বাবুল চিশতী ও তার পরিবার ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত: আপিল বিভাগ

ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী।

বাবুল চিশতী ও তার পরিবার ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত: আপিল বিভাগ

আদালত বলেছে, মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীই মূল অপরাধী। অপরাধ কার্যক্রমে তিনি তার পুরো পরিবাবেরর সদস্যদের ব্যবহার করেছেন। পুরো পরিবারই অপরাধ কাজে জড়িত।

ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ও তার পুরো পরিবার ফৌজদারি অপরাধে জড়িত বলে মন্তব্য করেছে আপিল বিভাগ।

আদালত বলেছে, মামলার নথি থেকে দেখা যায়, মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীই মূল অপরাধী। অপরাধ কার্যক্রমে তিনি তার পুরো পরিবাবেরর সদস্যদের ব্যবহার করেছেন। পুরো পরিবারই অপরাধ কাজে জড়িত।

বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদ চিশতীর জামিন শুনানির সময় বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন আপিল বিভাগের এক বিচারক।

বিচারক রাশেদ চিশতীর আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা এখনও প্রমাণ করতে পারেননি এই অর্থের বৈধ উৎস কী।’

আদালতে রাশেদ চিশতীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ এফ হাসান আরিফ। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে মোর্শেদ।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশেদ চিশতীর জামিন শুনানি হয়েছে। এসময় আদালত কিছু মন্তব্য করেছেন। কিছু ডকুমেন্টে দাখিলের জন্য ১ জুন মঙ্গলবার দিন ঠিক করে দিয়েছেন আদালত। ওই দিন পরবর্তী শুনানি হবে।’

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ জামিনের শুনানি হয়েছে। কিছু ডকুমেন্টের জন্য আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত। শুনানি সময় অনেক কথাই এসেছে।’

১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীকে গত ২৬ জানুয়ারি জামিন দেয় হাইকোর্ট। তবে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে দুদক।

এরপর গত ১ ফেব্রুয়ারি রাশেদ চিশতীকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাকে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। ওই আবেদনের শুনানির হয় সময় বৃহস্পতিবার বিচারক এমন মন্তব্য করেন।

গত বছরের ১৯ মে রাশেদ চিশতীকে একাধিক মামলায় বিচারিক আদালত জামিন দিয়েছিল। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল গুলশান থানায় মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, স্ত্রী রোজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকটির ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং ব্যাংকটির গুলশান করপোরেট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও বর্তমান সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে মাহবুবুল হক চিশতী ও রাশেদ চিশতি কারাগারে আছেন।

ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয় বিপুল সম্পদ

মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ২৫৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাবুল চিশতীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেন।

সে সময় বাবুল চিশতীর জব্দ করা স্থাবর সম্পদগুলো হল, জামালপুরের বকশীগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় ৪৯ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৩ হাজার বর্গফুট, ৭৩ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ৫৮ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, একটি টিনশেড ঘর, ৩০০ শতাংশ, ৩৩ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৩৮ শতাংশ, ৪৬ শতাংশ, ৭২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩৩ শতাংশ, ১৪ শতাংশ, ২২ শতাংশ, একটি তৃতীয়তলা ভবন, দুটি টিনশেড ঘর, ৪০ শতাংশ, ১১১ শতাংশ, ১১০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ৩০ শতাংশ, ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৯১ শতাংশ, ২৬ শতাংশ, ৩৯ শতাংশ, ৩৭ শতাংশ ও শেরপুরের শ্রীবরদীর মাধবপুর মৌজায় ২০০ শতাংশ জমি।

এছাড়া একটি জিপগাড়ি, দুটি প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে একটি শটগান, একটি পিস্তল, ২০ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি তেল ট্যাংকার।

এছাড়া ফারমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৮টি হিসাবে জমাকৃত অর্থ, পদ্মা ব্যাংকের ২ কোটি শেয়ার, সিএন নিউজ লিমিটেডের ৫ হাজার শেয়ার, কারেন্ট নিউজ ডটকম ডট বিডি লিমিটেডের ৬ হাজার ৫০০ শেয়ার, এমএম জেড আইটি সোর্স অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেডের ১ হাজার ২০০ শেয়ার, চ্যানেল ২৬ লিমিটেডের ২০ হাজার শেয়ার, ফিউশন ফুডওয়্যার লিমিটেডের ৫০০ শেয়ার, পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের একটি শেয়ার ও বাবুল চিশতী স্টিল মিল লিমিটেডের ৫০০ শেয়ার।

বাবুল চিশতীর স্ত্রী রোজী চিশতীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ২৫৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়।

সে সময় রোজী চিশতীর জব্দ করা স্থাবর সম্পদ হল, রাজধানীর মিরপুরের চাকুলী মৌজায় মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ৩৫০ বর্গগজের জমি ও জমির ওপর নির্মিত সাততলা ভবন, রাজধানীর উত্তরখান মৌজার ১৫ শতাংশ জমি। জামালপুরের বকশীগঞ্জের চর কাউরিয়া মৌজায় ৭৯ শতাংশ জমি, একই মৌজায় ৫৫ শতাংশ জমি। ময়মনসিংহ সদরের টাউন মৌজায় চারটি ফ্ল্যাট (৪ হাজার বর্গফুট; ১ শতাংশ জমিসহ ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুট; ১ শতাংশ জমিসহ ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুট; ১ হাজার ৩০০ বর্গফুট), জোয়ার সাহারা মৌজায় ৩ কাঠা জমি ও জমির ওপর নির্মিত ৩ তলা ভবন।

এছাড়া ময়মনসিংহ সদরে টাউন মৌজায় ৫ শতাংশ জমি ও জমির ওপর নির্মিত ৭ তলা ভবন, চরকাউরিয়া মৌজায় সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি (নির্মাণাধীন ভবনসহ) ও জমির ওপর নির্মাণাধীন ভবন। নারায়ণগঞ্জে বোরো নাওরা মৌজায় ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি। শেরপুরের শ্রীবরদীর জলংগা মাধবপুর মৌজায় ২৬৬ শতাংশ জমি। জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিভিন্ন মৌজায় ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ৩৯ শতাংশ, ১০০ শতাংশ, ১০০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৫৩ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৬৭ শতাংশ, ১১০ শতাংশ, ১৩৮ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ৬২ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ৪ শতাংশ, ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ, ৬২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৭২ শতাংশ, ৬১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২ দশমিক ৭ শতাংশ, ৫২ শতাংশ, ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০২ শতাংশ, ৬২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১৯ শতাংশ, ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ১২ শতাংশ ও ৩১ শতাংশ জমি।

একই সঙ্গে টয়োটা নোয়াহ মডেলের একটি গাড়ি ও টাটা ট্যাংকার লরি মডেলের একটি গাড়ি ক্রোক করা হয়। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) পাঁচটি ব্যাংক হিসাব, ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি করে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া রূপসী ল্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেডের ১ হাজার ২৫০টি শেয়ার, বকশীগঞ্জ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ শতাংশ শেয়ার, ফিউশন ফুটওয়্যার লিমিটেডের ৫০০ শেয়ার, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ৪০ হাজার শেয়ার ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ করা হয়।

বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলাতেও আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে।

রাশেদের জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ৪ শতাংশ জমিসহ ৩০০ বর্গফুটের সেমি পাকা বাড়ি, বসুন্ধরায় ৭ শতাংশ জমি, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৪ দশমিক ৫০ কাঠা, ৩ কাঠা জমি, ময়মনসিংহ সদরে ৪০ অযুতাংশের ওপর তৃতীয় তলায় ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও চট্টগ্রাম সদরে ১ হাজার ৯৭৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।

এছাড়া জামালপুরের বকশীগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় ৭ শতাংশ ও এর ওপর নির্মিত পাঁচতলা ভবন, ৩৩ শতাংশ জমি, ৯০ শতাংশ, ১৭৯ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৪৩ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৫৮ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ৪৪ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৬ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ৫৩ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৬ শতাংশ, ৪০ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৪০ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৬ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০৫ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১৬ শতাংশ, ৪ শতাংশ, ৪৯ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ৬৪ শতাংশ, ১৭ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৬৬ শতাংশ, ১৬৩ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ২২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৬৬ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ২৩০ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১ হাজার ২৩ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ৪ শতাংশ, ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৬১ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ২১ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৭ শতাংশ, ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ২৩ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ৪২ শতাংশ, ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৪৪ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ৩৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৭ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ, ২১ শতাংশ, ২১ শতাংশ, ৪৪ শতাংশ, ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৪১৮ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ১ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৮১ শতাংশ, ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ১৪৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৬২ শতাংশ ও ১৪৬ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি রয়েছে।

এছাড়া রাশেদের একটি প্রাইভেট কার, একটি জিপ গাড়ি, একটি শটগান ও একটি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এবি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় মোট ২২টি অ্যাকাউন্টে রক্ষিত অর্থ, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের ৩০ লাখ শেয়ার, সিএন নিউজ লিমিটেডের ৩ হাজার শেয়ার, কারেন্ট নিউজ ডটকম ডট বিডি লিমিটেডের ৪ হাজার ৫০০ শেয়ার, রূপসী ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের ১ হাজার ২৫০ শেয়ার, বকশীগঞ্জ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৭০ শতাংশ শেয়ার, ফিউশন ফুটওয়্যার লিমিটেডের ১৯ হাজার ৫০০ শেয়ার, পদ্মা ব্যাংক, ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ১টি শেয়ার, বাবুল চিশতী স্টিল মিল লিমিটেডের ১৯ হাজার ৫০০ শেয়ার, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স মিল লিমিটেডের ৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার জব্দ করা হয়।

বাবুল চিশতীর মেয়ে রিমি চিশতীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ২১ কোটি ২০ লাখ ৯৮ হাজার ১২৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। এ মামলায় রিমির জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে জামালপুরের বিভিন্ন মৌজায় ৪০ শতাংশ, ৪ দশমিক ৬৭৬ শতাংশ, ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের খাইল কৈর মৌজায় ২০ শতাংশ জমি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রযেছে ফারমার্স ব্যাংকের ৬টি ব্যাংক হিসাব ও ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব। এসব হিসাবে প্রায় ২১ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ১০ হাজার শেয়ারও ফ্রিজ করা হয়েছে।

বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর স্ত্রী ফারহানা আহমেদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫১ হাজার ৬১৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেন। ফারহানা আহমেদের জব্দ করা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে একটি মোটর গাড়ি, ফারমার্স ব্যাংকের ৩টি হিসাব ও যমুনা ব্যাংকের ৪টি ব্যাংক হিসাব। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা রয়েছে।

জামালপুর বকশীগঞ্জের ধনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল চিশতীর শ্যালক মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ১৮৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়।

এ মামলায় মোস্তফা কামালের জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর রামপুরায় মেরাদিয়া মৌজায় ১ হাজার ২৭৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, ময়মনসিংহ সদরে ৩ শতাংশ জমি, ধনুয়া কালামপুরে ১৫ শতাংশ জমি, ১০০ শতাংশ জমি, ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি, ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি, ৫৮ শতাংশ জমি, একটি টয়োটা মডেলের গাড়ি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ১৩টি ব্যাংক হিসাবে রাখা প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং ফারিব অটোরাইস মিল লিমিটেডের ৩ হাজার ৩০০ শেয়ার।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স

২৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে রেমিট্যান্স

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাস ১০ দিনে (২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১০ জুন) ২ হাজার ৩৬৪ কোটি ৫২ লাখ (২৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সপ্রবাহের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। চলতি জুন মাসের ১০ দিনেই ৮১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন তারা।

আর সব মিলিয়ে ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাস ১০ দিনে (২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১০ জুন) ২ হাজার ৩৬৪ কোটি ৫২ লাখ (২৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা। অর্থবছর শেষ হতে আরও ২০ দিন বাকি। এই ১৬ দিনে যদি ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, তাহলেই এবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক আতিক্রম করবে।

যে প্রত্যাশার কথা কিছুদিন ধরে বলে আসছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মাসখানেক আগে তিনি নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘এবার রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’

অর্থমন্ত্রীর সেই আশার হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ১০ দিনে যে রেমিট্যান্স এসেছে, বাকি ২০ দিনে যদি সেই হারে আসে, তাহলে এই ২০ দিনে আসার কথা ১৬২ কোটি ডলার। সে হিসাবে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্সের অঙ্ক দাঁড়াবে ২৪৩ কোটি ডলার।

আর ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ গিয়ে ঠেকবে ২৫ দশমিক ২৬ ডলারে। সে হিসাবে এই ২০ দিনে যদি ১৩৬ কোটি ডলারও আসে তাহলেও এবার রেমিট্যান্স ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, সাধারণত দুই ঈদের আগে রেমিট্যান্স বেশি আসে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে কোরবানির ঈদ। কোরবানির গরু কেনাসহ ঈদের অন্য খরচের জন্য এই মাসের শেষের দিকে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘সে হিসাবে অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, এবার রেমিট্যান্স ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াচ্ছে।’

গত মে মাসে ২১৭ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি।

আর এর মধ্য দিয়ে বিদায়ি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৭০ লাখ (২২.৮৩ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

এই ১১ মাসে গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস, জুলাই-জুন) চেয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

২০২০ সালে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ (২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল এক বছরে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহে ভাটা পড়ে। ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

এই বছরের মার্চ মাসে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের মার্চের চেয়ে ৫০ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের মার্চে ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার এসেছিল।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই অর্থবছরের প্রথম মাস গত বছরের জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এক মাসের হিসাবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। মহামারির আঁচ বিশ্বের অর্থনীতিতে লাগার পর গত বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স কমলেও এরপর থেকে বাড়ছেই।

গত আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। সেপ্টেম্বরে আসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছিল ২১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে আসে ২০৫ কোটি ডলার।

এ বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমে ১৭৮ কোটি ডলারে নেমে আসে। মার্চ মাসে আসে ১৯১ কোটি ডলার। এপ্রিলে এসেছিল ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ। তবে দেখা গেছে, পাশের দেশ ভারতে ৩২ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা ১ কোটির বেশি বাংলাদেশির পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

রিজার্ভ ৪৫.৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েই চলেছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৮ এপ্রিল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। কিন্তু গত ৪ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এক মাসেরও কম সময়ে ১ জুন তা ফের তা ফের ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত কয়েক দিনে তা আরও বেড়ে ৪৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এই অর্থবছরেই অর্থাৎ, জুন মাসের মধ্যেই রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

টানা বাড়তে থাকা বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছে সোমবার। ছবি: নিউজবাংলা

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৫টি। প্রকৌশল খাতের অবস্থা আরও খারাপ। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৬টি। বেড়েছে কেবল ছয়টি। অন্যদিকে ব্যাংকের ৩১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২০টির। বিমার ৫০ কোম্পানির মধ্যে লেনদেন স্থগিত ছিল একটির, বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ৩১টির দর। সবচেয়ে হতাশ করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এই খাতের একটিওর দাম বাড়েনি, ৩৭টির মধ্যে কমেছে ৩৩টি।

পুঁজিবাজারে টানা দুই সপ্তাহ পতনের পর ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াল। পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাড়ল বিমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দরও।

তবে এই দুই খাতে দাম বাড়ার পরও পুঁজিবাজারে দরপতন হলো টানা দ্বিতীয় দিনের মতো। এর কারণ, বস্ত্র, প্রকৌশল খাত।

উল্টো চিত্র বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে, যে দুটি খাত গত ৩ জুলাই বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ফুলছিল বেলুনের মতো। এই দুই খাতে পতন হয়েছে ঢালাও। লোকসানি কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার দর পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকার পর তাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে হাতেনাতে শিক্ষা পেলেন বিনিয়োগকারীরা।

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৫টি। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত। আর বেড়েছে ১২টির, যার মধ্যে দুটি সদ্য ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে রোববার।

আগের দিন এই খাতের ১৪টি কোম্পানির দর বেড়েছিল এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। এর মধ্যে ১১টি ছিল লোকসানি অথবা বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানি।

প্রকৌশল খাতের অবস্থা আরও খারাপ। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৬টি। বেড়েছে কেবল ছয়টি।

আগের দিন এই খাতে ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছিল ২৪টির। বেড়েছিল বাকি ১৮টির।

অন্যদিকে ব্যাংক খাতে ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২০টি। অথচ আগের দিন দর হারিয়েছিল ২২টি কোম্পানি।

বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন ছিল স্থগিত, কমেছে ১৮টির দাম আর বেড়েছে বাকি ৩১টির।

আগের দিন এই খাতের ৩৩টি কোম্পানি দর হারিয়েছিল।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
ডিএসইসি কোন খাতে কত কোম্পানির দাম কমল

আগের দিন সবচেয়ে বেশি দাম বাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত এদিন হতাশ করেছে সবচেয়ে বেশি। ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৩টি। একটির লেনদেন ছিল স্থগিত। বাকি তিনটির ছিল অপরিবর্তিত।

আগের দিন ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছিল দুটি ছাড়া সবগুলোর। কমেছিল কেবল একটির। একটির সেদিন লেনদেন হয়নি।

সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে আগের দিন ৩০ পয়েন্টের পর সোমবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমল ২২ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবারের তুলনায় রোববার লেনদেন কমেছিল ৬০০ কোটি টাকা। আর রোববারের তুলনায় আজ লেনদেন কমল আড়াইশ কোটি টাকার বেশি।

গত ২ জুন থেকে টাকা আট কার্যদিবস দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তা নামল।

এদিন হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৭৪০ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

আগের দিন হাতবদল হয়েছিল দুই হাজার ৬৯ কোটি ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

ঝড় গেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

সোমবার খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায় মূল ঝড়টা গেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ওপর দিয়ে। যদিও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত ইউনিট প্রতি দর এখনও লোভনীয়।

সোমবার লেনদেন শেষে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ফান্ডের ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এদিন ফান্ডটির দর ১১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। ইউনিটি প্রতি দর ৭ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দর ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
আগের দিন আশাবাদী করে তোলা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যাপকভাবে হতাশ করল বিনিয়োগকারীদের

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দর ৮ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়া ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ২১ টাকা থেকে হয়েছে ২০ টাকা ৩০ পয়সা।

এই খাতে লেনদেনও কমেছে ব্যাপকভাবে। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেটি কমে হয়েছে ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ব্যাংক খাতে অনেক দিন পর ভালো দিন

দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংক খাতের পতন খানিকটা বিস্ময়ই জাগিয়েছিল পুঁজিবাজারে। ব্যাপক লভ্যাংশ, আয়ে প্রবৃদ্ধির পরও দর পড়তে থাকার কারণ বুঝতে পারছিলেন না বিনিয়োগকারী।

সোমবারের লেনদেন এই খাতের শেয়ারধারীদের কিছুটা হলেও আশান্বিত করেছে।

গত দুই দিনের ধারাবাহিকতায় এদিনও দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল রূপালী ব্যাংক। আগের দিন ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা দাম থাকায় এদিন দামার বাড়ার সুযোগ ছিল ৩৭ টাকা পর্যন্ত। আর এই একটি দামেই হাতবদল হলো চার লাখ ৭ হাজার ৫১টি শেয়ারের। এ নিয়ে তিন কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম বাড়ল ৯ টাকা বা ৩২.১৪ শতাংশ।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বেশ কয়েকদিন পর বাড়ল ডিএসইতে

বেড়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দরও। বেড়েছে ৮.৮২ শতাংশ। শেয়ার দর ৭৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৬ টাকা ৩০ পয়সা।

এ ছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের ৫ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ৩.৮১ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের দর বেড়েছে ২.৮১ শতাংশ।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর ২.৪০ শতাংশ বেড়ে ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর ২.২৭ শতাংশ বেড়ে ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৯ টাকায়। ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

দর পতন হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.২৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৪ টাকা ৩০ পয়সা।

আরও কমেছে ইসলামী, ব্র্যাক, পূবালী, ট্রাস্ট, ন্যাশনাল ও যমুনা ব্যাংকের দর।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ১৮৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৭২ কোটি টাকা বেশি।

রোববার লেনদেন হয়েছিল ১১৭ কোটি টাকা।

আতঙ্ক কমল বিমা নিয়ে

গত কয়েকদিন ধরে টানা পতনে এই খাতের শেয়ারধারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা থেকে কিছুটা হলেও উত্তরণ ঘটেছে এদিন।

লেনদেনও এই খাতে বেড়েছে।

সোমবার হাতবদল হয়েছে ৪১১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে বেশি।

রোববার দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা লেনদেন হলেও সোমবার পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে হাতবদল হয়েছে এর চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা বেশি।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
টানা চার দিন পতনের পর কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে বিমা খাত

দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া বেশি কিছু কোম্পানি ছিল এ খাতের।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৪ শতাংশ, রিলায়েন্সের ৯.৯১ শতাংশ, প্রভাতীর ৯.৩৩ শতাংশ, ঢাকার ৮.১৭ শতাংশ, সোনারবাংলার ৮.০৬ শতাংশ, অগ্রণীর ৬.৫৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।

ইউনাইটেড, প্রগতী, ইস্টার্ন, সেন্ট্রাল ও নর্দান ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪ শতাংশ পর্যস্ত।

সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া কোম্পানির পাঁচটিই বস্ত্র খাতের

গত সপ্তাহ থেকে এই দুই খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এর মধ্যে লোকসানি কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন।

দিনের শুরুতে বিশেষ করে বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোর দাম আবার বাড়তে থাকে। তবে দুপুরের পর আবার কমতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দর হারানো পাঁচটি কোম্পানির প্রতিটিই এই খাতের দেখা যায়।

এগুলো হলো মালেক স্পিনিং, ফারইস্ট স্পিনিং, জেনারেশন নেক্সট, আলিফ ও ড্রাগন সোয়েটার।

তবে এর মধ্যেও দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির তালিকায় ১০টি কোম্পানির মধ্যে এই খাতের ছিল তিনটি।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
গত কয়েকদিন ধরে ভালো মন্দ সব কোম্পানির দাম বাড়ছিল পুঁজিবাজারে। সেখানে হলো ছন্দপতন

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাফকো স্পিনিং ও মুন্নু ফেব্রিকের ১০ শতাংশ করে। আর তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দাম বেড়েছে ৯.৮৪ শতাংশ।

তিনটি কোম্পানির মধ্যে মুন্নু ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে রোববার।

কোম্পানি দুটির মধ্যে মুন্নুর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬২ হাজার ১০০টি, আর তমিজউদ্দিনের কেবল একটি।

মুন্নুর দাম ১১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা, আর তমিজউদ্দিনের ১৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা।

বেড়েও কমল প্রকৌশল খাত

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পর সবচেয়ে বেশি পড়েছে এই খাতের শেয়ার দর।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত; ৫ শতাংশ। আগের দিনের দর ৮ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা, যদিও দিনের শুরুতে দাম বেড়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছিল।

১৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে গোল্ডেনসনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা, যদিও দিনের শুরুতে দাম ১৭ টাকা হয়েছিল। শতকরা হিসেবে দাম কমেছে ৪.৭৯ শতাংশ।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
দিনের শুরুতে বাড়লেও পরে দর হারায় প্রকৌশল খাত

রানার অটোর শেয়ারদরও ৬৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৪ টাকা ৯০ পয়সা হয়েও দিন শেষ করেছে ৬১ টাকা ৯০ পয়সায়।

পতনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুটি এই খাতের। কপারটেকের দাম ৩২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে ৯.৭৬ শতাংশ।

এস আলম কোল্ডরিচের দামও ৩০ টাকা ২০ পয়সা থেকে শতকরা ৯.৯৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা ২০ পয়সা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের ‍তুলনায় ২২ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৩ পয়েন্টে।

শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭২ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৬৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

খুলনায় কেপিসিএলের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএলের দু্টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে শেয়ারধারীদের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা, তার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

উৎকণ্ঠার কারণ ছিল, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর অনুমোদন করবে না। আর এই নীতিতে অটল থাকলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারত।

কেপিসিএলের এই অনিশ্চয়তা নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও তৎপর হয়। কেন্দ্রগুলোকে যেন বিশেষ বিচেনায় অনুমোদন দেয়া হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে সুপারিশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেন সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

নিউজবাংলা গত ১৯ মে বিশেষ শর্তে কেপিসিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ ছিল, বাড়তি মেয়াদে তারা কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ, অর্থাৎ বিদ্যুৎ কেনা না হলে সরকার কেন্দ্র বসিয়ে রেখে যে অর্থ দেয়, সেটি দেবে না।

পরে বিএসইসি চেয়ারম্যান নিজেও নিউজবাংলাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছিল না। আর এ কারণে শেয়ার মূল্যও ক্রমেই কমছিল।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

তবে মন্ত্রণালয় থেকে ফিরতি চিঠি এসেছে কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে কবে থেকে কেন্দ্রগুলো আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে এসএসএস পাঠিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি জবাব দেননি।

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও বিষয়টি জানেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যে পাওয়ার প্লান্টগুলো আছে সেগুলো যে অনুমোদন হয় সেদিকে আমরা শুরু থেকেই নজর রাখছি। প্লান্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীগের স্বার্থে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হতে যাওয়া প্লান্টগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম।’

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন কেপিসিএল অনুমোদন পাবে

সম্প্রতি নিউজবাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সরকারের সাথে একটু নেগোসিয়েশন পর্যায়ে আছি। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট-এ রকম একটা ব্যবস্থাপনায়। এটা হলে লিস্টেড কোম্পানিগুলো কিছুটা বেনিফিট পাবে। তাদের যতটুকু বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ততটুকুর জন্য পেমেন্ট পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎকে এ ধরনের কোম্পানি অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে অংক কষে নেব। যেন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অগ্রগতি জানতে কোম্পানি সচিব আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে কথা হয় কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সোহরাব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে পত্রিকা পড়ে জেনেছি। পত্রিকায় সংবাদ যেহেতু এসেছে, নিশ্চয় এর একটি গ্রাউন্ড আছে। শুধু শুধু তো আর নিউজ হয় না।’

কেপিসিএল ছাড়াও অনুমোদন পাচ্ছে আরও কয়েকটি

এই সুবিধা কেপিসিএল ছাড়াও সামিট পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মার সাবসিডিয়ারি ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট ও ডাচ বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড এসোসিয়েটসও পাচ্ছে।

এর সামিট পাওয়ারের ১০২ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে গত ৩১ মার্চ। আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বছরের শেষে। তবে এই দুটি একেবারেই ছোট কেন্দ্র। একটি সাড়ে ১৩ মেগাওয়াটের, একটি ২৪.৩০ মেগাওয়াটের।

এ ছাড়াও ওরিয়ন ইনফিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে আগামী ২০ জুলাই। মধ্যে ডাচ বাংলা পাওয়ারের মেয়াদ শেষ হবে জুলাই মাসে।

বিএসইসি চেষ্টা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি কেপিসিএল-এর দুটি প্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ থেকেই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত ২৩ মার্চ বিএসইসি কার্যালয়ে ডাকা হয় কেপিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তারা বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর গত ১৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানকে চিঠি দেয় বিএসইসি। এতে দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে কেপিসিএল যে আবেদন করেছে, সেদিক বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজার থেকে বিভিন্ন সময় মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
খুলনায় কেপিসিএলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

এ পরিস্থিতিতে খুলনা পাওয়ার কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অর্থ লভ্যাংশ থেকে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত আসেনি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কমিশন উদ্বিগ্ন। তাই কেপিসিএলসহ অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির পিপিএ চুক্তি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য অনুরোধ করে কমিশন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও। তার বক্তব্য শুনে তিনি মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। আর তিনিই বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ‘নো পে নো ইলেকট্রিসিটির’ ভিত্তিতে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান।

কেপিসিএল আদ্যোপান্ত

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয় গড়ে ২১১ টাকায়। এটি যে মেয়াদী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধারণা ছিল না।

কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মোট তিনটি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে।

এরপর থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে লভ্যাংশ পেয়ে আসছে বিনিয়োগকারীরা। এই দুটির মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১ এর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। আর ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

গত ২০ মে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে।’

মেয়াদ শেষে কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চেষ্টা তদবিরের কতটা আগাল, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
কেপিসিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র

তিনটি কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কোম্পানির মালিকানায় এখন আছে কেবল সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা।

পটুয়াখালী জেলার খলিসাখালী এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনবে আগামী ১৫ বছর। এটি উৎপাদন শুরু করেছে গত ১৮ জানুয়ারি।

গত ৩১ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯.২ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২০.৫১ শতাংশ শেয়ার। আর দশমিক ৩০ শতাংশ আছে বিদেশীদের হাতে।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এফবিসিসিআই-এর নবনির্বাচিত নেতারা সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ আসবে। এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে সোমবার এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত পরিষদের ৪৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করতে এলে বাণিজ্যমন্ত্রী এই পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে টিপু মুনশি বলেন, এলডিসিসি উত্তরণের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সেক্টরভিত্তিক সাবকমিটি গঠন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি থাকবে। গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে এফবিসিসিআইকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যসুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আরও তৎপর থাকতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। সরকার এসব খাতে রপ্তানি বাণিজ্য দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এখানেও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী অর্থবছর আমরা ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে চাই। এ জন্য দেশের রপ্তানিকারকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানায় এফবিসিসিআই। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও আলোচনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এম এ মোমেন, মো. আমীন হেলালী, সালাহউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবিব উল্লাহ ডন এবং এম এ রাজ্জাক খানসহ সংগঠনের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সুযোগ দিতে হবে, অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এফবিসিসিআই, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করার কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বাণিজ্য সংগঠনের কিছু নীতিমালা সংস্কার করার কথা জানান। এফবিসিসিআই ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করেন।

এছাড়া, সভায় ই-কমার্স, আইসিটি, শিপিং কস্ট, ঘরে ঘরে উদ্যেক্তা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা। তারা ব্যবসাবান্ধব পলিসি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

রাষ্ট্রায়াত্ব রূপালী ব্যাংকের কার্যালয়

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

গত তিন কার্যদিবসে ৩১ শতাংশ দর বৃদ্ধির মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব একমাত্র ব্যাংক রূপালীর লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভার তারিখ জানানো হলো।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে আগামী সোমবার লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা করবে ব্যাংকটি।

এখন কেবল ন্যাশনাল ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাকি আছে।

এরই মধ্যে ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে একটি কেবল বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও একটি ব্যাংক আজ রাতেই সভা করবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ক্লোজিং বা আর্থবছর শেষে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড সভার করার নিয়ম থাকলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও এক মাস বাড়তি সময় দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ফলে নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যে ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের কোম্পানিগুলোর অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সভায় লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে।

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

এই দামে হাতবদল হয় মোট চার লাখ ৭ হাজার ৫১টি শেয়ার। লেনদেন ছিল এক কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার টাকা।

গত ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা প্রত্যাহারের দিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা ৪০ পয়সা।

৪ মে এক পর্যায়ে দাম কমে ২২ টাকা ১০ পয়সা। সেদিন থেকেই দাম বাড়তে থাকে।

তবে ২৭ মে ৩১ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পর ব্যাংক খাতে যে দর সংশোধন শুরু হয়, তাতে পড়ে যায় রূপালী ব্যাংক। এক পর্যায়ে ৯ জুন দাম কমে হয়ে যায় ২৮ টাকা।

১০ জুন ২ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ার সুযোগ থাকলেও বাড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা। অথচ সেদিন ব্যাংক খাতের প্রায় সব কটি কোম্পানি দর হারায়।

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ
গত তিন কার্যদিবসে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

আর রোববার ব্যাংক খাতের ৩১টি কোম্পানির দর হারানোর মধ্যে উজ্জ্বল ছিল রূপালী ব্যাংকই। আর সোমবার এ খাতের ২০টি ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়লেও রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

সেদিনও কেবল একটি দাম ৩৩ টাকা ৭০ পয়সায় পাঁচ লাখেরও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়।

ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর তিনি ইতোমধ্যে কাজে যোগদান করেছেন। যোগদান করেই বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করেছেন। রূপালী ব্যাংককে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হঠাৎ আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ চেয়ারম্যান যোগদান করার পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা।

গত বছর ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেও তা দিতে পারেনি ব্যাংকটি। এবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতিমালার কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলে একটি অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এর পর থেকেই ব্যাংকটির শেয়ার দর হারাতে থাকে।

তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশ ঘোষণায় এবার কোনো বাধা নেই।

গত ১ এপ্রিল ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দুই মাসের মতো শূন্য ছিল পদনি। ৩০ মে নিয়োগ দেয়া হয় হাজী সানাউল হককে। তিনি কাজে যোগ দেন দুই এক দিন পর। লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ে চেয়ারম্যানের পদ ফাঁকা থাকার কারণেই মূলত এই বিলম্ব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

৪৩ টাকা দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রামের নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের নাসির উদ্দিন।

আগ্রাবাদে সৈকত সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) লটারি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন।

গত ২৯ মে নগরের হোটেল গোল্ডেন ইনে অবস্থান করেন নাসির উদ্দিন। তখন ৫০০ টাকা রুম ভাড়ার সঙ্গে ৪৩ টাকা ভ্যাট দেন তিনি।

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

ভ্যাট কমিশনার বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ভ্যাট দেয়া। ইএফডি চালান পেলেই বুঝবেন ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।’

এবার চট্টগ্রামে ১৬ জন পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে আগ্রাবাদ ডিভিশন থেকে ১৩ জন, চান্দগাঁও একজন, পটিয়া একজন, চট্টলা থেকে একজন পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ

করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে সরকার। সোমবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গীকার। বিআরডিবি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ৩০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

রাজধানীর কারওরান বাজারে পল্লী ভবনে ফরিদপুরের পাঁচ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকার চেক দিয়ে সোমবার এ ঋণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প‍্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) মোট ৩০০ কোটি টাকা ঋণ তহবিল বরাদ্দ পেয়েছে। ৪ শতাংশ সরল সুদে দুই বছর মেয়াদে এই ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে দ্রুত স্বাভাবিক করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্নয়ন কাজ অব‍্যাহত রয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত নারী পল্লী উদ্যোক্তাদের এ প্রণোদনা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গীকার। বিআরডিবি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে।’

বিআরডিবির মহাপরিচালক সুপ্রিয় কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রেজাউল আহসান। অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি: চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

শেয়ার করুন