জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার

আম কেনাবেচা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম কেনাবেচা লকডাউনের আওতামুক্ত হলেও বাইরের ক্রেতা না থাকায় বাজার জমছে না। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্রিভাবে ব্যবসা করতে না পারলে কী ব্যবসা জমবে, লকডাউনে মানুষজন কম, কেমন করে ব্যবসা হবে। লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমের ব্যবসা জমবে না।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত দিনের বিশেষ লকডাউন চলছে। আম কেনাবেচা লকডাউনের আওতামুক্ত হলেও জেলায় বাইরের ক্রেতা না থাকায় বাজার জমছে না।

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে আমের বাজার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে বসানো হয়েছে। এতে কাঙ্খিত ক্রেতা না পাওয়ায় বাজার মন্দা, বলছেন ব্যবসায়ীরা।

আম নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুরাতন বাজার, বিশ্বরোড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কেনাবেচার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আম পাঠাচ্ছেন।

বিশ্বরোড মোড়ের আম ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্রিভাবে ব্যবসা করতে না পারলে কী ব্যবসা জমবে, লকডাউনে মানুষ কম, কেমন করে ব্যবসা হবে।’

লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমের ব্যবসা জমে উঠবে না বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া লকডাউনের মধ্যে জেলায় আর কোন যানবহন চলাচল করছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে যাত্রাবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও আম নিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।

পুলিশের ৫০টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে। পুলিশ সদস্যরা লকডাউনের বিধিনিষেধ মানাতে কাজ করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, জেলায় নতুন করে ১০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১৮৮ জনের নমুনায় ১০৭ জনের করোনা পজিটিভ আসে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় কেউ করোনা মারা যাননি।

তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়েছে, পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজ জানান, চলমান লকডাউনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে কিনা সোমবার সকালে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন

আম নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর-ঢাকা রুটে চলাচল করছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন।

গণভবন থেকে গত বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির যাত্রা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখন আমের মৌসুম। ভালো আম যাতে সারা দেশে পৌঁছে দেয়া যায় এবং সঙ্গে যেন ব্যবসাও হতে পারে সে জন্যই এ বিশেষ ট্রেন।

‘ট্রেনের নাম শুনলেই নিশ্চয়ই জিভে পানি চলে আসবে। রেলের মাধ্যমে যাতে সারা দেশে ডাক বিভাগের সেবা পৌঁছায় সে ব্যবস্থা আমরা দিচ্ছি।’

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে প্রতিকেজি আম পরিবহনে খরচ পড়বে এক টাকা ৩০ পয়সা। সপ্তাহে সাত দিনই চলছে এই ট্রেন।

আম পরিবহনে প্রতিটি ট্রেনে পাঁচটি লাগেজ ভ্যান রয়েছে। লাগেজ ভ্যানের ধারণক্ষমতা ৪৩ টন।

আরও পড়ুন:
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

মন্তব্য