কলার কেজি ৪৫ টাকা

দ্য বাস্কেট এর বিজ্ঞাপন

কলার কেজি ৪৫ টাকা

দ্য বাস্কেট বলছে, ৫৮ টাকা কেজি দরে তারা কলা বিক্রি করত। অফারের আওতায় ১৩ টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে লটে কলা কিনে কেজিতে বিক্রি নিয়ে চলছে সমালোচনা। ক্যাব বলছে, এটি প্রতারণা।

হালিতে নয়, একটি সুপারশপ কলা বিক্রি করছে কেজিতে। ওজন হিসাবে ১০০০ গ্রাম কলার দাম ধরা হয়েছে ৪৫ টাকা।

অবশ্য আগে থেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি কেজিতে কলা বিক্রি করত। আগে সমপরিমাণ কলা হাতবদল হয়েছে ৫৮ টাকায়।

অভিনব এই অফার চলছে চট্টগ্রামের খুলশীর সুপারশপ দ্য বাস্কেটে। পিক অফ দ্য উইক শিরোনামের ক্যাম্পেইনের আওতায় বৃহস্পতিবার থেকে কেজিতে কলার দাম কমানো হয়েছে। এই দরকে ‘বেস্ট প্রাইস ইন টাউন’ বলছে প্রতিষ্ঠানটি।

দ্য বাস্কেট বলছে, ৫৮ টাকা কেজি দরে তারা কলা বিক্রি করত। অফারের আওতায় ১৩ টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। লোকসান কাটাতে নেয়া হয়েছে এই কৌশল।

দ্য বাস্কেটের হেড অফ অপারেশন নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা লটে পণ্য কিনি। সেখানে কলা ছোটবড় থাকে। কিন্তু পিস হিসেবে বিক্রি করলে দেখা যায়, ছোট কলাগুলো থেকে যাচ্ছে। তখন এসব কলা বিক্রি হয় না, পচে যায়। লোকসান এড়াতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কেজি দরে কলা বিক্রি করব। এর আওতায় আমরা অফারটি দিয়েছি।’

লটে পণ্য কিনে কেজি দরে বিক্রি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।

তিনি বলেন, সুপারশপ কিনছে লটে। বিক্রি করছে কেজি দরে। এটা এক ধরনের প্রতারণা। প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘দ্য বাস্কেট কেজি দরে কিনে কেজিতে বিক্রি করলে সমস্যা নেই। তবে লটে কিনে কেজিতে বিক্রি করলে প্রতারণা। আমরা এটি খতিয়ে দেখব। প্রতারণা হলে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবার ঠিকাদারদের জন্য দুঃসংবাদ। ঠিকদারি ব্যবসাসহ সরবরাহ পর্যায়ে ‘উৎসে কর’ হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে এ খাতের জন্য উৎসে কর কাঠামোর স্তরে আনা হয়ছে পরিবর্তন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঠিকাদারি ব্যবসা কোনোরকম টিকে আছে। নতুন বাজেটে বর্ধিত হারে উৎসে কর কার্যকর হলে এ ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়কর খাতে আদায়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আসে উৎসে কর থেকে। মোট আয়করের ৬০ শতাংশ আসে উৎসে কর থেকে। এর মধ্যে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসার অবদান ৩০ শতাংশ।

বর্তমানে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকে মেয়াদি আমানত বা এফডিআই, রপ্তানি, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাভেল এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ কমিশনসহ ৫৮টি খাত থেকে উৎসে কর আদায় করে সরকার। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎসে কর আসে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে কর হার গড়ে ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তরের পরিবর্তে তিনটি স্তরে উৎসে কর আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির অন্যতম খাত নির্মাণশিল্পে ব্যবহৃত রড ও সিমেন্টের দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। পাথর, ইলেকট্রিক্যাল কেব্‌লসহ অন্যান্য উপকরণের দাম গড়ে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এসব কারণে নির্মাণশিল্প এমনিতেই স্থবির। তার ওপর ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায় উৎসে কর বাড়ানোর ফলে এ খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় দেশের নামি-দামি অনেক ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। যারা নতুন, তাদের অনেকেই খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে করের বোঝা আরও চাপানোর ফলে এ ব্যবসা ব্যাপক চাপে পড়বে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলা অবস্থা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মককর্তা বলেন, তারা এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কাঠামোতে কিছুটা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করেছেন। এই কর প্রস্তাব কার্যকর করলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে, বাড়বে বড় ব্যবসায়ীদের ওপর।

এবারের বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ৫০ লাখ টাকার বেশি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তন হবে ৩ শতাংশ, ৫০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজে ৫ শতাংশ এবং এবং ২ কোটি টাকার বেশি কাজের বেলায় ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।

ঠিকাদারি ও সরবরাহকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য বর্তমান করকাঠামোই বহাল রাখার দাবি জানান বিএসিআইএর সভাপতি সফিকুল হক তালুকদার।

বর্তমানে এ খাতে সর্বোনিম্ম উৎসে কর হার ২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ঠিকাদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত।

সরকারি উন্নয়ন কাজের বা এডিপির ৯৫ শতাংশই করে থাকে ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা। নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অসংখ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের আদেশ পাওয়ার পরও মাসের পর মাস বসে আছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজই শুরু করতে পারছে না তারা। এ অবস্থায় বাড়তি করের চাপ এ খাতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

পাঁচ বছরেও উৎসে কর খাতে সংস্কার নেই

২০১৬ সালে উৎসে কর বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল এনবিআর। এতে বলা হয়, উৎস কর আহরণে বড় গলদ রয়েছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে উৎসে কর আদায় বাড়াতে একটি সংস্কার কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে। এতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে উৎসে কর আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং বিছিন্নভাবে আদায় না করে কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর আহরণের কথা বলা হয়। এ জন্য আলাদা একটি কর অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু পাঁচ বছরেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় নি।

নির্মাণশিল্প রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি

বিপর্যয়ের মুখ থেকে নির্মাণখাত রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই)। তাতে এ খাতের সংকট উত্তরণে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির মধ্যে আছে: সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী সকল কাজে মূল্য সমন্বয় (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) চালু করা, সরকারি পরিপত্র জারি করে চলমান প্রকল্পের মূল্য তারতম্য (ভেরিয়েশন) সমন্বয় করা, এমএস রড় ও সিমেন্টের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা ও নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর জন্য অতি দ্রুত শুল্কমুক্ত রড সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করা।

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

ভারত জয় করছে বাংলাদেশের বিস্কুট

ভারত জয় করছে বাংলাদেশের বিস্কুট

বাংলাদেশের বিস্কুট মাতিয়েছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় অনেক কোম্পানি থাকার পরও এক দশক আগে প্রাণের পণ্য এ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে। পটাটা তাদের প্রথম পণ্য যা পুরো ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি এখন পূর্বে জয়পুর থেকে দক্ষিণে বেঙ্গালুর পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

শুরুটা ছিল অবসাদগ্রস্ত দিনের একটি টুইট থেকে। টুইটে লেখা ছিল, ‘এই বিস্কুট সত্যিই আসক্তিকর।’

উজ্জ্বল লাল রঙের বিস্কুটের প্যাকেটের ওপর টানা অক্ষরে লেখা ছিল ‘প্রাণ পটাটা স্পাইসি বিস্কুট’।

তারপর দেখলাম এই প্যাকেটটি প্রায় সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে। আমার টুইটার টাইম লাইনের সবাই এটি নিয়ে কথা বলছে। কীভাবে লকডাউনের সময় কেউ এটি খুঁজে পেয়েছে সেটি নিয়েও কথা হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও স্টোরিতেও একই অবস্থা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও আলোচনা দেখলাম কীভাবে এই মেড ইন বাংলাদেশ বিস্কুটটি সহজে সংগ্রহ করা যাবে।

দেরি না করে আমাজনে অর্ডার করলাম। একজন জানাল, সে তার কাছের এক মুদি দোকানে এই বিস্কুট খুঁজে পেয়েছে। শিগগিরই কয়েক প্যাকেট পটাটা বিস্কুট ডেলিভারি সেবা ডুঞ্জোর মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে অনেকের কাছে পাঠানো হলো।

কয়েক ঘণ্টা পর একজন জানাল, ‘আমি এক শ্বাসে পুরো এক প্যাকেট খেয়ে ফেলি’।

আমার প্যাকেটটি পৌঁছাল পরের দিন। আমি এক প্যাকেট আলাদা করলাম। তবে ভয়ে ছিলাম, যদি হতাশ হই।

পাঠক, এখন বাস্তবে পরখ করে দেখার পালা। প্যাকেটের ভেতর চিকন সারিতে গোল ও সোনালি চাকতির মতো বিস্কুটগুলো ঠিকঠাক রাখা। এতে যথেষ্ট পরিমাণে আলুকে বিস্কুটে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এগুলো পাতলা, ছোট এবং মুড়মুড়ে। স্বাদের মিশ্রণ, প্রয়োজনীয় মিষ্টি-লবণ-টক-মসলার সমন্বয় এটিকে পরিণত করেছে শক্তিশালী স্বাদের বোমায়।

পটাটা নিয়ে মুম্বাইয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহুল যাদব বলেন, ‘এটি একেবারেই বহুমুখী স্বাদের। চিজ এবং মসলাদার আলুর তরকারি হিসেবেও এটিকে পরখ করেছি। এটি স্বাদে অনন্য।’

রাহুলের করা টুইটে অনেকে প্রথমবারের মতো পটাটার নাম শোনেন। তিনি বিস্কুটটি সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলেন ২০১৯ সালের দিকে ‘হাইওয়ে অন মাই প্লেট’ নামের শোর দুই হোস্ট রোকেয়া সিং ও ময়ূর শর্মার টুইট থেকে।

এটি অনেকটাই ধাঁধার মতো, কেন একটি প্যাকেজড ফুড মানুষের কাছে এত জনপ্রিয় হলো।

কেন ম্যাগি নুডলস ভারতের অন্য যেকোনো নুডলসের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়?

পালস ক্যান্ডি আসার অনেক আগে থেকেই লেমন ক্যান্ডি ছিল। তবুও এখন পালস যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, অন্য কোনো ক্যান্ডি সেটি স্বপ্নেই দেখে।

একই কথা কোকা-কোলা, আমুল বাটার বা হলদিরাম আলু ভুজিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হয়তো তারা মানুষের অতীত স্মৃতি-প্রত্যাশা-নতুনত্বের মধুর কোনো জায়গাকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছে।

বাংলাদেশি কনজ্যুমার কোম্পানি প্রাণের এই বিস্কুট সেই জায়গাটি খুঁজে পেয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় অনেক কোম্পানি থাকার পরও এক দশক আগে প্রাণের পণ্য এ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল টোস্ট বিস্কুট, প্যাকেট ঝালমুড়ি, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্যাকেট জুস।

সম্ভবত পটাটা তাদের প্রথম পণ্য যা পুরো ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি এখন পূর্বে জয়পুর থেকে দক্ষিণে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণ এখন পুরো ভারতেই ছড়িয়ে পড়েছে। এই ব্র্যান্ডের মূল কোম্পানি কৃষি ও খামার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে স্টেশনারি, খেলনাসহ প্রায় সব কিছু তৈরি এবং বিক্রি করছে।’

প্রাণ কি বাংলাদেশে রিলায়েন্স (ভারতের বহুজাতিক কোম্পানি)- এমন প্রশ্নে আহসান খান বলেন, ‘না না, ভারতের বড় কোম্পানির তুলনায় আমরা অনেক ছোট। যদিও এই কোম্পানি এখন পর্যন্ত এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান করেছে। ১৪৫ দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি টাকা বা প্রায় ৯৩ কোটি ভারতীয় রুপি।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ভারতে তাদের প্রথম কারখানা চালু করে ত্রিপুরার আগরতলায়। আহসান খান বলেন, ‘ভারত আমাদের জন্য বড় বাজার। আমরা ভারতের ৭০০ জেলায় থাকতে চাই। আমরা করপোরেট ভারতকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি, কীভাবে আরও সংগঠিত হওয়া যায়, কীভাবে আরও প্রফেশনালি কোম্পানি চালানো যায়।

‘মাত্রই আমি ঝাড়খন্ডের এক ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলেছি, এর কিছু আগে আফ্রিকায় একজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার স্বপ্ন একটি গ্লোবাল কোম্পানি হওয়া। বর্ডারস আর মিনিংলেস।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক দশক পর ১৯৮১ সালে প্রাণ ফুডসের মূল কোম্পানি প্রাণ-আরএফএল শুরু করেছিলেন আহসান খানের বাবা আমজাদ খান চৌধুরী।

আহসান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরীর ছিল কঠিন দেশপ্রেম। তিনি চেয়েছিলেন নবীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হোক, দারিদ্র্যমুক্ত হোক। কৃষি-ব্যবসার মাধ্যমে কৃষকদের শক্তিশালী করা ছিল তার লক্ষ্য।

আহসান খান আমেরিকার আইওয়া রাজ্যের ওয়ার্টবুর্গ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২১ বছর বয়সে প্রাণে যোগ দেন। তিনি কোম্পানিকে আরও বেশি ভোক্তার কাছে নিয়ে যাওয়া এবং নতুনত্ব আনতে কাজ করছেন। নতুন কিছু বের করতে এবং কারখানায় তা উৎপাদনে বেশ দক্ষ আহসান খান।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি দক্ষিণ ভারতে সফরে যাই, দেখি এমটিআরের (ভারতের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতিষ্ঠান) মতো কোম্পানি খাবার উপযোগী উপমা-ইডলি মিক্স বিক্রি করছে। ইন্ডিগোতে ভ্রমণের সময় দেখি তাদের উপমা ও ডাল-চাল বক্সে গরম পানির সঙ্গে মেশালে খাবার তৈরি হয়ে যায়। আমি ভাবি কীভাবে এমন খাবার আমরা তৈরি করতে পারি।’

চীন ভ্রমণের সময় তাদের আলুর ওয়েফারের মতো বিস্কুট দেখে পটাটা তৈরির উৎসাহ পান আহসান খান। দেশে আসার পর তিনি খাদ্য প্রকৌশলীদের ডেকে পটেটো প্লেক্স, পটেটো পেস্ট এবং স্টার্চের সঙ্গে অন্যান্য স্বাদের মিশ্রণে পটেটো চিপসের মতো নতুন কিছু তৈরি করতে বলেন, যা খেতে মুড়মুড়ে হলেও পাতলা হবে।

আহসান খান জানতেন, তিনি ব্রিটানিয়া ও আইটিসি বিস্কুটের দাপট থাকা ভারতের বড় বাজারে ঢুকতে যাচ্ছেন। তবে সাহস হারাননি প্রাণের এই কর্ণধার।

আহসান খান বলেন, ‘তারা অনেক বড়, তাদের কাছ থেকে আমার অনেক কিছু শেখার আছে। এমনকি ভারতের অন্য বড় কোম্পানি থেকেও শেখার আছে। ভারত অনেক বড় বাজার। আমি পটাটা বিস্কুটকে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাই।’

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

সুদহার কমার পরও ব্যাংকের মুনাফা বাড়ল যেভাবে

সুদহার কমার পরও ব্যাংকের মুনাফা বাড়ল যেভাবে

সবশেষ হিসাব অনুযায়ী আমানত আর ঋণের সুদহারের পার্থক্য ৩ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ ব্যাংক সুদ বাবদ ৪ টাকা ৩৬ পয়সা ব্যয় করে এই পরিমাণ আয় করেছে। সর্বোচ্চ সুদহার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ থাকার সময় এই ৩ টাকা সুদ আয় করতে ব্যাংকের সুদব্যয় ছিল ৯ টাকার বেশি।

ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার দুই অঙ্কের নিচে নেমে আসার পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ঘটেছে উল্টোটা। ব্যাংকগুলো এখন অপেক্ষাকৃত কম খরচ করে মুনাফা করতে পারছে বেশি।

কয়েক বছর চেষ্টার পর গত বছরের এপ্রিল থেকে আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার ৬ শতাংশ আর ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ঠিক হয় ৯ শতাংশ।

শুরুতে ব্যাংকগুলো বলছিল, এই সুদহার কার্যকর করা কঠিন হবে। তবে এক বছর পর দেখা যাচ্ছে ঋণের গড় সুদহার এখন ৮ শতাংশেরও কম। আর এটিও কমে আসছে। ফলে আমানতের ৬ শতাংশ সুদও আর পাওয়া যাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকের গড় ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আমানতে সুদ ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ফ্রেব্রুয়ারিতে গড়ে ব্যাংকগুলো ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। আর আমানতে গড় সুদ ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। মার্চে ঋণের গড়সুদ ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ; আমানতে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

আর এপ্রিলে ব্যাংকগুলো গড়ে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করেছে। আর আমানতে সুদ ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

যে কারণে ব্যাংকের মুনাফা বেশি

সবশেষ হিসাব অনুযায়ী এখন আমানত আর ঋণের সুদহারের পার্থক্য ৩ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ ব্যাংক সুদ বাবদ ৪ টাকা ৩৬ পয়সা ব্যয় করে এই পরিমাণ আয় করেছে। এর সঙ্গে যোগ হবে ব্যবস্থাপনা ব্যয়।

আবার সুদহারের পরে ঋণের সার্ভিস চার্জ আদায় করে ব্যাংকগুলো।

অথচ যখন ‍ঋণের সুদহার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ ছিল, তখনও ব্যাংকের এত বেশি মুনাফা থাকত না। তখনও ব্যবস্থাপনা ব্যয় আর সার্ভিস চার্জ ছিল সমান। কিন্তু আমানতের সুদহারেই ব্যাংককে ব্যয় করতে হতো বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি।

তখন আমানতের সুদহার ছিল ১১ থেকে ১২ শতাংশ।

অর্থাৎ সে সময় ১৫ থেকে ১৬ টাকা সুদ আয়ের জন্য সুদ ব্যয় ছিল ১১ থেকে ১২ টাকা।

শতকরা হিসাবে সুদ আয় ও ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য ছিল ২৫ শতাংশের মতো। সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৬৯.৭২ শতাংশ।

এখন ব্যাংক ১২ টাকা সুদ ব্যয় করলে আয় হয় সাড়ে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা, যেটি আগে ছিল ৪ টাকার মতো।

মহামারির বছরে ব্যাংকগুলো এবার গত বছরের চেয়ে বেশি মুনাফা করে শেয়ারধারীদের গত বছরের চেয়ে বেশি হারে লভ্যাংশ বিতরণ করতে পেরেছে। কীভাবে তারা বেশি মুনাফা করল এই প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বারবার বলছেন, ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণে যে ছাড় দেয়া হয়েছে, সে জন্য তাদের টাকা জমা রাখতে হয়নি। ফলে লভ্যাংশ বেড়েছে।

তবে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, তারা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেছেন ঠিকঠাকমতোই। কারণ এখন না রাখলে পরে একসঙ্গে বেশি রাখতে হবে। সেটি ব্যাংকের ওপর চাপ তৈরি করত। সেই ঝুঁকি তারা নেননি।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর হওয়ার পরে ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হয়নি, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমানতকারীদের বিষয়টা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ঋণ নেবে যারা তাদের কথা চিন্তা করা হয়েছে।’

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া, কৃষি, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তারা বলেছেন, উৎপাদন খাতে ঋণ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ যাতে কমে আসে সে লক্ষ্যে ঋণের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে শুরুতে তারা ধারণা করেছিলেন। কিন্তু আমানতের সুদ কমিয়ে আনার ফলে ব্যাংকের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতের সুদ কমানো। এটা না হলে ব্যাংকগুলোর মার্জিন (সুদহারের পার্থক্য) কমে যেত। কম সুদে আমানত দেয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা খুব বেশি কমেনি।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো মেয়াদি আমানতের ওপর ৬ শতাংশের বেশি সুদ দিচ্ছে না। চলতি আমানতে ব্যাংকগুলো সুদ দিচ্ছে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।

গত এপ্রিলে সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরও কিছু ব্যাংক ৯ শতাংশের বেশি সুদ নিয়েছিল। কিন্তু এখন ব্যাংক নিজের ইচ্ছাতেই ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘৯ শতাংশ সুদের ফলে ছোট উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তাদেরকে কেউ এই সুদে ঋণ দিতে চাইছে না। কিন্তু বড় উদ্যোক্তাদের ৯ শতাংশে থেকে কমে ৫/৬ শতাংশেও ঋণ দেয়া হচ্ছে। ফলে যারা অল্প আমানত রাখে, ক্ষুদ্র ঋণ নেয়, তাদের সমস্যা হয়েছে বেশি।’

তার মতে, বড় ঋণ আর ছোট ঋণের জন্য একক সুদহার হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘যিনি ১০০ কোটি টাকা নেবেন, আর যিনি ৫০ হাজার টাকা নেবেন, দুই জনের জন্য একই সুদহার নির্দিষ্ট করে দেয়া ঠিক না। এর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু লাভবান হয়েছেন বড় ব্যবসায়ীরা।’

সুদ কমার প্রভাব সার্বিকভাবে অর্থনীতির ওপর পড়লেও এই প্রভাব সমাজের সমস্ত শ্রেণির ওপর সমানভাবে পড়ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘ছোট ও মাঝারি মানের ব্যাংকগুলোতে আমানত কমেছে। ফলে তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমেছে। তবে লাভ হয়েছে বড় ব্যাংক আর ব্যবসায়ীদের।’

তিনি বলেন, ‘আর আমানতকারীদের মধ্যে বয়স্ক নাগরিক, যারা তাদের বিগত কর্মজীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রেখে তার সুদে সংসার চালাচ্ছেন, সুদ কমে যাওয়ার ফলে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। একইভাবে যারা ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাচ্ছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

অবশ্য এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকে আমানত রাখার বদলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। সেখানে ব্যাংকের সুদহারের দ্বিগুণেরও বেশি হারে মুনাফা পাওয়া যায়।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মুনাফা আরও বাড়ার আশা

গত বছরের এপ্রিলে ঋণের নতুন সুদহার ঠিক হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ঋণ বিতরণ খুবই কম। গত এক বছরে নতুন ঋণ বিতরণ হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার মতো। কিন্তু এর মধ্যে বিনিয়োগ বা ভোক্তা ঋণ বিতরণ হয়নি বললেই চলে।

সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেটি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ হিসেবে বিতরণ হয়েছে। আর এর পরিমাণই এই ঋণের প্রবৃদ্ধির সমান।

ব্যাংকাররা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উদ্যোক্তারা যখন ঋণ নেয়া শুরু করবেন, তখন তাদের সুদ বাবদ আগের চেয়ে অর্ধেক খরচ করতে হবে বলে ঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়বে। আর ব্যাংক যত বেশি ঋণ দিতে পারবে, তার আয় তত বাড়বে।

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

যে কারণে বাড়ছে ডিমের দাম

যে কারণে বাড়ছে ডিমের দাম

খামারিরা বলছেন, এতদিন চাহিদা কম ছিল। ফলে তারা লোকসান গুণে ডিম বাজারে ছেড়েছেন। কিছুদিন ধরে চাহিদা বাড়ছে। এখন দাম বাড়িয়ে তার কিছুটা হলেও আগের লোকসান সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন।

একটি ডিমের উৎপাদন খরচ প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। রোজা ও গরমের কারণে গত দুই মাস দেশে ডিমের চাহিদা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এ পরিস্থিতিতে করোনার মধ্যেও উৎপাদনে থাকা খামারিরা কোনোভাবে চাহিদা ধরে রাখতে দাম কমিয়ে ডিম বাজারজাত করেছেন।

এতে খামারিদের উৎপাদন খরচের তুলনায় এক থেকে দেড় টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে প্রতি ডিমে। ওই সময় ৫ টাকা থেকে সাড়ে ৫ টাকায় বাজারে ডিম সরবরাহ করেছেন তারা।

এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। রোজা নেই। গরমও কমেছে। বাজারে মাছ ও মাংসের দামও বেশি। এ কারণে ভোক্তারা ডিম কেনা বাড়িয়েছেন। এতে কিছুদিন ভোক্তারা কম দামে ডিম কিনতে পারলেও সেটি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডিমের ওপর চাপ বেড়ে গেছে। এ সুযোগে উৎপাদক ও সরবরাহকারীরা এখন দাম সমন্বয় করছেন। ফলে সপ্তাহ দুই আগেও প্রতি ডজন ডিম যেখানে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ১৫-২০ টাকা বেড়ে স্থানভেদে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় উঠে গেছে।

ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ-এর তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে ডিম খাওয়া বা ডিমের ভোগ বেড়েছে ৮৮ শতাংশ। অথচ একই সময় গরুর মাংসের ভোগ বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ এবং মাছে ২৬ শতাংশ। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ডিমের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কম চাহিদার মৌসুমে এতোদিন তারা ডিমে যে পরিমাণ লোকসান গুনেছেন, এখন দাম বাড়িয়ে তার কিছুটা হলেও সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন।

তারা দাবি করছেন, এমনিতেই করোনার কারণে সারা দেশে ৪০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিরা টিকে থাকলেও করোনার প্রভাব, রোজা ও অতি গরমে আগের চাহিদা প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ফলে খামারিরা এতোদিন উৎপাদনে থেকেও লোকসান গুনেছেন। ধারাবাহিক লোকসান করে শিল্প টিকিয়ে রাখা যাবে না।

খামারপর্যায়ে দাম বাড়ার কথা স্বীকার করেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্টার কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) প্রেসিডেন্ট মো. মশিউর রহমান। তবে আগামী এক-দুই সপ্তাহর মধ্যে ডিমের দাম আবারও কমে আসবে বলে তিনি আভাস দেন। তবে বছরজুড়ে ডিমের দামে স্থিতিশীলতা ফিরতে ভোক্তাকে আরও ৫-৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

বিপিআইসিসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ডিমের দাম বাড়ার অনেকগুলো কারণ আছে। লোকসান সমন্বয় তার অন্যতম। এছাড়া দেশে এখন চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদন কম। ফলে বাজারপর্যায়ে সরবরাহও কম।

তিনি জানান, করোনার আগে সারা দেশে প্রতিদিন পৌনে ৫ কোটি ডিম সরবরাহ সম্ভব হতো। কিন্তু করোনার কারণে গত এক বছরে পোলট্রি খামারগুলোর ৪০ শতাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ডিমের উৎপাদনও আগের তুলনায় কমে গেছে। তবে এ সময় চাহিদাও কমে যাওয়ায় সরবরাহে টান পড়েনি। ডিম উল্টো উদ্বৃত্ত থেকে যেত। এখন ঋতুর বদল ও বাজার পরিস্থিতির কারণে ডিমে আবার অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এতেই সরবরাহ পর্যায়ে দামের সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

পরিপূর্ণ উৎপাদনে আসতে ডিম উৎপাদনকারী একটি খামারের এক বছর সময় লাগে উল্লেখ করে বিপিআইসিসি প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনায় যেসব খামার বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের অনেকে গত কয়েক মাস ধরে আবার উৎপাদনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তাদের উৎপাদনে ফিরতে আরও ৫-৬ মাস লাগবে। তারা এলে দেশে ডিমের উৎপাদন এবং চাহিদার মধ্যে একটা ভারসাম্য অবস্থা তৈরি হবে।

দেশে পোলট্রি শিল্প মালিকদের চারটি সংগঠন। এগুলো হলো বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ, সেন্টার কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি), ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব), ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ব্যাব) এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ (ডব্লিউআইপিএসএ-বিবি)।

এ সব সংগঠনের তথ্যমতে, গত এক দশকে দেশে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ। একই সঙ্গে ভোক্তার ডিম খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে সমান্তরালে। দেশে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা সাড়ে ৪ কোটি। এই চাহিদার বিপরীতে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। করোনার আগের সময়গুলোতেও সারা দেশে গৃহপালিতসহ বাণিজ্যিক খামারিরা সম্মিলিতভাবে প্রায় পৌনে ৫ কোটি ডিম সরবরাহ দিতে পারত। সেখানে পোলট্রি খাত এককভাবেই উৎপাদন ও সরবরাহ করত ৩ কোটি ৮০ লাখ ডিম। এখন সেই সক্ষমতা নেই। দৈনিক উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা আড়াই থেকে ৩ কোটিতে নেমে এসেছে।

অপরদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বছরে একজন মানুষের ডিমের চাহিদা ১০৪টি। আর চাহিদার বিপরীতে দেশ উৎপাদন করতে পারে ১০৪ দশমিক ২৩টি।

এ প্রসঙ্গে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ব্যাব) প্রেসিডেন্ট রাকিবুর রহমান টুটুল নিউজবাংলাকে জানান, শুধু লোকসান সমন্বয় নয়, অতিবৃষ্টির কারণেও ডিমের দাম বাড়াতে হয়েছে।

এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মাসখানেক ধরে দেশে অতিবৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামার থেকে সময়মতো ডিম সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। একইভাবে সংগ্রহকৃত ডিম সারা দেশে সরবরাহ দিতেও সমস্যা হচ্ছে। এতে সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাতজনিত ঘাটতির কারণে তাৎক্ষণিক চাহিদা সামাল দিতে দাম বাড়াতে হয়েছে।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) প্রেসিডেন্ট ইহতেশাম বি শাহজাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ব্যবসায়িক সূত্র হচ্ছে, যে কোনো শিল্পকেই টিকে থাকতে হলে তাকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে পোলট্রি খাতে এর নিশ্চয়তা একেবারেই নেই। মুরগি পালনের পর ডিম উৎপাদনে ব্যয় খুব বেশি পড়ছে। কিন্তু অন্যান্য পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় ডিমের দাম না বাড়ায় নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে খাতটি। বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের লোকসান দিয়ে ডিম বাজারজাত করেতে হচ্ছে। এখন চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে দাম আবারও কমে আসবে।

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার ৩৯টি বাংলাদেশে

বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার ৩৯টি বাংলাদেশে

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের নিজামনগর এলাকায় অবস্থিত পোশাক কারখানা আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনস লিমিটেড। ছবি: কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেয়া

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়েছিল নয়তলা ভবন রানা প্লাজা। এটি ছিল দেশের পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ভবন ধসে প্রাণ হারান হাজারেরও বেশি মানুষ। যারা প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারাও পঙ্গুত্ব নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানা বাংলাদেশে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৪৩টি কারখানা পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সনদ পেয়েছে। যার মধ্যে ৪১টি প্লাটিনাম কারখানা।

বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি কারখানার ৩৯টিই এখন বাংলাদেশের। আরও প্রায় ৫০০টি কারখানা সনদের অপেক্ষায় আছে।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের দিকে মনোযোগ দেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা। এখন সে সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্যোক্তাদের দূরদর্শিতা ও প্রবল ইচ্ছা শক্তি ও উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সবুজ শিল্পায়নে এই সাফল্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) পৃথিবীর প্রথম ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে বিজিএমইএকে ‘২০২১ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে।

সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সবুজ কারখানার খেতাব পাওয়া বাংলাদেশের তিনটি পোশাক কারখানা হচ্ছে রেমি হোল্ডিংস, তারাসিমা অ্যাপারেলস এবং প্লামি ফ্যাশনস।

প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যার দিক দিয়ে আমাদের ধারেকাছেও নেই কোনো প্রতিযোগী দেশ। সাধারণত অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ৫ থেকে ২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়। তবে বাড়তি খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ২৪-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ, ৩৩-৩৯ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ ও ৪০ শতাংশ পানির ব্যবহার কমানো সম্ভব।’

পোশাকের দাম বেশি পাচ্ছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাঁ, দাম একটু বেশি পাচ্ছি। তবে তা প্রত্যাশার চেয়ে কম।’

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের অদম্য মনোবল ও প্রচেষ্টার স্বীকৃতি স্বরূপ তাদের সংগঠন বিজিএমইএকে ইউএসজিবিসি এই পুরস্কার দিয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

‘পৃথিবীর প্রথম সংগঠন হিসেবে আমরা এই পুরস্কার পেয়ে গর্বিত’-বলেন তিনি।

সারা বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা ‘লিড’নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন।

বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার ৩৯টি বাংলাদেশে
২০২১ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ নেতারা

এই সনদ পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে সারা বিশ্বে লিড সনদ পাওয়া বাণিজ্যিক স্থাপনার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। লিড সনদের জন্য নয়টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার এবং ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়েছিল নয়তলা ভবন রানা প্লাজা। এটি ছিল দেশের পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ভবন ধসে প্রাণ হারান হাজারেরও বেশি মানুষ। যারা প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারাও পঙ্গুত্ব নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।

রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে।

শনিবার বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউএসজিবিসি থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৪৩টি কারখানা পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি পোশাক কারখানা ‘লিড প্লাটিনাম’ সনদ পেয়েছে। এছাড়া ‘লিড গোল্ড’ পেয়েছে ৮৯টি আর ‘লিড সিলভার’ পেয়েছে ১১টি।

বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার ৩৯টি বাংলাদেশে
একটি সবুজ কারখানার ছবি

‘সব মিলিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি কারখানার ৩৯টিই বাংলাদেশে অবস্থিত। আরও প্রায় ৫০০টি কারখানা সনদের অপেক্ষায় আছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমরা শিল্পটিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নেই। গত এক দশকে আমাদের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরাপত্তা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং সরকার-ক্রেতা-উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আজ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নিরাপদ শিল্প হিসেবে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই উদ্যোগ ও অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

‘এ খাতে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে গর্ব করার মতো অনেক অর্জন আছে’ উল্লেখ করে ফারুক বলেন, হংকংভিত্তিক আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান ‘কিউআইএম‘ এর মতে এথিকাল সোর্সিংয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে। মূলত গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের গুণগত মান, কমপ্লায়েন্স, কর্মঘণ্টা ও শ্রম মানের বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন করোনার মহামারির কারণে এ শিল্পে একটি সংকটময় সময় পার করছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রেও এ শিল্পে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, কমপ্লায়েন্স, কারখানায় পেশাগত নিরাপত্তা বিধানেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।

‘এসব অর্জনের মাধ্যমে যে বিষয়টি প্রমাণিত হয় তা হলো- আমাদের সহনশীলতা, উদ্যোক্তাদের একনিষ্ঠতা, গতিশীলতা, ত্যাগ ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর এসব অর্জনের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে সফল হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘নানা বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও গত ১০ বছরে আমরা আমাদের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি করতে সক্ষম হয়েছি। ২০১১ সালে যেখানে রপ্তানি ছিল ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০১৯ সালে আমরা ৩৩ দশমিক এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছি।

‘২০২০ সালে রপ্তানিতে বৈশ্বিক মহামারির একটি প্রভাবটি খুবই স্পষ্ট। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের সমস্ত শক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সকলের সহায়তায় এই বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে। আশা করছি সফল হব।’

‘এই যে আমরা একটা ভালো পুরস্কার পেলাম, সম্মান পেলাম-এটা আমাদের আরও অনুপ্রেরণা দেবে। শক্তি-সাহস জোগাবে। আর এর মধ্য দিয়ে আমরা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব’-বলেন বিজিএমইএ সভাপতি।

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

আমরা কি সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য?

আমরা কি সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য?

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। ফাইল ছবি

আমরা কি সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য? সংসদ তো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য। সেসব কথা না বলে সদস্যরা যদি সরকার যা দেবে, তা-ই পাস করে দেয়, তাহলে তো বাজেট অধিবেশনের দরকার নেই। এটা বাজেট প্রক্রিয়ায় একটা ঘাটতি তৈরি করে: সাবের হোসেন চৌধুরী

বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের কোনো ভূমিকা নেই বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি দলের সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী।

শনিবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক সংলাপে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সংসদ সদস্যদেরও এখন জাতীয় বাজেট কিংবা সরকারের অন্যান্য নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয় না। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময় অন্তত বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির প্রধানদের নিয়ে বৈঠক হতো। কিন্তু এখন সেটিও হয় না।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘তাহলে আমরা কি সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য?’

‘সংসদ তো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য। সেসব কথা না বলে সদস্যরা যদি সরকার যা দেবে, তা-ই পাস করে দেয়, তাহলে তো বাজেট অধিবেশনের দরকার নেই। এটা বাজেট প্রক্রিয়ায় একটা ঘাটতি তৈরি করে’- বলেন সাবের চৌধুরী।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ‘বাজেট ডায়লগ-২০২১’ শীর্ষক বাজেট-পরবর্তী ভার্চুয়াল আলোচনা সভার গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিএনপি নেতা সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি যুক্ত হননি। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসীম উদ্দিন, এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং বেসিসের সভাপতি আলমাস কবির বক্তব্য রাখেন।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শুধু তথ্যে ঘাটতি নয়, তথ্যের অসংগতি রয়েছে। বাজেট উপস্থাপনায় যে তথ্য পাই, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা চিত্র আসে।’

করোনাকালে নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া মানুষদের বিষয়ে সরকারের হাতে কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে দুটি এনজিও কেবল বস্তিবাসীর ছয় হাজার লোকের ফোনে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে দাবি করেছে, দেশে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় নেমে গেছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অবশ্য এই জরিপের ফলাফল স্বীকার করেন না। তিনি মনে করেন, এই জরিপে ভুল আছে।

সরকারের হাতে নতুন দরিদ্রদের হিসাব না থাকায় সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে তাদের ঘিরে কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়নি।

সাবের চৌধুরী বলেন, ‘করোনায় নতুন দরিদ্র আছে কি নাই তার জন্য তো এভিডেন্স লাগবে। কিন্তু বিবিএসের তথ্য যদি ২০১৬ সালের হয়, তা দিয়ে তো ২০২১ সালের বাস্তবতা বুঝব না। তাহলে সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা কিসের ভিত্তিতে নিচ্ছে?’

আমরা কি সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য?

স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা নিয়েও কথা বলেন সাবের চৌধুরী। বলেন, ‘দেশে পাবলিক হেলথ খুবই উপেক্ষিত। কিন্তু সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু তার পরও এ খাতে অগ্রাধিকার আমরা পাচ্ছি না। গত বছর অর্থমন্ত্রী বাজেটে বক্তৃতায় বলেছিলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে। কিন্তু কী দুর্বলতা এবং কীভাবে দুর্বলতা দূর করা যায়, তার নির্দেশনা দুই বাজেটেই নেই।’

করোনার সময় জিডিপির প্রবৃদ্ধি কত হলো, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও মনে করেন সাবের চৌধুরী। বলেন, ‘মানুষ কীভাবে বাঁচল, কীভাবে মানুষের জীবিকা ঠিক রাখা যায়, কর্মসংস্থান ঠিক রাখা যায় তা দেখা উচিত।’

‘রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে ৮০ হাজার কোটি টাকা’

সংলাপে মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের যে গতি, তাতে এ বছর ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৮০ হাজার কোটি টাকা। তবু আগামী বছর বড় লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সরকারি ব্যয়েও দুর্বলতা রয়েছে।

উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের হার কম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এডিপির বাস্তবায়নও বেশ খারাপ, ৪৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় মাত্র ২৫ শতাংশ। এ বছর স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, কর্মসংস্থানে বেশি ব্যয় হাওয়ার কথা, উল্টো কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশে কর্মসংস্থান কমছে, নতুন দরিদ্র বেড়েছে, মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগের গতিও মন্থর। নতুন বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির অর্জনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো গত বছরের জিডিপি চূড়ান্ত হিসাবই পাওয়া যায়নি। বিদায়ী অর্থবছরের প্রাক্কলনও হয়নি। চলতি বছর তেমন ভালো অবস্থায় না থাকলেও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ২৫ শতাংশ এবং ব্যক্তি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের যে কথা বলা হয়েছে, তা কঠিন হবে।’

দারিদ্র্য বেড়েছে, দ্বিমত সংখ্যায়

করোনায় দারিদ্র্য বেড়েছে- এতে দ্বিমত করছেন না পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বলেন, ‘নতুন দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে, এটা ঠিক। তবে সংখ্যা নিয়ে একটু দ্বিমত রয়েছে। আমার ধারণা, এটা শিফটিং ফিগার, সংখ্যা বাড়ে-কমে। তবে আমি বিআইডিএস ও বিবিএসকে কাজে লাগাব।’

বাজেটে বিদেশি উৎস নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিদেশের চেয়ে দেশে অর্থায়নের উৎসেই ভরসা করি। এখানে (বিদেশ অর্থ) কিছু কিছু দাঁত (বিষয়) আছে, ব্যাপার আছে, যেগুলো গত কয়েক বছর কাজ করে যেগুলো দেখেছি, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যদানকারী সংস্থা (বিবিএস) আমার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পড়ে। আমি চাই তারা নিজেরাই, নিজেদের তথ্যগুলোকে ইনটেলেকচুয়েলি জেনারেট করে। শুধু অর্ডার পেয়ে নয়। কারণ অর্ডারের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকতে পারে। তাদের নিজেদের যেন শক্তি থাকে। যাতে পিওর, কারেক্ট, রিলায়েবল এবং কন্টিনিউয়াসলি ডিফেন্ডেবল তথ্য পেতে পারি। বিবিএসকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।’

কর নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাই কর কমাতে বলছে। আমরা টাকা স্বল্পতায় আছি। সবই ছেড়ে দিলে খাব কী? ভ্যাটে একটা অফুরন্ত সম্ভাবনা ছিল। তবে আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে খাবার একটা স্কোপ ছিল, কিন্তু আমরা ফেল করেছি। আমরা এটি প্রোপারলি হ্যান্ডেল করতে পারিনি।’

অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি খরচ প্রসঙ্গে মান্নান বলেন, ‘বছরের শুরুতে কাজ কম হয়। কিন্তু বছরের শেষ দিকে বেশি ব্যয় ও কাজের মান নিয়ে বলেন, এটার সত্যতা আছে। এর মধ্যে দুর্নীতি বসে আছে।’

সংসদের আলোচনা কি ভালো হচ্ছে?

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও সাবের হোসেন চৌধুরীর উদ্দেশে সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, ‘আগের বাজেট বাস্তবায়ন কেমন হয়েছে তা জানা কি সংসদ সদস্যদের উচিত না? কিন্তু সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের প্রশংসায় মেতে ওঠে। এখন সংসদে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে তা কি ভালো হচ্ছে?’

সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাজেটে অর্থমন্ত্রী সবকিছু একটু একটু করতে চেয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রায়োরিটি নেই। করোনায় মনোযোগ দরকার ছিল পিছিয়ে পড়া মানুষ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে। তবে পিছিয়ে পড়া মানুষের দিকে মনোযোগ নেই। সরকারি ব্যয়ের সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল তাদের জন্য। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য দূর করার সমতা থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট সংস্কারের কথাও কিছুই নেই। ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়নি। নতুন দরিদ্রদের জন্যও কিছু নেই।’

সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কঠিন এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে। ইউনিভার্সেল পেনশন স্কিম করতে হবে। সবার কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ জন্য টাকা লাগবে। তাই সরকারি ব্যয় আরও বাড়াতে হবে। সংস্কারে জায়গায় হাত দিতে হবে।

‘আইএমইডিসহ সরকারি ব্যয় নজরদারি করে এমন সংস্থায় বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ, এসব সংস্থায় এক টাকা বিনিয়োগ করলে ১০০ টাকার সুফল দেয়।’

প্রণোদনায় ছোটদের নজর দিন

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ বা ঋণ ছোটদের কাছে এখনও পৌঁছেনি। চাকরি হারিয়ে যারা কৃষিতে চলে গেছে, তাদের এবং প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদরে জন্য এককালীন সহায়তা দিতে হবে।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এখন প্রায় সাত কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু সিপিডি, সানেম বা পিপিআরসিসহ অন্য কোনো জরিপ মানেন না অর্থমন্ত্রী। তাহলে নিজেদের সংস্থা বিবিএস বা বিআইডিএস দিয়ে অতিদ্রুত জরিপ করান।’

এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘বাজেটে যা-ই বরাদ্দ দেয়া হোক না কেন, বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও মানসম্মত ব্যয় না হওয়ায় তার বেনিফিট আমরা যথাযথ পাই না। গত এক দেড় বছরে স্বাস্থ্য খাতের দিকে তাকালেই তা চোখে পড়ে।’

বেসিসের সভাপতি আলমাস কবির বলেন, ‘মেট্রোরেল, নিউকিল্লয়ার প্ল্যান্ট বড় বড় প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার আইটি পণ্য এবং সফটওয়্যারের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু স্থনীয় ইন্ডাস্ট্রি এর কিছুই জানে না। এ কাজ ও টাকা যদি বিদেশে চলে যায়, তাহলে তা দেশি আইটিশিল্পের জন্য খারাপ।’

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। ফাইল ছবি

এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেননি।

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিল মাস শেষে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিচ্ছে না কেউ।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যের কিনারায় পড়ে আছে।

বছরের শেষ দুই মাস মে ও জুনেও উন্নতি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দেয়ার পর থেকে নতুন ঋণ বিতরণ হচ্ছে না বললেই চলে; সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করছে। ঋণ বিতরণ যেটা বেড়েছে, সেটা আসলে প্রণোদনার ঋণে ভর করেই বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; গত অর্থবছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিল শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল শেষে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে ৮৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

আর এই এক বছরে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এতেই বোঝা যায়, মহামারিকালে নতুন কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি; সামান্য কিছু যা বিতরণ হয়েছে, তা চলমান কিছু ভালো প্রকল্পের ঋণ।

গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ২৩টি প্যাকেজের আওতায় মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এই এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেনি।

তবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, মহামারির ধাক্কায় গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সরকারি ঋণপ্রবাহেও একই হাল

প্রবৃদ্ধি কমেছে সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহেও। এপ্রিল শেষে সরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের অঙ্ক ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে এই এক বছরে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এই ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও এই একই লক্ষ্য ধরা ছিল, বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, প্রণোদনার ঋণ ছাড়া ব্যাংকগুলো এখন অন্য কোনো ঋণ বিতরণ করছে না। কোভিড-১৯-এর কারণে বিশেষ ছাড়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণের কিস্তিও আদায় করেনি ব্যাংকগুলো। সে কারণে নতুন ঋণ বিতরণের টাকাও নেই অনেক ব্যাংকের।

তিনি বলেন, ‘তাই, মাঝে প্রণোদনার ঋণের কারণে কয়েক মাস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও এখন তা আবার কমে এসেছে। এখন সেটা কতটা কমবে; সেটাই উদ্বেগের বিষয়।’

গত বছরের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ; যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে এপ্রিল মাস শেষে দেশে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

গত বছরের এপ্রিল শেষে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। আর সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবেই এপ্রিল শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সরকারি ঋণের ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ; আর বেসরকারি খাতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন ঋণের চাহিদাই নেই। সাম্প্রতিককালে যেসব খাতে ভালো ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি শেষ অবধি কোথায় গিয়ে ঠেকে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- সে জন্য উদ্যোক্তারা অপেক্ষা করছেন।’

আরও পড়ুন:
ভোট দিলেন শ্রাবন্তী, জয় নিয়ে আশাবাদী
কলা চাষ: বিঘায় লাভ ৩৫ হাজার টাকা
শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব
‘নাট্যাঙ্গনের শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মান্নান হীরা’
শিল্পকলায় মান্নান হীরাকে স্মরণ করবে আরণ্যক

শেয়ার করুন