উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়

গত এক দশকে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিমা খাতের শেয়ারের দর।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়

বিমা কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুজব কাজ করছিল। বলা হচ্ছিল, নানা উদ্যোগে ব্যাপক আয় বাড়বে বিমা কোম্পানির। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে ২৩টি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তাদের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে, পাঁচটির কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ১৪টির, কমেছে তিনটির, একটির আয় গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের সমান। লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানির মধ্যে এখনও প্রথম প্রান্তিক ঘোষণা করেনি পাঁচটি। আর চলতি বছরের ঘোষিত লভ্যাংশও সেভাবে আকর্ষণীয় ছিল না।

সাধারণ বিমা কোম্পানির আয় ব্যাপক হারে বাড়বে এবং ভালো লভ্যাংশ পাওয়া যাবে- এমন গুজবে গত প্রায় এক বছরে পুঁজিবাজারে ৩৭টি সাধারণ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের যে হিসাব পাওয়া গেছে, তাতে ব্যাপক আয় বাড়ার প্রমাণ মেলেনি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ও তেমন সম্ভাবনার কথা বলছে না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭টি সাধারণ বিমা কোম্পানির মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এগুলোর বার্ষিক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো কোনো কোম্পানির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

তবে হাতে গোনা দু-একটি কোম্পানির আয় আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

আবার অস্বাভাবিক দর বেড়েছে, এমন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় কমতেও দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও আয় কমতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটির।

গত বছরের জুন থেকে বিমা কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ঢালাওভাবে দাম বেড়েছে সব কোম্পানির।

এমন কোম্পানিও আছে, যেগুলোর দাম ১০ গুণ হয়ে গেছে। তবে যেসব কোম্পানি প্রতিবছর ভালো আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দেয়, সেগুলোর তুলনায় যেগুলোর আয় ও লভ্যাংশ খুব একটা ভালো নয়, সেগুলোর দাম বেড়েছে বেশি।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নানা সিদ্ধান্তে বলাবলি হচ্ছিল ব্যাপকভাবে বাড়বে সাধারণ বিমার আয়

বিমা কোম্পানির শেয়ারে দর বাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুজব কাজ করছিল। এজেন্টের কমিশন কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, গাড়ির তৃতীয় পক্ষের বিমা বাতিল করে প্রথম পক্ষের বিমা চালু হলে আয় বাড়বে, লভ্যাংশ বাড়বে- এমন কথা বলাবলি হয়।

এরপর আলোচনায় আসে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো বড় বড় প্রকল্প বিমার আওতায় আসছে। এগুলোর ঝুঁকি একেবারেই কম; কোম্পানির লাভ হবে ভালো। তবে পরে জানানো হয়, মেট্রোরেল সরকারি সাধারণ বিমা করপোরেশনের আওতায় থাকবে। এটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।

আবার ১০ বছর আগে করা একটি বিধান সামনে আনা হয়, যেখানে বলা ছিল, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ থাকতে হবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এমনটি হলে বিমা কোম্পানির শেয়ার মালিকদেরই কিনতে হবে।

কিন্তু আয় বা লভ্যাংশ বাড়ার গুজব সত্য প্রমাণ হয়নি। পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ নিজেদের হাতে রাখার যে আইন করা হয়েছে, সেটিও কার্যকর হয়নি। তবু আবার ঢালাও মূল্য বৃদ্ধিতে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেভাবে বিমা খাতের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল, সেভাবে কোম্পানির উন্নয়ন হয়নি। আইডিআরএ থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো বিমা কোম্পানির জন্য ভালো। কিন্তু পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে কিছুটা গরমিল হয়ে থাকে।

‘একসময় পুঁজিবাজারে ব্যাংকের দাপট ছিল। কারণ তখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যাংকের উন্নয়ন, ব্যাংকে কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতো। এখন সে আলোচনা বিমা নিয়ে। এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের মূল কারণ এটাই।’

এখন পর্যন্ত যে ২৩টি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তাদের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে, পাঁচটির কমেছে।

প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ১৪টির, কমেছে তিনটির, একটির আয় গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের সমান। লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানির মধ্যে এখনও প্রথম প্রান্তিক ঘোষণা করেনি পাঁচটি।

আবু আহমেদের ধারণা, কারসাজি

বিমা কোম্পানির শেয়ারের এভাবে মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত আবু আহমেদ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ খাতে কারসাজি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা না দেখে না বুঝে শেয়ার কিনেছেন। সেটি এখন বোঝা যাচ্ছে মূল্য বৃদ্ধি ভিত্তিহীন।’

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদের ধারণা, বিমা খাতের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে

তিনি বলেন, ‘বিমার শেয়ারের দর বাড়ছে বলেই শেয়ার কিনতে হবে, এমন ধারণা থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হতে পারে।’

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৭২ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪৬ পয়সা।

অথচ গত জুন থেকে এই কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য বেড়ে চার গুণ হয়েছে।

এই সময়ে সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৭১ টাকা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৭১ টাকা।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৯ পয়সা, যা গত বছর ছিল ৩১ পয়সা। অর্থাৎ আয় কমেছে ২ পয়সা।

কোম্পানিটি এবার শেয়ারপ্রতি ৫ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ শেয়ারে পাঁচটি বোনাস দিয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছর একই সময় আয় ছিল ১ টাকা ৭৪ পয়সা।

এই কোম্পানি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় করেছে ১ টাকা ৭ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮২ পয়সা।

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই কোম্পানির আয়ও গত এক বছর চার গুণের বেশি বেড়েছে।

গত জুনে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৯ টাকা ১০ পয়সা। আর এক বছরে সর্বোচ্চ দাম ওঠে ৯২ টাকা ৮০ পয়সা।

বিজিআইসি

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ২৫ পয়সা। এটি গত বছরের চেয়ে কম। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা।

এই কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে।

গত বছরের জুন থেকে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২২ টাকা ৫০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫২ টাকা ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছর শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৩২ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা।

কোম্পানিটি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় করেছে ১ টাকা ১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৬ পয়সা।

২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত জুন থেকে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৮ টাকা ৯০ পয়সা

এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য গত এক বছরে বেড়েছে আট গুণের বেশি।

গত জুন থেকে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৮ টাকা ৯০ পয়সা।

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ১৮ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর আয় ছিল ২ টাকা ১৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে মাত্র ৪ পয়সা। যদিও দাম বেড়েছে সাড়ে তিন গুণের বেশি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কিছুটা বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ৭২ পয়সা। যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৫৬ পয়সা।

কোম্পানিটি এবার সাড়ে ১৩ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে শেয়ারপ্রতি ৬০ পয়সা বা ৬ শতাংশ নগদ আর সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস দেবে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২২ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭০ টাকা ৮০ পয়সা।

সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ১ পয়সা।

তবে এই কোম্পানিটির আয় চলতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে এখন পর্যন্ত। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ পয়সা।

২০২০ সালের জন্য কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৩ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৫ টাকা ১০ পয়সা।

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ১৬ পয়সা। এই কোম্পানিরও আয়ে প্রবৃদ্ধি আহামরি নয়।

কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে তার শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

কোম্পানিটির ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ৬ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ৬০ পয়সা ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৮ টাকা ৩০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৪ টাকা ৯০ পয়সা।

ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানির আয়ে শতকরা হিসেবে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০২০ সালে। ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২ টাকা ৯২ পয়সা।

তবে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এই সময়ে আয় হয়েছে ৬৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭৮ পয়সা।

২০২০ সালে তার শেয়ারধারীদের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭০ টাকা ৮০ পয়সা।

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ এই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৯ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দাম শেয়ারপ্রতি ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ২ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

এই কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য এক বছরে ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৯ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৪২ টাকা ৯০ পয়সা।

ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স

ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ এই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

কোম্পানিট তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সময়ের জন্য ৭ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ৭০ পয়সা ও ৩ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২০ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা।

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের পাশাপাশি চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকেও বেশ ভালো আয় করেছে।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৭ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ২৩ পয়সা।

এই কোম্পানিটিই ২০২০ সালে সর্বোচ্চ পরিমাণ আয় করেছে। তবে এর শেয়ার মূল্য অন্য কোম্পানিটির তুলনায় বেশ কম।

কোম্পানিটি তার প্রকাশিত প্রথম কোয়ার্টার (জানুয়ারি-মার্চ) সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে (ইপিএস) ১ টাকা ৭৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৮ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। তবে এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য বেড়েছে কম

কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য সাড়ে ২৪ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৪০ পয়সা নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

চলতি বছর এই কোম্পানিটিই সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

তবে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির হার বেশ কম। এটিই হাতে গোনা দু-একটি কোম্পানি, যার শেয়ার দর দ্বিগুণ হয়নি।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪৩ টাকা ৩০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৩ টাকা ৪০ পয়সা।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২০ টাকা ৯০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৪ টাকা ৪০ পয়সা।

জনতা ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৮ পয়সা।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪০ পয়সা।

কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য ৬ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৪ টাকা ৭০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৬ টাকা ৩০ পয়সা।

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। আগের বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১০ পয়সা।

শেয়ারপ্রতি ১ টাকা বা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৬ টাকা ৫০ পয়সা।

নিটল ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানির আয় কমেছে ২০২০ সালে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৮৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ২২ পয়সা।

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২১ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৬ টাকা ৮০ পয়সা।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স

শতকরা হিসাবে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে এই কোম্পানিটির।

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ৩৮ পয়সা আয় করে চমকে দিয়েছে তারা। এর আগে কখনও এত আয় করতে পারেনি তারা। আগের বছর আয় ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
বছরের পর বছর ২০ টাকার আশপাশে থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়ে ১৬০ টাকাও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য কমেছে

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও আয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৪ পয়সা।

এই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এক বছরে ১২৫ টাকা বেড়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৬ টাকা ৩০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৬১ টাকা ৩০ পয়সা।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি শেয়ারের একটি বোনাস হিসেবে দিয়েছে।

পিপলস ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানির আয়ও বেড়েছে সামান্যই। কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ২৬ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ১ টাকা ৮৭ পয়সা।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৩ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১১ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ১০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৪ টাকা ১০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৭ টাকা।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৩২ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ৪৩ পয়সা।

কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৫ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৫ টাকা ৮০ পয়সা।

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১০ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ৩৮ পয়সা।

তবে চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে আয়ে চমক দেখিয়েছে কোম্পানিটি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৬৮ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে বিমা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রভাতীর দর। সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯ টাকা ৪০ পয়সা। ১৭ শতাংশ বোনাস সমন্বয়ের পরও দাম ১৮০ টাকা ছাড়িয়েছে

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য ১৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০ শেয়ারে ১৭টি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এই কোম্পানির দর। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯ টাকা ৪০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। এটি আবার ১৭ শতাংশ বোনাস সমন্বয়ের পর।

রূপালী ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯০ পয়সা আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের কম।

চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৫ পয়সা। তবে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। সেই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪৮ পয়সা।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ হিসেবে ১০ শতাংশ নগদ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ টাকা ৮০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৮ টাকা ৫০ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স

এটি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমা কোম্পানির একটি। প্রতিবছরই বেশ ভালো আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশও দিয়ে থাকে কোম্পানিটি।

তবে ২০২০ সালে এর আয় কমেছে আগের বছরের তুলনায়। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৫ টাকা ৫৭ পয়সা।

তবে চলতি বছর ভালো করছে কোম্পানিটি। প্রথম প্রান্তিকে তারা শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের বছর একই প্রান্তিকে ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক মুনাফা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দামও বাড়েনি সেভাবে

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে কম বেড়েছে যে কয়টির দর, তার একটি এটি। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৫ টাকা ৯০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৩ টাকা ৫০ পয়সা।

তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৬৫ পয়সা আয় করেছে ২০২০ সালে। আগের বছরের আয় ছিল প্রায় সমান। তখন আয় হয় ১ টাকা ৬৪ পয়সা।

তবে চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের চেয়ে আয় আরেকটু বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় প্রকাশ করেছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৩৭ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৮ টাকা ২০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৫ টাকা ৬০ পয়সা।

ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটির আয়েও প্রবৃদ্ধি খুবই কম। ২০২০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৪ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা।

চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকেও আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়নি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়েও একই পরিমাণ আয় ছিল।

কোম্পানিটি ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ অর্থাৎ ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে কম বেড়েছে এই কোম্পানির দর। গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৪ টাকা ৭০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৩ টাকা ৬০ পয়সা।

যেগুলোর লভ্যাংশ এখনও ঘোষণা হয়নি

এশিয়া ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী এই কোম্পানিটির আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা। সেটি বেড়ে ২০২০ সালের একই সময়ে হয়েছে ২ টাকা ৬৯ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গত এক বছরে যেসব কোম্পানির শেয়ারের বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে, তার একটি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের জুনে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ছিল সর্বনিম্ন ১৭ টাকা। আর একপর্যায়ে তা ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছে।

বিমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যেসব কোম্পানির দর, তার মধ্যে অন্যতম এটি।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৭ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা।

ঢাকা ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৯০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৫৪ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৪ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৯০ টাকা ।

ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৫৪ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭১ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৫ টাকা ৯০ পয়সা।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৬ পয়সা পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬২ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৯ টাকা ৫০ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় কোয়ার্টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে তার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩ পয়সা।

নদার্ন ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি য়ার প্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৪২ পয়সা পয়সা। আগের বছর একই সময় এই আয় ছিল ১ টাকা ৪৭ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৬ টাকা ৬০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০) শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৬৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল একই, অর্থাৎ ৬৩ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২১ টাকা ৪০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০) শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯৭ পয়সা।

উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
এক বছরে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৯ টাকা ৪০ পয়সা, সর্বোচ্চ দাম ১১৩ টাকা

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৯ টাকা ৪০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১১৩ টাকা।

প্রগতি ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০) শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৯৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩২ টাকা ২০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা।

পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি য়ার প্রতি আয় করেছে ৯২ পয়সা পয়সা। আগের বছর একই সময় এই আয় ছিল ৭৫ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১২ টাকা ২০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স

গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৫ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৮ টাকা ৬০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬২ টাকা ১০ পয়সা।

স্ট্যান্ডার্ন্ড ইন্স্যুরেন্স

গত অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এই কোম্পানিটিরও শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের ‍তুলনায় কমেছে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৬ টাকা ৬০, আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৫৬ টাকা ৭০ পয়সা।

সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স

বিমা কোম্পানির মধ্যে প্রথমে দাম বাড়ে এই কোম্পানিটির। তবে আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়নি আশানুরূপ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা।

গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩০ টাকা ১০ পয়সা আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮৮ টাকা।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত পণ্যেও নগদ সহায়তা

প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত পণ্যেও নগদ সহায়তা

এখন থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি পণ্যেও নগদ সহায়তা দেবে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক প্রযুক্তি বের হওয়ায় হাতে তৈরি এসব পণ্য বর্তমানে মেশিনেও উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু নগদ সহায়তা সংক্রান্ত নীতিমালায় ‘হাতে তৈরি’ কথাটি থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এখন থেকে হাতের পাশাপাশি মেশিনে উৎপাদিত এসব পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

হোগলা, খড়, আখ কিংবা নারিকেলের ছোবড়া, গাছের পাতা কিংবা খোল এবং গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকে হাতের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করলে তার বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

আগে শুধু হাতে তৈরির পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ছিল।

তবে প্রযুক্তি পুরোপুরি অটোমেশন হওয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রযুক্তি ব্যবহারে শ্রমের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ (এফইপিডি) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠিয়েছে।

এতে বলা হয়, নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদিত প্রক্রিয়ায় হাতের পাশাপাশি প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে।

হোগলা, খড়, আখ কিংবা নারিকেলের ছোবড়া, গাছের পাতা কিংবা খোল এবং গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় ব্যবহার করে হাতে তৈরি পণ্য রপ্তানি করলে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য কোনো কোনো পণ্য রপ্তানিতে কী হারে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে, এই তালিকা প্রতি অর্থবছর সরকার নির্ধারণ করে দেয়।

এদিকে আরেক সার্কুলারে হাতে কিংবা মেশিনে যে মাধ্যমেই হোক, পাটের বৈচিত্রকৃত (ডাইভারসিফাইড) পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

রপ্তানির জন্য উৎপাদিত পণ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যমানের পাট ব্যবহৃত হতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদিত কোনো পণ্যের দাম ১০০ টাকা হলে তার মধ্যে ৫০ টাকার বেশি মূল্যমানের পাটের ব্যবহার থাকতে হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি বের হওয়ায় হাতে তৈরি এসব পণ্য বর্তমানে মেশিনেও উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু নগদ সহায়তা সংক্রান্ত নীতিমালায় ‘হাতে তৈরি’ কথাটি থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

এখন থেকে হাতের পাশাপাশি মেশিনে উৎপাদিত এসব পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে পাটের বৈচিত্রকৃত পণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। পাটের সুতার ক্ষেত্রে এই হার ৭ শতাংশ এবং পাটজাত চুড়ান্ত দ্রব্যের ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার হার ১২ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

১৫০ টাকার তেল ১০০ টাকায়, টিসিবির ট্রাকে ভিড়

১৫০ টাকার তেল ১০০ টাকায়, টিসিবির ট্রাকে ভিড়

টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য নিতে ক্রেতাদের লাইন। সাইফুল ইসলাম ছবিটি তুলেছেন সচিবালয়ের পাশ থেকে

টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, ‘কথা কওয়ার সময় নাই ভাই। কয়েক দিন ধইরাই এ স্পটে ট্রাক দাঁড়ায়। আজ মাসের শেষ বেচা। তাই মানুষও বেশি। সবাই তেল চাইতাছে। চিনি, ডাল কম কাস্টটমারই নেয়। তবে কেউ সব মাল নিলে ৪২০ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজার থেকে যা প্রায় ১৮০ টাকা কম। তয় লাইন না ধরলে মাল দিমু না।’

বৃহস্পতিবার দুপর ১২টা। বাড্ডা লিংক রোড মোড় পেরিয়ে হাতির ঝিলের দিকে এগুলেই দূর থেকে দেখা যায়, রাস্তার পশ্চিম প্রান্তে মানুষের জটলা। তবে কাছে যেতেই দেখা গেল, শতাধিক নারী-পুরুষ সবাই আলাদা লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে টিসিবির ট্রাকের সামনে। ট্রাকের ৪ কর্মী তাদের পণ্য দিতে ব্যস্ত।

কর্মী মো. মানুন জানান, ‘আজ ভিড় বেশি। সবাই তেল চায়। আমরাও যে যেমন চাচ্ছে দিচ্ছি। যতক্ষণ আছে দিব। তেলের সঙ্গে মসুর ডাল ও চিনিও নিচ্ছে কেউ কেউ।’

বাজারে সয়াবিত তেলের প্রতি লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে প্রায় দেড়শ টাকায়। খুচরা দাম ১২৫ টাকার বেশি। টিসিবির ট্রাকে তেল বিক্রি হয় লিটার প্রতি ১০০ টাকা করে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনার তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এখন খোলা সয়াবিনের দাম ৪৪ শতাংশ, বোতলজাত সয়াবিনে ৪৩ শতাংশ এবং পাম অয়েলের দাম ৬৫ শতাংশ বেশি। এমনকি এক মাসের ব্যবধানেও বিভিন্ন তেলের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

আর মসুর ডালের দাম বছরের ব্যবধানে ৩ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে ১০ শতাংশ বেড়েছে। চিনির দামও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বাড়তি।

সংস্থাটির হিসাবে, বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২২ থেকে ১২৬ টাকায়, এক লিটারের বোতাল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৬৬০ থেকে ৭৩০ টাকা এবং পাম অয়েল ১১০ থেকে ১১৮ টাকা বিক্রি হয়েছে। আকার ভেদে প্রতি কেজি মসুর ৭৫ থেকে ১১০ টাকা এবং চিনি ৬৮ থেকে ৭০ টাকা।

টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, ‘কথা কওয়ার সময় নাই ভাই। কয়েক দিন ধইরাই এ স্পটে ট্রাক দাঁড়ায়। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) মাসের শেষ বেচা। (এ মাসে আর পণ্য বিক্রি করবে না টিসিবি) তাই মানুষও বেশি। সবাই তেল চাইতাছে। চিনি, ডাল কম কাস্টটমারই নেয়। তবে কেউ সব মাল নিলে ৪২০ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজার থেকে যা প্রায় ১৮০ টাকা কম। তয় লাইন না ধরলে মাল দিমু না।’

মামুন জানান, তিনি ট্রাকে ৪০০ কেজি করে মসুর ডাল ও চিনি এবং ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল পেয়েছেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে ডাল ও চিনি এবং দুই লিটার সাবিন তেল কিনতে পারছেন। এর মধ্যে তেল ১০০ টাকা লিটার এবং চিনি ও ডাল ৫৫ টাকা প্রতি কেজি।

ট্রাক থেকে চিনি তেল ও ডাল নিয়ে মুখে অনেকটা বিজয়ের হাসি দিয়ে রাজা মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক ঘণ্টা লাগছে। তাতে কী? কয়টা ট্যাকা তো বাঁচছে। মাসের শুরুতে আবার আইলে আবার কিনমু। দুই দিনের কষ্টে মাসের তেল ডালের চিন্তা শেষ। আমি আগে দাঁড়াইছি, সময় কম লাগছে। এখন মানুষ বেশি, সময়ও বেশি লাগতাছে।’

তবে এরই মধ্যে লাইনের বাইরেও ট্রাকের পাশ থেকে মাল নেয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় অনেককে। কিন্তু এতে লাইন থেকে সবাই চিৎকার করে উঠে। কেউবা আবার নিজের লাইন ঠিক রেখে ট্রাকের পাশ কেউ এলে তাকে সরিয়েও দিচ্ছেন।

লাইনে দাঁড়ানো মধ্য বয়স্ক নারী রহিমা বেগম বলেন, ‘কী করমু বাবা, চাইল-তেলের যে দাম। না কিনতে পারলে, বাঁচতাম। কিন্তু পেট তা বুঝবো না। তাই আধাঘণ্টা দাঁড়ায়া আছি, তেলের লাইগা। আর বেশি সময় লাগবো না। আশপাশ থাইকা মানুষ ঢুকলে সময় বেশি লাগতাছে। আমরা দাঁড়ায়া নিলে তারা পারবো না ক্যান।’

পাশে রিকসা রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ চালক আরজ মিয়া বলেন, তেলের জন্য লাইন ধরছি, দূরের কাস্টমার পাইলে চলে যামু। না পাইলে দুই লিটার তেল কিনমু। একশ টাকা লাভ হইব, না হয় ভাড়ার টাকা পামু।’

টিসিরি মুখপাত্র হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, এ ট্রাক সেল টিসিবির সারা বছরের কার্যক্রমের অংশ।

‘প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট সময় ট্রাকে সেল দেয় টিসিবি। আগামী মাসের ৪-৫ তারিখে নতুন করে পণ্য দেয়া হবে। মাসের শেষ সেল হিসাবে আজ ঢাকায় ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন ৮০টি ট্রাকে পণ্য দেয়া হলেও আজ ঢাকায় ১৩০টি ট্রাক পাঠানো না হয়েছে। যেমন, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা লিংক রোড, মাধ্য বাড্ডা, কুড়িল বিশ্ব রোড, নদ্দায় ট্রাক রয়েছে। যেসব এলাকায় চাহিদা বেশি সেখানে বেশি পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

৭ হাজার পোশাকশ্রমিক পেলেন আর্থিক সহায়তা

৭ হাজার পোশাকশ্রমিক পেলেন আর্থিক সহায়তা

বাছাই করা শ্রমিকদের মধ্যে মৃত্যুজনিত কারণে ৪ হাজার ১৮৮ জনের পরিবারকে ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা বাবদ ২ হাজার ৭৬ শ্রমিককে ৬ কোটি ১৩ লাখ এবং শিক্ষা সহায়তা হিসেবে শ্রমিকের ৭৩৬ সন্তানকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, প্রয়াত এবং সন্তানের শিক্ষার জন্য সাত হাজার পোশাকশ্রমিককে ৯৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তহবিলের ১৪তম বোর্ডসভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

শ্রম আইন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে গঠন করা এ তহবিলে এখন পর্যন্ত ২৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা পড়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসের মোট রপ্তানি মূল্যের ০.০৩ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি এ তহবিলে জমা হয়।

এবার বাছাই করা শ্রমিকদের মধ্যে মৃত্যুজনিত কারণে ৪ হাজার ১৮৮ জনের পরিবারকে ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা বাবদ ২ হাজার ৭৬ শ্রমিককে ৬ কোটি ১৩ লাখ এবং শিক্ষা সহায়তা হিসেবে শ্রমিকের ৭৩৬ সন্তানকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

সহায়তাপ্রত্যাশী শ্রমিক এবং তাদের স্বজনরা আবেদন করলেই যেন দ্রুত টাকা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় তহবিলের কার্যপরিধি বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কয়েকটি উপকমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় তহবিলের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. সেলিনা বকতার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গৌতম কুমার চক্রবর্তী, বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান কচি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান, শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনিসহ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

বোর্ডসভার আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তহবিলের সহকারী পরিচালক শামীমা সুলতানা হৃদয়।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী পরে করোনার সময় গঠিত ২৩টি বিশেষ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রমের ওপর প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

সুমিজ হট কেকের কারখানায় ভ্যাট নীরিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযান। ছবি: নিউজবাংলা

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা হাতে তৈরি কেক বানায়। অথচ অভিযানে দেখা গেছে, তারা স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহার করে কেক প্রস্তত করে।

তথ্য গোপন করে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে ‘সুমিজ হট কেক’-এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নীরিক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার এ মামলা করেছে।

ভ্যাট নীরিক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল হক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন এবং মিথ্য ঘোষণা দিয়ে কেক প্রস্তুত করেছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হয়। এ অভিযোগে সুমিজ হট কেকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে মামলা করা হয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা হাতে তৈরি কেক বানায়।

কিন্তু ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে দেখতে পান, সুমিজ হট কেক স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহার করে কেক প্রস্তত করে।

গোয়েন্দারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা করে আসছে।

এনবিআরে ভ্যাট বিভাগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেশিনে তৈরি কেকের উপর ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ। আর হাতে তৈরি কেক বানালে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।

সুমিজ কর্তৃপক্ষ মাসিক ভ্যাট রিটার্নে উল্লেখ করেছে, তারা হাতে বানানো কেক উৎপাদন ও সরবরাহ করে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, সুমিজ হট কেক ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকৃত বিক্রিয়ের তথ্য গোপন করে সরকারের নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হারে ভ্যাট দিয়েছে।

হিসাব করে দেখা যায়, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা করায় আলোচ্য সময়ে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ভ্যাট নীরিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সার ও ফেরদৌসী মাহবুবের নেতৃত্বে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল সুমিজ হট কেকের কারখানা এবং প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট চালানসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জব্দ করে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করে।

সুমিজের কারখানা তুরাগের, প্লট-২০, রোড-১, লেন-৪ এ । আর প্রধান কার্যালয় রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত।

ভ্যাট কর্মকর্তারা বলেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির ২৬টি বিক্রয়কেন্দ্র। এসব বিক্রয়কেন্দ্রে কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে

ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে

অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদ বাবদ এবারের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। গত পাঁচ অর্থবছরে এ খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা দিয়ে ৯টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত।

ঘাটতি না উদ্বৃত্ত বাজেট – এ বিতর্ক বহু পুরোনো। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই বর্তমানে ঘাটতি বাজেট করা হয়। বাংলাদেশ শুরু থেকে এ নিয়ম অনুসরণ করে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করে আসছে।

তবে এবারের বাজেটে যে ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মূলত, করোনাকালে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙা করতে ধার করে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে ঘোষণা করা হয় প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট।

তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক অর্থসচিব ড. আকবর আলি খান রচিত বাংলাদেশে বাজেট অর্থনীতি ও রাজনীতি বইয়ে বলা হয়েছে: ‘ইতিহাস বলে বেশির ভাগ সময়ই রাজাদের অর্থাভাব ছিল। আয় ও বেশি ব্যয়ের ফলে আর্থিক অনটনের সমস্যা দেখা যেত।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন ঘাটতি বাজেট করা হয়। বাংলাদেশে বাজেট ঘাটতি সহনীয় থাকলেও করোনার অভিঘাতে তা বেড়ে যায়। এ ছাড়া আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, যে কারণে বাজেট অর্থায়নে ধার বা ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অর্থনীতিতে ঘাটতির প্রভাব নিয়ে তর্ক আছে। যারা এর বিপক্ষে, তাদের মতে, বাজেট ঘাটতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বোঝা সৃষ্টি করে। কারণ, ঋণের প্রতিটি টাকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শোধ করতে হবে।

তাদের মতে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কর হার কমিয়ে বেসরকারি খাতকে সুবিধা দিতে হবে, যাতে তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়।

অপরদিকে যারা ঘাটতি বাজেটের পক্ষে তাদের মতে, ঘাটতি হলেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং ব্যয় বেশি করলে উৎপাদন কর্মকাণ্ড বেগবান হবে। ফলে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান।

ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ঘাটতি শুধু দায় সৃষ্টি করে না। ঘাটতি দিয়ে যদি অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হয়, তা হলে আয়ও সৃষ্টি করতে পারে।’

ঋণের সুদের পেছনে ব্যয়

বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। এটা এখন মোট বাজেটের ১৮ শতাংশের বেশি। প্রতি বছর বাজেটে এই বরাদ্দ বাড়ছেই। এবার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সুদ পরিশোধে মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করা হবে। বাকি ১০ শতাংশ বিদেশি ঋণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি ধরা হয়েছে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

যে অর্থবছরটি শেষ হতে যাচ্ছে, তাতেও ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ। তবে অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, চূড়ান্ত হিসাব শেষে এই ঘাটতি কমবে।

কারণ, অর্থবছরের শুরুতে সরকার ব্যয়ের বিশাল যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, শেষ পর্যন্ত তা খরচ করতে পারবে না।

সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা

জিডিপির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ঘাটতি ধরে বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়নের রেওয়াজ আছে। এতদিন তা মেনেই বাজেট ঘোষণা করে আসছিল সরকার।

কিন্তু করোনাকালে এই নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ঘাটতি ৬ শতাংশের বেশি ধরে দুটি বাজেট দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে: বেশি বেশি খরচ করে মন্দায় অচল অর্থনীতিকে চাঙা করা।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা, যা দিয়ে ৯টি পদ্মা সেতু বানানো যেত। পাঁচ বছরে এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বিদ্যমান বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির চেয়ে বেশি।

পাঁচ বছরে ঘাটতির চিত্র

অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৩ হাজার ৮২৩ কোটি কোটি টাকা।

এতে মূল বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৫৮ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছর মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ৫ শতাংশ।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের শেষ সময়ে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

ওই বাজেটে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৪৯ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। আর ঘাটতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

ওই বাজেটকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট বলে দাবি করেছিলেন মুহিত।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, মূল বাজেট ঘোষণার পর সংশোধন করা হয়। অর্থবছর শেষে দেখা যায়, সংশোধিত বাজেটও ঠিকমতো খরচ হয় না। ফলে প্রকৃত খরচেরে পর ঘাটতি কমে আসে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণেই বাজেট ঘাটতি পূরণে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এতে উদ্ধিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

কারণ, করোনাকালে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, ভোগ ব্যয় বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙা করা। এ জন্য ঋণের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করার পরামর্শ দেন তারা।

সাবেক অর্থউপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাটতি বেশি হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না আমি। এখন আমাদের বেশি বেশি খরচ করতে হবে ধার করে। তবে এই টাকা ব্যয় করতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অবকাঠামো খাতে। এর ফলে নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

বিদেশি ঋণ সস্তা

বিদেশি ঋণের সুদ হার নমনীয় হওয়ায় এটি বেশি করে সংগ্রহের পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা। যে পরিমাণ ঋণ জমেছে, তার বিপরীতে বছরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার সুদ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে।

তবে এ কথাও সত্যি, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে। এ কারণে ঋণের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফ-এর সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার অনেক বেশি, গড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ। আর বিদেশি ঋণের জন্য মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। অর্থাৎ দেশীয় ঋণের খরচ অনেক বেশি। এ কারণেই দেশি ঋণে সুদ অনেক বেড়ে যায়।’

সক্ষমতা বেড়েছে

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রেডিট রেটিংও ভালো।

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অনেক ভালো। ঋণ-অনুপাত জিডিপির ৪০ শতাংশের নিচে। এ ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থানে আছি।

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ঋণ একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও কয়েক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ কখনও খেলাপি হয় নি। ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দিতে আগ্রহী।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল শতরঞ্জি

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল শতরঞ্জি

শতরঞ্জি উত্তরের জেলা রংপুরের ঐতিহ্যবাহী বুননশিল্প। একসময় রাজা-বাদশাহদের কাছে এর কদর ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের দরবারে শতরঞ্জি ব্যবহার করা হতো। জমিদারদের ভোজনের আসনেও ছিল এর ব্যবহার।

জামদানির পর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রংপুরের ‘শতরঞ্জি’।

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বুননশিল্পকে বৃহস্পতিবার স্বীকৃতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে রংপুরের শতরঞ্জিকে নিবন্ধনের জন্য ২০১৯ সালের ১১ জুলাই অধিদপ্তরটিতে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ফর্মস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অফিসের জিআই জার্নাল নম্বর-০৭-এ শতরঞ্জি নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। জার্নাল প্রকাশিত হওয়ার পর শতরঞ্জিকে রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে সনদ দিল ডিপিডিটি।

এর আগে ২০১৬ সালে দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে জামদানিকে নিবন্ধিত করে বিসিক।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধাসম্পদ’ শীর্ষক সেমিনার এবং বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস-২০২১ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিপিডিটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসানের হাতে শতরঞ্জির জিআই স্বীকৃতির সনদ তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী।

শতরঞ্জি হলো একধরনের কার্পেট। শব্দটি ফারসি শতরঞ্জ থেকে এসেছে। শতরঞ্জ হলো দাবা খেলার ছক। দাবার ছকের সঙ্গে নকশার মিল থেকে এসেছে নামটি।

শতরঞ্জি উত্তরের জেলা রংপুরের ঐতিহ্যবাহী বুননশিল্প। একসময় রাজা-বাদশাহদের কাছে এর কদর ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের দরবারে শতরঞ্জি ব্যবহার করা হতো। জমিদারদের ভোজনের আসনেও ছিল এর ব্যবহার।

ঐতিহ্যবাহী পণ্যটি একসময় নদীপথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রংপুর থেকে এই বুননশিল্প প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এই শিল্প। রংপুরের উৎপাদিত শতরঞ্জি এখন আবার ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নতুন করে এই হস্তশিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পেছনে বিসিকের অবদান আছে। ১৯৭৬ সালে সরকারিভাবে শতরঞ্জি তৈরির একটি প্রকল্প নেয় এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই উদ্যোগ খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তবে হাল ছেড়ে দেয়নি বিসিক।

ওই উদ্যোগের পর কিছু মানুষ এই শিল্পে যুক্ত হন। এরপর ১৯৯১ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে শতরঞ্জির উৎপাদন শুরু হয়। এখন রংপুরজুড়েই শতরঞ্জি উৎপাদিত হচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে পৃথিবীর প্রায় ৪০টি দেশে।

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন

ফ্লোর প্রাইস উঠে গেল পুঁজিবাজারে

ফ্লোর প্রাইস উঠে গেল পুঁজিবাজারে

বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, ‘দুই ধাপে পুঁজিবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার পর দেখা গেছে সেই কোম্পানিগুলোর লেনদেন কয়েক গুণ বেড়েছে। বরং ফ্লোর প্রাইসের কারণেই সেসব কোম্পানিতে তারল্য আটকে ছিল। এখন আর সে সমস্যা থাকবে না।’

প্রথমে ৬৬টির পর ৩০টি। দুই ধাপে ৯৬টি কোম্পানির লেনদেনের চিত্র যাচাই-বাছাই করে পুঁজিবাজার থেকে শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সংস্থাটির মুখপাত্র রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফ্লোর প্রত্যাহারের পাশাপাশি আগে ৯৬টি কোম্পানির দরপতনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যে ২ শতাংশের সীমা ছিল, সেই সুবিধাও আর থাকছে না। এখন থেকে এক দিনে যেমন সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দাম বাড়তে পারবে, তেমনি একই পরিমাণ কমতেও পারবে।

বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, ‘দুই ধাপে পুঁজিবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার পর দেখা গেছে, সেই কোম্পানিগুলোর লেনদেন কয়েক গুণ বেড়েছে। বরং ফ্লোর প্রাইসের কারণেই সেসব কোম্পানিতে তারল্য আটকে ছিল। এখন আর সে সমস্যা থাকবে না।’

বৃহস্পতিবার বিএসইসি এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রান্তসীমা বা ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ১৯ মার্চ সব কটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়।

শুরুতে এই বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও পরে এই ফ্লোর প্রাইস লেনদেনের একটি বাধা হিসেবে প্রমাণ হয়।

ফ্লোর প্রাইস উঠে গেল পুঁজিবাজারে
ফ্লোর প্রাইস ও সর্বোচ্চ কাম কমার মার্জিন ২ শতাংশের আদেশ প্রত্যাহার করে বিএসইসির নির্দেশনা

বিষয়টি স্পষ্ট হয় দুবার। গত ৭ এপ্রিল প্রথম দফায় ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রত্যাহারের পর কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন হলেও সেগুলোর শেয়ার হাতবদল বেড়ে যায়। একপর্যায়ে অনেক কোম্পানির দাম বাতিল হওয়া ফ্লোর প্রাইসের ওপরে উঠে আসে।

দ্বিতীয় দফায় ৩ জুন বাকি ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রত্যাহারের পরেও একই চিত্র দেখা দেয়।

তখনও দেখা যায়, যেসব কোম্পানির লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে, সেগুলোর লাখ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এমনকি একটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে এক কোটির বেশি।

সিদ্ধান্ত অকস্মাৎ নয়

ফ্লোর প্রাইস যে উঠে যাচ্ছে, সেটি বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন।

করোনা সংক্রমণের পর ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি কাটিয়ে গত বছরের জুনে যখন পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয়, সেখান থেকে পুঁজিবাজারে দেড় হাজার পয়েন্টের বেশি সূচক বাড়লেও বেশ কিছু কোম্পানির লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে।

ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির মৌলভিত্তি বিবেচনায় না নিয়ে বাজারমূল্যকেই বিবেচনা করা হয়। ২০২০ সালের ২২ মার্চের আগের পাঁচ দিনের গড় মূল্য ফ্লোর প্রাইস হিসেবে ধরা হয়।

কিন্তু সে সময় যে ফ্লোর প্রাইস দেয়া হয়েছিল, পরে শতাধিক কোম্পানির ক্ষেত্রে সে দাম আর যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি বিনিয়োগকারীদের কাছে। এ কারণে আর লেনদেন হয়নি।

তবে ৭ এপ্রিল ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রত্যাহারের পর আটকে যাওয়া প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হতে থাকে। এই অভিজ্ঞতা থেকে মে মাসেই বাকিগুলোর ফ্লোর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।

ফ্লোর প্রাইস উঠে গেল পুঁজিবাজারে
ফ্লোর প্রাইস যে থাকছে না, সেটি বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গত ১৭ মে নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন

গত ১৭ মে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এক বছর আগে যে উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস দেয়া হয়েছিল, সেটি খুবই কার্যকর হয়েছে। তখন ফ্লোর প্রাইস দেয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছিল। এক বছর পর পুঁজিবাজারে যে অবস্থায় ফিরেছে, তাতে সেই আস্থার জায়গাটি অনেক শক্ত হয়েছে। ফলে এখন মনে হয়, ফ্লোর প্রাইসের আর প্রয়োজন নেই।’

তাহলে কবে প্রত্যাহার হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম পর্যায়ে ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করেছি। তিনটি ক্যাটাগরিতে তা করা হয়েছিল। প্রথম ক্যাটাগরি হিসাবে যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫০ টাকার নিচে, সেগুলোর বাতিল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোরও ফ্লোর প্রাইস বাতিল করা হবে।’

এরপর ২ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানান, ৩০ থেকে ৩২টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস দ্বিতীয় ধাপে তুলে নেয়া হচ্ছে। এগুলোর লেনদেনও আটকে আছে ফ্লোর প্রাইসে।

পরের দিনই সেগুলো প্রত্যাহার করার আদেশ জারি হয়।

‘দাম কমার সীমা ২ শতাংশ থাকলে ভালো ছিল’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য গড়ে তোলা ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এর আগে ৯৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রত্যাহারের পর বাজারে তারল্য বেড়েছে। এরপরেও বেশ কিছু কোম্পানি ছিল, যেগুলো ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে। এখন থেকে এগুলোও বিক্রি হবে।’

ফ্লোর প্রাইস উঠে গেল পুঁজিবাজারে
প্রথম ধাপে ফ্লোর প্রত্যাহার করে নেয়া ৬৬ কোম্পানির তালিকা

তবে দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা ২ শতাংশ আরও কিছুদিন রাখা দরকার ছিল বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এটি আরও কিছুদিন চালু থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারত।’

দাম বৃদ্ধি ও কমতে সর্বোচ্চ কত শতাংশ

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আগের নিয়মেই তালিকাভুক্ত কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শেয়ার দর ২০০ টাকা পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার দর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।

এ ছাড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে থাকা শেয়ারের দর ৮.৭৫ শতাংশ, ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার শেয়ারের দর ৭.৭০ শতাংশ, ১০০০ থেকে ২০০০ টাকার শেয়ারের দর ৬.২৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ৫০০০ হাজার টাকার শেয়ারের দর ৫ শতাংশ এবং ৫০০০ টাকার ওপরে থাকা শেয়ার দর দিনে ৩.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারবে।

ফ্লোর প্রাইসের কারণে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে সমস্যা

গত ৭ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর বিএসইসি চেয়ারম্যান নিউজবাংলাকে জানান, এই বিষয়টির কারণে বাংলাদেশে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার আন্তর্জাতিক মান কমে যাচ্ছে।

ফ্লোর প্রাইস উঠে গেল পুঁজিবাজারে
দ্বিতীয় ধাপে ফ্লোর প্রত্যাহার করা ৩০ কোম্পানির তালিকা

তিনি সে সময় ‘দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইস থাকায় আমাদের পুঁজিবাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) সদস্য। সেখানে আমাদের ক্যাটাগরি ‘এ’। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইসের মাধ্যমে বাজার ম্যানিপুলেট করায় আমাদের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
উচ্চাশায় উড়ছে বিমা, সেভাবে বাড়েনি আয়
গাড়ির বিমা না থাকলে আর মামলা নয়

শেয়ার করুন