ মে থেকে যেসব ব্যাংকের শেয়ার দর ক্রমাগত কমছে, তার মধ্যে শীর্ষে এনসিসি ব্যাংক।

২৭ মে ব্যাংকটির দর ছিল ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার তা নেমে এসেছে ১৪ টাকা ১০ পয়সায়।

এই সময়ে ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অবশ্য এর মধ্যে লভ্যাংশের সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় হবে। সমন্বয়ের হিসাব করলেও দাম কমেছে ৩ টাকা ১০ পয়সা বা ১৮ শতাংশ।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার দর যতটা বেড়েছিল, কমেছে তার চেয়ে বেশি

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার দর গত ২৭ মে ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দর কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা।

ব্যাংকটির দর কমেছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ২০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তবে ৬ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় হয়েছে এই ব্যাংকটির। আর এই হিসাবে দাম কমেছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

সাউথইস্ট ব্যাংকের দর ২৭ মে ছিল ১৭ টাকা। বৃহস্পতিবার তা কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

ব্যাংকটির দর কমেছে ৩ টাকা ১০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দর ৩০ মে ছিল ১০ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৮ টাকা ৭০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আড়াই শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় ধরলে দাম কমেছে ১৩ শতাংশের কিছু বেশি।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার গত এক মাসে সর্বোচ্চ ছিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ১০ টাকা ৫০ পয়সায়।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা বা ১৬ শতাংশ।

এই ব্যাংকের ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় হয়েছে ধরলে দাম কমেছে ১২ শতাংশের মতো।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার দরও কমতে কমতে এক মাস আগের অবস্থানে নেমে এসেছে

এবি ব্যাংকের দর ২ জুন ছিল সর্বোচ্চ ১৬ টাকা ৩০ পয়সা। বৃহস্পতিবার তা কমে হয় ১৩ টাকা ৭০ পয়সা।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা ৬০ পয়সা বা ১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

প্রাইম ব্যাংকের দর ২৭ মে ছিল ২৬ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ২২ টাকায়।

ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা বা ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার দর ২৭ মে ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১১ টাকা ২০ পয়সা।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা বা ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ধরলে দাম কমে ১১ শতাংশ।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের দর ২৭ মে ছিল ১৫ টাকা। বৃহস্পতিবার তা নেমে আসে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ২ টাকা ২০ পয়সা বা ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ওয়ান ব্যাংকের দর ২ জুন ছিল ১৪ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার তা নেমে আসে ১২ টাকা ৯০ পয়সায়।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা বা ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। সাড়ে ৫ শতাংশ বোনাস হিসাব করলে দাম কমেছে ৯ শতাংশের মতো।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
আশা জাগিয়েও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে সাউথ ইস্ট ব্যাংক

২৭ মে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের দর ছিল ১৮ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম কমে হয় ১৬ টাকা ৮০ পয়সা।

কোম্পানিটির দর কমে হয় ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর ২ জুন ছিল ১৫ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ১৩ টাকা ৭০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ১১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ২৭ মে ছিল ২৩ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দর কমে হয় ২১ টাকা ৫০ পয়সা।

ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা বা ১০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে যেগুলোর

যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর ৩০ মে ছিল ২৩ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দর কমে হয়েছে ২১ টাকা ৩০ পয়সা।

ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর ২৭ মে ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১২ টাকা ৪০ পয়সায়।

ব্যাংকটির দর কমেছে ১ টাকা ২০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
ছয় বছরের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেও টিকতে পারেনি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের এই সময়ের তিনি তিন গুণ আয় করা প্রাইম

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার দর ৩০ মে ছিল ৮ টাকা ৬০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দাম কমে হয় ৭ টাকা ৯০ পয়সা।

লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা ব্যাংকটির দর কমেছে ৭০ পয়সা বা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকের দর ২৭ মে ছিল ৩০ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা ৪০ পয়সা বা ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর ৩০ মে ছিল গত এক মাসের সর্বোচ্চ ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ২৪ টাকা ৩০ পয়সায়।

শেয়ার প্রতি দর কমেছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার দর ১ জুন এক মাসের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৮ টাকা ৯০ পয়সা। একপর্যায়ে তা বুধবার উঠে যায় ৪০ টাকায়। তবে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৩৬ টাকায়।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা ৯০ পয়সা বা ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার দর ২৭ মে ছিল ১৩ টাকা ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ টাকা ৫০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ার দর কমেছে ১ টাকা বা ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ২৭ মে ছিল ২১ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ১৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৭ শতাংশ।

৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে যেগুলোর

উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক মাসে সর্বোচ্চ উঠিছিল ৩০ মে ২৫ টাকা। বৃহস্পতিবার তা কমে আসে ২৩ টাকা ৩০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

গত এক মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর সর্বোচ্চ ছিল ৩০ মে ৫২ টাকা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৪৮ টাকা ৬০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
তিন বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে উত্থানের পর আবার অভিহিত মূল্যের দিকে ছুটছে এবি ব্যাংক

সিটি ব্যাংকের গত এক মাসে সর্বোচ্চ দর ছিল ২৭ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

ব্যাংকটির শেয়ার দর কমেছে ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার গত এক মাসে সর্বোচ্চ উঠে ১৮ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ১৬ টাকা ৮০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক মাসে সর্বোচ্চ ওঠে ২৫ টাকা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ২৩ টাকা ৬০ পয়সায়।

ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক মাসে সর্বোচ্চ ছিল ৩৭ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৩৫ টাকা ৭০ পয়সায়।

ব্যাংকটির দর কমেছে ২ টাকা বা ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

৫ শতাংশের কম কমেছে যেগুলোর

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার গত এক মাসে সর্বোচ্চ বেড়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৩ টাকা ৯০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ২০ পয়সা বা ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর গত এক মাসে সর্বোচ্চ ওঠে ১৯ টাকা ২০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ১৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ৯০ পয়সা বা ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

চুপসে গেছে ব্যাংকের বেলুন
ব্যাংক খাতে উত্থান ধরে রাখতে পেরেছে ডাচবাংলা ব্যাংক

গত এক মাসে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর সর্বোচ্চ ছিল ৩১ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৩০ টাকা ৭০ পয়সায়।

ব্যাংকটির শেয়ার দর কমেছে ৭০ পয়সা বা ২ দশমিক ২২ শতাংশ।

ব্যতিক্রম কেবল ডাচ-বাংলা

গোটা খাতে দর সংশোধনের মধ্যে একমাত্র উজ্জ্বল ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। গত ২৭ মে দাম ছিল ৬৩ টাকা। বৃহস্পতিবার ৩ টাকা ২০ পয়সা হারালেও এর শেয়ারের দাম এখন ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

অর্থাৎ এক মাসে এই কোম্পানির দামে উল্লম্ফন হয়েছে। বেড়েছে ২৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

গত এক মাসে ঠিক উত্থান না হলেও দর ধরে রাখতে পেরেছে রাষ্ট্রায়াত্ব রূপালী ব্যাংক। এই ব্যাংকটি ৩১ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত উঠার পর এক পর্যায়ে ২৮ টাকায় নেমে এলেও বৃহস্পতিবার প্রায় ১০ শতাংশ দাম বেড়ে হয় ৩০ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

স্বপ্নে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ পণ্য

স্বপ্নে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ পণ্য

সুপার শপ স্বপ্নে ‘আমেরিকান শেলফ’ এর উদ্বোধন করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্থার মিলার। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে শুক্রবার সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আপনারা কি কখনো আমেরিকার অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্যপণ্যগুলো পরখ করে দেখার ইচ্ছা হয়েছে? এখন আপনি চাইলে সেটা করতে পারবেন।’

সুপার সপ ‘স্বপ্ন’ তাদের ১০টি আউটলেটে আমেরিকান ১০০ পণ্য বিক্রি করবে বলে জানিয়েছে দেশটির ঢাকা দূতাবাস।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে শুক্রবার সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আপনারা কি কখনো আমেরিকার অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্যপণ্যগুলো পরখ করে দেখার ইচ্ছা হয়েছে? এখন আপনি চাইলে সেটা করতে পারবেন।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রদূত মিলার বাংলাদেশে স্বপ্নর ১০টি বিক্রয়কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টিরও বেশি উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য ও পানীয়সহ শুকনো ফলমূল, গাছের বাদাম, শস্য থেকে তৈরি খাবার সিরিয়েল, চকলেট ও আরও অনেক পণ্য নিয়ে সজ্জিত ‘আমেরিকান শেলফ’ এর উদ্বোধন করেন।

মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে দিনে দিনে আমেরিকার পণ্য বেশি করে পাওয়া যাচ্ছে দেখে আমি খুবই আনন্দিত। আমি জানি, বাংলাদেশের মানুষের কাছে খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার বিশ্বাস, ভোক্তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যপণ্যগুলো খুবই সুস্বাদু ও গুণগত মানসম্পন্ন হবে।

স্বপ্নে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ পণ্য

‘আমি প্রত্যাশা করি, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কৃষি বাণিজ্য আরও উৎসাহিত হবে। আমি আশা করি, শীঘ্রই আমি বাংলাদেশে বসে আমার নিজ রাজ্য মিশিগান থেকে আসা অসাধারণ পনির, আপেল, চেরি ও অন্যান্য দারুণ সব খাদ্যপণ্য উপভোগ করতে পারব। আমি আরও আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারাও একদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে বাংলাদেশের আম ও লিচুর মত অসাধারণ ফল ও অন্যান্য খাবার উপভোগ করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

বিকল্প পণ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা কুষ্টিয়া চিনিকলের

বিকল্প পণ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা কুষ্টিয়া চিনিকলের

মৌসুমের তিন মাস ছাড়া বাকি সময় পড়ে থাকে কুষ্টিয়া চিনিকলের বিশাল এলাকা। এখানে অটো রাইস মিল বসানো হলে লাভের মুখ দেখা সম্ভব। পরিশোধিত পানি থেকেও আয় করা সম্ভব। এ ছাড়া চিটাগুড় দিয়ে তৈরি করা যায় মদ।

বিকল্প পণ্য উৎপাদন করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে কুষ্টিয়া সুগার মিল। ১২ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বৈঠকের জন্য তেমন প্রস্তাবই দেয়া হয়েছে।

লোকসানের ভারে গত ডিসেম্বরে মাড়াই বন্ধ করে দেয়া হয় যে ছয়টি চিনিকলে, তার একটি কুষ্টিয়ার এই মিল। সামনের মৌসুমেও এখানে মাড়াই বন্ধ থাকবে। মিল এলাকায় যে সামান্য আখ চাষ হয়েছে, তা দিয়ে মৌসুম চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মিলের কর্মকর্তারা।

৬০ বছরের পুরোনো এই শিল্প একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত এলাকার মানুষ।

মিলের সেন্টার ইনচার্জ (সিআইসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, গত মৌসুম থেকে মাড়াই বন্ধ রয়েছে। এ জন্য আখচাষিদের ঋণ, সার, কীটনাশক, বীজ কোনো কিছুই দেয়া হয়নি। এতে অনেকেই আখ লাগাননি। যাদের আখ ছিল তাদের অনেকেই বিক্রির পর মুড়ি আখও ভেঙে ফেলেছেন।

তিনি আরও জানান, তাদের এখন পর্যন্ত করা সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, মিল এলাকায় ১ হাজার ৬০০ একরে আখ চাষ হয়েছে। অথচ মিলটি চালাতে ১০ হাজার একরের আখ দরকার হয়।

সরকার চাইলে এসব আখ পার্শ্ববর্তী মিলে সরবরাহ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

প্রায় ৬০০ কোটি টাকা লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এখনও অবশ্য স্বপ্ন দেখছেন শ্রমিকনেতারা। তারা বলছেন, চাল, পানি ও অ্যালকোহলের মতো বিকল্প পণ্য দিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

কুষ্টিয়া চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর বলেন, ‘সুগার মিল চলে তিন মাস। বাকি সময় এই বিশাল জায়গা পড়েই থাকে। এখানে কয়েকটি অটো রাইস মিল বসিয়ে দেয়া গেলে লাভের মুখ দেখা সম্ভব।’

ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, ‘সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে পানির ফিল্টার বসানো হচ্ছে। এখানকার পরিশোধিত পানি সারা দেশে সরবরাহ করলে ব্যাপক লাভ করা সম্ভব।

‘আর চিটাগুড় দিয়ে মদ তৈরি করা যায়। এসব বাই প্রোডাক্ট দিয়ে দুই থেকে চার বছরের মধ্যেই আগের লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

আগামীকাল শনিবার ১৬টি মিলের এমডি, মন্ত্রী এবং করপোরেশনের মধ্যে বৈঠক হবে। সেখানে এসব প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানান এই শ্রমিক নেতা।

চিনিকলগুলো চালু করা হলে অস্থিতিশীল চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে দাবি এই খাতের শ্রমিকরা। তারা জানান, এরই মধ্যে চিনির বাজার চড়া হয়ে গেছে। তাই মিলগুলো গুটিয়ে না ফেলে আধুনিকায়ন করা উচিত।

সুগার মিলের এমডি রাকিবুর রহমান খান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও করপোরেশনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই মিলের ভাগ্য।’

কুষ্টিয়া শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে জগতি এলাকায় ১৯৬১ সালে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে এটি চিনি উৎপাদন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে।

শুরুতে লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সাল থেকে লোকসানের মুখে পড়ে। এরপর প্রতিবছরই লোকসানের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এরপর ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে কুষ্টিয়া চিনিকলসহ ৬টি মিলের আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

এর আগে থেকেই অবশ্য আন্দোলনে ছিলেন এখানকার শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিরা।

এদিকে গুদাম থেকে ৫২ দশমিক ৭ টন চিনি গায়েব হয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনায় এসেছে কুষ্টিয়া চিনিকল। এ ঘটনায় ঢাকা থেকে আসা শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল কাজ করেছে।

মিলের শ্রমিকনেতারা জানান, কয়েক বছর আগে থেকেই অল্প অল্প করে চিনি সরানো হয়। গত মৌসুমে মাড়াই না থাকায় চিনির মজুত ১০০ টনের কাছাকাছি চলে আসায় চোখের আন্দাজে চিনি কম থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। বর্তমানে কারখানায় ৭০ টনের মতো চিনি মজুত আছে। বাকি ৫২ দশমিক ৭ টন চিনির কোনো হদিস নেই।

শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, প্রতিনিয়তই এ ধরনের চুরি হয়ে থাকে। কিন্তু গুদামে প্রচুর চিনি থাকায় অসংগতি চোখে পড়ে না।

৩ জুন বিষয়টি টের পাওয়ার পর স্টোরকিপার ফরিদুল হককে বরখাস্ত করা হয়েছে। চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) কল্যাণ কুমার দেবনাথকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটিও কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

ব্যাংকে হিসাব খোলার ফি বেঁধে দিল সরকার

ব্যাংকে হিসাব খোলার ফি বেঁধে দিল সরকার

এখন থেকে গ্রাহকরা ৫০০ টাকা দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব এবং চলতি হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা জমা করে নিজ নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো টাকা জমা রাখে। কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহককে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রাখতে বাধ্য করে। এবার এ সীমা উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এখন থেকে গ্রাহকরা ৫০০ টাকা দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব এবং চলতি হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা জমা করে নিজ নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

পাশাপাশি ব্যাংকের আমানত-ঋণে রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠিয়েছে।

হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি

সঞ্চয়ী হিসাবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে কোনো অ্যাকাউন্টস মেইনটেন্যান্স ফি নেই।

যদি কোনো সঞ্চয়ী হিসাবে গড় আমানত ১০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে হয় তাহলে ওই হিসাবধারীর কাছ থেকে ব্যাংক ষান্মাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নিতে পারে।

যদি গড় আমানত স্থিতি ২৫ হাজার টাকার বেশি, কিন্তু দুই লাখ টাকার কম হয়, তাহলে অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স ফি ছিল ছয় মাসে ২০০ টাকা।

দুই লাখ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত গড় আমানত হিসাবের ক্ষেত্রে এই ফি ছিল ছয় মাসে ২৫০ টাকা।

১০ লাখ টাকার বেশি গড় আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি ছিল ছয় মাসে ৩০০ টাকা।

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে এক নির্দেশে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত গড় আমানতবিশিষ্ট সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে বছরে একবার ২৫০ টাকা অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স ফি দিতে হবে বলে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেটা ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর।

কিন্তু নতুন নির্দেশনায় ১০ লাখ টাকার বেশি গড় আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি ছিল ছয় মাসে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি হিসাবে প্রতি ষান্মাসিকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ও স্পেশাল নোটিম ডিপোজিট হিসাবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা আদায় করা যাবে।

বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবে কোনো প্রকার হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি আদায় করা যাবে না।

অন্য শাখায় হিসাব স্থানান্তর

একই ব্যাংকের অন্য শাখায় হিসাব স্থানান্তরের ক্ষেত্রে একই জেলায় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা এবং অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি আদায় করা যাবে।

বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবের ক্ষেত্রে অক্টিভেশন অফ ডরমেন্ট হিসাব বাবদ কোনো ফি আদায় করা যাবে না।

মেয়াদপূর্ব নগদায়ন ফি

বিভিন্ন মাসিক সঞ্চয়ী হিসাব (ডিপোজিট পেনশন স্কীম) বা এফডিআর বা অন্য কোন মেয়াদী আমানত মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নের ক্ষেত্রে নগদায়ন ফি বা অনুরূপ ফি আরোপ করা যাবে না।

হিসাব বন্ধকরণ ফি

হিসাব বন্ধকরণ চার্জ হিসেবে সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং এসএনডি হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা আদায় করা যাবে।

তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবগুলো হিসাব বন্ধকরণ বাবদ কোনো ফি আদায় করা যাবে না।

চেক বই ইস্যু

বিভিন্ন ধরনের হিসাবের বিপরীতে চেক বই ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণ করতে হবে। চেক বই হারানোর ক্ষেত্রে নতুন চেক বই ইস্যু বাবদ প্রকৃত খরচ ছাড়া অতিরিক্ত চার্জ/প্রসেসিং ফি আদায় করা যাবে না।

অন্যান্য ফি

বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে আরোপিত ন্যূনতম ব্যালেন্স ফি, ইনসিডেন্টাল চার্জ, লেজার ফি, সার্ভিস চার্জ, কাউন্টার ট্রানজেকশন ফি বা অনুরূপ ফি আদায় করা যাবে না।

‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব’ বলতে কৃষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন শ্রমিক, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুকিশোর, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগী, তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র কারখানার কারিগর এবং স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারীদের ব্যাংক হিসাবসহ সব ধরনের ১০, ৫০ ও ১০০ টাকায় খোলা হিসাবগুলোতে বলা হয়েছে।

ঋণ প্রদান

ঋণ প্রসেসিং ফি হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মোট মঞ্জুরীকৃত ঋণের সর্বোচ্চ দশমিক ৫০ শতাংশ আদায় করা যাবে, তবে এর পরিমাণ ১৫ হাজার টাকার বেশি হবে না।

৫০ লাখ টাকার অধিক পরিমাণ ঋণের ক্ষেত্রে এ হার হবে সর্বোচ্চ দশমিক ৩০ শতাংশ, তবে এর পরিমাণ ২০ হাজার টাকার বেশি হবে না।

ঋণ আবেদন ফি নামে কোনো ফি আদায় করা যাবে না।

কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ এবং কৃষি খাতে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ/পুনগর্ঠনের ক্ষেত্রে ঋণ প্রসেসিং/পুনঃতফসিলিকরণ/পুনর্গঠন ফি নামে কোন ফি/চার্জ/কমিশন আদায় করা যাবে না। তবে সিএমএসএমই ও কৃষি খাত ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ/পুনগর্ঠনের ক্ষেত্রে পুনঃতফসিলিকরণ/পুনগর্ঠন ফি বাবদ সর্বোচ্চ দশমিক ২৫ শতাংশ আদায় করা যাবে, তবে এর পরিমাণ ১০ হাজার টাকার বেশি হবে না।

ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ডকুমেন্টেশন ফি, সিআইবি চার্জ, স্ট্যাম্প চাজর্ এবং আইনী ও জামানত মূল্যায়ন ফি প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

রপ্তানি ঋণসহ যে কোনো ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে সুদ/মুনাফা হারের অতিরিক্ত কোনো সার্ভিস চার্জ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ফি, মনিটরিং/সুপারভিশন চার্জ, ঝুঁকি প্রিমিয়াম বা অনুরূপ অন্য যে কোন নামে অতিরিক্ত কোন চার্জ/ ফি/কমিশন আরোপ/আদায় করা যাবে না।

গ্রাহক কর্তৃক গৃহীত ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে পরিশোধের ক্ষেত্রে বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ দশমিক ৫০ শতাংশ বা অনুরূপ ফি আদায় করা যাবে। তবে কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে প্রদত্ত ঋণ এবং চলতি ঋণ বা ডিমান্ড লোনের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ফি আদায় করা যাবে না।

স্থানীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্য/রেমিট্যান্স

শতভাগ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার কমিশন প্রতি ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ দশমিক ২৫ শতাংশ, ডেফার্ড/ইউজান্স এলসি খোলার কমিশন প্রতি ত্রৈমাসিকে দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সাইট ও ব্যাক টু ব্যাকসহ অন্যান্য এলসি খোলার কমিশন প্রতি ত্রৈমাসিকে দশমিক ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা যাবে।

এলসি ট্রান্সমিশন, অ্যামেন্ডমেন্ট, কনফারমেশন, ক্যানসেলেশন, ফরেন করেসপন্ডেন্ট চার্জের ক্ষেত্রে মেইলিং, কুরিয়ার, টেলেক্স, সুইফট ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণ করা যাবে।

এলসি এডভাইসিং, অ্যামেন্ডমেন্ট ও ট্রান্সফার চার্জ বাবদ ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা যাবে।

এলসি অ্যাকসেপটেন্স চার্জ প্রতি ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং এলসি কনফারমেশন চার্জ প্রতি ত্রৈমাসিকে দশমিক ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা যাবে।

ফরেন করেসপন্ডেন্ট চার্জ (স্থানীয় অংশ), ডাটা ম্যাক্স, হ্যান্ডেলিং চার্জ, কপি ডকুমেন্ট এনডোর্সমেন্ট চার্জ, এলসি বাতিল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ অব্যবহৃত এলসি চার্জ আদায় করা যাবে না।

রপ্তানি বিল নেগোসিয়েশন কমিশন ও রপ্তানি বিল কালেকশন কমিশন সর্বোচ্চ দশমিক ১৫ শতাংশ নির্ধারিত হবে। তবে রপ্তানি বিল নেগোসিয়েশন ও কালেকশনের ক্ষেত্রে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ গেইন হয় সেক্ষেত্রে কমিশন বাবদ ৫০০ টাকার বেশি আদায় করা যাবে না।

ব্যাক টু ব্যাক এলসি সার্টিফিকেট ইস্যু, সিএন্ডএফ সার্টিফিকেট ইস্যু, রপ্তানি মূল্য আদায়ের সার্টিফিকেট ইস্যুর চার্জ ৫০০ টাকার অধিক আদায় করা যাবে না।

ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের ক্ষেত্রে কমিশন বাবদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ন্যূনতম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা যাবে।

এলসি খোলা/ অ্যাকসেপটেন্স/ কনফারমেশন/ব্যাংক গ্যারান্টি এক ত্রৈমাসিক বা এর চেয়ে কম সময়ের জন্য হলে সেক্ষেত্রে ব্যাংক নিজস্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ এক ত্রৈমাসিকের সমপরিমাণ চার্জ/কমিশন আদায় করতে পারবে। তবে, মেয়াদ যদি এক ত্রৈমাসিকের চেয়ে বেশি সময়ের জন্য হয় সেক্ষেত্রে যে তারিখে মেয়াদ পূর্ণ হবে শুধুমাত্র ওই নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত সময়কালের জন্য চার্জ/কমিশন আদায় করা যাবে।

বৈদেশিক মুদ্রায় ডিমান্ড ড্রাফট (উউ), টেলিগ্রাফিক, মেইল ট্রান্সফার প্রভৃতি ইন্সট্রুমেন্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে অনধিক এক লাখ টাকা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, একলাখ এক হতে অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, ৫ লাখ ১ টাকা হতে অনধিক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং ১০ লাখ টাকার অধিক সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে।

ইন্সট্রুমেন্টসমূহ বাতিলের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ২০০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে।

হিসাব সংক্রান্ত ও অন্যান্য

স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ ফি ষান্মাসিক ও বাৎসরিক ভিত্তিতে অর্থাৎ বছরে ২ বার ব্যাংকের আমানত ও ঋণ হিসাবধারী প্রত্যেক গ্রাহককে হিসাবের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ (হিসাব বিবরণীসহ) প্রদানের জন্য কোন চার্জ/ফি আদায় করা যাবে না। তবে গ্রাহককে বছরে ২ বারের বেশি এ সনদ গ্রহণ করতে হলে সে ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ১০০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে।

স্বচ্ছলতা সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ২০০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে।

চেক ফেরতের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ টাকা চার্জ আদায় করা যাবে।

বিও হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিও সনদ প্রদানের চার্জ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা আদায় করা যাবে।

গ্রাহক কর্তৃক হিসাব/চেকে প্রদত্ত অর্থ প্রদান নির্দেশনা স্থগিতকরণ চার্জ প্রতিবার অনুরোধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং অর্থ প্রদান নির্দেশনা স্থগিতকরণ বাতিলের ক্ষেত্রে প্রতিবার অনুরোধে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা আদায় করা যাবে।

পে-অর্ডার ইস্যুর ক্ষেত্রে অনধিক ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০ টাকা, ১,০০১ হতে অনধিক ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ টাকা এবং ১ লাখ টাকার অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে। পে-অর্ডার বাতিলের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে।

ডিমান্ড ড্রাফট, টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার, মেইল ট্রান্সফার ইন্সন্ট্রুমেন্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে অনধিক ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০ টাকা, ১,০০১ হতে অনধিক ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ টাকা, ১,০০,০০১ হতে অনধিক ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, ৫,০০,০০১ হতে অনধিক ১০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকার অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা চাজর্/ফি আদায় করা যাবে। ইন্সন্ট্রুমেন্টসমূহ বাতিলের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ টাকা চার্জ/ফি আদায় করা যাবে।

সিডিউল অব চাজের্স এর সর্বশেষ হালনাগাদকৃত পূর্ণ তালিকা স্ব স্ব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, সকল শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দর্শনীয় স্থানে/নোটিশ বোর্ডে এবং ব্যাংকের ওয়েবসাইটের হোম পেজ এ দিতে হবে।

ঘোষিত/প্রকাশিত তালিকা বহির্ভূত কোনো চার্জ/ফি/কমিশন আরোপ করা যাবে না।

প্রতিবছর ৩০ জুন ও ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে (ষান্মাসিক ভিত্তিতে) পরবর্তী ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি-জুন) ঘোষিত চার্জ/ফি/কমিশনের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে।

চার্জ/ফি/কমিশনের কোনো পরিবর্তন হলে আবশ্যিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে জানাতে হবে।

আরও পড়ুন:
ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ এবার হচ্ছে ঋণদাতা
রিজার্ভের প্রথম ঋণ পেল পায়রা সমুদ্রবন্দর
৪৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রিজার্ভ
রিজার্ভ চুরি: ৪৯তম বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
প্রথমবার রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগ

শেয়ার করুন