নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ইউরোপে পান রপ্তানি

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ইউরোপে পান রপ্তানি

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিরলস উদ্যোগের ফলে ইউরোপে পান রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে। এটি খুবই আশার কথা। ভবিষ্যতে পান রপ্তানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাড়ে ছয় বছর পর ইউরোপে পুনরায় পান রপ্তানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার সকালে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক রাজধানীর শ্যামপুরে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসে ‘ইউরোপে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পান রপ্তানি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ও প্রথম চালানে এক মেট্রিক টন পান রপ্তানির ঘোষণা দেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফভিএপিইএ) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিরলস উদ্যোগের ফলে ইউরোপে পান রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে। এটি খুবই আশার কথা। ভবিষ্যতে পান রপ্তানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

কৃষিপণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইউরোপসহ উন্নত দেশে অন্যান্য কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে উদ্যোগ অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে দেশে উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা (গ্যাপ) বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সারা দেশে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে। অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব থেকে সনদ দেয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। ফলে, আমরা আশা করছি, দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে কৃষিপণ্য বিরাট ভূমিকা রাখবে ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া কৃষকও লাভবান হবেন।

কেন নিষেধাজ্ঞা?

বাংলাদেশের পানে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে সাময়িকভাবে পান রপ্তানির ওপর ইইউ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যা ধাপে ধাপে ২০২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এবং ইইউ পান রপ্তানিতে কতিপয় শর্ত আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ২০১২-১৩ সালে ১৮ হাজার ৭৮০ টন ও ২০১৩-১৪ সালে ১৩ হাজার ২৫০ টন পান রপ্তানি হয়। যার মূল্য যথাক্রমে ৩৮ মিলিয়ন ও ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

শর্তগুলো ছিল-পান সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ামুক্ত হতে হবে, উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ), গুড হাইজিন প্র্যাকটিসেস (জিএইচপি), গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস (জিএমপি) অনুসরণ করতে হবে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব থেকে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সার্টিফিকেট প্রভৃতি প্রদান করতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ইইউ আরোপিত শর্তপূরণে অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে পান আবাদের এলাকা নির্বাচন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, উত্তম কৃষি চর্চার আলোকে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, ট্রেসিবিলিটি বা শনাক্তকরণ, পানের স্যাম্পল টেস্ট, কৃষক নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ, রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিতভাবে পানের জমির মাটি ও পানি পরীক্ষা, রপ্তানি বাজারের জন্য নিরাপদ ও বালাইমুক্ত পান উৎপাদন নির্দেশিকা প্রভৃতি।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ইইউর আরোপিত শর্ত পূরণ করতে পারায় গত ১৫ এপ্রিল ২০২১ সালে পান রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। যার ফলে আজকে পান রপ্তানি আবার শুরু হলো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন ও বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কমেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজেট

কমেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজেট

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৪২৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৫ টাকা; যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটের চেয়ে ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৯ টাকা বেশি ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৪৮ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন মেয়র সাদিক; যা পরের অর্থবছরে ১২০ কোটি ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৯২ টাকা কমিয়ে দেয়া হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১৫ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৬ টাকা।

মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ফেসবুক পেজ থেকে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন প্যানেল মেয়র গাজী নইমুল হোসেন লিটু।

এটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৯তম এবং মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর তৃতীয় বাজেট।

সিটি করপোরেশন জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৪২৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৫ টাকা; যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটের চেয়ে ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৯ টাকা বেশি ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৪৮ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন মেয়র সাদিক; যা পরের অর্থবছরে ১২০ কোটি ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৯২ টাকা কমিয়ে দেয়া হয়।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ-কালভার্ট, পুকুর ও খাল সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন স্থানে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও সংরক্ষণ খাতে ২৬৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৮ টাকা, প্রশাসনিক ও অফিস পরিচালনা খাতে ৪১ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক খাতে ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮০ টাকা, করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে ৬ কোটি টাকা, পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে ১৯ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৮ টাকা, পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন খাতে ৫ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং বিবিধ খাতে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আয়ের বেশির ভাগ উৎসই দেখানো হয়েছে সরকারি অনুদান এবং সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সাহায্যনির্ভর খাত থেকে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৩২১ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩১ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব উৎস থেকে ৬৫ কোটি টাকা, থোক ও বিশেষ থোক থেকে ৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে ২১১ কোটি টাকা; যা মোট বাজেটের ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এডিপির আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রকল্প আমরা প্রস্তাব করেছি। এর মধ্যে নতুন নগর ভবন, বরিশাল মহানগরীর রিং রোড প্রকল্প, বেলতলা ও রূপাতলী সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দুটি ব্যবহার উপযোগীকরণসহ ওভারহেড ট্যাংক ও পানি সরবরাহ পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্প এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প অন্যতম।’

তিনি বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে কোনো প্রকল্প না পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রথম পাঁচ বছরের গ্যারান্টিতে ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৪১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ২০০ মিটার ফুটপাত নির্মাণ, ১ দশমিক ২০ কিলোমিটার ড্রেন কাম ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও পরিষ্কারকরণ, একটি সেবক কলোনির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন এবং আধুনিক এসফল্ট মিক্সিং প্ল্যান্টের সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

‘ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এড়াতে বরিশাল নগরীকে কয়েকটি জোনে বিভক্ত করে নতুনভাবে জার্মানি থেকে আমদানি করা ফগার মেশিন এবং হ্যান্ড স্প্রের মাধ্যমে জীবাণুনাশক নিয়মিত ছিটানো হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিতে নতুন ৩টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ৮ কিলোমিটার পানি সংযোগ লাইন স্থাপন করায় ১০ লাখ গ্যালন পানি সরবরাহ বেড়েছে।’

বিদ্যুতায়নের জন্য ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যা অনুমোদন হলে ১৬ হাজার ৯৪ পোল এবং ২০ হাজার ৫০৯টি নতুন সড়ক বাতি স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে জানান মেয়র সাদিক।

ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকরা যুক্ত ছিলেন।

শেয়ার করুন

সংসদে বাজেট পাস

সংসদে বাজেট পাস

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে।

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে।

এর আগে বাজেট অধিবেশনে ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবি তুলে ধরেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা।

কয়েকজন সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১’ পাস হয়। এর মাধ্যমে শেষ হয় নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস কার্যক্রম; রক্ষা হয়েছে ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

বাজেট পাসের পর বুধবারই রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দেবেন। পরদিন ১ জুলাই নতুন অর্থবছর থেকে তা বাস্তবায়ন ‍শুরু হবে।

এর আগে গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। পরে দুই দিন আলোচনা করে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়।

পরে সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে টানা চার দিন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। পরে আরও ১০ দিন বিরতি দিয়ে ফের দুই দিন বাজেটের ওপর আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার বাজেট আলোচনা শেষ হয়।

এরপর পাস হয় অর্থ বিল। সব মিলিয়ে প্রায় এক শর মতো সংসদ সদস্য এবার বাজেটের ওপর আলোচনা করেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্পূরকসহ বাজেটের ওপর ৬ দিনে ১৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন হয়েছিল। গত বছর ৯ দিনের বাজেট অধিবেশনে ১৮ জন সংসদ সদস্য ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট আলোচনা করেছিলেন।

বুধবার সংসদে অধিবেশনের শুরুতে ২০২১-২২ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আনীত ছাটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একে একে অন্য মন্ত্রীরা তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কণ্ঠভোটে সে সকল প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১ জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য উত্থাপণ করা হলে তা কন্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এ সময় সংসদে উপস্থিত সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংসদে সরকারি বিরোধীদলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ০৩ জুন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সূদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ।’

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এ বছরের বাজেটকে মানবিক, মানুষের জন্য ও স্বপ্নপূরণের বাজেট আখ্যা দিয়ে এর আকার নির্ধারণ করেছেন ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৭ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের জন্য সংসদে পাশ হওয়া বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা যোগাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাজেট ঘাটতির এই হার জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সকল প্রকার বিলাসী বিশেষ করে আমদানি করা বিদেশি পণ্যের উপর ট্যাক্স ধার্য করেছেন। বাড়ির নকশা অনুমোদন করতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করেছেন। ফলে শহরে বা গ্রামে যেকোনো জায়গায় বাড়ি করতে হলে টিআইএন নিতে হবে। এতে বাড়ির মালিক করের আওতায় আসবেন। এ ছাড়া যে কোনও সমবায় সমিতির নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

করোনার নেতিবাচক প্রভাবে সাধারন অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বলয়ের পরিধি বাড়িয়ে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছে সরকার। ৮ লাখ বাড়ানো হয়েছে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

অপ্রত্যাশিত করোনা মহামারিকে নির্মুল করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাখাতে ৩২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর বাইরে করোনা মোকাবিলায় এবারও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্যখাতের অর্জনসমূহকে টেকসই করা ও ভবিষ্যতে মহামারির অভিঘাত হতে পরিত্রাণ পেতে মানসম্পন্ন গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যশিক্ষার সম্প্রসারণে আগামী অর্থবছরেও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বুধবার বাজেট পাস

বুধবার বাজেট পাস

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বুধবার পাস হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। ফাইল ছবি

৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে কয়েকজন সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১’ পাস হবে। এর মাধ্যমে শেষ হবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস কার্যক্রম।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বুধবার পাস হচ্ছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের এই বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে কয়েকজন সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১’ পাস হবে। এর মাধ্যমে শেষ হবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস কার্যক্রম।

বাজেট পাসের পর বুধবারই রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দেবেন। পরদিন ১ জুলাই নতুন অর্থবছর থেকে তা বাস্তবায়ন ‍শুরু হবে।

এর আগে গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। পরে দুই দিন আলোচনা করে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়। এরপর সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে টানা চার দিন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। পরে আরও ১০ দিন বিরতি দিয়ে ফের দুই দিন বাজেটের ওপর আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, জাতীয় পার্টি-জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাজেট আলোচনা শেষ হয়।

এরপর পাস হয় অর্থ বিল। সব মিলিয়ে প্রায় একশ’র মতো সংসদ সদস্য এবার বাজেটের ওপর আলোচনা করেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্পূরকসহ বাজেটের ওপরে ৬ দিনে ১৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে ।

এর আগে গত বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন হয়েছিল। গত বছর (২০২০ সালে) ৯ দিনের বাজেট অধিবেশনে ১৮ জন সংসদ সদস্য ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট আলোচনা করেছিলেন।

শেয়ার করুন

এবার কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ

এবার কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ

‘এবার নতুন যে সুযোগটি দেয়া হয়েছে, সেটি হলো কোথা থেকে টাকা এসেছে, সে প্রশ্ন সরকারের কোনো সংস্থাই করবে না। বিদায়ী বাজেটে যে সুযোগ ছিল, তাতে টাকা কোথা থেকে এসেছে, সে প্রশ্নের উত্তর সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হতো। এবার সে ধরনের কিছুই করতে হবে না।’

কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করা যাবে। তবে এবার কর দিতে হবে ২৫ শতাংশ। সেই সঙ্গে করের ওপর জরিমানা গুনতে হবে ৫ শতাংশ।

জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে এই বিশেষ সুযোগ রেখে অর্থবিল ২০২১ পাস হয়।

৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন, তাতে পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ ছিল না।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ (সিএসই) বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে পাস হয় অর্থবিল।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী। এ সুযোগ পুঁজিবাজারের জন্য ‘খুবই ভালো’ হবে বলেও মনে করছেন তিনি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এবার নতুন যে সুযোগটি দেয়া হয়েছে, সেটি হলো কোথা থেকে টাকা এসেছে, সে প্রশ্ন সরকারের কোনো সংস্থাই করবে না। বিদায়ী বাজেটে যে সুযোগ ছিল, তাতে টাকা কোথা থেকে এসেছে, সে প্রশ্নের উত্তর সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হতো। এবার সে ধরনের কিছুই করতে হবে না।

‘কেউ যদি টাকা ডাকাতি করেও আনে, তাতে কোনো সমস্যা নেই; সেই টাকা দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

‘আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বিশাল অঙ্কের এই কালোটাকা তো অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে ১০০ বছর আগে এই সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

সার্বিকভাবে এই সুযোগ পুঁজিবাজারে আরও ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে করেন এই পুঁজিবাজার বিশ্লেষক।

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার যে সুযোগ ছিল, তাতে ১০ শতাংশ কর দিতে হতো। তবে টাকা কোথা থেকে এসেছে, তার জবাব দিতে হতো।

১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে কালোটাকা সাদা রাখার সুযোগের বিষয়ে শাকিল রিজভী বলেন, ‘এবার কর বাড়লেও বাড়তি যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তাতে আরও বেশি টাকা পুঁজিবাজারে আসবে। বাজার আরও ভালো হবে। আর ৫ শতাংশ যে জরিমানা দিতে হবে, সেটি করের ওপর দিতে হবে। মোট হিসাবে খুব সামান্যই হবে সেটা।’

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন, পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে উত্থান, তার পেছনে কালোটাকার প্রভাব রয়েছে। পুঁজিবাজার চাঙা হয়েছে কালোটাকায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এক বছর লকইনসহ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের আওতায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১১ জন করদাতা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।

‘এই বিনিয়োগ থেকে সরকার ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৮ টাকা আয়কর পেয়েছে। যার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী হয়েছে।’

শেয়ার করুন

পাবনায় নান্দনিক শহর গড়ার প্রত্যয়, বাজেট ঘোষণা

পাবনায় নান্দনিক শহর গড়ার প্রত্যয়, বাজেট ঘোষণা

মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে পাবনা পৌরসভাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করা হবে। সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত মডেল শহর গড়ে তুলব। মেয়র নয়, পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে পাবনা পৌরসভাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করা হবে। সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত মডেল শহর গড়ে তুলব। মেয়র নয়, পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

নান্দনিক শহর গড়ার প্রত্যয়ে পাবনা পৌরসভার ১৫০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে পৌর ভবনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন নবনির্বাচিত মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান।

মেয়র বলেন, আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আয়ের খাত ১৫০ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৮ টাকা এবং ব্যয় সমপরিমাণ ধরা হয়েছে।

বাজেটে রাজস্ব আয় ৩৫ কোটি ৫৪ লাখ, উন্নয়ন আয় ১০৮ কোটি ৯২ লাখ, মূলধন ৩ কোটি ৮৪ লাখ, সম্ভাব্য প্রারম্ভিক স্থিতি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

ব্যয় ধরা হয়েছে রাজস্ব ১৩ কোটি ৪০ লাখ, উন্নয়ন ১ কোটি ১১ লাখ, মূলধন ব্যয় ৩ কোটি ৫৫ লাখ, সম্ভাব্য সমাপনী স্থিতি ৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বাবু, ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান, সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মামুন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন নাহার রেখাসহ অনেকে।

মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে এনেছে। উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে পাবনা পৌরসভাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করা হবে। সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত মডেল শহর গড়ে তুলব। মেয়র নয়, পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

শেয়ার করুন

কালোটাকা সাদার সুযোগ রেখে অর্থবিল পাস

কালোটাকা সাদার সুযোগ রেখে অর্থবিল পাস

এবার কালোটাকা সাদা করার জন্য ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ জরিমানা থাকবে।

শেয়ারবাজার, ফ্ল্যাট, জমি কেনাসহ আরও কয়েকটি খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে অর্থবিল ২০২১ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই বিল পাস হয়।

৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন, তাতে ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে অর্থবিল পাস হয়।

তবে এবার এসব খাতে কালোটাকা সাদা করার জন্য ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ জরিমানা থাকবে।

অর্থবিল পাসের সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

নিজের দেয়া বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

‘এই সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় ৬৮৬ ডলার থেকে ৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ ডলারে। জিডিপির আকার ৯১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ বিলিয়ন ডলারে। রপ্তানির পরিমাণ ১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন হতে সাড়ে ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই করছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এত বেশি পরিমাণ রিজার্ভ নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। তারপর প্রবাসী আয় ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে সাড়ে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই করছে। মাত্র ১ বছরে প্রবাসী আয় খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্জন নিঃসন্দেহে আরও একটি অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড।’

মুস্তফা কামাল জানান, সারা বিশ্বই করোনার কারণে ঘাটতি বাজেট প্রণয়নের পথ বেছে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এ বছর বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অথচ সারা বিশ্বে অর্থনীতিতে ঘাটতি বাজেটের হার ৪১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বের অর্থনীতি পাল্টে গেছে, লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশ্বে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যখন এমন করুণ, সে অবস্থায়ও বাংলাদেশের অর্থনীতি ততটা খারাপ হয়নি। পাকিস্তানও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করছে। আমরা যেতে চাই বহুদূর।’

এর বাইরে কর প্রস্তাবে বড় ধরনের কোনো সংশোধনী ছাড়াই অর্থবিল পাস হয় সংসদে।

শেয়ার করুন

৯ কার্যদিবস পর শুরু বাজেট অধিবেশন

৯ কার্যদিবস পর শুরু বাজেট অধিবেশন

ফাইল ছবি

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, এই অধিবেশনে মঙ্গলবার মূল বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং এ দিনই অর্থবিল পাস হবে। এরপর বুধবার মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। ১ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্ব, বেসরকারি বিল উত্থাপন ও সরকারি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হবে।

নয় কার্যদিবস বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন।

সোমবার বেলা ১১টায় প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়।

বাজেট আলোচনার মাধ্যমে এই অধিবেশনেই ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন হয়। বর্তমানে বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আলোচনা চলছে।

জাতীয় সংসদের সর্বশেষ বাজেট অধিবেশন ছিল গত ১৭ ‍জুন।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, এই অধিবেশনে মঙ্গলবার মূল বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং এ দিনই অর্থবিল পাস হবে।

এরপর বুধবার মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। ১ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্ব, বেসরকারি বিল উত্থাপন ও সরকারি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হবে।

অধিবেশনের সমাপনী দিনে বক্তব্য দেবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রীতি অনুযায়ী তার আগে বিরোধীদলীয় নেতাও বক্তব্য দেবেন।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও অধিবেশন স্থগিত করা যায়নি। কারণ ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো সতর্কতা মেনে যেন কোরাম পূর্ণ হয়, এমন সংখ্যক সংসদ সদস্য নিয়ে অধিবেশন চলছে।

গত ৩ জুন সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর দুই দিনের আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস এবং ১৪ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।

সংসদের চলতি অধিবেশন শুরু হয় ২ জুন, যা আগামী ১ জুলাই শেষ হবে। করোনা মহামারির কারণে গত বছর মাত্র ৯ কার্যদিবস চলে বাজেট অধিবেশন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন।

শেয়ার করুন