উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়

গত এক দশকে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিমা খাতের শেয়ারের দর।

বিমা কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুজব কাজ করছিল। বলা হচ্ছিল, নানা উদ্যোগে ব্যাপক আয় বাড়বে বিমা কোম্পানির। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে ২৩টি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তাদের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে, পাঁচটির কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ১৪টির, কমেছে তিনটির, একটির আয় গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের সমান। লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানির মধ্যে এখনও প্রথম প্রান্তিক ঘোষণা করেনি পাঁচটি। আর চলতি বছরের ঘোষিত লভ্যাংশও সেভাবে আকর্ষণীয় ছিল না।

সাধারণ বিমা কোম্পানির আয় ব্যাপক হারে বাড়বে এবং ভালো লভ্যাংশ পাওয়া যাবে- এমন গুজবে গত প্রায় এক বছরে পুঁজিবাজারে ৩৭টি সাধারণ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের যে হিসাব পাওয়া গেছে, তাতে ব্যাপক আয় বাড়ার প্রমাণ মেলেনি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ও তেমন সম্ভাবনার কথা বলছে না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭টি সাধারণ বিমা কোম্পানির মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এগুলোর বার্ষিক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো কোনো কোম্পানির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

তবে হাতে গোনা দু-একটি কোম্পানির আয় আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

আবার অস্বাভাবিক দর বেড়েছে, এমন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় কমতেও দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও আয় কমতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটির।

গত বছরের জুন থেকে বিমা কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ঢালাওভাবে দাম বেড়েছে সব কোম্পানির।

এমন কোম্পানিও আছে, যেগুলোর দাম ১০ গুণ হয়ে গেছে। তবে যেসব কোম্পানি প্রতিবছর ভালো আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দেয়, সেগুলোর তুলনায় যেগুলোর আয় ও লভ্যাংশ খুব একটা ভালো নয়, সেগুলোর দাম বেড়েছে বেশি।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নানা সিদ্ধান্তে বলাবলি হচ্ছিল ব্যাপকভাবে বাড়বে সাধারণ বিমার আয়

বিমা কোম্পানির শেয়ারে দর বাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুজব কাজ করছিল। এজেন্টের কমিশন কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, গাড়ির তৃতীয় পক্ষের বিমা বাতিল করে প্রথম পক্ষের বিমা চালু হলে আয় বাড়বে, লভ্যাংশ বাড়বে- এমন কথা বলাবলি হয়।

এরপর আলোচনায় আসে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো বড় বড় প্রকল্প বিমার আওতায় আসছে। এগুলোর ঝুঁকি একেবারেই কম; কোম্পানির লাভ হবে ভালো। তবে পরে জানানো হয়, মেট্রোরেল সরকারি সাধারণ বিমা করপোরেশনের আওতায় থাকবে। এটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।

আবার ১০ বছর আগে করা একটি বিধান সামনে আনা হয়, যেখানে বলা ছিল, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ থাকতে হবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এমনটি হলে বিমা কোম্পানির শেয়ার মালিকদেরই কিনতে হবে।

কিন্তু আয় বা লভ্যাংশ বাড়ার গুজব সত্য প্রমাণ হয়নি। পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ নিজেদের হাতে রাখার যে আইন করা হয়েছে, সেটিও কার্যকর হয়নি। তবু আবার ঢালাও মূল্য বৃদ্ধিতে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেভাবে বিমা খাতের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল, সেভাবে কোম্পানির উন্নয়ন হয়নি। আইডিআরএ থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো বিমা কোম্পানির জন্য ভালো। কিন্তু পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে কিছুটা গরমিল হয়ে থাকে।

‘একসময় পুঁজিবাজারে ব্যাংকের দাপট ছিল। কারণ তখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যাংকের উন্নয়ন, ব্যাংকে কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতো। এখন সে আলোচনা বিমা নিয়ে। এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের মূল কারণ এটাই।’

এখন পর্যন্ত যে ২৩টি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তাদের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে, পাঁচটির কমেছে।

প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ১৪টির, কমেছে তিনটির, একটির আয় গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের সমান। লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানির মধ্যে এখনও প্রথম প্রান্তিক ঘোষণা করেনি পাঁচটি।

আবু আহমেদের ধারণা, কারসাজি

বিমা কোম্পানির শেয়ারের এভাবে মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত আবু আহমেদ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ খাতে কারসাজি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা না দেখে না বুঝে শেয়ার কিনেছেন। সেটি এখন বোঝা যাচ্ছে মূল্য বৃদ্ধি ভিত্তিহীন।’

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদের ধারণা, বিমা খাতের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে

তিনি বলেন, ‘বিমার শেয়ারের দর বাড়ছে বলেই শেয়ার কিনতে হবে, এমন ধারণা থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হতে পারে।’

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৭২ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪৬ পয়সা।

অথচ গত জুন থেকে এই কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য বেড়ে চার গুণ হয়েছে।

এই সময়ে সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৭১ টাকা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৭১ টাকা।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৯ পয়সা, যা গত বছর ছিল ৩১ পয়সা। অর্থাৎ আয় কমেছে ২ পয়সা।

কোম্পানিটি এবার শেয়ারপ্রতি ৫ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ শেয়ারে পাঁচটি বোনাস দিয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছর একই সময় আয় ছিল ১ টাকা ৭৪ পয়সা।

এই কোম্পানি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় করেছে ১ টাকা ৭ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮২ পয়সা।

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই কোম্পানির আয়ও গত এক বছর চার গুণের বেশি বেড়েছে।

গত জুনে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৯ টাকা ১০ পয়সা। আর এক বছরে সর্বোচ্চ দাম ওঠে ৯২ টাকা ৮০ পয়সা।

বিজিআইসি

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ২৫ পয়সা। এটি গত বছরের চেয়ে কম। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা।

এই কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে।

গত বছরের জুন থেকে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২২ টাকা ৫০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫২ টাকা ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছর শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৩২ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা।

কোম্পানিটি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় করেছে ১ টাকা ১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৬ পয়সা।

২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত জুন থেকে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৮ টাকা ৯০ পয়সা

এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য গত এক বছরে বেড়েছে আট গুণের বেশি।

গত জুন থেকে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৮ টাকা ৯০ পয়সা।

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ১৮ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর আয় ছিল ২ টাকা ১৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে মাত্র ৪ পয়সা। যদিও দাম বেড়েছে সাড়ে তিন গুণের বেশি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কিছুটা বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ৭২ পয়সা। যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৫৬ পয়সা।

কোম্পানিটি এবার সাড়ে ১৩ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে শেয়ারপ্রতি ৬০ পয়সা বা ৬ শতাংশ নগদ আর সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস দেবে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২২ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭০ টাকা ৮০ পয়সা।

সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ১ পয়সা।

তবে এই কোম্পানিটির আয় চলতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে এখন পর্যন্ত। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ পয়সা।

২০২০ সালের জন্য কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৩ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৫ টাকা ১০ পয়সা।

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ১৬ পয়সা। এই কোম্পানিরও আয়ে প্রবৃদ্ধি আহামরি নয়।

কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে তার শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

কোম্পানিটির ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ৬ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ৬০ পয়সা ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৮ টাকা ৩০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৪ টাকা ৯০ পয়সা।

ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানির আয়ে শতকরা হিসেবে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০২০ সালে। ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২ টাকা ৯২ পয়সা।

তবে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এই সময়ে আয় হয়েছে ৬৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭৮ পয়সা।

২০২০ সালে তার শেয়ারধারীদের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭০ টাকা ৮০ পয়সা।

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ এই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৯ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দাম শেয়ারপ্রতি ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ২ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

এই কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য এক বছরে ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৯ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৪২ টাকা ৯০ পয়সা।

ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ এই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

কোম্পানিট তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সময়ের জন্য ৭ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ৭০ পয়সা ও ৩ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২০ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা।

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের পাশাপাশি চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকেও বেশ ভালো আয় করেছে।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৭ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ২৩ পয়সা।

এই কোম্পানিটিই ২০২০ সালে সর্বোচ্চ পরিমাণ আয় করেছে। তবে এর শেয়ার মূল্য অন্য কোম্পানিটির তুলনায় বেশ কম।

কোম্পানিটি তার প্রকাশিত প্রথম কোয়ার্টার (জানুয়ারি-মার্চ) সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে (ইপিএস) ১ টাকা ৭৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৮ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। তবে এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য বেড়েছে কম

কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য সাড়ে ২৪ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৪০ পয়সা নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

চলতি বছর এই কোম্পানিটিই সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

তবে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির হার বেশ কম। এটিই হাতে গোনা দু-একটি কোম্পানি, যার শেয়ার দর দ্বিগুণ হয়নি।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪৩ টাকা ৩০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৩ টাকা ৪০ পয়সা।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২০ টাকা ৯০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৪ টাকা ৪০ পয়সা।

জনতা ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৮ পয়সা।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪০ পয়সা।

কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য ৬ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৪ টাকা ৭০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৬ টাকা ৩০ পয়সা।

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। আগের বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১০ পয়সা।

শেয়ারপ্রতি ১ টাকা বা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৬ টাকা ৫০ পয়সা।

নিটল ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানির আয় কমেছে ২০২০ সালে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৮৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ২২ পয়সা।

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২১ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৬ টাকা ৮০ পয়সা।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স

শতকরা হিসাবে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে এই কোম্পানিটির।

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ৩৮ পয়সা আয় করে চমকে দিয়েছে তারা। এর আগে কখনও এত আয় করতে পারেনি তারা। আগের বছর আয় ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
বছরের পর বছর ২০ টাকার আশপাশে থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়ে ১৬০ টাকাও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য কমেছে

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও আয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৪ পয়সা।

এই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এক বছরে ১২৫ টাকা বেড়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৬ টাকা ৩০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৬১ টাকা ৩০ পয়সা।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি শেয়ারের একটি বোনাস হিসেবে দিয়েছে।

পিপলস ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানির আয়ও বেড়েছে সামান্যই। কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ২৬ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ১ টাকা ৮৭ পয়সা।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৩ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১১ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ১০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৪ টাকা ১০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৭ টাকা।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৩২ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ৪৩ পয়সা।

কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৫ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৫ টাকা ৮০ পয়সা।

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১০ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ৩৮ পয়সা।

তবে চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে আয়ে চমক দেখিয়েছে কোম্পানিটি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৬৮ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে বিমা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রভাতীর দর। সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯ টাকা ৪০ পয়সা। ১৭ শতাংশ বোনাস সমন্বয়ের পরও দাম ১৮০ টাকা ছাড়িয়েছে

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য ১৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০ শেয়ারে ১৭টি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এই কোম্পানির দর। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯ টাকা ৪০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। এটি আবার ১৭ শতাংশ বোনাস সমন্বয়ের পর।

রূপালী ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯০ পয়সা আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের কম।

চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৫ পয়সা। তবে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। সেই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪৮ পয়সা।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ হিসেবে ১০ শতাংশ নগদ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৮ টাকা ৫০ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স

এটি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমা কোম্পানির একটি। প্রতিবছরই বেশ ভালো আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশও দিয়ে থাকে কোম্পানিটি।

তবে ২০২০ সালে এর আয় কমেছে আগের বছরের তুলনায়। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৫ টাকা ৫৭ পয়সা।

তবে চলতি বছর ভালো করছে কোম্পানিটি। প্রথম প্রান্তিকে তারা শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের বছর একই প্রান্তিকে ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক মুনাফা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দামও বাড়েনি সেভাবে

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে কম বেড়েছে যে কয়টির দর, তার একটি এটি। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৫ টাকা ৯০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৩ টাকা ৫০ পয়সা।

তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৬৫ পয়সা আয় করেছে ২০২০ সালে। আগের বছরের আয় ছিল প্রায় সমান। তখন আয় হয় ১ টাকা ৬৪ পয়সা।

তবে চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের চেয়ে আয় আরেকটু বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় প্রকাশ করেছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৩৭ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৮ টাকা ২০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৫ টাকা ৬০ পয়সা।

ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটির আয়েও প্রবৃদ্ধি খুবই কম। ২০২০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৪ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা।

চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকেও আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়নি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়েও একই পরিমাণ আয় ছিল।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ অর্থাৎ ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে কম বেড়েছে এই কোম্পানির দর। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৪ টাকা ৭০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৩ টাকা ৬০ পয়সা।

যেগুলোর লভ্যাংশ এখনও ঘোষণা হয়নি

এশিয়া ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী এই কোম্পানিটির আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা। সেটি বেড়ে ২০২০ সালের একই সময়ে হয়েছে ২ টাকা ৬৯ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে যেসব কোম্পানির শেয়ারের বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে, তার একটি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের জুনে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ছিল সর্বনিম্ন ১৭ টাকা। আর একপর্যায়ে তা ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যেসব কোম্পানির দর, তার মধ্যে অন্যতম এটি।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা।

ঢাকা ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৯০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৫৪ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৪ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৯০ টাকা ।

ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৫৪ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭১ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৫ টাকা ৯০ পয়সা।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬ পয়সা পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬২ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৯ টাকা ৫০ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় কোয়ার্টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে তার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩ পয়সা।

নদার্ন ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি য়ার প্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৪২ পয়সা পয়সা। আগের বছর একই সময় এই আয় ছিল ১ টাকা ৪৭ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৬ টাকা ৬০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০) শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৬৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল একই, অর্থাৎ ৬৩ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২১ টাকা ৪০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০) শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯৭ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
এক বছরে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৯ টাকা ৪০ পয়সা, সর্বোচ্চ দাম ১১৩ টাকা

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৯ টাকা ৪০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১১৩ টাকা।

প্রগতি ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০) শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৯৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩২ টাকা ২০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা।

পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি য়ার প্রতি আয় করেছে ৯২ পয়সা পয়সা। আগের বছর একই সময় এই আয় ছিল ৭৫ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১২ টাকা ২০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৫ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৮ টাকা ৬০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬২ টাকা ১০ পয়সা।

স্ট্যান্ডার্ন্ড ইন্স্যুরেন্স

গত অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এই কোম্পানিটিরও শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের ‍তুলনায় কমেছে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৬ টাকা ৬০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৬ টাকা ৭০ পয়সা।

সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স

বিমা কোম্পানির মধ্যে প্রথমে দাম বাড়ে এই কোম্পানিটির। তবে আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়নি আশানুরূপ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩০ টাকা ১০ পয়সা আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮৮ টাকা।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংকের জন্য আরেক সুখবর

ব্যাংকের জন্য আরেক সুখবর

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক

মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে।  বাংলাদেশে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে। একটি ব্যাংকের এমডি বলেছেন, এতে তাদের বিনিয়োগের খরা কিছুটা হলেও কাটবে।

করোনাকালে ব্যাংককে নানা নীতিগত সুবিধা দেয়ার পর এবার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অলস পড়ে থাকা তারল্য তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে ব্যাংকে আমানতের সুদহার কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকেরও অলস টাকার বিপরীতে বেশ কিছু আয় হবে। ফলে তাদের ব্যালান্স শিটও স্ফীত হবে।

আগামী সোমবার থেকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’-এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সে উদ্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’-এ অংশগ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতে আমানতকারীরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি ব্যাংক যে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ খরা ছিল, সেটা কিছুটা হলেও কাটবে।’

করোনাকালে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতায় ব্যাংকে এখন অলস টাকার পাহাড় জমেছে। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলোতে নতুন করে আমানত রাখতে গেলে তারা সুদহার দিচ্ছে খুবই কম।

ব্যাংকের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টার সময় ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ করার ওপর জোর দেয়। তবে এখন স্বল্পমেয়াদী আমানতে আড়াই থেকে তিন শতাংশের বেশি সুদ দিতে চাইছে না ব্যাংকগুলো। একটি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে দেড় শতাংশ সুদ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ব্যাংকে আগে উচ্চসুদের এফডিআর থাকার পরও আমানতের সার্বিক সুদহার এখন ৪ শতাংশের কিছু বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে কেউ ব্যাংকে ১০০ টাকা রাখলে পরের বছর ১০৪ টাকা হয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকে বলে আগের বছরের ১০০ টাকার মূল্যমান তখন এর চেয়ে নিতে নেমে যায়। অথচ ব্যাংকে সুদহার মূল্যস্ফীতির নিচে নামা উচিত নয় বলে মত দিয়ে থাকেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা জানাল

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে।

তবে এর মাধ্যমে ঠিক কত টাকা তুলে নেয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হবে। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশে নিবাসী সকল ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিড করতে পারবেন।

প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের জন্য ডিস্কাউন্টে বিলের প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য উল্লেখসহ মোট অভিহিত মূল্য উদ্বৃত করে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় বেলা সাড়ে ১২ টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এমআই মডিউলে বিড দাখিল করতে হবে। বেলা ২ টার মধ্যে নিলামের ফল ঘোষণা করা হবে।

নিলামে অংশগ্রহণের বিশদ পদ্ধতিগত নির্দেশনা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সর্বশেষ ব্যাংকগুলো থেকে এভাবে টাকা তুলে নেয়া হয়েছিল।

২৯ জুলাই চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে বুদ্‌বুদ তৈরি করলে তা তুলে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অতিরিক্ত তারল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি বা সম্পদের দাম বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতি গ্রহণে দ্বিধা করবে না।

অতিরিক্ত তারল্য কত

করোনার মধ্যে প্রবাসী আয় অনেকটা বেড়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। আবার প্রণোদনার এক লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের একটি অংশ ঘুরে ফিরে আবার ব্যাংকেই এসেছে।

গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে একবারে অলস পড়ে আছে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অলস এ অর্থের বিপরীতে কোনো সুদ পায় না ব্যাংক। এতে করে অধিকাংশ ব্যাংক এখন আমানত নিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছর বাজারে তারল্য বাড়াতে নানা নীতিসহায়তা দিলেও ঋণ চাহিদা বাড়েনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সাড়ে ১৪ শতাংশ ধরে মুদ্রানীতি ঘোষণা হলেও অর্জিত হয়েছে ৮ শতাংশের মতো। প্রত্যাশিত ঋণ না বাড়ায় বাড়ছে অলস অর্থ।

সাধারণভাবে নগদ জমার হার (সিআরআর) সংরক্ষণের পর ব্যাংকগুলোর ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা অলস থাকে। তবে করোনা শুরুর পর ২০২০ সালের জুন শেষে তা ২৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হয়।

সম্প্রতি ঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিআরআরের অতিরিক্ত রিজার্ভ গত এক বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ গত বছরের জুনের তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংকের মোট দায়ের একটি অংশ বিধিবদ্ধ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এর মধ্যে বর্তমানে নগদে রাখতে হয় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা সিআরআর হিসেবে বিবেচিত। করোনা শুরুর আগে গত বছরও সাড়ে ৫ শতাংশ সিআরআর রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য বা এসএলআর রাখতে হচ্ছে আগের মতোই ১৩ শতাংশ।

উদ্বৃত্ত তারল্যের মধ্যে সিআরআরে থাকা অলস অংশ বাদে বাকি অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে থাকে। এ টাকা সরকারকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়।

ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অর্থ থাকায় সুদহার অনেক কমেছে। আমানতের গড় সুদহার নেমেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশে। ঋণের গড় সুদহার ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশে নেমেছে।

যা বলছেন সাবেক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকে তারল্য বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি থাকে। এত বেশি তারল্য আগে ছিল না। এতে কারও লাভ হচ্ছে না ।

‘তারল্য বেশির কারণে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুদহার কমতে কমতে তারা ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি লাভ পাচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’

তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে এর বিপরীতে সুদহার কম রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন। বলেছেন, সেটা না হলে বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশি বিনিয়োগ করতে চাইবে।

যদি ব্যাংকগুলো আগ্রহী না হয়-তাহলে কী হবে, এমন প্রশ্নে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘তারল্য তুলে নেয়ার এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য কমানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে চাপ দিতে পারে। তখন ব্যাংক তারল্য কমানোর জন্য ঋণ দিতে চাইবে।’

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ

গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ

২০২০-২১ অর্থবছরের নয় মাসের (২০২০ সালের ১ জুলাই-২০২১ সালের ৩০ মার্চ) হিসাব কষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত হিসাব।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত অর্থবছরে (২০২০-২১) বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। স্থিরমূল্যে এই জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ১১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

আর মাথাপিছু আয় ২০২৪ ডলার থেকে বেড়ে ২২২৭ ডলারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের নয় মাসের (২০২০ সালের ১ জুলাই-২০২১ সালের ৩০ মার্চ) হিসাব কষে এই তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে, এর আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশ খানিকটা কমেছে। প্রাথমিক হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ বলা হলেও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাব দেখা গেছে, ওই অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি অর্জন ছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

স্থিরমূল্যে চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। প্রাথমিক হিসাবে ওই অর্থবছরে জিডিপির আকার ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা হয়েছিল বলে এর আগে জানায় বিবিএস।

করোনাভাইরাস মহামারির কঠিন সময়ে গত অর্থবছর ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে আশাব্যঞ্জক মনে করছেন বিবিএসের মহাপরিচালক (ডিজি) তাজুল ইসলাম এবং অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের পুরোটা সময় দেশ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে ছিল। এরমধ্যেও ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খুবই ভালো অর্জন বলে আমি মনে করি।’

আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।

গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ


অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির এই মহাসংকটের সময়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে আমি মনে করি। প্রাথমিক হিসাবে বিবিএস সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অর্জনের যে তথ্য দিয়েছে, সেটা যদি অর্জিত হয়, তাহলে খুবই ভালো বলে আমি মনে করি।

“এই কঠিন সময়ে ৩/৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও যদি হয়, সেটাকেও আমি ‘অসম্ভব অর্জন’ বলে মনে করবো।”

২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরেও (২০১৯-২০) একই লক্ষ্য ছিল; ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে অবশ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরেছে সরকার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

মহামারির ধাক্কায় বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেক কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা।

দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগসহ (সিপিডি) বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাও বলেছিল, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের চেয়ে কম হবে।

সে কারণে সরকারও পরে লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। পরে তা আরও কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে আনে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে স্থিরমূল্যে ৩০ লাখ ১১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা জিডিপির মধ্যে মধ্যে সেবা খাত থেকে এসেছে ৫১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। টাকার অংকে এর পরিমাণ ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। শিল্প খাত থেকে এসেছে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। আর কৃষি খাত থেকে এসেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬১০ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ২০২৪ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ১৯০৯ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ১৭৫১ ডলার। তার আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ১৬১০ ডলার।

সাধারণত, প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসের দিকে ওই অর্থবছরের নয় মাসের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জিডিপির একটি প্রাথমিক হিসাব তৈরি করে থাকে বিবিএস। পরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের দিকে পুরো অর্থবছরের তথ্য-উপাত্ত হাতে পেয়ে জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব করা হয়।

তবে মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাব দেরিতে প্রকাশ করল পরিসংখ্যান ব্যুরো।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

বর্তমানে যে পরিমাণে ভ্যাট আহরণ হয়, তার মধ্যে খুচরা পর্যায় থেকে আসে মাত্র ৫ শতাংশ। ভ্যাট কর্মকর্তারা বলেন, খুচরা পর্যায়ের সব খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনতে পারলে এ খাত থেকে ভ্যাট আহরণ ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

বাজেটের পর মূল্য সংযোজন কর আদায় (ভ্যাট) কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধতি সব ভ্যাটাদাতা প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে সেগুনবাগিচায় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভ্যাট বিভাগের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এ সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় এনবিআরের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও মাঠ পর্যায়ের সকল ভ্যাট কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সেবার অনেক খাত রয়েছে, যেখানে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা হচ্ছে না। এসব খাত শনাক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ভ্যাট আহরণের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, খুচরা পর্যায়ের বড় একটি অংশ ভ্যাটের আওতার বাইরে এখনও।

পরিসংখ্যানে বলে বর্তমানে যে পরিমাণে ভ্যাট আহরণ হয়, তার মধ্যে খুচরা পর্যায় থেকে আসে মাত্র ৫ শতাংশ। ভ্যাট কর্মকর্তারা বলেন, খুচরা পর্যায়ের সকল খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনতে পারলে এ খাত থেকে ভ্যাট আহরণ কমপক্ষে দশ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

এ জন্য খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৈঠকে। বলা হয়েছে, ভ্যাট দেয়ার যোগ্য অথচ আওতায় নেই, এমন প্রতিষ্ঠানকে আওতায় এনে আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

বৈঠকে এনবিআরের অধীনে প্রত্যেক ভ্যাট কমিশনারেটকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এনবিআরের অধীন সারা দেশে ভ্যাট কমিশনারেট অফিস রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় পাঁচটি।

বিদায়ী অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট ভ্যাট আহরণ হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সরকার। যোগ্য সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় এনে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এ সব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আহরণের লক্ষ্য স্থির করেছে রাজস্ব বোর্ড।

এখন পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন্ দাখিল করছে বছরে মাত্র ৪০ লাখ। সিংহভাগই অনলাইনের আওতার বাইরে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে নিবন্ধিত সকল ভ্যাটযোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আগে প্রচলিত প্রথায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন দেয়া হতো। যার অংক বা ডিজিট ছিল ১১। তিন বছর আগে অনলাইনে যে ভ্যাট নিবন্ধন চালু করা হয় তার ডিজিট ৯।

এখন ৯ ডিজিটের নাম্বারকে বলা হয় বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নাম্বার বা বা ই-বিআইএন।

মাসিক ভ্যাট রিটার্ন্ দাখিল করতে হলে ৯ ডিজিটিরে ই-বিআইএন অবশ্যই উল্লেখে করতে হয়। তা না হলে রিটার্ন গ্রহণ করা হয় না।

রিটার্নের ওপর ভিত্তি করেই ভ্যাট আদায় করা হয়। রিটার্নে প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বা লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট পরিশোধ করার যোগ্য, কিন্তু তাদের ভ্যাটের নিবন্ধন নেই।

সম্প্রতি বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন করে তারা দেখেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের নিবন্ধন নেয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর যে পরিমাণ বার্ষিক কেনাবেচা হয়, তাতে তাদের ভ্যাট দেয়ার সার্মথ্য রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং বাধ্যতামূলক রিটার্ন জমা দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় বড় শহরে অনেক মার্কেট আছে, যেখানে অধিকাংশ দোকান ভ্যাটের নিবন্ধন নেয়নি। এসব দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এসব দোকানে বসানো হবে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি)। এরই মধ্যে সুপারশপগুলোতে এই মেশিন বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বলা হয়, ভ্যাটের রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের নিয়ম চালু করা হলেও অধিকাংশ ভ্যাট কমিশনারেটে এখনও শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে দাখিল হচ্ছে না।

ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল তুলনামূলক বেশি। যদিও ঢাকায় মোট রিটার্নের সংখ্যা বেশি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা উত্তরে সবচেয়ে কম ২৭ শতাংশ ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দাখিল হচ্ছে। অথচ, রংপুরে ৯৮ শতাংশ রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা হচ্ছে।

আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের সিএ রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত তথ্য রিপোর্টে উপস্থাপিত হয়নি।

গত মে মাসে বিভিন্ন কমিশনারেটে ২২৫টির বেশি সিএ রিপোর্ট পরীক্ষা করা হয়েছে।

তাতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ রিপোর্টে প্রকৃত বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে বলা হয়।

সভায় ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের রিফান্ড (আগাম পরিশোধ করা ভ্যাট ফেরত দেওয়া) দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা যাবে ৯০ হাজার কনটেইনার

চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা যাবে ৯০ হাজার কনটেইনার

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন দুটি অভ্যন্তরীণ ডিপোর কাজ শেষ হলে বন্দরে রাখা যাবে ৯০ হাজার কনটেইনার। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে ১৯ ডিপোর ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার টিইইউস কনটেইনার। নতুন দুটির মাধ্যমে আরও ১২ হাজারসহ মোট ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৯০ হাজারে। ফলে কনটেইনার জট কমবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের দ্রুত জাহাজীকরণ করা যাবে এবং আমদানি পণ্য দ্রুত ডেলিভারি নেয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার রাখার ধারণ ক্ষমতা বাড়ছে। নতুন দুটি অভ্যন্তরীণ ডিপোর কাজ শেষ হলে বন্দরে রাখা যাবে ৯০ হাজার কনটেইনার। ছয় মাসের মধ্যে এই সক্ষমতা তৈরির আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন দুটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) ধারণক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার। আইসিডি দুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় একশ কোটি টাকা।

এর মধ্যে অ্যাঙ্করেজ কনটেইনার্স ডিপো নামে একটি বন্দর থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার দূরে এবং বে লিঙ্ক কনটেইনার নামে অপরটি নির্মিত হচ্ছে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে, যেটি বন্দর থেকে আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুটি আইসিডির নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আইসিডি দুটির উদ্বোধন হতে পারে।

বে লিঙ্ক কনটেইনার নামে আইসিডিটি নির্মাণ করছেন ঢাকার একটি টেক্সটাইল কোম্পানি এবং অ্যাঙ্করেজ কনটেইনার্স ডিপো নির্মাণ করছেন শিপিং কোম্পানি সিএমএ-সিজিএম।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৯টি বেসরকারি আইসিডির ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার টিইইউস কনটেইনার। বর্তমানে আইসিডিগুলো আমদানি-রপ্তানি এবং খালি কনটেইনার মিলিয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণ। নতুন আইসিডি দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে জট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিকডা সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান নিউজবাংলাকে বলেন, বর্তমানে ১৯ ডিপোর ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার টিইইউস কনটেইনার। নতুন দুটির মাধ্যমে আরও ১২ হাজারসহ মোট ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৯০ হাজারে। ফলে কনটেইনার জট কমবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের দ্রুত জাহাজীকরণ করা যাবে এবং আমদানি পণ্য দ্রুত ডেলিভারি নেয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, আইসিডি দুটি নির্মাণের জন্য বন্দর থেকে অনাপত্তি সনদ দেয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এগুলো বেসরকারি আইসিডির তালিকায় যুক্ত হবে।

জানা গেছে, দেশের শতভাগ রপ্তানি ও ৩৮টি আমদানি পণ্যের কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে এসব আইসিডি। তবে বন্দর ইয়ার্ডে জট নিরসনে গত ২৫ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক অফিস আদেশে বন্দরের সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তর করতে আদেশ দেন।

এরপর প্রায় তিন হাজার আমদানি কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তর হয়। আবার সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোর অচলাবস্থার কারণে আইসিডিগুলোতে গত এক মাসের অধিক সময় ধরে রপ্তানি কনটেইনারের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

আগামী রোববারও বন্ধ ব্যাংক-পুঁজিবাজার

আগামী রোববারও বন্ধ ব্যাংক-পুঁজিবাজার

করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত সপ্তাহে ‍দুটি কর্মদিবসে বন্ধ রাখা হয় ব্যাংক।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচ দিন বাড়ানোয় গত সপ্তাহের মতো আগামী সপ্তাহেও রোববার ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে চলতি সপ্তাহে বুধবার লেনদেন বন্ধ থাকলেও আগামী বুধবার চলবে।

ব্যাংক বন্ধ থাকায় রোববার বন্ধ রাখতে হবে পুঁজিবাজারও।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগ এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা জারি করে।

তবে সোম ও মঙ্গলবার লেনদেন চলবে। ওই দুই দিন লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। আর ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। লকডাউনের আওতায় সপ্তাহের রোববার ও বুধবার ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। বাকি কার্যদিবসে ব্যাংক সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা বলা হয়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার চলমান বিধিনিষেধ আরও ৫ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করেছে সরকার।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে আগামী রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কঠোরভাবে সীমিতসংখ্যক লোকবল দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অত্যাবশ্যকীয় বিভাগগুলোসহ ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক শাখা খোলা রাখতে পারবে।

যেসব সেবা চালু

বিধিনিষেধ চলাকালে গ্রাহকদের হিসাবে নগদ বা চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফট বা পে-অর্ডার ইস্যু ও জমা গ্রহণ, বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় প্রদত্ত ভাতা বা অনুদান বিতরণ, একই ব্যাংকের খোলা রাখা বিভিন্ন শাখার বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, ট্রেজারি চালান গ্রহণ, অনলাইন সুবিধাসংবলিত ব্যাংকের সব গ্রাহকের এবং উক্ত সুবিধাবহির্ভূত ব্যাংকের খোলা রাখা শাখার গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমস্ বা ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন অন্যান্য লেনদেন সুবিধা প্রদান এবং জরুরি বৈদেশিক লেনদেনসংক্রান্ত কাজ চালু থাকবে।

কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

সমুদ্র বা স্থল বা বিমানবন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা বা উপশাখা/বুথ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ বন্দর বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাক্রমে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিতপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধিনিষেধ চলাকালে যেসব শাখা বন্ধ থাকবে সেসব শাখার গ্রাহকসেবা কার্যক্রম খোলা রাখা শাখার মাধ্যমে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বন্ধকৃত শাখার গ্রাহকদের গ্রাহকসেবা প্রাপ্তি বিষয়ে অবহিত করতে উক্ত শাখার দৃশ্যমান স্থানে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রদর্শন করতে হবে।

বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিজ নিজ অফিসে যাতায়াতের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চলাচলের সময় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত পরিচয়পত্র বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

মানিকগঞ্জের ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে এ বছর বেচা-কেনা কম হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নৌকা বিক্রেতা কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘গত বছর যে নৌকা বিক্রি করছি সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, এ বছর সেই নৌকা সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শুধু পানি না হওয়ায় প্রতিটা নৌকায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ধরা।’

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীর পাশে মাঠজুড়ে দেখা মিলবে বিভিন্ন আকারের শ শ বাহারি কাঠের নৌকা। প্রতিবছর বর্ষায় এখানে বসে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট।

ঘিওর সরকারি কলেজ ও ঈদগাঁর মাঠে বর্ষাজুড়ে প্রতি বুধবার বসে এই হাট।

সেখানে মানিকগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ আসেন পছন্দের নৌকা কিনতে। বরাবরই জমজমাট থাকে এই হাট; বেচাকেনা হয় শ শ নৌকা।

হাটের পাশেই ধলেশ্বরী নদী থাকায় নৌকা কিনে সেই নৌকায় করেই বাড়ি ফেরেন ক্রেতারা। তবে এ বছর বেচাকেনা একেবারে কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বর্ষায় পানি কম হওয়ায় ঘোড়ার গাড়ি ও ভ্যানে করে নৌকা বাড়িতে নিতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় নৌকার ক্রেতা কমেছে।

শিবালয়ের শাহিলী এলাকার নৌকা ক্রেতা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘শাহিলী এলাকা অনেক নিচা। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হইলেই পানি হইয়্যা যায়। আর বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বাইর হওয়া যায় না। এই কারণে হাটে আইস্যা ১৭০০ টাকা দিয়্যা ১১ হাতের একটা নৌকা কিনলাম।’

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

দৌলতপুরের আরেক ক্রেতা আজিজুল রহমান বলেন, ‘আমাগো বারোমাসই নৌকা লাগে। বিশেষ কইর‌্যা বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। রাস্তাঘাট পানির তলায় থাকে। এইবার পানি না হওয়ায় নৌকার দাম একবারে সস্তা। আরেকটু সস্তায় পাইলে কয়েকটা কিনুম।’

হরিরামপুরের তবিজ উদ্দিন বলেন, বন্যা আইতেছে। তাই আগেই সস্তায় ভালো নৌকা কিনা রাখলাম। বন্যার সময় পানি বেশি হইলেই দাম বাড়ায় নৌকার কারিগররা।

নৌকা বিক্রেতা ঘিওরের কুস্তার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সাভার থেকে পাইকারি দরে নৌকা কিনে ঘিওরের হাটে বিক্রি করি। ঘিওর হাটে নৌকার অনেক চাহিদা। এই হাটে মানিকগঞ্জ ছাড়াও টাঙ্গাইল, নাগরপুর, সাভার, ধামরাইয়ের লোকজন নৌকা কিনতে আসেন। প্রতি হাটে শ শ নৌকা বেচাকেনা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পানির সঙ্গে নৌকার দামের একটা সম্পর্ক আছে। পানি হলে ভালো দাম পাই। আর না হলে মোটামুটি দামে বেচতে হয়। অনেক সময় লসও হয়।’

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নৌকা বিক্রেতা কৃষ্ণ রায় ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করে আসছেন। তিনি এই হাটে চাম্বুল, স্টিলবডি, আকাশমনি, আম, জাম, কাঁঠাল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আকারের বাহারি নৌকা বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত বছর যে নৌকা বিক্রি করছি সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, এ বছর সেই নৌকা সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শুধু পানি না হওয়ায় প্রতিটা নৌকায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ধরা।’

ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে প্রচুর নৌকা ওঠে। বিশেষ করে বন্যার আগে ও বন্যার মধ্যে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। নদীতে বর্ষার পানি ঢুকলেই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুরসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ডিঙি নৌকা।’

এই হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের যেকোনো সমস্যায় সার্বিক সহযোগিতা করা হয় বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?

ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?

ব্যাংক খাতে আমানতের সুদ হার নিয়ে বাড়ছে হতাশা। ফাইল ছবি

বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার এত কমে গেছে যে, টাকা রেখে যে সুদ আসছে, তা দিয়ে মূল্যস্ফীতির ঘাটতিই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ওপর বিভিন্ন মাশুল কাটার পর গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

অল্প দিন হলো বিয়ে করেছেন আরিফ ও সুস্মিতা। দুজনই চাকরিজীবী। আগামীর নিরাপত্তায় সংসারের শুরু থেকে সঞ্চয় করতে আগ্রহী এই দম্পতি, কিন্তু সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত মাধ্যম কোনটি? ব্যাংক এবং সঞ্চয়পত্রের স্কিম যাচাই-বাছাই নিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

তারা বলেন, প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে অর্থ জমা করতে চান তারা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকে নিরাপত্তা আছে, কিন্তু মুনাফার হার খুবই কম। আর জমানো কিছু টাকা আছে, সেটা রাখার ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলকভাবে মুনাফার হার বেশি, তবে টিআইএনসহ নানা ক্ষেত্রে ঝক্কিঝামেলার শেষ নেই।

আরিফ এবং সুস্মিতার মতোই সিদ্ধান্তহীনতায় বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান। নতুন চাকরি তার। এ জন্য মাসে যে বেতন পান, তা থেকে সঞ্চয় করতে চান কিছু টাকা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকই তার কাছে ভরসার জায়গা। কিন্তু মুনাফার হার খুবই কম। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করে পাঁচ বছর পর যে মুনাফা পাওয়া যাবে, তা আকাঙ্ক্ষার চেয়ে খুবই কম। অথচ কয়েক বছর আগেও মুনাফার হার ছিল বেশি, যা বিপদ-আপদে নিশ্চিত করত জীবনের নিরাপত্তা।

ব্যাংক খাতে আমানতের সুদহার নিয়ে বাড়ছে হতাশা।

বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার এত কমে গেছে যে, টাকা রেখে যে সুদ আসছে, তা দিয়ে মূল্যস্ফীতির ঘাটতিই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ওপর বিভিন্ন মাশুল কাটার পর চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদ হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। অবশ্য ব্যাংকভেদে এর চেয়ে সামান্য বেশি সুদ পাওয়া যায়। অথচ পাঁচ বছর আগেও সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

দেশে গত জুন শেষে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ব্যাংকে টাকা রাখলে তা কমে যায়।

ধরুন, ব্যাংকে কেউ ১০০ টাকা জমা রেখেছেন। সুদের হার ছয় ভাগ হলে বছর শেষে তিনি ১০৬ টাকা পাবেন। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হারও যদি ছয় ভাগ হয়, তাহলে ১০০ টাকায় এখন যে পণ্য বা সেবা পাওয়া যায়, বছর শেষে তার জন্য ১০৬ টাকা খরচ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকে টাকা জমা রেখে সেই টাকা থেকে প্রকৃতপক্ষে কোনো আয় হবে না আমানতকারীদের।

আর সুদের হার ছয়ের নিচে নামা মানেই মূল্যস্ফীতি ও টাকার ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বছর শেষে মূল টাকা কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগেও ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রেখে ৯ থেকে ১২ শতাংশ সুদ পাওয়া যেত। তবে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর অলস অর্থের কারণে হাতে গোনা দু-একটি ব্যাংক ছাড়া ৫ থেকে ৬ শতাংশের বেশি সুদ মিলছে না।

ব্যাংকভেদে বর্তমানে ৫ লাখ টাকায় বছরে ব্যাংক সুদ দেয় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এর মধ্যে কর শনাক্তকরণ (টিআইএন) নম্বর থাকলে কেটে নেয়া হয় ৩ হাজার টাকা। টিআইএন না থাকলে কাটা হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। আর বছরে হিসাব পরিচালনার জন্য কাটা হয় ২৫০ টাকা। চেক বইয়ের জন্য আরও ৩০০ টাকা। এর ওপর কাটা রয়েছে ১৫ শতাংশ কর, যা ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। আর প্রতিবছর সরকার আবগারি শুল্ক কেটে নেয় ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুদহার নির্দিষ্ট করে দেয়ার কারণে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দরিদ্র, মধ্যবিত্তদের মূল সম্পদ হচ্ছে টাকা। সামান্য টাকা তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু সুদ এত কম যে, তাদের টাকা কমে যাচ্ছে। ফলে সঞ্চয়ের অভ্যাস কমে যাবে।’

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরফান আলী বলেন, ‘বর্তমানে আমানতে যে সুদ দেয়া হচ্ছে, তা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। এর চেয়ে বেশি সুদ দেয়ার সুযোগও নেই। যারা আমানতের সুদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের চলা আসলেই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঋণের সুদহার নির্দিষ্ট করে দেয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতে বেশি সুদ দিতে পারছে না। এ জন্য যারা সুদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখা যত সহজ, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ তত সহজ নয়। ফলে মানুষ ঘুরেফিরে ব্যাংকেই ফিরে আসছেন।’

ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?

কোন ব্যাংকে কত সুদ

জুন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের গড় সুদহার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদ বেসিক ব্যাংকে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

বিশেষায়িত কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের গড় সুদহার ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর মধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আমানতে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ সুদ দিচ্ছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এসব ব্যাংকের মধ্যে আমানতকারীদের বেশি সুদ দিচ্ছে পদ্মা ব্যাংক ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৭ দশমিক ১০ শতাংশ ও ন্যাশনাল ব্যাংক ৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ , সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ৫ দশমিক ৮৪, মেঘনা ৫ দশমিক ৫৯, এনআরবি ৫ দশমিক ৩৩, মধুমতি ব্যাংক ৫ দশমিক ২৪ ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ আমানতে সুদ দিচ্ছে।

বিদেশি মালিকানার নয়টি ব্যাংকের আমানতে গড় সুদহার মাত্র দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?

সুফল নেই সঞ্চয়ে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে দেশে ব্যাংক খাতে আমানতের বিপরীতে গড় সুদহার ৪ দশমিক ১৩ ভাগ। অন্যদিকে একই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারও দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ ভাগের বেশি। সুদহার যতটুকু, তার সবটাই আবার হাতে আসে না। কেটে রাখা হয় ব্যাংকের চার্জ ও সরকারের শুল্ক। এর মানে টাকার মূল্যমানের অবচয় বিবেচনায় আমানতকারী যে পরিমাণ টাকা রাখছেন, বছর শেষে পাচ্ছেন তার চেয়ে কম।

এ কারণে ব্যাংকে টাকা রেখে সঞ্চয়কারীরা এখন আর প্রকৃত অর্থে লাভবান হতে পারছেন না। বরং তাদের জমা করা টাকার মূল্যমান বা আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ব্যাংকের সুদহারের সাথে বড় ধরনের তফাতে গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের টাকা জমা রাখার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছিল সঞ্চয়পত্র। ব্যাংকের বাইরে এখন সঞ্চয়পত্রে টাকা রাখতে বেশি আগ্রহী আমানতকারীরা। তবে এখানে বিনিয়োগে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে কেউ সঞ্চয়পত্র কেনার পর এক বছরের মধ্যে ভাঙালে কোনো সুদ পান না। তবে সুদহার বেশি হওয়ার কারণে গত কয়েকটি অর্থবছরে এর বিক্রি সরকারের বাজেটে ধরা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে থাকে। ফলে বাড়তে থাকে সরকারের সুদব্যয়।

এমন অবস্থায় সঞ্চয়পত্র বিক্রির রাশ টানতে গত বছরের জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে টিআইএন ও ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক করে দেয় সরকার। অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি উৎসে করের হার পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের বাইরে বিনিয়োগের একটি বড় জায়গা সরকারের বিল ও বন্ড। তবে এখানে টাকা রেখে গত জুনে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ সুদ মিলেছে। এখানে বিনিয়োগ সুবিধার বিষয়ে সাধারণ মানুষের বেশির ভাগই জানেন না।

আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখনও ৮ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া গেলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের অবস্থা রুগ্ণ হওয়ায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয়ের প্রবণতা কম।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও পুঁজি হারানোর ভয়ে সেখানে যান না অনেকে।

সুদ যত কমই হোক, এই মুহূর্তে ব্যাংকে টাকা রাখা ছাড়া মানুষের সামনে আর কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ৷ তিনি বলেন, ‘মানুষ তো ঘরে টাকা ফেলে রাখবেন না। বিকল্প সঞ্চয়ের মাধ্যমও তেমন নেই। একটি অংশ বেশি লাভের আশায় এমএলএম কোম্পানি, কো-অপারেটিভসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে পুরো টাকা খোয়ানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। ফলে ঘুরেফিরে ব্যাংকই সাধারণ মানুষের ভরসা। ব্যাংকে টাকা রেখে তাৎক্ষণিক তোলার সুযোগ, জমানো টাকা অনলাইন ও কার্ডে ব্যবহার, ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন কারণে ব্যাংকেই টাকা রাখতে বেশি আগ্রহী মানুষ’।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন