মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিরাট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

‘এফটিএ এর মতো বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে টেকসই বাণিজ্য সুবিধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গেও এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিরাট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে এখন প্রধান লক্ষ্যই হলো নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অধিকহারে প্রবেশ করা।’

এ জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ, প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যগ্রিমেন্ট –পিটিএ এবং রিজোনাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট-আরটিএ এর মতো পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রি টেড অ্যাগ্রিমেন্ট-এফটিএ করার চেষ্টায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

বুধবার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুনিটি’ শীর্ষক ভার্চু্য়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএমসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট রাকিব মোহাম্মদ ফখরুল (রকি) এর সভাপতিত্বে ওয়েবিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য মোস্তফা আবীদ খান।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাসিম এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার গোলাম সারওয়ার।

আলোচনায় অংশ নেন বিএমসিসিআইর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট এবং এফবিসিসিআইর সদ্য নির্বাচিত পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, স্ট্যান্ডার্ড মালয়েশিয়ার সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবরার আনোয়ার, বিএমসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার শহীদ।

আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অশুল্ক বাঁধাগুলো চিহ্নিত ও এর প্রভাব কাটিয়ে কীভাবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ চুক্তিপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এতে লাভ কী হতে পারে তা তুলে ধরেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ক আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

‘এফটিএ এর মতো বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে টেকসই বাণিজ্য সুবিধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গেও এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। অনেকগুলোর কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পৃথিবীর অনেক দেশ এই জোনে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। মালয়েশিয়া এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের নীতিমালা সহজ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে এগিয়ে যাবার জন্য বাংলাদেশ বাণিজ্য সহজীকরণের সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ সৃষ্টি করতেও বাংলাদেশ কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

এসবের ফলে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশে বিনিয়োগের এই চমৎকার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে সাগর বাণিজ্য চুক্তি, ১৯৯২ সালে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি এবং ১৯৯৪ সালে দ্বৈতকর বাতিল চুক্তি সই করে মালয়েশিয়া।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

খুলনায় কেপিসিএলের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএলের দু্টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে শেয়ারধারীদের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা, তার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

উৎকণ্ঠার কারণ ছিল, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর অনুমোদন করবে না। আর এই নীতিতে অটল থাকলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারত।

কেপিসিএলের এই অনিশ্চয়তা নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও তৎপর হয়। কেন্দ্রগুলোকে যেন বিশেষ বিচেনায় অনুমোদন দেয়া হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে সুপারিশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেন সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

নিউজবাংলা গত ১৯ মে বিশেষ শর্তে কেপিসিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ ছিল, বাড়তি মেয়াদে তারা কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ, অর্থাৎ বিদ্যুৎ কেনা না হলে সরকার কেন্দ্র বসিয়ে রেখে যে অর্থ দেয়, সেটি দেবে না।

পরে বিএসইসি চেয়ারম্যান নিজেও নিউজবাংলাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছিল না। আর এ কারণে শেয়ার মূল্যও ক্রমেই কমছিল।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

তবে মন্ত্রণালয় থেকে ফিরতি চিঠি এসেছে কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে কবে থেকে কেন্দ্রগুলো আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে এসএসএস পাঠিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি জবাব দেননি।

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও বিষয়টি জানেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যে পাওয়ার প্লান্টগুলো আছে সেগুলো যে অনুমোদন হয় সেদিকে আমরা শুরু থেকেই নজর রাখছি। প্লান্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীগের স্বার্থে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হতে যাওয়া প্লান্টগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম।’

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন কেপিসিএল অনুমোদন পাবে

সম্প্রতি নিউজবাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সরকারের সাথে একটু নেগোসিয়েশন পর্যায়ে আছি। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট-এ রকম একটা ব্যবস্থাপনায়। এটা হলে লিস্টেড কোম্পানিগুলো কিছুটা বেনিফিট পাবে। তাদের যতটুকু বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ততটুকুর জন্য পেমেন্ট পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎকে এ ধরনের কোম্পানি অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে অংক কষে নেব। যেন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অগ্রগতি জানতে কোম্পানি সচিব আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে কথা হয় কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সোহরাব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে পত্রিকা পড়ে জেনেছি। পত্রিকায় সংবাদ যেহেতু এসেছে, নিশ্চয় এর একটি গ্রাউন্ড আছে। শুধু শুধু তো আর নিউজ হয় না।’

কেপিসিএল ছাড়াও অনুমোদন পাচ্ছে আরও কয়েকটি

এই সুবিধা কেপিসিএল ছাড়াও সামিট পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মার সাবসিডিয়ারি ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট ও ডাচ বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড এসোসিয়েটসও পাচ্ছে।

এর সামিট পাওয়ারের ১০২ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে গত ৩১ মার্চ। আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বছরের শেষে। তবে এই দুটি একেবারেই ছোট কেন্দ্র। একটি সাড়ে ১৩ মেগাওয়াটের, একটি ২৪.৩০ মেগাওয়াটের।

এ ছাড়াও ওরিয়ন ইনফিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে আগামী ২০ জুলাই। মধ্যে ডাচ বাংলা পাওয়ারের মেয়াদ শেষ হবে জুলাই মাসে।

বিএসইসি চেষ্টা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি কেপিসিএল-এর দুটি প্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ থেকেই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত ২৩ মার্চ বিএসইসি কার্যালয়ে ডাকা হয় কেপিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তারা বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর গত ১৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানকে চিঠি দেয় বিএসইসি। এতে দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে কেপিসিএল যে আবেদন করেছে, সেদিক বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজার থেকে বিভিন্ন সময় মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
খুলনায় কেপিসিএলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

এ পরিস্থিতিতে খুলনা পাওয়ার কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অর্থ লভ্যাংশ থেকে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত আসেনি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কমিশন উদ্বিগ্ন। তাই কেপিসিএলসহ অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির পিপিএ চুক্তি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য অনুরোধ করে কমিশন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও। তার বক্তব্য শুনে তিনি মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। আর তিনিই বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ‘নো পে নো ইলেকট্রিসিটির’ ভিত্তিতে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান।

কেপিসিএল আদ্যোপান্ত

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয় গড়ে ২১১ টাকায়। এটি যে মেয়াদী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধারণা ছিল না।

কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মোট তিনটি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে।

এরপর থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে লভ্যাংশ পেয়ে আসছে বিনিয়োগকারীরা। এই দুটির মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১ এর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। আর ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

গত ২০ মে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে।’

মেয়াদ শেষে কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চেষ্টা তদবিরের কতটা আগাল, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
কেপিসিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র

তিনটি কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কোম্পানির মালিকানায় এখন আছে কেবল সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা।

পটুয়াখালী জেলার খলিসাখালী এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনবে আগামী ১৫ বছর। এটি উৎপাদন শুরু করেছে গত ১৮ জানুয়ারি।

গত ৩১ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯.২ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২০.৫১ শতাংশ শেয়ার। আর দশমিক ৩০ শতাংশ আছে বিদেশীদের হাতে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

জাপানে টয়োটা গাড়ির কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের এমন আগ্রহে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণে মুভমেন্ট হচ্ছে, কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে আমরা শুধু ইমপোর্ট করব, সেটা না। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরও কিছু ডেভেলপ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি করতে চায় জাপান। দেশটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশে অটোমোবাইল শিল্পে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জন, উৎপাদন এবং এ শিল্পের বিকাশে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। তাই শিল্প মন্ত্রণালয়ের আনা ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২১’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভা বৈঠক। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশে গাড়ি উৎপাদনের বিষয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত একটা প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘তারা জাপানের একটা বিখ্যাত কোম্পানির গাড়ি এখানেই প্রডিউস করতে চান।’

জাপানের এমন আগ্রহে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণে মুভমেন্ট হচ্ছে, কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে আমরা শুধু ইমপোর্ট করব, সেটা না। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরও কিছু ডেভেলপ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

ইতিমধ্যে এ খাতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘অনেক কিছু অলরেডি চালু আছে। সেটাকে সিস্টেমেটিক ওয়েতে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সে জন্য তারা (শিল্প মন্ত্রণালয়) এই অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে আসছে।’

নীতিমালার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘অটোমোবাইল, যন্ত্র উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশীয় শিল্পকে বিকশিত করা। স্থানীয় অটোমোবাইলের উৎপাদনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগ সুযোগ বৃদ্ধি করা। যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের মডেল ও গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ হয়।’

স্থানীয় ডিজাইন তৈরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলাকৌশলের উৎকর্ষতা অর্জনে অটোমোবাইল খাতে গবেষণা ও উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

রাষ্ট্রায়াত্ব রূপালী ব্যাংকের কার্যালয়

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

গত তিন কার্যদিবসে ৩১ শতাংশ দর বৃদ্ধির মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব একমাত্র ব্যাংক রূপালীর লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভার তারিখ জানানো হলো।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে আগামী সোমবার লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা করবে ব্যাংকটি।

এখন কেবল ন্যাশনাল ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাকি আছে।

এরই মধ্যে ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে একটি কেবল বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও একটি ব্যাংক আজ রাতেই সভা করবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ক্লোজিং বা আর্থবছর শেষে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড সভার করার নিয়ম থাকলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও এক মাস বাড়তি সময় দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ফলে নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যে ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের কোম্পানিগুলোর অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সভায় লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে।

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

এই দামে হাতবদল হয় মোট চার লাখ ৭ হাজার ৫১টি শেয়ার। লেনদেন ছিল এক কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার টাকা।

গত ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা প্রত্যাহারের দিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা ৪০ পয়সা।

৪ মে এক পর্যায়ে দাম কমে ২২ টাকা ১০ পয়সা। সেদিন থেকেই দাম বাড়তে থাকে।

তবে ২৭ মে ৩১ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পর ব্যাংক খাতে যে দর সংশোধন শুরু হয়, তাতে পড়ে যায় রূপালী ব্যাংক। এক পর্যায়ে ৯ জুন দাম কমে হয়ে যায় ২৮ টাকা।

১০ জুন ২ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ার সুযোগ থাকলেও বাড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা। অথচ সেদিন ব্যাংক খাতের প্রায় সব কটি কোম্পানি দর হারায়।

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ
গত তিন কার্যদিবসে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

আর রোববার ব্যাংক খাতের ৩১টি কোম্পানির দর হারানোর মধ্যে উজ্জ্বল ছিল রূপালী ব্যাংকই। আর সোমবার এ খাতের ২০টি ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়লেও রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

সেদিনও কেবল একটি দাম ৩৩ টাকা ৭০ পয়সায় পাঁচ লাখেরও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়।

ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর তিনি ইতোমধ্যে কাজে যোগদান করেছেন। যোগদান করেই বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করেছেন। রূপালী ব্যাংককে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হঠাৎ আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ চেয়ারম্যান যোগদান করার পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা।

গত বছর ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেও তা দিতে পারেনি ব্যাংকটি। এবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতিমালার কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলে একটি অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এর পর থেকেই ব্যাংকটির শেয়ার দর হারাতে থাকে।

তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশ ঘোষণায় এবার কোনো বাধা নেই।

গত ১ এপ্রিল ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দুই মাসের মতো শূন্য ছিল পদনি। ৩০ মে নিয়োগ দেয়া হয় হাজী সানাউল হককে। তিনি কাজে যোগ দেন দুই এক দিন পর। লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ে চেয়ারম্যানের পদ ফাঁকা থাকার কারণেই মূলত এই বিলম্ব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

৪৩ টাকা দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রামের নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের নাসির উদ্দিন।

আগ্রাবাদে সৈকত সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) লটারি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন।

গত ২৯ মে নগরের হোটেল গোল্ডেন ইনে অবস্থান করেন নাসির উদ্দিন। তখন ৫০০ টাকা রুম ভাড়ার সঙ্গে ৪৩ টাকা ভ্যাট দেন তিনি।

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

ভ্যাট কমিশনার বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ভ্যাট দেয়া। ইএফডি চালান পেলেই বুঝবেন ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।’

এবার চট্টগ্রামে ১৬ জন পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে আগ্রাবাদ ডিভিশন থেকে ১৩ জন, চান্দগাঁও একজন, পটিয়া একজন, চট্টলা থেকে একজন পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

মুজিববর্ষে জামানাতহীন ঋণ ৯০১ কোটি টাকা

মুজিববর্ষে জামানাতহীন ঋণ ৯০১ কোটি টাকা

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ জন বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু যুবঋণ কার্যক্রমের আওতায় জামানতবিহীন ৯০১ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হাবিব হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ জন বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবকদের জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ৩১ হাজার ৩৯ ঋণগ্রহীতাকে ৮ হাজার ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য না নিলে নিলাম

৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য না নিলে নিলাম

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ‘যেকোনো পণ্য চালান যত দ্রুত খালাস নেয়া যায়, ততই সকলের জন্য মঙ্গল। কারণ কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিদেশ থেকে কেনেন নিজের প্রয়োজনে। কিন্তু সেটি দিনের পর দিন বন্দরের ইয়ার্ডে রেখে দেয়া উচিত নয়। তাই দ্রুত খালাস নেয়ার জন্য আমরা তাগাদা দিয়েছি।’

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগে ৪৫ দিনের মধ্যে আমদানি করা পণ্য খালাস নেয়ার বিধান থাকলেও এখন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালাস নিতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। অন্যথায় এ চালান নিলামযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।

আদেশসংক্রান্ত একটি চিঠি রোববার সকল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট ও বন্দর ব্যবহারকারী সংস্থার কাছে পাঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর দিয়ে কোনো পণ্য চালান আনা হলে তা ২১ দিনের মধ্যে খালাস করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কাস্টমস আইন অনুযায়ী কাস্টমস হাউস অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়সীমার মধ্যে শুল্ক-কর পরিশোধ করে পণ্য চালান খালাস নিতে হবে। অন্যথায় এ চালান নিলামযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।

এই আইন লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ও পোর্ট চার্জ যাতে না দিতে হয়, এই জন্য পণ্য চালান দ্রুত খালাস নিতে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ‘যেকোনো পণ্য চালান যত দ্রুত খালাস নেয়া যায়, ততই সকলের জন্য মঙ্গল। কারণ কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিদেশ থেকে কেনেন নিজের প্রয়োজনে। কিন্তু সেটি দিনের পর দিন বন্দরের ইয়ার্ডে রেখে দেয়া উচিত নয়। তাই দ্রুত খালাস নেয়ার জন্য আমরা তাগাদা দিয়েছি।’

এদিকে, পণ্য চালানের জন্য আগে ৪৫ দিনের মধ্যে খালাস নেয়ার নিয়ম ছিল। বিমানবন্দরে এ ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল ৩০ দিনের।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, ‘কোনো একটা পণ্য চালানে দীর্ঘসূত্রতা হতে পারে, যেমন ফাইল যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে যায় তখন অনেক সময় লাগে। তখন দেরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনার জন্য কাস্টমস কমিশনারের কাছে আমরা অনুরোধ করেছি।’

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

টানা বাড়তে থাকা বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছে সোমবার। ছবি: নিউজবাংলা

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৫টি। প্রকৌশল খাতের অবস্থা আরও খারাপ। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৬টি। বেড়েছে কেবল ছয়টি। অন্যদিকে ব্যাংকের ৩১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২০টির। বিমার ৫০ কোম্পানির মধ্যে লেনদেন স্থগিত ছিল একটির, বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ৩১টির দর। সবচেয়ে হতাশ করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এই খাতের একটিওর দাম বাড়েনি, ৩৭টির মধ্যে কমেছে ৩৩টি।

পুঁজিবাজারে টানা দুই সপ্তাহ পতনের পর ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াল। পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাড়ল বিমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দরও।

তবে এই দুই খাতে দাম বাড়ার পরও পুঁজিবাজারে দরপতন হলো টানা দ্বিতীয় দিনের মতো। এর কারণ, বস্ত্র, প্রকৌশল খাত।

উল্টো চিত্র বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে, যে দুটি খাত গত ৩ জুলাই বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ফুলছিল বেলুনের মতো। এই দুই খাতে পতন হয়েছে ঢালাও। লোকসানি কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার দর পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকার পর তাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে হাতেনাতে শিক্ষা পেলেন বিনিয়োগকারীরা।

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৫টি। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত। আর বেড়েছে ১২টির, যার মধ্যে দুটি সদ্য ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে রোববার।

আগের দিন এই খাতের ১৪টি কোম্পানির দর বেড়েছিল এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। এর মধ্যে ১১টি ছিল লোকসানি অথবা বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানি।

প্রকৌশল খাতের অবস্থা আরও খারাপ। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৬টি। বেড়েছে কেবল ছয়টি।

আগের দিন এই খাতে ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছিল ২৪টির। বেড়েছিল বাকি ১৮টির।

অন্যদিকে ব্যাংক খাতে ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২০টি। অথচ আগের দিন দর হারিয়েছিল ২২টি কোম্পানি।

বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন ছিল স্থগিত, কমেছে ১৮টির দাম আর বেড়েছে বাকি ৩১টির।

আগের দিন এই খাতের ৩৩টি কোম্পানি দর হারিয়েছিল।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
ডিএসইসি কোন খাতে কত কোম্পানির দাম কমল

আগের দিন সবচেয়ে বেশি দাম বাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত এদিন হতাশ করেছে সবচেয়ে বেশি। ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৩টি। একটির লেনদেন ছিল স্থগিত। বাকি তিনটির ছিল অপরিবর্তিত।

আগের দিন ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছিল দুটি ছাড়া সবগুলোর। কমেছিল কেবল একটির। একটির সেদিন লেনদেন হয়নি।

সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে আগের দিন ৩০ পয়েন্টের পর সোমবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমল ২২ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবারের তুলনায় রোববার লেনদেন কমেছিল ৬০০ কোটি টাকা। আর রোববারের তুলনায় আজ লেনদেন কমল আড়াইশ কোটি টাকার বেশি।

গত ২ জুন থেকে টাকা আট কার্যদিবস দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তা নামল।

এদিন হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৭৪০ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

আগের দিন হাতবদল হয়েছিল দুই হাজার ৬৯ কোটি ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

ঝড় গেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

সোমবার খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায় মূল ঝড়টা গেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ওপর দিয়ে। যদিও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত ইউনিট প্রতি দর এখনও লোভনীয়।

সোমবার লেনদেন শেষে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ফান্ডের ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এদিন ফান্ডটির দর ১১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। ইউনিটি প্রতি দর ৭ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দর ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
আগের দিন আশাবাদী করে তোলা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যাপকভাবে হতাশ করল বিনিয়োগকারীদের

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দর ৮ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়া ফান্ডের ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ইউনিটি প্রতি দর কমেছে ২১ টাকা থেকে হয়েছে ২০ টাকা ৩০ পয়সা।

এই খাতে লেনদেনও কমেছে ব্যাপকভাবে। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেটি কমে হয়েছে ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ব্যাংক খাতে অনেক দিন পর ভালো দিন

দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংক খাতের পতন খানিকটা বিস্ময়ই জাগিয়েছিল পুঁজিবাজারে। ব্যাপক লভ্যাংশ, আয়ে প্রবৃদ্ধির পরও দর পড়তে থাকার কারণ বুঝতে পারছিলেন না বিনিয়োগকারী।

সোমবারের লেনদেন এই খাতের শেয়ারধারীদের কিছুটা হলেও আশান্বিত করেছে।

গত দুই দিনের ধারাবাহিকতায় এদিনও দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল রূপালী ব্যাংক। আগের দিন ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা দাম থাকায় এদিন দামার বাড়ার সুযোগ ছিল ৩৭ টাকা পর্যন্ত। আর এই একটি দামেই হাতবদল হলো চার লাখ ৭ হাজার ৫১টি শেয়ারের। এ নিয়ে তিন কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম বাড়ল ৯ টাকা বা ৩২.১৪ শতাংশ।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বেশ কয়েকদিন পর বাড়ল ডিএসইতে

বেড়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দরও। বেড়েছে ৮.৮২ শতাংশ। শেয়ার দর ৭৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৬ টাকা ৩০ পয়সা।

এ ছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের ৫ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ৩.৮১ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের দর বেড়েছে ২.৮১ শতাংশ।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর ২.৪০ শতাংশ বেড়ে ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর ২.২৭ শতাংশ বেড়ে ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৯ টাকায়। ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

দর পতন হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.২৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৪ টাকা ৩০ পয়সা।

আরও কমেছে ইসলামী, ব্র্যাক, পূবালী, ট্রাস্ট, ন্যাশনাল ও যমুনা ব্যাংকের দর।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ১৮৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৭২ কোটি টাকা বেশি।

রোববার লেনদেন হয়েছিল ১১৭ কোটি টাকা।

আতঙ্ক কমল বিমা নিয়ে

গত কয়েকদিন ধরে টানা পতনে এই খাতের শেয়ারধারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা থেকে কিছুটা হলেও উত্তরণ ঘটেছে এদিন।

লেনদেনও এই খাতে বেড়েছে।

সোমবার হাতবদল হয়েছে ৪১১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে বেশি।

রোববার দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা লেনদেন হলেও সোমবার পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে হাতবদল হয়েছে এর চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা বেশি।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
টানা চার দিন পতনের পর কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে বিমা খাত

দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া বেশি কিছু কোম্পানি ছিল এ খাতের।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৪ শতাংশ, রিলায়েন্সের ৯.৯১ শতাংশ, প্রভাতীর ৯.৩৩ শতাংশ, ঢাকার ৮.১৭ শতাংশ, সোনারবাংলার ৮.০৬ শতাংশ, অগ্রণীর ৬.৫৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।

ইউনাইটেড, প্রগতী, ইস্টার্ন, সেন্ট্রাল ও নর্দান ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪ শতাংশ পর্যস্ত।

সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া কোম্পানির পাঁচটিই বস্ত্র খাতের

গত সপ্তাহ থেকে এই দুই খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এর মধ্যে লোকসানি কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন।

দিনের শুরুতে বিশেষ করে বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোর দাম আবার বাড়তে থাকে। তবে দুপুরের পর আবার কমতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দর হারানো পাঁচটি কোম্পানির প্রতিটিই এই খাতের দেখা যায়।

এগুলো হলো মালেক স্পিনিং, ফারইস্ট স্পিনিং, জেনারেশন নেক্সট, আলিফ ও ড্রাগন সোয়েটার।

তবে এর মধ্যেও দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির তালিকায় ১০টি কোম্পানির মধ্যে এই খাতের ছিল তিনটি।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
গত কয়েকদিন ধরে ভালো মন্দ সব কোম্পানির দাম বাড়ছিল পুঁজিবাজারে। সেখানে হলো ছন্দপতন

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাফকো স্পিনিং ও মুন্নু ফেব্রিকের ১০ শতাংশ করে। আর তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দাম বেড়েছে ৯.৮৪ শতাংশ।

তিনটি কোম্পানির মধ্যে মুন্নু ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে রোববার।

কোম্পানি দুটির মধ্যে মুন্নুর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬২ হাজার ১০০টি, আর তমিজউদ্দিনের কেবল একটি।

মুন্নুর দাম ১১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা, আর তমিজউদ্দিনের ১৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা।

বেড়েও কমল প্রকৌশল খাত

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পর সবচেয়ে বেশি পড়েছে এই খাতের শেয়ার দর।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত; ৫ শতাংশ। আগের দিনের দর ৮ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা, যদিও দিনের শুরুতে দাম বেড়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছিল।

১৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে গোল্ডেনসনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা, যদিও দিনের শুরুতে দাম ১৭ টাকা হয়েছিল। শতকরা হিসেবে দাম কমেছে ৪.৭৯ শতাংশ।

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন

ঘুরল ব্যাংক-বিমা, চুপসে গেল বস্ত্র-প্রকৌশলের বেলুন
দিনের শুরুতে বাড়লেও পরে দর হারায় প্রকৌশল খাত

রানার অটোর শেয়ারদরও ৬৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৪ টাকা ৯০ পয়সা হয়েও দিন শেষ করেছে ৬১ টাকা ৯০ পয়সায়।

পতনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুটি এই খাতের। কপারটেকের দাম ৩২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে ৯.৭৬ শতাংশ।

এস আলম কোল্ডরিচের দামও ৩০ টাকা ২০ পয়সা থেকে শতকরা ৯.৯৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা ২০ পয়সা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের ‍তুলনায় ২২ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৩ পয়েন্টে।

শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭২ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৬৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিদেশি বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ভিয়েতনামকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের
করোনা শেষে আসছে চীনা বিনিয়োগ

শেয়ার করুন