মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়াল বাংলাদেশ

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়াল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের মাথাপিছু আয় ২৮০ ডলার কম। অর্থাৎ ভারতের একজন নাগরিকের চেয়ে বাংলাদেশের একজন নাগরিক এখন বছরে ২৩ হাজার ৭৪৪ টাকা বেশি আয় করেন।

অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাপিয়ে গেল বাংলাদেশ। এ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যম মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে। প্রশংসা করা হচ্ছে বাংলাদেশের।

রোববার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫০ টাকা। আর প্রতিবেশি দেশ ভারতের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯৪৭ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ১০৫ টাকা।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের মাথাপিছু আয় ২৮০ ডলার কম। অর্থাৎ ভারতের একজন নাগরিকের চেয়ে বাংলাদেশের একজন নাগরিক এখন বছরে ২৩ হাজার ৭৪৪ টাকা বেশি আয় করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারি এবং প্রাণঘাতী এই রোগ মোকাবেলায় নেওয়া লকডাউন ভারতের অর্থনৈতিক সংকোচনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৬৪ ডলার। তার আগের অর্থবছরে (২০১৮-১৯) ছিল ১ হাজার ৯০৯ ডলার।

২০০৭ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতের মাথাপিছু আয়ের অর্ধেক ছিল।

মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়া নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস-এর বাংলা সংস্করণে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

‘“অচ্ছে দিন”‌ সোনার পাথর বাটি? বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছাপিয়ে গেল ভারতকে’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারতকে ছাপিয়ে গেল বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয়। প্রকাশ্যে চলে এল দেশের অর্থনীতির রুগ্ন চেহারা। বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু পরিসংখ্যান প্রকাশের পর দাবি বিশেষজ্ঞদের।

‘বাংলাদেশের জাতীয় পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তাতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের মন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। দেশের বেহাল অর্থনীতি নিয়ে মোদি সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। তাদের প্রশ্ন, পড়শি দেশের মাথাপিছু আয় যেখানে বেড়েছে, সেখানে কোথায় গেল মোদি সরকারের ‘‌অচ্ছে দিন’‌ (সুদিন)-‌এর প্রতিশ্রুতি?‌ সেক্ষেত্রে ‘‌অচ্ছে ‌দিন’‌ এখন সোনার পাথর বাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত বিরোধীদের।

‘বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রকের মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘‌চলতি বছরে দেশের জনসংখ্যার মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য বছরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা।

‘উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশের জনসংখ্যার মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় এ বছর মাথাপিছু আয় ১৬৩ ডলার বেড়েছে। শতাংশের হিসেবে যা গত বছরের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি। এর বিপরিতে এখন ভারতীয়দের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯৪৭ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় ২৮০ মার্কিন ডলার কম। স্বাভাবিকভাবে এই তথ্য সামনে আসতেই মোদি সরকারের দিকে আঙুল উঠতে শুরু করেছে। তবে এ নিয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনও কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।’

এর আগে গত বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলানামূলক একটি চিত্র নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সেই পূর্বাভাস নিয়েও ভারতের গণমাধ্যমে ভারত সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল; প্রশংসা করা হয়েছিল বাংলাদেশের।

২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর আইএএফের ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২০ পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার। আর একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলার।

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টাকা পাচার রোধে কঠোর হবেন অর্থমন্ত্রী

টাকা পাচার রোধে কঠোর হবেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

বৈঠকে শেষে সাংবাদিকরা অর্থপাচার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু নতুন আইন করা হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে। অর্থপাচার নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) যেমন মনে কষ্ট আছে। আমারও লাগে। এ জন্য আমাদের পদ্বতির (সিস্টেম) উন্নতি করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’

দেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে যখন ব্যাপক সমালোচার ঝড় উঠেছে, তখন পাচাররোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেছেন, ‘দেশে একটি গ্রুপ আছে যারা লোভে পড়ে দেশ থেকে টাকা পাচার করছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।’

‘এ জন্য বিদ্যমান আইনের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন করা হচ্ছে। কিছু নতুন আইনও করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে পাচারকারীদের ধরা সহজ হবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া যাবে।’

অর্থনৈতিক বিষয়ক ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিরি বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে অর্থপাচার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। খোদ সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানান। এ নিয়ে নিজের অসাহয়ত্বের কথা প্রকাশ করেন মুস্তফা কামাল, যিনি আগের মেয়াদে পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন।

বৈঠকে শেষে সাংবাদিকরা অর্থপাচার বিষয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু নতুন আইন করা হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে। অর্থপাচার নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) যেমন মনে কষ্ট আছে। আমারও লাগে। এ জন্য আমাদের পদ্বতির (সিস্টেম) উন্নতি করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’

দেশে থেকে টাকা পাচারের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা অনেক বেড়েছ। এটা নিয়ে সরকার যেমন উদ্ধিগ্ন, তেমনি বিব্রতও।

গত বছরের নভেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচার করেছে, এমন ২৮ জনের একটি তালিকা সরকারের হাতে আছে বলে জানানোর পর দেয়ার পর দেশ জুড়ে তুমুল বির্তকের সৃষ্টি হয়।

তিনি কারো নাম প্রকাশ না করলেও তালিকায় বেশিরভাগই রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পাচার শুধু কানাডায় নয়, মালয়েশিয়াতে হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক পর্যায়ে উচ্চ আদালত ওই সব পাচারকারীদের নাম চেয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন দুনীর্তি দমন কমিশনকে (দুদক)। দায়সারা গোছের প্রতিবেদন দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। পাচারকারিদের তালিকা সরকার আদৌ করেছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

দেশ থেকে প্রতি বছর কী পরিমান টাকা বের হয়ে যাচ্ছে তার কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই পাচারের ৮০ শতাংশই গেছে বাণিজ্যের অর্থাৎ আমদানি-রপ্তানির আড়ালে আন্ডার এবং ওভার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অনেক দেশ অর্থ পাচাররোধে আইন কঠোর করলেও বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগুলো খুবই দুর্বল। যে কারণে পাচারকারীদের সহজে ধরা যায় না।

অর্থমন্ত্রী বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যদি সিস্টেমের ডেভলপ করতে পারি, তাহলে কারা টাকা পাচার করছে তাদের শনাক্ত করতে পারব। এ জন্য যেখানে দরকার সেখানে আইন সংশোধন করা হবে। আবার কিছু নতুন আইন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, আগে আমাদের বৈদেশিক লেনদেন হতো ম্যানুয়াল পদ্বতিতে। এখন ডিজিটালে হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আইন আরও কঠোর করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকলে, রিটার্ন ভালো হলে দেশ থেকে টাকা পাচার কমবে। এ জন্য সিস্টেমের উন্নতি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘দেশের কিছু লোভী লোক আছে। এই গ্রুপটি টাকা পাচার করছে। এদের শনাক্ত করতে হলে আইন-কানুনের সংশোধন দরকার। আমরা সেই উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছি।’

খেলাপি ঋণ বাড়েনি

করোনাকালে ব্যবসায়ীদের কিস্তি পরিশোধে নানাভাবে ছাড় দেয়ার পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমেনি । বরং বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে ( জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত) দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮.৭ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যার পরমিাণ ৬ হাজার ৩ ৫১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বাড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে এই হিসাব করেছে তাদের থেকে তথ্য নিয়ে আমি দেখব। তার পর এর জবাব দেব।’

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

বিমার পাশাপাশি চাঙা প্রকৌশল খাতে বাড়ল সূচক

বিমার পাশাপাশি চাঙা প্রকৌশল খাতে বাড়ল সূচক

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমা আর প্রকৌশল ছাড়া বাকি খাতগুলো নিয়ে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারেননি। বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৭টির। একটির লেনদেন স্থগিত ছিল আর কমেছে ১২টি। প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ২৫টির দর, কমেছে ১৭টির।

বিমা খাতের শেয়ার দর বাড়ার প্রবণতা থামছেই না। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে প্রকৌশল খাত দেখিয়েছে চমক।

এই খাতের কয়েকটি কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশের পর শেয়ারের দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে। আর এই দুই খাতে ভর করে সূচকে যোগ হলো ২৯ পয়েন্ট। আবার ছয় হাজার ৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

লেনদেন যথারীতি দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ২ হাজার ১০৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমা আর প্রকৌশল ছাড়া বাকি খাতগুলো নিয়ে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারেননি।

বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৭টির। একটির লেনদেন স্থগিত ছিল আর কমেছে ১২টি। প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ২৫টির দর, কমেছে ১৭টির।

সবচেয়ে বেশি দাম বাড়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটি আর ২০টির মধ্যে সাতটি ছিল বিমা খাতের। আর সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ২০টি কোম্পানির মধ্যে ৫টি ছিল প্রকৌশল খাতের।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

জালিয়াতি করে এটিএম বুথ থেকে আড়াই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। ছবি: ফেসবুক

২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে একই ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৬৩৭ গ্রাহকের ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র।

২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল।

ডিবি জানায়, জালিয়াতির মাধ্যমে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন চক্রের ছয়জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সায়মা আক্তার, আল-আমিন বাবু, মেহেদী হাসান মামুন ও আসাদুজ্জামান আসাদ।

জালিয়াতির এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এডিসি ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার মীর মো. শাহারুজ্জামান রনি দেশের বাইরে পালিয়েছেন বলে জানায় ডিবি।

টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলার পর তদন্ত শুরু করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
জালিয়াতি করে এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার একটি চক্রের কয়েক সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

তাদের অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এডিসি ডিভিশনে সিনিয়র অফিসার হিসাবে মীর মো. শাহারুজ্জামান রনি এই পদে কর্মরত থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী সহ অন্যান্য গ্রেপ্তার সহযোগীদের দিয়ে এটিএম বুথে লেনদেন করাতেন লেনদেনের পর এটিএম এর ইলেকট্রনিক জার্নাল এমনভাবে পরিবর্তন করে দিতেন যাতে পরবর্তী সময়ে এটিএম থেকে টাকা না পাওয়ার অভিযোগ সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ডাচ্‌বাংলা ব্যাংকের এটিএম মনিটরিং রোস্টার টিমে কর্মরত থাকা অবস্থায় রনি উপস্থিত থেকে এবং কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেন হয়।

এর মাধ্যমে জালিয়াতরা ২ কোটি ৫৭ লাখ ১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে রনি দেশের বাহিরে আত্মগোপনে আছে। তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।’

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

রাজধানীর মহাখালীর কাঁচাবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

ক্যাবের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২০ সালে দেশে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

লাগামহীনভাবে দেশে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বাড়তে থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয়ও প্রতিবছর বাড়ছে। অর্থাৎ আগের বছরের জীবনযাত্রায় ব্যয় ছাড়িয়ে যাচ্ছে পরের বছরে। এভাবে টানা তিন বছর দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে দ্রব্য ও সেবার মূল্যের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়।

ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) বুধবার প্রকাশিত বার্ষিক জরিপ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২০ সালে দেশে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা-সার্ভিসের মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবা-সার্ভিসের সংগৃহীত মূল্য পর্যালোচনা করে এই তথ্য পেয়েছে ক্যাব।

ভোক্তার ঝুলিতে যেসব পণ্য ও সেবা রয়েছে সেগুলোকে পরিবারের মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে পণ্য বা সেবার ওজনের ভিত্তিতে জীবনযাত্রা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। তবে এই হিসাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। পণ্য ও সেবামূল্য বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক শূন্য শতাংশ ও ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এর মানে হচ্ছে গত তিন বছরের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তিন বছরের মধ্যে ২০২০ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় সর্বাধিক বেড়েছে।

ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলো ক্যাব। প্রতিবছরের শুরুতে আগের বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোক্তা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। তবে করোনার কারণে এবার প্রতিবেদন প্রকাশে প্রায় ছয় মাস দেরি হয়।

যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে

ক্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বছরের শেষে আমন ধানের ভরা মৌসুমে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি থেমে থাকেনি। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে চালের গড় মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

এর মধ্যে মোটা চালের (পারিজা ও স্বর্ণা) ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, পাইজাম চালের ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিআর২৮ ও বিআর১১ চালের ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ, মিনিকেট চালের ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, নাজিরশাইল চালের ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং সুগন্ধি চালের গড় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

আটার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।

দেশি ও আমদানিকৃত ডালের দাম গড়ে বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। দেশি মসুর ডালে ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, আমদানিকৃত মসুর ডালে ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং খেসারির ডালে দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ভোজ্যতেলের দাম গড়ে বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর মধ্যে খোলা পাম অয়েলে ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। চিনি ও গুড়ের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

মসলার দাম গড়ে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে এলাচিতে বেড়েছে ১০৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, দেশি শুকনা মরিচে ৪০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, কাঁচা মরিচে ৩১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আমদানিকৃত আদায় ৩১ দশমিক ০৪ শতাংশ, দেশি পেঁয়াজে ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, আমদানিকৃত পেঁয়াজে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং আমদানিকৃত শুকনা মরিচে দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

শাকসবজির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে করল্লায় ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, কাঁচা পেঁপে ৩১ দশমিক ১৬ শতাংশ, দেশি আলুতে ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং আলুতে (হল্যান্ড) বেড়েছে ২৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে গরু ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে গড়ে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মুরগির দাম ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ আর ডিমের দাম গড়ে বেড়েছে ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। মাছের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গড়ে গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের গড় বাড়িভাড়া বেড়েছে গড়ে ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফ্ল্যাট বাসায় ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বস্তিতে ঘরভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

মেসের ৮ সিটবিশিষ্ট রুমের ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে সাধারণ শাড়িকাপড়ের দাম বেড়েছে গড়ে ৯ শতাংশেরও বেশি।

ওয়াসার পানির প্রতি হাজার লিটারে দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আবাসিকে বিদ্যুতের গড় মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুতে মূল্য বেড়েছে গড়ে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

যেসব পণ্যের মূল্য কমেছে

এই সময় ১৫টি পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে সরিষার তেলের দাম প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, ডালডাতে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং খোলা আটায় কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আমদানিকৃত মটর ডালের মূল্য কমেছে কেজিপ্রতি ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর দেশি মটর ডালে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শাকসবজির মধ্যে পটলের দাম প্রতি কেজিতে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, শসা/খিরার মূল্য কমেছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। বেগুনে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মুখিকচুতে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

মসলার মধ্যে গোলমরিচের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গরুর দুধের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ছোট ইলিশ মাছের মূল্য কমেছে গড়ে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। ছোট চিংড়ির দাম ১ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং পাঙাশ মাছের দাম ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে।

যেসব পণ্য ও সেবার মূল্য স্থিতিশীল অথবা অপরিবর্তিত ছিল

২০২০ সালে লবণ, চা-পাতা, দেশি-বিদেশি কাপড়, গেঞ্জি, তোয়ালে ও গামছার দাম অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে সব ধরনের জ্বালানি তেল ও চুলার গ্যাসের মূল্য অপরিবর্তিত ছিল।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

সড়ক, নৌপথ ও রেলের নির্ধারিত ভাড়ারও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাসমালিকদের চাপে অর্ধেক আসন খালি রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের শর্তে ৬০ শতাংশ অধিক হারে ভাড়া আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়।

অভিযোগ ছিল যাত্রীদের কাছ থেকে আরও বেশি হারে ভাড়া আদায় করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি।

পণ্য ও সেবার মূল্য অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীন হয়ে পড়া ঠেকাতে ক্যাব সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ভোক্তার স্বার্থ সার্বিকভাবে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয় করার জন্য একক কোনো মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নেই। সরকার প্রতিনিয়ত নানা সিদ্ধান্ত নেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা বিবেচনায় আসে না।

এই সংকট এড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্দেশ্যে গোলাম রহমান ১৫ থেকে ২০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব অর্পণ করে দেশে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন করার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিজনেস অ্যাফেয়ার্স গ্যাস ও কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স নামে দুটি আলাদা বিভাগ খোলার পক্ষে তিনি।

গোলাম রহমান বলেন, এই বিভাগ বা মন্ত্রণালয় ভোক্তা-স্বার্থ বিবেচনার উদ্দেশ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তা-স্বার্থের সমন্বয়সাধনও সহজ হবে; ভোক্তাদের কল্যাণ-অকল্যাণের দিকগুলো তুলে ধরবে।

তিনি বলেন, স্বতন্ত্র বিভাগ বা মন্ত্রণালয় ভোক্তা-স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমন্বয় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমে সমন্বয় করবে। পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানির সঠিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল থেকে যাতে দরিদ্র, স্বল্প-আয় এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভোক্তারা বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

‘রোনালডোর কারণে’ কোকা-কোলার চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি

‘রোনালডোর কারণে’ কোকা-কোলার চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি

পর্তুগাল জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো। ছবি: টুইটার

পর্তুগাল-হাঙ্গেরি ম্যাচের আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন রোনালডো। আসন গ্রহণ করার পর সিআর সেভেন তার সামনে রাখা দুটি কোকা-কোলার বোতল সরিয়ে রাখেন সামনে থেকে। আর নিজের হাতে রাখা পানির বোতল দেখিয়ে বলেন, ‘আগুয়া’।

হাঙ্গেরির বিপক্ষে জোড়া গোল করে দারুণভাবে ইউরো শুরু করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো। টুর্নামেন্টের আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা পাঁচ ইউরোতে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

গোলের রেকর্ডের দিনে অন্যরকম এক রেকর্ডও গড়েছেন রোনালডো। সেই রেকর্ডে প্রত্যক্ষভাবে তার হাত না থাকলেও পরোক্ষ দায় তো কিছুইটা আছেই।

ঘটনাটা সোমবারের। পর্তুগাল-হাঙ্গেরি ম্যাচের আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন রোনালডো।

সংবাদ সম্মেলনে আসন গ্রহণ করার পর সিআর সেভেন তার সামনে রাখা দুটি কোকা-কোলার বোতল সরিয়ে রাখেন সামনে থেকে।

আর নিজের হাতে রাখা পানির বোতল দেখিয়ে বলেন, ‘আগুয়া’। পর্তুগিজ ভাষায় আগুয়া মানে পানি। কোকের বদলে পানি পান করুন এমন একটা ইঙ্গিত দেন এই মেগাস্টার।

কী বুঝিয়েছিলেন সেটা রোনালডোই ভালো জানবেন। কিন্তু তার এই ছোট্ট একটা আচরণেই ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে ইউরো ও ইউয়েফার অন্যতম পার্টনার কোকা-কোলাকে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালডোর ওই ঘটনার পর কোকের শেয়ারের মূল্য কমেছে ১.৬ শতাংশ। মঙ্গলবার ৫৬ দশমিক ১০ ডলার থেকে ৫৫ দশমিক ২২ ডলারে নেমে আসে বৈশ্বিক কোমল পানীয় কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য।

কোকা-কোলা কোম্পানির মোট মূল্য এতে করে ২৪২ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে আসে ২৩৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে কোম্পানিটি হারিয়েছে চার বিলিয়ন ডলার (৩৪ হাজার কোটি টাকা প্রায়)।

‘রোনালডোর কারণে’ কোকা-কোলার চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি
হাঙ্গেরির বিপক্ষে গোল করার পর উচ্ছ্বসিত রোনালডো। ছবি: এএফপি



এত বড় ক্ষতির পরও কোকা-কোলা আনুষ্ঠানিকভাবে রোনালডোর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ফুটবলারদের স্বাদ ও পছন্দ তাদের নিজের।

‘সবারই নিজেদের পছন্দমতো পানীয় পান করার অধিকার রয়েছে। নিজেদের স্বাদ ও পছন্দমতোই তারা বেছে নেন’, বিবৃতিতে বলে কোকা-কোলা।

আর ইউয়েফার পক্ষ থেকেও বলা হয়, কে কী পান করবেন সেটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পৃথক এক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের জন্য আমরা পানি, কোকা-কোলা ও কোকা-কোলা জিরো সুগার রাখি।’

রোনালডোর প্রভাব তরুণদের ওপর ব্যপক। শুধু ইনস্টাগ্রামেই তার প্রায় ৩০ কোটি ফলোয়ার রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

মৃত্যুর পর আপনার ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হবে কে?

মৃত্যুর পর আপনার ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হবে কে?

প্রশ্ন উঠেছে, যিনি বিটকয়েন বা ডিজিটাল মুদ্রার মালিক বা যার নামে এই মুদ্রা কেনা আছে, তার মৃত্যুর পর এর মালিক হবেন কে? আরব আমিরাতে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে এখন।

গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার প্রায় ১৯০ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টা এই তথ্য জানিয়ে বলছে, বিশ্বের ৫৫টি দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার এখন রমরমা। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯তম; বিটকয়েন ডিজিটাল মুদ্রা আমিরাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যিনি বিটকয়েন বা ডিজিটাল মুদ্রার মালিক বা যার নামে এই মুদ্রা কেনা আছে, তার মৃত্যুর পর এর মালিক হবেন কে? আরব আমিরাতে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে এখন।

আর সে কারণেই দুবাইভিত্তিক দৈনিক খালিজ টাইমস রোববার এই বিষয়টি নিয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম হচ্ছে, ‘আপনার মৃত্যুর পরে কে আপনার ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হবে?’

প্রতিবেদনে ডিজিটাল সম্পদের উত্তোলন ও উত্তরাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল মুদ্রা (ফিয়াট মুদ্রা) ডলার বা দিরহামের মতো নয়, যা সহজেই বিনিময় বা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা যায়। তাদের মালিক মারা গেলে ডিজিটাল মুদ্রার কী হবে, তা আমরা এখনও বুঝতে পারিনি। মালিক ছাড়া ডিজিটাল মুদ্রার ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড অন্য কারও জানার সুযোগ থাকে না।

উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হঠাৎ মারা গেলে তার ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ডিজিটাল মুদ্রার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে ডিজিটার মুদ্রায় বিনিয়োগ করা বাওয়া কে বলেন, ‘পাসওয়ার্ডগুলো সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ এবং সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ আপনার প্রিয়জনদের তা সম্পর্কে জানানো। এটি এমন একটি প্রশ্ন, যা আমাকে কিছুদিন ধরে বেশ ভাবাচ্ছে।

‘আমার কাছে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ১ লাখ ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। আমি এগুলো ব্রোকারের মাধ্যমে কিনেছি; সরাসরি কোনো এক্সচেঞ্জ থেকে নয়। আমার এই বিনিয়োগের নমিনি বা সুবিধাভোগীর অনুমোদন কে দেবে? আমি যখন মারা যাব, তখন আমার স্ত্রীর এই অর্থ পেতে তার কী করা উচিত, সে সম্পর্কে বা এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি কিছুই নিশ্চিত নই।’

‘আমি এখনও আমার ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করতে পারিনি। তারা আপাতত আমার অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে। যা সাইবার অ্যাটাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমি আমার ক্রিপ্টোগুলোকে আরও সুরক্ষিত ও নিরাপদ করতে চাই। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই; ভালোভাবে জানতে চাই।’

মৃত্যুর পর আপনার ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হবে কে?
কিছুদিন থেকে কমলেও প্রতি বিটকয়েনের দাম ছিল ৫০ হাজার ডলারের ওপরে। ছবি: এএফপি

ডিজিটাল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

ডিজিটাল মুদ্রার আদান-প্রদান হয় অনলাইনে। বিনিময়ের সব তথ্য গোপন থাকে, বেশির ভাগ সময়েই থাকে অজ্ঞাত। এ ধরনের ডিজিটাল মুদ্রাকে বলা হয় ক্রিপ্টোকারেন্সি। এ ধরনের মুদ্রার বিনিময়ে ব্যবহার করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত ভাষা বা সংকেতে লেখা তথ্য এমন একটি কোডে লেখা হয়, যা ভেঙে তথ্যের নাগাল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ ক্রিপ্টোগ্রাফি পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কারও কোনো কেনাকাটা বা তহবিল স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া বেশ কঠিন।

ধরুন, আপনার অর্থ আছে, কিন্তু পকেটে নেই। ব্যাংকে বা সিন্দুকেও সেই অর্থ রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে ইন্টারনেটে। কোনো দিন ছুঁয়েও দেখতে পারবেন না অনলাইনে রাখা ওই অর্থ। শুধু ভার্চ্যুয়াল জগতের এ মুদ্রাকেই বলা হয় ডিজিটাল মুদ্রা বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোপনে ও নিরাপদে যোগাযোগের জন্য ক্রিপ্টোগ্রাফি পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছিল। গাণিতিক তত্ত্ব ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিপ্টোগ্রাফিরও উন্নতি হয়েছে। এতে অনলাইনে ডিজিটাল মুদ্রা সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের বিষয়টি আরও নিরাপদ হয়েছে।

অবশ্য এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে ডিজিটাল মুদ্রার বিভিন্ন বিনিময় প্রতিষ্ঠানে বেশকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। টোকিওভিত্তিক ডিজিটাল মুদ্রার বিনিময় প্রতিষ্ঠান কয়েনচেকের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক হ্যাক করে ৫৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যমানের ডিজিটাল মুদ্রা খোয়া যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবে বিটকয়েনের আবির্ভাব ঘটে। বর্তমানে ইন্টারনেটে এক হাজারেরও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে। এখন পর্যন্ত চালু থাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিটকয়েন। এর বিনিময় মূল্যও সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া এথেরিয়াম, রিপল এবং লাইটকয়েন বেশ পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি। আর হাল আমলে ইলন মাস্কের কারণে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে ডজকয়েন; দামও বেড়েছে বেশ।

মৃত্যুর পর আপনার ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হবে কে?
নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ডজকয়েন, দামও বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে ক্রিপ্টোস কেনা হয়?

ক্রিপ্টোকারেন্সি একধরনের বিকেন্দ্রীকৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে নিরাপদে অর্থ পরিশোধ করা যায়। আমানতকারীর নাম গোপন রেখে এবং ব্যাংকে না গিয়েই অর্থ জমা রাখা যায়।

প্রচলিত মুদ্রাব্যবস্থার মতো সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মুদ্রা ছাপায় না। ‘মাইনিং’ নামের একটি জটিল গণনা পদ্ধতিতে একেকটি ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত এক বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সব ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতিটি লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘ব্লকচেইন’। এই ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ লেনদেনসহ বন্ড, স্টক ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের কেনাকাটাও করা যায়।

ব্যবহারকারীরা অনলাইনে ব্রোকারদের কাছ থেকেও বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে পারেন। অনলাইনে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিক ওয়ালেট’ নামক নিরাপদ স্থানে রাখা যায় এই মুদ্রা।

নির্দিষ্ট ডিজিটাল মুদ্রা যত বেশি মানুষ কেনে, সেই মুদ্রার বাজার দর তত বাড়ে। এভাবেই শেয়ারবাজারের মতো নিয়মিত ওঠানামা করে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময় মূল্য।

এই কারেন্সিগুলো ‘পিয়ার টু পিয়ার’ লোকেদের থেকে, সরাসরি সংস্থার কাছ থেকে অথবা পাবলিক এক্সচেঞ্জ যেমন- কুইনবেস, বিট্রেক্স, বিনান্স, বিথম্ব, হুবি ইত্যাদি থেকে কেনা যায়।

‘এগুলো বেশিরভাগ লোকের কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনতে ও বিক্রি করার জন্য চ্যানেল। ডিজিটাল সম্পদ পাওয়ার আরও অনেক উপায় আছে, উদাহরণস্বরূপ, সি টু সি (গ্রাহক টু গ্রাহক) স্থানান্তর, যা সাধারণত বেশি ব্যবহৃত হয় না,‘ বলেন সোবিত্যাক্সের পরিচালক ওলা লিন্ড।

কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়?

লিন্ড বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো ব্লকচেইন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি তথাকথিত ওয়ালেটে সঞ্চিত থাকে। প্রতিটি ওয়ালেট একজোড়া ‘কি’, একটি পাবলিক ‘কি’ এবং একটি ব্যক্তিগত ‘কি’ সম্পর্কিত। পাবলিক ‘কি’টি মুদ্রা পাওয়ার জন্য ঠিকানা হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং ব্যক্তিগত ‘কি’টি মালিককে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

‘প্রতিটি মালিকের ব্যক্তিগত ‘কি’টি নিরাপদ রাখা উচিত। এই ব্যক্তিগত ‘কি’সহ যে কেউ এই ওয়ালেটে থাকা সম্পদ অ্যাক্সেস করতে পারে’।

আইডোনিয়াসের গ্লোবাল অ্যাকুইজিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস ক্যারোজ বলেন, ‘সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো ব্যক্তির সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের পছন্দ রয়েছে, যার মধ্যে তাদের ডিজিটাল সম্পদগুলো মানিব্যাগে, মেটামাস্কের মতো সফটওয়্যার ওয়ালেটে বা ট্রেজার বা লেজারের মতো হার্ডওয়্যার ওয়ালেটে অন্তর্ভুক্ত থাকে।’

আমিরাত ডিজিটাল মুদ্রা সম্পর্কিত আইন

মালিকের মৃত্যুর পর প্রিয়জন কীভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর উত্তরাধিকারী হবে-সে বিষয়ে ব্লেইস ক্যারোজ বলেন, ‘নির্ভরশীলরা অন্য কোনো ধরনের সম্পদের অনুরূপ ডিজিটাল সম্পদ দাবি করতে পারে।’

আরব আমিরাত ফেডারেল আইন অনুসারে, ক্রিপ্টোর স্থিতি কারও ইচ্ছার সঙ্গে ক্রিপ্টোযুক্ত করার বিষয়ে যথেষ্ট নিশ্চিত নয়। তবে, আমিরাতের বাসিন্দা একটি ডিআইএফসি উইল ব্যবহার করতে পারে, যাতে এটি তার বিশ্বব্যাপী সমস্ত সম্পদ কভার করে, ক্রিপ্টো সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করে। ডিআইএফসি ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের আইন প্রয়োগ করে, যা ক্রিপ্টো সম্পদকে সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এটি সম্ভব। ডিআইএফসি উইলের একটি ‘সিলড’ ডকুমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করারও ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে সম্ভাব্য কোনো ব্যক্তি ক্রিপ্টোটি গ্রহণ ও ব্যবহারের জন্য প্রাইভেট ‘কি’ ছেড়ে দিতে পারে’- পরামর্শ দেন ক্যারোজ।

‘এই ধরনের জিনিসগুলোর মতোই জড়িত জটিলতার কারণে ক্রিপ্টো উপাদানগুলোর সাথে উইলের খসড়া তৈরির পরামর্শের জন্য কোনো পেশাদার আইন সংস্থার সাথে পরামর্শ করা ভালো।’

কোনো এস্টেট পরিকল্পনার উপকরণে ডিজিটালি রাখা সম্পদগুলো অন্তর্ভুক্ত করার সময় আবুধাবিভিত্তিক আইনি পরামর্শক সংস্থা সেঞ্চুরি ম্যাক্সিম ইন্টারন্যাশনাল নিচের চারটি বিষয়ের নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে:

>> ডিজিটালি হোল্ড সম্পদের একটি পরিষ্কার তালিকা

>> ডিজিটাল ওয়ালেট (গুলো) সম্পর্কিত তথ্য

>> পাসওয়ার্ড এবং পিনসহ একটি স্মারকলিপি

>> এস্টেট পরিকল্পনার উপকরণ কার্যকর করার পরে কীভাবে সুবিধাভোগীরা সেই সম্পদগুলোতে সুবিধা পাবেন তা ব্যাখ্যা করে একটি নীতিমালা খুবই প্রয়োজন।

সেঞ্চুরি ম্যাক্সিম ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং পার্টনার ফরহাত আলী খান বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেট অ্যাক্সেস করতে শনাক্তকারীদের অ্যাক্সেস ছাড়া সম্পদ অ্যাক্সেস পরিকল্পনার উপকরণের অধীনে সংক্ষেপে উল্লেখ করা থাকলে সম্পদ অ্যাক্সেস করা অসম্ভব হবে। এক্ষেত্রে ডিজিটালি রাখা সম্পদগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এনক্রিপ্ট করা নেটওয়ার্কের অধীনে না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে জন্য বিটকয়েন, ইথেরিয়াম বা সম্প্রতি দোগেকোইনের মতো মুদ্রা বিনিয়োগকারীরা বেছে নেবেন; কারণ এগুলোতে ঝুঁকি কম থাকে।’

তবে, বাংলাদেশে বিটকয়েনসহ অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

আমদানি বাড়লেও বিনিয়োগে সুখবর নেই

আমদানি বাড়লেও বিনিয়োগে সুখবর নেই

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অন্য সব পণ্য আমদানি বেড়েছে। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপাদান মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়েনি; উল্টো বেশ কমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি উদ্বেগজনক।

অর্থনীতিতে একটা কথা আছে, ‘আমদানি বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়া, কর্মসংস্থান বাড়া। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া।’ কিন্তু বাংলাদেশে তার কোনো ইঙ্গিত চোখে পড়ছে না।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে আমদানিতে রেকর্ড হতে চললেও কলকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানির চিত্র খুবই হতাশাজনক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বিভিন্ন দেশ থেকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ৩৮০ কোটি ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

এলসি নিষ্পত্তির চিত্র আরও করুণ। ২৯৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। কমেছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরের এই ১০ মাসে ৪২০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। নিষ্পত্তি হয়েছিল ৩৭৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

অথচ এই ১০ মাসে সার্বিক এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আমদানি বাড়লেও বিনিয়োগে সুখবর নেই

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মহামারির মধ্যে অন্য সব পণ্য আমদানি বেড়েছে। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপাদান মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়েনি; উল্টো বেশ কমেছে।

বিনিয়োগ বাড়ার আরেক উপাদান বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিও তলানিতে নেমে এসেছে। মহামারির সংকট বিবেচনায় নিয়ে মুদ্রানীতিতে এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিল পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে লক্ষ্যের অর্ধেকের মতো, ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মহামারির এই কঠিন সময়ে আমদানি বাড়া ভালো। তবে এই বৃদ্ধি যদি বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়।

সব পণ্যের সঙ্গে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি যদি বাড়ত, তাহলে দেশে বিনিয়োগ বাড়ত, কর্মসংস্থান বাড়ত, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হতো। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই। আমদানি বাড়লেও বিনিয়োগে সুখবর নেই।

তথ্য বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির বছরেও আমদানিতে রেকর্ড হতে চলেছে। ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সব মিলিয়ে ৫ হাজার ২৪৯ কোটি (৫২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে।

এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার আমদানি খাতে ব্যয় ৬০ বিলিয়ন (ছয় হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল দেশে, যা ছিল এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ।

অর্থবছর শেষ হতে আর ১৫ দিন বাকি। তবে এপ্রিল পর্যন্ত আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে দেখা যায়, এপ্রিলে ৬২৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ১১৯ শতাংশ বেশি। মহামারির মধ্যেই এ বছরের জানুয়ারিতে ৭২৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। এক মাসের হিসাবে এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

ফেব্রুয়ারি ও মার্চে আমদানি খাতে ব্যয় হয় যথাক্রমে ৫৫৬ কোটি ৪২ লাখ ও ৬১৬ কোটি ১২ লাখ ডলার।

এর আগে বিদায়ি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৪২৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল দেশে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আমদানি হয় যথাক্রমে ৩৮১ কোটি, ৪৬৫ কোটি ও ৪৩৭ কোটি ডলারের পণ্য।

নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আমদানি হয় যথাক্রমে ৪৮২ কোটি ও ৫৩৭ কোটি ডলারের পণ্য।

গত এপ্রিলে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ৫০২ কোটি ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ১৮২ শতাংশ বেশি।

গত বছরের মার্চে দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এপ্রিল মাসের প্রায় পুরোটা সময় লকডাউনে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধই ছিল। তৈরি পোশাকশিল্প, কলকারখানা ছাড়া অফিস-আদালত-ব্যাংকসহ প্রায় সবকিছুই বন্ধ ছিল। সে কারণে ওই মাসে পণ্য আমদানির জন্য মাত্র ১৭৮ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

এই এপ্রিলে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৩৬ কোটি ডলারের। গত বছরের এপ্রিলে এ সংখ্যাটি ছিল ২৪৭ কোটি ডলার। এ হিসাবে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের শেষ দুই মাস অর্থাৎ মে ও জুন মাসে ৪০০ কোটি ডলার করে ৮০০ কোটি ডলারের পণ্যও যদি আমদানি হয়, তাহলেও মোট আমদানি ব্যয় ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

আমাদানি বাড়লেও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমাকে অর্থনীতিবিদেরা মোটেই ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সার্বিক আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি যদি বাড়ত, তাহলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু সেটা না হওয়ায় উদ্বেগ থেকে যাচ্ছে।

‘এমনিতেই বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে; জিডিপির ৩১-৩২ শতাংশে আটকে আছে। এখন এই ডামাডোলের মধ্যেও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের অবস্থা আরও খারাপ হবে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি পড়ে আমরা জেনেছি, আমদানি বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়া। আর আমদানি কমা মানে বিনিয়োগ কমা। বিনিয়োগ কমা মানে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া।

‘কিন্তু এখন আমদানি বাড়ছে। অথচ ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম। বিনিয়োগে প্রভাব পড়ছে না। কেমন জানি উল্টো লাগছে।’

২০০৭-০৮ মেয়াদে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক হচ্ছে ক্যাপিটাল মেশিনারি এবং বেসরকারি ঋণ। এই দুটি যদি না বাড়ে, তাহলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে না। আর বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান হবে না। কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে না।

‘আমরা এখন যে উদীয়মান অর্থনীতিতে আছি, তাতে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে জিডিপির কমপক্ষে ৩৬-৩৭ শতাংশ বিনিয়োগ পেতে হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের বিনিয়োগ একই জায়গায় আটকে আছে ৩১-৩২ শতাংশ। এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতেই হবে। যে করেই হোক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এখন দেশে সেই স্থিতিশীলতা আছে। কিন্তু মহামারি সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। এখন বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকার ও উদ্যোক্তাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সংকটের সময় অনেক সম্ভাবনাও উঁকি দেয়। এখন এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, নতুন কোন পণ্যের বাজার সৃষ্টি হয়েছে, এসব বিষয় ভালোভাবে দেখেশুনে বিনিয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। দেশি বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার ও উদ্যোক্তাদের একযোগে কাজ করতে হবে।’

ব্যবসায়ী নেতা ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার ধাক্কায় সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। এখন বিনিয়োগের নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে হবে। ছোট ও মাঝারি শিল্পের দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার সোয়া লাখ কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল, তার বেশিরভাগ বড় উদ্যোক্তারা পেয়েছে। যারা করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই ছোট-মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা কিন্তু বঞ্চিত হয়েছে। এখন নতুন করে তাদের সহায়তা দিতে হবে।

শামস বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ছোট-মাঝারি শিল্পগুলো ঘুরে না দাঁড়ালে বড় বড় শিল্পগুলোও ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে না। তাই এখন ছোটরা যাতে ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে।

‘পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থতির কারণে চায়না ও ভিয়েতনামের তৈরি পোশাকের অর্ডার এখন বাংলাদেশে আসছে। সে সুযোগগুলো ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে আমাদের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে। এই দুই দেশ থেকে অন্য কোনো পণ্যের বাজার বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায় কি না, সেটাও বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
মাসে মাথাপিছু আয় এখন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন