প্রথমে বিমা, পরে ব্যাংক, এরপর বস্ত্র, আর সবশেষ মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
পুঁজিবাজারে এপ্রিল থেকে উত্থানে একটি প্রবণতা লক্ষণীয়, সেটি হচ্ছে যেদিন যে খাত বাড়ছে, সেদিন সেই খাতের সব কোম্পানির দামই বাড়ছে।
রোববার বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে নানা খাতে। একই খাতের কিছু শেয়ারের দাম বেড়েছে, কিছু কমেছে। তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের চিত্র অন্য রকম। এই খাতের একটির লেনদেন হয়নি। বাকি ৩৬টির সব কটির দামই বেড়েছে।
সর্বাধিক দর বৃদ্ধি পাওয়া ২০টি কোম্পানির মধ্যে চারটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আর ৩০টির মধ্যে আটটি।
জুন ক্লোজিং মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দাম গত এক মাসে ১২ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এক দশক ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই ফান্ডে আগ্রহ একবার দেখা গেছে গত বছরের শেষে। তবে বছরের শুরুতে আবার দেখা দেয় মন্দাভাব। তবে এপ্রিলের শুরু থেকে আবার দেখা যায় চাঙাভাব।
যে ৩৭টি তালিকাভুক্ত ফান্ড আছে, তার মধ্যে সিংহভাগই জুন ক্লোজিং। আর এক মাস পরেই তাদের হিসাব বর্ষ শেষ হয়ে যাবে। আর এরই মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় ঘোষণা করেছে। এই হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হাতে গোনা এক-দুইটা ছাড়া সব কটির আয় বেশ আকর্ষণীয়।
তিনটি প্রান্তিকের মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাজারে মন্দাভাব দেখা দিলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর একটি বড় অংশ মুনাফা করতে পেরেছে। আগের দুই প্রান্তিকের মুনাফা ছিল গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাজারে ছন্দপতন ঘটে। এই প্রান্তিকে সূচক পড়ে ৩৪০ পয়েন্ট। তবে এই প্রান্তিকে ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে মুনাফা করেছে ২৭টি। বাকি ১০টির মধ্যে দুটি ফান্ড বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েছে। আর আটটি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ পয়সা লোকসান করে।
তবে আগের দুই প্রান্তিকে বিপুল পরিমাণ মুনাফার কারণে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বেশ ভালো অঙ্কের আয় করায় এবার লোভনীয় লভ্যাংশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
লভ্যাংশের ক্ষেত্রে আশা দেখাচ্ছে এপ্রিল থেকে বাজারে দেখা দেয়া চাঙাভাব। গত ১১ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৭৩৮ পয়েন্ট। বাড়ছে ব্যাংকের শেয়ারের দরও।
ফলে এটা ধরাই যায় যে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ফান্ডগুলো বেশ ভালো মুনাফা করেছে। ফলে বাকি এক মাসে বাজারে বড় পতন না হলে জুন ক্লোজিংয়ে ভালো লভ্যাংশ দেবে, এটা ধরা যায়।
এর আগে গত বছরের ২ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ে ৯৭৭ পয়েন্ট। সে সময় বেশির ভাগ ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকার বেশি মুনাফা করে। কারও কারও মুনাফা দেড় টাকা, এমনকি কোনোটির দুই টাকার বেশি ছিল।
পুঁজিবাজারে ৩৭টির মধ্যে জুনে অর্থবছর গণনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে- এমন ফান্ডের সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যে ২৮টি ফান্ডই মুনাফায় আছে। দুটি লোকসানে।
ফলে গত ১০ বছরে ভালো লভ্যাংশ দিতে না পারা ফান্ডগুলো এবার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের।
অন্য শেয়ারের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নীতিমালায় পার্থক্য আছে। যেকোনো শেয়ার যতই আয় করুক, তার কত অংশ বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হিসেবে দিতে হবে, তার কোনো আইন নেই। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বার্ষিক সাধারণ সভায় বিনিয়োগকারীদের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। যদিও তাদের মতামতে লভ্যাংশ পাল্টেছে, এমন ঘটনা বিরল।
অন্যদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী যত আয় হবে, তার ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হবে। মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে নগদ অর্থের পাশাপাশি রিইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ইউনিট দেয়ার সুযোগ থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড আয়ের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে। এই ফান্ডটি গত বছর ব্যাপক লোকসান করেছিল এবং তাদের সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হয়েছে গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের আয়ে। এতে ফান্ডের মৌলভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করে বিএসইসি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছে। এরই অংশ হিসাবে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ইউনিটধারীদের তাদের আয় অনুযায়ী লভ্যাংশ প্রদান করে, সেদিকেও নজর রেখেছে বিএসইসি।
কেন এমন আগ্রহ
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড যারা পরিচালনা করেন তারা পুঁজিবাজারের সবচেয়ে দক্ষ। ফলে এ খাতের বিনিয়োগ খবুই কম ঝুঁকিপূর্ণ।
তাহলে কেন বিনিয়োগকারীরা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আগ্রহী হন না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন বিনিয়োগকারীরা ডে ট্রেডিং করতে পছন্দ করে। কিন্তু মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে ডে ট্রেডিংয়ে মুনাফা পাওয়া সম্ভব নয়। আর মুনাফা না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এ খাতের আগ্রহী হন না।’
এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ আবু তাহের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দর বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে এখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই খাতের বিষয়ে আন্তরিক। তারা সময় সময় এসব ফান্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। আগামী বাজেটেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।’
মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে প্রত্যাশা
গত ৩ মে বিদেশি কোম্পানিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এতে পুঁজিবাজারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, এমন প্রত্যাশা থেকে এ সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শনিবার এক অনলাইন ডায়ালগে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল-ইসলাম বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে আমরা অনেক কাজ করছি। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের যে সিলিং আছে, সেটি বৃদ্ধি করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকামকে ট্যাক্স ইনসেনটিভ করার অনুরোধ করেছি। জানি না এখানে কী হবে। তবে আমরা আশাবাদী।’
জুনে ব্যাপক মুনাফার ইঙ্গিত দিচ্ছে যেগুলো
ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬৬ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা।
এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৮২ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৯০ পয়সা।
৯ মাসে এশিয়ান টাইগার মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় দাঁড়িয়েছে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৯ পয়সা।
গত এক মাসে ৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা।
সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ৯ মাস শেষে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা।
গত এক মাসে ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৭০ পয়সা।
সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা।
গত এক মাসে ২১ টাকা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা।
ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৭১ পয়সা।
গত এক মাসে ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা।
ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা।
এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা।
এফবিএফআইএফ ইনকাম ফান্ড তৃতীয় প্রান্তিকে ১ পয়সা লোকসান করেও ৯ মাস শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা।
গত এক মাসে ৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা।
গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫১ পয়সা।
গত এক মাসে ১৬ টাকা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা।
আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২৫ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা।
আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ পয়সা।
গত এক মাসে ৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা।
আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড সব মিলিয়ে ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ৩১ পয়সা।
গত এক মাসে ৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৬০ পয়সা।
আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ৩০ পয়সা।
গত এক মাসে ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা।
আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ৪১ পয়সা।
গত এক মাসে ৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা।
আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা।
আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১১ পয়সা।
গত এক মাসে ৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা।
এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৯৬ পয়সা।
গত এক মাসে ১৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৩০ পয়সা।
ফিনিক্স ফিনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২৮ পয়সা।
গত এক মাসে ৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৯০ পয়সা।
পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১৭ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সায়।
পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ইউনিটপ্রতি ৯ মাসে আয় ১ টাকা ৪৪ পয়সা।
গত এক মাসে ৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা।
প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি সব মিলিয়ে আয় করেছে ৪১ পয়সা।
গত এক মাসে ৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সায়।
রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৬৯ পয়সা।
গত এক মাসে ১১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৯০ টাকায়।
সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৫৮ পয়সা।
গত এক মাসে ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা।
এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড তিন প্রান্তিক শেষে আয় করেছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা।
গত এক মাসে ৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সায়।
এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৮১ পয়সা।
গত এক মাসে ১০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ১০ পয়সায়।
এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ফান্ডে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১৪ পয়সা।
গত এক মাসে ৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সায়।
ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা।
গত এক মাসে ৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৯০ পয়সা।
লোকসানে দুটি
জুনে অর্থবছর শেষ হয়, এমন দুটি ফান্ড ৯ মাসে মাসে প্রায় দেড় হাজার পয়েন্ট সূচক বাড়ার পরেও লোকসানে আছে।
এর মধ্যে গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে প্রথম তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি লোকসান করেছে ১ টাকা ২ পয়সা।
গত এক মাসে ৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ২০ পয়সা।
ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি লোকসান দিয়েছে ইউনিটপ্রতি ৯৯ পয়সা।
গত এক মাসে ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে রোববার ফান্ডটির লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা।
চলতি বছর আকর্ষণীয় লভ্যাংশ
এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি ইউনিটধারীদের ৩১ মার্চ ২০২১ সময়ের জন্য ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ বা ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা।
আগের বছর ইউনিটপ্রতি ৬২ পয়সা লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি ফান্ডটি।
এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ড ইউনিটধারীদের ৩১ মার্চ ২০২১ সময়ের জন্য ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ বা ১ টাকা ১৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৯৫ পয়সা।
আগের বছর ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি লোকসান দিয়েছিল ৯৭ পয়সা। ইউনিটধারীরা তখন কোনো লভ্যাংশ পায়নি।
এর আগে লভ্যাংশ ঘোষণা করা ভ্যানগার্ড এএমসিএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্স ফান্ড গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে মুনাফা করেছে ১ টাকা ৬৮ পয়সা। এর বিপরীতে ইউনিটপ্রতি ১৬ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। তবে নিয়মানুযায়ী আয়ের ৭০ শতাংশ বা ১ টাকা ১৭ পয়সা লভ্যাংশ আকারে দেয়ার কথা।
কম হারে লভ্যাংশ ঘোষণার অনুমতি অবশ্য বিএসইসি দিয়েছে। কারণ হিসেবে আগের বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা লোকসান দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। এবারের আয়ে আগের বছরের লোকসানের সমন্বয় করা হয়েছ।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবরের হিসাব পর্যালোচনা করে এনসিসি ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৭২ দশমিক ৫ পয়সা শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
ফান্ডটি শেয়ারপ্রতি আয় করে ১ টাকা ১২ পয়সা। অথচ আগের বছর তাদের ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ৪৮ পয়সা।
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে মাসব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যাক্টিভেশন’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন হয়। দুই আয়োজনেই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের ২৭টি জেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে নগদ ব্র্যান্ডেড ক্যারাভানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় এবং জনপ্রিয় ক্রীড়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপজুড়ে চলবে আয়োজনটি।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন, স্পোর্টস কুইজ, ফুটবলভিত্তিক গেমস এবং প্লেস্টেশন ৫ গেমিং প্রতিযোগিতা। বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে মিনি ফুটবল, নগদ ব্র্যান্ডেড জার্সি, রিস্টব্যান্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
প্রথম দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের টেনিস কোর্টে। এতে জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় মাতসুশিমা সুমাইয়া অংশ নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন কুইজ, ফুটবলভিত্তিক আয়োজন ও গেম শোতে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রিয় ফুটবল তারকার সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজনীন নাহার নিপা বলেন, ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন সত্যিই আমাদের চমকে দিয়েছে। মাতসুশিমা সুমাইয়ার মতো তারকাকে কাছ থেকে দেখা এবং বিভিন্ন ফুটবল ও গেমিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপের এই আমেজ আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নগদকে ধন্যবাদ।
একই দিনে ঢাকা কলেজেও অনুষ্ঠিত হয় নগদের বিশ্বকাপ অ্যাক্টিভেশন কর্মসূচি। সেখানে শিক্ষার্থীরা স্পোর্টস কুইজ, গেমস ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নগদের হেড অব মার্কেটিং এইচ ইউ এম মেহেদী সাজ্জাদ উল্লেখ করেছেন, ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। নগদ প্রতিদিন নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত আর্থিক সেবার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলছে।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে এই কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ কুইজ ও রিচার্জভিত্তিক ক্যাম্পেইনও চালু করেছে নগদ। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে গ্রাহকরা বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার পাশাপাশি বিদেশে জাতীয় ফুটবল দলের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ২১ টি কর্পোরেট শাখার ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপসহ সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স সংগ্রহের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও ২০২৬ সালের সকল ব্যবসায়িক সূচকসমূহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর্পোরেট শাখা প্রধানগণকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এসময় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসুমা আলম, মো. আবুল বাশার ও রূবানা পারভীন, মহাব্যবস্থাপকগণ, সার্কেল প্রধান ও কর্পোরেট শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, উদ্ভাবন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন বস্ত্র প্রস্তুতকারক, সোর্সিং পেশাজীবী, ক্রেতা, ব্র্যান্ড, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিল্প নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনাব রাজেশ ভগত (চেয়ারম্যান ও এমডি, ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া), জনাব মুরালি বালকৃষ্ণ (জয়েন্ট ডিরেক্টর, টেক্সপ্রোসিল), জনাব মো. আব্দুল হামিদ পিন্টু (সভাপতি, বিজিবিএ) এবং জনাব মোহাম্মদ হাতেম (সভাপতি, বিকেএমইএ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এক্সপোর্ট উইং প্রধান জনাব আব্দুর রহিম খান।
ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৩০০-এর বেশি বুথ অংশগ্রহণ করছে, যা চারটি নির্ধারিত প্রদর্শনী হলে বিস্তৃত। প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফাইবার, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, কৃত্রিম ফাইবার, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, কম্প্লায়েন্স সলিউশন, ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তি এবং টেকসই বস্ত্র উদ্ভাবন।
টেক্সপ্রোসিল, মেটেক্সিল এবং পিডেক্সসিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন’-এ ৭৫টিরও বেশি ভারতীয় কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে, যারা তুলা, এমএমএফ, টেকসই ফেব্রিক এবং মূল্য সংযোজিত সোর্সিং সমাধান উপস্থাপন করছে। ‘চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়ন’-এ চীনের প্রধান বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রদেশগুলো থেকে ৭০টিরও বেশি প্রস্তুতকারক অংশগ্রহণ করছে, যারা ফ্যাশন ফেব্রিক, ফাংশনাল ম্যাটেরিয়াল, প্রযুক্তিগত বস্ত্র এবং পোশাক অ্যাকসেসরিজ উপস্থাপন করছে।
‘ইন্টারন্যাশনাল প্যাভিলিয়ন’ এই পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে, যেখানে তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং এবং উজবেকিস্তান থেকে আগত প্রদর্শকরা সোর্সিং পেশাজীবীদের জন্য উন্নত বস্ত্র প্রযুক্তি এবং পারফরম্যান্স ফেব্রিক উপস্থাপন করছেন।
জনাব আব্দুর রহিম খান বলেন, "উদ্ভাবন, কম্প্লায়েন্স এবং দক্ষ মানবসম্পদে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ফ্যাশন ও বস্ত্র সোর্সিংয়ের পরবর্তী অধ্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, ইনটেক্স বাংলাদেশের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।"
জনাব রাজেশ ভগত বলেন, "ইনটেক্স বাংলাদেশের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো এই শিল্পখাতকে উচ্চমানের সরবরাহকারী, বৈচিত্র্যময় পণ্য উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ প্রদান করা। এই প্ল্যাটফর্মটি একটি বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্ব বাজারে যুক্ত হতে পারে — কেবল সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে।"
প্রদর্শনীর পাশাপাশি, হল ৪-এর ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ’-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন: “স্কেলিং সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্রস গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনস” (১৮ জুন, টেক্সটাইলজেনেসিসের সহযোগিতায়) এবং “ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স” (২০ জুন, ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায়), যেখানে আলোচনা করা হচ্ছে ট্রেসেবিলিটি, টেকসইতা এবং বিশ্ব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিয়ে।
এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, ভারত, হংকং, চীন, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোর্সিং পেশাজীবী এবং ক্রেতা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
পদোন্নতি পেয়ে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) মোহাম্মদ মামুন ফারুক।
তিনি এখন হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের (ডব্লিউবিডি) প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামুন ফারুক ১৯৯৯ সালে সিটি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগ দেন। ব্যাংকিং পেশায় তার অভিজ্ঞতা ২৬ বছরের বেশি সময়ের।
এমটিবিতে তিনি শাখা ব্যাংকিং, ট্রেড অপারেশনস ও রিলেশনশিপ ব্যাংকিং এবং করপোরেট ব্যাংকিংয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক স্থাপনা শান্তা পিনাকলে নতুন আউটলেট চালু করেছে বিউটি ও লাইফস্টাইল রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সুন্দরা’।
নতুন এই আউটলেটে ১৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিউটি, পারফিউম, স্কিনকেয়ার ও অন্যান্য লাইফস্টাইল পণ্য পাওয়া যাবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা স্টোর নেটওয়ার্কের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফরম sundora.com.bd -এর মাধ্যমেও গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজারে পরোটার চাহিদা বেড়েই চলছে। তাই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরোটা উৎপাদন লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বুধবার (১৭ জুন) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ১৮৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাজীপুরে অবস্থিত কারখানায় একটি নতুন পরোটা উৎপাদন লাইন কিনে স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান বাজার চাহিদা মোকাবিলা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
কোম্পানি মনে করছে, নতুন উৎপাদন লাইন চালু হলে পরোটা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়বে।
তবে নতুন উৎপাদন লাইনের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, স্থাপনের সময়সীমা কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়বে— এসব বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএসইর প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গোল্ডেন হারভেস্টের অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন ২১৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২১ কোটি ৫৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬২১টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩০ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ, বিক্রেতা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দারাজের বিনিয়োগ ও পরিচালনা কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি এ অবস্থান স্পষ্ট করে। দারাজ জানিয়েছে, আলোচিত বিষয়গুলো তাদের বর্তমান কৌশলগত অগ্রাধিকার বা দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতিফলন নয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
গত এক বছরে দারাজ প্ল্যাটফর্মে ৭ হাজারের বেশি নতুন বিক্রেতা যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতা ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে দারাজ। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি অনুদান দেওয়া হয়।
দারাজ বাংলাদেশের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “দারাজ বাংলাদেশে তার কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়, যাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।”
দারাজ জানিয়েছে, বিক্রেতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহক অভিজ্ঞতার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারে তারা কাজ চালিয়ে যাবে। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্তারকে সামনে রেখে শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিষ্ঠানটি মনে করে।
মন্তব্য