উন্নয়ন বাজেটে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের চাপ

উন্নয়ন বাজেটে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের চাপ

গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পে ধীরগতির কারণে বারবার বাড়ছে মেয়াদ। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি নিয়েছে সরকার। এর উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের পেছনে। যত বিলম্ব হবে, ততই তা সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে। সময় বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে, বাস্তবায়ন খরচ বাড়ে।

উন্নয়ন বাজেটে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের চাপবাস্তবায়ন সন্তোষজনক না হওয়ায় বছরের বছর পড়ে থাকে উন্নয়ন প্রকল্প। প্রতিবছর এসব প্রকল্প স্থান পায় উন্নয়ন বাজেটে। কিন্তু কাজ এগোয় না। এতে একদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পের চাপ বাড়ে, অন্যদিকে সময় যত গড়ায়, ততই বাড়ে প্রকল্পব্যয়ও।

আগামী অর্থবছরের নতুন এডিপিতেও ঠাঁই করে নিয়েছে মেয়াদ শেষ বা শেষের পথে থাকা সাড়ে ৭০০ প্রকল্প। ধীরগতির মেয়াদহীন এসব প্রকল্প এডিপির বোঝা বাড়িয়েই চলছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি নিয়েছে সরকার। এর উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের পেছনে। যত বিলম্ব হবে, ততই তা সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে। সময় বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে, বাস্তবায়ন খরচ বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো প্রকল্পের বোঝা এবারও বহাল থাকছে। বছরের পর বছর এমন প্রকল্প অনুমোদন পায়, এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিছু বরাদ্দ পেলেও কাজ হয় না। আবার পরের বছর এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু করোনা মহামারির বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সেসব প্রকল্পে বেশি নজর থাকা উচিত। আর চলমান প্রকল্পের মধ্যে যেসব দ্রুত সমাপ্ত করা দরকার, সেগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে থোক বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের পাল্লা ভারী করাটা ঠিক হবে না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের পরামর্শক ও সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, বারবার আলোচনা হলেও এ সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। একই প্রকল্প বছরের পর বছর পড়ে থাকছে। কোনো অগ্রগতি নেই। এমন প্রকল্প দিয়ে শুধুই এডিপিতে প্রকল্পের বোঝা না বাড়িয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, একটা প্রকল্প পাস হতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে শুরু করে একনেক পর্যন্ত অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। কিন্তু তারপরও এসব বছরের পর বছর পড়ে থাকে কী করে? এতে মেয়াদ বাড়ছে, ব্যয় বাড়ছে। যে উদ্দেশ্যে প্রকল্প নেয়া হয়, সে উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন প্রকল্প অনুমোদন বাদ দিতে হবে। চলমান প্রকল্পের মধ্যে যেসব দ্রুত শেষ করা দরকার, সেগুলোকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা উচিত।

উন্নয়ন বাজেটে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের চাপ
বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হয়নি ১০ বছরেও

গত মঙ্গলবার নতুন বছরের জন্য এডিপি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এডিপিতে প্রকল্প রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫১৫টি। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপি থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৬টি প্রকল্প। আর নতুন অনুমোদিত প্রকল্প ৩০টি। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ৮৯টি প্রকল্প রয়েছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সমাপ্তির জন্য ৪৪২টি প্রকল্প নির্ধারিত ছিল, যার মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ছিল তার আগের বছরের। এ বছরও শেষ না হওয়া ৫৭টি প্রকল্পকে ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য বাছাই করা হয়। শেষ মুহূর্তে সে তালিকায় যোগ হয় আরও ১১টি প্রকল্প। তবে এসব প্রকল্প কোনো ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে অবশ্যই সমাপ্ত করতে হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৫টি প্রকল্প ২০১৯-২০ অর্থবছরেই সমাপ্ত করার কথা ছিল।

আবার এমন ৬৭৮টি প্রকল্প নতুন এডিপিতে যোগ করা হয়েছে যেগুলোর মেয়াদ ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ হচ্ছে। অথচ সেগুলোর কাজ অনেক বাকি। এসব প্রকল্প ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে তারকা চিহ্ন দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বৃদ্ধি করতে হবে। বাস্তবায়ন মেয়াদকাল বৃদ্ধি বা সংশোধন না করা পর্যন্ত এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় ও ব্যয় করা যাবে না।

সাধারণত মেয়াদ বৃদ্ধি যথাসময়ে না হওয়ায় অর্থবছরের প্রথম অর্ধেকে এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় ও ব্যয় করা সম্ভব হয় না। ফলে আগামী এডিপিতেও বরাদ্দ ব্যবহার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সামগ্রিকভাবে এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উন্নয়ন বাজেটে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের চাপ
ঢাকায় সরকারের অগ্রাধিকারের প্রকল্প মেট্রোরেলেরও মেয়াদ বেড়েছে একাধিকবার

২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ৩৫৬টি প্রকল্প শেষ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪টি বিনিয়োগ এবং ২৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প। আর ৫টি নিজস্ব অর্থায়নে।

এ ছাড়া এডিপির প্রকল্পের মধ্যে বরাদ্দহীন অননুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ৫৯৬টি। বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখা প্রকল্প রয়েছে ১৪১টি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বেও প্রকল্প ৮৮টি।

আরও পড়ুন:
৫০ বছরে বাংলাদেশের বাজেট বাড়ছে ৭৭০ গুণ
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার
ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর, করপোরেট কর কমছে
ভিশন বাস্তবায়নে বাজেট খুঁজছেন সালাউদ্দিন
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১৭ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য